ব্ল্যাক করিডর ১.১৪

অ্যাকাউন্টের নাম shami witness !

দিনে ৮০ থেকে ১০০ টা ট্যুইট করা হত এই অ্যাকাউন্ট থেকে। এতই খুঁটিনাটি পোস্ট থাকত যে মনে হয়েছিল অ্যাকাউন্ট হোল্ডার একেবারে সিরিয়া কিংবা ইরাকের যুদ্ধকেন্দ্রেই বসে আছে। এবং পাঠাচ্ছে একপ্রকার লাইভ টেলিকাস্টই। ২০০৯ থেকে ২০১৪, পাঁচ বছরের অনলাইন জীবনে এই অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার হাজার হাজার। ব্রিটেন, লেবানন, বেলজিয়াম, আমেরিকা, প্যারিস, পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, তুরস্ক…। সিরিয়ার আইএসআইএসের যত ইংরাজি জানা ফাইটার ছিল তাদের সিংহভাগ, বলা যেতে পারে দুই তৃতীয়াংশ এই অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার। সোজা কথায় এই অ্যাকাউন্ট যার, সেই ব্যক্তিটি একটা সময় হয়ে উঠেছিল আইএসআইএসের অন্যতম প্রধান প্রভাবশালী প্রচারক, ইসলামিক স্টেট প্রতিষ্ঠার সবথেকে সরব ও উদ্দীপনাপূর্ণ স্লোগান লেখক। তাকে সাদরে আইএসআইএসে যোগ দিতে ইচ্ছুক যুবক যুবতীরা নিজেদের প্রথম দীক্ষাগুরুর আসনে বসিয়েছিল। প্রতিদিন তার সঙ্গে যোগাযোগ হত অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন আইএসআইএস এর ইংলিশ স্পিকিং সদস্যের। আর ঠিক এই কারণেই গোটা বিশ্বের সন্ত্রাসবিরোধী দুর্ধর্ষ গুপ্তচর সংস্থাগুলির মধ্যে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে কে এই লোক! খুঁজে বের করতেই হবে। কারণ এই লোকটির একটি করে ট্যুইটের জবাবে হাজার হাজার নতুন নতুন জিহাদির জন্ম হচ্ছে। অনলাইন জেহাদি কমিউনিটির মধ্যে এই ব্যক্তিই বেস্ট গোটা বিশ্বে। ২০১৪ সালে যখন বিশ্বজুড়ে প্রবল সমালোচনা হচ্ছে আইএসআইএসের বিদেশি বন্দিদের ধরে ধরে শিরশ্ছেদ কর্মসূচির বিরুদ্ধে, তখন এই অ্যাকাউন্ট থেকে ৯ ডিসেম্বর ট্যুইট করা হল, আবু ঘ্রাইবের জেলে আমেরিকা আর সিআইএ যেভাবে অত্যাচার করছে তার থেকে ১০০ গুণ বেশি পবিত্র হল এই শিরশ্ছেদ কর্মসূচি। এই কুখ্যাত ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট গোটা বিশ্বের গোয়েন্দা আর গুপ্তচরদের ঘুম কেড়ে দিল। ব্রিটেনের এমআই সিক্স প্রথম তদন্তে নামল। এম আই সিক্স আধুনিক ইতিহাসের এক প্রসিদ্ধ গুপ্তচর সংস্থা। সাংঘাতিক শার্প, চূড়ান্ত প্রফেশনাল আর ঠান্ডা মাথার চারজন গুপ্তচরকে দায়িত্ব দেওয়া হল এই লোকটিকে খুঁজে বের করতে। কে এই shami witness এর মালিক! একটি মাত্র ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট স্রেফ ইন্টারনেটে আইএসআইএসের জিহাদি কার্যসূচিকে বিখ্যাত করে দিচ্ছে, তার দেখানো পথে আক্রমণের প্ল্যান করা হচ্ছে, তার নির্দেশিত প্রতিশোধবার্তা অনুসৃত হচ্ছে সিরিয়া থেকে লেবানন সর্বত্র। এত শক্তিশালী এই অ্যাকাউন্ট।

২০০৯ সালের জুলাই মাসে প্রথম খোলা হয়েছিল এই ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট। নাম ছিল-‘elsaltador’ প্রাথমিকভাবে যে ইমেল অ্যাড্রেসের মাধ্যমে এই অ্যাকাউন্ট খোলা হল সেটি ছিল [email protected]। ২০১০ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আচমকা গোটা পৃথিবীকে চমকে দিয়ে শুরু হল এক নতুন কূটনৈতিক বিস্ফোরণ। উইকিলিকস। একের পর এক রাষ্ট্রের নানাবিধ গোপন কালো অন্ধকার পদক্ষেপ আর দুর্নীতির পর্দাফাঁস শুরু হল। আর সেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে এই ElSaltador নামক ট্যুইটার থেকে লাগাতার সেইসব শেয়ার করা হচ্ছিল। কারণ আমেরিকা ও প্রথম বিশ্বের দেশগুলির ভণ্ডামি আর দুর্নীতি ধরা পড়ছে। কিন্তু তার মধ্যেও সবথেকে বেশি যে বিষয়গুলিকে হাইলাইট করে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার করা হত, সেগুলি ছিল আমেরিকার আফগানিস্তান ও ইরাকের উপরে হামলা সংক্রান্ত। যেখানেই বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের সূত্রপাত অথবা প্রস্তুতির খবর পাওয়া যাচ্ছে, তৎক্ষণাৎ সেই অভ্যুত্থানকে সমর্থন করে জনমত গঠন করে আরও বেশি বেশি অনলাইন গ্রুপ যাতে একজোট হতে শুরু করে সেই চেষ্টাই এই ট্যুইটার মালিক করতে থাকে লাগাতার। যেমন ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে পোস্ট হতে লাগল মিশরের অভ্যুত্থান। ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে চলল। প্রচার লিবিয়ার অভ্যুত্থানের পক্ষে প্রচার। আমেরিকার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মী যিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ও ইরাকে দুর্গতদের সাহায্যের জন্য জীবনকে বাজি রেখে ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর ও জনপদে গিয়ে গিয়ে প্রাণ বাঁচাচ্ছিলেন বহু নিরপরাধের, সেই পিটার কিসিং একদিন আইএসআইএসের জঙ্গিদের হাতে ধরা পড়লেন। আর তাঁর মুণ্ডচ্ছেদের ভিডিও আইএসআইএস আপলোড করার কয়েক মিনিটের মধ্যে সেটি ডাউনলোড করে নেয় ওই রহস্যময় ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট। তারপর সারাদিন ধরে একবার নয়, দু বার নয়, তিনবার নয়…অজস্রবার দফায় দফায় সেই শিরশ্ছেদের ভিডিও শেয়ার করতে থাকে লোকটি। এই লোকটি নিজে বহু যুবককে উদ্বুদ্ধ করে, কিন্তু নিজে কী করে? সে কী নিজেও এক ফাইটার? জানা যাচ্ছে না। শুধু এটুকু বোঝা যায় ব্যক্তিটি ব্রিটেনে থাকে এবং আদতে একজন লিবিয়ান। তার অ্যাকাউন্ট থেকেই সেটা স্পষ্ট। তার প্রধান লক্ষ্য হল ইওরোপের ইংরাজি জানা যুবক। তাদের সে উদ্বুদ্ধ করার ব্রত নিয়েছে। আর সেই লক্ষ্যে অমানুষিক পরিশ্রম করে সে দিনের পর দিন আরবি থেকে ইংরাজিতে জিহাদ সংক্রান্ত পোস্টগুলিকে যত্ন করে অনুবাদ করে আবার সেগুলিই পোস্ট করে যেত বৃহত্তর অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছনোর জন্য।

এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে এই ব্যক্তি এবার নিজেকে আরও ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছে ২০১১ সাল থেকে। মনে রাখতে হবে ২০১৩ সালের আগে পর্যন্ত আইএসআইএস নিয়ে বিশেষ কেউ মাথা ঘামাত না। কারণ এই বিপুল ধ্বংসাত্মক চেহারা নিয়ে আইসিস আসেইনি তখনও। তাই ততদিন পর্যন্ত লোকটি প্রধানত সিরিয়ার শাসক আসাদের রাজত্বের বিনাশে যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীরা জিহাদে নেমেছে, তাদের সমর্থনে পোস্ট লিখতে শুরু করে। যেমন জাবাহাত আল নুসরা। তাদের সমর্থক ছিল এই ব্যক্তি। কিন্তু ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে সন্ত্রাস মানচিত্রে হাজির হয়েছিল নতুন এক নাম। আইসিস। এবং ক্রমেই দেখা গেল আসাদ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রবল পরাক্রমী বিদ্রোহীতে দ্রুত পরিণত হচ্ছে আইসিস। যখন আসাদ সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র নিক্ষেপ করে নিরীহ শিশু, বৃদ্ধ, মহিলা, নাগরিকদের হত্যা করল, তখন এই ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট এতটাই গর্জে উঠল এবং এমনই গবেষণালব্ধ রিপোর্ট তৈরি করে অনর্গল পোস্ট করতে লাগল, যে মনে হল এই লোকটি সাংঘাতিক শিক্ষিত এবং গবেষক। থাকে ব্রিটেনে। একজন লিবিয়ান। এমনকী আসাদের ওই রাসায়নিক আক্রমণের বিরুদ্ধে তার লেখা ট্যুইটকে রীতিমতো কোট করে ব্রিটেনের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফও উল্লেখ করল ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবরের এক আর্টিকলে। ফলে আরও বিখ্যাত হল এই shamiwitness |

ততদিনে তার সঙ্গে আলাপ হয়েছে একাধিক আইসিস এবং আইসিস নয় এরকম বিদ্রোহী ফাইটারদের। ট্যুইটারের মাধ্যমে আলাপচারিতা চলে। যার নাম ডাইরেক্ট মেসেজিং। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আবু ফুলহান, আবু দুজানা এবং আবু সুমায়া। সব ধরনের জিহাদি তার কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ কোন পথে যেতে হবে, কোন গ্রুপের কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ, কেন আল কায়েদার সঙ্গে আইসিসের নীতিগত দূরত্ব ইত্যাদি বিষয়ে নিখুঁত এবং পক্ষপাতহীন বিশ্লেষণ একমাত্র এই লোকটি দিতে পারে। আর তাই তার ফ্যান ফলোয়ার বাড়ছে। ঠিক তখন ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে আইসিস এবং অন্য গ্রুপের বিদ্রোহীদের মধ্যে শুরু হয়ে গেল প্রবল অন্তর্কলহ। আর তখন কোনো দ্বিধা না করে এই ট্যুইটার অ্যাকাউন্টের মালিক সম্পূর্ণভাবে পক্ষ নিয়ে নিল আইসিসের। প্রকৃত আদর্শ ইসলামিক স্টেট আনতে পারবে আইসিস। সে ঘোষণা করল। আর তার ফলোয়ার তখন ১৩ হাজার ক্রস করেছে। সুতরাং তার মতামতের প্রভূত মূল্য। আরও বেশি করে সে এই কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারল। কারণ এই লোকটি এতদিন যেখানে থাকতো সেটি ছিল শেয়ার করা ঘর। একার জন্য কোনো ঘর ছিল না। এখন হল। সে সম্পূর্ণ নিজের ঘর পেল। কোথায়? ভারতের বেঙ্গালুরুর জালাহালি ওয়েস্ট, আয়াপ্পা নগর। সে কী? এই দুনিয়া কাঁপানো লোকটি ব্রিটেনে থাকে না? লিবিয়ার মানুষ নয়? না। লোকটি আসলে মধ্যবয়স্ক কিংবা ম্যাচিওরড কোনো গম্ভীর লোকও নয়। এক ঝকঝকে যুবক। নাম মেহদি মসরুর বিশ্বাস। থাকে বেঙ্গালুরুর আয়াপ্পা নগর। ভাড়ায় নেওয়া ওয়ান বেডরুম ফ্ল্যাট। নিজের বাড়ি কোথায়? কলকাতার কৈখালি! সে লিবিয়ান নয়। বাঙালি!

সোদপুরের গুরু নানক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পাশ করা ছাত্র মসরুর মেহদি বিশ্বাস ২০১২ সালেই ক্যাম্পাস ইন্টারভিউতে একটি চাকরি পেয়ে গেল। আইটিসি লিমিটেডের ফুড ডিভিশনের ইন প্ল্যান্ট ট্রেনি। আদতে তার কাজ করার কথা ছিল এফসিপিএল বিস্কিট প্ল্যান্টে। কিন্তু হঠাৎ একটা প্রজেক্ট চলে আসায় আইটিসি লাইফ সায়েন্স টেকনোলজি সেন্টারের স্ন্যাকস ডিভিশনে জয়েন করতে হয়েছে। ২০১২ সালের জুন মাসে। তার মানে ২০০৯ সালে যখন সে ধীরে ধীরে তার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে এবং প্রাথমিক অ্যাকাউন্ট খুলে পা রাখছে এক নতুন দুনিয়ায় তখনও সে ফার্স্ট ইয়ারের এক টিন এজার। প্রথম দু বছর ডেজিগনেশান ছিল জুনিয়র ট্রেনি। আর তারপর কনফার্ম হওয়ার পর এক্সিকিউটিভ। সামান্যরকম কোনো কাজে ফাঁকি দিতে দেখা যায়নি মেহদিকে। বরং অন্যদের থেকে অনেক বেশি পরিশ্রমী। সিরিয়াস। ঠিক সকাল সাড়ে ৮ টায় প্ল্যান্টে চলে এসে রাত আটটা পর্যন্তও কাজ করতে দেখা গিয়েছে তাকে। আর তার কাজে সকলেই খুশি। কনফার্মড হওয়ার আগে পর্যন্ত নিজের কোনো একক ফ্ল্যাট ছিল না। কিন্তু একবার কনফার্মড হয়ে রেগুলার পে রোলে চলে আসার পরই মেহদি সবার আগে যে কাজটি করল সেটি হল বাড়ি পরিবর্তন। আয়াপ্পা নগরের এস এম রোডে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট। আর এই বাড়িতে এসে প্রথমে সে নিয়েছিল এয়ারটেল অয়্যারলাইন ব্রডব্যান্ড কানেকশন। ২০১২ সালে ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্টের সময়ই সে কিনেছিল একটি ল্যাপটপ কলকাতা থেকে। আর তারপরই ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট ElSaltador থেকে লাগাতার ট্যুইট শুরু হল। তারপরই সে বদলে দিল তার অ্যাকাউন্ট। কারণ তখন সন্ত্রাসের আকাশে এসেছে নতুন এক বাজপাখি। আইসিস। নতুন অ্যাকাউন্ট হল shami witness। ছড়িয়ে পড়ল দ্রুত তার অ্যাকাউন্টের জনপ্রিয়তা।

সোস্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় সারাক্ষণ আমরা বসবাস করলেও আমাদের অজান্তে ইন্টারনেটে ক্রমাগত ঘটে চলেছে এক মহাযুদ্ধ। বিস্ময়কর এই নতুন মহাজগতের সবথেকে সিক্রেট যুদ্ধের নাম ডক্সিং (doxing)। স্পাই, চোর, সন্ত্রাসবাদী, পারস্পরিক শত্রু রাষ্ট্র, হ্যাকার…। এরকম হাজারো চরিত্র এই ডক্সিং মহারণের যোদ্ধা। যখনই কোনো প্রতিপক্ষের গোপন তথ্য বিশেষ প্রযুক্তি আর হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করে নিয়ে প্রকাশ্যে ফাঁস করে তাকে বিপদে ফেলা হয় অথবা প্রকৃত পরিচয় কিংবা গোপন কাজকর্ম ফাঁস করে দিয়ে চরম বেইজ্জতি করার কাজে সাফল্য পাওয়া যায়, তাকেই বলা হয় ডক্সিং। সাইবার দুনিয়া জুড়ে দেখা যাবে ছদ্মনাম, ছদ্ম পরিচয়, ছদ্ম অ্যাকাউন্ট, জাল অ্যাকাউন্ট, ইমপার্সোর্সেশন ইত্যাদি। ডক্সিং হল বিশ্বের ত্রাস সন্ত্রাসবাদী সংস্থা আইসিএসের সবথেকে আধুনিক অস্ত্র। শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য। আইএসআইএসের হ্যাকার ডিভিশন সারাক্ষণ আমেরিকা অথবা অন্য শত্রু দেশের সামরিক জওয়ানদের ব্যক্তিগত নথিপত্র অনলাইনে সংগ্রহ করে সেগুলি ফাঁস করে আমেরিকায় থাকা আইসিস অনুগামীদের প্ররোচনা দেয় এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। আবার পালটা ‘ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা ফ্রেন্ড’ জাতীয় কিছু গ্রুপ অনবরত এই সন্ত্রাসের কারবারিদের গোপন মুখোশ খুলে দেয়। এই প্রক্সি ওয়ার সাংঘাতিক নির্মম অনলাইনের ময়দানে। কোড ল্যাংগুয়েজে দেওয়া হয় হত্যার নির্দেশ। জানিয়ে দেওয়া হয় টার্গেটের সম্ভাব্য লোকেশন। তাই কখনও দেখা গিয়েছে একটি মানুষ পার্কিং লটে গাড়িতে ঢুকতে গিয়ে আচমকা গুলি খেয়ে নিহত হয়েছে। কে মারল তাকে? কেন? কেউ জানতে পারে না। সিঁড়ি থেকে রহস্যময়ভাবে পড়ে যায় কোনো ব্যক্তি। কেউ কি ধাক্কা মারল? রহস্যই রয়ে যায়। কে পাঠাল ক্যুরিয়ারে বোমা? যা নিয়ে র‍্যাপার খোলার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ! জানা গেল না। এসবই হয় গোপন অনলাইন প্রক্সি ওয়ারে। এমনকী পাসওয়ার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ইউজার আইডি জানার প্রবল লড়াই চলে যাতে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করা যায় শত্রুপক্ষকে। তাই সোস্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে সর্বদাই অত্যন্ত সতর্ক হয়ে যে কোনো ফাঁদে পা দিতে হয়। যে কোনো অজানা আধাচেনা গ্রুপের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই প্রবল মতান্তর আর ঝগড়ার মধ্যে ঢুকে পড়েন না জেনে। অজান্তেই শত্রুপক্ষ বানিয়ে ফেলা হয়। আর তারপর শুরু হয় ডক্সিং। একদিকে ডক্সিং এবং অন্যদিকে আবার অসংখ্য ঘোস্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জিহাদের প্রচার। আইসিসকে কিছুতেই প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। ঠিক সেই সময় আচমকা হাজির হল অনলাইন দুনিয়ায় এক রহস্যময় গ্রুপ। নামটিও সেরকমই মানানসই। অ্যাননিমাস (anonymous)। এই গ্রুপ গোপনে ইন্টারনেটে রিসার্চ শুরু করে এবং খুঁজে বের করে ফেলল দাহেশের (আইএসআইএস) একের পর এক গোপন মুখোশ পরা অ্যাকাউন্ট। এভাবে তারা তৈরি করে ফেলল এক ক্যাম্পেন-daeshbags। প্রায় ৫ হাজারের বেশি ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে অ্যাননিমাস ফাঁস করে দিল তাদের আসল রূপ। সবই আসলে আইএসআইএসের গোপন মুখ। এভাবে অ্যাননিমাসের আগ্রাসী আক্রমণে দিশাহারা হয়ে পড়েছিল আইসিসের অনলাইন ক্যাম্পেন। কারণ একটির পর একটি অ্যাকাউন্টকে ফাঁস করে দিচ্ছে তারা। আর ট্যুইটার সংস্থা সেইসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছে নিমেষে। সুতরাং সবথেকে বেশি প্রভাব পড়ছে ক্যাম্পেনে। অনলাইনই হল আইএসআইএসের মতো সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির কাছে সবথেকে জোরাল রিক্রুটমেন্ট সেল। সেটাই যদি ধাক্কা খায় তাহলে তা হবে সর্বনাশ। একদিকে কয়েকটি এরকম গোপন অ্যান্টি টেররিস্ট ডক্সিং ফোর্স, আবার পাশাপাশি আমেরিকার সিআইএ, ইজরায়েলের মোসাদ, ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানাসিসিস উইং এবং ব্রিটিশ এম আই সিক্সের মতো তুখড় গুপ্তচর সংস্থাগুলির অনবরত নজরদারি, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, অনলাইন চেজিং। এর মধ্যেই ব্রিটেনের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ফোর নামল এক গোপন অপারেশনে। এই যে প্রবল জনপ্রিয় ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট shami witness এই লোকটি কে? জানতে হবে। প্রথম তাদের তদন্ত শুরু হল ElSaltador অ্যাকাউন্টকে টার্গেট করে। এটা কার ছিল? এই অ্যাকাউন্টের পিছনের জি মেইল অ্যাকাউন্ট কী? মাত্র আটদিনের মধ্যে জানা হয়ে গেল ওই জি মেইল অ্যাকাউন্টের আই পি অ্যাড্রেস ইন্ডিয়ার বেঙ্গালুরুর। চ্যানেল ফোরের পক্ষ থেকে নিজেদের আইএসআইএস সমর্থক আখ্যা দিয়ে এবং সেভাবেই পরিচয় দিয়ে ওই মেইল আইডিতে একের পর এক মেইল পাঠানো শুরু হল। আসলে ফাঁদ!

২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে। মেহদি বেঙ্গালুরুর আয়াপ্পা নগরে বসে চমকে উঠল। কারণ এই জি মেইল আই ডি সে কখনওই তার বর্তমান ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে দেয়নি। এখন সে শামি উইটনেস। শামি উইটনেসের সঙ্গে এল স্যালটাডোরকে মিশিয়ে ফেলছে কে? কারা? কেন? এই প্রথম ভয় পাচ্ছে মেহেদি। কেউ কি ফলো করছে তাকে? সে দুদিন অপেক্ষা করে তৃতীয় দিন চ্যানেল ফোরের ট্র্যাপ মেলের জবাবে পালটা মেল করে জানিয়ে দিল আপনারা ভুল নামে ভুল লোককে মেল পাঠিয়েছেন। কিন্তু একটাই ভুল করে রেখেছে মেহদি। সে এই একই জি মেইল অ্যাকাউন্ট দিয়েই নিজের আসল ফেসবুক অ্যাকাউন্টও খুলেছিল। [email protected]। আর ততদিনে চ্যানেল ফোর দেখে নিয়েছে এই জি মেইল দিয়ে কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা আছে। সেটি মেহদির। তাই চ্যানেল ফোর এবার অন্য রাস্তা নিয়েছে। তারা একটি জাল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ফেলল। অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম দেওয়া হল আমির হাসান। জাল নাম। এবং পরিচয়লিপিতে লেখা হয়েছিল গুরু নানক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, সোদপুর। অর্থাৎ মেহদির নিজেরই কলেজে। আমাদের যে কেউ নিজেদের স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী দেখলে অচেনা ফেসবুক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করে ফেলি। কারণ একটা দুর্বলতা থাকেই যে আমার স্কুল, আমার কলেজের পড়ুয়া। আচ্ছা অ্যাকসেপ্ট করেই ফেলি। আমির হাসানকে চিনতে পারেনি মেহদি। কিন্তু ভেবেছে নিশ্চয়ই জুনিয়র কেউ। তাই বিনা দ্বিধায় অ্যাকসেপ্ট করে নিয়েছে। আর চ্যানেল ফোর উল্লসিত। কারণ ফাঁদে পা দিয়েছে মেহদি। এই ঘটনা ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের। যেইমাত্র চ্যানেল ফোর নিশ্চিত হয়ে গেল শামি উইটনেস, এল স্যালটাডর, এল স্যালটাডরঅ্যাটজিমেইল ডট কম এরা সবাই আসলে যে ব্যক্তি এবং সেই ব্যক্তি লন্ডন, লিবিয়া, লেবানন কিংবা তুরস্কের কেউ নয়। ভারতের বেঙ্গালুরুর। মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই চ্যানেল ফোরের ডক্সিং কার্যকলাপ সম্পূর্ণ সফল। ঠিক ১১ ডিসেম্বর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মেহদি একটি মেসেজ পেল। যেখানে লেখা, আমরা তোমার সব জেনে ফেলেছি। আজ সন্ধ্যায় আমাদের নিউজ বুলেটিনে তোমার সমস্ত গোপনীয়তা ফাঁস করা হবে। উই আর গোয়িং টু এক্সপোজ ইউ বয়..। আমরা জানি তোমারই অ্যাকাউন্ট হ্যাশট্যাগ শামি উইটনেস!

মেহদি আতঙ্কিত। সে অনুনয়ের সুরে বলল, আমাকে ক্ষমা করুন। প্লিজ। আমি আজই ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছি।

চ্যানেল ফোর থেকে বলা হল একটা শর্তে তোমার গোপনীয়তা আমরা রক্ষা করতে পারি। আমাদের একটা ইন্টারভিউ দিতে হবে। তোমার মুখ দেখাব না। পরিচয় গোপন রাখব। আশ্বস্ত মেহদি। সে স্বস্তির শ্বাস ফেলে বলল আমি রাজি। কিন্তু সম্পূর্ণ কথা রাখল না চ্যানেল ফোর। সেই ইন্টারভিউর সময় ফেসবুকে থাকা মেহদির ছবি ধূসর করে আবছাভাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু নাম দেখানো হল আসল। মেহদি। এবং আরও বড় সর্বনাশ হল সেখানে সাফ জানিয়ে দেওয়া হল বিশ্বত্রাস ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাশট্যাগ শামি উইটনেস আর কেউ নয়, ইন্ডিয়ার বেঙ্গালুরুর এক টেকি ইঞ্জিনিয়ার এক্সিকিউটিভ। ব্যস! গোটা ইন্টারভিউ দেখানো হল সিরিয়াল করে করে। অর্থাৎ একাধিক এপিসোডে। ব্যস! অনলাইন জুড়ে ঝড় উঠল। কারণ ততদিনে শামি উইটনেসের যেমন পক্ষে ফলোয়ার ছিল হাজার হাজার..তেমনই আবার হাজার হাজার তার বিপক্ষেও ছিল। যাদের বলা যেতে পারে হেটার। এই প্রচারকে ঘৃণা করে তারা পালটা লাগাতার এই অ্যাকাউন্টের বিপক্ষে পালটা ট্যুইট করে গিয়েছে। এবার যেই মেহদি নাম এবং বেঙ্গালুরুর এক্সিকিউটিভ নামটা প্রচারিত হয়ে গেল তখন আর দেরি হল না আসল মানুষকে খুঁজে বের করতে। আর সোস্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হল চরম বিরুদ্ধ প্রচার। আতঙ্কগ্রস্ত কলকাতার শহরতলিতে বড় হয়ে ওঠা এক তরুণ দিশাহারা হয়ে গেল গোটা বিশ্বের থেকে এই আক্রমণের সামনে। পরদিন ১২ ডিসেম্বর সে বাধ্য হয়ে ভয়ে ডি অ্যাক্টিভেট করে দিল ফেসবুক। সেদিন রাত ১২টা ৩২ মিনিটে নিজের ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট (shami witness) বন্ধ করে দেওয়ার আগে শেষবারের মতো একটি অ্যাকাউন্টে সে মেসেজ পাঠাল। এবার অবশ্য ট্যুইটার ডাইরেক্ট মেসেজের মাধ্যমে। ওই আবু সাদকে জানিয়ে দিল আমি ধরা পড়ে গিয়েছি। ওরা এটাও জেনে গিয়েছে যে আমি ইন্ডিয়ান। একথা বলার পর মেহদিও আকাশ থেকে পড়েছিল। কারণ আবু সাদ পালটা মেসেজে জানাল, তোমাকে বলা হয়নি আমিও ইন্ডিয়ান। তাদের তিনজনের একটি গ্রুপ তৈরি হয়েছিল আর একজন ছিল তালাব আল হক। মেহদির ধারণা ছিল বাকি দুজনই প্রত্যক্ষ ফাইটার। এবং ইন্ডিয়ান সে একা। এই দুজন এত দুর্ধর্ষ আরবি বলত যে কারও সামান্যতম সন্দেহ হবে না এরা ইন্ডিয়ান। মেহদি বুঝে গেল তাদের খেলা শেষ। গোটা অনলাইন জগৎ আসলে ভারচুয়াল এক মিথ্যার দুনিয়া। কাকে বিশ্বাস করেছিল সে?

ক্রু বলতে শুধুমাত্র এটাই যে সন্দেহভাজনের নাম মেহদি। সে বেঙ্গালুরুতে থাকে। আর একটি কোম্পানির এক্সিকিউটিভ। এটুকু সম্বল বেঙ্গালুরু পুলিশের কাছে। শুধু এই ইনফরমেশন নিয়ে বেঙ্গালুরুর মতো কসমোপলিটন শহরে কোনো মানুষকে খুঁজে বের করা কি সম্ভব? এই শহর তো লক্ষ লক্ষ বহিরাগতদের ঠাঁই দিয়েছে। অজস্র কর্পোরেট অফিস। অজস্র মেহদিও আছে। বেঙ্গালুরু পুলিশ সাইবার সেল প্রথমেই স্থির করল একটা স্পেশাল সফটওয়্যার ব্যবহার করার। সেটির মাধ্যমে ফেসবুকে একটা সার্চ চালানো হল কারা কারা সুপারম্যানের টি শার্ট পরে প্রোফাইল পিকচার করেছে। কারণ চ্যানেল ফোরের ইন্টারভিউতে দেখা গিয়েছে মেহদি নামক লোকটির প্রোফাইল পিকচারে সুপারম্যানের টি শার্ট। সুপারম্যান এমন একটি চরিত্র যে দুটি পৃথক জীবন যাপন করে। ঠিক মেহদিও তাই করে এসেছে। দিনে সে সাংঘাতিক মনোযোগী এক পরিশ্রমী এক্সিকিউটিভ। কম কথা বলা, নিরীহ দর্শন। আর রাতে সেই হয়ে যেত বিশ্বের এক কুখ্যাত সন্ত্রাস প্রচারক। কারণ মেহদির মোবাইল নম্বর বা লোকেশন সার্চ করা যাচ্ছে না। দেখাচ্ছে না কোনো আইপি অ্যাড্রেস। তাহলে? আর কিছু তথ্য পাওয়া সম্ভব? সোর্স একটাই। চ্যানেল ফোরের ইন্টারভিউ বারংবার দেখা। যদি কিছু আন্দাজ করা যায়। আরও স্পেসিফিক! একবার… …দুবার…ি ..তিনবার….চারবার….। বারংবার দেখে আচমকা তিনটি বাক্য শুনে ভয়েস অ্যানালিসিসে পাঠানো হল। দেখা গেল কণ্ঠস্বরটি ২৩ থেকে ২৬ বছরের কোনো যুবকের। বাহ! তাহলে ফেসবুক সার্চে যত সিনিয়র পজিশনের কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ বেঙ্গালুরুতে আছে যাদের নাম মেহদি, তাদের বাদ দেওয়া যেতে পারে। শুধু এই বয়সের রেঞ্জের মেহদিদের রাখা হল সন্দেহের তালিকায়। তা সত্ত্বেও অনেকই হয়ে যাচ্ছে। ঠিক তখনই মোক্ষম এক ক্রু এল নজরে। মেহদি চ্যানেল ফোরে যে চ্যানেল ইন্টারভিউ দিয়েছে সেটির অংশবিশেষ হল এরকম—চ্যানেল : ফোর তোমার ভয় করল না এসব করতে? তোমার মনে হয় তুমি কিছু ভুল করেছ?

মেহদি : না। আমি কোনো ভুল করিনি। আমি কাউকে নিজে কোনো ক্ষতি করিনি। আমি আমার দেশের কোনো আইন ভঙ্গ করিনি। আমি নিজের দেশের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধও ঘোষণা করিনি। তাহলে আমার কেন অপরাধী মনে হবে নিজেকে?

চ্যানেল ফোর : কিন্তু তোমাকে নিয়ে গোটা বিশ্ব উত্তাল—সকলে তোমার সমালোচনা করছে!

মেহদি : সেটা একসময় থেমে যাবে। আসলে এই প্রথম আমার মতো এক মুসলিম যুবককে দেখা যাচ্ছে এরকম ইংরাজিতে কমিউনিকেট করতে । সেটা সহ্য হচ্ছে না আমাদের শত্রুদের। তাই এই আক্রমণ। আমি নিজের দেশ বা এই দেশের বন্ধুদের বিরুদ্ধে একটাও কথা উচ্চারণ করিনি তো! তবু পুলিশ আসবে আমার কাছে।

চ্যানেল ফোর : কেন একথা মনে হচ্ছে তোমার?

মেহদি : কারণ আমি শুনছি আমাকে খোঁজা হচ্ছে। হয়তো ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

অত্যন্ত নিবিষ্ট মনে শোনা হচ্ছে ইন্টারভিউ। চেনা যাচ্ছে না মেহদিকে। কারণ ইন্টারভিউ দেওয়ার শর্তই দিয়েছিল সে তাকে যেন আড়াল করা । তাই তার মুখ আবছা ব্লার করে দেওয়া হয়েছিল। কথা স্পষ্ট। মুখ আবছা। কিন্তু মেহদি চ্যানেল ফোরে যে সাক্ষাৎকার সাইমন ইজরায়েলকে দিয়েছে সেই প্রশ্নোত্তর পর্বে তার প্রতিটি উত্তরের মধ্যে স্পষ্ট একটি বিশেষ উচ্চারণের ধাঁচ। কী হতে পারে? ভ্রু কুঁচকে যাচ্ছে বেঙ্গালুরু গোয়েন্দাদের। আচমকা এক ঝলকে মনে হল । ইয়েস!! …মেহদির মধ্যে রয়েছে বাঙালি উচ্চারণ! বড় অংশের বাঙালির মধ্যেই প্রাথমিকভাবে হিন্দি ও ইংরাজিতে কখনও সখনও অবশ্যই টিপিক্যাল বাঙালি উচ্চারণ বেরিয়ে আসে। বেঙ্গালুরুতে প্রচুর বাঙালির বাস। তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগও প্রচুর পুলিশের। মেহদির উচ্চারণ যে বাঙালি সেটি মনোযোগ দিয়ে বোঝা সম্ভব হল। সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুক সার্চ আবার। পেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হল হ্যাঁ। এই ছেলেটি বাঙালি। মেহদি মসরুর বিশ্বাস। কলকাতায় বাড়ি। তারপরই সোদপুরের গুরুনানক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে খোঁজ মিলে গেল তাও। ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪, আয়াপ্পা নগরের ওয়ান রুম স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে বেঙ্গালুরু পুলিশ হানা দিল। ৬ মাস জেরা আর তদন্তের পর মেহদির বিরুদ্ধে কত বড় চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল?

৩৭ হাজার পৃষ্ঠার!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *