সিবিআই ইনস্পেক্টর রামন ত্যাগী ফাইল তৈরি করছেন। আগামীকাল ট্রায়াল কোর্টে শুনানি। বম্বে ব্লাস্টের। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুযায়ী এভিডেন্সসহ এই ফাইল সাবমিট করতে হবে। রাত প্রায় ৯ টা। এর মধ্যেই বাড়ি থেকে দুবার ফোন এসেছে। স্ত্রী। জানতে চাইছেন আর কত দেরি হবে। রামন ত্যাগী বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন অনেক সকালে। যদিও এই চাকরিতে এটা কোনো নজিরবিহীন ব্যাপারই নয় যে রাত দশটা এগারোটা হয়ে যাচ্ছে ফিরতে। এমনও হয়েছে অফিস থেকে সারারাত আর ত্যাগী বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে জানা গেল তিনি চেন্নাই। আসলে আজ একটা বিশেষ পারিবারিক গেট টুগেদারও আছে। যেতে হবে। এখনই রাত ৯ টা। রামন ত্যাগী ভাবলেন একবার বাড়িতে বলে দেবেন তিনি অফিস থেকেই সোজা সেই আত্মীয়ের বাড়িতে পৌঁছে যাবেন। আর পরিবার যেন সেখানে আগেই পৌঁছে যায়। তবে কাজটা প্রায় হয়ে এসেছে। আর দুটি পৃষ্ঠা। তারপর না হয় ফোন করা যাবে। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আবার ফোন বাজছে। এবার একটু বিরক্ত হলেন ত্যাগী। এরকম আচরণ তো স্ত্রী করেন না। তিনি জানেন বম্বে ব্লাস্টের কেস নিয়ে কতটা টেনশন আছে। অ্যাকিউজডদের কনভিকশন না হলে সিবিআই এর মানইজ্জত নষ্ট হবে তাই শুধু নয়, গোটা দেশের এবং বহিরাগত অপরাধী আর জঙ্গিদের মধ্যে একটা কনফিডেন্স চলে আসবে যে এই দেশে ইনভেস্টিগেশন করার মতো তদন্তকারী সংস্থা নেই। সিবিআই এরকম একটা হাই প্রোফাইল কেসও ঠিকমতো হ্যান্ডল করতে পারছে না! সুতরাং কোনো ফাঁক যেন না থাকে ফাইলে। ত্যাগী অত্যন্ত বিরক্তির সঙ্গে ফোন তুলে সবেমাত্র বলতে শুরু করেছেন, আমি তো বলছি একটু বিজি আছি…একটু পরই বেরোব..। ওপ্রান্তে কে আছে ফোনে সেটা না জেনেই ত্যাগী ফোন কানে নিয়েই ওসব বলা শুরু করছিলেন। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর থেমে গেলেন। একটা চেনা কণ্ঠস্বর। তবে স্ত্রী নয়। এক পুরুষকণ্ঠ।
আদাব ইনস্পেক্টর সাব।
ত্যাগীর নার্ভ টানটান হয়ে গেল। তাঁর এক ইনফর্মার ফোন করেছে। আর এই ইনফর্মার তথা গুপ্তচরের মূল্য অপরিসীম। কারণ যে সে দলে যুক্ত নয় সে। এই লোকটি ডি কোম্পানির গ্যাংয়ের সদস্য। আর গোপনে সে সিবিআইয়ের ইনফর্মার। সুতরাং ত্যাগী ফাইল থেকে চোখ সরিয়ে চাপা স্বরে বললেন, হাঁ বোলো, কেয়া খবর হ্যায়।
সাব আপকে কামকা খবর হ্যায়। সেলিম কুরলা কা ফোন নম্বর মিল গয়া হ্যায়। উত্ত আভি হায়দরাবাদমে হ্যায়।
ত্যাগীর শিরদাঁড়া শক্ত হচ্ছে। সেলিম কুরলা! বম্বে ব্লাস্টের এক অন্যতম অভিযুক্ত। যাকে খোঁজা হচ্ছে অনেকদিন ধরে। পাওয়া যাচ্ছে না। ত্যাগী জানতে চাইছেন আর কোনো এক্সট্রা ইনফরমেশন আছে কিনা। সেই ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হল আপাতত আর কিছু খবর নেই। তবে আপনি হায়দরাবাদ চলে যান। ওখানে গিয়ে লোকাল কোনো নম্বর দিন আমাকে। আমি সেলিমের সঙ্গে কথা বলে কনফার্ম করব সে ওখানে থাকছে কিনা। অথবা কতদিন আছে। আমি পাক্কা খবর আপনাকে জানিয়ে দেব। উসকে বাদ আপ রেইড মার দেনা সাব!
ত্যাগী তৎক্ষণাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নিলেন না। কারণ এই ইনফর্মার আগে যেমন অনেক সঠিক খবর দিয়েছে তেমনই আবার প্রচুর ভুল খবরও দিয়েছে। তাই আজকের খবর যে সঠিক হবে তার নিশ্চয়তা নেই। ১৯৯৫ সালের জানুয়ারি। ঠিক দু বছর আগে হয়েছে মুম্বই বিস্ফোরণ।
দাউদ ইব্রাহিমের গ্রুপে সেলিম আর শাকিল একাধিক। গ্যাং মেম্বারদের কাছে তাদের পরিচিতি ডাকনামে। ছোটা শাকিল। লম্বু শাকিল। সেলিম কুত্তা। সেলিম টেম্পো। সেলিম কুরলা। সেলিম কুরলার প্যাশন হল সিনেমা। হিন্দি সিনেমা। বম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দাউদ ইব্রাহিমের যোগাযোগ বহুদিনের। আর সেই যোগাযোগকে মসৃণ করেছে সেলিম কুরলা। ব্লাস্টের পর দাউদ দুবাই ছেড়ে চলে গিয়েছে করাচি। দুবাই, শারজায় যত বেশি ভারতীয় চিত্রতারকাদের আগমন ঘটে ততটা ঘটে না পাকিস্তানে। তাই ক্রমেই সেলিম কুরলাই হয়ে উঠেছিল দাউদের অন্যতম লিংকম্যান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে। সেলিম কুরলা কীভাবে জড়িত ছিল বিস্ফোরণে? উসমান খান, সঈদ ইশাক, শেখ ইব্রাহিম আর মহম্মদ হানিফ। এই চার যুবককে চিহ্নিত করে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল এই সেলিম। ট্রেনিংয়ের জন্য। অস্ত্র আর আরডিএক্স হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব ছিল। ইসলামাবাদের কাছে এক জঙ্গলে চারদিনের ট্রেনিং হয়। এবং তারা ফিরে আসে বম্বে। ঘটনাচক্রে ১২ মার্চ ১৯৯৩ সালে বম্বের বিস্ফোরণের ঠিক চারদিন আগেই স্বয়ং সেলিম কুরলা আর যাকে পাঠানো হয়েছিল পাকিস্তানে তার সঙ্গী, সেই সঈদ ইশাক গ্রেপ্তার হয়ে গেল। মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ গ্রেপ্তার করেছে তাদের এক গুজরাটি ব্যবসায়ীকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে। সুতরাং বম্বেতে যখন একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটছে তখন আইএসআই এর অন্যতম হ্যান্ডলার সেলিম কুরলা ক্রাইম ব্রাঞ্চের লক আপে। সুতরাং তাকে জেরা করতে কোনো অসুবিধা হয়নি। জানাও হয়ে গেল যে কীভাবে পাকিস্তান থেকে গোটা প্ল্যান করা হল। সেইমতো নতুন কেসেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু তারপরই খবর এল সেলিম পালিয়েছে। তাকে ধরার জন্য ২ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হল। কিন্তু সেলিমকে আর ধরা গেল না। সেলিম উধাও।
ইনস্পেক্টর রামন ত্যাগী তাঁর সিনিয়রদের জানালেন এই বিশেষ ইনপুটের কথা। সকলেই শুনে প্রাথমিকভাবে উত্তেজিত। কিন্তু আসল প্রশ্নটাই সবথেকে মূল্যবান। সেটা হল সত্যিই কি এই খবর সঠিক? কারণ সরকারি তদন্তকারী সংস্থার একটা প্রক্রিয়া আছে। সরকারের উচ্চতম মহলে জানাতে হবে। একটা গোটা টিম এতবড় একটা অপারেশনে হায়দরাবাদে যাবে। এবং তার গিয়ে যদি দেখা যায় ইনফরমেশন ভুল? তাহলে চরম হেনস্তা। এই অবস্থায় কী করা উচিত? স্থির হল দিল্লি থেকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিআইজি নীরজকুমার যাবেন। আর মুম্বই থেকে যাবেন ইনস্পেক্টর রামন ত্যাগী আর ওই শাখার এসপি সতীশ ঝা। তবে সতীশ ঝা চাইছেন আর একজন অফিসারকে নিতে। ইনস্পেক্টর ডি কে পরদেশি। এই পরদেশি যে কোনো আচমকা রেইড আর ট্র্যাকিং এ সাংঘাতিক অ্যাক্টিভ এক পুলিশ অফিসার। এই অবস্থায় টিম তৈরি হল। দিল্লির ডিআইজি জানিয়ে দিলেন যত দ্রুত সম্ভব রওনা হও। ফ্লাইটে । আমি আসছি। বিকেলের মধ্যে গোটা টিম হায়দরাবাদে হাজির। অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ অফিসার্স মেসটি হল বানজারা হিলসে। মাসাব ট্যাংকের কাছে। বানজারা হিলস হায়দরাবাদের সবথেকে পশ এলাকা। চিরঞ্জীবী থেকে নাগার্জুনা। চন্দ্রবাবু নাইডু থেকে চন্দ্রশেখর রাও। প্রথম সারির সমস্ত সেলেব্রিটি থাকেন এই বানজারা হিলসে। রামন ত্যাগী আর ডি কে পরদেশি কিন্তু মুম্বই থেকে এসে সেই পুলিশ মেসে উঠলেন না। তাঁরা সোজা এয়ারপোর্ট থেকে চলে গেলেন সেই ল্যান্ডলাইন ফোন নম্বরের ঠিকানায়। যে ঠিকানার বাসিন্দার নাম কে আর ত্যাগী। ইনস্পেক্টর রামন ত্যাগীর ইনফর্মার সেলিম কুরলার যে ফোন নম্বর দিয়েছিল তার ঠিকানায় একবার নিজেই রামন ত্যাগী পরদেশিকে নিয়ে ঘুরে এলেন। তবে দূর থেকে। বেশি কাছে গেলে অচেনা মানুষকে দেখে সন্দেহ হতেই পারে। আর সামান্য সন্দেহ হলেই কুরলা পালাবে। যদি সে সত্যিই থাকে। সামনে থেকে ঘুরে এসে এবার হায়দরাবাদের এসিপি অফিসে এলেন রামন ত্যাগী এবং ডি কে পরদেশি। সেখানে আগে থেকেই বসে আছেন জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ কে ভি রামাডু। তাঁর সামনেই একটা ফোন রাখা। রামন ত্যাগী বললেন স্যার, একটা লোকাল ফোন নম্বর লাগবে। ফোন আসার কথা আছে। (তখন মোবাইল ফোন ছিল না)। সেই সামনে রাখা ফোন নম্বরটি দেওয়া হল। অন্যদিকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিআইজি নীরজকুমার ততক্ষণে এয়ারপোর্টে নেমে সর্বাগ্রে পৌঁছেছেন সেকেন্দ্রাবাদের এসিপি অফিসে। এসেছেন সতীশ ঝা। আগে থেকেই বলা আছে। এখানেই এসে রিপোর্ট করবেন রামন ত্যাগী ও ডি কে পরদেশি। তাঁরা এলেই ঠিক কখন রেইড করা হবে সেটা ফাইনাল হবে। একদম সময় নষ্ট করা যাবে না। সবথেকে ভালো হয় এখন যদি সেলিম তার ওই গোপন আস্তানায় থাকে, তাহলে দেরি করা যাবে না। এখনই রেইড করতে হবে। নাহলে যদি পাখি উড়ে যায় আবার! এর আগেও একবার সেলিম পালিয়েছে। সুতরাং আবার সেই সিবিআইয়ের হেফাজত থেকেই যদি সেলিম পালায় তাহলে চরম লজ্জা। এখনও আসছে না কেন রামন ত্যাগীরা? আরও ২৫ মিনিট কেটে গেল। ওই যে আসছে রামন ত্যাগী আর ডি কে পরদেশি। ত্যাগীর মুখচোখ কেমন যেন শুকনো। বেচারা। কাল রাত থেকে ওর এক বিন্দুও বিশ্রাম নেই। লাগাতার ডিউটি। আর এই গোটা অপারেশনের ইনপুট দিয়েছে ত্যাগীরই ইনফর্মার। তাই ওঁর দায়িত্ব বেশি। ত্যাগী এসে দাঁড়িয়েছেন। সেকেন্দ্রাবাদের লোকাল পুলিশকে ইতিমধ্যেই রেডি থাকতে বলা হয়েছে। হায়দরাবাদ সিবিআই ব্রাঞ্চের দুই অফিসারও হাজির। সব প্ল্যান রেডি। ত্যাগী কথা বলছেন না। কী ব্যাপার? কেয়া হুয়া পরদেশি? নীরজকুমার জানতে চান। কিন্তু পরদেশি নীরব। ইশারা করছেন ত্যাগীর দিকে। কী ব্যাপার ত্যাগী? টেল আস দ্য স্ট্যাটাস! এভাবে চুপ করে আছো কেন? ত্যাগী এবার কথা বললেন। মৃদু স্বরে। স্যার! সেলিম নেই। আজ সকালেই পালিয়েছে! ঘরে নেমে এল এক স্তব্ধতা!
সবটাই দাউদ ইব্রাহিমের সিদ্ধান্ত বদলের কাহিনি। সেই প্রথমবার লক আপ থেকে পালানোর পর থেকেই সেলিম কুরলা কোনো জায়গায় কিছুদিনের বেশি থাকতে পারছিল না। সর্বোপরি মুম্বই থেকে পালাতে হয়েছে। তাহলে তার রোজগার কীভাবে হবে? নতুন নতুন জায়গায় নতুন নতুন-কাজ কে দেবে? তাই স্ত্রী, পরিবার নিয়ে সেলিম কুরলার বেঁচে থাকাই হয়ে দাঁড়াল এক সংকট। স্বাভাকিভাবেই যার জন্য এই জীবনকে সে বেছে নিয়েছে এবং যার নির্দেশে তার ওই অবস্থা তার শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গতি কী। অতএব দাউদ ইব্রাহিমই হয়ে দাঁড়াল তার একমাত্র সহায়। দাউদের দক্ষিণ হস্ত ছোটা শাকিল মাঝে মধ্যেই ভাইয়ের নির্দেশে হাওলা মারফত সেলিমকে টাকা পাঠায়। সেই টাকায় কোনোমতে চালাচ্ছে। কিন্তু বুড়ো অথবা পঙ্গু ঘোড়াকে মালিক কতদিন টানে? একথা দাউদকে একদিন বলল আনিস ইব্রাহিম। দাউদের ছোট ভাই। সে বলল, ভাই, সেলিম আব কুছ কাম নেহি কর রাহা। আমরা অযথা ওকে টানছি কেন? দাউদ জানতে চাইল কী করা উচিত তাহলে? আনিস একটা প্ল্যান দিল। সহজ প্ল্যান। পুলিশে অ্যারেস্ট করিয়ে দাও। দাউদের মনে ধরেছে কথাটা। কিন্তু কীভাবে? এই পথও সহজ। মুম্বইয়ে থাকা দলের এক সদস্যকে দিয়ে পুলিশে ফোন করানো হবে। সে পুলিশকে বলবে সেলিম কোথায় আছে। সেই সোর্স মারফৎ খবর পেয়ে পুলিশ বা সিবিআই নির্ঘাৎ রেইড করবে। আর সেলিম কুরলা ধরা পড়ে যাবে। ধরা পড়লে তারপর আর তাকে বা তার পরিবারকে আর্থিকভাবে টেনে নিয়ে যাওয়ার দরকার নেই। সোজা কথায় যতক্ষণ তুমি কার্যকরী আছো তোমাকে সবরকম সুযোগ সুবিধা টাকা পাওয়ার সব দেওয়া হবে। একবার তুমি অকেজো হয়ে গেলে মানেই আর তোমাকে দরকার নেই। এটাই মাফিয়া জগতের নিষ্ঠুর ও অতিবাস্তব নিয়ম। সুতরাং সেলিমকে যাতে পুলিশ অ্যারেস্ট করে সেই ব্যবস্থা মতোই যে দাউদ তাকে হায়দরাবাদে থাকার গোপন আস্তানার ভাড়া মেটাচ্ছিল, সেই নিজের এক গ্যাংস্টারকে নিয়ে পুলিশকে ফোন করিয়ে দিল। সেই ফোনটাই এসেছিল বম্বেতে সিবিআই ব্রাঞ্চে সেই রামন ত্যাগীর কাছে রাত ৯ টার পর। তার মানে কী দাঁড়াল? তার মানে হল ইনস্পেক্টর রামন ত্যাগী ভেবেছিলেন তাঁর সোর্স তিনি গোপনে ঢুকিয়ে দিতে পেরেছেন দাউদের গ্রুপে। গোপন যাবতীয় খবর যে তিনি পেয়ে যাচ্ছেন দাউদেরই এক গ্যাং মেম্বারের থেকে তা দাউদ কল্পনাই করতে পারছে না। আসলে তিনি ভুল ছিলেন। সবটাই দাউদ জানে। আর জেনেশুনেই সেই গ্যাং মেম্বারকে দাউদ নিজে পুলিশের সোর্স হিসাবেই কাজ করে যেতে গোপনে নির্দেশ দিয়ে রেখেছে। সেইমতোই সেই লোকটি রামন ত্যাগীকে সেদিন ফোন করে বলেছিল সেলিম কুরলা হায়দরাবাদে একটি ফ্ল্যাটে লুকিয়ে আছে। এ পর্যন্ত ঠিক আছে। ব্যাপারটা বোঝা গেল। সেলিম কুরলা আর তার পরিবারকে আর টাকা দিতে চাইছে না দাউদ। তাই কৌশলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। যাতে পুলিশ মনে করে তারা নিখুঁত ইনফরমেশন পেয়েছে। আর কুরলারও কোনো সন্দেহ না হয় যে খোদ দাউদ ভাই এভাবে তাকে ধরিয়ে দিল। কারণ একবার এই গোপন কৌশল প্রকাশ হয়ে পড়লে দাউদের গ্যাং মেম্বারদের মধ্যেও একটা চোরা আশঙ্কার স্রোত ছড়িয়ে পড়বে। সকলেই যে কোনো অপারেশন অথবা মিশনে নামার আগে ভাববে আমি নিছক যন্ত্র। একবার যন্ত্রটি অচল হয়ে গেলেই ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে। সুতরাং সদস্যদের থেকে যে সম্ভ্রম, সমীহ, শ্রদ্ধা, ভক্তি পাওয়া যায় সেটা আর থাকবে না। বেঁচে থাকবে কেবলমাত্র ভয়। রাজনৈতিক নেতা আর মাফিয়া ডনদের মধ্যে একটা জিনিসে মিল আছে। সেটি হল তাদের অনুগতরা যেন শুধু ভয় না পায়, ভক্তিও করে। সেটা দেখতে হয়। অর্জন করতে হয়। না হলে দল ধরে রাখা যায় না। এখানেই প্রশ্নটি উদিত হচ্ছে। তাহলে কেন সেলিম কুরলা পালিয়ে গেল? সব প্ল্যানই তো নিখুঁতভাবে এগোচ্ছিল। আনিস ইব্রাহিমের ফোন। সেই সোর্স পুলিশকে যথারীতি জানাল কোথায় গেলে পাওয়া যাবে সেলিমকে। সেইমতো পুলিশ ও সিবিআই টিম হাজির হায়দরাবাদে। যেখানে সে গোপন জীবন যাপন করছে তার সন্ধানও পাওয়া গেল। পুলিশ খুব কাছে। অথচ আসল লোকটাই শেষ মুহূর্তে উধাও? কেন? এই কেনর উত্তর আরও বিস্ময়কর। শেষ মুহূর্তে নাকি দাউদ ইব্রাহিমের মন বদল হয়েছে। সে ভাইকে বলেছে, সেলিম আমাদের জন্য আগে অনেক সার্ভিস দিয়েছে। ওকে এভাবে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আনিস কোনো কথা বলেনি। সে জানতে চাইল কবে আসছে পুলিশ? উত্তর পাওয়া গেল, আগামীকাল। তাই সেদিনই রাতেই আনিসের ফোন গিয়েছিল সেলিম কুরলার কাছে। ফোনে বলা হয়েছিল একটিই বাক্য। ‘সাব আ রহে হ্যায়…নিকাল লো..।’ সেলিম পালিয়েছে সেকথা শুনেই। ‘সাব’ অর্থাৎ পুলিশ। অপরাধ জগতের কোড নেম। কিন্তু এসব খবর কোথা থেকে জানা গেল? ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে? না। রামন ত্যাগী বললেন, হায়দরাবাদের যে নম্বরটি তাঁর সোর্সকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ফোন করে সেই ইনফর্মারই গোটা ব্যাপারটা জানিয়েছে। সুতরাং এক্ষেত্রে তাকে দোষ দেওয়া যায় না। সে দাউদের কথামতো কাজটা করেছে। আবার দাউদ যে এভাবে নিজেই সরাসরি সেলিমকে সতর্ক করে পালিয়ে যেতে বলবে সেটা সে জানতেই পারেনি। জেনেছে আজ বিকালে। এখন উপায়?
গোটা ঘরে সকলে চুপ। কেউ কোনো কথা বলছে না। এবার? মুখ দেখাবেন কি করে এতগুলো অফিসার? মিডিয়া জানবেই। সরকারকে জানাতে হবে। হোম মিনিস্টার নির্ঘাত লিখিত কৈফিয়ত চাইবেন। শোকজও হতে পারে। অতএব ভগ্নমনোরথ গোটা টিম আবার ফেরার পথে। একটি টিম যাবে দিল্লি। আর একটি টিম যাবে মুম্বই। কী অপেক্ষা করে আছে কে জানে? হঠাৎ সিবিআই এসপি সতীশ ঝা গাড়ি থামাতে বললেন। এখন গাড়ি থামানো কেন? ফ্লাইটের টিকিট কাটা হয়নি এখনও। এয়ারপোর্টে গিয়ে টিকিট কাটতে হবে। আদৌ পাওয়া যাবে কিনা জানা নেই। তাই বাকিরা বিরক্ত। তবে ডিআইজি নীরজকুমারের সবুজ সংকেত ছাড়া এটা সম্ভব নয়৷ পিছনের গাড়িও থেমে গেল। সকলে মাঝরাস্তায় নেমে পড়লেন। সতীশ ঝা বললেন, আমরা নিজেরা একবার ওই ফ্ল্যাটে কেন যাচ্ছি না? শুধুই ইনফর্মারের কথা শুনে হায়দরাবাদে এত বড় একটা টিম এসেও ফিরে যাবে? একবার যাওয়া যাক। তাই ঠিক হল। যে ফ্ল্যাট দূর থেকে দেখে আসা হয়েছিল। সেখানে দুটি গাড়ি ঢুকল। অনেক দূরে রাখা হল গাড়ি। এই সেই বাড়ি। যেখানে এতদিন ধরে লুকিয়ে আছে সেলিম। একটু আগে খবরটা পেলে…! আফশোস করছেন সিবিআই অফিসাররা। এগোচ্ছেন তাঁরা। গ্রাউন্ড ফ্লোরের দরজা হাট করে খোলা। প্রচণ্ড জোরে হিন্দি সিনেমার গান ভেসে আসছে শুধু। একটা খোলা হলঘরে একটা স্টিরিও সিস্টেম। আর কিছু নেই। কেউ আছে? চিৎকার করলেন সতীশ ঝা। একটা বছরে দশেকের বাচ্চা বেরিয়ে এল। এবং তার পিছনে এক দম্পতি। তাদের পরিচয় কি? ইনিই কে আর ত্যাগী। ফ্ল্যাটের মালিক। আর তাঁর নামেই সেই ল্যান্ডলাইন ফোন। সিবিআইয়ের পরিচয় পেয়ে স্বাভাবিকভাবে তাঁরা ভীত। কী ব্যাপার? ফোন নম্বরটি বলে জানতে চাওয়া হল এই নম্বরটি আপনার? হ্যাঁ। আর কেউ এই নম্বর থেকে ফোন করে?
হ্যাঁ। আমাদের ভাড়াটে। আহমেদ।
আহমেদ? একটি ছবি দেখানো হল। এটাই কি আহমেদ?
হ্যাঁ। এটাই তো আহমেদ! কী ব্যাপার?
এই লোকটার নাম আহমেদ নয়। এ হল সেলিম কুরলা। মাফিয়া।
দম্পতি আতঙ্কে কাঁপছেন। তাঁরা জানালেন বিশ্বাস করুন। আমরা কিছুই জানি না। আমাদের এক চেনা লোক এই ভাড়াটেকে বসিয়েছে। আজ সকালেই তো আহমেদ তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে একটা ফিয়াটে চেপে চলে গিয়েছে। আমাদের কিছু বলেনি কোথায়। মাঝেমধ্যেই ওরা বাইরে চলে যায়।
চলুন তো দোতলায় ।
যাওয়া হল। দেখা গেল একটা বিরাট তালা ঝোলানো। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন সিবিআই অফিসাররা। নীচে নেমে আসার পর সকলে এগোচ্ছেন নিজেদের গাড়ির দিকে। হঠাৎ সেই দম্পতির বাচ্চা ছেলেটি এগিয়ে এসে বলল, এই তো, এটাও আংকলের গাড়ি। এই বলে হাত দেখালো সিঁড়ির নীচে। সেখানে দেখা গেল একটা স্কুটার। ডি কে পরদেশি বললেন, এটা আংকল চালায়? বাচ্চাটি বলল, হ্যাঁ। আংকল সবসময় এই স্কুটার চালায়। একটা স্কুটার আর একটা গাড়ি। সব শেষ। আবার খোঁজা শুরু হবে। নিয়মমাফিক যে গাড়িতে চেপে সেলিম পালিয়েছে সেটার রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে হায়দরাবাদ পুলিশকে বলা হল ট্র্যাক করতে। এবার ফিরছে গোটা টিম। তবে কাল সকালের আগে আর ফ্লাইট পাওয়া যাবে না। সুতরাং আজ রাত কাটাতে হবে এখানে।
হঠাৎ কী মনে হল ইনস্পেক্টর ডি কে পরদেশি বললেন, স্যার একটা কাজ করি। আমরা দুজন এই ফ্ল্যাটের কাছেই গাড়িতে রয়ে যাই। যদি আবার সেলিম আসে। বাকিরা প্রশ্নবোধক চোখে তাকালেন। আবার আসবে? কেন আসবে? একবার পালিয়েছে যে সে আবার আসবে কেন? স্যার, যদি এই স্কুটার নিতে আসে? আশ্চর্য! এরকম ভুল কেউ করবে? সামান্য স্কুটারের জন্য সেলিম এত বড় রিস্ক নেবে? এটা আবার কী কথা? কিন্তু তাও কেউই উড়িয়ে দিল না কথাটা। কারণ পরদেশি বললেন, দাউদের পাঠানো টাকার উপর ভরসা করে যার দিন নছে সে একটা আস্ত স্কুটার ফেলে চলে যাবে? আগের সেলিম হলে তবু কথা ছিল। আজ যখন আর ফেরাই হচ্ছে না, তখন এটাও না হয় করে দেখা যাক। ভাবলেন বাকিরা। সেইমতো রামন ত্যাগী আর ডি কে পরদেশি রয়ে গেলেন। দূরে। অ্যামবাসাডর গাড়িতে। রাত বাড়ছে। কেউ নেই। গোটা এলাকা শুনশান হয়ে গেল। আলো নিভে গেল প্রায় সব বাড়ির। নিঝুম আঁধারে একটা অশ্বত্থ গাছের নীচে একটা সাদা অ্যামবাসাডর। কাঁচও তোলা । যাতে মনে হয় কেউ পার্ক করে চলে গিয়েছে। কেউ ভিতরে নেই। আসলে ভিতরে রয়েছেন রামন ত্যাগী আর ডি কে পরদেশি। কেউ এল না। রাত আড়াইটে। একটু ঝিমুনি এসেছে। দুজনেরই। সামান্য একটা শব্দ। অনতিদূরে। একটা অটো এসে দাঁড়াল। হেডলাইট জ্বলছে অটোর। তাই কেউ নড়লেন না ত্যাগী ও পরদেশি। কয়েক মিনিট কাটছে। হেডলাইট নিভল। স্টার্ট বন্ধ হয়েছে। একটা লম্বা লোক বেরিয়ে এল অটো থেকে। এগোচ্ছে সে ওই ফ্ল্যাটের দিকে। হাতে চাবি। সিঁড়ির দিকে। না সে উপরে গেল না। সিঁড়ির নীচে দাঁড়াল। স্কুটারের কাছে। এদিক ওদিক তাকিয়ে স্কুটার হাত দিয়ে বের করে আনছে। অটোচালককে হাত দিয়ে ইশারা করল। অটোচালক স্টার্ট দিয়ে চলে যাচ্ছে। এবার হাঁটিয়ে হাঁটিয়ে অনেকটা দুর স্কুটার আনছে সেই লোকটি। অবশেষে চাবি ঢুকিয়ে বসে পড়ল সিটে। এবং স্টার্ট দেওয়ার পূর্ব মুহূর্তে পিঠে টোকা। চকিতে মুখ ফিরিয়ে লোকটি দেখতে পেল দুদিকে দুটি মানুষ দাঁড়িয়ে। একজনের হাতে রজার্স কোম্পানির একটি পিস্তল। মুখ শুকিয়ে গেল লোকটির। তার নাম সেলিম কুরলা। রামন ত্যাগী বললেন, গাড়িতে ওঠো সেলিম!
পরদিন সকালে হায়দরাবাদ আদালতে প্রোডিউস করা হল সেলিমকে। ট্র্যানজিট রিমান্ডে নিতে হবে। যাতে বম্বে বিস্ফোরণের স্পেশাল কোর্টে তাকে পেশ করা হয়। কারণ ওই কেসেরই সে মূল অভিযুক্ত। এবং ফেরার। দ্রুত সব হয়ে গেল। বিকেল সাড়ে চারটের ফ্লাইট। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স। বিমানে রামন ত্যাগী আর ডি কে পরদেশির ঠিক মাঝখানে বসেছে সেলিম কুরলা। আর ফ্লাইট টেক অফের ২০ মিনিট আগে গোটা ফ্লাইট জুড়ে একটা চাপা উত্তেজনা দেখা দিল। কারণ এক পরিচিত খ্যাতনামা চিত্রতারকা উঠেছেন। সকলে তাকাচ্ছেন তাঁর দিকে। বম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এক হিরো। তিনি গম্ভীর। কোনোদিকেই তাকাচ্ছেন না। এগিয়ে চলেছেন। একটা সিটের পাশ থেকে যাওয়ার সময় শুধু মাঝখানের আসনে বসা সেলিম কুরলার চোখে চোখ পড়তেই সেই নায়ক হাত তুলে সামান্য হাসলেন। সেলিম কুরলাও পালটা হাসল। তার দুদিকে যে সিবিআই অফিসার বসে আছেন সেকথা ওই চিত্রতারকা বোঝেননি। ওই একটি দৃশ্যেই বোঝা গেল সেলিম কুরলা তথা দাউদ কোম্পানির সঙ্গে বম্বের ফিল্মস্টারদের কতটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সিবিআই অফিসাররা সবটা দেখেও কেউ কোনো উচ্চবাচ্য করলেন না।
বিশেষ আদালতে পেশ হওয়ার পর ২ বছর কেটে গেল। এই ২ বছর জেল হেফাজতে থাকার পরও বিচার সমাপ্ত হয়নি। কিন্তু প্রচণ্ড অসুস্থ সেলিম কুরলাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হল। কারণ তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। হাইপারটেনশন আর ডায়াবেটিস। জেল থেকে সোজা হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে সে। মাঝেমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পায়। আবার ভর্তি হয়। এভাবেই কাটছে। আদালতেও হাজিরা দিতে হয়। কিন্তু শরীর ভাঙছে।
১৯৯৮। ২১ এপ্রিল। আন্ধেরি ওয়েস্টের ভিরার দেশাই রোড। বেলভিউ নার্সিং হোম। ওয়ার্ড নম্বর ওয়ানে ভর্তি সেলিম কুরলা। ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুমিয়েছে সে। তবে এখন ঘুম ভেঙেছে। একটা ঘোর ঘোর আছে। তার বেডের পাশে ড্রাইভার আরিফ কেবলওয়ালা বসে। সে রোজই আসে। হঠাৎ অনেকগুলো পায়ের শব্দ। ধুপ ধুপ ধুপ ধুপ করে সিঁড়ি ভেঙে কারা যেন ছুটছে। কী হল? আরিফ একবার বাইরে উঁকি মারতে গেল। আবার ফিরে এল। শুয়ে আছে সেলিম। সেও উৎসুক। কীসের শব্দ? একটু পর রিজওয়ানা আসবে। স্ত্রী। বাড়ির খাবার নিয়ে। ১২ টা নাগাদ। তাই স্নান করে নিতে হবে। উঠছে সেলিম। আচমকা একদল যুবক সেই ঘরে। বাইরে দুজন। ভেতরে ৯ জন। সবার হাতেই রিভলবার। একজনের হাত ফাঁকা। সে ছেলেটি হাত বাড়িয়ে সেলিমকে দেখাল। তৎক্ষণাৎ গুলিবৃষ্টি। মোট ১২ টি বুলেট লাগল সেলিমের বুকে পেটে মুখে। তৎক্ষণাৎ মৃত্যু। ঘরে থাকা ড্রাইভার আরিফের গায়ে লেগেছে চারটি বুলেট। সেও মারা গেল। যেমন ঝড়ের গতিতে এসেছিল সেই যুবকের দল, সেভাবেই উধাও। গোটা হাসপাতালে হইচইয়ের বদলে শ্মশানের নীরবতা। ভয়ে আতঙ্কে সকলে লুকিয়েছে যে যেখানে পেরেছে। কে এর পিছনে? জানা গেল কয়েকদিন পর। ছোটা রাজন। কারণ? কারণ হল সে ঘোষণা করেছে বম্বে বিস্ফোরণের সঙ্গে যারাই যুক্ত আর জেলের বাইরে সেই সব দাউদ মেম্বারদের একে একে সে নাকি হত্যা করবে। আজ নম্বর ছিল সেলিম কুরলার। সত্যিই শুরু হল হত্যালীলা। একে একে এভাবেই দিনে দুপুরে রাজন টিমের হাতে খতম হয়ে যেতে লাগল দাউদ গ্যাংয়ের রফিক মাদি, মহম্মদ জিনদ্রাম, মহম্মদ শাকিল, আকবর আবু সামা খান, মাজিদ খান….। এভাবে একের পর এক গ্যাং মেম্বারকে মেরে ফেলছে রাজন। আমরা কিছু করব না? করাচিতে বসে রাগে ফুঁসছে ছোটা শাকিল আর আনিস ইব্রাহিম। বদলা চাই।
দাউদ ইব্রাহিম গ্রিন সিগন্যাল দিল। ঠিক ৮ মাসের মধ্যেই ছোটা শাকিল ফোন করল এক দুর্ধর্ষ হিটম্যানকে। দুবাইয়ের। তার নাম মালাবারি। টার্গেট কে? শাকিল বলল রাজন! মালাবারিকে বলা হল আরও পাঁচজন শুটার চাই। পাওয়া গেল। মুন্না, ভুল্লার, ঝিংগাদা। পাকিস্তানের। ব্যাংককে সুখমভেট এলাকা। একটি হোটেল নেওয়া হল। ডিসেম্বর ১৯৯৯ থেকে। ২০০০ এপ্রিল। সেই হোটেলে বসে প্ল্যান চলছে কীভাবে হবে অপারেশন ছোটা রাজন। তাকে জ্যান্ত ধরতে বলেছে দাউদ। একবার…অন্তত একবার মুখোমুখি বসতে চায় দাউদ রাজনের সঙ্গে। তারপর কী হল? সেটা আমরা আগেই শুনেছি। দাউদ পারেনি রাজনকে ধরতে। রাজনও সাসপেন্স থ্রিলারের মতোই পালিয়েছিল হাসপাতাল থেকে। রাজনকে অ্যাটাকের সেই নাটকীয় কাহিনি তো এই গ্রন্থের পূর্ববর্তী এক এপিসোডেই বলা হয়ে গিয়েছে..। সে কাহিনির শুরু হয়েছিল আসলে এই সেলিম হত্যা থেকে।
