• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Library

Read Bengali Books Online (বাংলা বই পড়ুন)

  • Login/Register
  • Account

বন্দে মাতরম : প্রেরণা ও বিতর্ক – সম্পাদনা : অশোককুমার রায়

লাইব্রেরি » অশোককুমার রায় » বন্দে মাতরম : প্রেরণা ও বিতর্ক – সম্পাদনা : অশোককুমার রায়
বন্দে মাতরম : প্রেরণা ও বিতর্ক – সম্পাদনা : অশোককুমার রায়
লেখক: অশোককুমার রায়বইয়ের ধরন: প্রবন্ধ ও গবেষণা

বন্দে মাতরম : প্রেরণা ও বিতর্ক – সম্পাদনা : অশোককুমার রায়

.

ভূমিকা

আমাদের জাতীয় জীবনে ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতের ভূমিকা অনন্য। অসাধারণ প্রভাবশালী এই সঙ্গীত পরাধীনতার বন্ধন মোচনের সংগ্রামে দুর্জয় এক হাতিয়ার—মন্ত্রস্বরূপ। স্বাধীনতার জন্য যাঁরা সংগ্রাম করেছেন তাঁদের সকলেরই এক মন্ত্র ‘বন্দে মাতরম’, বিপ্লবীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল এর জঙ্গি জাতীয়তাবাদ। সঠিকভাবেই বলা যায় বঙ্কিমচন্দ্রের আগে বাঙালির জাতীয়জীবন ছিল না। বন্দে মাতরমের এই সর্বব্যাপী স্বাদেশিকতার মন্ত্র রূপে ব্যবহার আকস্মিক মনে হতে পারে। এই আকস্মিতার সম্ভাব্য ব্যাখ্যা একটিই। লেখক বঙ্কিম হয়তো সমকালীন কোনো ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্বাদেশিকতার নবীন ভাবনাকে সঙ্গীতে রূপ দিয়েছিলেন পরাধীনতার সেই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে। কী সেই ঘটনা? বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই বলেছেন, বন্দে মাতরম রচিত হয় আনন্দমঠ রচনার অনেকটা আগেই। কিন্তু দেশাত্মবোধক আনন্দমঠ উপন্যাসের কাহিনি প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হয় লেখকের ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতটির সুপ্রয়োগে। বঙ্কিমের জীবদ্দশায়ই বন্দে মাতরম সঙ্গীতটি আনন্দ মঠ গ্রন্থভুক্ত হওয়ায় গোটা উপন্যাসটিই যেহেতু রাজরোষে পড়ে, তাই বন্দে মাতরম সঙ্গীতটিরও ব্যাখ্যা চান তদনীন্তন ব্রিটিশ শাসকবর্গ। এর পরই ব্রিটিশ সরকার বঙ্কিমের সারভিস রেকর্ডের কনফিডেন্সিয়াল রিপোর্টে বিরূপ মন্তব্য করতে আরম্ভ করেন। তাঁকে অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারির পদ থেকে অপসারিত করা হয় এবং আনন্দমঠ সহ ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতটি যে রাজদ্রোহ মূলক নয় তা প্রমাণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্কটে কেশবচন্দ্র সেন ও তাঁর অনুজ কৃষ্ণবিহারী সেন বঙ্কিমকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন, ইংরেজের রোষ প্রশমনের জন্য বঙ্কিম আনন্দমঠ-এর পরবর্তী সংস্করণগুলির পাঠ পরিবর্তন করতে আরম্ভ করেন। ফলে ইংরেজ বিদ্বেষের ভাব অনেকটা দূর হয়ে যায়। কৃষ্ণবিহারী লিখিত অনুকূল সমালোচনাটিও আনন্দমঠ-এর পরবর্তী সংস্করণে ভূমিকা স্বরূপ প্রকাশিত হয়।

বঙ্কিমের মৃত্যুর অনেক পরে আনন্দমঠ তথা ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতটি যখন দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের দ্যোতকরূপে বিপ্লবীরা গ্রহণ করেন তখন শাসকশ্রেণি ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতই শুধু নয় ‘বন্দে মাতরম’ ধবনিও দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করেন। বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ এক অসাধারণ ভূমিকা নিয়েছিল সে কথা ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।

‘বন্দে মাতরম’-এর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা-র যে অভিযোগ বিশ শতাব্দীর বিশের দশক থেকে আজ পর্যন্ত উঠে এসেছে, তার বিচার করা হয়েছে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকেও। কিন্তু প্রায় নব্বই বছরেও শেষ হয়নি এই বিচার, বিশেষ করে জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদার প্রশ্নে। ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতকে কেন পৌত্তলিক বলা চলে না এবং এর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অপবাদ কী করে এল তা বিশ্লেষণ করাও যেমন হয়েছে তেমনি আবার স্বদেশি গানের শীর্ষ স্থানে যেমন ‘বন্দে মাতরম’ …. স্বাধীনতা আন্দোলনের বীর শহিদের কণ্ঠে শেষ উচ্চারণও ধবনিত হয়েছে সেই ‘বন্দে মাতরম’ ই।

স্বদেশি আন্দোলনের সময় একদিকে যখন ‘বন্দে মাতরম’ ধবনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত করেছিল বিদেশি বস্ত্র পোড়ানো হচ্ছিল, আর অন্যদিকে তখন এক ক্ষুদ্র স্বার্থান্বেষী দল আনন্দমঠের অগ্ন্যুৎসব করেছে বিদেশি সরকারের ইঙ্গিতে। এ কথাও ইতিহাসই বলে।

বরং বলা যায় আনন্দমঠ-এর প্রেরণায় কেউ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উস্কানি দিতে যায়নি, এমনকি ব্রিটিশদের বিতাড়নের জন্য সংকল্প-সংগ্রাম দৃঢ়তর হয়েছে।

‘বন্দে মাতরম’ এবং বঙ্কিমচন্দ্রের প্রকৃত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই সংকলনে বিভিন্নজনের লেখা প্রবন্ধগুলিতে যে বিপরীতমুখী প্রয়াস লক্ষিত হয় তাই-ই পাঠকমনে আশা করি কিছু উত্তর খুঁজে দেবে এই দেশমাতৃকার বন্দনা সঙ্গীতটিতে, যা ‘শুধু আমাদের জাতীয়তাবোধের মন্ত্রেই উদ্বোধিত করেনি আমাদের জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্ত বাঙময় হয়ে রয়েছে। জানি না, বিশ্বের আর কোনো জাতীয় সঙ্গীত একটি সুপ্ত জাতিকে এতটা একতায়-বীর্যে-প্রত্যয়ে-বলিদানে এগিয়ে নিয়ে গেছে কি না!

এখানে সংকলিত আলোচনাগুলিতে বন্দে মাতরম রচনার স্থান, কাল, ব্যবহার প্রভৃতির সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে আলোচনা এবং তার সপক্ষে তথ্যাদি উপস্থিত করেছেন যেমন বিভিন্ন লেখকবৃন্দ তেমনি ‘বন্দে মাতরম’-এর সাঙ্গীতিক দিক এবং জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদার ইতিহাসও আলোচিত হয়েছে।

‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতের রচনার স্থান ও কাল নিয়ে নানা মত ও প্রবাদ প্রচলিত আছে। ‘বন্দে মাতরম’ সম্বন্ধে কিছু বলবার আগে, প্রথমে সেইগুলো নিয়েই আলোচনা করা যাক।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার জয়নগর মজিলপুর অঞ্চলে প্রচলিত প্রবাদ এই যে, মজিলপুর গ্রামের জমিদার নগেন্দ্রনাথ দত্তের সঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্রের বিশেষ বন্ধুত্ব ছিল। এই নগেন্দ্র দত্তই বঙ্কিমচন্দ্রের বিষবৃক্ষ উপন্যাসের নগেন্দ্র দত্ত। উপন্যাসের নগেন্দ্র দত্তর ন্যায় মজিলপুরে নগেন্দ্র দত্ত মহাশয়েরও দুটি বিবাহ ছিল। বঙ্কিমচন্দ্র যখন বারুইপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন, সেইসময় তিনি মজিলপুরে নগেন্দ্র দত্তের বাড়িতে থাকতেন এবং সেখান থেকে ঘোড়ায় চড়ে বারুইপুর কোর্টে যাতায়াত করতেন। এইভাবে মজিলপুরে অবস্থানকালে একবার দুর্গাপূজার সময় নগেন্দ্র দত্তর বাড়িতে দূর্গা প্রতিমা দেখে বঙ্কিমচন্দ্র ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীত রচনার প্রেরণা পান এবং একরাত্রের মধ্যেই সঙ্গীতটি রচনা করেন। সঙ্গীত রচনা শেষ করে পরদিন সকালেই বঙ্কিমচন্দ্র সঙ্গীতটি দেখাবার জন্যে মজিলপুর-নিবাসী শিবনাথ শাস্ত্রীর পিতা হরানন্দ ভট্টাচার্যের কাছে যান।

এখন এই প্রচলিত প্রবাদটি সম্বন্ধে আমার বক্তব্য এই : বারুইপুর থেকে মজিলপুরের দূরত্ব প্রায় ১৫/১৬ মাইল। বঙ্কিমচন্দ্র বারুইপুর কোর্টের আশে পাশে না থেকে ১৫/১৬ মাইল দূরত্বের কাঁচা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ঘোড়ায় চড়ে এসে কোর্টে পৌঁছতেন, একথা মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাছাড়া সবচেয়ে বড়ো কথা হল এই যে, তিনি ঘোড়ায় চড়তেই জানতেন না। এ-সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্রের কনিষ্ঠ ভ্রাতা পূর্ণচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন :

বঙ্কিমচন্দ্র একজন ভাল Executive Officer ছিলেন তথাপি কখনও ঘোড়ায় চড়িতে পারিতেন না। ১৭-১৮ বৎসর বয়ঃক্রমকালে আমি পিতৃদত্ত একটি ঘোড়ায় চড়িয়া বেড়াইতাম। তিনি পূজার ছুটিতে কর্মস্থল হইতে বাড়িতে আসিয়া উহা জানিতে পারিয়া ঘোড়াটি বিক্রয় করাইলেন।

বঙ্কিমচন্দ্র বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট (২৪ অক্টোবর ১৮৬৪-৭ আগস্ট ১৮৬৬) থাকার সময় কোথায় থাকতেন এ সম্পর্কে আমি বারুইপুরে খোঁজ নিয়েছি। এ বিষয় বার অ্যাসোসিয়েশন ও এলাকার প্রাচীন বৃদ্ধ বসবাসকারীদের মতে বঙ্কিমচন্দ্র এই বারুইপুরেই নীলকর সাহেবদের পরিত্যক্ত নীলকুঠিতে থাকতেন এবং সেখান থেকেই কোর্টে আসা যাওয়া করতেন। তাছাড়া জয়নগর মজিলপুরে প্রচলিত এই প্রবাদটির সত্যতা সম্বন্ধে মজিলপুরের ওই দত্ত বংশেরই সন্তান বিশিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক স্বর্গত কালিদাস দত্ত এ প্রসঙ্গে লিখেছেন :

মজিলপুরে বন্দে মাতরম রচিত হয়েছিল বলে প্রবাদ এখানে প্রচলিত আছে তা সত্য নয়। কেননা, বঙ্কিমচন্দ্র বন্দে মাতরম কখনোই এখানে রচনা করেননি। আর এখান থেকে বারুইপুর কোর্টে যাতায়াত করতেন বলে যে প্রবাদ প্রচলিত আছে, তাও সত্য নয়।

কালিদাস দত্ত আরো বলেন যে, বঙ্কিমচন্দ্রের বিষবৃক্ষ উপন্যাসের নায়ক নগেন্দ্র দত্ত মজিলপুরের নগেন্দ্র দত্তকে দেখে কল্পিত হওয়া অসম্ভব নয়। মজিলপুরের নগেন্দ্র দত্তরও দুটি বিবাহ ছিল এবং তিনি অনেকটা উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তবে এই নগেন্দ্র দত্তর সঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্রের বন্ধুত্ব আদৌ ছিল না এবং থাকাও সম্ভব ছিল না। তখনকার দিনে বিভিন্ন স্থানে যে ক্যাম্পকোর্ট থাকত, তেমনি একটা ক্যাম্পকোর্ট ছিল এই মজিলপুরে। মজিলপুরের ক্যাম্পকোর্টে বিচার কাজে কখনো কখনো তিনি দু-একদিনের জন্য মজিলপুরে আসতেন এবং মজিলপুরে এসে তাঁর পিতামহ হরমোহন দত্তর বৈঠকখানা বাড়িতে থাকতেন। বঙ্কিমচন্দ্র বারুইপুর থেকে আসবার সময় ঘোড়ার গাড়িতে করে আসতেন এবং তাঁর সঙ্গে সশস্ত্র সেপাই থাকত।

কালিদাসবাবুর এই কথা সত্য বলেই মনে হয়। কেননা, বঙ্কিমচন্দ্রের বারুইপুরে থাকার সময়কার ওই কোর্টের হেডক্লার্ক বঙ্কিমচন্দ্র স্নেহভাজন কালিনাথ দত্তও লিখে গেছেন যে, বঙ্কিমচন্দ্র মজিলপুরে গেলে হরমোহন দত্তের বৈঠকখানা বাড়িতে থাকতেন।

এই প্রসঙ্গে আর একটি কথা বঙ্কিমচন্দ্র যখন বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট তখন তাঁর পিতা-মাতা উভয়েই জীবিত এবং তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে তখন তাঁদের বাড়িতে মহা ধুমধাম ও আড়ম্বরের সঙ্গে দুর্গাপুজা হত। তাই বঙ্কিমচন্দ্র পুজোর সময় বাড়িতে না গিয়ে, মজিলপুরে থাকতে যাবেন কেন?

ওপরের এইসব আলোচনা থেকে এখন বলা যেতে পারে যে জয়নগর মজিলপুরে বসে ‘বন্দে মাতরম’ রচনা সম্বন্ধে যে প্রবাদটি আছে, তা সম্পূর্ণই ভ্রান্ত-মিথ্যা।

এবার একটি মজার কাহিনি বলছি। গল্পভারতী মাসিক পত্রিকার ১৩৬২ সালের আষাঢ় সংখ্যায় এই কাহিনিটি প্রকাশিত হয়েছিল। কাহিনিটির লেখিকা শ্রীমতী অনিমা দেবী এবং লেখাটির নাম ‘পুরাতন ডায়েরির কয়েকটি পাতা’। লেখাটির কিয়দংশ এই :

প্রায় সত্তর বছর আগেকার ঘটনা। গঙ্গায় একখানি সুসজ্জিত নৌকা। সেখানে একটি সম্বর্দ্ধনা সভা হবে। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র বহরমপুরে আসায় নগরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই আয়োজন করেছেন। নদীতে নৌকার ওপর এই সম্বর্ধনা সভা। বিশিষ্ট ব্যক্তিরা একে একে গিয়ে তাঁকে সম্বর্ধনা জানিয়ে আসবেন। বাঁধার ওপর রাস্তায় রাস্তায় জনসমুদ্র…..।

নৌকায় গিয়ে উঠলাম। উদ্বোধন সঙ্গীত হল ‘বন্দে মাতরম’ গানে। মনে হয় সভার উদ্বোধন সঙ্গীত হিসাবে এইখানেই সর্বপ্রথম এই গান গাওয়া হয়েছিল এবং বঙ্কিমচন্দ্রের নির্দেশমতই। ‘বন্দে মাতরম’ গান আমার শিক্ষক ও আমি দুজনে গাইলাম……বঙ্কিমচন্দ্র খুব মন দিয়ে গানটি শুনেছিলেন এবং গান শেষ হলে প্রশংসা করেছিলেন। সে কথা এখনও স্পষ্ট মনে আছে। উদ্বোধন সঙ্গীতের পর একটি মেয়ে মালা চন্দন দিয়ে সম্বর্ধনা জানাল বঙ্কিমচন্দ্রকে। ….আমরা দুটি মেয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের পাশে বসে রইলাম। তিনি ক্ষণে ক্ষণে আমাদের দুজনকে আদর করে রসিকতা করে কতকথাই না বললেন।…..বঙ্কিমচন্দ্র রসিকতা করে আমাদের দুজনকে যে নতুন নাম দিয়ে ফেললেন তা তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস কপালকুণ্ডলা ও দেবী চৌধুরীরানীর নায়িকাদ্বয়/সম্বর্ধনার উত্তরে বঙ্কিমচন্দ্র যা’ বলেছিলেন সব কথা সেই বয়সে বোঝা ও মনে থাকা সম্ভব নয়। তবু কিছু কিছু মনে আছে মাত্র। …আজ তার প্রাণপ্রতিষ্ঠা হল এই বন্দে মাতরম গান গাওয়া এবং জনসমাজে তার সুরের রেশ ছড়িয়ে পড়ায়। …. এইখানে বসেই একদিন আনন্দমঠ রচনার অনুপ্রেরণা আমি পাই। আজ এইখানেই সে গানের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হল।

অণিমা দেবী তাঁর এই দীর্ঘ প্রবন্ধের অন্যান্য স্থানে লিখেছেন :

বঙ্কিমচন্দ্রের শোবার ঘরে ঢুকে দেখলাম, বিস্তৃত পালঙ্ক পাতা, সামনে আলমারি। বই টানা রয়েছে। খাতাপত্র পড়ে রয়েছে একটা টেবিলে। সেগুলি কোনো উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি নয়—সব কাছারির নথিপত্র। পিতাঠাকুরের সঙ্গে বের হলাম। তিনি ক’দিন ধরেই রোজ বিকেলবেলা বঙ্কিমচন্দ্রের সান্ধ্য আসরে যোগ দিতে যাওয়ার সময় আমাকেও সঙ্গে নিয়ে যেতেন। সে সময় বহমরমপুরে কয়েকজন দেশবিখ্যাত সাহিত্যিক বাস করতেন। অক্ষয়চন্দ্র সরকার, ভুদেব মুখোপাধ্যায়, গঙ্গাচরণ সরকার, চন্দ্রশেখর মুখোপাধ্যায়, রেভারেণ্ড লালবিহারী দে, রামগতি ন্যায়রত্ন, লোহারাম শিরোমণি প্রভৃতি।

বঙ্কিমচন্দ্র যখন বহরমপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন তখনই অক্ষয়চন্দ্র সরকার ভুদেব মুখোপাধ্যায় প্রভৃতি বহরমপুরে ছিলেন। তাই অণিমাদেবীর এই সকল উক্তি ও তাঁর লেখায় বঙ্কিমচন্দ্রের বহরমপুরে দীর্ঘকাল অবস্থানের কথা দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে অণিমা দেবী বঙ্কিমচন্দ্রের যে সংবর্ধনা সভাটির কথা লিখেছেন সেটি বঙ্কিমচন্দ্র প্রথম বহরমপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে গিয়েছিলেন ১৫ ডিসেম্বর, ১৮৬৯ এবং ছিলেন ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৪ পর্যন্ত।

অণিমা দেবী লিখেছেন যে বঙ্কিমচন্দ্র সংবর্ধনার উত্তরে বলেছিলেন তিনি বহরমপুরে বসেই আনন্দমঠ রচনার প্রেরণা পান এবং এই সংবর্ধনার আগেই তিনি আনন্দমঠ রচনা করেছিলেন। কিন্তু আমার বক্তব্য এই যে বঙ্কিমচন্দ্র বহরমপুরে না আসতেই তিনি আনন্দমঠ রচনার প্রেরণাই বা পেলেন কবে আর আনন্দমঠ রচনাই বা করলেন কবে? বঙ্কিম জীবনী তথা বঙ্কিম জীবনের খুঁটিনাটি তথ্য গবেষণায় যাঁরা আমাদের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন তাঁদের রচনার মাধ্যমে আমরা যেগুলি আজ সবাই জানি তা হল বঙ্কিমচন্দ্র বহরমপুরে ছিলেন প্রায় চারবছর। তারপর বারাসতে কিছুদিন থেকে (৪ মে, ১৮৭৪ – ২০ অক্টোবর, ১৮৭৪) আটমাস ছাব্বিশ দিন ছুটি নিয়ে কাঁঠালপাড়ার বাড়িতে থেকে ১৮৭৬ খিস্টাব্দের ২০ মার্চ হুগলিতে কাজে যোগ দেন। হুগলিতে ডেপুতে ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে তিনি ১৮৮০ খিস্টাব্দের ১৫ জুলাই তারিখে চূচুড়া থেকে কবি নবীনচন্দ্র সেনকে একখানি পত্র লিখেছিলেন। সেইপত্র থেকে পরিস্কার জানা যায় যে, তিনি আনন্দমঠ রচনায় হাত দিয়েছেন।

কবি নবীনচন্দ্র সেনের কাছে লেখা বঙ্কিমচন্দ্রের পত্রটিতে আনন্দমঠ রচনার স্পষ্ট উল্লেখের কথা ছাড়াও আরো জানা যায় যে হুগলি থেকে বদলি হওয়ার পর যখন তিনি কলকাতায় ও আলিপুরে ছিলেন (৪ সেপ্টেম্বর ১৮৮১ – ৩ মে ১৮৮২) তখন তাঁর কলকাতায় বহুবাজার স্ট্রিটস্থ বাসভবনে সাহিত্যিকদের সান্ধ্যবৈঠকে আনন্দমঠের পাণ্ডুলিপি পড়া হত। (প্রথম প্রকাশ ১৫ ডিসেম্বর, ১৮৮২)

অতএব আনন্দমঠ যে বঙ্কিমচন্দ্রের বহরমপুর থেকে প্রত্যাবর্তনের বহু বছর পরে রচিত হয়েছিল তার পরিষ্কার প্রমাণ পাওয়া গেল। আর একটি কথা—অণিমা দেবী যে লিখেছেন বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে ও তাঁর সঙ্গিনীটিকে কপালকুণ্ডলা ও দেবী চৌধুরীরানী-এর নায়িকাদ্বয়ের নাম দিয়েছিলেন, এও অসম্ভব কথা। কেননা বঙ্কিমচন্দ্র বহরমপুর যাওয়ার পূর্বে কপালকুণ্ডলা রচিত হলেও (১৮৬৬) তাঁর বহরমপুর যাওয়ার অন্তত ১৩-১৪ বছর পরে (আনন্দমঠ-এরও পরে) ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে দেবীচৌধুরীরানী রচিত হয়েছিল।

আনন্দমঠ ও দেবীচৌধুরানী-র মতো মহরমপুরে যাওয়ার অনেক পরেই বঙ্কিমচন্দ্র ‘বন্দে মাতরম’ গানটিও রচনা করেছিলেন। তাই অণিমা দেবী আনন্দমঠ রচনা ও তাঁর নিজে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া সম্বন্ধে যে সব কথা লিখেছেন, তা সম্পূর্ণই একটি বানানো অলীক কাহিনি বলেই মনে হয়।

‘বন্দে মাতরম’ সম্বন্ধে এবার আর একটু গভীর আলোচনায় আসা যাক : সঞ্জীবচন্দ্র তখন বঙ্গদর্শন-এর সম্পাদক। সেই সময় ১২৮৭ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যা থেকে বঙ্গদর্শনে-এ বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে শুরু হয়। প্রথম মাসেই আনন্দমঠ-এর অন্তর্গত বিখ্যাত ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতটি ছাপা হয় (মার্চ, ১৮৮০ খিস্টাব্দে)। ‘বন্দে মাতরম সঙ্গীতটি আনন্দমঠ উপন্যাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বঙ্গদর্শন-এ প্রথম প্রকাশিত হলেও বঙ্কিমচন্দ্র এই সঙ্গীতটি রচনা করেন কিন্তু এর অনেক আগেই। অন্তত পাঁচ ছয় বছর আগে। তখন তিনি নিজে বঙ্গদর্শন-এর সম্পাদক। বঙ্কিমচন্দ্রের কনিষ্ঠ ভ্রাতা পূর্ণচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ সম্বন্ধে লিখেছেন যে, বঙ্গদর্শন ছাপার সময় মাঝে মাঝে লেখা কম পড়লে সম্পাদক বঙ্কিমচন্দ্রকে উপস্থিত মতো কিছু কিছু লিখে দিতে হত। একবার প্রায় একশো পাতা লেখা কম পড়লে পাতা পূরণের জন্য ছাপাখানার পণ্ডিতমশায় বঙ্কিমচন্দ্রের কাছে লেখা চাইতে এলেন। ওই সময় বঙ্কিমচন্দ্র একটি কাগজে ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতটি লিখে টেবিলের ওপর রেখেছিলেন। একদিন ছাপাখানার পণ্ডিত মশায় ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতটি দেখে মন্দ হয়নি, ঐটাই দিন না’ বললে বঙ্কিমচন্দ্র বিরক্ত হয়ে কাগজখানি টেবিলের দেরাজের ভিতর রেখে বললেন, ‘উহা ভাল কী মন্দ, এখন তুমি বুঝতে পারবে না, কিছুকাল পরে বুঝবে, আমি তখন জীবিত না থাকাই—সম্ভব, তুমি থাকতে পার।’

বঙ্কিমচন্দ্রের পরম সুহৃদ দীনবন্ধু মিত্রের পুত্র ললিত মিত্র বঙ্কিমচন্দ্রের বিশেষ স্নেহভাজন ছিলেন। এই ললিত মিত্রও বলেছেন, ‘বন্দে মাতরম’ রচনার পরে বঙ্কিমচন্দ্র যদুনাথ ভট্টাচার্য (ইনিই বিখ্যাত গায়ক যদুভট্ট, বঙ্কিমচন্দ্র এঁর কাছে গান শিখতেন) নামক একজন গায়ককে দিয়ে প্রথমে বন্দে মাতরম-এর সুর দেওয়ান। ওই সময় বঙ্গদর্শন পত্রিকার কার্যাধ্যক্ষ পণ্ডিত রামচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পণ্ডিত মহাশয় গান শুনে বঙ্কিমচন্দ্রকে বলেছিলেন, ওতে বঙ্গদর্শন-এর পেট ভরবে না। বঙ্গদর্শনের জন্য অন্য কিছু লিখুন।

বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৭২ খিস্টাব্দের এপ্রিল থেকে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের মার্চ পর্যন্ত বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন। এই চার বছরের মধ্যে দুবছর তিনি বহরমপুর থেকে, এক বছরের বেশি কিছু সময় বারাসত থেকে এবং শেষের আট মাস তিনি কাঁটালপাড়ার বাড়িতে থেকে বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেছিলেন। এই আট মাস তিনি ছুটি নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র বহরমপুরে ও বারাসতে থাকার সময় তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বঙ্গদর্শন-এর তত্ত্বাবধান করতেন।

বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৭৬ খিস্টাব্দের মার্চ মাসে হুগলিতে কাজে যোগ দেওয়ার আগে যে আটমাস ছুটি নিয়ে বাড়িতে ছিলেন, ওই সময়ের মধ্যেই কোনো একদিন তিনি ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতটি রচনা করেছিলেন। তা হলেই পূর্ণচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ললিত মিত্র, বঙ্গদর্শন-এর কার্যাধ্যক্ষর কথা এবং গানটি রচনার কিছুদিন পরেই যদু ভট্টকে দিয়ে সুর দেওয়ানোর কথা যে উল্লেখ করেছেন, সেগুলির মধ্যে একটা সঙ্গতি মেলে। যদুভট্ট ওই সময় কাঁটাল পাড়াতেই বাস করতেন। এ সম্বন্ধে আরও একটা প্রমাণ এই যে বঙ্কিমচন্দ্র হুগলিতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে কিছুদিন পরে যখন তিনি চূচূড়ায় বাড়ি নিয়ে বসবাস শুরু করলেন (প্রথমে তিনি নৈহাটির বাড়ি থেকে নৌকায় গঙ্গা পার হয়ে হুগলি যাতায়াত করতেন) তখন বিশিষ্ট লেখক, নবজীবন সম্পাদক চুঁচুড়াবাসী অক্ষয়চন্দ্র সরকার বঙ্কিমচন্দ্রের সেই বাড়িতে বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বন্দে মাতরম’ গানের একটু আধটু অদল বদল করতেও দেখছেন। এ থেকেও প্রমাণিত হয় যে, ‘বন্দে মাতরম’ এই সময়ের খুব বেশিদিন আগে রচিত নয়, কারণ তখনও তাতে সুর দেওয়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এ বিষয় অক্ষয়চন্দ্র সরকারও বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর একটি প্রবন্ধে ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতটি হুগলিতে আসার আগে কাঁটালপাড়ায় অবকাশ যাপনের সময় রচিত শুনেছেন বলে উল্লেখ করছেন। (দ্রষ্টব্য : বঙ্কিম প্রসঙ্গ—অক্ষয়চন্দ্র সরকার)।

১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ৮ এপ্রিল বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর ৫ নং প্রতাপ চ্যাটার্জী লেনের বাড়িতে পরলোক গমন করেন। তার প্রায় আট বছর আগে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম হয়। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বার্ষিক অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতটি গীত হওয়ার কথা থাকলেও কোনো গূঢ় কারণবশত পরিত্যক্ত হয়। আনন্দমঠ বঙ্গদর্শন-এ ১২৮৭ সালের চৈত্র থেকে ১২৮৯ সালের জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। শেষের বছর ১২৮৯ সালেই (১৮৮২ খ্রিস্টাব্দ) আনন্দমঠ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। আনন্দমঠ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হল বটে, কিন্তু এর অন্তর্গত ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতটির প্রতি অনেক বছর পর্যন্ত লোকের তেমন দৃষ্টি পড়ল না। সভা-সমিতি বা অন্য কোথাও এ গান কেউ প্রকাশ্যে তেমন গাইল না। বঙ্কিমচন্দ্র নিজে কিন্তু এই গানটি রচনা করে তাঁর সঙ্গীত শিক্ষক স্বনামধন্য যদুভট্টকে দিয়ে এ গান গাওয়াতেন। পূর্ণচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও লিখেছেন—’এই গীতটির একটি সুর বসাইয়া উহার গাওনা হইত।’

আনন্দমঠ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হওয়ার চোদ্দো বছর পরে ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার বিডন স্কোয়ার উদ্যানে (অধুনা রবীন্দ্রকানন) ডি. ওয়াচার সভাপতিত্বে কংগ্রেসের যে অধিবেশন হয়, তাতেই দেখা যায় যে, রবীন্দ্রনাথই সর্বপ্রথম এক মহতী সভায় ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতটি গাইছেন। সেদিনকার সেই সভায় উপস্থিতদের মধ্যে সাহিত্যিক-সাংবাদিক হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ রবীন্দ্রনাথের এই ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়া সম্বন্ধে লিখেছেন :

মনে আছে শ্রীযুক্ত ওয়াচারের সভাপতিত্বে বিডন উদ্যানে কংগ্রেসের যে অধিবেশন হয়, তাহাতে সুকণ্ঠ রবীন্দ্রনাথের গীত এই ‘বন্দে মাতরম গান শুনিয়া একজন মদ্রদেশাগত প্রতিনিধির নয়ন হইতে অশ্রু ঝরিতে দেখিয়াছিলাম। (দ্রষ্টব্য নারায়ণ—বৈশাখ, ১৩২২)।

আরো কয়েক বছর কেটে গেল। তারপর ১৯০৫ খিস্টাব্দে দেখা দিল ‘বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশী আন্দোলন’। এই বঙ্গভঙ্গের সময়েই বাঙালি সর্বপ্রথম ‘বন্দে মাতরম’ গান নিয়ে মেতে উঠল। তখন একদিকে তাদের মুখে যেমন কেবল ‘বন্দে মাতরম’ ধবনি শোনা গেল, অপর দিকে তেমনি সর্বত্র তাদের এই গান গেয়ে বেড়াতেও দেখা গেল। এই সময় ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতকে মিশ্র সুর সহযোগে কোরাসে গাইবার জন্য ‘বন্দে মাতরম সম্প্রদায়’ বলে একটা দলও তৈরি হয়েছিল। এরা দিকে দিকে এই গান গেয়ে বেড়াতে লাগল। এই দলের অন্যতম গায়ক নরেন্দ্রনাথ শেঠ লিখেছেন :

আমরা বন্দে মাতরম সম্প্রদায় বাঙালীর দ্বারে দ্বারে এই গান গাহিয়াছি—বঙ্গের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার নয়নে জ্যোতি দেখিয়াছি, অশ্রু দেখিয়াছি, মস্তক অবনত দেখিয়াছি। এই গানের স্নিগ্ধ গভীর তরঙ্গে তারা আত্মহারা হইয়াছে দেখিয়াছি। (দ্রষ্টব্য প্রবর্তক, শ্রাবণ ১৩৪৫)।

এই বন্দে মাতরম সম্প্রদায় ছাড়াও তখন যে, যে সুরে পারত, সে সেইসুরে এই গান গাইত। হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ লিখেছেন :

আজ আমার সেই দিনের কথাই মনে পড়িতেছে—তখন সমগ্র বঙ্গদেশ ‘বন্দে মাতরম’ গানে মুখরিত। বন্দে মাতরম সম্প্রদায়ের উদাত্ত সুর হইতে আরম্ভ করিয়া বৈষ্ণবের কীর্তনের সুর পর্যন্ত কত সুরে কতজন এই গান গাহিতেছে। (দ্রষ্টব্য : নারায়ণ, বৈশাখ ১৩২২)।

একদিকে বন্দে মাতরম সঙ্গীত, অন্যদিকে আকাশ-বাতাস কম্পিত করে লোকের মুখে মুখে বন্দে মাতরম ধবনি। তখন এই ‘বন্দে মাতরম’ ধবনিতে ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট এতদূর বিচলিত হয়ে পড়েছিল যে, সভা-সমিতি, রাস্তাঘাট, পার্ক প্রভৃতিতে ‘বন্দে মাতরম’ ধবনি দেওয়া নিষিদ্ধ বলে আদেশ জারি পর্যন্ত করেছিল। বাঙালি সেদিন এই সরকারি আদেশ অমান্য করে শত নির্যাতন সহ্য করেছে। কিন্তু তবুও ‘বন্দে মাতরম’ ধবনি ছাড়েনি।

বাংলায় বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন যখন পুরোদমে চলেছে, সেই সময় ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় দাদাভাই নৌরজির সভাপতিত্বে কংগ্রেসের অধিবেশন হল। কংগ্রেসের এই অধিবেশনে স্বর্ণকুমারী-দুহিতা সরলা দেবী ও তাঁর মহিলা সহশিল্পীবৃন্দ সমস্বরে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি করেন। এই গান শুনে সমবেত সকলেই মুগ্ধ হয়ে গেলেন এবং তাঁদের হৃদয়ে এক অভূতপূর্ব ভাবধারাও প্রবাহিত হল।

এদিকে স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সভায় বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বন্দে মাতরম’ মন্ত্রের ঋষি বলে প্রচার করলেন। অরবিন্দ ঘোষও (পরে শ্রীঅরবিন্দ) লিখে এবং বক্তৃতায় বঙ্কিমচন্দ্রের ঋষিত্বের ও ‘বন্দে মাতরম’ মন্ত্রের ব্যাখ্যা করে বোঝাতে লাগলেন। ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর বঙ্গদর্শন প্রেসের পণ্ডিত মহাশয়, বৈবাহিক ঔপন্যাসিক দামোদর মুখোপাধ্যায় প্রভৃতিদের কাছে একাধিকবার বলেছিলেন যে, ‘এই বন্দেমাতরম গান নিয়ে বাঙালী একদিন মেতে উঠবে।’ এতদিনে তা অক্ষরে অক্ষরে ফলল।

বঙ্গভঙ্গরদ আন্দোলন চলেছিল ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এবং শেষ পর্যন্ত বঙ্গবাসী বঙ্গভঙ্গ রদ করতে সক্ষমও হয়েছিল। এই বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দালনের সময়েই বাঙালি ‘বন্দে মাতরম’ শব্দকে দেশাত্মবোধের বীজমন্ত্র হিসাবে এবং বন্দে মাতরম সঙ্গীতকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গ্রহণ করেছিল। এই সময় থেকেই ভারতের জাতীয় কংগ্রেসও ‘বন্দে মাতরম’ ধবনি এবং ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীত গ্রহণ করল। তবে বঙ্গভঙ্গের সময় বাঙালি যেমন ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে মেতে উঠেছিল, কংগ্রেসও তেমনি মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে যখন অসহযোগ আন্দোলন আরম্ভ হল তখনই সমগ্র ভারত ‘বন্দে মাতরম’ ধবনি ও সঙ্গীত নিয়ে মেতে উঠেছিল।

স্বাদেশিকতার বীজমন্ত্র হিসাবে ‘বন্দে মাতরম’ ধবনি এবং জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীত বহু বছর ধরে কংগ্রেসে চলে আসতে লাগল। হঠাৎ ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে কয়েকজন স্বার্থান্বেষী মুসলিম লিগপন্থী মুসলমান ধূয়া তুলল যে, ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীত পৌত্তলিকতাগন্ধী।

কংগ্রেসের মধ্যে অনেক মুসলমান থাকায় তাঁদের প্রতি লক্ষ করেই, সত্যিই বন্দে মাতরমের মধ্যে কোথাও পৌত্তলিকতার ইঙ্গিত আছে কিনা, সে সম্বন্ধে কংগ্রেসও বিশেষভাবে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে দিল। কংগ্রেসের মধ্যে কেউ কেউ ‘বন্দে মাতরম’কে পৌত্তলিকতা গন্ধী বলে স্বীকারও করলেন। এমনকি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও বন্দে মাতরম সঙ্গীতকে পৌত্তলিকতাগন্ধী বলে অভিমত দিলেন। সেই সময় বাংলার অনেক সাহিত্যিকের সঙ্গে ব্রাহ্মধর্মাবলম্বী রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় কিন্তু ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতের মধ্যে যে পৌত্তলিকতার গন্ধ নেই এমত প্রকাশ করেছিলেন। যাইহোক কংগ্রেসের বিচারে শেষ পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ পৌত্তলিকতাগন্ধী বলে স্বীকৃত হয়। অবশেষে ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে হরিপুর কংগ্রেসে ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতের সমস্ত শেষাংশ বাদ দিয়ে মাত্র প্রথমাংশটাকে জাতীয় সঙ্গীতরূপে গ্রহণ করা হবে স্থির হল। এতদিন ‘সপ্তকোটি’ ও ‘দ্বিসপ্তকোটি ভুজৈ’ এর বদলে সর্বভারতীয়-র উপযোগী করে ‘ত্রিংশকোটি কন্ঠ ও দ্বিত্রিংশকোটি ভুজৈ’ করা হল। এই কাটছাঁট ও অদলবদল করে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে শেষ পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ এর যে রূপ দাঁড়াল তা এইরকম :

বন্দে মাতরম
সুজলাং সুফলাং মলয়জ শীতলাম
শস্য শ্যামলাং মাতরম
শুভ্র জ্যোৎস্না পুলকিত যামিনীম
ফুল্ল কুসুমিত-দ্রুমদল শোভিনীম
সুহাসিনী সুমধুর ভাষিনীম
সুখদাং বরদাং মাতরম।।
ত্রিংশ কোটি কন্ঠ কল-কল নিনাদ করালে
দ্বিত্রিংশকোটি ভুজৈধৃত খরকর বালে,
অবলা কেন মা এত বলে।
বহুবল ধারিণীং নমামি তারিণীং
রিপুদল বারিণীং মাতরম।।

হরিপুরা কংগ্রেসের (১৯৩৮, সভাপতি সুভাষচন্দ্র বসু) পর থেকে স্বাধীনতা লাভের পূর্ব পর্যন্ত এই ছিল আমাদের জাতীয় সঙ্গীত।

বলাবাহুল্য, স্বাধীনতার পরই বন্দে মাতরম-এর স্থলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের ‘জন-গন-মন অধিনায়ক জয় হে, ভারত ভাগ্য বিধাতা’ গানটি ভারতবর্ষের জাতীয় সঙ্গীতরূপে গৃহীত হলেও ‘বন্দে মাতরম’ অন্যতম জাতীয় সঙ্গীতরূপে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করে এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গীত হয়।

বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত আনন্দমঠ উপন্যাসে ‘বন্দে মাতরম’ দুটি শব্দ হিসাবে লিখেছেন এবং মাতরং লিখেছেন। এমনকি গ্রন্থবদ্ধ প্রথম থেকে পঞ্চম সংস্করণ পর্যন্ত এভাবেই লেখা হয়। পরে এক সঙ্গে ছাপা হতে দেখা যায়। এটা মুদ্রণ প্রমাদ বলে মনে হয়। পরবর্তীকালে বঙ্কিম গ্রন্থাবলির সম্পাদক ও বঙ্কিম আলোচকরা দুটি শব্দকে এক করে ‘বন্দে মাতরম’ ছাপিয়েছেন।

জাতীয় সঙ্গীত বন্দে মাতরমের মতোই মাদাম কামা পরিকল্পিত ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকায়ও স্থান দেওয়া হয়েছিল ‘বন্দে মাতরম’-এর। তাই দেখা যায় পতাকায় সমান্তরালভাবে ওপর থেকে নীচের দিকে পর্যায়ক্রমে গাঢ় সবুজ, গাঢ় পীত এবং গাঢ় লাল জমির ওপর প্রথমে সবুজ অংশে আটটি শ্বেত পদ্ম, দ্বিতীয় পীত অংশে নীলবর্ণে দেবনাগরী অক্ষরে ‘বন্দে মাতরম’ এবং সর্বনিম্লে লাল অংশের বাঁ দিকে একটি শ্বেত সূর্য ও দক্ষিণ দিকে একটি অর্ধচন্দ্র বিরাজ করতে। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ৭ আগস্ট কলকাতার পার্শীবাগানে (গ্রীয়ার পার্কে) রাষ্টগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম সেই পতাকা উত্তোলন করেন। ভাষা ও বৈচিত্র্যে ভরা তৎকালের আটটি অঞ্চলে (প্রদেশে) বিভক্ত হিন্দু-মুসলমানের স্বপ্নের স্বাধীন ভারতভূমির জাতীয় পতাকায় লেখা ছিল ‘বন্দে মাতরম’। আর সঙ্গে ছিল হিন্দু ও মুসলমানের ধর্মীয় প্রতীকরূপে সূর্য ও অর্ধচন্দ্র। কী সঙ্গীতে কী পতাকায় বন্দে মাতরম কোনো সাম্প্রদায়িক অপব্যাখ্যার শিকার হয়নি তখনও। বাংলার পরই ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের বোম্বাই, লাহোর, মাদ্রাজ, হায়দ্রাবাদ প্রভৃতি অধিবেশনে উত্তোলিত হয় এই পতাকা। এমন কি ওই বছরেই লন্ডনে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের এক বক্তৃতা সভায়মঞ্চে এই পতাকা রাখা হয়েছিল বলে সমকালীন সংবাদপত্র থেকে জানা যায়। তারপর নানা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে-হানাহানিতে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন শুধু দীর্ঘায়িতই হয়নি, বিভিন্ন সময়ে এসেছে পতাকায়ও পরিবর্তন, সে আর এক ইতিহাস। ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট ভারত দ্বিখন্ডিত হয়ে দুই স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হলেও রাষ্ট্রীয় পতাকায় ‘বন্দে মাতরম’ আর ফিরে আসে নি সত্য তবে পতাকা উত্তোলিত হলে আজও ‘জয়হিন্দ’, ‘বন্দে মাতরম’ ধবনিত হয়।

পরিশিষ্ট অংশে বিশিষ্টজনের দ্বারা ‘বন্দে মাতরম’-এর ইংরেজি অনুবাদ সংগ্রহ করে দেওয়া হল। দেওয়া হল রবীন্দ্রনাথ ও প্রতিভা দেবী কৃত সুরে বন্দেমাতরমের স্বরলিপি এবং একটি ‘বন্দে মাতরম’ তথ্য ও আলোচনাপঞ্জি। যার সাহায্যে গবেষক ও কৌতূহলী পাঠক জ্ঞাতব্য তথ্য না হোক বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁদের বিচার তথা ভাবনার প্রকাশ লক্ষ্য করতে পারবেন।

এই গ্রন্থ সংকলনে যাঁদের কাছ থেকে সহায়তা লাভ করেছি তাঁদের মধ্যে বিশেষরূপে উল্লেখযোগ্য শ্রীযুক্ত বাসুদেব মোশেল (বরিষ্ঠ গবেষক, বাংলা বিভাগীয় গবেষণা পরিষদ, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), শ্রীযুক্ত সত্যজিৎ চৌধুরী (ডিরেক্টর, বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্র, নৈহাটি), শ্রীযুক্ত গৌতম সরকার (কিউরেটর, বঙ্কিম সংগ্রহশালা, বঙ্কিমভবন গবেষণা কেন্দ্র, নৈহাটি), শ্রীযুক্ত অজিতকুমার চক্রবর্তী (সম্পাদক ‘প্রতি’)। আমি সকলের নিকট কৃতজ্ঞ।

সবশেষে যে কথা বলতেই হবে তা হল গ্রন্থের পরিকল্পনায় ও শেষ করার জন্য নিরন্তর তাগাদায় এবং উদ্যোগে পারুল প্রকাশনীর কর্ণধার শ্রীযুক্ত গৌরদাস সাহা মহাশয়ের নেপথ্য ভূমিকাই সম্ভব করেছে পাঠক সমাজের কাছে এই দুষ্প্রাপ্য সংকলনটিকে পৌঁছে দিতে।

অশোককুমার রায়

Book Content

বঙ্কিমচন্দ্রের বাল্যকথা – পূর্ণচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র – হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ
বন্দে মাতরম – বিপিনচন্দ্র পাল
স্বদেশবাদ ও বন্দে মাতরম – সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
বঙ্কিমচন্দ্র ও রাষ্ট্রীয় জীবন দ্বিতীয় প্রস্তাব : বন্দে মাতরম ও আনন্দমঠ – রমাপ্রসাদ চন্দ
বন্দে মাতরম-এর উৎস সন্ধানে – দীনেশচন্দ্র সিংহ
বন্দে মাতরম ধ্বনির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র – নারায়ণ চৌধুরী
বন্দে মাতরম : জাতীয় জাগরণমন্ত্র – অলোকরঞ্জন বসুচৌধুরী
বন্দে মাতরম ও আনন্দমঠ রচনার পটভূমি ও পরবর্তী পরিস্থিতি – সুমিত্রা পাল
বঙ্কিমচন্দ্র : বহরমপুর – অরবিন্দ সরকার
বন্দে মাতরম ও বঙ্কিমচন্দ্র – পুষ্পেন্দু লাহিড়ী
বন্দে মারতম ও রবীন্দ্রনাথ – সন্তোষকুমার দে
প্রসঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ এবং রবীন্দ্রনাথ ও সুভাষচন্দ্র – লাডলীমোহন রায়চৌধুরী
বন্দে মারতম ও রবীন্দ্রনাথ – আলপনা রায়
বন্দে মারতম প্রসঙ্গে সুভাষচন্দ্র বসু – জগদীশ ভট্টাচার্য
জাতীয় সংগীত জাতীয় সংহতি – ভবতোষ দত্ত
আনন্দমঠের আদর্শ – আল-ফারুক
বন্দে মাতরমে আপত্তি কেন? – রেজাউল করীম
‘বন্দে মাতরম’ নয় নমস্তে – নিত্যপ্রিয় ঘোষ
বন্দে মাতরম কি সাম্প্রদায়িক সংগীত – মনোরঞ্জন বিশ্বাস
বন্দে মাতরম – জ্যোতিভূষণ চাকী
বন্দে মারতম : একটি ইঙ্গিত – রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
স্বদেশ মন্ত্রের গান : বন্দে মাতরম – মণীন্দ্রনাথ আশ
ভারতের জাতীয় পতাকার ইতিহাস – ক্ষীরোদকুমার দত্ত
বিতর্কিত জাতীয় সংগীত বন্দে মাতরম – অভ্র ঘোষ
প্রসঙ্গ : ‘বন্দে মাতরম’ এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ – অমলেন্দু দত্ত
জাতীয় সংগীত বনাম জাতীয় সংগীত – সুজয় বাগচী
কীর্তনখোলা তীরে ‘বন্দে মাতরম’ – ড. পবিত্রকুমার গুপ্ত
‘বন্দে মাতরম’ ও বাংলার যাত্রাপালা – প্রভাতকুমার দাস
‘বন্দে মাতরম’ ও ব্রজেন্দ্রকুমার দে – তরুণকুমার দে
বন্দে মাতরম—শতবর্ষের আলোকে – অসীম মুখোপাধ্যায়
Bankim Chandra Chatterjee : The Composer of the Vande Mataram Song – Nagendra Nath Gupta
Bankim Chandra Chatterjee : Author of Vande Mataram – R. K. Prabhu
Vande Mataram – M. K. Gandhi
পরিশিষ্ট (বন্দে মাতরম)
বন্দে মাতরম সম্পর্কীয় আলোচনা গ্রন্থের তালিকা

Reader Interactions

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক

সিরিজ

বইয়ের ধরণ

বাংলা ডিকশনারি

বাংলা জোক্স

বাংলা লিরিক্স

বাংলা রেসিপি

বিবিধ রচনা

বাংলা হেলথ টিপস

Download PDF


My Account

Facebook

top↑

Login
Accessing this book requires a login. Please enter your credentials below!

Continue with Google
Lost Your Password?
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Register
Don't have an account? Register one!
Register an Account

Continue with Google

Registration confirmation will be emailed to you.