বন্দে মারতম ও রবীন্দ্রনাথ – সন্তোষকুমার দে

বন্দে মাতরম ও রবীন্দ্রনাথ

সন্তোষকুমার দে

ভারতের জাতীয় সংগীত দুইটি এবং দুইটিই বাংলার দান। এক—’বন্দে মাতরম’, দুই—’জনগণমন’। প্রথমটির রচয়িতা ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র, দ্বিতীয়টির রচয়িতা—কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ। ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান নয়, একটি মন্ত্র, মহামন্ত্র—যে মহামন্ত্রের ধবনি কানের ভিতর দিয়ে মর্মে প্রবেশ করে সুপ্ত ভারতবর্ষকে জাগিয়ে তুলেছিল, আসমুদ্র হিমাচল ব্যাপ্ত এই বিশাল দেশ ভারতবর্ষের সকল জাতির সকল ভাষাভাষীর মনে দেশাত্মবোধ জন্মেছিল, সকল মানুষ এককণ্ঠে মাতৃবন্দনায় উন্মুখ হয়ে উঠেছিল।

‘জনগণমন অধিনায়ক জয় হে ভারত-ভাগ্যবিধাতা’—অতি পরিশীলিত ভাষায় রচিত ভারত-ভাগ্যবিধাতার জয়গান। এক সময় বিদেশি সাংবাদিকদের হীন প্রচেষ্টায় এটাই প্রমাণিত করবার প্রয়াস হয়েছিল, এই গানটি কবি ইংল্যান্ডেশ্বরকে আবাহন করে রচনা করেছিলেন। এই মূঢ় উক্তির প্রতিবাদ করাও রবীন্দ্রনাথ অপমানকর মনে করেছিলেন, তবে দেশীয় সাংবাদিক এবং দেশসেবকগণ অবশ্য নীরব ছিলেন না। তাঁদের বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে রবীন্দ্র-তত্ত্বাচার্য মনীষী প্রবোধচন্দ্র সেন তাঁর ‘ভারতবর্ষের জাতীয় সংগীত’ নামক গ্রন্থে নিঃসংশয় ভাবে প্রমাণ করেছেন—যে রবীন্দ্রনাথ ওই ‘জনগণমন’ গানটি কোনো রাজপুরুষের বন্দনার উদ্দেশ্যেই রচনা করেননি, পরন্তু যিনি ভারতের প্রকৃত ভাগ্যনিয়ন্তা সেই ভগবানের উদ্দেশ্যেই তিনি এই জয়ধবনি তুলেছিলেন। ভারতের মনীষীবৃন্দও এই গানটির প্রকৃত তাৎপর্য হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছিলেন তাই স্বাধীন ভারতের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দিয়ে ‘জনগণমন’ গানটিকে বিশ্ববাসীর কাছেও বরণীয় করে তুলেছেন।

‘বন্দে মাতরম’ গানটির গুরুত্ব কিন্তু তাতে কিছুমাত্র কমেনি, কারণ ‘বন্দে মাতরম’ পরাধীন ভারতবাসীকে যেভাবে উদবুদ্ধ করেছিল তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আর কোনো দেশে আর কোনো একটি জাতীয় সংগীত কোটি কোটি মানুষকে এভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে শোনা যায় না। আমাদের প্রতিবেশী বাংলাদেশে মুক্তি সংগ্রামের সময়ে যোদ্ধারা সাময়িক ভাবে রবীন্দ্রনাথেরই আর একটি গান থেকে অনুরূপভাবে অনুপ্রেরণা পেয়ে ছিল বটে, কিন্তু পরিবর্তিত পরিবেশে ‘সোনার বাংলা’র ঢেউ আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেছে।

‘বন্দে মাতরম’ গানটির আরও কয়েকটি বিশেষত্ব উল্লেখযোগ্য। এক মহামনীষী ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র এটি অতি সযত্নে রচনা করেছিলেন এবং আর এক লোকোত্তর প্রতিভা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তাতে সুরসংযোজনা করেছিলেন। গবেষকেরা এখন অবশ্য আবিষ্কার করেছেন—যে ১৮৭৫/৭৬ সালে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি বঙ্কিমচন্দ্র যখন রচনা করেন তখন তিনি চুঁচুড়ায় বাস করতেন। চুঁচুড়ার প্রতিবেশী সুরকার ক্ষেত্রমোহন মুখোপাধ্যায় ‘বন্দে মাতরম’ গানটিতে সুর বসিয়ে বঙ্কিমচন্দ্রকে শুনিয়েছিলেন। তিনিই তাই ‘বন্দে মাতরম’ সংগীতটির প্রথম সুরকার। তবে তাঁর নামটি সাহিত্যাচার্য অক্ষয়চন্দ্র সরকারের রচনাবলিতে ‘ক্ষেত্রনাথ মুখোপাধ্যায়’ বলে উল্লেখ থাকায় সেই নামটিই প্রথম ঘোষিত হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ সম্ভবত ক্ষেত্রমোহনের দেওয়া সুর শোনেন নি, তাই আনন্দমঠ ‘বন্দে মাতরম’ গানটি প্রকাশিত হলে তিনি নিজেই তাতে সুর বসিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত স্বরলিপিও প্রকাশ করেন।

বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠ উপন্যাসখানি বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। তখন তাতে ‘বন্দে মাতরম’ সর্ব প্রথম মুদ্রিত হয় ১২৮৭ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যায়। ১২৮৯ বঙ্গাব্দে আনন্দমঠ পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয় এবং ঠাকুরবাড়িতে সে বইটি, এমন কী বঙ্গদর্শনও যে সমাদৃত হয়েছিল তার বিবরণ পাওয়া যায়। ১২৯২ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ মাসে ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত বালক পত্রিকায় ‘বন্দে মাতরম’ গানটির প্রথমাংশের স্বরলিপি প্রকাশিত হয় কিন্তু তখন তাতে সুরকারের কোনো নাম দেওয়া ছিল না। স্বরলিপিকত্রী হিসেবে প্রতিভাসুন্দরী দেবীর নাম মাত্র মুদ্রিত হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের ভাগিনেয়ী সরলা দেবীর ‘শত গান’ নামে একখানি গ্রন্থে ‘বন্দে মাতরম’ গানটির স্বরলিপিটি পুনর্বার মুদ্রিত হয়—তখন তাকে সুরকার হিসেবে রবীন্দ্রনাথের নাম দেওয়া হয়।

রবীন্দ্রনাথ শুধু যে ‘বন্দে মাতরম’ গানটির সুর দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছিলেন তা নয়, সভাসমিতিতে, কংগ্রেসমণ্ডপে এমনকি স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্রকেও তিনি নিজের সুরে ‘বন্দে মাতরম’ গেয়ে শোনান। বঙ্কিমচন্দ্র সে গান শুনে যে খুশি হয়েছিলেন তাও বর্ণিত আছে বঙ্কিম জন্মশতবর্ষের ভাষণে,

রবীন্দ্রনাথ মনে হয় ক্ষেত্রমোহনের দেওয়া সুরের কথা জানতেনই না, তাই তিনি তাঁর ভাষণে বলেছিলেন :

তাঁর (বঙ্কিমচন্দ্রের) ‘বন্দে মাতরম’ গানে আমিই প্রথম সুর দিয়ে তাঁকে শোনাই। সবটা আমি গান করিনি, যতটা আমি সুর দিয়েছিলাম ততটা তাঁকে শুনিয়েছি। তিনি তাতে খুব প্রসন্ন হয়েছিলেন।

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়, সরকারি আদেশের প্রতিবাদে ১৯০৫ সালের ৭ই আগস্ট কলকাতায় টাউন হলে যে বিরাট জনসভা হয় তাতেই ‘বন্দে মাতরম’ প্রথম ধবনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তার আগে ১৮৮৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেস অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়া হয়েছিল। এর দশ বছর পরে ১৮৯৬ সালে কলকাতায় আবার যখন কংগ্রেস বসে তাকে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গেয়েছিলেন। গগনেন্দ্রনাথ সেই অনুষ্ঠানের একটি ছবি এঁকেছিলেন, সে কথাও এখন সবাই জানেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তাঁর নিজের সুরে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি রেকর্ডেও গেয়েছিলেন এ তথ্য বহুদিন লোকে ভুলে গিয়েছিল, রেকর্ডটিও নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।

আমি আমার সমগ্র কর্মজীবন গ্রামোফোন কোম্পানিতে কাটিয়েছি, সেখানে সমস্ত কাগজপত্র খুঁজে রবীন্দ্রনাথের গাওয়া ‘বন্দে মাতরম’ গানের কোনো সন্ধান পাইনি। পরে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথের রেকর্ডিং বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করতে প্রয়াসী হই, তারও কারণ ঘটে একটু অদ্ভুত ভাবে। Unesco থেকে রবীন্দ্র-সংগীতের রেকর্ডের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করবার আয়োজন হয় এবং তাঁদের প্রতিনিধি শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্র-সদনে আসেন। সেখানে তখন রবীন্দ্র-সংগীতের রেকর্ড এবং কবিকণ্ঠের রেকর্ড খুব বেশি ছিল না। রবীন্দ্র-সদন কর্তৃপক্ষ Unesco প্রতিনিধিকে গ্রামোফোন কোম্পানিতে পাঠান। তিনি আমার কাছে এসে তাঁদের প্রস্তাবিত ক্যাটালগটির জন্য রবীন্দ্র সংগীতের যাবতীয় রেকর্ডের সম্পূর্ণ তালিকা চাইলেন। আমি তখন বলতে বাধ্য হলাম,—এমন তালিকা তখন পর্যন্ত কেউ তৈরি করেননি, গ্রামোফোন কোম্পানিতে তো নেই-ই, কারণ রবীন্দ্র সংগীতের রেকর্ড যখন প্রকাশ হতে আরম্ভ হয় তখন এ দেশে ডিসক রেকর্ড আসেনি, প্রতিষ্ঠা হয়নি গ্রামোফোন কোম্পানির কারখানা।

এখানে খুব সংক্ষেপে রেকর্ডিং-এর ইতিহাস একটু বললে বোধহয় বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে টমাস আলভা এডিসন আমেরিকায় ফনোগ্রাফ যন্ত্র আবিষ্কার করেন যাতে মানুষের কণ্ঠস্বর ধরে রাখা সম্ভব। বর্তমান বর্ষে (১৯৭৭) রেকর্ডিং আবিষ্কারের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব সারা পৃথিবী জুড়ে পালিত হচ্ছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে কলকাতার অভিজাত প্রসাধন সামগ্রী ব্যবসায়ী (Perfumer) স্বর্গত হেমেন্দ্রমোহন বসু (H. Bose) এডিসনের ফনোগ্রাফ যন্ত্র এ দেশে এনে রেকর্ডিং করা শুরু করেন। তখন নলের মতো রেকর্ড হত, চাকতি রেকর্ড তখনও আবিষ্কৃত হয়নি।

হেমেন্দ্রমোহন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের অনেকগুলি গান তাঁর নিজের কণ্ঠে এবং অন্যান্য শিল্পীর কণ্ঠে হেমেন্দ্রমোহন রেকর্ড করেন এবং H. Bose’s Record নাম দিয়ে তা বাজারে বের করেন।

১৯০১ সালে ইংল্যান্ডের গ্রামোফোন কোম্পানি কলকাতায় তার শাখা স্থাপন করেন এবং ১৯০৮ সালে এ দেশেই রেকর্ড তৈরি শুরু হয়। H. Bose’s Record (সিলিন্ডার রেকর্ড) গ্রামোফোন কোম্পানির চাকতি রেকর্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হটে যেতে বাধ্য হয়। প্রথম কিছুদিন, তিনি ফ্রান্সে প্যাথে কোম্পানিতে তাঁর সিলিন্ডি�ক্যাল রেকর্ড পাঠিয়ে তা থেকে ডিসক রেকর্ড তৈরি করিয়ে এনে চেষ্টা করে দেখেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে তার রেকর্ডিং প্রতিষ্ঠান তুলে দেন, তবে তার পারফিউমারি সামগ্রী—যেমন ‘দেলখোস’ সেন্ট এবং ‘কুন্তলীন’ চুলের তেল সুদীর্ঘকাল চালু ছিল।

H. Bose’-এর সিলিন্ডি�ক্যাল রেকর্ডেই রবীন্দ্রনাথের গাওয়া ‘বন্দে মাতরম’ গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ‘কবিকণ্ঠ’ নামক গ্রন্থে দিয়েছি। উৎসাহী পাঠক কবিকণ্ঠে প্রচুর ছবি ও রেকর্ড তালিকা এবং তার বিস্তারিত ইতিহাস জানতে পারবেন। Unesco প্রতিনিধি অ্যালেন ড্যানেলুর বিশেষ অনুরোধে এবং বিশ্বভারতীর প্রাক্তন রবীন্দ্র অধ্যাপক, আমার শিক্ষাগুরু আচার্য প্রবোধচন্দ্র সেনের নির্দেশে আমি রবীন্দ্রনাথের নিজকণ্ঠের রেকর্ড তথা রবীন্দ্র-সংগীতের রেকর্ডের পূর্ণ তথ্য সংগ্রহে ব্রতী হই এবং সুদীর্ঘ ১২ বৎসর ধরে আনন্দবাজার পত্রিকা, যুগান্তর, অমৃতবাজার পত্রিকা, অমৃত, গল্পভারতী, কথাসাহিত্য, শনিবারের চিঠি প্রভৃতি বহু পত্রিকায় ১৭টি প্রবন্ধ লিখে জনসাধারণের নিকট হতে তথ্য সংগ্রহে চেষ্টিত হই। দেশে বিদেশে যেখানে কবি কখনও কিছু রেকর্ড করেছেন শুনেছি বা করবার সম্ভাবনা ছিল মনে করেছি সেখানেই যোগাযোগ করেছি। সেইভাবে জার্মানির রেডিও কর্তৃপক্ষ এবং একজন প্রবীণ অধ্যাপক আমাকে কবির নিজকণ্ঠের কয়েকটি অপ্রকাশিত রেকর্ডের তথ্য জানান। রবীন্দ্র-তথ্য বিশেষজ্ঞ শ্রদ্ধেয় শ্রীপুলিনবিহারী সেন আমাকে ড. সুকুমার সেনের নিকট পাঠান, তাঁর বর্ধমানের বাড়ি থেকেই ১৯০৬ সালে মুদ্রিত H. Bose’s Record Catalogue হতে রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গানের রেকর্ডখানির (36250) সন্ধান পাই। সেই সূত্র ধরে স্বর্গত হেমেন্দ্রমোহন বসুর জ্যেষ্ঠপুত্র সাহিত্যরসিক হিতেন্দ্রমোহন বসুর নিকট ওই প্রাচীন রেকর্ডখানির সন্ধান করতে থাকি। আমি তখন আমহার্স্ট স্ট্রিটে হিতেন্দ্রমোহন বসুর বাড়ির কাছাকাছি থাকতাম বলে সুদীর্ঘ আট বৎসর ধরে তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করা সম্ভব হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের একটি গুদাম ঘরে পরিত্যক্ত একটি ট্রাঙ্কের মধ্যে রেকর্ডিং কোম্পানির পুরাতন কাগজপত্র ঘাটতে ঘাটতে প্যাথে কোম্পানিতে তৈরি রবীন্দ্রনাথের গাওয়া ‘বন্দে মাতরম’ গানটির ডিসক সৌভাগ্যক্রমে পাই এবং ওই বাড়িতে বসেই রেকর্ডখানির ছবি তুলে আমার লেখা কবিকণ্ঠ গ্রন্থে ছাপি। ১৯৬২ সালে অমৃতবাজার পত্রিকার পূজা সংখ্যাতেও ওই বিষয়ে একটি প্রবন্ধ লিখি।

তারপর বহুদিনের প্রচেষ্টায় ভারত সরকারের সহযোগিতায় ওই রেকর্ডখানির ‘টেপ’ তৈরি করে আকাশবাণীর প্রধান কেন্দ্রগুলিতে দেওয়া হয়। কলকাতায় ক্যাথিড্রাল রোডের রবীন্দ্রসদনের যেদিন দ্বারোদঘাটন হয়, তখন রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠে গাওয়া ‘বন্দে মাতরম’ গানটির টেপ বাজিয়ে সেই শুভ কাজটি সম্পন্ন হয়েছিল এবং এই সুপ্রাচীন সংগ্রহের তথ্য জেনে সেদিনের উদবোধক জাতীয় অধ্যাপক আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় পরে আমায় অতি আন্তরিকভাবে আশীর্বাদে অভিভূত করেছিলেন। এখনও অনেক সময় বেতারে ২৫ বৈশাখের রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীতে রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি বাজানো হয়।

মূল রেকর্ডের অপরদিকে রবীন্দ্রনাথের আবৃত্তি ‘সোনারতরী’ কবিতাটি আছে। রেকর্ডখানি পরে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের সংগ্রহশালায় সযত্নে রক্ষা করেছেন।

‘বন্দে মাতরম’ গানটি দিলীপকুমার রায় ও শুভলক্ষ্মীর কণ্ঠে গীত রেকর্ড (45N83459) কিনতে পাওয়া যায়, আকাশবাণী বাদ্যবৃন্দের (7EPE 1006) রেকর্ডও পাওয়া যায়। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের রেকর্ডখানি কিনতে পাওয়া যায় না। কোনো পক্ষ কি এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে পারেন না?

রবীন্দ্রনাথ, দিলীপকুমার ও শুভলক্ষ্মী ব্যতীত আরও বহু বিখ্যাত শিল্পীর কণ্ঠে ও যন্ত্রে বহুবার ‘বন্দে মাতরম’ গানটি রেকর্ডে প্রচারিত হয়েছে। তার মধ্যে হরেন্দ্রনাথ দত্তের গাওয়া রেকর্ডটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়ে দীর্ঘদিন চালু ছিল, তাতেই তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৯৩৯ সালে ‘ইউনিট অব ফিলম নিউজিয়ানস’ ‘বন্দে মাতরম’ নামে একটি চলচ্চিত্র তোলেন, তাতেও ‘বন্দে মাতরম’ গানের রেকর্ড (N 36170) প্রকাশিত হয়। তার আগে এবং পরে আরও অনেক শিল্পীর কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ রেকর্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। এখানে তার একটি তালিকা দিলাম, এ বাদে আরও রেকর্ড থাকা অসম্ভব নয়।

১. অজয় বিশ্বাস, কনক দাশ, সতী দেবী ও সোমেন গুপ্তের সমবেত কণ্ঠে—N 17014

২. অনাদি দস্তিদারের পরিচালনায় বিবিধ শিল্পী—N 27829*

৩. আকাশবাণী বাদ্যবৃন্দ—7EPE 1006

৪. ইউনিট অব ফিলম মিউজিসিয়ানস—N 36170

৫. আনন্দবাজার পত্রিকা/হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ডের পক্ষে—AHR-1

৬. এইচ. এম. ভি অর্কেষ্ট্রা—N 27893

৭. পণ্ডিত ওঙ্কারনাথ ঠাকুর—BEX 201, GE-3132

৮. মাস্টার কৃষ্ণ রাও—

৯. জগন্ময় মিত্র, বেচু দত্ত প্রভৃতি—N 16985

১০. দিলীপকুমার রায়—H T 80

১১. দিলীপকুমার রায় এবং এম. এস. শুভলক্ষ্মী—45N83459

১২. বিষ্ণুপদ পাগনিস—P 13361

১৩. ব্রাস ব্যান্ড (কোরাস)—N 16939

১৪. ভরত ব্যাস এবং সম্প্রদায়—N 16872

১৫. ভবানী দাস—JNGS 5224

১৬. বাই মগুবাই কুর্দিকার—GE 3997

১৭. মাতৃ সেবকদল—N 6944

১৮. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর—H. Bose-36250

১৯. রাম আশ্রম গার্লস স্কুল—N 16331

২০. হরেন্দ্রনাথ দত্ত—P 5182

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *