বন্দে মাতরম : জাতীয় জাগরণমন্ত্র – অলোকরঞ্জন বসুচৌধুরী

বন্দে মাতরম : জাতীয় জাগরণমন্ত্র

অলোকরঞ্জন বসুচৌধুরী

আরও প্রমাণ মেলে কবি নবীনচন্দ্র সেনের সঙ্গে কথাবার্তায়, যার বিবরণ পাওয়া যায় শ্রীশচন্দ্র মজুমদার, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রমুখের লেখায়। আনন্দমঠ প্রকাশিত হবার পর বঙ্কিমের কাছে নবীন নাকি একবার মন্তব্য করেন যে, তাঁর ‘বন্দে মাতরম’ ভারতবর্ষের ‘মারসেলেজ গীত’ হবে। কিন্তু গানটি পুরোপুরি সংস্কৃত না করায় মাটি হয়েছে। মাঝে মাঝে বাংলা পঙক্তিগুলো তাঁর মতে গানের গাম্ভীর্য ও প্রাণ নষ্ট করেছে। বঙ্কিম এর জবাবে বলেন, ‘বাংলা লাইনগুলি তোমার ভালো না লাগে, উহাদের তুমি বাদ দিয়া পড়িও। ‘নবীন তখন বলেন, আপনার ঐ দেমাকেই আমরা মারা গেলাম।’ তখন বঙ্কিমচন্দ্র হেসে বলেন, ‘তুমি গানটি গাইতে শুনেছ কি?’ নবীন ‘না’ বলতে তিনি বলেন যে, শুনলে আর তিনি ওরকম বলবেন না।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখেছেন :

বঙ্কিমবাবু তাঁহার চেলাদের চেয়ে দেশের মতিগতি ঢের বেশি বুঝিতেন। তিনি ‘বন্দে মাতরম’ গান লিখিয়া যেদিন শুনাইলেন, সকলেই আপত্তি করিল, কেহ ভাষার আপত্তি করিল। কেহ বলিল কটমট হইয়াছে, কেহ বলিল বাংলায় সংস্কৃত মিশিয়ে একটা অদ্ভুত জিনিস হইয়াছে কেহ বলিল বিটকেল হইয়াছে, কেহ বলিল মলয়জশীতলাংশ-এর ঈ-কারের জন্য শ্রুতিকটু হইয়াছে ; কিন্তু বঙ্কিমবাবু কাহারও কথা শুনিলেন না, আপনার গোঁ-এ উহা ছাপাইয়া দিলেন।

‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গে নবীনচন্দ্রের সঙ্গে বঙ্কিমের পূর্ববর্ণিত কথোপকথনের যে বিবরণ শ্রীশচন্দ্র মজুমদারের লেখায় পাই, সেখানে বঙ্কিমের প্রাসঙ্গিক মন্তব্য : ‘আমায় ভালো লেগেছে তাই ওরকম লিখেছি। লোকের ভালো লাগে কিনা ভেবে আমি লিখব?’ এ ছাড়াও শোনা যায় হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের কাছে বঙ্কিম নাকি বলেছিলেন যে তাঁর আনন্দমঠ দ্বারা একদিন উপকার হবেই। [জ্ঞানেন্দ্রলাল রায়ের স্মৃতিকথা] বড়ো মেয়ে শরৎ কুমারীকেও নাকি তিনি বলেছিলেন পঁচিশ বছর পরে বাংলাদেশ ‘বন্দে মাতরম’ গান নিয়ে মেতে উঠবে।

এই মেতে ওঠার সময় বঙ্কিম তাঁর ভবিষ্যদবাণী অনুযায়ী জীবিত ছিলেন না ঠিকই, তবে মেতে ওঠার সূচনা তিনি দেখে গেছেন। যদুভট্ট বা রবীন্দ্রনাথের মতো মানুষ ‘বন্দে মাতরম’ সংগীতে সুর দিয়ে তাঁকে গেয়ে শুনিয়েছেন, জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবারের পত্রিকায় ‘বঙ্কিম বাবুর রচিত ‘বন্দে মাতরম’ নামক বিখ্যাত গানটির স্বরলিপি ছাপা হচ্ছে, সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’-এ বঞ্চিত দেশজননীর শিল্পী অঙ্কিত চিত্রও [১৮৮৫]। ১৮৮৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেস অধিবেশন উপলক্ষ্যে কবি হেমচন্দ্র লিখেছেন :

গাহিল সকলে মধুর কাকলি গাহিল—’বন্দেমাতরম / সুতরাং সুজলাং সুফলাং মলয়জ শীতলাং শস্য শ্যামলাং মাতরম। / …’ উঠিল সে ধবনি নগরে নগরে / তীর্থ দেবালয় পূর্ণ জয়স্বরে / ভারত-জগৎ মাতিল।” [‘রাখিবন্ধন’] এই বিপুল সম্মান যখন ‘বন্দেমাতরম’ এর ওপর অর্পিত হয়, বঙ্কিম তখনও জীবিত।

বঙ্কিমের প্রয়াণের দু-বছর পরে কলকাতায় আয়োজিত কংগ্রেস অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম’ সংগীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এর পরের অগ্নিগর্ভ বছরগুলোতে বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশি আন্দোলনের সেই দামাল দিনগুলোতে বাংলা তথা ভারতের জাতীয় ইতিহাসের প্রাণবাণী ছিল ‘বন্দে মাতরম’। বিনয়কুমার সরকার যথার্থই লিখেছেন :

যুবক ভারত জাগিয়া উঠিয়া দেখিল, একটি জিনিসের তাহার অভাব। একটা মন্ত্র তার দরকার। এই মন্ত্র হইতেছে ‘বন্দে মাতরম’। তখন জাতীয় ধবনি ‘বন্দে মাতরম’ সম্প্রদায় বা সঙেঘর নামে, এমনকি পত্রপত্রিকার নামেও ‘বন্দে মাতরম’। দেশে বিদেশে এই নামে কত গোষ্ঠী, ইস্তাহার মুখপত্র, যার পরিচালনায় শ্যামজি কৃষ্ণবর্মা, মাদাম কামা, লাল হরদয়াল—কখনও বা অরবিন্দ ঘোষ! ভগিনী নিবেদিতার পরিকল্পিত জাতীয় পতাকায় (১৯০৬), সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তোলিত পতাকায়ও (১৯০৭) কেন্দ্রবাণী ‘বন্দে মাতরম’। এরকমই একটি পতাকা ১৯০৭ সালে জার্মানিতে আন্তর্জাতিক সমাজবাদী সম্মেলনে মাদাম কামা যখন আন্দোলিত করেন, তখন দর্শকদের মধ্যে উপস্থিত থাকেন লেনিন ও রোজা লুকসেমবার্গের মতো বিপ্লবী। ‘বন্দে মাতরম’ কাজেকাজেই যথার্থ মন্ত্র, আর এর স্রষ্টা বলেই বঙ্কিম ঋষি।

‘বন্দে মাতরম’ সংগীত সম্পর্কে রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথের সশ্রদ্ধ মূল্যায়ন আমরা দেখেছি। মদনমোহন মালবীয়ও গানটি শুনতে শুনতে নাকি ধ্যানতন্ময় হয়ে যেতেন। আবার আনন্দমঠ ও ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রভাবেই অরবিন্দ রচনা করেন তাঁর ভবানীমন্দির পুস্তিকা ও বাজীপ্রভু কবিতা। এই অরবিন্দের মাতামহ, ভারতীয় জাতীয়তার একজন আদিগুরু রাজনারায়ণ বসু ‘অ্যান ওল্ড হিন্দুজ হোপ’ নামে যে পুস্তিকা প্রকাশ করেন, তার শেষে ‘বন্দে মাতরম’ সংগীতের ইংরেজি অনুবাদ সংযোজিত হয়েছিল (১৮৮৮ খ্রি.)। বঙ্কিমের জীবদ্দশায় প্রকাশিত এই ইংরেজি ‘বন্দে মাতরম’ হয়তো রাজনায়ারণেরই রচনা। পরে তাঁর দুই বিপ্লবী দৌহিত্র অরবিন্দ-বারীন্দ্রকুমার একযোগে ইংরেজিতে আনন্দমঠ অনুবাদ করে প্রকাশ করেন। এ ছাড়া আনন্দমঠ-এর উল্লেখযোগ্য অনুবাদ সাহিত্যিক নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত কৃত ‘অ্যাবে অব ব্লিস’ (১৯০৬)।

নবভারতের রচনায় জাগরনী মন্ত্রের ঋষি হিসেবে বঙ্কিমের নাম অবশ্য গণনীয় বলে মনে করেছেন বিপিন পাল। তাঁর মতে স্বাজাত্যভিমানের সাথে বিশ্বপ্রীতির আবশ্যকতার কথাও বঙ্কিম বলে গেছেন :

একদিকে আনন্দমঠ একটি অতি প্রবল স্বদেশ প্রীতি ও স্বাজাত্যভিমান জাগাইয়া দেয় কিন্তু ইহারই সঙ্গে সঙ্গে আর একদিকে এই স্বদেশপ্রীতি এবং স্বাজাত্যভিমান বিশ্বপ্রীতি এবং বিশ্বকল্যাণ কামনা হইতে বিচ্ছিন্ন হইলে আপনার সফলতা যে কিছুতেই আহরণ করিতে পারে না, আনন্দমঠে বঙ্কিমচন্দ্র আশ্চর্য কুশলতা সহকারে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পরিণাম দেখাইয়া এই কথাটাও প্রচার করিয়া গিয়াছেন। … [বঙ্কিম সাহিত্য’, নবযুগের বাংলা]।

সাহিত্যিক-রাজনীতিক রমেশচন্দ্র দত্ত এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায় আনন্দমঠ-কে এর ‘বিস্ময়কর রাজনৈতিক তাৎপর্যের’ জন্য বঙ্কিমচন্দ্রের সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন মনে করেছেন বঙ্কিম শুধু দেশজননীর মূর্তি তৈরি করে দেশবাসীদের দানই করেন নি, প্রাণ দিয়ে এতে প্রেরণাও সঞ্চার করেছেন। তিনিই স্বদেশমাতাকে দেখলেন ও চিনতে পারলেন, দেশবাসীকে ডেকে বললেন—’দেখ, এই আমাদের মা, এঁর আরাধনা করো, স্বগৃহে এঁকে প্রতিষ্ঠা করো।’ যে গান তিনি গাইলেন, তা এই সুজলাসুফলা শস্যশ্যামলা মলয়জশীতলা মাতৃকার বন্দনাগান কিন্তু আমরা বধির, সেই গান শুনতে পেলাম না, অন্ধ আমরা দেখতে পেলাম না তাঁর মাতৃমূর্তি! [১৯১৭ সালের বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনে সভাপতির ভাষণ ]।

পরবর্তীকালের আর একজন সর্বভারতীয় নেতা মোহনদাস গান্ধি স্বদেশি আন্দোলনে এই গানের প্রেরণা দেখে ভবিষ্যদবাণী করেছিলেন, অচিরেই এই গান সারা ভারতের জাতীয় সংগীত হবে। ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ান’-এর পাতায় গান্ধি লেখেন, অন্যান্য দেশের জাতীয় সংগীতের চেয়ে ‘বন্দে মাতরম’ সংগীত বেশি মিষ্টি ও এর ভাব মহত্তর। অন্যের প্রতি অপমানের ভাব প্রচারের ত্রুটি থেকে এ গান মুক্ত, এর একমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের স্বদেশপ্রেম জাগানো। ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ গান্ধি স্বীকার করেন নি। তাঁর মতে এ গানের মধ্যে কোনো সংকীর্ণতা নেই। তিনি যখন বালক, আনন্দমঠ বা বঙ্কিমচন্দ্র সম্পর্কে কিছুই জানতেন না, তখন থেকেই ‘বন্দে মাতরম’ তাঁকে গভীরভাবে আকর্ষণ করে আসছে। একবারও তাঁর মনে হয়নি যে এটি শুধু হিন্দুদের জন্য রচিত সংগীত। তাঁর বিশ্বাস ছিল, যতদিন জাতি থাকবে, ‘বন্দে মাতরম’-এর মৃত্যু হবে না। ধবনি হিসেবেও ‘ভারতমাতা কী জয়’ এর চেয়ে ‘বন্দে মাতরম’-ই গান্ধির কাছে বেশি পছন্দসই ছিল, কারণ তাঁর কাছে এটা ছিল বাংলার ভাবগত ও বৌদ্ধিক শ্রেষ্ঠতার স্বীকৃতি।

১৯০৬ সালে বরিশালে প্রাদেশিক সম্মেলনীতে জননেতা অশ্বিনীকুমার দত্ত বলেন যে :

যখন বঙ্গদেশ গভীর শোকে আচ্ছন্ন, তখন লাট ফুলার গোর্খা সৈন্য ও পিটুনি পুলিশ এনেছেন, প্রকাশ্যস্থানে পবিত্র ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ নিষিদ্ধ করেছেন ; যার ধমনিতে একবিন্দু শোণিত প্রবাহিত হয় সে কি এ অবস্থায় হৃদয়ভার চেপে রাখতে পারে?

এই বরিশাল সম্মিলনীতে ‘বন্দে মাতরম’ ধবনি নিয়ে তুমুল কাণ্ড বাঁধে, কিশোর চিত্তরঞ্জন গুহঠাকুরতা পুলিশের লাঠিতে অবিচল থেকে ‘বন্দে মাতরম’ শ্লোগান দিতে থাকে, শেষ পর্যন্ত সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়। স্মরণীয় কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদের গান: ‘আমার যায় যাবে জীবন চলে / জগৎ মাঝে সবার কাজে বন্দেমাতরম বলে।’ এ ছাড়াও ‘বন্দে মাতরম’ শব্দটি গানের মধ্যে ব্যবহার করেছেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, মুকুন্দ দাস। কে নয়? কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তো ‘বন্দে মাতরম’ এর সংস্কৃত অংশ বাংলা কবিতায় অনুবাদও করেন।

বরিশাল সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে অন্যতম অরবিন্দ ঘোষ ইংরেজিতে ‘বন্দে মাতরম’ অনুবাদ করেছিলেন কর্মযোগিন পত্রিকায় ১৯১০ সালে। এই গদ্যানুবাদের সাথে অরবিন্দের টীকা : —’এই জাতীয় সংগীতের মধ্যে মাধুর্য, নিষ্কপট সরলতা ও বিরাট কবিত্বশক্তির যে অসাধারণ সম্মিলন ঘটেছে তাকে কবিতায় ভাষান্তরিত করার সব প্রয়াসই ব্যর্থ হয়েছে, কাজেই গদ্যানুবাদ। বঙ্কিমের মহাপ্রয়াণের পর অরবিন্দ ইন্দুপ্রকাশ পত্রিকায় যে শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রকাশ করেন তাতেও ছিল ‘বন্দে মাতরম’-এর আদর্শেরই উল্লেখ :

… তাঁর দিব্যদর্শনে প্রতিভাত দেশমাতৃকার হাতে ভিক্ষাপাত্র ছিল না, তিনি তাঁর দ্বিসপ্তকোটি ভুজে ধরেছিলেন খরকরবাল। … [১৮৯৪]।

এই ‘বন্দে মাতরম’ মন্ত্রের জন্যই অরবিন্দের চোখে বঙ্কিম ‘নবজাগরণের প্রেরণাদাতা ও রাজনৈতিক গুরু’ [বন্দে মাতরম পত্রিকার প্রবন্ধ ১৬.৪.১৯০৭]। তাঁর মতে এই দেশমাতার রূপকল্পনাই বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ দেশসেবা।

একটা সময় পর্যন্ত আমাদের দেশের রাজনীতিকরা যে সাধারণভাবে ‘বন্দে মাতরম’ সংগীত সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল ছিলেন সেটা আমাদের পূর্বোল্লিখিত দৃষ্টান্তগুলো থেকে বোঝা যায়। এমনকি বিদেশি মার্কুইস অব জেটল্যান্ড পর্যন্ত আনন্দমঠ-কে বলেছিলেন ‘প্যারাবল অব প্যাট্রিয়টিজম’। আমাদের কবি সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীরা অবশ্য এই সংগীত সম্পর্কে মিশ্রমতামত পোষণ করেছেন। আচার্য হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর চোখেও বঙ্কিমচন্দ্র মাতৃবন্দনার মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি :

বঙ্কিমবাবু যাহা করিয়াছেন … সব গিয়া একপথে দাঁড়াইয়াছে সে পথ জন্মভূমির উপাসনা—জন্মভূমিকে মা বলা—জন্মভূমিকে ভালোবাসা—জন্মভূমিকে ভক্তি করা। … সুতরাং তিনি আমাদের নমস্য, তিনি আমাদের আচার্য, তিনি আমাদের মন্ত্রকৃৎ, তিনি আমাদের মন্ত্রদ্রষ্টা। সে মন্ত্র বন্দেমাতরম। [বঙ্কিমচন্দ্র]

১৯৩৭ সালে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির তাড়নায় ‘বন্দে মাতরম’ বিরোধী প্রচার তুঙ্গে উঠেছিল, বিশেষ করে দেশজননীর দুর্গামূর্তিধ্যান একশ্রেণির মুসলিমের আপত্তির কারণ হয় ও এই আপত্তি অনেক অমুসলিম বুদ্ধিজীবী ও নেতার সমর্থনও পায়। ‘বন্দে মাতরম’ বিরোধিতার এই আন্দোলনে অবশ্যই মূল প্রেরণা ছিল মুসলিম লিগের রাজনীতি। মাদ্রাজ ব্যাবসা পরিষদে শেখ মহম্মদ লালজান নামে এক সদস্য বললেন, ইসলামকে অপমান করবার জন্যই ইসলাম বিরোধী হুংকাররূপে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হয়ে থাকে। মুসলিম লিগ লখনউতে ‘বন্দে মাতরম’ ইসলাম বিরোধী, এই মর্মে এক প্রস্তাব গ্রহণ করল, যা উত্থাপন করেন বাংলার মৌলানা আক্রাম খাঁ। আবার স্বদেশি আন্দোলনের সময় জনসভায় কোরান ও অন্যান্য গ্রন্থ থেকে আলোচনা করে তিনিই বলেছিলেন ‘বন্দে মাতরম’ ইসলামিক ধর্ম ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। এর কৈফিয়ৎ হিসেবে আক্রাম খান জানালেন, স্বদেশীযুগে উৎসাহের আবেগ এবং অবজ্ঞায় মুসলিমরাও হিন্দুদের সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ ধবনি দিয়েছে, বুদ্ধি ও চেতনাসম্পন্ন দায়িত্বশীল কোনো মুসলিমের পক্ষে আজ আর এ গানে যোগ দেওয়া অসম্ভব নয়।

মুসলিম রাজনীতির ভেতরের কথা জানা যায় জাতীয়তাবাদী লেখক ও দেশসেবী ডা. রেজাউল করিমের স্মৃতিচারণে :

… বেশ পরিষ্কার ভাবেই বোঝা যেত, লিগ চায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একটা কাউন্টার মুভমেন্ট। আমার বেশ মনে পড়ছে এ কথাটা আমি মৌলনা আক্রাম খাঁর মুখেই শুনেছিলাম। … তাঁরা সবাই জিন্নাসাহেবের কাছে উপস্থিত হয়ে … নানা অভিযোগ লিখতে লাগলেন। … একজন লিগ নেতা বলে উঠলেন, ‘আর একটা আপত্তিকর জিনিস আছে—সেটা হল বন্দে মাতরম।’ তখন জিন্না সাহেব বলে উঠলেন—’বন্দে মাতরম’ কেয়া চিজ হ্যায়? তখন জিন্না সাহেবকে জানালেন ‘বন্দেমাতরম’ এমন একটা গান যা মুসলমান সমাজকে হিন্দু সমাজের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত করে তুলবে। এ গানের কথা প্রচার করে আমরা দেশব্যাপী লিগের ঝান্ডা ওড়াব। …

এসবেরই পরিণতিতে কংগ্রেস নেতারা জাতীয় সংগীত হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’-এর অঙ্গচ্ছেদে প্রস্তাব নিতে বাধ্য হন ও দেশব্যাপী তুমুল বিক্ষোভ আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। এসময় কংগ্রেস নেতারা রবীন্দ্রনাথেরও মতামত গ্রহণ করেন। এক সময় ‘বন্দে মাতরম’ দেশবিদেশে নানাস্থানে রবীন্দ্রনাথ নিজেই গেয়েছেন, বিপিন পালের মতোই মনে করতে চেয়েছেন ‘বন্দে মাতরম’ বিশ্বমাতার বন্দনা, কিন্তু পরে তিনি ক্রমশ এই ভাবধারা থেকে সরে আসেন, অসহযোগ আন্দোলনের সময় স্বীকার করেন যে ‘কর্তারা’ বাঁশি ছেড়ে লাঠি ধরার হুকুম দিলেও সবার ওপরে এক ‘বাঁশিওয়ালা মিতা’ আছেন—”আমায় বন্দেমাতরং ভুলিয়েছেন ঐ তিনি! …

১৯৩৭ সালে অবশ্য নেহরু প্রমুখ কংগ্রেস নেতার সঙ্গে আলোচনার পর বন্দে মাতরম জাতীয় সংগীত হতে পারে কিনা সে সম্পর্কে সংবাদপত্রে রবীন্দ্রনাথ যে বিবৃতি দেন তাতে তিনি এর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অভিযোগ স্বীকার করেননি। তবে তিনি বিশেষ ভাবে সুপারিশ করেন গানটির প্রথম স্তবকের ভক্তি ও কোমলতার ভাবের ও ‘ভারতমাতার সুন্দর রূপ বর্ণনার’। তাঁর পিতৃদেবের এক-ব্রহ্মবাদের প্রভাবে সমগ্র সংগীতটির প্রতি তাঁর যে ভালোবাসা ছিল না এ কথাও উল্লেখ করে রবীন্দ্রনাথ মুক্তিসংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’ ধবনির ভূমিকা ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করেন। সব মিলিয়ে রবীন্দ্রনাথের সমর্থন অবশ্যই কর্তিত সংগীতটির প্রথম স্তবকের দিকেই :

… কিন্তু আমি অনায়াসে স্বীকার করি যে, বঙ্কিমচন্দ্রের সমগ্র ‘বন্দে মাতরম’ সংগীতটি যদি উহার অন্যান্য ইতিহাসের সহিত পড়া যায় তাহা হইলে উহার এমন অর্থ করা যায় যাহার ফলে মুসলমানদের মনে আঘাত লাগিতে পারে, কিন্তু এই জাতীয় সংগীত যদিও সমগ্র সংগীত হইতে গৃহীত দুইটি প্যারা মাত্র, তথাপি উহা যে কেন সমগ্র সংগীতের কথা স্মরণ করাইয়া দিবে, তাহার যুক্তিসংগত কোনো কারণ নাই। উহার সম্পূর্ণ স্বাতন্ত্র্য আছে এবং উহার নিজস্ব এমন একটা উদ্দীপনাময় বৈশিষ্ট্য আছে যাহা আমার মনে হয় কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মনে আঘাত করে না। [ আনন্দবাজার পত্রিকা, ৩০.১০.১৯৩৭ ]

‘বন্দে মাতরম’ সংগীত দুর্গামূর্তির রূপকল্পই যে রবীন্দ্রনাথের বিশেষ আপত্তির কারণ সেটা বোঝা যায় সুভাষচন্দ্রকে লেখা তাঁর এইসব মন্তব্য থেকে :

বন্দে মাতরম গানের কেন্দ্রস্থলে আছে দুর্গার স্তব এ কথা এতই সুস্পষ্ট যে এ নিয়ে তর্ক চলে না। অবশ্য বঙ্কিম এই গানে বাংলাদেশের সঙ্গে দুর্গাকে একাত্ম করে দেখিয়েছেন, কিন্তু স্বদেশের এই দশ-ভুজামূর্তিরূপের যে পূজা যে -কোনো মুসলমান স্বীকার করে নিতে পারে না। … আনন্দমঠ উপন্যাসটি সাহিত্যের বই, তার গানের সুসংগতি আছে। কিন্তু যে রাষ্ট্রসভা ভারতবর্ষের সকল ধর্মসম্প্রদায়ের মিলনক্ষেত্র সেখানে এ গান সার্বজনীন ভাবে সংগত হতেই পারে না। … (১৯.১০.৩৭)

এ সময় ‘শ্রীহর্ষ’ পত্রিকায় লেখা একটি প্রবন্ধের সূত্রে এনিয়ে বুদ্ধদেব বসুর সাথে রবীন্দ্রনাথের পত্রালাপ হয়। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে লেখেন :

… বন্দে মাতরম ব্যাপারটা নিয়ে বাঙালি হিন্দুসমাজে যে উন্মত্ত বিক্ষোভের আলোড়ন উঠেছে আমার বুদ্ধিতে এ আমি কখনো কল্পনাও করিনি। … স্লোগানের কথা উল্লেখ করেছে, …তর্কটা হচ্ছে এ নিয়ে যে ভারতবর্ষে ন্যাশনাল গান এমন কোনো গান হওয়া উচিত যাতে একা হিন্দু নয় কিন্তু মুসলমান খ্রিস্টান—এমনকি ব্রাহ্মও—শ্রদ্ধার সঙ্গে, ভক্তির সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। তুমি কি বলতে চাও, ‘ত্বংহি দুর্গা’, ‘কমলা কমলদল বিহারিণী’ ‘বাণীবিদ্যাদায়িনী’ ইত্যাদি হিন্দু দেবীনাম ধারিণীদের স্তব, যাদের ‘প্রতিমা পুজি মন্দিরে মন্দিরে,’ সর্বজাতিক গানে মুসলমানদের গলাধঃকরণ করতেই হবে? … যাদের ধর্মে প্রতিমাপূজা নিষিদ্ধ তাদের কাছে আইডিয়ার দোহাই দেবার কোনো অর্থই নেই। … (১৮.১২.৩৭)

এর জবাবে বুদ্ধদেব বসু তাঁকে জানান যে, ‘বন্দে মাতরম’ গানটি সমগ্রভাবে ‘অহিন্দু ভারতের একেবারেই অযোগ্য’, ‘ত্বংহি দুর্গা’ প্রভৃতি পঙক্তি প্রগতিপন্থী হিন্দুরও গ্রহণযোগ্য নয়, সমস্ত রচনাটির মধ্যে ‘বন্দে মাতরম’ বাক্যটিই শুধু মূল্যবান ইত্যাদি। যাই হোক ‘বন্দে মাতরম’-এর অঙ্গচ্ছেদ অনেককেই ব্যথিত করেছিল, দিলীপকুমার রায় লিখেছেন ‘বন্দে মাতরম’-এর এই অবমাননায় আমরা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। …” রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথেরই মতো ব্রাহ্মসমাজভুক্ত হলেও, তিনি লেখেন :

… গানটি যে মুসলমান বিদ্বেষ প্রসূত বা মুসলমান বিদ্বেষজনক নহে সে বিষয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই, মুসলমানদের নিন্দা ইহাতে দূরে থাক ইহাতে মুসলমানদের উল্লেখ পর্যন্ত নাই। বরং ইহাতে মুসলমানদিগকেও মাতৃভূমির সন্তান বলিয়া ধরিয়া জন্মভূমি যে সংঘশক্তিতে বলিয়সী তাহাই বলা হইয়াছে। … [ অগ্রহায়ণ, ১৩৪৪]

অঙ্গচ্ছেদের প্রস্তাব নেবার পর কলকাতার কংগ্রেস অধিবেশন উদবোধন করে জওহরলাল নেহরু বলেন, অনেক ভেবেচিন্তেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গানের শেষাংশে যেসব পৌরাণিক উপমা ও আদর্শ রয়েছে তা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর পক্ষে গ্রহণ করা অসম্ভব। রবীন্দ্রনাথের ভাগিনেয়ী, ‘বন্দে মাতরম’-এর অন্যতম সুরকার দেশনেত্রী সরলাদেবী চৌধুরাণীরও কিন্তু ‘বন্দে মাতরম’-এর অঙ্গহানি পছন্দ হয়নি,—”আজ কংগ্রেস High Command থেকে কাটাছাঁটা ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার হুকুম বেরিয়েছে। তা হোক। হালফ্যাশানের ছাঁটা কুন্তলেও ‘বন্দে মাতরম’ তার তেজ ও দীপ্তিরসে ঢলঢল করছে।” [ জীবনের ঝরাপাতা ]। এখানে বলে নেওয়া যায়, নানা যুগে ‘বন্দে মাতরম’ সংগীতের সুরকার ও গায়কের তালিকায় আছে প্রিয়নাথ কথক, ক্ষেত্রনাথ মুখোপাধ্যায়, যদুনাথ ভট্টাচার্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে ওঙ্কারনাথ ঠাকুর, শ্রীমতী শুভলক্ষ্মী, দিলীপ কুমার রায়, তিমিরবরণ প্রভৃতি অনেক ভাস্কর নাম।

‘বন্দে মাতরম’ সংগীত সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্ম অবশ্য তত সচেতন নন, এটা তাদের কাছে অনেকটা ইতিহাসের সামগ্রী। তবু এদেশের সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন মুসলিম বুদ্ধিজীবীরা সম্ভবত কেউই আর ‘বন্দে মাতরম’কে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক গান বলে মনে করেন না। অতীত যুগের ড. রেজাউল করিম আজও আমাদের মধ্যে আছেন, তাঁর মতে দেশকে মাতারূপে বন্দনা করা কখনোই ইসলামবিরোধী ব্যাপার নয়, ‘বন্দে মাতরম’ এর আদর্শ ও তাই ইসলামের কাছে দূষণীয় হতে পারে না। বরং দেশকে দুর্গারূপে কল্পনা করতে অনেক হিন্দুরই আপত্তি হবে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর মতে একজন প্রথম শ্রেণির সাহিত্যিক, স্বদেশ প্রেমে উদবুদ্ধ হয়ে একটা রূপক গ্রন্থ লিখেছেন, সেটা নিয়ে এত মাতামাতির কি কারণ থাকতে পারে? একটা গান গাইলেই কি কোনো ধর্মের আদর্শ নষ্ট হয়? তার মতে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে আর কোনো বিরোধ নেই, একদা যে আন্দোলন হয়েছিল তা ছিল মুসলিম লিগের পরিকল্পিত ব্যাপার, যাতে ইন্ধন যুগিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।

শিক্ষাব্রতী অধ্যাপক এ ডবলু মাহমুদ মনে করেন, পৌত্তলিকতা বড়ো আর্টের একটি উৎস, দেশকে দেবী হিসেবে বন্দনা করলে যে কারও ধর্মচেতনা আহত হতে পারে, তা তিনি ভাবতেই পারেন না। আনন্দমঠ বইটি পড়লে অবশ্য মুসলিম পাঠক ক্ষুব্ধ হতে পারেন এরকম মনে করলেও অধ্যাপক মাহমুদের মতে এটি একটি উৎকৃষ্ট উপন্যাস, যা ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ‘বন্দে মাতরম’-এর কাব্যগুণ ও সংগীতময়তা অপূর্ব বলেই তিনি মনে করেন। আধুনিক মুসলিম সাহিত্যিকদের মধ্যে, অন্যতম আবদুল জাববার মনে করেছেন যে ‘বন্দে মাতরম’ যদি ‘নিপীড়িত হিন্দু চিত্তে’ পরাধীনতার শৃঙ্খলছিন্ন করতে প্রেরণা জোগায়, তবে তার যে একটা মূল্য আছে, সেটা মুসলমানদের স্বীকার করতেই হবে। কবিরুল ইসলাম মনে করেন, আনন্দমঠ-এ ‘যৎসামান্য ইন্ধন’ ছিল, কিন্তু সেটা শুভবুদ্ধি নিরপেক্ষ পাঠককে ক্ষিপ্ত করার মতো যথেষ্ট নয়। মুসলিম লিগের রাজনৈতিক প্ররোচনাতেই স্পর্শকাতর মূসলিমরা ভুল বুঝেছিল। তিনি মনে করেন, ওই দুঃসময়ে মাথা ঠিক রেখে রেজাউল করিম যা ভেবেছিলেন, সম্ভবত তাই ঠিক :

আনন্দমঠে স্বদেশপ্রীতির যে করুণ আবেদন রহিয়াছে, তাহা প্রত্যেক পাঠকের মর্মস্থল স্পর্শ করিবে। মুসলিম বিদ্বেষ তাহার নিকট বড়ো বলিয়া মনে হইবে না। [ ‘বঙ্কিমচন্দ্র ও মুসলমান সমাজ’ ]

‘বন্দে মাতরম’ সংগীতের কাব্যসুষমা সম্পর্কে অনেক পণ্ডিত ব্যক্তিই আলোচনা করেছেন ও করবেন। ড. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্তের একটি ইতালীয় সংগীতের কথা মনে হয়েছে বঙ্কিমের মাতৃকল্পনার পূর্ণ মাধুর্য উপলব্ধির জন্য। আবার সাধারণ মানুষের কাছে এর মূল্য অবশ্যই এর সঙ্গে জড়িত মুক্তি সংগ্রামের ভাস্বর অধ্যায়গুলোর জন্য। এ ছাড়া এর আলাদা আবেদন থাকতে পারে হয়তো আরও কিছু জনসমষ্টির কাছে লক্ষ্মী-সরস্বতী সহ মহিষমর্দিনী দশভুজা দুর্গার রাজসীরূপ যাঁদের চিত্তে ভক্তির তরঙ্গ তোলে। সব মিলিয়ে ‘বন্দে মাতরম’ সংগীতের স্থান যে অনন্য তা অস্বীকার করা যায় না। এই ‘বন্দে মাতরম’ সংগীত রচনার শতবর্ষে প্রয়াত মনীষী প্রবোধচন্দ্র সেন তাই সখেদে লিখেছিলেন যে এই শতবর্ষ পূর্তির কথা :

আত্মকলহে মত্ত বাঙালি যেন ভুলেই গেছে। প্রতি বছর কত রকম শতবার্ষিক উৎসব অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু এই জাতীয় জাগরণ মন্ত্রের শতবর্ষ পূর্ণ হল উপেক্ষা ও নীরবতার মধ্যে।

উল্লেখপঞ্জি :

১. মুক্তির সন্ধানে ভারত : যোগেশচন্দ্র বাগল

২. ভারত পথিক রবীন্দ্রনাথ : প্রবোধচন্দ্র সেন

৩. জীবনের ঝরাপাতা : সরলাদেবী চৌধুরাণী

৪. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচনাবলি : ২য় সম্ভার (বঙ্কিমচন্দ্র)

৫. রবীন্দ্রনাথ ও সুভাষচন্দ্র : নেপাল মজুমদার

৬. ‘ভূমিকা’ : সদানন্দ ভট্টাচার্য

আনন্দমঠ, ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩

৭. ‘শতবর্ষের আলোয় বন্দে মাতরম’ : মানস ভট্টাচার্য,

যুগপত্র, ১৬ জুন, ১৯৮১

৮. ‘আনন্দমঠ : শতবর্ষের আলোয়’ : বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়,

পরিবর্তন ; ১১ আগস্ট ১৯৮২

৯. ‘শতবর্ষের আলোকে আনন্দমঠ’ : গোপালচন্দ্র রায়

দেশ, ৩ জানুয়ারি ১৯৮৩

১০. ‘বন্দে মাতরম : শতবর্ষ’ : অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য

দেশ, ১৪ আগস্ট ১৯৭৬

১১. ‘বন্দে মাতরম বিষয়ক রচনা’

আনন্দবাজার পত্রিকা, সুবর্ণ জয়ন্তী সংখ্যা ক্রোড়পত্র, ১৯৭১

১২. ‘হিন্দুত্ব নয়—মানবতা’ : আবদুল জববার

পরিবর্তন, ২৬ জানুয়ারি ১৯৮৩

১৩. ‘শেক্সপীয়র তা হলে ইহুদি বিদ্বেষী’ : কবিরুল ইসলাম

পরিবর্তন, ২৬ জানুয়ারি ১৯৮৩

১৪. এ. ডবলু মাহমুদের সাক্ষাৎকার : লাডলীমোহন রায়চৌধুরী

পরিবর্তন, ২৬ জানুয়ারি ১৯৮৩

১৫. ড. রেজাউল করিমের সাক্ষাৎকার : শিখারাণী কুণ্ডু

পরিবর্তন, ১১-১৭ ডিসেম্বর ১৯৮৫

১৬. ‘বন্দেমাতরমে’র ঢেউ বিদেশের তটে : শিশির কর

‘রবিবাসরীয়’, আনন্দবাজার পত্রিকা, ৩০ জানুয়ারি ১৯৭৭

১৭. ‘বাঙলা, বাঙালি ও গান্ধিজি’ : ভবানীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

দেশ, ১৮ আশ্বিন ১৩৭৬

১৮. ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : বুদ্ধদেব বসু পত্রাবলি’

দেশ, সাহিত্যসংখ্যা ১৩৮১

১৯. সংবাদ ও প্রবন্ধাবলি

অমৃতবাজার পত্রিকা, ২৯-৩০ অক্টোবর, ১৯৩৭

২০. তীর্থঙ্কর : দিলীপকুমার রায়

২১. ‘অরবিন্দের দৃষ্টিতে বঙ্কিমচন্দ্র’ : আদিত্যপ্রসাদ মজুমদার

দেশ, সাহিত্যসংখ্যা, ১৩৮১

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *