ঋগ্বেদ ১০।১৪২

ঋগ্বেদ ১০।১৪২
ঋগ্বেদ সংহিতা ।। ১০ম মণ্ডল সূক্ত ১৪২
অগ্নি দেবতা। জরিতা প্রভৃতি চারপক্ষী, প্রত্যেকে দুই দুই ঋকের ঋষি।

১। হে অগ্নি! এই জরিতা তোমার স্তবকর্তা হইয়াছেন। হে বলের পুত্র! তোমার ন্যায় আত্মীয় কেহ নাই। তোমার বাসস্থান সুন্দর, তাহার তিনটা প্রকোষ্ঠ। তোমার উত্তাপে দগ্ধ হইতেছি, তোমার উজ্জলশিখা আমা দিগের নিকট হইতে দূরে লইয়া যাও।

২। হে অগ্নি! অন্ত কামনা বশত তুমি যখন উৎপন্ন হও, তখন তোমার উৎপত্তি কি সুন্দর। তুমি বন্ধুর ন্যায় সকল ভুবন বিভূষিত কর। ইতস্ততোগামী শিখাগুলি আমাদিগের স্তবের উদয় করিয়া দিয়াছে, তাহারা পশুপালকের ন্যায় আপনা হইতেই অগ্ৰে অগ্রে যাইতেছে।

৩। হে দীপ্তিশালী অগ্নি! তুমি যখন দাহ কর, তখন অনেক তৃণ আপন হইতে ত্যাগ করিয়া যাও। হয়ত, তুমি শস্যযুক্ত ভূমিকে শস্য শূন্য করিয়াফেল। আমরা যেন তোমার প্রবল শিখার কোপে পতিত না হই।

৪। যখন তুমি উপরিস্থিত ও নিম্নস্থিত বসুদিগকে দগ্ধ করিতে যাও, তখন লুন্ঠনকারী সৈন্যদিগের ন্যায় পৃথক পৃথকরূপে গমন কর। যখন বায়ু তোমার পশ্চাৎ বহিতে থাকে, তখন তুমি বিস্তর প্রদেশ তেমনি মুণ্ডন করিয়া দেও, যেমন নাপিত লোকের শ্মশ্রু মুণ্ডন করিয়া দেয়(১)।

৫। এই অগ্নির অনেক শিখা দৃষ্ট হইতেছে। ইহার গন্তব্য স্থান এক, কিন্তু রথ অনেক। হে অগ্নি! তুমি যেন দুই বাহু মার্জনা করিতে করিতে স্বয়ং নম্রমূৰ্ত্তি হইয়া উর্ধ ভূমিতে আরোহণ কর।

৬। হে অগ্নি! তোমাকে স্তব করা যাইতেছে; তোমার তেজঃ, তোমার শিখা, তোমার বলবিক্রম উদয় হউক, তুমি বুদ্ধি প্রাপ্ত হও, উর্ধে গমন কর, নিম্নে নামিয়া এস। তোমার চতুর্দিকে এক্ষণে তাবৎ বসু উপবেশন করুক।

৭। এই স্থান জলের আধার, এই স্থানে সমুদ্র অবস্থিত আছেন, হে অগ্নি! তুমি আর এক পথ ধর, সেই পথ দিয়া যথা ইচ্ছা যাও।

৮। হে অগ্নি! তুমি আগমন করিলে, অথবা প্রতিগমন করিলে বিস্তর পুষ্পবতী দূর্বা এই স্থানে উৎপন্ন হউক। এই স্থানে হ্রদ আছে, শ্বেত পদ্ম আছে, সমুদ্রের অবস্থিতি আছে।

————

(১) এই ঋকে লুন্ঠনকারী সেনার উল্লেখ আছে ও শ্মশ্রুমুন্ডনকারী নাপিতের উল্লেখ আছে।