ঋগ্বেদ ১০।১০৯

ঋগ্বেদ ১০।১০৯
ঋগ্বেদ সংহিতা ।। ১০ম মণ্ডল সূক্ত ১০৯
বিশ্বেদেবা দেবতা। জুহু ঋষি।

১। যখন বৃহস্পতি ব্রহ্মকিল্বিষ প্রাপ্ত হয়েন, অর্থাৎ তিনি আপন পত্নী জুহুকে ত্যাগ করেন, তখন সূর্য, বরুণ, শীঘ্রগামী বায়ু, প্রজ্বলিত অগ্নি, সুখকর সোম, জলের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা এবং স্বত্যস্বরূপ প্রজাপতির আর আর অগ্রজ সন্তান বলিলেন।

২। সোমরাজা কিছুমাত্র লজ্জিত না হইয়া পবিত্র চরিত্ৰশালিনী ভাৰ্যাকে সর্বপ্রথম সমৰ্পণ করিয়াছিলেন। মিত্র ও বরুণ সেই বিষয়ের অনুমোদন করিলেন। হোমকর্তা অগ্নি হস্তে ধারণপূর্বক পত্নীকে আনিয়া দিলেন।

৩। “এই পত্নীর দেহ হস্ত দ্বারাই স্পর্শ করা কর্তব্য, ইনি যথাবিধানে পরিণীত পত্নী।” এই কথা তাঁহারা কহিলেন। যে দূত পাঠান হইয়াছিল, ইনি তাহার প্রতি আসক্ত হন নাই। যেরূপ বলবান রাজার রাজ্য সুরক্ষিত হয়, তদ্রূপ ইহার সতীত্ব রক্ষা হইয়াছে।

৪। যে সপ্তঋষি তপস্যায় প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন, তাহারা এবং প্রাচীন দেবতারা এই পত্নীর বিষয়ে কহিয়াছেন। ইনি অতি শুদ্ধ চরিত্রা, স্তোতাকে বিবাহ করিয়াছেন। তপস্যা ও সচ্চরিত্রতা প্রভাবে নিকৃষ্ট পদার্ও পরমধামে স্থাপিত হইতে পারে।

৫। বৃহস্পতি পত্নী অভাবে এক্ষণে ব্রহ্মচর্য নিয়ম পালন করিতেছেন, তিনি সকল দেবতার সঙ্গে একাত্ম হইয়া তাঁহাদিগের অবয়ব বিশেষ হইয়াছেন। তাহাতে তিনি পুর্বে যেমন সোমের হস্তে পত্নী পাইয়াছিলেন, তজ্জপ এক্ষণেও পুনর্বার সেই জুহু নামক পত্নীকে প্রাপ্ত হইলেন।

৬। দেবতারা আবার তাহাকে পত্নী আনিয়া দিলেন; মনুষ্যেরাও আনিয়া দিলেন। রাজারা শপথপূৰ্বক, শুদ্ধচরিত্রা পত্নী তাঁহাকে পুনর্বার সমর্পণ করিলেন।

৭। শুদ্ধচরিত্রা পত্নীকে পুনর্বার আনিয়া দিয়া দেবতারা বৃহস্পতিকে অপাপ করিলেন। পরে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ অন্ন সমস্ত ভাগ করিয়া সৰ্ব্ব সুখে অবস্থিতি করিতেছেন (১)।

————

(১) এ সূক্তের মর্ম গ্রহণ করিতে পারিলাম না। সূক্তটি অপেক্ষাকৃত আধুনিক তাহার সন্দেহ নাই, এবং অনেক আধুনিক সূক্তের ন্যায় গূঢ়ভাবে বিজড়িত। ইহাতে যে ব্রহ্মচারিত্বের কথা আছে, ঋগ্বেদের প্রথম অংশসমূহে সে কথার কনও উল্লেখ নাই। বৃহস্পতির স্ত্রীর সতিত্ব সম্বন্ধে  সন্দেহভাজনই এই সূক্তের বিষয়।