১১
১২
১৩
১৪
১৫
3 of 4

১২১. যোগেন দুর্যোগে যায়

১২১. যোগেন দুর্যোগে যায় 

শাদির বাড়ি থেকে নাকেমুখে গুঁজে ছুটতে ছুটতে যোগেন মৈস্তারকান্দির ঘাটে উঠে কানাইকে ডাকে। বলে, ‘দ্যাখ তো কেউ যাবেনি? 

‘যাবা কুথায়?’ 

‘যাব তো বরিশাল। কিন্তু স্যায় কইলে তো কেউই আগাম যাব না। সত্যি কথাডা কইস–যাবে তো বরিশাল, আপনে যদ্দুর পারেন, তদ্দুর যাইয়্যা নামাইয়্যা দিবেন—উজিরপুর, কী মুলাদি কী বাবুগঞ্জ। আর যদি দেহি লঞ্চ-স্টিমার লাইন বন্ধ হয় নাই, তাইলে ফিরাও আইসব হয়ত। 

‘আমার মুখ থিক্যা এত কথা কেউ শুনব মাঝিরা?’ আমি ডাইক্যা দেই, তুমিও কও।’ যোগেন দাঁড়িয়ে থেকে বলে, – 

‘দে। কিছুড়া কথ্যা নিস। বাকিডা আমি কব নে।’ 

কিন্তু কানাইয়ের নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে দ্বিধাই কাজে লাগল। সে প্রথমে যাকে বলল, সে-ই রাজি হল। রাজি হল, শুধু তাই নয়, সে বলল, ‘ক্যা? যামু না ক্যা?’ 

একজন রসিকতাও করে, ‘অ না-যায় তো আমি যাব।’ প্রথম যে রাজি হয়েছিল সে নাকী সেই ছোটমাঝি যে বছর তিন আগে, ইলেকশন জেতার দুই না এক রাত্তির পর, যোগেনকে মৈস্তারকান্দি নিয়ে এসেছিল। রাত্তিরবেলা। সে এখন পুরো মাঝি। যোগেন বলে, ‘শুনো বাপধন, যতটুকু যাইতে তোমার সাধ ঠিক ততটুকু যাইব্যা। আমি নাইম্যা যাইব।’ 

‘সে হবে ক্যামনে? আপনারে কোনো ভাল-মানুষের কাছে গস্ত না কইর‍্যা ফিরলে তো আমারে পাবলিকও পিটাইবে পুলিশও পিটাবে। চলেন-না। এতডা ভাবার কিছু নাই।’ 

‘আর-এডডা কথা ছোটমাঝি। আমার ত্রিকট টাকা বেশি নাই। তোমার পুরা মঞ্জুরি হব্যার ও পারে, নাও পারে। যদি নাই হয় তালি তোমারে আমি পাঠাইয়্যা দিব—’ 

‘অত ভাবনের কিছু নাই। পাঠাইবেন ক্যামনে? আমার নামও নাই, ঠিকানাও নাই। যহন আইসবেন, নিয়্যা অ্যালেও হবে—’  

নৌকা ঠিক হয়ে যাওয়ার পর যোগেন কানাইকে বলে, এতই যদি সেবা দিলি, নাওডারে এড্‌ডু ঠেইলা দে— 

‘কত্ত, কী দিয়া ঠেলা লাইগব? কদ্দূর ঠেলা লাইগব?’ 

‘নোর পারা বাড়ি যা—’ 

‘গিছি, ধরো—’

‘ঢুইকতে-ঢুইকতে চিক্কুর দে—’  

‘ঢুইকছি তো—চিক্কুর কী দিব?’ 

‘ছোড়াদাদা এতক্ষণ বরিশাল রওনা দিয়্যা সাইরছে—’  

‘দিছি চিক্কুর। তা চিক্কুর ক্যান?’ 

‘সবাই যাতে একসঙ্গে শুনে, বারে বারে কইব্যার লাগে না।’ 

‘হয়। এক চিক্করেই বেবাক শুইনল’। 

‘আমার বাপ যেহানে শুইয়্যা তার পায়ের কাছে এক বেতন পাবি!’ 

‘পাইল্যাম—পাচনের না কেরাসিনের? 

‘পাচন। তার বাদে আমার বাবারে পাঁজাকোলা কইর‍্যা তুইল্যা আনবি—’ 

‘বোতল?’ 

‘সে এড্ডা কুথাও ঝুলাইয়্যা নিস—’ 

‘নিল্যাম, জ্যাঠা আর বোতল। ঘাটে পৌঁছিব?’ 

‘না রে। ঘাটে অ্যাসার যাত্রা দে।’ 

‘দিল্যাম তো—’ 

‘যাত্রাকালে যোগামার কাছ থিক্যা আমার পাঞ্জাবিটা নিয়্যা আইসবি কান্ধে ফেলাইয়া–’

‘কাঁধে যদি জ্যাঠা না ঝুল্যা থাহে—’ 

‘থাইগলে জ্যাঠার উপর ফেল্যায়্যা দিবি।’

‘দিল্যাম। এইবার যাত্রা করি।’ 

‘কর্ যাত্রা। বারাব্যার কালে তোর বৌদিরে আর ভাইয়ের ব্যাটারে টান দিয়া আন। ঐ তিনগ খাড়বাড়ি নামাইয়া দিব।’ 

‘সে তো আমি না। তুমি দিব্যা?’ 

‘তুই নাওয়ে ধাক্কা না দিলে আমি নামাইব কী?’ 

‘তাইলে আমি যাইগা, ওয়ান-টু-থ্রি, নোর দিল্যাম কিন্তু। পাছু ডাইকো না য্যান!’ ছোটমাঝি একজনকে সঙ্গে নিয়েছে, তারই বয়েসি। 

যোগেন কোন নদী-খাল-দোন দিয়ে যাবে, একটু ভেবে নিতে চায়। মাঝি বুড়ো হলে এই সুবিধে, পথ তার জানা থাকে, আপদের পথ ও বিপদের পথ দুইই। ছোটমাঝির তো না-জানলেও স্বীকারে লজ্জা। আর, যোগেন তো এখনো কোনো আন্দাজ পায় না—ঘরের চালার ওপর দিয়ে বওয়া এই এক রাত্রি পুরনো ঝড়ের। 

যোগেনের বাবা তো টানটান হয়ে হেঁটেই আসছে। কাল না শ্বাস উঠছিল। পেছনে কমলা। যোগেনের পাঞ্জাবিটা কানাই পরে নিয়েছে আর জগদীশকে তুলেছে কাঁধে। পাচনের বোতল কয়লার হাতে। ওরা নৌকোয় বসার পর যোগেনের পাঞ্জাবিটা খুলতে খুলতে কানাই বলে, ‘গায়ে তো একডা শাহেবগ নাগাল শাট, পিরানডা রাইখ্যা গেলেই হইত।’ 

নৌকো থেকে নামতে কানাই একটা ঝাঁকি দেয়, তাতেই নৌকা ঘাট ছাড়ে।

যোগেনের বাবা জিজ্ঞাসা করে, ‘আমাগ নিয়্যা বরিশাল ক্যান রে?’ 

‘তোমাগ তো খাগবাড়ি নামাইয়া যাব। মৈস্তারকান্দিতে কে কারে দেখব। শ্বশুরমশায়ের বাড়ি নিরাপদ তো বেশি।’ তারপর কমলাকে বলে, ‘কবরাজমশায়ের ওষুধড়া সকালে দুই মুখটি আর রাত্তিরে দুই মুখটি খাওয়াবার লাগব। শ্বশুরমশায় রে কইয়ো ওষুধ শ্যাষ হইলে—ছোট-কবরাজ মশায়ের নগদে দেখা কইর‍্যা অবস্থা জানাইব্যার। টান কমছে, কাশি কমছে, কী না। শ্লেষ্মা শাদা না হলুদ। দুর্যোগ কাইট্যা রোদ্দুর উইঠলে বাবারে এডডু রোদদুরে বসাইয়া রাইখো।’ 

এইসব বলাবলিতেই খাগবাড়ির ঘাট। যোগেন জগদীশকে বুকে নিয়ে নামে। যোগেনের বাবাকে ছোটমাঝির সঙ্গী একেবারে পাঁজাকোলে পাড়ে তুলে দিয়ে আসে। কমলা পাঁচনের বোতল ঝুলিয়ে নামে। মাঝি আবার নৌকায় ফিরে আসে। যোগেন জগদীশকে পাড়ের ওপরে কমলার কোলে দিয়ে ঘাটে নেমে নৌকোয় ওঠে। এই নৌকা, পাড়, ঘাট ওঠানামায় কমলা একবার জিজ্ঞাসা করে, ‘আপনা যান কৈ?’ যোগেনের উত্তর শুনতে পায় না। 

নৌকোটা ঘাট ছাড়ল দেখে কমলা ভাবে, জবাবটা কি তারই শোনা হল না। না কী জব দেন নাই। নাকী কমলাই জিগ্যায় নাই, ভাবছিল জিগ্যাইবে। 

যোগেন দাঁড়িয়েই ছিল গলুইয়ে। দু-চোখ জ্বলছে—সারারাত জাগা। কবে যেন এল মৈস্তারকান্দি? কাল সকালেই তো? আজ বারটা কী? কলকাতা-ছাড়া ক-দিন? 

এসব কথা তার মনে উঠছিল বটে কিন্তু কোনোটারই উত্তর সে খুঁজছিল না। সেই কথাটাও মনে এল, যেটার কথা এখনই তাকেও জানতে হবে, মাঝিদেরও জানাতে হবে। যাচ্ছে কোথায়? বরিশাল তো একটা কথার কথা। খুলনাও বলতে পারত। মানে, যেসব জায়গায় মানুষের যাতায়াত আছে। যোগেন তো জানেই না—কোন্ পথ খোলা, কোন্ পথ আটকা, মাঝিদের শুধু বলে, ‘খালে পইড়্যা, নামতে থাকো তো, যেহানে ঠ্যাকরা সেহানে থামবা। কুনো তাড়া নাই। কুনো মাঝিগিরি দেখাইব্যা না।’ 

সদর খাল দিয়ে খানিকটা নামলেই কাণ্ডকারখানা কী বোঝা যাবে। নিজেকে একটু কম-চালাক না-ভাবতে যোগেন যেন কৈফিয়তের মত করে ভাবে—এগতে না-পারলে ফেরত আসার পথ তো খোলাই—এই কথা মনে নিয়ে বেরনো ঠিক না। ফেরথপথ তখন খোলা থাকতে নাও পারে। যেখানে ঠেকবে, সেখানে তো মানুষজন থাকবে। তাদের কাছেই ঘটনা জানা যাবে। এই সবই তো যোগেনের আইনসভার ভোটের জায়গা। 

যোগেন দাঁড়িয়েই থাকে। আকাশের দিকে মুখ তুলে দেখে দুই মানুষের খাড়ার ওপর দিয়ে ছাইরঙা আকাশের নীচে সমুদ্রের ঝড় বয়েই চলেছে, যেন রোজই এমন বয়। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সহ্য করতে মানুষের কতক্ষণ লাগে? তিন ডুব দিলেই ডুবে মরে। একটু বেখেয়াল হয়ে নদীর গর্তে হাত ঢুকিয়ে মাছ ধরতে গেলে কুমিরের এক টানে পাতাল। হাঙর তো টানেও না, ঘুপটি মেরেও থাকে না, স্রোতের যতটুকু ভিতর পর্যন্ত তোমার চোখ যায়, ঠিক তার নীচের জল দিয়ে তীরের মত আসে। এমনিতে হেঁটে যাচ্ছ, যেমন যাও, মাঠ ভেঙে আল ভেঙে, একটা কিছু পায়ে দংশন করল। পায়ের দংশন কি বোঝা যায়? পরের নদীর পাড়ে পৌঁছুতে-পৌঁছুতে পেল ঘুম। অত চেনা নদীর পাড়ে শুয়ে পড়লে ঘুমাতে। শকুল দেখতে পায় সেই ঘুম যা আর ভাঙে না। ভাম গন্ধ পায় মাংসের যার ভিতরে রক্ত আর বয় না। পৃথিবীর কেউ জানতেও পারল না, তুমি আর বেঁচে নেই। আর দুদিন বললেই তো মনে হবে—এ হাওয়া যেন রোজই বয়। 

যোগেনের কি এই সাতসকালেই মৈস্তারকান্দি ছাড়া দরকার ছিল? তেমন দরকার কিছু ছিল না। থাকার দরকারও ছিল না। মাথা-বাঁচানোর উপায় তো সে করে এসেছে। হ্যাঁ। তার বাড়িতে তো সেই থাকতে পারত না। কোথায় থাকত? এই বিপদের মুখে সে কি বাপ-ছেলে-বৌ নিয়ে মৈস্তারকান্দি ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকত? এটা তো যোগেনের নির্বাচনক্ষেত্র। এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো দুর্যোগের খবর যদিও আসেনি, তবু, যোগেনকে তো সরাসরি জানতে হবে ঘটনা কি কিছু ঘটেছে। জানতে হবে—তার নিজের লোকজনের কাছ থেকে ও জিলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে। যদি তেমন কিছু কোথাও না হয়ে থাকে তাহলে ভাল তেমন কিছু না ঘটলে বরিশালে যাওয়ার তো কোনো বাধা নেই। কংগ্রেস অধিবেশনে আর কী হল সে-খবরও জানা যাবে, পড়া যাবে। প্রাণ-বাঁচাতে মৈস্তারকান্দি আর আটক থেকে ছাড় পেতে বরিশাল কলকাতা—এই নিয়ে নিজের ভিতরে সন্দেহের একটা পাকও দিয়ে তুলেছিল যোগেন। 

হাওয়া তো খালে বা নদীতে বাড়বেই। যোগেনের অনুমানে দুর্যোগের কথাটা এল কেন? আসবে না কেন? বরিশালের আকাশ, সমুদ্র, নদী, নালা, খালবিলের কোনো পাঁজিপুঁথি আছে না কী? বার ঘণ্টার ওপর এই এক হাওয়া চলছে। চলছে তো চলছেই। খাল, নদী, বিলের আকাশে এত বড়-বড় ফাঁক যেখান দিয়ে যখন যার ইচ্ছা সে-ই সমুদ্রের মাঝখান থেকে একেবারে শরিয়তপুরের মাথায় উঠতে পারে—কুমির, হাঙর, সাইকোলন, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস—কী না। আবার এও সম্ভব যে এটা একটা খামকা বাতাস। আবার আজ সন্ধ্যাতেই নেমে যাবে। তাও পশ্চিম বরিশাল হলে একটা কথা ছিল। ঐ দিকটায় সমুদ্রের খাঁড়িভুঁড়ি কম, ডাঙা থেকে নদী বা খাল সমুদ্রে গিয়ে পড়েনি। তাও আছে বিষখালি-বুড়ীশ্বর। সমুদ্রের ভিতর থেকে মহীরুহের মত খাড়া উঠে গেছে—ঝালকাঠি-বাকেরগঞ্জ। কিন্তু দক্ষিণ-পুব বরিশালকে বিশ্বাস কী? ভোলার চরে যদি বসতি না বসত, তাহলে সে তো সমুদ্রই। সেই পুবসমুদ্রের জোয়ারভাটা তো সব নদীখাল দিয়ে চাঁদপুরের পাড় ছোঁয়। ভোলা তো যোগেনের ভোটের জায়গা। 

ছোটমাঝির সঙ্গীকে যোগেন বলে, ‘মণি, এই তক্তাটা লম্বালম্বি পাইত্যা দ্যাও না। একডু শুই।’ ছোটমাঝিকে বলে, ‘নিজের বুদ্ধি খাটাইব্যা না। বিপরীত কিছু দেখলেই নৌকা ভিড়াইয়া আমারে ডাকবা।’ যোগেন সেই লম্বা করে পাতা তক্তাটায় নিজের কোঁচায় মাথা ঢেকে শুয়ে পড়ে। 

.

ছোটমাঝি যোগেনকে ডাকছিল, ‘কত্তা, কত্তা’। যোগেন ওঠে না দেখে আবার ডাকে, ‘মেম্বারশাহেব, মেম্বারশাহেব।’ তাতেও যখন যোগেন ওঠে না, তখন সে তার সঙ্গীকে ইঙ্গিত করে, যোগেনের পায়ে ধাক্কা দিতে। সঙ্গী রাজি হয় না। তাতে দুই মাঝি মুখে হাত চাপা দিয়ে হাসে। এতটা হাওয়া সত্ত্বেও তাদের শরীর ঘামে শপ শপ করছে। কোথাও-কোথাও তাদের হাওয়ার মুখোমুখি চালাতে হয়েছে। এতটা পরিশ্রমেও যোগেনের ঘুম ভাঙানোর খেলায় তারা মজা পায়। নৌকোটা পাড়ে লাগিয়েছে। ছোটমাঝির সঙ্গী একটা কাঠি তুলে নিজের নাকে ঢোকায়। দেখে, ছোটমাঝি পেটে হাত দিয়ে তার হাসি চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। সেই ছ্যামড়া কাঠির খোঁচায় হাঁচল বটে কিন্তু আওয়াজ তেমন হল না। মাথা থেকে কাপড় সরিয়ে যোগেন জিজ্ঞাসা করে, ‘কী হইছে রে?’ 

‘মুলাদি আইল তো। নাও ভিড়াইছি। লঞ্চ লাইন বন্ধ। লাল নিশান তুইল্যা দিছে। খবর নিব্যার চান তো—’ 

‘খাড়া, খাড়া,’ বলে যোগেন গলুইয়ের দিকে যায় ‘মুল্যাদি?’ বলে জুতোজোড়া পরে প্রথমে এই পাড়, তারপর উলটো পাড় দেখে। ওদিকে দুটো লঞ্চ নোঙর করা আর-একটা নিশান গোঁজা একটার মাথায়। গোলনৌকো দুটি আর কয়েকটা ছিপনৌকো পাড়ে বাঁধা। যোগেন আচমকা ঘুম থেকে উঠেছে বলেই তার যেন বিহ্বল লাগে। জলের দিকে তাকিয়েও জিজ্ঞাসা করে, ‘আড়িয়াল খাঁতে পড়ছি নাকি?’ 

ছোটমাঝি বলল, ‘সামনে, পড়ব, তাই তো আপনারে জিগাইব্যার লগে ডাইকলাম। ঢুকব কি ঢুকব না?’ 

যোগেন নীচে ঘাটে নামতে গিয়ে দেখে, নামার জায়গাটা পাড়ের তলা, থিকথিকে কাদা। সে বলে, ‘বাপ নৌকাডা এন্ড্রু ডাঙার দিকে ঠেল, নয় তো নামি ক্যামনে?’ 

বলা মাত্র সেই ছ্যামড়া মাটি জলে নেমে গেল, তার কোমরের কাছাকাছি জল। নৌকোটা ঠেলে একটু ঘোরাতেই গলুইটা ঘোরে। পাড়ের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে হাত তুলে যোগেন পেছনের ছেলেটিকে ‘খাড়া, খাড়া’ বলে লাফিয়ে পাড়ে পড়ে। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *