১০৯. সাতদিনের বিবৃতি যুদ্ধ
যোগেন কংগ্রেসের সঙ্গে কখনোই কোনো রাজনীতি করেনি, সে তো ভাল করে জানতই না রাজনীতি-করা কাকে বলে। তার ধারণা ছিল, লোক্যাল বোর্ডে, ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডে বা বড়জোর মিউনিসিসপ্যালিটির বোর্ডে ঢোকাটাই রাজনীতি। যোগেনদের পক্ষে সেটা একটা জয়ও বটে। কারণ, এই সব বোর্ডেও তো উঁচু জাতের লোকরাই বসে। এমএলএর ভোটে দাঁড়িয়ে, ভোট করে, ভোটে জিতে কলকাতায় এসে যোগেন প্রথম বুঝেছে রাজনীতির সরল অর্থটা কী? এক নম্বর, সারা দেশের নানা ব্যাপারে তোমার নীতিটা কী? দুই নম্বর, সেই নীতির পক্ষে তুমি কত লৈাক জমাতে পারো ও কত কাগজে লেখালেখি করতে পারো? তিন নম্বর, তোমার একটা রাজনীতি নিরপেক্ষ পরিচয় থাকা দরকার—প্রাক্তন বিচারপতি, বিখ্যাত ডাক্তার বা উকিল, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী। এই তিনটির কোনোটিই যদি তোমার না থাকে তবে তোমার মত বা নীতি ধুয়ে তুমি একাই জল খাও আর ঢেকুর তোলে।
যোগেন যে সেই সিনগুলো পর পর গেথেঁ পালা তৈরি করতে পারছে তার কারণ অজস্র অজস্র বড় নেতাদের মুখ থেকে অসংখ্যা গল্প তাকে শুনতে হয়েছে, সুভাষের প্রয়োজনে পুরনো কাগজপত্র পড়তে হয়েছে, সর্বোপরি শরৎ বোসের কাছে নির্লজ্জভাবে জিজ্ঞাসা করতে পেরেছে।
এটা আগেই ঠিক ছিল ২৯ জানুয়ারি (৩৯) তারিখে কংগ্রেসের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। এরকম একটা দিন প্রত্যেকবারই থাকে, তা নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথাও থাকে না, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি গান্ধীজির কাছ থেকে জেনে নেয় কাকে রাষ্ট্রপতি করা ভাল হবে! তারপর তিনি রাষ্ট্রপতি হয়ে যান। সত্যি কথা হচ্ছে, ওয়ার্কিং কমিটি যে কমিটি হিশেবে খুব মাথা খাটায়, তাও নয়। কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির আসল নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। তিনি গান্ধীজির সঙ্গে কথা বলে সব ঠিকঠাক করে দেন, এমন কী ওয়ার্কিং কমিটি থেকে কারা অবসর নেবেন (কংগ্রেসের সংবিধান অনুযায়ী, ১৯৩৪), আর সেই সব ফাঁকা জায়গায় কারা আসবেন সেটাও ঠিক করেই রাখেন সর্দার। ১৯৩৮-এ সুভাষও এই পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এবারও সেরকমই ছিল। আট-দশ দিন আগেও প্রকাশ্যেই আজাদ, সুভাষ ও সীতারামাইয়ার নাম ঘুরছিল। এঁদের দুজন আপত্তি করলে অবশিষ্ট জন রাষ্ট্রপতি হবেন—মিটে গেল। গান্ধীজি, সর্দার প্যাটেল ও কংগ্রেসের আরো কোনো-কোনো নেতা, রাজকোটে প্রজাদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। দেশীয় রাজ্যগুলিতে কংগ্রেসের আন্দোলনের নতুন দিশা পাওয়া যাচ্ছিল।
এই সবের মধ্যে, মৌলাদা আজাদ, যেহেতু তাঁর নাম রাষ্ট্রপতি হিশেবে প্রস্তাবিত হয়েছে আর ২৯ তারিখও এসে গেল, একটি বিবৃতি দিয়ে জানালেন (২২ জানুয়ারি ১৯৩৯), তাঁর শরীর খুব খারাপ, কাজের চাপও বেশি, তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে পারবেন না, এবার পট্টডি সীতারামাইয়াকেই রাষ্ট্রপতি করা হোক। পরদিনই ২৩ জানুয়ারি, ১৯৩৯, সুভাষ বিবৃতি দিয়ে জানালেন, ১৯৩৯ সালটা দেশের পক্ষে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। যুদ্ধ লাগতে পারে। দেশের মানুষ ব্রিটিশের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম চান। সুতরাং নতুন নেতৃত্ব দরকার। সেই কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যদি ভোট করতে হয়, ভোট করা হবে। একজন প্রতিনিধিও তাঁকে সুভাষকে ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে বলেন নি। বা রাষ্ট্রপতি হতে না করেননি।
কংগ্রেসের সংগঠনের যা অবস্থা, তাতে সুভাষবাবুর ভোটের কথায় বজ্রপাত হওয়ার দশা। গান্ধীজি কংগ্রেসের একমাত্র নেতা হওয়ার পর, তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছু ঘটতে পারে না। পরদিনই, ২৪ শে বরদৌলি থেকে ওয়ার্কিং কমিটির সাত সদস্য—সর্দার, রাজেন্দ্রপ্রসাদ, বাজাজ, দৌলতরাম, শঙ্কর রাও, ভুলাভাই আর কৃপালনী—একটা যুক্ত বিবৃতিতে সুভাষের সবগুলি যুক্তি খণ্ডন করে অনুরোধ জানালেন, সুভাষ ভোট তেকে সরে দাঁড়াক ও পট্টডি সর্বসম্মতিতে রাষ্ট্রপতি হন।
এর উত্তরে সুভাষ ও পরদিনই (২৫ জানুয়ারি ৩৯) একটা লম্বা বিবৃতিতে বললেন একজন প্রার্থীর পক্ষে ওয়ার্কিং কমিটির এতজন সদস্যের প্রচার করা অনুচিত, তিনি চান বর্তমান সংকটে একজন বামপন্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া দরকার। আশ্চার্য নরেন্দ্রদেও এর মত সর্বজনমান্য ও সর্বসম্মত একজন বামপন্থীকে রাষ্ট্রপতি করলে সুভাষ ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন ও রাষ্ট্রপতি—নির্বাচন তথাকথিত মতৈক্যের ভিত্তিতে হতে পারে, তাহলে।
এই বিবৃতিটির ব্যাপারে যোগেনের একটু হাত ছিল। যোগেন ডিকটেশন নিচ্ছিল। তাতে সুভাষ এ-কথাটার ওপরই কেবল, জোর দিয়েছিলেন যে মুখে মতৈক্যের কথা বলা আর এতজন এত বড় নেতা মিলে একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচার করা অনুচিত, অনৈতিক ও কংগ্রেস প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছলনা মাত্ৰ।
টাইপ করতে-করতে যোগেনের একটু খটকা লাগে, সুভাষের বিবৃতিটা যেন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। ওঁদের মতলব ধরে ফেলা আর বলে দেয়া তো সুভাষের পক্ষে একমাত্র যুক্তি নয়। সে টাইপ করা কাগজটা সুভাষের হাতে ফেরৎ দিতে দিতে বলে, ‘তেমন যুতসই ঠেকল না। ওঁরা তো কেউ নালায়েক নন। আপনিও কোর্ট অব ওয়ার্ডস নন। আপনার শর্ত একটা না-দিলে আদালতের বাইরে সেট্লমেন্টে আপনার আগ্রহ প্রমাণ হয় না।’ কাগজটি হাতে নিয়ে সুভাষ ফেলফেল করে যোগেনের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। যোগেনের স্পষ্ট কথাই সুভাষের সঙ্গে তার সহকর্মিতার প্রধান ভিত, সুভাষের ভরসা ও যোগেনের শক্তি।
বিকেলের দিকে সুভাষ সেই টাইপ-করা কাগজটার ওপরে আরো কিছু লিখে যোগেনকে ফেরত দিয়ে বলেন, ‘দেখুন তো এবার ঠিক হল কী না।’
যোগেন পড়ে বলল, ‘নরেন্দ্র দেও ঠিক-কি-বেঠিক সে তো আমি বলতে পারব না। কিন্তু নতুন একটা নাম বলাতে আপনার যুক্তিটা শক্ত হল অনেকটা।’
‘তাহলে এটাই ছেড়ে দিন, সুভাষ বলে দেন। যোগেনই তার পর বেরিয়ে নিউজ এজেন্সি ও পেপারগুলিতে স্টেটমেন্টটা ধরিয়ে এল।
ঐ দিনই বেশি রাতে বল্লভভাই বরদৌলি থেকে সুভাষের ২৫ জানুয়ারি বিবৃতির জবাব দিলেন। তাঁর সহকর্মীরা নিশ্চয়ই কাছাকাছি ছিলেন না, তিনি তাই নিজের নামেই বিবৃতি দিয়েছেন। ‘কোনো একদিন নেহাৎই ঘটনাক্রমে আজাদ, নেহরু, রাজেন্দ্রপ্রসাদ, ভুলাভাই, কৃপালনী ও আমি কথা বলছিলাম। আজাদ যদি কোনো ক্রমেই রাজি না হন, তাহলে পট্টভি ছাড়া তো কোনো প্রার্থীই থাকে না। সুভাষকে যে পর-পর দু-বার রাষ্ট্রপতি করা যাবে না, সেটা তো আগেই ঠিক হয়ে গেছে’।
সুভাষ হেসে বললেন, ‘আপনি তো ঠিকই ধরেছিলেন। নরেন্দ্র দেও-এর বদলে ওঁরা গান্ধীজিকে মাঠে নামিয়ে দিলেন। গান্ধীজি কী চান সেটা জানার পর কংগ্রেসের তো আর কিছু জানার দরকার নেই।
যোগেন জিজ্ঞাসা করে, ‘আমরা কি কিছু বলব, না কী চুপ করে থাকব?’
‘থাকা যেত। কিন্তু গান্ধীজির নাম উঠে পড়েছে। প্রতিনিধিরা ভুল বুঝতে পারেন যদি চুপ করে থাকি।’
‘পালটা বিবৃতি দিতে হলে তো বলতে হয়, গান্ধীজির কথার কথা মানি না।
‘তা কি বলা যায় গান্ধীজিকে নিয়ে? তাও সর্দার প্যাটেলকে?’
‘একইরকম ভারী আর কী আছে?’
‘তাহলে তো যা সত্য তাই বলতে হয়। ফেডারেশন। কিন্তু সেটা বললে ভোট অ্যাফেক্ট করতে পারে। অনেকে তো ফেডারেশন চায়, আপনি একটু মেজদার সঙ্গে কথা বলুন না। আমিও একটু কথা বলে নি—বঙ্কিমবাবু, নীহারেন্দুবাবুর সঙ্গে—ওঁর রাজি কি না।
রাত যে তখন কত সেটা যোগেন বোঝে যখন উডবার্ন পার্কের বাড়ির দিকে হাঁটছে, এলগিন রোড থেকে। শুধু শরৎ বোসের বাড়ির গেটের ৫/৬ টা ডোম আলো জ্বলছে। এত রাতে একটু লজ্জাই করে যোগেনের শরৎবাবুকে ঘুম থেকে তুলতে। ছোট গেটটা থেকে দেখতে পায় চেম্বারে আলো জ্বলছে। শরৎ বোস বললেন, ‘ধরুন, রাইটিস্ট বা ফেডারেসনিস্টরা তো আপনাদের ভোট দেবে না। তাহলে, সুভাষ যদি ওর এই স্টেটমেন্টে ফেডারেশনের কথা ফাঁস করে দেয়, আপনারা নতুন করে কিছু হারাচ্ছেন না। উলটে, আপনাদের কোনো দুর্বল সাপোর্টার জোর পেতে পারে। তা হলে বলাই উচিত। একই সঙ্গে আমার একটা স্টেটমেন্ট ছেড়ে দিন অ্যাজ এ মেম্বার অব দি ওয়ার্কিং কমিটি অ্যান্ড অ্যাজ লিডার অব দি অপজিশন, দ্যাট মিস্টার প্যাটেল শুড নট প্রিটেন্ড টু এনজয় এনি সাচ প্রিভিলেজ টু ক্রিয়েট এ মিয়াসমা অব অ্যান এগ্রিমেন্ট ইন দি ওয়ার্কিং কমিটি অন পট্টভি অ্যাজ ইটস এগরিড ক্যানডিডেট। দি ওয়ার্কিং কমিটি হ্যাড এক্সপ্রেসড নো চয়েস।’
যোগেন টুকছিল। শেষ হয়ে গেলে বলে, ‘ওঁর টাও বলেন, স্যার।’ শরৎ বোস একটু চুপ থেকে বলেন, ‘আমি তো সানাইয়ের পোঁ। লেট এ পোঁ বিহেভ এ পোঁ। এটা সুভাষেরই বলা উচিত।’
যোগেন চেয়ার ছেড়ে ওঠার একটা ভঙ্গি করে কিন্তু ওঠে না। একটা ত্রিভঙ্গ টেবল-ল্যাম্প শরৎ বোসের টেবিলের ওপর রাখা বইটাতে আলো ফেলছিল। সেই আলোটাই উপছে এসে যোগেনকে স্পষ্ট করছিল। শরৎবোসের চোখের দৃষ্টি তখন মধ্যরাত পেরনো। সংকোচ করেও যোগেন না বলে পারে না, ‘আমার স্যার এই ফেডারেশন নিয়ে কিছু জানা নাই। স্টেটমেন্ট তো এখনই ছাড়তে হবে। গ্রাউন্ডওআর্ক করব কখন। এত রাত্তিরে স্যার, কইতেও বাধে। হয় আপনে ডিকটেশন দ্যান, না হয় আমারে দুই কথায় বুঝাইয়্যা দ্যান হুইচেভার সিমস ইজিয়ার ফর ইউ। আই ফিয়ার দি ডিকটেশন।
‘আপনি তো থার্টি-ফাইভের অ্যাক্টেই ভোটে জিতে এসেছেন। তাহলে ফেডারেশনে এত হোঁচট কেন?’
‘হোঁচটটা তো স্যার পায়ের দোষে। পথের দোষে নয়।’
শরৎ খুব পছন্দ করেন, এমন আলাপ, ‘পায়ের আর দোষ কী? রাতদিন এত লোককে লেঙ্গি মারছেন—! সেকেন্ড রাউন্ড টেবলে গান্ধীকে আউটওয়ে করতে ব্রিটিশ গবর্মেন্ট নাকি যত ৪২০ আর ৪৩৪ কনভিক্ট ছিল জেলখানায় তাদের জাহাজের খোলে পুরে লন্ডনে নিয়ে যায়। যাকে বলে ‘স্টেটস’ তাদের রাজা-রাজড়া-বংশধরনা তো এক্স-অফিসিয়ো কনভিক্ট আন্ডার দোজ অ্যাক্টস’, যোগেন এত হেসে ফেলে যে শরৎ বোসকে থামতে হয়। অত রাত বলেই ওঁরা নিচু স্বরে কথা বলছিলেন।
‘আপনি তো গ্রাউন্ডওয়ার্ক চাইলেন। লাস্ট রাউন্ড টেবিলে গান্ধীজি নাকি শুরুতেই বলেছিলেন, ওঁর মারগুলো তো এত চাপা যে শুনে বোঝা যায় না, মরণকোপ। মরে বোঝা যায়।’ যোগেন আবার হেসে ফেলে আর হেসে ফেললে যোগেন থামতে পারে না। অগত্যা সে বলে, ‘আইজ কি সন্ধা থিক্যাই মশা তাড়াচ্ছেন? অ্যাহন শেষ রাইতে আমারে ধইরলেন!’
‘আপনি তো গ্রাউন্ডওয়ার্ক চাইলেন। গান্ধীজির কথাটা শুনুন, গোলটেবিলে তাঁর ওপেনিং স্পিচ, ব্রিটিশ সরকারের আমন্ত্রণে আমরা এখানে এসেছি ভারতের স্বাধীনতা ও স্বাধীন ভারতের শাসনব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে। কাজটা যাতে ভালভাবে হয়, ব্রিটিশ গভর্মেন্ট অসম্ভব কষ্ট করে তাই এখানে একটা ভারত তৈরি করে রেখেছেন, ভারতের স্বাধীনতার সঙ্গে এঁদের স্বার্থ নাকী এমনই জড়িত যে এঁদের সবার মধ্যে মতের মিল হলেই তবে সিদ্ধান্ত হতে পারবে। কিন্তু আমার অসুবিধে হচ্ছে—আমি এঁদের বেশির ভাগকেই চিনি না, এঁরা কোনদিক দিয়ে ভারতের স্বাধীনতার দ্বারা প্রভাবিত তাও জানি না।’
এবার শরৎ বোসই হেসে উঠলেন।
‘কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তো আর গান্ধীর চাইতে কম ধুরন্ধর নয়। তারা নিমন্ত্রণ কর্তা। নেমন্তন্নের লিস্ট তো তারারই বানাবে। শাহেবরা নেমন্তন্ন ডাকছে, অথচ সে-নেমন্তন্ন আমি পেলাম না—আমাদের দেশের খয়ের খাঁদের তো কমপিটিশন লেগে গেল, যাতে এই নেমন্তন্ন পায়। তাদের শুধু এইটুকু জানাতে হবে যে ব্রিটিশ ভারতের কোন গোষ্ঠীর প্রতিনিধি তারা। জাতপাত কুলনি কাফ গাঁইগোত্র এই সব ভাগাভাগিতে শাহেবরা রঘুনন্দনকে হারিয়ে দেবে। ভারতে যে এত রাজত্ব আছে, নেটিভ স্টেটস, শাহেবরা বলতে পছন্দ করে স্টেটস, তা আমরা বাংলায় বসে ভাবতেও পারি না। আমাদের এখানে তো চিরস্থায়ী বন্দবস্ত। এখানে তো রাজা হওয়া যায় না। সারা বাংলায় একটা মাত্র দেশীয় রাজ্য—কোচবিহার। অন্যান্য প্রদেশে রাজার ছড়াছড়ি। কেন এত স্টেট ছড়িয়ে রেখেছে শাহেবরা তার কারণটা ঠিক আন্দাজ করা যেত না। সেকেন্ড রাউন্ড টেবলে বোঝা গেল। দে আর এসেনসিয়ালি এ পাট অব দি ব্রিটিশ ইন্ডিয়া, কনস্টিটিউশন্যালি, লিগ্যালি, সোবরেনেটিক্যালি। তাদের প্রজাদের ওপর কর বসাবার একটা রাইট আছে আর ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান গভর্নমেন্টকে তাদের একটা বার্ষিক কর দিতে হয়। দে হ্যাভ দেয়ার ওন জুড়িসিয়ারি, সামটাইম দে কল ইট সুপ্রিম কোর্ট, সাম অব দেম হ্যাভ দেয়ার ওন কয়েনস, ওন ফ্ল্যাগস অ্যান্ড ওন প্যারাফার লেলিয়া। এখন সেকেন্ড রাউন্ড টেবলে এদের নিয়ে গিয়ে শাহেবরা বলালো—নতুন ভারত শাসন আইন প্রদেশগুলিকে যেমন প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দিচ্ছে তেমনি কেন্দ্রে এই প্রদেশ ও অন্যান্য নানা স্বার্থের কথা ভেবে একটা ‘ফেডারেশন’ তৈরি হোক। একটা মাইনরিটি ফোরামও তৈরি হল—ইনডিয়ান ক্রিশ্চানস, ইয়োরোপিয়ানস, মুসলিমস অ্যান্ড সাচ আদার্স।
ভারতের পাবলিক ওপিনিয়নের বেশ একটা বড় অংশ—ফেডারেশন মেনে নেয়ার পক্ষে ছিল। দেশীয় রাজারা ভাবলেন, অন্তত কেন্দ্রে কংগ্রেসের দখলটা এড়ানো, মুসলিমরা ভাবলেন কেন্দ্রে হিন্দু দখলটা এড়ানো যাবে, সপ্রু-টপু যাদের কোনো ভিত নেই ভাবল অন্তত একটা সরকার তো পাওয়া যাবে কেন্দ্রীয় আইনসভার কাছে যাদের কৈফিয়ৎ দিতে হবে আর ব্রিটিশ নেতারা ভাবলেন, যা হোক, দেখতে তো একটা ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের মতই হল অথচ ব্রিটেনের স্বার্থ রক্ষা করা গেল।
‘এ কথা সত্য যে প্রস্তাব বেরবার সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেস বলে দিয়েছে, ‘আমরা ফেডারেশনে নেই’। সে তো কংগ্রেস বলে দিয়েছে ‘আমরা কমিউন্যাল অ্যাওয়ার্ডে নেই’। আমরা যখন ওয়ার্কিং কমিটিকে জানালাম, বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাকে হকশাহেবের সঙ্গে কোয়ালিশন করতে দেয়া হোক, বাবা, সর্দার প্যাটেল যা লিখলেন আমাদের, তা কোনো জমিদার তার নায়েবকেও লিখতে পারে না। কংগ্রেসের গ্রহণ প্রত্যাখ্যান দিয়ে এটা বোঝা যায় না সত্যি-সত্যি গ্রহণ করল নাকি প্রত্যাখ্যান করল। ফেডারেশনের পক্ষে কংগ্রেসের বেশ বড় একটা অংশের সম্মতি ছিল ও আছে। অন্তত ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে কথা-বলার বিষয় হিশেবে। আরে, ভুলাভাই দেশাই বা, ঐ সুভাষের সঙ্গে কে যেন দাঁড়িয়েছে, কংগ্রেসের…’
‘পট্টভি সীতারামাইয়া?’
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ। ভুলাভাই আর পট্টভি তো কংগ্রেসের বড় নেতা। তারা তো দেশবিদেশে বক্তৃতা দিয়ে বেরিয়েছে। কাগজে লিখেছে। এটা কংগ্রেসের চিরস্থায়ী নেতাদের পক্ষে যতই অস্বস্তিকর হোক, কংগ্রেস রাজনীতিতে ফেডারেশন অত্যন্ত জ্যান্ত ইস্যু। এটাকে আগেই আপনাদের ইস্যু করা উচিত ছিল।’
যোগেন উঠে পড়ে বলে, ‘এটা স্যার আপনে বলে দিলেন না ক্যান?’
এলগিন রোডের দিকে আসতে-আসতে যোগেন ভাবতে পারে যে ফেডারেশনের কথাটা আগে তোলা ভাল হত না। যোগেন যা শুনল, ফেডারেশনের ব্যাপার, তাতে বামাল চোর ধরা যাবে না। উলটে তখনকার নেতারা সই করে জানিয়ে দেবেন—বাজে কথা, ফেডারেশন প্রস্তাব সর্বসম্মতি ক্রমে প্রত্যাখ্যাত। কিন্তু এখন শেষ মুহূর্তে কথাটা যদি সুভাষভাবু আলগা ছেড়ে দেন, তাহলে যে—সন্দেহটা আছেই সেটাকে একটু উশকে দেয়া যাবে। নিশীথ কলকাতায় কয়েক পা হাঁটতে-হাঁটতে যোগেন সুভাষবাবুর বিবৃতিটার খশড়া করে। পরের পরদিন সেই বিবৃতিতে বলা হল—রাষ্ট্রপতি কে হবেন সে-বিষয়ে সম্মতি-অসম্মতির গভীর রাজনৈতিক কারণ থাকে। দেশের মানুষ নতুন সংগ্রামের জন্য এত উন্মুখ যে ফেডারেশন-প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যাঁরা মুখ খোলেন নি তেমন সন্দেহভাজন কারো বদলে তাঁরা চান প্রকাশ্য ও প্রমাণিত কোনো ফেডারেশন বিরোধীকে।
২৭ জানুয়ারি (৩৯) জওহরলাল একটা বিবৃতিতে দুই পক্ষকে মেলানোর চেষ্টা করেন। তিনি তিনটি বিষয়কে আলাদা করে নেন। এক, কংগ্রেসে কোনো দক্ষিণ-বাম নেই। দুই ফেডারেশন প্রস্তাব কংগ্রেস ফিরিয়ে দিয়েছে। সুতরাং ফেডারেশন কোনো বিষয়ই নয়। তিন নেহরু কংগ্রেস-রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে সুভাষকেই সমর্থন করলেন—কংগ্রেসের রাষ্ট্রপতি নিশ্চয়ই পার্লামেন্টের স্পিকার নন, কংগ্রেসে গৃহীত নীতিকে তিনি নিজের মত করে প্রয়োগ করতে পারেন।
পরদিন, ভোটের আগের দিন, ২৮ জানুয়ারি (৩৯) গান্ধীজি ‘হরিজন’-এ লিখলেন, ‘অন্তরের ক্ষয়’। ২৮ তারিখে যখন বেরিয়েছে, অনুমান করা যায়, অন্তত দু-একদিন আগে লেখা। গান্ধীজি লেখাটিতে জানালেন, তাঁর ও তাঁর সহকর্মীদের বেশির ভাগ সময় এখন চলে যাচ্ছে, কংগ্রেসিদের দুর্নীতি ও বিকৃতি সম্পর্কিত অভিযোগগুলির ভিতর দিয়ে হোঁচট খেতে-খেতে। অভিযোগগুলি কী নিয়ে তাও তিনি বলেন। মিথ্যে পরিচয়ে লোক-ঠকানো, কংগ্রেসের খাতাপত্র জাল করা, ভুয়ো মেম্বার দেখানো, ভোটাভুটি নিয়ে গোলমাল পাকানো, অনেকেই দায়িত্বহীন কথা বলেন, হিংসা ছড়ান, অনেকেই কোনো নির্দেশ মানেন না। কংগ্রেসের এই কুৎসিত মুখ দেখানোর জন্য কংগ্রেস কর্মীরা তাঁর ওপর যেন রাগ না করেন। এটা তাঁর পক্ষে দোষই হত যদি তিনি সত্য লুকোতেন। ‘আমি তো বর্তমান অবস্থায় দেশের সামনে নৈরাজ্য আর রক্তিম ধ্বংসাবশেষ ছাড়া কিছু দেখতে পাচ্ছি না। ত্রিপুরীতে কি আমরা এই কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারব?’
এর পরদিনই ছিল ভোট ও সুভাষচন্দ্র জিতলেন।
ভোটের মাত্র আট-দশদিন আগে থেকে প্রতিদিন বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতি, কংগ্রেসের উচ্চতম নেতৃত্বের মধ্যে কংগ্রেসের রাষ্ট্রপতি ও তাঁর মন্ত্রিসভার মধ্যে, সকলেই প্রবল সক্রিয়। শত্ৰুতা কেউই গোপন করেন নি। গান্ধীজিও না। নেহরুই একমাত্র রাজনীতি-বোঝার তফাতটা ধরতে চাইছিলেন। গান্ধীজি কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রমাণ হিশেবে মিথ্যে সদস্য দেখানো আর জালিয়াতির কথাই তোলেন। সেখানে আজ কেউ এমন ইঙ্গিত পড়তে পারেন, যে সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে ত্রিপুরী কংগ্রেসের প্রতিনিধি নির্বাচন হয়েছে, গান্ধীজি সেই সংখ্যাই অস্বীকার করছেন। নইলে ত্রিপুরী কংগ্রেসে সত্যের মুখোমুখি আসার কথা কেন?
সুভাষের রাজনৈতিক প্রচারে, এই কটি কথাই, বারবার এসেছে। নতুন আন্দোলন—চরম মীমাংসার জন্য। নতুন নেতৃত্ব—সেই আন্দোলনের জন্য। ফেডারেশন-চুক্তি-রোয়েদাদ—কোনো মধ্যপন্থা নয়।
নতুন আন্দোলনের একটা ক্ষেত্র ছিল দেশীয় রাজ্য। ১৯৩৮-এর হরিপুরা কংগ্রেসে সুভাষচন্দ্রের সভাপতিত্বে প্রস্তাব নেয়া হয় যে দেশীয় রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীন বিষয়ে জাতীয় কংগ্রেস কিছু বলবে না। এমন প্রস্তাবের কারণ, দেশীয় রাজ্যগুলির ভিতরে প্রজামণ্ডল ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলি সেই সব রাজ্যের বিশিষ্ট সমস্যাগুলির জন্য স্বতন্ত্র পদ্ধতি যাতে নিজেরাই নিতে পারে। কিন্তু কংগ্রেস এই প্রস্তাব নেয়ার পরই দেশীয় রাজ্যগুলির অফিসাররা ও রেসিডেন্টরা এমন প্রকাশ্য অত্যাচার শুরু করে যে মধ্যভারত, দক্ষিণ ভারত, রাজপুতানার জনসাধারণ সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হন। মহীশূরে, ত্রিবাঙ্কুরে ও অন্যান্য দেশীয় রাজ্যে দেশীয় রাজন্যরা যে অত্যাচার শুরু করেছেন তাতে ছোট-ছোট রাজ্যগুলিও উৎসাহিত হয়ে ওঠে। রাজকোটে কংগ্রেস আন্দোলনে যোগ দেয়ায় ছোট রাজ্যগুলি আতঙ্কিত হয়ে কিছু সুবিধে-সুযোগের কথা ঘোষণা করে। কংগ্রেস দেশীয় রাজ্যে নাক গলাবে না—এই নীতি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী সরকার রাজন্যদের সাহায্য করতে আসে। বেশির ভাগ প্রদেশে কংগ্রেস মন্ত্রিত্ব থাকায়, সরকারের সমর্থন রাজন্যরা পাচ্ছেন না। তাছাড়াও সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল, যমনলাল বাজাজ ও পরে, গান্ধীজি নিজে এই সব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। কংগ্রেসের মধ্যে যে সোস্যালিস্ট, কমিউনিস্ট ও বিপ্লবীরা ছিলেন, তাঁরা প্রচার করছিলেন যে দেশীয় রাজ্যের এই আন্দোলনে ব্রিটিশ সৈন্যদের সমর্থনে ব্রিটিশ সরকার যদি কোনো একরকম সাফল্যও পায়, তাহলে তারা এই বর্বর পদ্ধতিতেই প্রস্তাবিত ‘ফেডারেশন পরিকল্পনা’ ভারতের ওপর চাপিয়ে দেবে।
সুভাষ তাঁর শেষ বিবৃতিতে ১৯৩৫-এর ভারত শাসন আইনে প্রস্তাবিত ও প্রকাশ্যত কংগ্রেস কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত, কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা হিশেবে ফেডারেশন-এর ধারণার প্রতি দক্ষিণপন্থী কংগ্রেস নেতাদের ও তাঁদের সধর্মীদের মধ্যে সমর্থনের মনোভাবের অভিযোগ স্পষ্ট করে বলেছেন। সেই কারণেই তিনি চান একজন প্রমাণিত ফেডারেশন-বিরোধী ১৯৩৯-এর রাষ্ট্রপতি হন। অনেকেই এটাকে কষ্ট কল্পনা মনে করেন। কংগ্রেস একের পর এক প্রস্তাবে ফেডারেশন—সুপারিশ বাতিল করেছে। তৎসত্ত্বেও এখন যে-সব তথ্য নতুন করে পাওয়া যাচ্ছে তাতে এটা মনে হয়, তখন কংগ্রেসের ভিতরে ও কংগ্রেসের বলয়ে ফেডারেশনের পক্ষপাতী একটা হাওয়া ছিল। তাঁরা প্রধানত ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগী। এ-নিয়ে একটা গল্প-গুজবও চালু হয়েছিল। ভলাভাই দেশাই-এর কথার ভুল উদ্ধৃতি দিয়ে লর্ড লোথিয়ান ব্রিটিশ প্রেসকে জানান, বাপু ও কংগ্রেস ফেডারেশন-প্রস্তাবের পক্ষে। ১৯৩৮-এর সেপ্টেম্বরে চেকোশ্লোভাকিয়ায় হিটলার তাঁর দখল কায়েম করতে ইয়োরোপকে যুদ্ধ পর্যন্তই প্রায় ঠেলে নিয়ে গিয়েছিলে। সুভাষ তখন কংগ্রেসের রাষ্ট্রপতি। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের আতঙ্কে ও সংকটে কংগ্রেস ইঙ্গিত পাঠিয়েছিল ভাইসরয়কে সেই ১৯৩৮-এই যদি প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনকে সম্প্রসারিত করে কেন্দ্রে কোনো ব্যবস্থা হয়, তাহলে কংগ্রেস সেই ব্যবস্থায় যোগ দিতে পারে। সুভাষ বোস নিজে ঘোষণা করেছিলেন, কংগ্রেস দিল্লি দখলের প্রতিযোগিতায় সবার চাইতে এগিয়ে আছে। আজাদ, প্যাটেল ও রাজেন্দ্রপ্রসাদকে নিয়ে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি একটা পার্লামেন্টারি সাব-কমিটিও বানিয়েছিল। আকাশপথে, জলপথে বা নৌপথে অকস্মাৎ কোনো আক্রমণ ঘটলে ওয়ার্কিং কমিটি ও এআইসিসি-র অধিকার এই উপসমিতির ওপর বর্তাবে ও তারা ভাইসরয়ের পাশে সমস্ত সাহায্য ও সমর্থন নিয়ে দাঁড়াবেন। এই উপসমিতির সভাপতি ভোটের হিশেব কষে বেরা করে ফেলল–ফেডারেশন প্রস্তাব যদি আপাতত শিকেয় তোলা যায়, আর সেন্ট্রাল লেজিসলেচারকে পুরনো আইনেই যদি নতুন নির্বাচনী মনোনয়নে সাজানো হয়, তাহলে, সেই নতুন সেন্ট্রাল লেজিসলেচারে নিশ্চিতই কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ট হবে। এটাকে কার্যকর করতে হলে মধ্যবর্তী একটা ব্যবস্থা করা দরকার। ইংরেজদের কোনো কিছুতেই আপত্তি নেই। ফেডারেশন-প্রস্তাব শিকেয় তুলতে তারাও চাইছিল, কিন্তু সুযোগ পাচ্ছিল না। চেকোশ্লোভোকিয়া নিয়ে যুদ্ধ বাধলে সুযোগটা পাওয়া যেত। কংগ্রেসের দুর্ভাগ্যে, যুদ্ধটা তখন বাধেনি।
গান্ধীজির সচিব মহাদেব দেশাইকে ঘনশ্যামদাস বিড়লা ১৯৩৯-এ যুদ্ধের মুখে বেশ কিছু চিঠি লিখেছিলেন গান্ধীজিকে খবর জানাতে ও কোনো কোনো বিষয়ে পরামর্শ নিতে। একটি চিঠির সঙ্গে তিনি একটা খাড়া প্রস্তাবও পাঠিয়েছিলেন। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইনডাসট্রিজ যুদ্ধ-সংক্রান্ত একটা আবেদন করতে চায়, যদি বাপু অনুমোদন করেন। সেই খশড়ায় খুব স্পষ্টই বলা ছিল—ভারতের পূর্ণ সহযোগিতার জন্য কেন্দ্রে প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধ-সংক্রান্ত দপ্তর করা দরকার ও সেখানে ভারতীয়দের দায়িত্ব দেয়া দরকার। একমাত্র তা হলেই সেই সংগঠন তৈরি হবে যা যুদ্ধে গ্রেট ব্রিটেনের জয় নিশ্চিত করবে।
