১১
১২
১৩
১৪
১৫
3 of 4

১০৭. এম এন রায়

১০৭. এম এন রায় 

এরকম একটা কাজে এমন জড়িয়ে পড়া—যোগেনের এই প্রথম—সে তো সবাইকে চিনতও না। সেই প্রথম সে কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের রাজনীতির একেবারে ভিতরটার আঁচ পেল। না, আঁচ হয়তো কিছু পেয়েছে আগেও, বলা যায় ভিতরটা সে দেখে ফেলল। সে জড়িয়েও পড়ল, নিজেকে আটকাল না। 

এম এন রায় ইংরেজিতে ছাড়া কথা বলেন না। তিনি চটকলের শ্রমিক ইউনিয়ন করেন। তা হলে সেখানে কী ভাষায় বলেন। যোগেনের এই এক স্বভাব–কোনো প্রশ্ন যদি মাথায় আসে, সেটার একটা কোনো মীমাংসা—আর কারো কাছ থেকে জেনে না-নেয়া পর্যন্ত তার শান্তি নেই। সে জবাবটা ঠিক কী বেঠিক এ নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা থাকে না। সে নিজেই জানে না, সে কি প্রশ্নটাই বলতে চায়—প্রশ্নটা করার যোগ্য লোক খোঁজে, উত্তরের যোগ্য লোক সে খোঁজে না। এম এন রায় খুব লম্বা, সব সময়ই একটা পাইপ কামড়ান, পরনে—শাহেবরা যাকে কমপ্লিট সুট বলে, তাই। জুতো এত চকচকে, যেন রাংতার মত, আলো ফিরিয়ে দিচ্ছে। হাতে একটা স্টিক। সেটলটাতে তে উনি জোব দিচ্ছিলেন, সেটা বেঁকেও যাচ্ছিল আর চৌকাধ থেকে সোফা পর্যন্ত আসতেও খোঁড়াচ্ছিলেন। যোগেন একটু কোণের দিকে একটা চেয়ারে বসে ছিল। এম এন রায় সোফাটায় বসে পড়ে আরামের একটা আওয়াজ করলেন—যোগেন তাড়াতাড়ি নিজের স্যান্ডেলসহ পা-দুটো তার চেয়ারের তলায় গুটিয়ে নিল। 

সুভাষ জিগগেস করেন, ‘পায়ে আবার কী বাধালেন’। 

রায় পাইপটা চেপে রেখে মুখটা কুঁচকে বললেন, ‘মে বি এ স্মল স্ট্রেইন। বাট দি সার্জন ইজ নট সিয়োর হোয়াট উড এক্সরে-প্লেট শো?’ 

‘তাহলে তো অনেক কাণ্ডই হয়েছে। হলটা কী করে?’ সুভাষ একটু হেসে শুধোন।

‘বোস, ইউ প্লিজ ডোন্ট টক অব ইলনেস,’ রায় এবার হাতটাও নাড়লেন।’ 

‘আমি আবার কী করলাম?’ 

‘ইউ ডোন্ট নিড টু ডু এনি থিং ইউ অনলি লেট ইভেন্টস হ্যাপেন, জাস্ট লাইক এ ফিলিস্তিন পাতিবুর্জোয়া’ 

সুভাষ খুব হেসে উঠলেন। রায় সম্পর্কে কত গল্পই যে চলে। থাকেন দেরাদুনে, যুক্তপ্রদেশ কংগ্রেসের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের মেম্বার, কাগজ বের করেন লখনৌ থেকে, আর ট্রেড ইউনিয়ন করেন কলকাতায়। ইয়োরোপের সবগুলো ভাষাই নাকি জানেন। সেই কারণেই একটা কোনো ভাষা বলতে-বলতে অন্য কোনো ভাষায় চলে যান। এই যেমন সুভাষবাবুকে বললেন। যোগেন ঠিক বুঝতেই পারল না কথাটা কী। কিন্তু সুভাষবাবু তো প্রাণ খুলে হাসছেন। একজন কেউ বুঝে নিলেই হল। শুনতে কিন্তু খুব ভাল লাগছে—গলাটা খাদে আর খাদে দানা আছে। 

‘দেখুন, একজনকে গালাগাল দেয়ার প্রধান আরাম কী, আপনার কাছে?’ 

‘অঁহ্, ইউ সে কার্সিং হ্যাজ ভ্যারিড কমফোর্টস? জিজ্ঞাসা করে রায় পাইপটা নামালেন আর একটা ভুরু নাচালেন। 

সুভাষ বললেন, ‘আমার আরামটা অন্য লোককে শুনিয়ে। যাকে বকছি সে তো জানেই বকছি। অন্য লোক যেন বোঝে তাকে আমি বকছি।’ 

রায় পাইপহীন মুখে বেশ খোলা হাসলেন একটুও আওয়াজ না করে, ‘অঁহ, দেন ইয়োর কাইন্ড ইজ গ্র্যাটিফিকেশন বাই এক্সপোজিং ইয়োর প্রাইভেট পার্টস টু অ পাবলিক।’ 

‘দেখুন, একেবারে খারাপ কথা বলবেন না। আপনি যে আমাকে ফিলিস্টাইন পেটিবুর্জোয়া বলে গাল পাড়লেন, সেটা সবাই বুঝলে আপনার ভাল লাগত না?’ 

‘অঁহ, মাই কাইন্ড অব কার্সিং ইজ মাস্টারবেশন। আই ক্যান কার্স অনলি মিসেলফ।’

‘আবার!’ 

‘অঁহ। লাস্ট ইভনিং আই হ্যাড টু হিয়ার দোজ ইমব্রোগলিয়ো ইন জুট মিলস। দের ওজ নাথিং টু নো—দ্যাট ওল্ড মাঙ্কি ট্রিকস অব ওনার্স টু গ্র্যাব দি সারগ্লাস। আই টোল্ড দেম অব দি কামিং ওয়ার। অ্যাজ আই মুভড মাই লেগ টু গো আউট আফটার দি টক ওয়াজ ওভার, সামবডি ফ্রম মাই ব্যাক অ্যান্ড ফ্রম উইদইন দি ক্রাউড অ্যাবাউট দি কনগ্রেস। দ্যাটস অ্যান ইরেসিসটেবল কমবিনেশন ফর মি ইউ নো—জুট, ওয়ার, অ্যান্ড কংগ্রেস র‍্যাডিক্যালস। ইন মাই হেস্ট, আই টার্নড ফরগেটিং মাই অলরেডি ফরোয়ার্ডে ফুট টু দি একজিট। হোয়েন, ফাইন্যালি অল দি ব্যাটলস ওয়্যার উন, দি ক্লাও, শি অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ত অ্যান্ড দি ন্যাশনালিস্টস, আই ফাউন্ড মাই ফুট’স ইনসাবর্ডিনেশন।’ 

রায়ের হাসিতে এবার একটু আওয়াজ এল অথচ এত লম্বা গল্পে একবারও গলা তুললেন না। যোগেন একেবারে মুগ্ধ। 

‘এত কষ্ট করে এলেন কেন? আমাকে খবর দিলেই পারতেন—’ 

‘ইফ অনলি আই ডিড নো ইয়োর প্রোগ্রাম। অ্যান্ড ইউ নো আই হ্যাভ টু ট্র্যাভেল স্টেট আফটার স্টেট আফটার টু রিচ ইউ ইন ব্রিটিশ ইনডিয়া। অল দি নিউজপেপার্স ওয়্যার অ্যাগগ উইথ রাজকোট অ্যান্ড জয়পুর অ্যান্ড গান্ধীজি দেয়র দ্যাট আই কুড নট মেক আউট ইফ ইউ হ্যাডবিন এক্সাইড ইন এনি অব দিজ স্টেটস। মোরওভার বোথ অব দেম, দি কম্যান্ডার অ্যান্ড দি জেনারেল, গান্ধীজি অ্যান্ড প্যাটেল ওয়্যার দেয়ার। আই ওয়াজ অ্যাফরেইড হু এলস বাট ইউ কুড বি দি অনলি হার্ডল টু গ্যাদার দেম।’ 

‘মানে, আমার ওপর ভরসা নেই আপনার?’ 

‘হোয়াই শুড আই হ্যাভ দ্যাট ফেইথ অন ইউ। আই মে সে ওপেনলি দ্যাট আই অ্যাম নো ন্যাশনালিস্ট। ক্যান ইউ? ইউ কানট। ইউ আর বন্ডেড টু ইট, দি নেশন স্টেটস’। 

‘আমি এটা সত্যিই বুঝতে পারি না। আমার রাজনীতির সীমা যদি আমার দেশ হয় তাহলে জাতীয়তাবাদী তো হতেই হবে আমাকে—’  

‘ইয়েস, ইফ ইউ লাইক টু বিলং টু দি প্যাক।’ 

‘এটা তো পরিস্থিতি। আমি লেফটিস্ট, সোস্যালিস্ট, অ্যান্টি ইমপিরিয়ালিস্ট বলে আমার ন্যাশন্যালিজমকে আলাদা করছি। 

‘হোয়াই ডু ইউ ব্রিঙ ইন অ্যান এয়ার অব ডেফিনিশন। ডেফিনিশন কিলস ডায়ালেকটিকস। র‍্যাদার, ইউ মে আস্ক ইন সিনসিয়ার ডাউট হোয়াট ডাজ কাম ইন দি ওয়েজ অব কংগ্রেসমেন। লেবেলিং দেমসেলভস অ্যাজ লেফটিস্টস অর রাইটিস্টস অর সেন্টারিস্টস। দ্যাট ‘ল স্টপ অ্যাটলিস্ট দি, রিউমার-মিল।’ 

‘আপনি জওহরলালের লেখাটা কি দেখেননি?’ 

‘অঁহ! দ্যাট অন দি লেফট অ্যান্ড রাইট অ্যান্ড ন্যাশন্যাল স্ট্রাগল?’ 

‘হ্যাঁ, হ্যাঁ। ওটাই।’ 

‘ইয়েস, ইউ নো, নেহরু ইজ পোলিটিক্যালি কারেক্ট। বাট হিজ পলিটিকস ইজ বেরেষ্ট অব ফিলজফি। দিজ ওয়ার্ডস লেফট-রাইট হ্যাভ অ্যান অবভিয়াস পার্লামেন্টারি কনোটেশন।’

‘শাহেবরাও তো পুরনো শব্দ বদলে দেয় আপনাকে বোঝাতে যে আপনি যা চাইছিলেন তাকে ডোমিনিয়ান স্ট্যাটাসই বলে, না জেনে আপনারা হোমরুল বলেন—’  

‘দিজ থিঙ্গস ডু নট হ্যাপেন নাও। দেয়ার আর সো মেনি ইনডিয়ানস প্র্যাকটিসিং ল ইন দি প্রিভি কাউন্সিল অ্যান্ড ব্রেকিং দি ‘ল ইন সিভিল ভিসওবেডিয়োন্স ইন ইনডিয়া, অব কোর্স ডিউরিং দি ভেকেশন। ইন এ ওয়ে, দি ইমপিরিয়ালিস্টস আর দি ব্রাহমিনস অব দি ক্যাপিটালিস্ট কাস্ট।’ 

‘লেনিন ‘হায়েস্ট স্টেজ’ বলেছিলেন না?’ 

‘ইট মিনস দি সেম ইফ ইউ সে ‘ব্রাহ্মিনস অব’। মোর ওভার হোয়াট ট্র্যানস্লেশন ডিড ইউ রিড।’ 

‘সে তো মনে নেই। এই গেলবারই আমি প্যারি থেকে বেরিয়ে একটা রোড সাইড স্টেশন বুকশপে পেয়ে গেলাম, ট্রেনে তো মলাটের ওপর হাত চাপা দিয়ে চালিয়ে দিলাম। কিন্তু বার্লিনে করি কী?’ 

‘অঁহ! দি জোক ইজ, দিস বুক বাই লেনিন ইজ নট দ্যাট মাচ অব এ ব্যানড বুক ইন ইয়োরোপ। ইট ইজ ইউজেবল বাই এ ক্যাপিট্যালিস্ট স্টেট অ্যাজ অ্যান এক্সকিউজ দ্যাট দে মে বি ক্যাপিট্যালিস্ট বাট নট অব দি ইমপিরিয়ালিস্ট কাইন্ড।’ একসঙ্গে হেসে উঠলেন দুজন, হাসির শেষে রায় বললেন, ‘ইট ওজ পাবলিশড ইন জ্যানুয়ারি নাইনটিন সিক্সটিন, মোর অ্যাজ এ পপুলার আউটলাইন। বাট ইট কনটেইনড দি মোস্ট অরিজিন্যাল ফিলজফিক্যাল ক্যাটিগরাইজেশন অব ক্যাপিটালিজম বাই লেনিন ওভার মার্ক্স। মার্ক্স নেভার এক্সপ্লেইনড ক্যাপিটালিজম ইন ‘স্টেজেস’। সো ফার অ্যাজ আই ক্যান ট্রেস, লেনিন ওয়াজ ডেভেলাপিং দি কনসেপ্ট এভার সিন্স হিজ স্মল আর্টিকল ‘দি আইডিয়াজ অব অ্যান অ্যাডভান্সড ক্যাপিটালিস্ট’ ইন, জুলাই ১৯১৩, অ্যান্ড এগেইন ইন দি ফর্ম অব এ নোট ইন ১৯১৫, ইম্পিরিয়ালিজম অ্যান্ড সোসিয়ালিজম ইন ইটালি,’ অ্যান্ড এগেইন ইন অক্টোবর নেক্সট ইয়ার ‘ইমপিরিয়্যালিজম অ্যান্ড সোসিয়ালিজম,’ অ্যান্ড দেন দিস বুক ইউ রেফার্ড। ইটস এ রেয়ারেন্ট অব রেয়ার অপরচুনিটি 

অবজার্ভ দি মার্ক্সিস্ট ওয়ে অব ডায়ালেকটিকস ডেভেলাপিং এ কনসেপ্ট।’ 

‘হ্যাঁ—আ। কিন্তু কনসেপ্টের ইতিহাস তো রোজ কোনো কাজে আসে না। সেখানে তো সমাবেশের ক্ষমতাটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। অর্গানাইজেশন। এ-ব্যাপারটা বোধ হয়, ফ্যাসিস্ট আর নাৎসিদের কাছ থেকে কিছু শিখতে পারি।’ 

অঁহ নো, উই কান্ট। উই ওন্ট, ইভন ইফ উই কুড। ফ্যাসিস্টস অ্যান্ড নাৎসিজ আর নট দি মডেল ফর এ কান্ট্রি লাইক আওয়ার্স, ইনভলবড ইন ন্যাশন্যাল লিবারেশন মুভমেন্ট। বোস, আই মাস্ট সে দ্যাট হিয়ার ইন ইনডিয়া দেয়ার ইজ কলোসাল ইগনোরান্সে আবাউট দিজ। অনলি জওহরলাল ইজ অ্যান একসেপশন।’ 

‘কিন্তু সংগঠন, রাজনীতি, বিশ্বাস—এ-সব ব্যাপারে?’ 

‘বোস, ইউ আর বিহেভিং চাইল্ডিস। ইউ ক্যানট রেইজ অ্যান অর্গানাইজেশন ফর পোলিটিক্যাল লিবারেশন অব এ কান্ট্রি লাইক আওয়ার্স ইন এ ফ্যাসিস্ট ওয়ে। ইয়োর রাইটিস্ট ফ্রেন্ডস ইন দ কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি মে গিভ ইউ এ স্যাম্পল অব হোয়াট ইট ইজ রিয়্যালি। 

‘সে করুক—না যা করবে। আমি ওদের সে সুযোগ দেব না।’ 

‘বাট বি ওভার কেয়ারফুল অ্যাবাউট দেয়ার হিন্দু কমিউন্যাল অর্গানাইজেশন। দে আর নেভার সিন, বাট দে আর দেয়ার অলওয়েজ। ইউ ক্যান সি দেয়ার রেডিনেস ইন দ্য উয়িংস।’ 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *