নৈশ অপেরা – ৩০

৩০

সদাপ্রভু কহিলেন, আইস, আমরা উত্তর প্রত্যুত্তর করি ; তোমাদের পাপ সকল সিন্দুরবর্ণ হইলেও হিমের ন্যায় শুক্লবর্ণ হইবে ; লাক্ষার ন্যায় রাঙ্গা হইলেও মেষলোমের ন্যায় শুভ্র হইবে।

– Isaiah 1:18

.

সবার আগে টের পায় সাপেরা। তারা মানুষের গায়ের গন্ধ পায়। প্রতি রাত্রে বেসমেন্টে পা দিয়ে তাদের ফিসফিস শুনতে পান রেভারেন্ড গরম্যান। তাঁকে ঘিরে সাপেরা ঘুরে বেড়ায়। তারা অব্যর্থ বোঝে—পাপের ক্ষমা আর শরীরের পুনরুত্থান?

নড়বড়ে পায়ে বেসমেন্টে ঢুকলেন রেভারেন্ড। ডুমবাল্ব বহুদিন অচল। কিছু আসে-যায় না। জায়গাটাকে তিনি নিজের শরীরের ঘামের মতো চেনেন। লতাপাতা গজানো ভিজে মাটি, ড্যাম্পে ফুলে ওঠা মেঝে, ওপাশের দেওয়াল, যার গায়ে কান পাতলে চাপাহাসি, মৃদু গুনগুনে গান, ফোঁপানি। এখানে ছাড়া শোবার অন্য জায়গা রেভারেন্ড ভাবতে পারেন না। এখানে তাঁর কাছে ফিরে আসেন—তাঁর মা, তাঁর শিক্ষক ফাদার বিশ্বাস, মনীষা।

বাইরে ঝুপঝাপ বৃষ্টি, তাই ঠান্ডা লাগছে রেভারেন্ডের। পুরোনো সোয়েটারটা গায়ে চাপিয়ে নিয়েছেন। ময়ূরছাপ ডিজাইন। কতদিনের এই সোয়েটার, এখনও একইরকম আছে। অন্ধকারে নড়বড়ে পায়ে রেভারেন্ড দেওয়াল হাতড়ালেন। শোবার জন্য একটা জায়গা নিজে হাতে পরিষ্কার করেছেন। বাঁ-দিকের দেওয়ালের ফোকর ঘেঁষে তাকে পাহারা দেয় সাপের দল। মাথার দেওয়ালের ওপাশে অন্ধকার কুঠুরি। রেভারেন্ড সেই কুঠুরির কাছাকাছি থাকতে চান। পাপের ক্ষমা—

মানুষ ভাবে, তিনি সব ভুলে গেছেন। মানুষ নির্বোধ। তারা জানে না, মায়ের কথা স্পষ্ট মনে আছে পরিতোষের। তিনি যক্ষ্মায় মারা গেছেন শুনেও পরিতোষ কলকাতায় ফেরেননি। তখন গোয়ার কংগ্রেগেশনে যোগ দিতে যাচ্ছেন। সেটা ১৯৬৩ সাল, তাঁর বয়েস ছাব্বিশ। মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি, কারণ বেনারসে যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর মা খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় হিন্দুধর্মে ফিরেছিলেন। সে-আঘাত বুকে বেজেছিল পরিতোষের। মনে হয়েছিল, তাঁর সমগ্র অস্তিত্বের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা করলেন মা। তাই তিনি ফেরেননি। গোয়া চলে গিয়েছিলেন। আজ, প্রতি রাত্রে মা ফিরে আসেন। কথা বলেন না, দূর থেকে তাঁকে দেখে মুচকি হাসেন। তাঁর অসামান্যা সুন্দরী, মেঘের মতো একঢাল কোঁকড়া চুল হাঁটু পর্যন্ত নেমে আসা ডালিম রঙের মা। তিনি হাসেন, আর পরিতোষ অস্থির হন। মা-কে বলেন— ‘কিছু বলো, কিছু তো বলো! অন্তত ধিক্কারে, ঘৃণায় জড়বস্তুতে পরিণত করো আমাকে।’ পরম কৌতুকে মা হাসেন শুধু।

দেওয়াল ঘেঁষে গুটিসুটি বসে পড়লেন রেভারেন্ড। এখানে গুমোট। অবসাদের বাতাস দশকের স্মৃতি বুকে স্থির।

চোখ বুজলে এক বালিকার ধূসর ছবি। জলে ভেজা তার মুখ। পবিত্র, তবু ত্রাসে দীর্ণ। সে ব্যাকুল চোখে তাকিয়ে, কী সিদ্ধান্ত নেবেন রেভারেন্ড। রেভারেন্ডের হাত ধরে বালিকার অস্থির প্রার্থনা-রেভারেন্ড যেন গুড ওয়ার্ক করেন। বিষণ্ণ হেসেছিলেন রেভারেন্ড। অবোধ কিশোরীকে কে বোঝাবে, তাঁর বিশ্বাস আলাদা?

চোখ বুজলে সাদা মুখ। থরথরিয়ে কেঁপে বুকে হাত চেপে মাটিতে বসে পড়া। অবাক হয়েছিলেন রেভারেন্ড—ডেভিড এতটা রিঅ্যাক্ট করলেন কেন? তখনও রেভারেন্ড মনীষার সঙ্গে এডওয়ার্ডের সম্পর্কের ব্যাপারে জানতেন না। কিন্তু, জানতেন ডেভিড। নিজেকে সামলে ডেভিড উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। রেভারেন্ডের হাত ধরে জানিয়েছিলেন, যেকোনো মূল্যে হোক অ্যাগনেসকে গর্ভপাত করাতে হবে। যেকোনো মূল্যে হোক, তাকে সরিয়ে দিতে হবে এখান থেকে। যদি করতে পারেন, বেথেল মিশন সংস্কারের পুরো টাকা দেবেন ডেভিড, আর এডওয়ার্ডের সঙ্গে মনীষার বিয়ে দেবেন। রেভারেন্ড কি পারবেন না, এডওয়ার্ডের অল্পবয়েসের একটামাত্র চপল পদস্খলন ক্ষমা করে দিতে? ঈশ্বরপুত্র মানুষের পাপের ব্যাপারে কী বলেছিলেন?

কয়েক দিন আগে প্রবল বৃষ্টিতে চার্চের পেছনের দেওয়াল ধসে গিয়েছিল। গোটা কাঠামোটাই ঝরঝরে। সংস্কারের খরচ বিপুল। কয়েকটা বড়ো গ্রান্ট বন্ধ হয়েছিল আচমকা। এভাবে চললে চার্চ বন্ধ করে দিতে হত, কারণ গভর্নিং বড়ি হাত তুলে নিয়েছিল। রেভারেন্ড শর্ত মেনেছিলেন। আর, এডওয়ার্ড? ঘরে ফিরে মেয়েকে এডওয়ার্ডের কথা জিজ্ঞাসা করলেন যখন, মনীষার চোখে বিশুদ্ধ সমর্পণ দেখেছিলেন। মেয়ের হৃদয়কে খান খান করতে তাঁর মন উঠল না। এডওয়ার্ডের অপরাধ তিনি চেপে গেলেন।

বসে থাকতে ক্লান্তি লাগছে। শিরদাঁড়া বিদ্রোহ করছে আজকাল। শুয়ে পড়লেন রেভারেন্ড। পা দুটো গুটিয়ে বুকের কাছে নিয়ে এলেন। এভাবে অ্যাগনেস শুয়ে ছিল, শেষদিন।

অ্যাগনেসকে অবশেষে রেভারেন্ড রাজি করিয়েছিলেন। অনেকগুলো দিন লেগেছিল তাকে বোঝাতে। তারপর তাকে কেরলে সন্ন্যাসিনী হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হল। ক্যাথলিক চার্চের মধ্যে তাঁর চেনাজানা ছিল। তাদের যোগাযোগ ব্যবহার করে কোট্টায়ামের সেন্ট মেরিজ সিরো-মালাবার চার্চে অ্যাগনেসকে পাঠাবার ব্যবস্থা করেছিলেন। অনেক দ্বিধার পর রাজি হয়েছিল অ্যাগনেস। বুঝেছিল অন্য উপায় তার সামনে নেই। সে রেভারেন্ডের হাত ধরে আবার জিজ্ঞাসা করেছিল— গুড ওয়ার্ক তো? বুকে হাত দিয়ে মাথা নেড়েছিলেন রেভারেন্ড। তাঁর স্বর ফোটেনি।

গর্ভপাতের দুদিন পর অ্যাগনেসের চলে যাবার কথা ছিল। সেই দুই দিন সে বেথেল মিশনে থাকবে। কথা ছিল, সেই দুই দিনের মধ্যে অ্যাগনেসের বাড়ি গিয়ে রেভারেন্ড জানাবেন, সে সন্ন্যাসিনী হতে চায়। তাই বেথেল মিশনে আশ্রয় নিয়েছে। মাইকেলকে রাজি করাবার ভার নিয়েছিলেন তিনি। যেদিন গর্ভপাত হবার কথা, তার আগের দিন অ্যাগনেসকে নিয়ে এলেন রেভারেন্ড। সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত তার সঙ্গে ছিলেন। একটা সুন্দর দিন তাকে উপহার দিতে চেয়েছিলেন। তাঁরা জঙ্গল, পূর্বের পাহাড়, ডেগাডেগি নদীর ধার ধরে হেঁটেছিলেন। রেভারেন্ড জঙ্গলের গাছপালা চিনিয়েছিলেন অ্যাগনেসকে। গল্প করেছিলেন অনেক। রূপকথার গল্প, মানুষের ইতিহাস, রেভারেন্ডের ছোটোবেলায় দেখা ভূতের গল্প। অ্যাগনেস শিউরে তাঁর হাত চেপে ধরেছিল। গ্রামের ঝুপড়িতে বসে ভাত, ডাল, আর প্রচণ্ড ঝাল চিকেন কারি খেয়ে মুখ লাল হয়ে উঠেছিল অ্যাগনেসের। আনন্দে উচ্ছল হয়েছিল সে। বলেছিল এমন দিন তার জীবনে কখনো আসেনি। দু-জনে পাশাপাশি টিলার মাথায় দাঁড়িয়ে শান্ত সূর্যাস্ত দেখেছিলেন। চেনা একজনের বাগানে বসে ছিলেন অনেকটা সময়। অ্যাগনেস বায়না করেছিল, তার ছবি তুলতে হবে। এক সহকারী কয়েকটা ছবি তুলেছিল।

‘ফাদার, আপনি গরমের দিনেও কেন সোয়েটার পরে থাকেন?’ প্রশ্ন করেছিল অ্যাগনেস। রেভারেন্ড হেসেছিলেন। অ্যাগনেস জানে না, মেঘলা স্যাঁৎসেঁতে দিনে তাঁর দুম করে ঠান্ডা লেগে যায়।

‘মনে আছে আপনার, অনেকদিন আগে চার্চে ভিডিয়ো প্রোজেক্টর এনে পর পর কয়েকটা সিনেমা দেখিয়েছিলেন? ‘

‘তোমার মনে আছে?’

“দ্য ওয়াইল্ড ডাক” বলে একটা সিনেমা ছিল। আপনি বলেছিলেন, লিভ উলম্যান আপনার প্রিয় অভিনেত্রী।’

‘তোমার ভালো লেগেছিল সিনেমাটা?’

‘উঁ, ঠিক জানি না।’ শাল-পিয়ালের জঙ্গলের ভেতর ঘুরতে ঘুরতে বলেছিল অ্যাগনেস। অস্তগামী সূর্যের রাঙা আলোয় তার চুল আগুনের মতো লাগছিল। ‘এক বাইরের মানুষ একদিন একটা পরিবারে আসবে। তারপর সে টেনে বার করে আনবে সেই পরিবারে লুকোনো যাবতীয় পাপের ইতিহাস, যত রহস্য ছিল, সব কিছু। কিন্তু, আমি কখনো সেই মানুষটা হতে চাইনি।’

অ্যাগনেসের মুখের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলেন রেভারেন্ড। মনে মনে বলেছিলেন, ‘ঈশ্বর, আমাকে ক্ষমা কোরো।’

রাত্রে বাড়ি চলে গিয়েছিল অ্যাগনেস। পরদিন দুপুরে ফিরে এসেছিল আবার। সেদিন ছিল গুড ফ্রাইডে।

চোখ বুজলেন রেভারেন্ড। হুড়মুড় করে স্মৃতির দল জলস্তম্ভের মতো ভেঙে পড়ছে তাঁর মাথায়।

চোখ বুজলে অ্যাগনেসের মুখ। বিস্ফারিত, ঘামে ভেজা। আর্তনাদ করছে। গ্রামের যে হাতুড়ে চিকিৎসককে ধরে আনা হয়েছিল, তার সাদা মুখ। সব ভুল হয়ে গেল, সমস্তটা একলহমায়। চোখ বুজলে ভুল, চোখ বুজলে রক্ত- -ভেসে যাচ্ছে গর্ভগৃহ। রক্ত, অপাপবিদ্ধ, অভিশপ্ত তবু। সেই রাত্রে ডেভিড এসেছিলেন সব ঠিক চলছে কি না, সরেজমিন তদন্ত করতে। রেভারেন্ড তাঁর কাঁধ ধরে পাগলের মতো ঝাঁকিয়েছিলেন, ‘আপনার জন্য। সব কিছু আপনার জন্য।’ ডেভিড মড়ার মতো মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রক্তহীন সাদা ঠোঁট। হাতের তালুতে নখ গিঁথে রক্ত বেরিয়ে এসেছিল। চোখ বুজলে রক্ত। দরজার বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। রক্ত। দুই হাতে মাথার চুল খামচে রেভারেন্ড চিৎকার করেছিলেন, ‘কিছু করুন।’ কাঁপা হাতে ডেভিড গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ করে দিলেন। ঘরের ভেতর থেকে তখনও অ্যাগনেসের আছাড়িপিছাড়ি। সে অবোধ্য স্বরে অনুনয় করছিল দরজা খুলে দেবার জন্য। দরজায় পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ডেভিড। কিছুতেই তিনি দরজা খুলতে দেবেন না। চোখ বুজলে, ডেভিডের মুখ—ফাঁসির আসামির মতো, বিভীষিকায় বিস্ফারিত চোখ। অ্যাগনেসের আর্তনাদ। তবু তিনি দরজা খুললেন না। চোখ বুজলে, চিৎকার। বাইরে তাঁরা দু-জন কাঁপছেন। ধীরে ধীরে চিৎকার থামল। চোখ বুজলে নৈঃশব্দ্য। চোখ বুজলে অন্ধকার। অন্ধকার গর্ভগৃহ। বেসমেন্ট।

সেই রাত। অ্যাগনেসের মৃতদেহ। দুই পা বুকের কাছে গুটিয়ে আনা। পায়ের ফাঁকে রক্তাক্ত ভ্রূণ। চোখ বুজলে-ডেভিডের বিশ্বস্ত মিস্ত্রির দল। আদেশ, আজ রাত্রের মধ্যে বেসমেন্টের দেওয়াল নতুন করে বানাতে হবে। বুজিয়ে দিতে হবে ঘর।

.

রাত। রেভারেন্ড চিত হয়ে শুলেন। বিশ্বাসঘাতক স্মৃতির দল তাঁকে ঘুমোতে দেয় না। প্রতি

ঝরঝরিয়ে জল পড়ছিল ডেভিডের চোখ বেয়ে। তার মধ্যে শক্ত মুখে নিজের কাজ করছিলেন। সেদিন প্রবল বৃষ্টি। অচেনা মুখের দল। তাদের কঠিন চোয়াল, শক্ত ভুরু। সিক্ত শরীরে তারা সারারাত কাজ করবে, কারণ ঘর বোজাতে হবে। তারা আসার আগে অ্যাগনেস আর তার ভ্রূণকে কবর দিলেন রেভারেন্ড এবং ডেভিড। পাশাপাশি এক বালিকা, অনাগত সন্তান । তার রেভারেন্ড চোখ বুজলেন। ডেভিডের হাত। অঞ্জলির মতো করে গ্রহণ করছেন অ্যাগনেসের চিঠি, তার ছবি। একটা চকলেটের রাংতা অ্যাগনেসের আলগা মুঠো থেকে অনাদরে খসে পড়েছিল। সেই চকলেট, যা ডেভিড তাকে অনেক বছর আগে স্কুলের প্রোগ্রামে দিয়েছিলেন। অ্যাগনেস রেভারেন্ডকে দেখিয়েছিল একবার। চকলেটের প্যাকেটটা মমতায় লুকিয়ে রেখেছিল সে। রেভারেন্ড তখনও বোঝেননি, কেন। তিনি দেখলেন, ডেভিড ঝুঁকে পড়ে মৃত অ্যাগনেসের মাথা থেকে তুলে আনলেন একটা চুল।

‘কেন?’ ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন রেভারেন্ড। অ্যাগনেসের মৃতদেহ তাঁদের দুজনের মাঝে। রক্তাক্ত ও নিথর।

অশ্রু মাখামাখি চোখে ডেভিড উত্তর দিলেন, ‘অ্যাগনেস। আমার মেয়ে।’ তারপর চিঠি, ছবি, চকলেটের রাংতা আর চুল চেপে ধরলেন নিজের বুকে।

রেভারেন্ড দেওয়াল ঘেঁষে বসে পড়লেন। গুঙিয়ে উঠলেন, ‘ঈশ্বর, তুমি দুর্বোধ্য!’ তারপরেও রেভারেন্ড এডওয়ার্ডের অপরাধ প্রকাশ করতে পারলেন না। টাকার প্রয়োজন। চার্চকে বাঁচাতে হবে।

ডেভিড তারপর থেকে বুড়ো হয়েছিলেন। ক্রিস চলে যাবার পর সারাদিন চার্চে বসে থাকতেন। মাঝে মাঝে রেভারেন্ডের হাত ধরে বলতেন, ‘আমাদের পাপ। সবার পাপ। পাপ?’ ঘন দীর্ঘশ্বাস পড়ল রেভারেন্ডের। বাইরে বৃষ্টি গাঢ় হল। এখানে শুয়ে থাকলে তিনি অ্যাগনেসের কাছাকাছি থাকেন। দেওয়ালের ওপাশের বুজিয়ে ফেলা ঘরের ভেতর থেকে অ্যাগনেস কথা বলে তাঁর সঙ্গে। রেভারেন্ড ফিসফিস করেন, ‘আমাদের পাপের ক্ষমা আর শরীরের পুনরুত্থান।’ অ্যাগনেস কচিগলা হেসে ওঠে। অ্যাগনেস শুধুই হাসে। তাঁর মায়ের মতো।

বুজিয়ে ফেলা ঘর। সেই ঘরে পাশাপাশি দুটো কবর। এক বালিকার কফিন, এক ভ্রূণের কফিন। তাদের গায়ে আঁকাবাঁকা হস্তাক্ষরে নাম লেখা— অ্যাগনেস ও’ব্রায়েন। আর্থার ও’ব্রায়েন। অন্ধকার সেই ঘর, যা কখনো খোলা হবে না। আজীবন সেখানে পাশাপাশি শুয়ে থাকবে দু-জন। নিশ্চিন্তে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *