২৭
পরে চতুর্থ প্রহর রাত্রিতে তিনি সমুদ্রের উপর দিয়া হাঁটিয়া তাঁহাদের নিকটে আসিলেন। তখন শিষ্যেরা তাঁহাকে সমুদ্রের উপর দিয়া হাঁটিতে দেখিয়া ত্রাসযুক্ত হইয়া কহিলেন, এ যে অপচ্ছায়া! আর ভয়ে চেঁচাইতে লাগিলেন। কিন্তু যীশু তখনই তাঁহাদের সহিত কথা কহিলেন, বলিলেন, সাহস কর, এ আমি, ভয় করিও না।
– Matthew। 14:25-27
.
জেনিফারের দোতলা বাড়ির পেছনে অনেকটা জায়গা জুড়ে কাঠের বেড়া তোলা, যাতে গোরু, ছাগল মুড়িয়ে না-দেয় সাধের বাঁধাকপি, লাউয়ের মাচা, ফলফলে শিমখেত, তাজা পটল। লোক লাগিয়ে চাষ করান জেনিফার। দোতলার বড়োঘরের জানালা থেকে চোখ মেললে নীচের বাগান চোখে পড়ে। জেনিফারের স্বামী বেঁচে থাকাকালীন শখ করে কটেজের সামনেটা পার্কের আকার দিতে চেয়েছিলেন, যেখানে স্লিপ, দোলনা ও ঢেঁকি রাখার পরিকল্পনা ছিল। বর্তমানে সেখানে ছাগলের ঘর। একপাশে গোবরের স্তূপ, কারণ জেনিফারের সর্বক্ষণের কাজের মাসি ঘুঁটে বিক্রি করেন। বিরাট তেঁতুলগাছ ছাতার মতো ঢেকেছে চত্বর। কিছু জমি জেনিফার বিক্রিও করে দিয়েছেন বছর কুড়ি আগে। কটেজের পেছন থেকে শালবন শুরু হচ্ছে, যেখানে আমি রাস্তা হারিয়েছিলাম। তবে, আজ আমার সঙ্গে অ্যারন ছিল। সন্ধে সাড়ে আটটায় আমরা দু-জন নিঃসাড়ে জেনিফারের বাড়ি ঢুকেছিলাম। উঠে গিয়েছিলাম দোতলার বড়োঘরে।
জেনিফার ঠোঁট টিপে আমাদের দেখেছিলেন। যতই ভেতরে উত্তেজিত থাকুন না কেন, গাম্ভীর্য ও বিরক্তিকে ফুটিয়ে তুলছিলেন যথাযথ। যখন সিঁড়ি দিয়ে উঠছিলাম, হুইলচেয়ার সিঁড়ির মুখে নিয়ে এলেন। থমথমে মুখে জানালেন রাত্রের খাবারের বন্দোবস্ত করতে পারবেন না, কারণ অ্যালিস আবার পালিয়েছে। সে মাঝে মাঝেই পালায়, সাঁওতাল গ্রামে কাটিয়ে আসে দুই-এক দিন। জেনিফারকে দেখে মনে হচ্ছিল ভেঙে-পড়া এক রাজকীয় প্রাসাদের সম্রাজ্ঞী, যিনি ব্যক্তিগত শাকতাপ বুকে আগলে মর্যাদাপূর্ণ আচরণের পরাকাষ্ঠা দেখাচ্ছেন। আমি হাসলে উপেক্ষার ভাব করে মুখ ফেরালেন। আমরা দু-জন তাঁর কাছে থাকব না, বরং বসে থাকব ওপরের ঘরে। একথা শুনে সংশয়ের ছায়া তাঁর মুখে খেলেছিল ঠিকই, কিন্তু নিজেকে সামলালেন। শুকনো গলায় জানালেন, তিনি বিপদের ভয় পাচ্ছেন না। নিশ্চিত হলাম, আজকের রাত্রির পর আমার নামটাও শুনতে চাইবেন না জেনিফার।
দোতলার ঘর আয়তনে প্রমাণসই, কিন্তু গাদা জিনিসে ঠেসাঠেসি হয়ে ছোটো লাগে। বিরাট আকৃতির প্রাচীনকালের খাটের মাথায় সিংহের মুখ। আলনায় অনাদরে জড়ো করে রাখা কাপড়চোপড় স্তূপীকৃত। জাম্বো আলমারি, তার কাচ ঘষা অস্পষ্ট। কোনোরকমে মাথা গুঁজে রাখা রেক্সিন কভারের সোফা। একটা বুকশেল্ফ যেখানে রাজ্যের কমিক্স, ভূতের গল্প, মিলস অ্যান্ড বুনসের ছেঁড়া পাতার সমাহার। দুটো প্লাস্টিকের চেয়ার। মনে হয়, ঘরটা গোটা বাড়ির ডাস্টবিন, যেখানে যে দ্রব্য অপ্রয়োজনীয়, এখানে রেখে দেওয়া হয়েছে। কাঠের জানালা খুললে অন্ধকার লাফিয়ে পড়ে। চোখ সইয়ে নিলে বোঝা যায় ঘন জঙ্গল পাহারা দিচ্ছে। তাদের দুর্ভেদ্য নৈঃশব্দ্যকে ঝিঁঝির ডাক বা জোনাকির দল নেভাতে পারে না। আলো নিভিয়ে আমি খাটে বসলাম। অ্যারন একটা চেয়ার টেনে নিল। ব্লুটুথ কানে গুঁজে ফোন লাগালাম, টাওয়ার চেক করা জরুরি। জায়গাটায় মাঝে মাঝেই সিগনাল উড়ে যায়। অক্ষয় মাহাতো জানালেন তাঁরা পোজিশন নিয়েছেন।
‘দু-জনে এমন পোজিশনে থাকবে যাতে চাইলে চোখের নিমেষে বাড়ির ভেতর ঢুকে যেতে পারে।’ অক্ষয় বিড়বিড় করলেন। তাঁকে জানালাম, প্ল্যানমতো জেনিফারের বাড়িতে কাউকে রাখা হয়নি। একজন সারাক্ষণের লোক থাকেন, জেনিফার তাঁকে ছুটি দিয়েছেন। অ্যালিসকে পুলিশ আজকের রাতের মতো থানায় নিয়ে গেছে। জেনিফারকে জানানো হয়নি সেকথা। যেহেতু পুতুলের ব্যাপারে অ্যালিস জানত, তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
‘আপনি কোথায় থাকবেন?’ আমি অক্ষয়কে জিজ্ঞাসা করলাম। অক্ষয় ভাসা ভাসা উত্তর দিলেন, অনুমান করলাম তিনি গাড়িতে একবার টহল মারবেন গোটা জায়গা। তাঁকে আবার মনে করালাম, বিপদের সংকেত পেলে যেন কিছুতেই তাঁর লোকেরা দেরি না করে। কারণ, জেনিফারের নিরাপত্তা সবথেকে গুরূত্বপূর্ণ। অক্ষয় উত্তর দিলেন না।
ফোন রেখে সিঁড়ির মুখে গিয়ে জেনিফারকে নির্দেশ দিলাম মিনিট দশেক পর আলো নেভাতে। রাত ন-টার মধ্যে গোটা বাড়ি অন্ধকার হয়ে গেল। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো ভেসে আসছিল ঘরে। অ্যারনের মুখে ছায়ার কাটাকুটি দেখে মনে হচ্ছিল, কয়েক হাজার বছরের অপেক্ষায় পাথরে পরিণত হওয়া সাধক। ঘরের মেঝেতে অল্প আলো পড়েছিল। একটা টিকটিকি পোকাদের পিছু নিয়ে সেই আলো লাফিয়ে পেরিয়ে ঢুকে গেল অন্ধকারে। অ্যারন ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞাসা করল, এগারোটায় যদি নির্ধারিত সময় হয়, এত আগে থেকে আসা কেন। তাকে জানালাম, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি নাআসে। আগন্তুকের মনে যদি সন্দেহ হয়, সে কিছুক্ষণ আগে সরেজমিন করতে আসতেই পারে। তখন যেন সে বুঝতে না-পারে যে, আমরা এখানে আছি।
জানালার ধারে গিয়ে চোখে পড়ল, উলটোদিকে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে। পুলিশের কিনা বোঝার উপায় নেই। গাড়িটা এবার স্টার্ট নিল। ধীরগতিতে কিছুদূর গিয়ে থেমে গেল আবার। সাদা পোশাকের এক পুলিশ, এঁকে আমি আগে দেখেছি, হেঁটে এসে গাড়ির জানালায় কিছু বললেন। তারপর হাঁটতে হাঁটতে অন্যদিকে চলে গেলেন। গাড়ি আবার স্টার্ট নিল। রাস্তায় কেউ নেই। দূর থেকে দেহাতি গ্রামের ঢোলের আওয়াজ ভেসে আসছে।
অন্ধকার ঘরে আমাদের অপেক্ষা শুরু হল। মাঝে মাঝে অ্যারন বিড়বিড় করে কিছু বলছিল। আমি যথাসম্ভব গলা চেপে উত্তর দিচ্ছিলাম। কিন্তু, আমার অবসন্ন লাগছিল। মনে হচ্ছিল, কিছু না হলে ভালো হয়। ভয় পেয়েছিলাম কি? হয়তো। আমি ভালোভাবেই জানতাম, কালকের পর থেকে আশেপাশের এই মানুষদের জীবন আর একরকম থাকবে না। অবিনাশ আর বারবারা, অ্যারন এবং আমি, আলফ্রেড ও ডলোরেস, জেনিফার আর অ্যালিস—এই ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো, আনুগত্য আর বিশ্বাসঘাতকতা, বন্ধুত্ব বনাম ঘৃণা, কে কার জায়গা নেবে, ভাবতে গিয়ে বিষাদ আমাকে চেপে ধরল। সব ঘুঁটি সাজিয়ে এখান থেকে আমি আজ চলে গেলে ভালো হত কি? কিন্তু, আমি তা পারব না। তিন বছর অপেক্ষার পর আমার যাবতীয় প্রত্যাশা, দ্বিধা ও সংশয়ের আজ অন্তিম বিচার হবে। তবু নিজেকে জাস্টিফাই করতে গেলে অসংবেদনশীল লাগছে আমার। আমার যাবতীয় বুদ্ধিবৃত্তি ও সত্যের পেছনে ছুটে চলার রোম্যান্টিকতা যেন শেষ হয়ে গেল আজ থেকে। আমি নিজেকে প্রশ্ন করছিলাম, কেন এতদূর এগোলাম। সমাধানের নেশায়? নিজের পরাজয় স্বীকার করতে না-পারার ইগো? কেন আমাকে সবসময়েই সমাধান খুঁজতে হবে? মানুষের মন তাহলে কোথায় যাবে? তার বিবেক, অপরাধবোধ, অপরাধ করার পর তার আত্মিক ক্ষয়? সেগুলোকে কি আমি অস্বীকার করেই যাব? অপরাধীর মন না-বুঝে শুধু তার কৃতকর্মকে যাচাই করব—অপরাধী, ভিক্টিম, এমনকী নিজেকেও ডিহিউম্যানাইজ করার খেলায় আমরা নামিনি কি? কিন্তু, এখন ফেরার রাস্তা নেই। আমি উঠে পায়চারি শুরু করলাম। অ্যারন সাবধানের ভঙ্গিতে আঙুল তুলল। আমার ছায়াকে বোঝা যাবে বাইরে থেকে। পুলিশ দু-জন কোথায় আছে, জানি না। অক্ষয় এসেছেন কি? নাকি, থানায় বসে? অ্যারন চাপাগলায় ধমকে আমাকে বসতে বলল। হতাশ মনে বসে পড়লাম খাটে। আমার তখন মনে পড়ল, নিজের স্বপ্নের কথা। অথবা, অনেক বছর আগে বাস্তবে দেখেছিলাম কি? আজকাল ভুলে যাই। একটা ঘর, অন্ধকার, মাথার কাছে ফ্রিজ। কেউ একজন শুয়ে আছে, যার মুখ দেখতে পাচ্ছি না। সিলিং থেকে একটা দড়ি নেমে এসেছে যার গায়ে হাত বুলিয়ে পৌঁছোতে চাইছি শেষভাগে। আমার মাথায় ঠেকছে, করোটির মতো হাড়সার কপাল—ফোন বাজল নিঃশব্দে। নীলচে আলোয় ঘর আলোকিত হল। ত্রস্ত হল অ্যারন। জিন্সের পকেটে ফোন ঢুকিয়ে কানেক্ট করলাম। ‘বলুন।’
‘একজন হেঁটে আসছে। আরেকটু কাছে এলে আমার লোক কনফার্ম করবে।’ কয়েক সেকেন্ড পর অক্ষয়ের গলা আবার শোনা গেল। ‘নাহ্। বলছে, একজন মাতাল। নিজের মনে গান গাইছে।’
ফোন দেখলাম। দশটা চল্লিশ। আর কুড়ি মিনিট। বড়োজোর আধঘণ্টা কি পঁয়তাল্লিশ মিনিট দেওয়া যায়। তার মধ্যে কিছু না হলে গুটিয়ে দেব। কিন্তু, শেষমুহূর্তে এসে নিঃসংশয় হতে পারছি না আমি। যা করছি, ঠিক তো? এরকম ফাঁদ পেতে ইঁদুর ধরার অমানবিকতা শেষাবধি নৈতিকভাবে বৈধ কি? অন্য কারোর কাছে না হোক, আমার নিজের কাছে? কে বলল আমাকে, সব অপরাধের শাস্তি হওয়া উচিত? প্রতিশোধের শাস্তি অন্য শাস্তির তুল্যমূল্য হবে কেন? তাহলে আদিতে যে অপরাধ ঘটেছিল, তার শাস্তি কে দেবে? নাকি, আমি আশা করি যে, বদলা নেবার খেলায় দাঁড়ি টানবে বিচারব্যবস্থা? আশা করি, অঙ্ক আর যুক্তির জালে দুইয়ে দুইয়ে চার হবে, কারণ ডিটেকটিভ ঈশ্বরপ্রতিম। তারপর যদি হিসেব না-মেলে? অবিনাশের মতো মাতাল হয়ে যেতে হয় যদি? জীবন বাদ দিয়ে এসব-হয় না, অর্থহীন। অ্যারন বিড়বিড় করল, ‘টয়লেট গেলে ভালো হত।”
‘এখন মুশকিল। চেপে থাকো।’
আবার ফোন। অক্ষয় জানালেন ধরে থাকতে। কিছু একটা দেখা গেছে। ‘এদিকে আসছে?’
‘দাঁড়ান। হ্যাঁ, আসছে। কিন্তু, রাস্তা দিয়ে নয়। পেছনের জঙ্গল থেকে বেরোচ্ছে।’ আচমকা উদ্বেগে আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেল। ‘ওইদিকটা কভার করা ছিল?” ‘আমরা সার্ভেইলান্সের খুঁটিনাটি জানি। বি অ্যালার্ট। কটেজের দিকে এগোচ্ছে।’
ফোন রেখে অ্যারনকে ইঙ্গিত করলাম। অ্যারন টান টান হয়ে বসল চেয়ারে। আমাদের কি নীচেই থাকা উচিত ছিল? কিন্তু, সেটা বিপজ্জনক হত, কারণ আগন্তুক দুম করে আলো জ্বালালে ধরা পড়ে যেতাম। জেনিফারকে একা সামলাতে হবে। জেনিফার ডেকেছেন, কারণ তিনি গৃহকর্ত্রী। দরজা খোলার আওয়াজ হল, তবে সামনের দরজা নয়। পেছনের যে দরজা খুলে সবজিবাগান যাওয়া যায়। তার মানে জানালায় চোখ রাখলে আমরা তাকে দেখতে পেতাম । ভেতরে ঢুকছে আগন্তুক। হতেই পারে সে অন্য কেউ নয়, নিত্যদিনের পরিচিত সাধারণ কেউ। জেনিফারের কাজের লোক, অথবা অ্যালিস, বা, দীপিকা সরেন- এবং সে সাধারণ কেউ নয়।
ভেতরে ঢুকেছে আগন্তুক,
জানালার কাছে গিয়ে কান পাতলাম। কয়েক সেকেন্ড সব চুপ। এমনকী ফিসফিসও করছে না কেউ। আগন্তুক অপেক্ষা করছে, অথবা, অন্ধকারে জেনিফারকে সে ঠাওর করতে পারছে না। তারপর নীচুগলায় জেনিফারের নাম ধরে কেউ ডেকে উঠল। এত মৃদু সে-স্বর যে, অন্য সময় হলে তাকে অগ্রাহ্য করা যেত। কিন্তু, তখন আমার স্নায়ু ধনুকের ছিলার মতো টান হয়ে ছিল। তাই, জেনিফারের নাম ডাকছে শুনে আমার প্রথমে মনে হল, কী সুন্দর কণ্ঠ! সুললিত উচ্চারণ, আর দরদ নিয়ে ডাকছে। তারপর, হয়তো কয়েক সেকেন্ডের জন্যই, আমি বিস্ফারে ও আক্ষেপে বিদীর্ণ হতে চাইলাম। আমি চিৎকার করে উঠতে চাইলাম, না, হতে পারে না। এরপর আমি যা করতে পারি তা একমাত্র হল— কয়েকটা জীবনকে নষ্ট করে দেওয়া, যার অর্থ নেই। চল্লিশ বছর আগেকার অপরাধ কেউ বহন করে না। আমরা কেউ জন্মগত অপরাধী নই। কাউকে এভাবে ট্রিগার করে ডেকে এনে শাস্তি দেওয়া আরেকটা অপরাধ। শিকারির পাপ শিকারের পাপের তুল্যমূল্য হয় যখন, সেই করুণ পৃথিবীর নাম ডিটেকশন। তাকে মানতে আমি অস্বীকার করি। আমি জানতাম, এর নিরাময় নেই। এরপর থেকে আমি ঢুকে যাব গভীরতর অন্ধকারের ভেতর, পৃথিবীর কোনো রহস্যের সমাধান যার গুহামুখে শুশ্রূষার আলো ফেলবে না। আমি এক হতমান সাংবাদিক, এই মুহূর্তে যাকে অ্যারন নামের এক ব্যর্থ রাঁধুনি জড়িয়ে ধরে আছে। আমি এই মুহূর্তে সব থামিয়ে দিতে চাই। অ্যারন আমার থরথরিয়ে কেঁপে ওঠাকে সামলাতে পারছে না। কিন্তু, আমি তো জানি যে, আমাকে নিজের কাজ শেষ করতে হবে। তারপর? যে পরিণাম আমার হাতে নেই, তার দায়িত্ব আমি নেব কী করে?
তখন জেনিফারের আর্তনাদ শোনা গেল। ভয়ার্ত সে-ডাক। কিন্তু, আমি চমকালাম না। আমি তখনই নীচে যেতে চাইছিলাম। কিন্তু, অ্যারন আমাকে আটকাল। সামনের দরজা খুলেছে। ছুটে যাচ্ছে কয়েক জোড়া পা। পুলিশেরা ঢুকে পড়েছে। জেনিফার দু-বার চেঁচিয়ে চুপ করে গেছিলেন। তাঁর ফোঁপানির আওয়াজে নিশ্চিত হলাম যে, নিরাপদ আছেন। নীচের তলার আলো জ্বলে উঠল। অ্যারন মাথা নাড়ল, এবার আমরা যেতে পারি। আমরা ধীরপায়ে সিঁড়ির দিকে এগোলাম। নীচে প্লেন ড্রেসে দাঁড়িয়ে ছিলেন অক্ষয়। আমাদের দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ‘এবার বল আপনার কোর্টে।
ড্রয়িং রুমের একপাশে হুইলচেয়ারে বসে আছেন জেনিফার। তাঁর মুখ কান্না ও ভয়ের কালার প্যালেট। আমাদের দেখে গুঙিয়ে উঠলেন, ‘অ্যাগনেস।’ আঙুল তুললেন যেদিকে সেখানে একটা সোফা। সোফার দুইপাশে রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে দুই পুলিশকর্মী। তাঁদের মুখে অনিশ্চয়তা, যেন জানেন না এরপর কী করবেন। আমাদের দেখে একজন হাত ওলটালেন, সরে দাঁড়ালেন ঘরের কোনায়।
সোফায় মাথা নীচু করে বসে আছেন ডলোরেস। পায়ের শব্দে মুখ তুলে তাকালেন। তাঁর মাথা থেকে লাল পরচুলা খসে পড়ল।
.
