নৈশ অপেরা – ১০

১০

–আমরা যাহা দেখিয়াছি ও শুনিয়াছি, তাহার সংবাদ তোমাদিগকেও দিতেছি, যেন আমাদের সহিত তোমাদেরও সহভাগিতা হয়। আর আমাদের যে সহভাগিতা, তাহা পিতার এবং তাঁহার পুত্র যীশু খ্রিস্টের সহিত।

-1 John 1:3

.

ঝাঁটিফুলের মাঠের প্রান্ত ঘেঁষে শুরু হয়েছিল শাল, মহুয়ার জঙ্গল। সেটার ভেতর দিয়ে আমরা হাঁটছিলাম। তখন হাওয়ার গায়ে ধীরে ধীরে সিসে রং আসছিল। হেমন্তের দিন ছোটো হচ্ছে দ্রুত। ঝোপঝাড়, শুকনো খাল, পাতায় ঢাকা একটা ঘর অথবা চারটে দেওয়াল মাত্র, এসব অতিক্রম করে এগোতে গিয়ে কানে শুনতে পাওয়া যায় অনেক ফিসফিসানি, বারবারা যেমন বলেছিল। ভাবা যেতে পারে গাছপালার পাতার ফাঁক দিয়ে হাওয়ার সরসর। কিন্তু যখন বড়ো গাছ নেই, সামনে হাঁটুসমান ঝোপ, তখন তুমি গাছপালা দেখতে পাচ্ছ না, অথচ শুনতে পাচ্ছ অনেক কথা। আর, সবসময়েই তোমার মনে হবে কান পাতলে স্পষ্ট বুঝবে। তারপর জঙ্গলটা পাতলা হতে হতে ঢালু জমি দিয়ে আমরা নেমে এলাম বুকসমান উঁচু ঘাসের বনে। তার ভেতর দিয়ে সরু পায়ে চলার পথ বানিয়েছে বুনো ছাগলের দল। পেছন ফিরে দেখলে বোঝা যাবে না কোন পথ দিয়ে এলাম। যেন জঙ্গলটা ঝপ করে নিজের দরজা বন্ধ করে ফেলেছে। অ্যারন বলল, সে রাস্তা চেনে। এদিক দিয়ে অনেকবার হেঁটেছে। ঘাসের দলকে বুক দিয়ে ঠেলে আমরা এগোলাম। আমাদের মাথার ওপর আচ্ছাদন করে এল সবুজ। আমি দেখলাম আলো ম্লান হচ্ছে।

‘এই মাঠ এরকমই পড়ে আছে?’

‘আমার বাবারাও ছোটো থেকে এমন দেখে আসছে।’

‘জায়গাটা ভালো নয়। আমি জানালা থেকে রোজ জলাভূমি দেখতে পাই। মনে হয় বিষাক্ত। মনে হয় ওপাশের জঙ্গলের ধারে কেউ দাঁড়িয়ে আমাদের দেখছে।’ আমি অ্যারনকে প্রথমদিনের কথা বললাম, যেদিন বারবারাকে দেখেছিলাম অবিনাশের পাশে বসে থাকতে। আর বললাম সেই একদিনের কথা, বারবারা রাত্রিবেলা আমাকে টেনে নিয়ে এল জলাভূমির ধারে, সেদিন আমার মনে হয়েছিল দূরের বনে কেউ দাঁড়িয়ে ছিল। ‘আমি জানি এগুলো ভ্রম। কিন্তু, এরকম জায়গা পিঠে নিয়ে বাস করলে তুমি ঝোপেঝাড়ে বাঘ দেখবেই।’

‘হয়তো ভ্রম নয়। হয়তো সত্যিই দাঁড়িয়ে ছিল কেউ। হয়তো ক্রিস, পিসি যেমন বলে।’ “তুমি কি বিশ্বাস করো ক্রিস বেঁচে আছে?’

‘কিছু এসে যায় না ও বেঁচে আছে কি নেই, তা দিয়ে। আমাদের টাউন একটা স্মৃতি, আর ক্রিস সেই স্মৃতির অন্যতম উপাদান। আমাদের ভয়, শঙ্কা, অপরাধবোধ, ঘৃণা, সবার ওপরে আমাদের দুঃস্বপ্ন, এই সব কিছুর একটা মূর্ত রূপ দরকার ছিল। ক্রিস হল সেটা। হয়তো অ্যাগনেসের ভূতও সেটাই।’

হিম হাওয়ার পিঠে চেপে সূর্যালোক ম্লান হচ্ছিল। আমাদের সামনে ঘাসবন বুজে দিয়েছে রাস্তা। আকাশে এর মধ্যেই গা ঘেঁষাঘেঁষি করে নক্ষত্রের দল জায়গা বানাচ্ছে। একটা বুড়ো নিমগাছ মাথার ওপর অনেকটা ছায়া বিস্তার করে দাঁড়াবার ফলে জায়গাটাকে আরও অন্ধকার লাগে। ‘যদি অ্যাগনেস বেঁচে থাকে, তাহলে একটা সম্ভাবনা কি হতে পারে না যে, সে ক্রিসকে চুরি করেছিল?’

‘কিন্তু, কেন? কীভাবে ক্রিস সবার চোখের সামনে দিয়ে উধাও হয়েছে তার ব্যাখ্যা আমার কাছে ইন্টারেস্টিং নয়। ম্যাজিকের খেলায় এর থেকে কঠিন ভোজবাজি আমি দেখেছি। কিন্তু, কেন উধাও হল? অ্যাগনেস করলেও, কেন?’ আমি ওকে মনে করিয়ে দিলাম যে, অ্যাগনেসের মাথায় গণ্ডগোল ছিল। অ্যারন সন্তুষ্ট হল না। ‘যে মানসিকভাবে নড়বড়ে, সে বাচ্চা চুরি করতেই পারে, কিন্তু তিরিশ বছর ধরে সেটাকে চেপে রাখতে পারে না।’ অ্যারন জোরে নিশ্বাস ফেলল! ‘আমাদের সমস্যাটা কী জানো? আমরা আউট অফ দ্য বক্স ভাবতে পারছি না, কারণ নিজেরা এই কেসের সঙ্গে এতকাল ঘর করে এটার ভেতর ঢুকে গেছি। আমি বলেছিলাম, দৃশ্য আছে মানে তার ইতিহাস আছে। কিন্তু সেই ইতিহাসটা কী, এই প্রশ্নটা কেউ করেনি এতকাল। আমার বাবার, ঠাকুরদার, অ্যাগনেসের বাবার, মায়েরআমাদের কি সেই ইতিহাস খুঁড়তে খুঁড়তে শেকড়ে পৌঁছোবার কথা ছিল না, তনয়া?’

‘পৌঁছে কী দেখতে? খুঁজে পেতে, কেন অ্যাগনেস হারিয়ে গেল, বা, ক্রিস?’

‘অন্তত অ্যাবসার্ডিটিটুকুকে চিনতাম— কোথা থেকে এল ব্যাখ্যাহীন অপরাধ, যদি অপরাধ বলো একে। অ্যাগনেসের চুল আঁচড়াবার ইতিহাস। তার চিঠির ইতিহাস। ছবির ইতিহাস। সে কী কনফেস করছিল, তার ইতিহাস। এগুলো কি আলাদাভাবে হলেও ইন্টারেস্টিং নয়? শুধুমাত্র অ্যাগনেস হারিয়ে গেল, এটুকুতেই তার অস্তিত্বকে আমরা নামিয়ে আনব, নাকি, তার গোটা জীবনটাকে আমাদের কমিউনিটির ইতিহাসের ব্যাকড্রপে দেখব? ‘ সামনে তাকিয়ে দেখলাম ঘাসের বন শেষ হয়েছে। সামনে বিস্তৃত জলাভূমি, যাকে ঘিরে আছে কোথাও ফাকা প্রান্তর, কোথাও-বা ঘাসের বন। গোধূলির পাতলা অন্ধকার চরাচরে জলরঙের মতো ছড়িয়ে যাচ্ছে। বহুদূরে অ্যাম্বাস্যাডারের খেলনা কঙ্কাল, কড়ে আঙুলের সাইজের। অপরপ্রান্তে মিটমিটে আলো, স্যাংচুয়ারির ছোট্ট অবয়বকে এখান থেকে বোঝা যায়। আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, ক্রিস নাকি সেইখানে এসে দাঁড়ায়, বলেছে বারবারা। কিন্তু, স্যাংচুয়ারির পেছনে বারবারা আসে যদি এখন, তাকে আমি আলাদা করে চিনতে পারব কি? বহুদূর এখান থেকে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় কোনো শিশুকে দেখে বারবারা ক্রিস বলে ভুল করে, এমনটা কি হতে পারে না? অ্যারন মাথা নাড়ল, ‘পিসি পাগল হতে পারে, কিন্তু বোকা তো নয়। তার মাথায় এটা আসেনি, তোমার মনে হয়? এর দুটো ব্যাখ্যা। এক, এখানে কেউই আসে না, পিসি খোয়াব দেখে। আর দুই, এখানে ক্রিস আসে। কিন্তু, ক্রিসের বদলে অন্য বাচ্চা আসে, এটা অসম্ভব।’

‘প্রথম ব্যাখ্যা, হতে পারে, হয়তো বারবারার মস্তিষ্ক এই জায়গাটায় ডেলিউশনাল। দ্বিতীয়টার মধ্যে ঢুকছিই না।’

‘ঢুকছ না কারণ তোমার যুক্তিবাদী মন এখানে ধাক্কা খাচ্ছে। এত তো যুক্তির প্রয়োগ তোমরা করে এলে এতগুলো বছর ধরে, পারলে সমাধান করতে?’ কিন্তু, অ্যারন এবং আমার রাস্তা আলাদা। একটা অ্যাবসার্ডকে কাউন্টার করার জন্য অন্য অ্যাবসার্ডের হাত ধরা ওর পদ্ধতি হতে পারে, আমার নয়। অ্যারন হিপফ্লাস্ক বার করে গলায় ঢালল। তারপর বসে পড়ল ঝোপের ওপরেই। ইতস্তত করে আমিও বসলাম। হিম হাওয়ার ভেতর, যখন কুয়াশা দিগন্তকে ধুইয়ে দেয়নি, এক আকাশ তারা মাথায় নিয়ে বাধাহীন প্রান্তরে বসে থাকতে ভালো লাগে। আমার দিকে ফ্লাস্ক এগোলে মাথা নাড়লাম। অ্যারন আর একটা চুমুক দিল ফ্লাস্কে। তারপর সিগারেট ধরিয়ে বলল, ‘ধরে নাও ক্রিস আসে। এটার কি কোনো জাগতিক ব্যাখ্যাই তোমার কাছে নেই? অসম্ভব নয়, কিন্তু অসম্ভাব্য, এমন ব্যাখ্যা?”

‘নেই। থাকা সম্ভব নয়।”

‘আমার কাছেও নেই। কিন্তু, অ্যাবসার্ডের আশ্রয় নিচ্ছি মানে ভেবো না, আমি অলৌকিক ভাবছি। ক্রিসের ভূত বা সেরকম কিছু। আমি সেই অ্যাবসার্ডকে আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার স্তরে নামিয়ে আনতে চাইছি, যাকে ধরাছোঁয়া যাবে। ইন্দ্রিয় মানে তার অনুভব আছে, আর অনুভব মানে তার ব্যাখ্যা আছে। কিন্তু আমি এখনও জানি না, সেটা কী।’

আমাদের পায়ের কাছে গড়াগড়ি খাচ্ছিল শামুকের খোলা, ছেঁড়া প্লাস্টিক, মৃত পশুর হাড়, একটা মাথাভাঙা পুতুলের ধড়। শেষেরটাকে হাতে তুলে অ্যারনকে দেখালাম, এটাও কি অ্যাবসার্ড নয়? কোনো শিশু কেন এখানে পুতুল খেলতে আসবে? জলাভূমি চিকচিক করছিল। জোনাকির দল তার ওপর ওড়াউড়ি করছিল ইতস্তত। ক্রিসকে আমি একটা গল্প হিসেবে দেখলে বরং স্বস্তি পেতাম, তাতে সমাধানের দায় নেই ।

হঠাৎ খচমচ শব্দে আমি চমকে উঠলাম। আমাদের পাশে কেউ এসে দাঁড়িয়েছে। মুখ তুলে দেখি, রেভারেন্ড গরম্যান। শূন্য চোখে তাকিয়ে আছেন জলাভূমির দিকে, হাত কাঁপছে। ঠান্ডাতেও খালি গা। জীর্ণ দেহ বেঁকে পড়েছে, পাজামা কাদামাখা। অ্যারন ধড়মড় করে উঠে দাঁড়াল। রেভারেন্ড মুক চোখে তাকালেন। তারপর বললেন ‘তিনিই ঈশ্বর, তাঁহার পথ সিদ্ধ ; সদাপ্রভুর বাক্য পরীক্ষাসিদ্ধ, তিনি নিজ শরণাগত সকলের ঢাল।’

‘পেছনের রাস্তা দিয়ে ফেরানো কঠিন।’ অ্যারন বলল আমাকে। ‘অন্ধকারে জঙ্গল বিপজ্জনক। সামনে এগোতে হবে।’ বিরক্তস্বরে ভুরু কোঁচকাল, ‘বেথেল মিশনে কি সত্যিই দেখার কেউ নেই? যেকোনোদিন অ্যাক্সিডেন্টে মরবে।’

‘ওরা অপেক্ষা করছে আমার জন্য। ওরা দু-জন।’ বললেন রেভারেন্ড। ‘কারা?’

‘ওই যে। ওখানে। আর্থার শুয়ে শুয়ে কাঁদছে। আমি আসিনি বলে। আমাকে ওদের কাছে যেতে হবে।’ অনির্দিষ্ট আঙুল তুললেন রেভারেন্ড। তাঁর গাল বেয়ে অশ্রু গড়াচ্ছিল, ভিজিয়ে দিচ্ছিল সাদা দাড়ি। আমরা তাঁকে ধরে এগিয়ে গেলাম। অ্যারন রাস্তা দেখাচ্ছিল। জলাভূমি পেরোতে গিয়ে দেখলাম মরা গাছের কঙ্কাল। কারণ ছাড়াই আমার গা ছমছমিয়ে উঠল। এখান থেকে বারবারার বাবা- -পায়ের নীচের ভেজা মাটি পচা পাঁক আর ঘাসের মৃতদেহ বুকে ঘোলানো গন্ধ ছাড়ছিল, তার বুক থেকে হিমাভ বাষ্প উঠে আসছিল। ঘন হচ্ছিল কুয়াশা। গাড়িটাকে দেখা যাচ্ছে না। স্যাংচুয়ারির আলো কুয়াশার বুক চিরে জ্বলজ্বলে হয়ে উঠছে। –

‘আর্থার কে?’ জিজ্ঞাসা করলাম।

‘আর্থার। মানবশিশু।’

‘কোথায় থাকে?’

হাঁটতে হাঁটতে আমার দিকে ফিরে তাকালেন রেভারেন্ড, অনবরত তাঁর ঠোঁট নড়ে কিন্তু শব্দ বেরোয় না। অ্যারনের দিকে তাকালাম।

‘এই নাম প্রথম শুনছি। হয়তো ডোডোর কলকাতার চেনা কেউ। পুরোনো স্মৃতি জেগেছে আবার।’

‘আমার সমস্যাটা কী, জানেন রেভারেন্ড? আপনার অনেক কথা অসংলগ্ন ঠেকেছে, অথবা, উলটো করে বললে অর্থময়, কিন্তু সেই অর্থ জানবার জন্য আপনি বাদে কারোর কাছে যাবার নেই। আপনি তিনজনের জীবন নষ্ট হবার কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন গুড ওয়ার্কসের কথা। এগুলোর ব্যাখ্যা কার কাছে পাব বলুন?’ আক্ষেপের গলায় বললাম, ‘চলে যাবার দিন এগিয়ে আসছে, আর কী করতে পারতাম আমি? ‘

‘ডোডো কিছুই শুনছে না। তবু, তুমি বলে যাও।’ অ্যারনের মুখ আমি অন্ধকারে দেখতে পাচ্ছিলাম না ভালো করে। অনেক ছায়া সেখানে কাটাকুটি খেলছে কারণ আবার আমরা ঢুকেছি বুকসমান ঘাসের বনে যাদের ধারালো পাতাগুলো আলোকে কেটে দিচ্ছে। ‘অন্তত শব্দগুলো রেজিস্টার্ড থাকুক। কারণ, প্রশ্নগুলো কেউ প্রথম করছে।’ ‘বোকা লাগছে?’

‘আমার কাছে কিছুই বোকা লাগে না। দুই হাজার বছর আগে একটা লোক অন্যদের ডেকে বলেছিল, “এই দেখো, আমি একটা ক্রুশকাঠ থেকে ঝুলছি, কাজেই তোমরা এরপর থেকে আমার পুজো করবে।” তাকে তখন সবাই বোকা ভাবলেও পৃথিবীর বৃহত্তম ব্যাবসার সূত্রপাত সেদিন সেই লোকটার হাত ধরেই হয়েছিল।’

‘ফাকিং হেল! তুমি কি লোকজনকে এভাবেই সারাদিন রাগিয়ে মজা পাও? এটা তোমার কাছে খেলা?’

‘না, তোমরা সকলে অনন্তের সন্ধানে থাকো যা জীবনকে মহনীয় বানায় বলে তোমাদের বিশ্বাস। কিন্তু আমি বলছি তোমাকে, বেঁচে থাকার জন্য চূড়ান্ত এক ম্যাড়ম্যাড়ে চেষ্টা, কোনোরকমে দিনান্তের খুদকুঁড়ো জুটিয়ে নিজের কুটিরে মাথা গুঁজে থাকা, আর কিচ্ছু নয়, শুধু এটুকুর বয়েস মার্কস অথবা খ্রিস্টের থেকে বেশি।’

‘ব্যস হয়েছে। তুমি আগামী একঘণ্টা আর ডায়ালগ দেবে না। আমার মাথা ঘেঁটে যায় এসব শুনলে।’ অ্যারন গম্ভীর মুখ অন্যদিকে ফেরাল। রেভারেন্ড চকচকে চোখে স্যাংচুয়ারির দিকে তাকালেন। ‘বারবারা থাকে এখানে। মনীষা থাকে। আপনার মেয়ে।’ বললাম তাঁকে।

‘মনীষা তো রাঁচিতে থাকে।’

‘হ্যাঁ, কিন্তু এসেছে এখানে। আপনার সঙ্গে দেখা করেনি?’ স্মৃতি ফিরেছে, ফলত আমি তাঁকে আবার সেদিনকার প্রশ্নগুলো করলাম। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করলেন, ‘তুমি বুঝবে না।’ তাহলে তো বোঝাতে পারেন! কিন্তু রেভারেন্ড আবার চুপ। ঠোঁট নড়ছে শুধু। মনে হল, দেওয়ালে মাথা ঠুকি।

বারবারা গাড়ি করে রেভারেন্ডকে বেথেল মিশনে পৌঁছে দিল। সঙ্গে আমি আর অ্যারন ও ছিলাম। আমরা চার্চের সামনে ঘুরছিলাম। রেভারেন্ডকে ধরে ধরে বারবারা ভেতরে নিয়ে গেল। জঙ্গলের ভেতর জোনাকি ও ঝিঁঝিপোকার সঙ্গত চার্চকে ঘিরে। মিটমিটে কয়েকটা আলো অন্ধকারকে আরও ঘন করেছে। চোখে পড়ল, চার্চের ভগ্নচূড়ায় ঝুলতে থাকা ক্রস ঘিরে জোনাকির দল ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রথমদিনকার কাকের দল যেমন ঘুরছিল। চার্চের পেছনের বুনোকুলের জঙ্গল থেকে মিষ্টি ঘ্রাণ আসছিল। তাদের ভেতর মাথা তুলে আছে নিঃসঙ্গ থাম। বারবারা জানিয়েছে, এখানে রান্নাঘর ছিল। এখন সব গ্রান্ট বন্ধ। স্থানীয় দুয়েকজনের সামান্য অনুদান বাদে কিছু নেই। থামের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে ভিনদেশের প্রাণী মনে হচ্ছিল। অ্যারন পাশে এসে বলল, ‘আমরা ছোটোবেলায় এখানে খেলেছি অনেক। মেয়েদের দল আসত আড্ডা মারতে। তবে চার্চটা ভূতুড়ে হয়ে আছে অনেকদিন।’

‘এরকম জঙ্গলের মধ্যে ভাঙা চার্চে কেন থাকে দু-জন পুরোহিত?’

‘ডোডোর কোথাও যাবার নেই। মা রাঁচি নিয়ে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু বাবা তাতে খুব একটা খুশি হত বলে আমার মনে হয় না। আর দ্বিতীয় কথা, অভ্যেস বলে একটা ব্যাপার আছে। ষাট বছর ধরে একটা জায়গায় থেকে গেলে সেটা থেকে বেরোনো কঠিন। রেভারেন্ড মান্ডির ব্যাপার অবশ্য জানি না। বয়েস অল্প, চাইলেই অন্য কোথাও যেতে পারেন। হয়তো বিভ্রম, একদিন জায়গাটার হাল ফেরাবেন ।

‘কিন্তু, তোমার দাদুর দেখাশোনা—’

‘মা পয়সা দেয়। এক দেহাতি বুড়ি রান্নাবান্না করে, খেয়াল রাখে। সে-খেয়াল রাখার নমুনা তো নিজের চোখেই দেখলে।’ অ্যারনকে জিজ্ঞাসা করলাম ডেভিড ব্রাউন বিষয়ক স্মৃতি তার আছে কি না। “আবছা। সারাদিন বুকে মাথা গুঁজে বসে থাকা এক বুড়ো। আমায় কখনো কোলে নেয়নি। লাল চোখে তাকাত। বিড়বিড় করত নিজের মনে। ঘর থেকে বেরোত না। আমি কাছে ঘেঁষতাম না চট করে। বাড়িটা সবসময়ে ঝিমিয়ে থাকত। ডেভিড, আগাথা নিজের নিজের ঘরে শুয়ে থাকতেন। বাইরে আলো জ্বালানো হত না। পিসি এদিক-ওদিক ঘুরত আপন খেয়ালে। তারপর ফিরে এসে নিজের খাবার নিয়ে ঘরে চলে যেত। ওরা কেউ কারোর সঙ্গে কথা বলত না। সেই থেকে মা আমাকে এখানে রাখতে চায়নি। আমরা আর্চি আঙ্কলের কটেজে উঠতাম।’

‘এতটা ক্ষয় কীসের কারণে, অ্যারন? শোকেরও তো আয়ু থাকে।

‘আমি সে-শোককে মানি না। আমার বিশ্বাস, অন্য কোনো অন্ধকার- আমরা অবসাদগ্রস্ত, বলেছিলাম তোমাকে।’

‘তাহলে তুমি এখানে আছ কেন? দিল্লিতে কেন চলে যাচ্ছ না, বা, অন্য কোথাও?”

চট করে জবাব দিল না অ্যারন। ফ্লাস্ক থেকে এক ঢোক মদ খেল। ও কি সারাদিন মদ খায়? অন্য খাবার খেতে দেখিনি, এমনকী গতকাল টমাসের বাড়িতে গিয়েও মুখে তোলেনি কিছু। চার্চের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমি একটা সময় পর্যন্ত চাইতাম শেফ হতে। এখন চাই না। কী চাই, সেটা পরের কথা। আপাতত কিছুদিন এখানে থাকতে চাই, কারণ তুমি আছ।’

‘আমি আছি তো কী? ‘

অ্যারনের স্বরে আবেগ ছিল না, উত্থানপতনও নয়। ‘আমি দেখতে চাই, তুমি একটা কমিউনিটিকে কতদূর খুঁড়তে পারো। কারণ, এই প্রথম আমাদের মধ্যে একজন এসেছে যে কিছু নতুন প্রশ্ন করেছে। সেই প্রশ্ন তাকে কতদূর নিয়ে যাবে, সেটা আমি জানব। আগেও বলেছি, আই হ্যাভ টু বেয়ার টেস্টিমনি।’

নিশ্বাস ফেললাম, ‘আমি আর মাত্র তিনদিন আছি।’

‘ছুটি বাড়াও। শুধু ক্রিসের জন্য বলছি না। আমাদের জন্য। আমি অনুভব করছি কিছু একটা। যেন আমরা সবাই গলার কাছে দম আটকে অপেক্ষা করছি, কিছু একটা ঘটবে। এখন তুমি সব ছেড়ে চলে গেলে আগামী তিরিশ বছরের জন্য আবার অন্ধকার নেমে আসবে।’

‘আমার অত ক্ষমতা নেই, অ্যারন। আমিও চাই জানতে, কিন্তু এখানে কেউ বিচ্ছু জানাতে প্রস্তুত নয়। তুমি কেন চাও? প্রথমদিন তো উলটো কথা বলেছিলে।’

অ্যারন ওভারকোটের হাতা গোটাল। এগিয়ে দিল কবজি। আধো অন্ধকারে ঝুঁকে দেখতে গিয়ে আমি সশব্দে শ্বাস টানলাম। অসংখ্য পোড়া দাগ হাতের তালু থেকে শুরু হয়েছে। শুকিয়ে কালো, কোনোটা গভীর গর্ত করেছে। কালো ছোপ পড়ে গোটা হাত বীভৎস আকৃতি নিয়েছে। সিগারেটের ছ্যাকা এরকম হয় ।

‘তোমার বাবা?’

‘বাবার হাতেও ছিল। ডেভিড ব্রাউনের অবদান।’

মুখে হাত চাপা দিলাম। এমন বাস্তবে দেখিনি ।

‘গল্পটার এবার শেষ হোক, তনয়া। যে কাজ একদা করেছিল মানুষ, সেই একই কাজ আবার এবং আবার এবং আবারও করে যাওয়ার মতো অভিশাপ আর হয় না।’ ‘অ্যারন, আমি সরি—

‘কিছু আসে-যায় না। আমি চাই একটা রেজোলিউশন— আমাদের এই বিশ্রী ছ্যাতলাপড়া ইতিহাসটার, কোনদিকে যাবে সেটা না-বুঝে বিভ্রান্ত দাঁড়িয়ে আছে বহু বছর।’ বারবারা বেরিয়ে এল চার্চ থেকে। ‘ব্লাডি আরতিকে এবার তাড়াব। খেয়াল রাখে না বুড়োর। আর, বুড়োর শখও কম না। বিকেল হলে পাড়া চরতে বেরোবে। কেন, কী মধু আছে তোর ঝোপেঝাড়ে?’

‘ঘরে গেল?’

‘না, মাথায় পোকা নড়েছে। বেসমেন্টে শুতে চলে গেল। খাবে না বলল আজ। অনেক আটকাবার চেষ্টা করলাম, লাভ নেই। থাক ওখানে। সাপে কাটুক, ঠেলা বুঝবে। খালি বলছে, কে ছাতার মাথা আর্থার না কে, তার কাছে যাবে।’

‘আমাদেরও বলেছেন। আর্থার আবার কে? স্থানীয় কেউ?’

.

“ছিল একজন। আর্থার মরিসি। পুরোনো যুগের সেটলার। সে তো কুড়ি বছর আগে মরে গেছে। বুড়োর ছেলেপুলে ছিল না। কটেজটা ওদেরই দেহাতি কেয়ারটেকার ভোগদখল করছে।’

‘নাহ্। এক বৃদ্ধকে মানবশিশু বলবেন না রেভারেন্ড। অন্য কেউ হবে হয়তো।’

‘আর কাউকে মনে করতে পারছি না, বাবা। রেভারেন্ডের মাথায় পোকা নড়েছে।’

জোহার হালে-র নির্জন বনপথ ধরে আমরা গাড়ির দিকে ফিরছিলাম। শিকারি বেড়ালের মতো গুঁড়িপায়ে কুয়াশা নামছে। গাছপালা হিমে ভিজে জবজবে। বুনোফুল ঝরে বনাঞ্চলে মিষ্টি কটু গন্ধ আমাদের ঘিরেছে। দূর থেকে শীর্ণ ঝোরার ক্ষীণ শব্দ পেলাম। আমার চোখ বার বার অ্যারনের হাতের দিকে চলে যাচ্ছিল। বুঝতে পেরে নিঃশব্দে দু-দিকে ঘাড় নাড়ল অ্যারন। তখন আমার সামনে ঝুপ করে শুকনো পাতার ওপর যেন কিছু পড়ল। গাছের ফল ভেবে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে আমার চোখ চলে গেল মাটিতে। আমি দেখলাম বিকেলে জলাভূমির ধারে যে মাথা-ভাঙা পুতুলটাকে হাতে তুলে নিয়েছিলাম, সেটা এখন আমার পায়ের সামনে।

চিত্রার্পিতর মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম কয়েক মুহূর্ত। তার মধ্যেই অ্যারন ছিটকে গেল সামনে। কুয়াশায় অদৃশ্য হয়ে যাবার পর আমার সংবিত ফিরল। দেখলাম বারবারা বোবাচোখে পুতুলটাকে হাতে তুলে দেখছে। আমার দিকে মুখ তুলল, ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল, ‘ক্রিস।’ ‘বাজে কথা বোলো না!’ কিন্তু, আমার স্বরে জোর ছিল না। দুর্বল গলায় বললাম, ‘কেউ প্র্যাঙ্ক করছে।’

‘ক্রিসের পুতুলের শখ ছিল। খেলতে ভালোবাসত।’

‘তিরিশ বছর আগেকার পুতুল এতদিন পরে—’ অস্থিরভাবে আমি বারবারার হাত ধরলাম, ‘জলাভূমিতে আজ এটাকে আমি কুড়িয়ে পেয়েছিলাম।’

অ্যারন ফিরে এল হাঁফাতে হাঁফাতে, ‘কেউ নেই। কুয়াশায় দেখাও যাচ্ছে না কিছু।’ কোমরে হাত রেখে তীব্রদৃষ্টিতে তাকাল আমার দিকে, ‘আমরা যখন জলাভূমির ধারে বিকেল বেলা বসে ছিলাম, অন্য কেউ আমাদের দেখছিল।’

‘ক্রিস।’ আবার বলল বারবারা। ঠিক সেই সময়টায় আমার মনে হল, কাছে কেউ দাঁড়িয়ে। পেছন ফিরলাম এবং কাউকে দেখতে পেলাম না। ফিসফিসে হাওয়া গাছেদের ভেতর দিয়ে চলাচল করছিল, আওয়াজ হচ্ছিল সিঁ সিঁ। হাওয়ায় দুলছিল পাতাগুলো। কিন্তু, সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য জীবনের স্পন্দন ছিল না।

‘১৮ মার্চ এডওয়ার্ড ব্রাউন রাত্রিবেলা বাড়ি ফেরেননি। তার দু-দিন আগে গঞ্জে এসেছিলেন, কারণ তাঁদের বাড়িটা ভাঙাভাঙির কাজ আটকে ছিল কোনো এক আইনি জটিলতায়। ফলত, এডওয়ার্ডের বাকি টাকা আটকে থেকেছিল। রিয়েল এস্টেট থেকে জানিয়েছিল, এই ল্যান্ড নাকি ডিসপিউটেড, আগের মালিকের বংশধর, তিনি রাতুর মহারাজার দেওয়ানের উত্তরাধিকারী, মিউটেশন সংক্রান্ত একটা মামলা তুলে গত তিন বছর ধরে আটকে রেখেছেন। এডওয়ার্ড রাঁচি থেকে আসেন, তারপর নিখোঁজ হয়ে যান। কেউ তখন গা করেনি, কারণ একটা রাত অনেক জায়গাতেই কাটাতে পারেন তিনি, বোনের কাছেও। পরদিন বেলা এগারোটা নাগাদ রেভারেন্ড স্টিফেন মান্ডি এডওয়ার্ডের দেহ আবিষ্কার করেন চার্চ সংলগ্ন জায়গাটায়। তিনি টাউনের বাইরে গিয়েছিলেন, নাহলে ভোরবেলাই বডি পাওয়া যেত।’

‘অ্যালিবাই?’

‘বারবাবার ছিল। আগের রাত্রে ঘরে বসে আপনমনে বকবক করছিলেন ভোর অবধি, রাঁধুনি সাক্ষী। ময়নাতদন্ত অনুযায়ী খুনের সময় রাত একটা থেকে তিনটের মধ্যে। সেইসময়ে বারবারা একাধিক বার ঘর থেকে বেরিয়েছেন আর ঢুকেছেন, পুনমের তাতে ঘুম ভেঙেছে।’ অক্ষয় হাসলেন। ‘অ্যারনের ছিল না।’

.

‘অ্যারন? আপনাদের তাই মনে হয়?’

হয়?’ ‘অ্যারনের অ্যালিবাই ছিল না। কিন্তু, আমরা মোটিভ খুঁজে পাইনি। আপনার কী মনে

‘অ্যারন করতে পারে না এমন নয়। কিন্তু কেন করবে? ওকে আপনি তো দেখেছেন নিশ্চয়! জীবনকে ও যেভাবে দেখে, সেখানে একটা খুন নিজের হাতে করা যুক্তিগ্রাহ্য ঠেকছে না আমার। করলেও, ওর যা স্বভাব, স্বীকারোক্তি দেবে। আচ্ছা, আর্চি কোথায় ছিলেন? মনীষার কাজিন।’

‘দিল্লিতে ফিরে গেছেন অনেকদিন আগে। ওই লাইনে এগিয়ে লাভ হত না। এই ঘটনার সঙ্গে আর্চির সম্পর্ক নেই, সেটা আমরা খতিয়ে দেখে নিয়েছি।’

সোমেন প্রশ্ন করলেন, ‘একটা কথা বলুন। আপনি একে-ওকে প্রশ্ন করলেন, কথা বললেন এত। তাতে প্রচুর তথ্য এল আপনার হাতে, সবই বুঝলাম। কিন্তু, দুই-তিনদিনের মধ্যে আপনি ফিরে যেতেন। সেক্ষেত্রে এত তথ্য ঘেঁটে সত্যিই এত কম সময়ে আপনি সমাধানে আসবেন ভেবেছিলেন?”

‘না, জানতাম সেটা সম্ভব নয়। আমি ভেবেছিলাম দিল্লি ফিরে সময় নিয়ে এগুলোকে এক সুতোয় বাঁধব। কারণ, প্রচুর ব্লু তো ততদিনে এসে গেছে। একটা বাড়ি, তার ভেঙে পড়া পরিবার, তাদের ধীরে ধীরে উন্মাদ হয়ে যাবার কাহিনি, একটা অদ্ভুত চার্চ, তার জরাগ্রস্ত পুরোহিত, একটা ভূতুড়ে টাউনঅনেক সূত্র আমার সামনে ছিল। গোটাবার পালা ছিল আমার। ওখানে থাকার সময়টা জুড়ে সমাধানের কথা আমি ভাবিইনি, বরং একটা কমিউনিটি কীভাবে আস্তে আস্তে শেষ হয়ে গেল তার আখ্যানটা যেন পেয়ে বসেছিল আমাকে। আমি অ্যাগনেস বা ক্রিসের ঘটনার থেকে এই নিয়তিটা, এই সার্বিক পতনের গল্প যেটুকু, তাকে আলাদা করতে পারছিলাম না। সেটা গল্প লেখার জন্য ভালো, কিন্তু সমাধান তো একমুখী মনন ডিজার্ভ করে। সেটাকে দিল্লি ফিরে নিজের জায়গায় গুছিয়ে না-বসলে পাব না জানতাম।’

‘কিন্তু, অ্যাগনেসের ব্যাপারে আপনার কথা তখন কেউ বিশ্বাস করেনি।’

‘অ্যারন বাদে। আজ ওর কী মনে হয় আমি জানি না,’ জোরে শ্বাস নিলাম। ‘একটা মেয়ে, যাকে সবাই ভুলে গেল, তাকে ভোলা অতটা সহজ ছিল না আমার কাছে। সে ভূত হয়ে মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে আছে, এটুকুই আসল ইতিহাস, তাই না? বাকিটা তো সরকারি নথি, যাকে কথনে পাওয়া যাবে না।’

‘আপনার কাউকে সন্দেহ হয়? এডওয়ার্ড ব্রাউনের ব্যাপারে?’

‘এত দূরে বসে? অসম্ভব! মাঝে কী ঘটে গেছে, আমি কিছুই জানি না। হয়তো অন্য কারণ, যার সঙ্গে এসবের সম্পর্ক নেই। সত্যি বলতে কী, আমার ইন্টারেস্টও ছিল না আগেও বলেছি।’ হাসলাম। ‘আমি এখন প্রাক্তন সাংবাদিক। গল্পের পেছনে ছোটার কাজ থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছি।’

‘সত্যের পেছনে ছোটার থেকে?’ অক্ষয় হালকা স্বরে প্রশ্ন করলেন। মাথা নাড়লাম আমি ।

‘ক্রিসকে দেখা গিয়েছিল। অ্যাগনেসের ভূতকে দেখা যায়। এগুলো সত্যি, না, গল্প? কার পেছনে ছুটব অফিসার?’

.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *