ত্রয়ী উপন্যাস -প্ৰথম পৰ্ব
ত্রয়ী উপন্যাস - দ্বিতীয় পৰ্ব
ত্রয়ী উপন্যাস - তৃতীয় পৰ্ব

দক্ষিণায়নের দিন – ১৫

পনেরো

হাসান ভাই পরদিন সকালেই ডেকে বললেন, রাখী আজ একসঙ্গে বেরুব, তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে।

নিজের অফিসে রাখীকে মুখোমুখি বসিয়ে হাসান হাসল। বলল, খুব রহস্য লাগছে তাই না?

রাখীও হাসল। বলল, রহস্য তো আমার কিছু নেই, যদি ভেদ করার কিছু থাকে তাহলে সে তো করবেন আপনিই

মানে?

রহস্যভেদী তো পুরুষমানুষই হ্য়। মেয়ে ডিটেকটিভের গল্প কোথাও পড়েছেন?

তাই তো! হাসানের চমক লাগে, রাখী ভারি মজার কথা বলেছে একটা। মেয়ে ডিটেকটিভ হয় না কেন? সহকারী হয়, কিন্তু পুরো ডিটেকটিভ হয়েছে কোনো মেয়ে, এমন তো দেখা যায় না।

হাসান ভাই তার অ্যাংলো সেক্রেটারিকে বসে বসেই গলা উঁচিয়ে জানায় – কেউ যেন বিরক্ত না করে, কিছু ব্যক্তিগত কথাবার্তা হচ্ছে এখন।

তারপর রাখীর দিকে তাকিয়ে বলে, শোনো, যেজন্যে তোমাকে এখানে নিয়ে আসা, কাল একটা কথা শুনলাম।

কী কথা? রাখী আগ্রহ দেখায়।

না, কথাটা তেমন কিছু নয়, তবে তোমার জন্য সিরিয়াস। তোমার আব্বা তোমার বিয়ের কথা চিন্তা করছেন। কে একজন প্রফেসর ভদ্রলোক নাকি তোমাকে বাসায় খুঁজতে এসেছিল। যা শুনলাম তাতে মনে হল, ভদ্রলোকের সঙ্গে তোমার ব্যক্তিগতভাবে জানাশোনাও আছে, তাই না?

রাখী ঈষৎ মাথা নাড়ায়। হাসান ভাই কোন্ কথা বলবে সেটা কি সে অনুমান করতে পারছে?

কিন্তু একটা কথা, একটু থেমে হাসান ভাই আবার শুরু করে, না-ভেবে হঠাৎ করে কিছু করে বোসো না- আমি তোমাকে স্নেহ করি, তুমি জীবনে সুখী হও, এটা আমারও ইচ্ছে। তোমার আব্বা পুরনো কালের মানুষ, তার মধ্যে পুরনো কতগুলো ক্ষয়ে-যাওয়া ভ্যাল্যুজ এখনো কাজ করছে। তিনি লাইফকে যেভাবে বিচার করেন, এ যুগে লাইফ আর সেরকম নেই। এ- যুগটাই হচ্ছে সম্পদের যুগ। সবকিছুর দাম এখন টাকায় বাঁধা। লাইফ যত নির্ঝঞ্ঝাট হয় ততই ভালো—প্রচুর টাকাপয়সা থাকলে অনেকরকম বাজে ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকা যায়। তাই বলছিলাম, বিয়ের ব্যাপারে ডিসিশন নেওয়ার সময় ভুল ক’রো না। যদি কারো সঙ্গে তোমার কোনো অ্যাফেয়ার থাকত, কারো কাছে তোমার কমিটমেন্ট থাকত, তাহলে সেটা হত অন্য কথা— সেরকম জানলে আমি তোমাকে এসব কথা বলতাম না। আমি তো ছোটবেলা থেকে তোমাকে জানি, তুমি সে টাইপের মেয়ে নও। তোমার জন্য পিসফুল হোম দরকার। অল্প আয়ের লোকের সঙ্গে বিয়ে হলে তোমার কষ্ট হবে।

রাখী হাসান ভাইয়ের কথার খেই ধরে রাখতে পারে না। লক্ষ করে, অফিসের চেয়ারে বসলে হাসান ভাইকে অন্যরকম লাগে। কেমন যেন একটু বেশি ভারিক্কি, একটু বেশি হিশেবি, আর সেইসঙ্গে একটু বেশি সতর্ক। কথা শুরু করার পর থেকেই মনে হচ্ছিল, তার বিয়ের ব্যাপারেই কিছু বলবে হাসান ভাই এবং টাকাপয়সার কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই সে বুঝে ফেলল কার কথা বলতে চায় তার আদরের ভগিনীপতিটি।

এবং সত্যি সত্যি, যখন মাজহারের নাম শুনল তখন সে ভারি মনোযোগের সঙ্গে হাসানের কানের পাশের একগুচ্ছ পাকা চুল দেখতে লাগল। সারা মাথায় ঐ এক জায়গায় একগোছা পাকা চুল— দেখতে বেশ লাগে কিন্তু, নিজেকে বলে সে মনে-মনে— আচ্ছা, যদি এমন হয় যে মাথার চুল সব পাকা শুধু ঐরকম একটুখানি কোথাও কাঁচা থাকে, তাহলে কেমন দেখাবে? ওদিকে তখন হাসান মাজহারের গুণগান করে চলেছে। তার টাকাপয়সা, ব্যক্তিত্ব, প্রতিপত্তি, মার্জিত রুচি, সুন্দর ব্যবহার— গুণের বর্ণনা আর ফুরোয় না। শেষে, সেও অনেকক্ষণ পর, জানাল মাজহার বিয়ের জন্যে প্রস্তাব দিয়েছে।

রাখী চমকাল না, বরং কৌতুক লাগল একটুখানি। হাসানকে অপ্রস্তুত করার জন্য বলল- এইজন্যে এত কাণ্ড? ও মা, আমি ভাবলাম কী না কী! এ তো আমি জানি, মাজহার সাহেব সরাসরি প্রস্তাব করেছেন আমার কাছে। তখন এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে।

হাসান ভাই অপ্রস্তুত হবার পর মুখের যে ভাবটা করলেন, সেট দেখবার মতো হল। কিন্তু রাখীকে উঠতে হয় তখন। বলল, চলি হাসান ভাই, আপনি বরং আব্বার সঙ্গে আলাপ করে দেখুন।

হাসান গম্ভীর হয়ে উঠল রাখীর কথায়। কিন্তু কিছু বলল না। এদিকে রাখীর দাঁড়াবারও সময় নেই। সে বেরিয়ে এল হাসান ভাইয়ের কামরা থেকে। বেরুবার সময় একটা সুন্দর ফিরিঙ্গি মেয়েকে দেখল, মেয়েটি হাসান ভাইয়ের কামরায় ঢুকছে। রাখীর মনে পড়ল ডেল্টা করপোরেশনে কয়েকটি ফিরিঙ্গি মেয়ে চাকরি করে বলে শুনেছিল সে। মেয়েটি তাহলে তাদের কেউ হবে।

রাখী সেদিন অফিসের কাজে ডুবিয়ে দিল নিজেকে। খুব কম কথা বলল মানুষজনের সঙ্গে। একবার মাজহার এসেছিল তার কামরায়- সেও শুধু সামান্য একটা কথা জানবার জন্যে। করাচির ডন কাগজে যে বিজ্ঞাপন পাঠানো হয়েছিল তার খসড়া কার হাতে তৈরি? রাখী কী বলবে ঠিক বুঝতে না-পেরে সোজাসুজি মিস মরিসের নাম জানিয়ে দিল।

কিন্তু ঐ চকিতে একটুখানি একবারের জন্য মাজহারের আগমন যে তুলকালাম কাণ্ড ঘটাবে সে কল্পনাও করতে পারেনি। যে কপি পাঠানো হয়েছিল সেটা করাচির অফিস ফেরত পাঠিয়েছে। এবং সেই ঘটনা থেকে খোঁজখবর শুরু।

রাখীর মনে আছে, বিজ্ঞাপনের খসড়াটা তৈরি করেছিল মিস মরিস। রাখী ভালো করে না-দেখেই সই করে সেটা ডেসপ্যাচে পাঠিয়ে দিয়েছিল। মাজহার চলে যাবার পর মনে হল, মিস মরিসের নামটা বলে ভালো করেনি সে। তক্ষুনি মাজহারের কামরায় গেল রাখী। গিয়ে জানাল, দোষটা তারই, দায়িত্বটা ছিল সম্পূর্ণ তার নিজের।

কিন্তু ড্রাফট কার? মাজহারের গলায় ওপরঅলার স্বর। ড্রাফট মিস মরিসের, রাখী স্বীকার করে, কিন্তু ওঁর তো কোনো দায়িত্ব ছিল না।

মাজহার রাখীর মুখচোখের অবস্থা দেখে হেসে ফেলল- আপনি অত ভাবছেন কেন? কেউ ভুল করলে তাকে শুধরে দিতে হবে না, বলুন? আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, কারো কোনো ক্ষতি হবে না। আপনি মিছিমিছি গায়ে পড়ে এ-ধরনের দোষ ঘাড়ে নিতে যাবেন না কখনো। আমি মরিসকে জানিয়ে দেব, ভবিষ্যতে আপনার ভালোমানুষির সুযোগ যেন না নেয়। এরকম আবার যদি ঘটে, তাহলে তার বিপদ হবে।

রাখী আর কিছু বলতে পারেনি, চলে এসেছে। কিন্তু নিজের কামরায় এসে বসার পর থেকে তার খারাপ লাগছে।

শেষে কাজে মন দিতে হয়েছে তাকে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে এলোমেলো ভেবেছে কিছুক্ষণ। তারপর আবার ফাইলের পাতা উল্টেছে। না, ভাববে না সে। যা হবার হয়ে যাক— এত ভাবতে পারে না আর। নিজের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ এসব তো আছেই, তারপর আবার পাশের লোকটির কথাও ভাবতে হবে তাকে? দরকার নেই তার।

একমনে টানা কাজ করল তারপর। মাঝখানে লাঞ্চ আওয়ারেও সে চেয়ার ছেড়ে ওঠেনি। উঠল একেবারে সেই বিকেল গড়িয়ে গেলে তবে।

অফিস থেকে বেরুবার জন্যে তৈরি হচ্ছিল, ঠিক এমনি সময় মিস মরিস ঘরে ঢুকল। তাকে দেখে রাখী সচকিত হয়। বলে, হ্যালো কী খবর?

আচ্ছা, আপনি কেন আমার পেছনে লেগেছেন?

আমি আপনার পেছনে লেগেছি? কী বলছেন আপনি! রাখী আকাশ থেকে পড়ে একেবারে।

এরপর ইভা চাপা অথচ তীব্র গলায় বলে চলল, হোয়াই ডোঞ্চিয়ু লিভ মি এলেন। আমি মাজহারকে ছেড়ে দিয়েছি, শুধু চাকরির জন্যে এখানে আসি সেটুকুও আপনার সহ্য হয় না? আমি তো কারো কোনো ক্ষতি করিনি! আমি কী করব বলুন, আমার পেটের ভাতটা তো আমাকে জোটাতে হবে।

রাখী লক্ষ করে থমথম করছে ইভার মুখ। সে ডেকে বলল, আগে বসুন আপনি, শান্ত হোন, তারপর খুলে বলুন কী হয়েছে।

সিস মরিস চেয়ারে বসে টেবিলে মাথা রেখে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল প্ৰায়! বলল, আমার আশা, আমার ভবিষ্যৎ সব তো গেছে, তবুও কেন আপনি আমাকে তাড়াতে চাইছেন?

রাখী ছবির মতো বসে বসে দেখল। দেখল, শুনল আর অপেক্ষা করল। মিস মরিসের জন্যে খুব খারাপ লাগল তার। কেমন করে বোঝাবে, যে এই ব্যাপারে সে কিছুই জানে না। কেমন করে জানবে, যে মাজহার যদি কিছু বলে থাকে তাহলে তাতে তার কোনো হাত ছিল না। সে বুঝতে পারছিল, বোঝাতে চাইলেও মিস মরিস এখন তার কথা বুঝবে না।

ইভা মরিস মাথা তুলল না, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। আমি কী ক্ষতি করেছি তোমার, বলো? তোমার কোনো ক্ষতি করিনি আমি কখনো।

রাখী ইভার ঘাড়ের ওপর ছড়িয়ে পড়া চুলের রাশের দিকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। মিস মরিস দেখতে সত্যি সুন্দর। রাখী ডাকল, লুক মিস মরিস, প্লিজ!

ইভা মাথা তুলল না, কেবলি মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলে চলল, নো নো, তোমার কোনো কথা শুনব না।

রাখীর শেষে খারাপ লাগে। ভীষণ বিরক্ত হয়ে প্রায় ধমকে ওঠে। বলে, মিস মরিস, উয়িল য়ু স্টপ?

মাথা তুলল এবার ইভা। দুচোখ ভর্তি পানি, তীব্র গলায় বলল, কেন চুপ করব? চুপ না করলে মাজহারের কাছে আবার নালিশ করবে এই তো? বেশ করো, আই’ম রেডি ফর দ্যাট, ডু হোয়াট এভার য়ু লাইক।

রাখীর আর সহ্য হয় না। সে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। বেরিয়ে গিয়ে রিকশ চেপে বসে। রিকশটাকে প্রথমে আজিমপুরের দিকে যেতে বলে, কিন্তু আবার মাঝপথে রমনা মাঠের পাশে রিকশ থেকে নেমে পড়ে। কোথাও কি যাচ্ছে সে? রিকশটা বিদায় করে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বিকেলবেলার মুখোমুখি হয়। এইভাবে পালিয়ে কোথায় যাবে সে? সে রমনা মাঠের দিকে গেল, গলফ্ টার্ফের সবুজ ঘাসের জায়গা দেখে চুপচাপ বসল একাকী।

কেন এমন হল? চাকরিটাই কি এত সব জটিলতার কারণ? চাকরি ছেড়ে দিলেই কি জীবনের যাবতীয় জটিলতা চুকে যাবে? তার জন্য চাকরি মানেই কি দিনের পর দিন শুধু এইরকম উত্তেজনা আর অস্থিরতা? শুধু এইরকম সন্দেহ আর অবিশ্বাস? এইরকম ক্লান্তি আর অবসাদ?

রাখী একসময় উঠল। এত খারাপ লাগছে তখন ওর। কিন্তু বাড়ি ফিরতেও ইচ্ছে করছে না। একসময় শীতের ঠাণ্ডা হাওয়া বয়ে এল সামনের দিক থেকে। রাখীর সামনে তখন হেমন্তের সন্ধ্যা, ময়দানের ওপর কুয়াশা ভাসছে, সে দেখতে পায়। হঠাৎ মনে হয় কে যেন ডাকছে, রাখী, রাখী- ঈ। পেছন ফিরে দেখল, চারদিকে তাকিয়ে দেখল, কেউ নেই কোথাও। হ্যাঁ, কিশোরকণ্ঠের ডাক শুনছে রাখী তখন।

রাখী উঠে দাঁড়াল। না রাখী নয়, অন্য কোনো নামে ডাকছে একটি কিশোর, কোনো রাখাল অথবা মালীর। মনে পড়ল, একেক দিন এই রমনা ময়দানেই মনি ভাই আর সে লুকোচুরি খেলত। একদিন সে লুকিয়ে পড়েছিল একটা ঢিবির আড়ালে। আর মনি ভাই চিৎকার করে ডাকছিল তাকে। ঠিক ঐ গলার স্বর যেন অবিকল রাখীর কানে বাজল সেই মুহূর্তে।

রাখী তারপর আকাশের তারা দেখল, ময়দানের শেষপ্রান্তে গাঢ় অন্ধকার গাছগুলোর মাথার ওপর দিয়ে ওয়ারলেস সিগনালের দপদপে লাল বাতি দেখল। আর মনের ভেতরে কাঁদল। তার ভালোলাগা সন্ধ্যা, স্মৃতির ওপার থেকে ডাক দেয়া সন্ধ্যা, তাকে আরো একাকী করে দিল। কিছুক্ষণ আগের ক্ষোভ, কষ্ট, অপমান সব ছাপিয়ে কান্নার স্নিগ্ধ স্রোত বয়ে গেল অনেকক্ষণ ধরে। শেষে রাখী ময়দান থেকে উঠে এল। উঠে এসে সোজা স্কুটারে চাপল। বলল, চলো লক্ষ্মীবাজার।

স্কুটারে চেপে যেতে যেতে সারাটা রাস্তা সে কোনোকিছু ভাবল না। তখন রাত্রি হচ্ছে। গুলিস্তানের নিয়ন সাইনগুলো জ্বলছে আর নিভছে। মানুষ, গাড়ি, সাজানো দোকান এইসব দেখল। ওদিকে ট্রাফিক পুলিশ হাত তুলে ধরেছে নবাবপুর মোড়ে। একটি গাঁয়ের বউ স্বামীর পাশে রিকশয় জড়োসড়ো হয়ে বসে ঘোমটার আড়াল থেকে বড়বড় চোখ মেলে শহর দেখছে, মেয়েটির নাকে আবার নোলক। লাল রঙের একখানা গাড়ির স্টিয়ারিঙে হাত রেখে একটি অবাঙালি মেয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে।

গোপীদত্ত লেনের মোড়ে অন্ধকার। গলিতে ঢুকতে যাবে, ঐসময় একটি ছেলে গলির ভিতর থেকে বেরুচ্ছিল। রাখীকে দেখে দাঁড়াল। জিজ্ঞেস করল, আপনি সেজান ভাইয়ের কাছে যাচ্ছেন?

হ্যাঁ, নেই বাসায়?

না, মনসুর মারা গেছে। সেজান ভাই হাসপাতালে।

মনসুর? রাখী চিনতে পারে না।

হ্যাঁ, আমাদের পার্টির কর্মী, আজ অপারেশন হয়েছিল।

রাখী স্তব্ধ হয়ে গেল।

ছেলেটি তখনো বলে চলেছে, কিছু বলবার থাকলে বলুন, সেজান ভাইকে আমি জানাব।

রাখী মাথা নাড়ায়, না কিছু বলার নেই। ছেলেটি আর দাঁড়াল না। রিকশ ডেকে উঠে পড়ল।

রাখীর ভয়ানক নিঃস্ব বোধ হল সেই মুহূর্তে। কীরকম অর্থহীন তার এখানে চলে আসা। জীবন কেবল হাতছানি দেয়। দান করে না কিছুই। ক্ষোভ বলো, দুঃখ বলো, সাধ বলো, কোনো ব্যাপারেই জীবনের কিছু দেবার নেই। ভাবনা যাই হোক, ইচ্ছে যাই হোক, জীবন তার নিজের নিয়মমতো চলে। রাখী বুকের ভেতরে প্রকাণ্ড একটা ভার নিয়ে ফের রিকশয় উঠল।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *