ত্রয়ী উপন্যাস -প্ৰথম পৰ্ব
ত্রয়ী উপন্যাস - দ্বিতীয় পৰ্ব
ত্রয়ী উপন্যাস - তৃতীয় পৰ্ব

কুলায় কালস্রোত – ৬

ছয়

সন্ধ্যা হতে হতেই রাখীকে হাসপাতালে সরানো হল। রাশেদ সাহেব হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে বসে থাকলেন কিছুক্ষণ। কিছুক্ষণ হাসপাতালের খোলা লন-এ হেঁটে বেড়ালেন। বুলু থাকল রাখীর কাছে। রাখীর তখনও ব্লিডিং সমানে হয়ে চলেছে। দুজন ডাক্তার দেখছেন পর পর। একসময় রাখীর অস্পষ্ট নজরে মনে হল, দেয়াল, মানুষ, দরজার পর্দা, ডিসপেন্সিং ট্রলি, সার সার বেড— সবাই যেন একটা পর্দায় আঁকা। থেকে-থেকে কখনো মনি ভাইয়ের, কখনো আব্বার, কখনো বুবুর মুখ দেখতে পাচ্ছিল। একসময় যেন দেখতে পেল, সবাই কেমন ঝুঁকে রয়েছে তার দিকে। টিউবসুদ্ধ রক্তের বোতলের স্ট্যান্ডটা মনে হল হাজার হাজার মাইল দূরে দাঁড়িয়ে আছে। মাথাটা মনে হল ভীষণ ভারী, পাশ ফেরানো যায় না। আর থেকে-থেকেই অসম্ভব ক্লান্তি লাগছিল। তলপেটের দুপাশ দিয়ে কী যেন কেটে কেটে যাচ্ছে বলে মনে হল। শুধুই কেটে ফেলছে তাকে। তার গোটা অস্তিত্বটাকে কে যেন কসাইয়ের মতো টুকরো টুকরো করে কাটছে। একবার মনে হল, ডাক্তার, তার শরীরে অপারেশন হচ্ছে, পরক্ষণে মনে হল, মাজহার খান তাকে কেটে চলেছে। কিংবা মাজহারও যেন নয়, অন্য কে একটা লোক। চারদিকে লালচে, গোলাপি মেঘ, কেউ যেন তাকে দোলাচ্ছে। ঠংঠং করে ধাতব আওয়াজ হচ্ছে অনেক দূরে কোথায়।

সবই আসলে চেতনা আর নিশ্চেতনার মাঝামাঝি জায়গার ব্যাপার। স্পষ্ট নয় কিছুই। শুধু ছায়া থেকে ছায়ান্তরে ঢুকে যাওয়া- একটা ছবি থেকে আর একটা ছবিতে গিয়ে মেশা। কিংবা একটা ছবির আবার ভাগ ভাগ হয়ে আলাদা আলাদা হয়ে যাওয়া।

যখন তার পুরো জ্ঞান ফিরল, তখন তার মনে পড়ল সবকিছু এবং বুঝতে পারল যে সে হাসপাতালে। সময়টা বোধহয় মধ্যরাতে। দেখে বুবু তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। দেয়ালের হালকা আলোয় বুবুর চোখ দেখা যায় না। অনুভব করল একেকবার বুবুর ঠাণ্ডা হাত তার কপালের ওপর এসে অস্থির হচ্ছে। কিছু ভাবল না। মনে করতে চেষ্টা করল না, কী হয়েছিল। শুধু একবার অস্ফুট উচ্চারণ বেরুল মুখ দিয়ে, আব্বা!

আব্বা সকালে আসবেন তুই ঘুমো, কথা বলিস না।

পুরো একটা দিন দারুণ উদ্বেগের পর বুলুর বুক থেকে এই প্রথম স্বস্তির নিশ্বাস বের হয়। তার মনে হয়, রাখী নিশ্চয়ই জামানকে খুঁজবে, জামানের কথা বললে হয়তো রাখী খুশি হবে। কথাটা মনে হতেই রাখীর কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে করে শুধাল, জামানকে ডেকে পাঠাব?

জামান, কোন্ জামান? রাখীর মনে পড়ল একটু পর। জামান, মানে তার স্বামী। তার বাচ্চা হওয়ার কথা ছিল। তাই কি সে হাসপাতালে? নাকি অন্যকিছু?

না, আপন মনেই মাথা নাড়ায় রাখী, ততক্ষণে ফের তার মনে থেকে সবকিছু মুছে গেছে।

তারপর শাদা দেয়ালের দিকে তাকিয়ে মধ্যরাতের নিঃশব্দতার মাঝখানে রাখী জেগে থাকে। জেগে থাকতে থাকতে কেমন যেন একটু একটু করে অনুভব করতে আরম্ভ করে। হ্যাঁ, একটু একটু করে- তার হাত-পা, চারপাশের দেয়াল, তার চারদিককার শূন্যতা— সব অনুভব করল একটু একটু করে। শেষে বুঝল, বুঝল আর অনুভব করল- সে নেই। আরেকজন আর নেই। তার রক্তের নিভৃত গোপনে যে ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল, তার সব ভাবনার ভেতরে যে ক্ষণে ক্ষণে ছোট ছোট পা ফেলে এদিকে থেকে ওদিকে ছুটে যেত, যে তার সকল ইচ্ছার মধ্যে স্পন্দিত হতে আরম্ভ করেছিল, সে নেই।

ঐ কম সময়ে ভয়ানক নিঃসঙ্গতার একটা অনুভূতি ছেয়ে যায় তার সারা মনে। নেই-নেই-নেই। কী ভয়ানক এই অস্তিত্বহীনতা। সে নিজে কি বেঁচে আছে? রাখী তুই কি বেঁচে আছিস? রাখী ঐ অস্পষ্ট চেতনার মধ্যেই নিজেকে শুধায়, বেঁচে আছিস তুই?

রাখী আরেকবার জাগল। ঐ অস্পষ্ট চেতনার মধ্যে আবার জেগে ওঠা। তার বিচিত্র সব স্মৃতি ছায়ার মতো দুলে দুলে চলল চারদিকে। কে যেন ডাকল, রাখী আবার আসবি, আসবি না, বল্? কার গলা? কে জিজ্ঞেস করেছিল, রাখীর মনে পড়ে না। কিন্তু রাখী উত্তর শুনল, আসব, আমি আবার আসব।

ঐ কথা, তারপর শুধু আসব-আসব-আসব-আসব! রাখীর ঐ কথাটাই মনে পড়ল খালি। শেষে স্তোত্রের মতো কেউ যেন বলল, আমি আবার ফিরিয়া আসিব। এবার মনে পড়ল, নমিতা দিদিমনির গলা। বাইবেল পড়ে শোনাচ্ছেন।

হ্যাঁ, যেশাসের কথা। ঐসময় তার চেতনা স্পষ্টতর হয়ে প্রশ্ন হয়ে যেতে লাগল। আস্তাবলের ম্যাঞ্জারে ডিসেম্বরের ঠাণ্ডায় যদি যেশাস মরে যেত? কিংবা যদি জর্ডন নদীর পানিতে পড়ে যেত, পড়ে ভেসে যেত? মেরি মাতা তখন দ্যাখো, গোলান মরু পাহাড়ের নিচে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে- বাতাস শিস কেটে যাচ্ছে খেজুরগাছের পাতায় পাতায়। যোশেফ আসছে পেছনে পেছনে- মাতা মেরি একাকী, একাকী আর শূন্য। কোলে তার ছেলে নেই। রাখী কাঁদতে পারত। কিন্তু কান্না আসে না তার। একেক সময় বিপুল একটা নিঃস্বতাবোধের মধ্যে সে ডুবে থাকে। কোনো-কোনোদিন শূন্যতাবোধটা প্রকাণ্ড ভারী পাথরের মতো ক্রমেই বুকের ওপর চেপে বসতে থাকে। কিন্তু সে কিছু করে না- করতে পারে না। শুধু দুচোখ মেলে মেলে দেখে চারদিকে।

একেক দিন জামান কাছে আসে। এসে শিয়রের কাছে বসে থাকে। হাত ধরে বলে, কেমন আছ আজ?

রাখী হাসে না। বলে, ভালো আছি। ঐ পর্যন্তই। আর কিছু রাখীকে বলতে হয় না। জামান নিজের কথা একনাগাড়ে বলে যেতে থাকে- রিসার্চের কাজটায় আবার হাত দিতে হচ্ছে— ডক্টরেট বোধহয় ঢাকা য়ুনিভার্সিটি থেকেই পাওয়া যাবে। ডিজিকে সে বাগিয়ে ফেলেছে প্ৰায়- এজমিনারদের ম্যানেজ করা তো এখন সোজা। কিন্তু একটা কথা—

রাখীর কৌতূহল হয় না, তবু শুধায়, কী?

ভাবছি ডক্টরেট দিক বা না দিক, স্কলারশিপের জন্যেই আমি বেশি করে লেগে থাকব। মন্ত্রীদের কয়েকজনকে ধরেছি, বোধহয় হয়ে যাবে, তোমাকেও কিন্তু যেতে হবে।

রাখীর হাসি পায়, জামান এখনও তাকে লোভ দেখায়। সেও মাজহারের মতোই কথা বলতে চায়। মুখ ফিরিয়ে নেয় তখন রাখী। দেয়ালের দিকে নজর রেখে কখনো বুবুকে ডাকে। কখনো আব্বাকে ডাকে।

রাখী একেক সময় আবার শান্ত হয়ে যায়। আব্বা যখন কাছে এসে বসেন, তখন ভাবনা-চিন্তাগুলো যেন একেকবারে উবে যায়। আব্বা মাথায় হাত বোলান। মুখ দেখা যায় না তাঁর। কিন্তু তবু রাখী অনুভব করে অশেষ মমতা ঝরে পড়ছে আব্বার হাতের ছোঁয়ায়।

কোনো কোনো সময় রাখীর কথা বলতে ইচ্ছে করে। বলে তখন জীবনের কথা, বেদনার কথা, স্বপ্নের কথা। রাখী এমন কথা কখনো বলেনি আগে। রাশেদ সাহেব শোনেন শুধু। কিন্তু বলতে পারেন না। তাঁর ছোটমেয়ে— এই তো সেদিন জন্ম হল। সালমা ভারি কষ্ট পেয়েছিল ওর জন্মের সময়। বলত, এ মেয়ে ঠিক ভোগাবে, দেখো তুমি। দেখতে সুন্দর হলে কী হবে, ওর জন্যে শেষপর্যন্ত কপালে দুঃখ আছে তোমার।

এই মেয়েকে কতদিন বুকে করে ঘুম পাড়িয়েছেন। এই তো সেদিন ইস্কুলে গেল প্রথম। প্রথম শাড়ি পরে কী লজ্জা মেয়ের। সিঁড়িতে দুড়দাড় শব্দ হচ্ছে- আব্বা, আব্বা। ঝাঁপিয়ে পড়ল এসে মেয়ে কোলের ওপর। কী ব্যাপার, রাখীবাঈ, কী হয়েছে? রেজাল্ট বেরিয়েছে আব্বা, আমি ফার্স্ট। তখন হেমন্ত, গাছের মাথায় ঝিলিমিলি রোদ।

মানুষ কেন কিছুই বলতে পারে না আব্বা। নিজেকেই যদি চিনত মানুষ! শুধু নিজেকে! নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কথা কেন যে জানা যায় না। যতই মানুষ হাত বাড়াক, মানুষকে কেবলি মার খেতে হয়। আর পাপ না করলে বেঁচে থাকবার কোনো পথ খোলা থাকে না।

রাশেদ সাহেব ভয়ে সিঁটিয়ে যান। বড় ভয়ঙ্কর কথা এসব। মনি বলত ওর অসুখের সময়। মানুষের মুক্তির জন্যে লড়াই করতে গিয়েছিল, বিপ্লবের স্বপ্ন দেখত সে। কিন্তু নিজের মনের বিশ্বাস আর সন্দেহের খুনোখুনিতে ভেতরে ভেতরে রক্তাক্ত হয়ে মরে গেল। বলেন তখন, রাখীবাঈ, জীবন সম্পর্কে জেনারেলাইজেশন হয় না, মিছিমিছি কেন ওভাবে ভাবিস।

বলেন, কিন্তু ঐ বলায় জোর থাকে না।

সুমিতা সেদিন এসে খুব একচোট নিল। বলল, মুখপুড়ি শেষপর্যন্ত সেই অঘটনটাই ঘটালি |

সুমিতার মুখের দিকে তাকিয়ে ম্লান হাসে রাখী।

বলে, না রে সুমি, যখন চেয়েছিলাম ঘটাতে, তখনও বোধহয় সত্যিকারের ইচ্ছে ছিল না আমার। আমি বোধহয় সত্যিই মা হতে চেয়েছিলাম।

বাহ্, কথা শোনো মেয়ের! সুমিতা রাখীর কথায় আমল দিতে চায় না যেন। বলে, নে খুব দেখালি যা হোক, এবার যত্ন নিয়ে ওষুধ-টষুধ খা, আর জ্বালাস না আমাদের।

দ্যাখ্ সুমি, হাত ধরে বন্ধুকে কাছে টানে রাখী। বলে, মানুষ যা চায় তা বোধহয় হবার জো নেই। আমি যদি মা হতে সত্যি সত্যি না চাইতাম, তাহলে আমার ইচ্ছের উল্টোটা হয়ে আমাকে শেষপর্যন্ত মা-ই হতে হত, আর তাহলে এই অঘটনটা ঘটত না।

পাগল তুই, সুমিতা চিৎকার করে ওঠে প্রায়। বলে, সত্যি বলছি, তোর মাথা খারাপ হয়েছে। নইলে অমন উদ্ভট চিন্তা মগজে গজায় কারু?

না, সত্যিই আমার মনে হয়-

কচু মনে হয় তোমার, সুমি বিরক্ত হয়। বলে, তোর কথামতো দুনিয়াসুদ্ধ মেয়েরা যে মা হচ্ছে, সবারই তাহলে আনওয়ান্টেড চাইল্ড? তোর বুদ্ধির বাহাদুরি আছে বলতে হবে।

হাসপাতালে এসব দুর্ঘটনার জন্যে রোগীকে বেশিদিন রাখার নিয়ম নেই। কিন্তু শরীর থেকে অত্যধিক রক্ত বেরিয়ে যাওয়ার জন্যে ডাক্তাররা রাখীকে আরো কিছুদিন হাসপাতালেই ধরে রাখা শ্রেয় বলে মনে করলেন। রাখীও বেশ কটেজের ঘরটাকে মানিয়ে নিয়েছে। সকাল হয় শাদা দেয়ালে, দুপুরের বিচ্ছুরণ দেখা যায় ঐ শাদা দেয়ালে- আর সন্ধ্যার মেদুর ছাওয়া মিলিয়ে যায় ঐ শাদা দেয়ালেই। দেয়ালটা যেন রাখীর আকাশ। ঐখানেই সে বাইরের সবকিছু যেন দেখতে পায়। দেখতে পায় আর কেমন যেন অপেক্ষা করে। কিসের জন্যে, সে নিজেই জানে না। কখনো মনে হয় আব্বার জন্যে, কখনো মনে হয় সুমিতার জন্যে। পারভিনও আসে রোজ। আর আসে সেজান।

সেজান এসে মুখোমুখি টুলে বসে। দেখে রাখী, ওর চেহারা আজকাল কিছুটা উজ্জ্বল হয়েছে। পরিষ্কার জামা-কাপড় থাকে পরনে, চুল পরিপাটি আঁচড়ানো, চোখের লাল ভাবটা কেটেছে। সেজানের দুচোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কেমন যেন লজ্জা হয় রাখীর। লোকটা ভারি কোমল হাসে যেন কোথায়, দেখা যায় না, কিন্তু বোঝা যায়। মনে হয়, ভারি মমতার হাসি হাসছে। রাখীর মনের ভেতরে কোথায় যেন একটা স্নিগ্ধ ছোঁয়া লাগে।

জরুরি কোনো কথা হয় না। সেজান নিজের কথা বলে না, শুধু রাখীর কথা জানতে চায়। কোনো কোনোদিন তাও নয়-এমনিই এলোমেলো কথা বলে যায়।

দেখলাম তোমার কটেজের লনে রজনীগন্ধা ফুটেছে, রাতে গন্ধ পাও? বাগানের ফোয়ারাটা শুকনো ছিল এতদিন- আজ দেখলাম খুব জোর পানি ছুটছে। ভোররাতে ঠাণ্ডা-ঠাণ্ডা ভাবমতো হয়েছিল কাল, তাই না? বই পড়ো না কেন? আচ্ছা ঐ হাতভাঙা ছেলেটা আসেনি? কালো বেড়ালটাও বোধহয় পালিয়েছে। বেশ ভালো, ওটাকে দেখলেই আমার পো’র ভূতুড়ে গল্পগুলো মনে পড়ে।

রাখী!

একসময় নাম ধরে ডেকে সেজান হঠাৎ থেমে যায়।

উঁ, রাখী গলার স্বর নামিয়ে চোখ বোজা অবস্থায় সাড়া দেয়। তারপর সেজানকে কিছু বলতে না শুনে চোখ খুলে শুধায়, কিছু বলছেন?

না, কিছু না, সেজান মাথা নাড়িয়ে ম্লান হাসে। শেষে বলে, যাই এবার। কাল আসবেন তো?

কাল? কী যেন হিশেব করে সেজান। তারপর অনিশ্চিত ভঙ্গিতে বলে, দেখি।

সেজান চলে যায়। চলে যায়, কিন্তু কোথায় কী যেন রেখে যায়। চলে যাওয়ার পরও ওর উপস্থিতি অনুভব করা যায়। ওকে দেখে রাগ হয় না আজকাল। ও যেন সুহৃদয় বন্ধুর মতো। ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে আসে না কখনো। শুধুই থাকে দূরে, চিরকালের মতো

কিন্তু এছাড়া উপায় কী? আসলে দূরই তো রাখীর এখন বড় দোসর। নিকট তো দেখেছে সে। নিকটের ঘনিষ্ঠ চেহারা অনেক দেখা হল। বর্তমান অনেক অভিজ্ঞতা দিল- আর কত? দূরেই থাক ও। মোহ হোক,

স্মৃতি হোক, আশা হোক— দূরকে আর কাছে টানবার দুঃসাহস সে করতে যাবে না।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *