• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Library

Read Bengali Books Online (বাংলা বই পড়ুন)

  • Login/Register
  • Account

নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ২ – সৌভিক চক্রবর্তী

লাইব্রেরি » সৌভিক চক্রবর্তী » নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ২ – সৌভিক চক্রবর্তী
নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ২
লেখক: সৌভিক চক্রবর্তীবইয়ের ধরন: গোয়েন্দা (ডিটেকটিভ)

নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ২ – দ্বিতীয় খণ্ড – সৌভিক চক্রবর্তী

নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ২ – দ্বিতীয় খণ্ড – সৌভিক চক্রবর্তী
প্রথম প্রকাশ – জানুয়ারি ২০২৪
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ – সোহম সিনহা
প্রকাশক – শংকর মণ্ডল

.

বারাসাত প্যারীচরণ সরকার রাষ্ট্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সাদা জামা, কালো প্যান্ট পরা ছেলেগুলোকে…

.

শুরুর কথা

তন্ত্রের জগৎ এক অদ্ভুত বিচিত্র জগৎ যার কোনও কিছুই (অন্তত প্রথম দেখায়) দৈনন্দিন ডাল-ভাতের জীবনের সঙ্গে মেলে না। এ জগতের বাসিন্দারা লাল বা কালো কাপড়ে আবৃত হয়ে নিজেদের রহস্যে মুড়ে রাখেন। ভস্ম-তেল-সিঁদুরে চর্চিত হয়ে চারপাশের চেনা জগৎ থেকে স্বতন্ত্র হয়ে থাকেন। পূজা-অর্চনা করেন রহস্যময় দেবদেবীর অথবা চেনা দেবদেবীরই অপরিচিত-স্বল্পপরিচিত রূপের। তাঁদের মন্ত্র নাকি দুর্বোধ্য আর গুহ্য; অনধিকারীর সে মন্ত্র উচ্চারণ তো দূরস্থান, জানারও অধিকার নেই। আর সব চেয়ে ‘ভয়ঙ্কর’; এবং তন্ত্রের ব্যাপারে মানুষের জোরালোতম কৌতূহলের কারণও এটাই; হল তাঁদের পূজার উপচার, যার মধ্যে পৃথিবীর বিচিত্রতম, ভয়ালতম, সব চেয়ে গা-শিরশির করা জিনিসগুলিকেও খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। এবং এই সব কিছুর উদ্দেশ্য নাকি একটাই; অমিত অলৌকিক শক্তির অধিকার লাভ করা, যার দ্বারা মানুষের উপকার আর অপকার দুই-ই করা যায়। হ্যাঁ, সাধারণ মানুষের মনে ‘তন্ত্র’ বলতে মোটা ধারণাটা এই রকমই। তাঁরা তন্ত্রকে ভয় পান কারণ তাঁরা বিশ্বাস করেন পাগলা হাতির মতো তেড়ে এসে তন্ত্রের ‘কালাজাদু’ তাঁদের ক্ষতি করে দিতে পারে। আবার তন্ত্র তাঁদের অজগরের দৃষ্টির মতো অমোঘ আকর্ষণে বন্দিও করে ফেলে কারণ অঙ্কের নিয়ম বলে যে জিনিসকে মানুষ ভয় পায় তারই প্রতি তৈরি হয় তার উদগ্র বাসনা।

ঠিক এই জায়গাতেই বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে তন্ত্রের প্রেমিক-প্রেমিকার মতো একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তন্ত্রকে উপজীব্য করে বাংলায় যত ফিকশন লেখা হয়েছে তার সিংহভাগ ক্ষেত্রেই লেখকেরা সেই ভয়ানক আর বিচিত্ররসের মেলবন্ধনের জন্যই তন্ত্রের নৌকায় চড়ে বসেছেন। তন্ত্রের অন্তর্নিহিত তত্ত্ব বাংলা জনপ্রিয় কথাসাহিত্যে মূল উপজীব্য হয়ে ওঠেনি কোনওদিন, তবে বাংলায় ভ্রমণকাহিনি বা ধর্মীয় সাহিত্যের সমৃদ্ধ ধারাকে সমৃদ্ধতর করেছে। এখানে ‘তন্ত্র’ বলতে কিন্তু শুধু শাস্ত্রের অনুমোদিত মন্ত্রতন্ত্রের কথা বলছি না, এর মধ্যে লৌকিক মন্ত্রতন্ত্র আর ধর্মবিশ্বাসও অনেকটা জায়গা জুড়ে রয়েছে। বিভূতিভূষণের তারানাথ তান্ত্রিক বা তারাশঙ্করের ডাইনি, সবাই সেই অদ্ভুত অতীন্দ্রিয় জগতের ভয়-মাখা আবছায়া দর্শন করায় পাঠককে। তন্ত্রমন্ত্র, মারণ-উচাটন এসেছে প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় থেকে বনফুল প্রমুখের এমন বেশ কিছু গল্পে যাকে তথাকথিত ভাবে অলৌকিক বা ভূতের গল্প হয়তো বলা যায় না; গল্পে অদ্ভুত রস সঞ্চারের জন্যই এর ব্যবহার করেছেন লেখক। সুকুমার সেন যখন মহাকবি কালিদাসকে গোয়েন্দা বানিয়ে প্রাচীন উজ্জয়িনীর পটভূমিকায় রহস্যগল্প ফাঁদছেন, সেখানেও খলনায়ক হয়েছে শিশুবলি দিতে চাওয়া এক কাপালিক। প্রমথনাথ বিশী, যিনি ভূতের গল্পের জন্য ‘অলৌকিক রস’ নামে নবরসের বাইরে এক নতুন রসই আমদানি করতে চেয়েছেন রসশাস্ত্রে, তিনিও অলৌকিক গল্প লিখেছেন তান্ত্রিকদের রহস্যময় কীর্তিকলাপ নিয়ে। গজেন্দ্রকুমার মিত্রের ‘সাধুসঙ্গ’ পড়লে বোঝা যায় না বাস্তব-পরাবাস্তবের সীমারেখা কোথায় মিলিয়ে যায়। তবে বাংলা সাহিত্যের অনেক কিছুর মতোই তন্ত্র-ভয় ফিকশনের শুরুটাও একরকম রবীন্দ্রনাথের হাত দিয়েই বলা চলে। ‘চণ্ডালিকা’ নৃত্যনাট্যে তন্ত্রমন্ত্রে পারদর্শী চণ্ডালিনী বুদ্ধশিষ্য আনন্দকে প্রকৃতির কাছে নিয়ে আসার জন্য যে সম্মোহনী ‘নাগপাশ বন্ধনমন্ত্র’ পড়ে, আর সেই দৃশ্যে সুর-তাল-ছন্দে যে বীভৎস-ভয়ানক রসের সঞ্চার হয়, তার মতো ‘এস্থেটিক্যালি সেলিব্রেটেড’ ভয় পাওয়ানোর দৃশ্য বাংলা সাহিত্যে ক’টা আছে?

গত পাঁচ-সাত বছর ধরে বাংলা সাহিত্যে ‘তন্ত্রভিত্তিক হরর-থ্রিলার’-এর যে ঢল নেমেছে তাতে কলেজ স্ট্রিট ভেসে গিয়েছে, অডিও স্টোরির দুনিয়ায় বন্যা হয়ে পলি পড়েছে, ওটিটি-পাড়াও ডুবুডুবু। বিভূতিভূষণ আর তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় জেনে যাননি যে তাঁদের তারানাথ তান্ত্রিক দ্বিতীয় দ্রোণাচার্য হয়ে কতশত একলব্যের জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন, এ বড় দুঃখের কথা। ভূত হোক বা খুনি, গল্পে একটু তন্ত্রের ছোঁয়া লাগিয়ে দিতে পারলেই কন্টেন্ট হিট হওয়া প্রায় বাঁধা। এই ফর্মুলায় ফেলে একের পর এক হিট গল্প দিতে হলে পূজার মন্ত্র, উপকরণ, দেবদেবীদের ইতিহাস-ভূগোল ইত্যাদি বিষয়ে যতটা সম্ভব পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে ঠিকঠাক তথ্য সরবরাহ করা খুব জরুরি হয়ে পড়ে, কারণ এই সৃষ্টিকর্মের শেষ বিচারক এক হাতে গুগল আর অন্য হাতে ফেসবুক নিয়ে চোখে চশমা এঁটে বসবেন। পাঠকের আদালতে আজকাল ফাঁকি দিয়ে রেহাই পাওয়া বড় কঠিন। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে;এত আচার-উপচারের পুঙ্খানুপুঙ্খতা, তথ্যের জটিলতা, তত্ত্বের অবতারণা, এসব কি তন্ত্রকে উপজীব্য করে গল্প বলার জন্য নিতান্ত আবশ্যক? প্রশ্ন ওঠে, এত তন্ত্রভিত্তিক হরর-থ্রিলার আর তারানাথ তান্ত্রিকের অগুন্তি সন্তানসন্ততির পাশে সৌভিক চক্রবর্তীর নীরেন্দ্রনাথ ভাদুড়ির মতো এক চরিত্রের কী দরকার ছিল? কী এমন আছে এই চরিত্রের মধ্যে যাকে নিয়ে এতগুলি গল্প লেখা যেতে পারে? যার এত কিছু বলার থাকতে পারে যে ইতিমধ্যেই চারটে গল্প আর দুটো উপন্যাস নিয়ে একটা সিরিজ হয়ে যায়? ‘নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র-১’ পাঠকসমাজে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলার বৃহত্তম অডিও স্টোরি প্রোগ্রামের অন্যতম সেরা দুটি প্রোডাকশন হয়েছে সেই বইয়ের দুটি গল্প থেকে। তার একটি থেকে বাংলার প্রধান ওটিটি প্ল্যাটফর্মের প্রধান তন্ত্রভিত্তিক ওয়েবসিরিজ তৈরি হয়েছে এবং হিট হয়েছে। কী এমন বিশেষত্ব নীরেন ভাদুড়ির গল্পগুলির?

‘আগমার্কা তান্ত্রিক’ যাকে বলে তা নীরেন ভাদুড়ি নন, অথচ বাংলা সাহিত্যে তারানাথ তান্ত্রিক চরিত্রের মধ্যে দিয়ে বিভূতিভূষণ-তারাদাস যে ঘরানা তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন তার অন্যতম সার্থক উত্তরাধিকারী তিনিই। অথচ তিনি তারানাথ ঘরানার গল্পবলিয়ে তান্ত্রিকের কাঠামোতেও ধরা পড়েন না। এইখানেই তাঁর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব। নীরেন ভাদুড়ি রক্তাম্বর পরেন না, বাঘছালে বসেন না, শ্মশানে-মশানে থাকেন না, দেহে সিঁদুর-ভস্ম কিছুই মাখেন না। তিনি সংস্কৃতের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ধুতি-পাঞ্জাবিতে নিপাট বাঙালি এক বৃদ্ধ যিনি ক্রাচের সাহায্য ছাড়া চলতে পারেন না। কলকাতার উপকণ্ঠে বাড়িভর্তি বই নিয়ে তাঁর সংসার। নাতনি অপালা ছাড়াও অমিয়, মিতুল, পল্লব, তিতাস, দীপক পালের মতো একদল তথাকথিত ‘বাইরের লোক’ শ্রদ্ধা-ভালোবাসা-স্নেহ-সম্মানে জমিয়ে রেখেছে তাঁর জগৎ। এ তো আমাদের অতি পরিচিত পৃথিবী, এতে তবে তন্ত্রের সেই অজ্ঞাত-অজ্ঞেয় রহস্যময় জগৎ কই?

না, আসলে দুটো জগতে কোনও তফাত নেই সেটাই বুঝিয়ে দিতে চান সৌভিক। যে কোনও গল্পই আসলে মানুষের ভালো থাকার, ভালোবাসার গল্প বলে। ভাদুড়িমশাইয়ের সংসারও ভালোবাসা দিয়ে গড়া। অমিয়-মিতুল, পল্লব-তিতাস, সঞ্জয়-অপালা তাই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে। দীপক পাল তাঁর মেয়েকে ছাড়াও ভালোবাসেন অনাথ শিশুদের। কইমাছ সমীর তার প্রাণ বাঁচানো ডাক্তার তিতাসদিদির জন্য নিজের জীবনো দিয়ে দিতে পারে। মৃত্যুর ওপার থেকে সঞ্জয়কে ভালোবেসে মন্ত্রশক্তিকে অগ্রাহ্য করে সাড়া দিতে পারেন তার মাইমা। স্বয়ং ভাদুড়িমশাই পারেন সবার ভালোর জন্য নিজেকে দেবীর সামনে বলি হিসেবে উৎসর্গ করতে। আমাদের পরিচিত জগতের মতো নীরেন ভাদুড়ির জগতেও কিছু লোক বা কোনও শক্তি সমস্যা সৃষ্টি করে;কাহিনির নিয়ম মেনে তারা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী, কিন্তু জগতের নিয়ম মেনে বৃহত্তর শুভ শক্তির সামনে হার মানতে তারা বাধ্য। তাদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্যই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয় তন্ত্রসাধক, তন্ত্রসেবক ভাদুড়ি মশাইকে।

তবে শুধুমাত্র তন্ত্রের সঙ্গে ভালোবাসা মিশিয়ে সুসাহিত্য রচনা করতে চান না সৌভিক। তাতে তন্ত্রের মতো বিরাট শক্তিশালী সাহিত্য-আধারের অতিসরলীকরণ করা হয়ে যায়। তন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাস, আবেগ, অলৌকিক যতটা ব্যাপক ভাবে জড়িত, তন্ত্রশাস্ত্র ঠিক ততটাই গভীর জ্ঞান ও তত্ত্বের আকর। নীরেন ভাদুড়ি তন্ত্রের সাধক, সেবক, চর্চাকারী, গুরু যা-ই হোন না কেন, তিনি মূলত সেই জ্ঞানমার্গেরই পথিক। তিনি দিনের শেষে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক;একজন অ্যাকাডেমিশিয়ান। যুক্তিবোধের চুলচেরা বিচারে যিনি সমস্যার সমাধান বের করেন, তারপর তন্ত্রের ব্যবহারিক প্রয়োগে সেই সমাধান রূপায়ণ করেন। এইখানেই নীরেন ভাদুড়ির গল্পগুলি তন্ত্রভিত্তিক ফিকশনের ধারার মধ্যে পড়েও একেবারে আলাদা। সৌভিক বিশ্বাস করেন যে অযৌক্তিকের ঘনঘটাও ঘটে নিজস্ব যুক্তির শৃঙ্খলা মেনে, কাল্পনিকেরও নিজস্ব নিয়ম থাকে। অলৌকিকের গল্প লিখলেও ভাগ্য নয়, পুরুষকারের প্রতি তাঁর অদম্য পক্ষপাত। তাঁর চরিত্র অভিনয় করে দেবীর চোখে ধুলো দিয়ে কাজ হাসিল করেও সে কাজের সমর্থন খুঁজে পায় অ্যারিস্টটলের নাট্যতত্ত্বে। অলৌকিকের নিজস্ব পরিসরের প্রতি অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা রেখেও নীরেন ভাদুড়ি তাই যেখানে সেখানে অলৌকিককে টেনে আনা পছন্দ করেন না। তাই তিনি মানুষের ভালোবাসাকে মাথায় রেখেও সবার উপরে স্থান দেন মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে, বলেন হিউম্যান ইন্টেলিজেন্সের চেয়ে বড় মিরাক্ল আর কিছু হয় না।

নীরেন ভাদুড়ির গল্পগুলিতে উঠে আসা সমস্যাগুলি বড় দগদগে বাস্তব। তন্ত্রের অপশক্তির আড়ালে ভাদুড়িমশাইয়ের শত্রু আসলে কখনও চোরাকারবার, কখনও সংক্রামক ব্যাধির ভয় আর সামাজিক অবহেলা, কখনও বা পারিবারিক হিংসা। তাই বোধ হয় ভয়ের পরতও সেগুলিতে চড়ে ওঠে তাড়াতাড়ি। আমাদের পরিচিত দুনিয়ায় সামাজিক, বাস্তব সমস্যার সমাধানও বাস্তব পথেই হয়। সৌভিক গল্পগুলিতে বারবার ফিরে গিয়েছেন গত দশকের গোড়ার দিকের প্রেসিডেন্সি কলেজে, যে সময়ে সেই সব বাস্তব সমস্যার বাস্তব সমাধানের স্বপ্ন দেখার দাবি তুলে সংলগ্ন কলেজ স্ট্রিট চত্বর মাতিয়ে রাখত সদ্য ইউনিভার্সিটিতে রূপান্তরিত হওয়া প্রেসিডেন্সি ‘কলেজের’ ছাত্রছাত্রীরা। সেই সময়কার কলেজ স্ট্রিটের ইউনিভার্সিটি-পাড়ার মেজাজের এক অদ্ভুত দলিলও এঁকে ফেলেছেন সৌভিক নীরেন ভাদুড়ির কাহিনিগুলিতে।

এই গল্পগুলির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল ভিস্যুয়াল গুণ আর নাটকীয়তা। প্রতিটি চরিত্র তার অ্যাডভেঞ্চারে পাঠককে নিজের সঙ্গী করে নেবেই নেবে। আর পাঠক, আপনি চাইলেও সেই সঙ্গ ছাড়তে পারবেন না। বলা ভালো ছাড়তে চাইবেন না। ‘নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র-১’-এ আপনি পেয়েছিলেন দুটি ছোটগল্প ও একটি উপন্যাস। সেই দরজা অতিক্রম করে এখন আপনি এসে দাঁড়িয়েছেন আরও বড়, আরও রহস্যময় এই দরজার সামনে। এর ভিতরেও আপনার জন্য অপেক্ষা করছে দুটি ছোটগল্প আর একটি উপন্যাস; বলা ভালো, একটি সুবৃহৎ উপন্যাসের প্রথম অংশ যা আপনাকে পড়া হয়ে যাওয়ার পর দগ্ধ করে মারবে; পরবর্তী অংশটুকু পড়ার জন্য। তবে তার জন্য আপনাকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

আপাতত আসুন। ওই যে দরজা খুলে যাচ্ছে। ভিতরে রহস্যময় অন্ধকারের ভিতর আগুন জ্বলছে। সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছেন ক্রাচে ভর দেওয়া এক বৃদ্ধ আর একদল তরুণ-তরুণী, যারা বিশ্বাস করে মানুষের বুদ্ধির চেয়ে বড় অলৌকিক আর কিছু নয় না। আসুন, তাদের সঙ্গী হবেন।

রাজর্ষি গুপ্ত
ক্রিসমাস, ২০২৩

.

গল্পটা ভয়ের না প্রেমের?

সৌভিক চক্রবর্তী সেই আশ্চর্য ঘরানার লেখক, যাঁরা গল্প শোনা আর গল্প পড়ার ভেতরের সূক্ষ্ম প্রভেদটাকে খুব আলগোছে সরিয়ে রেখে নিঝুম অন্ধকারের নিশুতি গল্প বলতে জানেন, যে সব গল্প শীতের চাদরের মতো ঘন কুয়াশা আর নরম ওমের মাঝখানে ঝুলে থাকে এক পিঠে ঠান্ডা রহস্য আর অন্য পিঠে উষ্ণ ভালোবাসা নিয়ে। ‘নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ১’-এর পাঠক এতদিনে জেনে গেছেন এখানে প্রতিটি কাহিনিরই একটা বিশেষ প্যাটার্ন রয়েছে। কোথাও দূরতর অতীত, আবার কোথাও-বা প্রতিমুহূর্তে অতীত হতে হতে এগিয়ে-চলা বর্তমান সামনে আছড়ে ফেলে ঘনীভূত সমস্যার জট, সেই জটের গ্রন্থিতে অসহায় আটকে পড়ে কখনও মিতুল, কখনও তিতাস, কখনও শান্তনুর মতো চরিত্ররা। আর অবিচ্ছেদ্য সূত্রে যাবতীয় গ্রন্থির পাক ছাড়াতে ছাড়াতে গল্পের মূল কারক সত্তা হয়ে ওঠেন নীরেন ভাদুড়ি।

একইসঙ্গে ভয় আর রহস্যের এই যুগপৎ পথ-চলা রোমাঞ্চের নিরিখে পাঠককে গোয়েন্দা গল্পপাঠের অ্যাড্রিনালিন রাশ এনে দেয়, আর এখানেই লেখকের চমৎকারিত্ব। অধিকাংশ ভয়ের গল্পে পাঠকের ভূমিকা একটু দূরগামী, শিহরিত হতে হতে ভয়কে নিজের শিরা-উপশিরায় চারিয়ে দিয়ে কাহিনির গতিপথে অসহায় নিরীক্ষক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া তার আর বিশেষ কিছু করার থাকে না। কারণ সেসব কাহিনির মধ্যে ভবিতব্যের কাছে, অলৌকিকের কাছে মানুষী শক্তির পরাভব বেশিরভাগ সময়ে এতটাই অকাট্য হয়ে উঠতে থাকে যে, মহাকালের হাতের পুতুল হয়ে অদৃশ্য সুতোর তালে চরিত্ররা এগিয়ে যায় মাত্র। অবশ্যম্ভাবী ছন্দে, যেন আগে থেকেই ঠিক করে নেওয়া এক অপরিবর্তনযোগ্য নিয়তির সামনে পাঠক থেকে দর্শক হয়ে ওঠার যাত্রাপথে গল্পটুকুই শেষ সত্য হয়ে রয়ে যায়, পাঠকের ভূমিকা চিত্রনাট্যে গরহাজির।

কিন্তু নীরেন ভাদুড়ির গল্পগুলো, আগেই বলেছি, অনেকটাই সাজানো গোয়েন্দা গল্পের কথনরীতির আদলে। কারণ, গোয়েন্দা গল্পে যেমন প্রধান দুই প্রতিপক্ষ গোয়েন্দা আর অপরাধী, এখানেও দুই যুযুধান পক্ষের একদিকে দাঁড়িয়ে আছেন নীরেন ভাদুড়ি, অন্যদিকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে লোকনাথ, কিংবা ওই শ্রেণির কোনও নিম্নাচারী তন্ত্রসাধক, প্রতিহিংসাই যাদের মূল চালকশক্তি। গোয়েন্দা গল্পের মতোই, সৌভিক একবারও গল্পের গোড়ায় এই অপরাধী প্রতিপক্ষকে সামনে আনেন না, এই দুই পক্ষের কারওর কার্যকলাপ দিয়েই গল্প শুরু হয় না, শুরুতে থাকে শুধু ওই সমস্যার জটটি, যা ইতিমধ্যেই কোনও না কোনওভাবে পেকে উঠেছে। চুলের জট যেমন গোড়া ধরে টান না মেরে তোলার দিক থেকে একটু একটু করে খুলতে হয়। সেই একই গোয়েন্দা গল্পের কায়দায় লেখক গল্পগুলোর সমস্যার গোড়া ধরে প্রথমেই টান মেরে সব কৌতূহল নিবৃত্ত করে ফেলেননি। একটু একটু করে এগিয়েছেন। সেজন্যই অন্যান্য ভয়ের গল্পে যেমন পক্ষ আর প্রতিপক্ষ সম্পর্কে পাঠকের সব জানা হয়ে যাওয়ার পর, পক্ষ আর প্রতিপক্ষের মধ্যের লড়াইটুকুতে কে কীভাবে জিতল, এটুকু দেখা ছাড়া পাঠকের সত্যিই আর তেমন কিছুই সবিশেষ দেখার থাকে না, এই গল্পগুলো কিন্তু মোটেই তেমন নয়। এখানে প্রতিপক্ষ কে, সেই তথ্য উন্মোচনের রহস্যটুকুও জমিয়ে সাজিয়েছেন লেখক। ফলে পাঠক প্রতিমুহূর্তে পেতে থাকেন টানটান রহস্যের মোড়ক খোলার উত্তেজনা।

আবার গল্পের চরিত্রদের ‘হিরোইক ডুইয়ং অ্যান্ড সাফারিং’-এর ভেতরেও বারবার পাঠককে নানা অছিলায় টেনে নেন সৌভিক, পাঠক কখনওই বোর্ডের জালে পড়ে থাকা ক্যারমের গুটির মতো খেলা ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেন না, গ্যালারি থেকে তাঁদের নেমে আসতে হয় লেখকের তৈরি করে রাখা মাঠে। প্রতিটি দুর্ঘটনার সমাধানসূত্র এখানে পূর্বনির্ধারিত দৈবের বলে আকাশ থেকে নেমে আসে না, তার জন্য মানুষকে নিজের ঘাম, রক্ত, ভালোবাসা, ঘেন্না দিয়ে, আকুল আবেগ দিয়ে লড়ে যেতে হয়। তবেই আসে অন্ধকার চিরে প্রথম আলোর রেখা; তবেই এতক্ষণ চরিত্রদের সঙ্গে সঙ্গে নানান সম্ভাবনার গলিঘুঁজিতে ছুটে বেড়ানো আর উত্তর খুঁজে ফেরার পরিশ্রমের পর আশ্বাসের নিরাময় লেখা হয় পাঠকের কপালে। সব গল্পেই সত্যি হয়ে থাকে লেখকের আশ্চর্য উচ্চারণ, ‘এ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অলৌকিক হল মানুষের বুদ্ধিমত্তা, ইনটেলিজেন্স।’ শুনতেও অনেকটাই মগজাস্ত্রের মতো, তাই না? গোয়েন্দা গল্পের গন্ধ জড়িয়ে আছে সৌভিকের বর্ণমালা জুড়ে।

তবে, নীরেন ভাদুড়ির পয়লা কিস্তি হোক বা দ্বিতীয় দফা, সৌভিকের আসল কারিগরি বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষঙ্গের কারসাজিতে। তাঁর ভয়ের গল্পের ভেতরে যখন তখন উঠে আসে আশ্চর্য মায়াবি পরিসর; ‘তখন সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে। উজ্জ্বল হয়ে উঠছে তারাগুলি। পাখিদের ঘরে ফেরা শেষ। একটা দুটো করে জ্বলে উঠছে প্রেসিডেন্সি কলেজের সোডিয়াম ভেপার ল্যাম্পগুলো। সোডিয়ামের হলুদ আলো বড় খারাপ জিনিস। যখন তখন মায়াকাজল পরিয়ে দেয় চোখে। বিভ্রম সৃষ্টি হয়। এ আলো পৃথিবীর আলো নয়।’ এমন আলোকাড়া গোধূলি যেখানে সেখানে নেমে পড়েছে সৌভিকের গল্পের ফাঁকফোকর বুঝে। ভয়ের গল্প, নাকি ভয়কে জয়ের গল্প, নাকি রহস্যের গল্প, এই সব তর্ক পেরিয়েও বহুদূর সত্যি হয়ে থাকে গল্পে ফিরে ফিরে আসা প্রেসিডেন্সি কলেজের পোর্টিকো, হিন্দু হোস্টেলের ছাদ, প্যারামাউন্টের ‘মুখোমুখি বসিবার’ টেবিলখানা আর মানুষকে ছুঁয়ে থাকা ভালোবাসার নাছোড় টান। মাঝেমাঝে সন্দেহ হয়, নীরেন ভাদুড়ির ছায়ায় এসবই তো বেমালুম প্রেমের গল্প! অমিয়-মিতুল, কিংবা পল্লব-তিতাস সেই নিরঙ্কুশ ভালোবাসার ছায়া মেখে এসে বসে পাঠকের সুগভীর নিকটে। ‘পর্ণশবরীর শাপ’-এ বিকারগ্রস্ত যে তিতাসের দিকে তাকিয়ে ভালোবাসার সুনিশ্চিত প্রত্যয়ে পল্লব বলে গিয়েছিল, ‘আজকের রাতটুকু তিতাস। তার পর আবার গান গাইবি তুই’, সেই একই পল্লব ফিরে আসে ‘নীরেন ভাদুড়ি ২’-এর শেষ কাহিনিতে, তিতাসকে হারিয়ে কান্নাভেজা আকুলতায় সে বলে, ‘ওকে ফিরিয়ে দিন আমার কাছে। তিতাসকে ছাড়া আমি থাকতে পারব না।’

নীরেন ভাদুড়ির সঙ্গে বইয়ের প্রথম পর্ব হাতে ইতিমধ্যেই যাত্রা শুরু করেছিলেন যাঁরা, তাঁরা স্পষ্ট টের পাবেন, নীরেন ভাদুড়ির কাহিনিতে সবচেয়ে আঁকাড়া প্যাশনেট চরিত্র কিন্তু এই পল্লব, তার ভালোবাসা অর্গলহীন, অন্ধ, উন্মাদনার আবেগে জীবন্ত। পল্লব যেন কোথাও গিয়ে লেখকের নিজস্ব বয়ান হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে এইসব ছায়াকাহিনির বিরুদ্ধে প্রবল মানুষী অনুরাগ নিয়ে, তার অভিঘাত যেমন তীব্র, তেমনি মায়াময়। গল্পগুলো ক্রমশ হয়ে উঠতে থাকে ব্যক্তিগত প্রেমের আবহ টেনে আনা ‘ব্যথার মলম, শীতের উত্তাপ, রোদ্দুরে জলগামছাদ’। বৈষ্ণব পদাবলি ভালোবেসে পাগল হওয়া পল্লবের মনের কোন গহীন কন্দর থেকে উঠে আসা এই শব্দসমাহার পাঠকের মনে নিভৃতে জাগিয়ে তুলবেই হারিয়ে যাওয়া প্রেমপদাবলির অনুরণন; শীতের ওড়নি পিয়া, গিরিষের বা, বরিষার ছত্র পিয়া, দরিয়ার না।

এক থেকে সবে দুই অবধি আসার পথেই নীরেন ভাদুড়ির গল্প নিয়ে অধীর প্রত্যাশার পারদ চড়েছে পাঠকমহলে। গল্প থেকে চিত্রনাট্য হয়ে রুপোলি পর্দার দুনিয়াও ছুঁয়ে ফেলেছে ‘পর্ণশবরীর শাপ’। নীরেন ভাদুড়ির গল্প পর্বে পর্বে হয়তো আরও নতুন রহস্য, ভয়, রোমাঞ্চ, অলৌকিকতা নিয়ে আরও জাঁকিয়ে বসবে শীতের কলকাতায়। কিন্তু ভয়ের গল্প যা হয়, আর ভয়ের গল্প যা নয়; এ দুয়ের বেঁধে দেওয়া সীমানা কখন যে আলতো হাতে ধূসর করে দেবেন সৌভিক চক্রবর্তী, সেই রহস্যের সমাধান সম্ভব নয়। শত নীরেন ভাদুড়ি, কিংবা সহস্র লোকনাথ এসে দড়ি টানাটানি করেও এ কাহিনিকে শুধু ভয়ের কাঠামোয় আটকে রাখতে পারবেন না, এইসব গল্পে লেগে থাকবেই ভালোবাসার নিশ্বাস, প্রেম আর আকুলতার টান, মানুষী আবেগের তীব্র আর্তি। কাহিনিমালার প্রথম থেকে দ্বিতীয় ধাপের যাত্রাপর্বেও সবচেয়ে বড় সত্যি মিশে আছে এইখানেই, এই ভালোবাসার সুতোতেই বাঁধা পড়ল দুটি পর্ব। পর্বে পর্বান্তরে এই আশ্বাসটুকুই বাকি সব ভয়ের গল্পের চেয়ে আলাদা আলোয় মুড়ে রাখবে নীরেন ভাদুড়ি-র আখ্যানের পরিসর।

অরুন্ধতী দাশ
ডিসেম্বর, ২০২৩

.

কৈফিয়ত

প্রথম খণ্ডের পরে দ্বিতীয় খণ্ড আসতে তিন বছর সময় লেগে গেল। এ জন্য সবার আগে পাঠকের কাছে ক্ষমা চাইছি। বিশ্বাস করুন, এবার আমি আসলেমি করে দেরি করিনি। নানা কাজে ফেঁসে গিয়েছিলাম। যাই হোক, আবারও দীপ প্রকাশনের কর্ণধার দীপদার বকাবকিতে এবং গৌরবদার তাড়া খেয়ে লেখা শেষ করেছি। দীপদা হুমকি দিয়েছিলেন, এই বইমেলায় নীরেন ভাদুড়ি না এলে আমার কপালে দুঃখ আছে। যাই হোক, এ বইতে দুটো ছোটগল্প, একটা বড় গল্প এবং একটা উপন্যাস আছে। দৈবী আর ইদ্রিশঠাকুরের থান ছোটগল্প। বউকালীবাড়ির বেত্তান্ত বড়গল্প আর মহাসিন্ধুর ও’পার থেকে উপন্যাস।

প্রথম খণ্ডে পর্ণশবরীর শাপ গল্পের শেষে আমরা দেখেছিলাম, ভাদুড়ি মশায়ের পা ঠিক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই খণ্ডে মহাসিন্ধুর ও’পার থেকে উপন্যাসে দেখা যাবে ভাদুড়ি মশায় ক্রাচ ব্যবহার করছেন। সময়ানুক্রম অনুসারে সাজাতে গেলে পর্ণশবরীর শাপ মহাসিন্ধুর ও’পার থেকের পরের ঘটনা। প্রথমে আসে নিকষছায়া, তার পরেই মহাসিন্ধুর ও’পার থেকে। তার পরে পর্ণশবরীর শাপ। পাঠকের যাতে বিভ্রান্তি না হয় তার জন্য এই কৈফিয়ত।

লিখতে বসে আমি আন্দাজ করতে পারিনি মহাসিন্ধুর ও’পার থেকে এমন একটা আকার নিয়ে নেবে। একদিন দেখলাম, চল্লিশ হাজার শব্দ লিখে ফেলেছি কিন্তু কাহিনি সবেমাত্র পৌঁছেছে মাঝপথে। দিল্লি এখনও অনেক দূর। এদিকে বইমেলা এগিয়ে আসছে। যতটা লিখেছি বন্ধু সোহমকে পড়তে দিলাম। সোহম পড়ে বলল, এই বার থাম। পাঠককে এতটুকু আগে হজম করতে দে। এই খণ্ডে এই অবধিই থাক। আমি বললাম, পাঠক যদি রাগ করে? যদি বলে, ব্যবসায়িক স্বার্থে এই কাজ করেছি? সোহম বলল, তা কেন? সিরিজ তো আমরা এভাবেই দেখি। তা হলে উপন্যাস কেন নয়? পূজাবার্ষিকীতেও তো খণ্ডে খণ্ডে উপন্যাস বেরোয়। ভেবে দেখলাম, সোহম ভুল কিছু বলেনি। আরও ভেবে দেখলাম, আমি পাঠককে বঞ্চনা করিনি। কারণ যেখানে আমি থেমেছি সেখানে সত্যিই থামা দরকার ছিল। এর পর কী হবে তার জন্য পাঠকের একটা প্রস্তুতি দরকার। আমারও। তাই এই খণ্ডে রইল মহাসিন্ধুর ও’পার থেকে-র আদি পর্ব। আমার বিশ্বাস পাঠক হতাশ হবেন না। কারণ আচমকা শেষ হয়নি আদিপর্ব। একটা সুস্পষ্ট আদি, মধ্য এবং অন্ত রয়েছে। একটা ‘ডেফিনিট ক্লোজার’ রয়েছে। নিকষছায়া যেখানে শেষ হয়েছিল সেখান থেকেই শুরু হয়েছে মহাসিন্ধুর ও’পার থেকে। কিন্তু এর শেষ কোথায় আমিও জানি না। আশা রাখি পরের বইমেলায় এর উত্তর পাওয়া যাবে।

সৌভিক চক্রবর্তী
ডিসেম্বর, ২০২৩

Book Content

দৈবী – সৌভিক চক্রবর্তী
ইদ্রিশঠাকুরের থান – সৌভিক চক্রবর্তী
বউকালীবাড়ির বেত্তান্ত – সৌভিক চক্রবর্তী 4 Topics
Lesson Content
0% Complete 0/4 Steps
বউকালীবাড়ির বেত্তান্ত – ১
বউকালীবাড়ির বেত্তান্ত – ২
বউকালীবাড়ির বেত্তান্ত – ৩
বউকালীবাড়ির বেত্তান্ত – ৪
মহাসিন্ধুর ও’পার থেকে (আদি পর্ব : লোকনাথের প্রত্যাবর্তন) – সৌভিক চক্রবর্তী 23 Topics
Lesson Content
0% Complete 0/23 Steps
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ১
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ২
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ৩
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ৪
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ৫
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ৬
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ৭
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ৮
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ৯
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ১০
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ১১
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ১২
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ১৩
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ১৪
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ১৫
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ১৬
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ১৭
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ১৮
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ১৯
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ২০
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ২১
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ২২
লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ২৩
নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ১

নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ১ – সৌভিক চক্রবর্তী

নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ (তৃতীয় খণ্ড)

নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

শ্মশানকোকিলের ডাক - সৌভিক চক্রবর্তী

শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

Reader Interactions

Comments

  1. Koustav Roy

    October 21, 2025 at 2:51 pm

    Niren bhadurir 3rd part ta please anun.. Khub exited achi.

    Reply
    • বাংলা লাইব্রেরি

      October 21, 2025 at 5:20 pm

      এটা একেবারে নতুন বই। আমাদের সংগ্রহে নেই। অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না।

      Reply
      • Rajdeep Ghosh

        October 24, 2025 at 4:32 am

        Anun na pls volume 3 ta pls

        Reply
      • স্নেহাশিস দাস

        October 25, 2025 at 3:54 pm

        নীরেন ভাদুড়ী পার্ট 3 টা আনুন প্লিজ

        Reply
      • Bikram Ghosh

        October 28, 2025 at 10:37 am

        Available in Amazon.

        Reply
  2. Svk12

    October 26, 2025 at 12:33 pm

    Please upload more supernatural stories

    Reply
    • Arup Haldar

      March 4, 2026 at 8:47 am

      মহাসিন্ধুর অপারথেকে(শেষ পর্ব) আনা দরকার না হলে চলবে না এবং আরো নীরেন্দ্রনাথ ভাদুড়ির গল্প

      Reply
  3. Suchana Mukherjee

    October 26, 2025 at 2:02 pm

    Vol-3 ta pls add korun naa

    Reply
  4. Bikram Ghosh

    October 28, 2025 at 10:36 am

    নিরেন ভাদুড়ী তৃতীয় খণ্ড টা নিয়ে আসুন তাড়াতাড়ি। অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি।

    Reply
  5. Mrinal Deshmukh

    October 28, 2025 at 10:53 pm

    তিন নম্বর পাঠ please

    Reply
  6. Rohit Adhikary

    November 10, 2025 at 10:06 am

    Niren Vaduri volume 3 Kobe anchen dada ?? Online e under 400 peye jaben boi ti …..taratari upload korun please….Ek Gorib Pathoker ashirbad paben tahole

    Reply
  7. Taniya Debnath

    November 13, 2025 at 12:10 pm

    Niren Vaduri volume 3 please…

    Reply

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক

সিরিজ

বইয়ের ধরণ

বাংলা ডিকশনারি

বাংলা জোক্স

বাংলা লিরিক্স

বাংলা রেসিপি

বিবিধ রচনা

বাংলা হেলথ টিপস

Download PDF


My Account

Facebook

top↑

Login
Accessing this book requires a login. Please enter your credentials below!

Continue with Google
Lost Your Password?
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Register
Don't have an account? Register one!
Register an Account

Continue with Google

Registration confirmation will be emailed to you.