লোকনাথের প্রত্যাবর্তন – ১৪

১৪

মাটি থেকে ওঠার চেষ্টা করল রোশনি কিন্তু তার আগেই সরিতের লাথিটা জমে গেল তার বুকের ঠিক মাঝখানে। রোশনির মনে হল কেউ যেন তার বুক থেকে সবটুকু হাওয়া নিংড়ে নিল। সে নেতিয়ে পড়ল ঘরের মেঝেতেই। অক্লেশে রোশনির দেহটা পাঁজাকোলা করে তুলে নিল সরিত তার পর আছড়ে ফেলল বসার ঘরের ডিভানটার ওপরে। সরিত জানে এখন কিছুক্ষণ অচেতন হয়েই থাকবে মাগিটা। টেবিলের ওপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খেল সে। হাত-পা একটু ছাড়িয়ে নিল স্ট্রেচ করে। অনেকক্ষণ সিঁড়ির নীচে মিটার ঘরের আড়ালে উবু হয়ে বসেছিল সে। কোমরটা ধরে গেছে।

রোশনি ভেতরে ঢুকে যাওয়ার পরেই ফ্ল্যাটটাকে ভালো করে জরিপ করে নিয়েছিল সরিত। বাইরে একটা বড় গেট। সেখানে সিকিউরিটি আছে। ফ্ল্যাটে ঢোকার মুখে আবার একটা কোল্যাপসিবল গেট। সরিত আন্দাজ করেছিল রাত এগারোটার মধ্যে গেটগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সিকিওরিটি একটু আনমনা হতেই বেড়ালের মতো লঘু পায়ে সে ঢুকে পড়েছিল ভেতরে আর শরীরটা মিশিয়ে দিয়েছিল সিঁড়ির নীচের অন্ধকারে। চারপাশ শুনশান হতে বেরিয়ে এসেছে।

ঘরে একটা কম পাওয়ারের আলো জ্বলছে। ভালো করে দেখা যাচ্ছে না মাগিটার মুখ। সুইচ খুঁজে বড় আলো জ্বালিয়ে দিল সরিত। হ্যাঁ, এইবার দেখা যাচ্ছে। নাহ! মাগিটার মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। কোমর থেকে একটা বড় মাংসকাটা ছুরি বার করে টেবিলে রাখল সে। তারপর মাগিটার মুখের মধ্যে রুমাল ভরে দিয়ে মুখটা ভালো করে বেঁধে দিল। নাইলনের দড়ি বার করে বেঁধে ফেলল হাত আর পা। এবার সে যা যা করবে, মরার আগে পর্যন্ত মাগিটার প্রবল চিৎকার করার কথা। চিৎকারটা শুনতে পেলেই বেশি ভালো হত কিন্তু কিছু করার নেই। আশপাশে লোকজন আছে। যতটা সম্ভব নিঃশব্দে কাজটা সারতে হবে। নিজের গালে একবার হাত বোলাল সরিত। এখানেই চড় মেরেছিল মাগিটা। ছোট ভুল কিন্তু তার জন্য বড় খেসারত দিতে হবে মাগিটাকে। এমনিতেই মাগিটা অনেক কথা জেনে ফেলেছে। মরতে তো ওকে হতই। শুধু এখন মরাটা একটু বেশি যন্ত্রণার হবে। আগের বার মাগিটাকে অজ্ঞান করে কাটবে ভেবেছিল, এবার অজ্ঞান করার কোনও গল্প নেই। মাগিটার নরম গালে একবার হাত বোলাল সরিত। তারপর গাল বরাবর ব্লেডটা টেনে দিল। চড়াৎ করে ফাঁক হয়ে গেল গালের চামড়া আর ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এল।

অসহ্য একটা যন্ত্রণায় চেতনা ফিরে এল রোশনির আর সে বুঝতে পারল সে বন্দি। গালটা অসম্ভব জ্বালা করছে। অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে ছাড়াতে পারল না সে। তার গলা ফাটানো চিৎকার মুখের ওই বাঁধন পেরিয়ে কিছুতেই বাইরে আসতে পারল না। বিস্ফারিত চোখে ছেলেটার দিকে তাকাল রোশনি। ব্লেডটা দেখিয়ে ঠান্ডা গলায় ছেলেটা বলল, এটা দিয়ে গালটা চিরে দিয়েছি। তাই জ্বলছে।

ভয়ে কুঁকড়ে গেল রোশনি। তার মনে পড়ে গেল বদ্রিনাথকে গলার নলি কেটে খুন করা হয়েছিল। এবার কি তবে ছেলেটা তার…? বাঁচার উদগ্র বাসনায় পাগলের মতো আছাড়িপাছাড়ি খেতে শুরু করল সে আর পাশ ফিরতেই তার চোখ আটকে গেল টেবিলের ওপর। টেবিলের ওপর একটা বিশাল চপার। ওটা কেন এনেছে ছেলেটা? কী করতে চায় ও? রোশনি বুঝতে পারল সে বমি করে ফেলেছে। মুখ দিয়ে বাইরে আসতে না পেরে বমিটা আতকে আছে গলায়। গলার তেতো ভাবটা যেন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে একটু একটু করে। একেই বুঝি মৃত্যুভয় বলে? এর চেয়ে বড় ভয়ের জন্ম হয়নি এ পৃথিবীতে। বুদ্ধিটা একটু একটু করে শিথিল হয়ে আসতে লাগল তার।

রোশনিকে ফের ঝিমিয়ে পড়তে দেখে ছেলেটা একটু হাসল। বলল, মানুষ যখন বুঝে যায় সে নিশ্চিত মরবে তখন ঠিক এই ভাবে হাল ছেড়ে দেয়। আর একটু পরেই তুই মুতে দিবি। কিন্তু তার আগে আমি তোর পোঁদটা মেরে নেব। তারপর ওই মাংসকাটা ছুরিটা দিয়ে তোর পোঁদের খাঁজ বরাবর সামনের দিকে তলপেট অবধি চিরে ফেলব আর তোর সুপুরির মতো ছোট ছোট মাইয়ের বোঁটা দুটো কেটে নেব। সে দুটো তোরই নাকের ফুটোয় গুঁজে দেব। ব্যস এটুকুই। তারপর আমি চলে যাব। তোর মুখ বন্ধ। তার ওপর বমি করে ফেলেছিস। নাকও বন্ধ হয়ে যাবে। দম নিতে পারবি না, ওদিকে গলগল করে রক্ত বেরোবে। সকালে এসে যখন দরজা ভেঙে লোকে তোকে বার করবে ততক্ষণে তুই মরে যাবি। খুব কষ্ট পেয়ে মরবি যদিও। কিন্তু কী করা যাবে বল? মানুষ নিজেই তার ভাগ্য লেখে। যদি আমায় চড়টা না মারতিস এত কষ্ট পেয়ে মরতে হত না। এবার তুই আমায় বলতেই পারিস, মারছিস মার। পোঁদ মারবি কেন? কারণ মারার আগে আমি তোকে অপমান করতে চাই। মানুষকে সবথেকে বেশি অপমান করা যায় তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে পোঁদ মেরে।

বলতে বলতেই রোশনির প্যান্টে হাত দিল ছেলেটা। প্যান্টটা টেনে নামানোর চেষ্টা করতে লাগল। আর নরকের নর্দমা থেকে উঠে আসা পূতিগন্ধময় কথাগুলো ভাবতে ভাবতে রোশনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল এত সহজে সে মরবে না। অন্তত এই মূর্তিমান ঘেন্নাটার হাতে তো কিছুতেই না। মৃত বেড়ালটির মুখ বারবার ভেসে উঠতে লাগল রোশনির চোখের সামনে। নিজের জন্য না হলেও ওই বেড়ালটার মৃত্যুর তো প্রতিশোধ নিতেই হবে।

ছেলেটা প্যান্টের দড়ি খুঁজে পাচ্ছে না। রোশনি দেখল তার ঠিক সামনে একটা তেপায়া টুলের ওপর তার সাধের টেবিল ল্যাম্পটা জ্বলছে। অনেক দিন আগেই তারটা আলগা হয়ে গেছে। জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালাচ্ছিল সে। ওভার কনফিডেন্সে ছেলেটা একটা ভুল করেছে। পুরো শরীরটা বাঁধেনি। মুহূর্তের ভগ্নাংশ সময় আছে তার হাতে। জোড়া হাত বাড়িয়ে ল্যাম্পের তারটা খুলে ফেলল রোশনি। অন্য প্রান্ত তখন প্লাগে গোঁজা। তারের খোলা মুখ এখন বিদ্যুৎবীর্যে পোয়াতি। এই সময় ঠিক দুটো ঘটনা ঘটল। রোশনির প্যান্ট আর প্যান্টি হাঁটু অবধি একটানে নামিয়ে ফেলে একবার থমকাল ছেলেটা। অদ্ভুত এক অভিব্যক্তি ফুটে উঠল তার মুখে আর তখনই বেজে উঠল রোশনির ঘরের কলিং বেল। চমকে দরজার দিকে তাকাল ছেলেটা। সেই অবকাশে রোশনি এক ঝটকায় উঠে বসল। তারের বিদ্যুৎবাহী প্রান্তটা দু’হাতে গুঁজে দিল ছেলেটার কানের মধ্যে। টাল সামলাতে না পেরে কাচের সেন্টার টেবিল ভেঙে উল্টে পড়ল ছেলেটা আর রোশনি জোড়া পায়ে লাফিয়ে গিয়ে খুলে দিল দরজার ছিটকিনি। পুরো ঘটনাটা ঘটতে সব মিলিয়ে পাঁচ সেকেন্ড সময় লাগল।

মিটিংটা ভালো হয়েছে। মহামান্য প্রোডিউসার গল্প শুনে খুশি হয়েছেন। যদিও একটা আইটেম সং ঢুকিয়ে দিতে বলেছেন কিন্তু তাতে আপত্তি করেনি পল্লব। পল্লব জানে সে নেহাতই মধ্যমেধার মানুষ। গোদার, তারকোভস্কি বা বার্গম্যান হতে সে আসেনি। সে যোগ্যতাও নেই তার। খুশি মনেই রোশনির দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিল সে। আলোটা বন্ধ দেখে একটু খটকা লেগেছিল কিন্তু পাত্তা দেয়নি। আলো জ্বালিয়ে বেল দিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই ভেতরে একটা জোর শব্দ হল আর তারপর মুহূর্তেই দরজা খুলে তার গায়ের ওপর এসে পড়ল রোশনি। রোশনিকে দেখে হতবাক হয়ে গেল সে। রোশনির গালে একটা টাটকা ক্ষত। সেখান দিয়ে রক্ত পড়ছে। মুখ রুমাল দিয়ে আর হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং রোশনির পরনের প্যান্ট ও অন্তর্বাস হাঁটু অবধি নামানো। পল্লবকে কোনও কথা বলার সুযোগ না দিয়েই ধাক্কা মেরে একটু সরিয়ে দিল রোশনি তারপর নিজেও বাইরে বেরিয়ে এসে দরজাটা বন্ধ করে দিল। বাইরে থেকে টেনে দিল হ্যাজবোল্ড। মুখের রুমালটা সরিয়ে হড়হড় করে বমি করে দিল। বমি করতে করতেই অস্ফুটে বলল, দরজা খুলবেন না পল্লবদা। ভেতরে ও আছে।

তারপরই অচেতন হয়ে পড়ে গেল পল্লবের গায়ের ওপর। রোশনিকে ধরেই কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল পল্লব। কী হচ্ছে সে সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই তার তবে এটুকু বুঝতে পারছে, এই বন্ধ দরজার ওপারে রয়েছে কোনও মূর্তিমান বিভীষিকা। বড় করে কয়েকটা শ্বাস নিল সে। চঞ্চল স্নায়ুগুলোকে বাগে আনার চেষ্টা করল। ধীরে ধীরে রোশনিকে শুইয়ে দিল দরজার সামনে। তার প্যান্ট আর অন্তর্বাস তুলে দিল কোমর পর্যন্ত। তারপর বেল দিল উল্টোদিকের ফ্ল্যাটের দরজায়। গলায় যত জোর আছে সবটা এক জায়গায় করে চেঁচিয়ে উঠল, সিকিউরিটি। হেল্প।