২
গ্রামটির পরিবেশ বড়ই মনোরম। গতকাল রাতে ভাদুড়ি মশায় এখানে এসে পৌঁছেছেন। প্রতি বছর এই সময়টায় তিনি বেরিয়ে পড়েন। ঘুরে বেড়ান গ্রামে গ্রামে। তিনি রামদাস ঠাকুরের প্রধান ঋত্বিক। ঠাকুরের নাম ছড়িয়ে দেওয়া, মন্ত্রদান করা তাঁর পবিত্র দায়িত্ব। আগে বছরে দু’বার বেরতেন। পা জখম হওয়ার পর থেকে বছরে একবারের বেশি বেরনোর অনুমতি পান না বাড়ি থেকে। আগে পায়ে হেঁটে ঘুরতেন। এখন বাড়ির গাড়ি আসে। এবার সঙ্গে এসেছে নাতনি অপালা। সে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করছে। আগে কখনও মন্ত্র দেওয়া দেখেনি সে। তাই তার খুব কৌতূহল। নাতনির আবদার অগ্রাহ্য করতে পারেননি ভাদুড়ি মশায়। তাই সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। যজমান গোবিন্দ মুহুরিকে আগে থেকেই বলা ছিল। তারা খুবই যত্ন করেছে। ভোর হতে নাতনির সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন ভাদুড়ি মশায়। অপালাকে গাছ চেনাচ্ছিলেন। আজকালকার ছেলেমেয়েরা গাছগাছালি চেনে না। ঝোপের ধারে ভীষণ সুন্দর ফুলের ঝাড়। লাল হলুদে মেশানো। ভাদুড়ি মশায় বললেন, বলো তো ওটা কী ফুল দিদিভাই?
তাঁকে অবাক করে অপালা বলল, পুটুস।
খুব খুশি হলেন বৃদ্ধ। ঘাড় নেড়ে বললেন, বাহ। বাহ। তুমি এ ফুলের নাম জানো? এ নাম কিন্তু শহরের ছেলেমেয়েদের জানার কথা নয়।
অপালার মুখটা সামান্য লাল হয়ে গেল। তাদের কলেজের একটি ছেলে শান্তনু, তারই এক বান্ধবীকে কিছুদিন আগে প্রপোজ করেছে, আর প্রপোজ করেছে গোলাপ বা সূর্যমুখী দিয়ে না, এই একরাশ পুটুস ফুল দিয়ে। ব্যাপারটা এত রোম্যান্টিক লেগেছিল অপালার যে বলার নয়। মনে হয়েছিল, তাকেও তো কেউ এমন ভাবে প্রপোজ করলে পারে। সে কথা তো আর দাদুর সামনে বলা যায় না। মিষ্টি হেসে সে বলল, গ্রামবাংলার সব ফুল চিনি না। ঘটনাচক্রে এই ফুলটাই চিনি।
এমন সময় একটা লোক ডাকতে ডাকতে ছুটে এল, ঠাকুরমশাই। ঠাকুরমশাই।
লোকটিকে চিনতে পেরেছেন ভাদুড়ি মশায়। এ হল গোবিন্দ মুহুরির বাড়ির মুনিশ ভজন। তিনি বললেন, কী ব্যাপার রে ভজন? এমন হুড়মুড় করে ছুটে এলি?
ভজন বলল, একবার বাড়ি চলেন ঠাকুরমশাই। সরকার বাড়ি থেকে আপনার সাথে দেখা করতে এসেছে। ওদের ছেলের খুব বিপদ।
ভুরুটা কুঁচকে গেল ভাদুড়ি মশায়ের। এই ব্যাপারটাই তিনি চাননি। যেখানেই তিনি যান কী করে যেন রটে যায় একজন তন্ত্রসিদ্ধ মানুষ এসেছেন। ব্যস, লোকে নানারকমের সমস্যা নিয়ে আসতে শুরু করে। বেশির ভাগই বাজে আবদার। কেউ কেউ তো বউকে বশে আনার মন্ত্রও দিতে বলে। এসবে খুবই বিরক্ত হন তিনি। তাই এখানে আসার আগে পই পই করে গোবিন্দ মুহুরিকে এ ব্যাপারে সাবধান করেছিলেন। কিন্তু দেখা গেল কোনও লাভ হয়নি।
বিরক্তি নিয়েই বাড়িতে ঢুকলেন ভাদুড়ি মশায়। দেখলেন, একজন মধ্যবয়সী লোক হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে আছে। সে কিছু বলার আগেই গোবিন্দ মুহুরি এগিয়ে এসে বলল, অপরাধ নেবেন না ঠাকুরমশাই। এই মৃত্যুঞ্জয় আমার ছেলেবেলার বন্ধু। আপনার কথা আমি খোলসা করে কাউকেই বলিনি কিন্তু আজ ভোরে যখন জানতে পারলাম ওর ভাগ্নার খুব বিপদ তখন আর চুপ করে থাকতে পারিনি। খুব ব্রিলিয়ান্ট ছেলে ঠাকুরমশাই। কলকাতার কলেজে পড়ে।
ভাদুড়ি মশায় কিছু বলার আগেই অপালা উৎসাহিত হয়ে বলল, কলকাতার কোন কলেজ?
মাঝবয়সি লোকটা বলল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় মা। খুব নামকরা।
লাফিয়ে উঠল অপালা, আরে আমিও তো যাদবপুরে পড়ি। কই সেই ছেলেটি? দেখি তো চিনি কি না?
গোবিন্দ বলল, ওই তো ঘরে শুইয়ে রেখেছি। যাও মা।
অপালা দ্রুত ঢুকে গেল ঘরে। ভাদুড়ি মশায় বুঝতে পারলেন এখানে না বলে বিশেষ লাভ হবে না। তিনিও অপালার পিছু পিছু ঘরের দিকে এগোলেন।
বিছানার ওপর নিস্তেজ হয়ে একটি ছেলে শুয়ে আছে। মুখটা দরজার দিকেই ফেরানো। ছেলেটির মুখ দেখেই চমকে উঠল অপালা, এ যে শান্তনু। যে তার প্রেমিকাকে পুটুস ফুল দিয়ে প্রপোজ করেছিল। শান্তনুকে দেখে বড় কষ্ট হল অপালার। আহা রে! অমন ছটফটে প্রাণচঞ্চল ছেলেটা এমন নিঝুম হয়ে শুয়ে আছে। সে বলে উঠল, এই শান্তনু। তুই এখানে? কী হয়েছে তোর?
কেমন ঘোলাটে চোখ মেলে তাকাল শান্তনু। অস্ফুটে বলল, অপালা তুই!
ততক্ষণে ঘরে ঢুকে এসেছেন ভাদুড়ি মশায়। তিনি বললেন, তুমি ছেলেটিকে চেনো দিদিভাই?
অপালা বলল, চিনি মানে? খুব চিনি। দাদু ও ইকোনমিক্সের শান্তনু। খুব ভালো ডিবেট করে।
ইতিমধ্যে ঘরে এসে ঢুকেছে গোবিন্দ মুহুরি এবং মৃত্যুঞ্জয় নামের লোকটি। মৃত্যুঞ্জয়ের দিকে তাকিয়ে ভাদুড়ি মশায় বললেন, কী হয়েছে আপনার ভাগ্নের?
মৃত্যুঞ্জয় বলল, আজ্ঞে ও খুব ভয় পেয়েছে ঠাকুরমশাই। এমনিতে খুবই শক্ত ধাতের ছেলে কিন্তু কী থেকে যে কী হল?
একটু হালকা হলেন ভাদুড়ি মশায়। বললেন, ভয় পাওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। এর জন্য আমার কাছে আনার দরকার ছিল না। দু’দিন পরে এমনিই ঠিক হয়ে যাবে।
মৃত্যুঞ্জয় বলল, আমরাও তাই ভেবেছিলাম কিন্তু পরপর দু’দিন ভয় পেল ও। কাল রাতে তো অজ্ঞান হয়ে গিয়ে এখন তখন অবস্থা হয়েছিল। তার পর থেকেই কেমন নেতিয়ে রয়েছে। আপনি দয়া করে ওকে একটু দেখুন ঠাকুরমশাই।
একটু ভেবে ভাদুড়ি মশায় বললেন, বেশ ঠিক আছে। আপনারা বাইরে যান। আমি ওর সাথে একটু একা কথা বলতে চাই।
মাথা নেড়ে দু’জন বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। অপালা বলল, আমিও কি বেরিয়ে যাব দাদু?
না। তুমি চাইলে থাকতে পারো। ছেলেটি তোমার পরিচিত। তুমি থাকলে ও কথা বলতে স্বস্তি বোধ করবে।
ক্রাচ দুটি পাশে রেখে চেয়ার টেনে আমার মাথার কাছে বসলেন বৃদ্ধ। আমার কপালে হাত রেখে বললেন, শরীরটা কি ভালো নেই বাবা?
এত মায়া মানুষের হাতে থাকে থাকে? আরামে আমার চোখ বন্ধ হয়ে এল। গত দু’দিনে যেন এই প্রথম একটু শান্তি পেলাম। এই মানুষটা যে অপালার দাদু বুঝতে পারছি। কিন্তু উনি আমাকে কীভাবে সাহায্য করবেন বুঝতে পারছিলাম না। ভ্যান গাড়িতে করে নিয়ে আসার সময় মামা বলছিলেন, যার কাছে নিয়ে যাচ্ছি খুব সিদ্ধ পুরুষ। মস্ত বড় তন্ত্রসিদ্ধ পণ্ডিত। সব খুলে বলবি বাবুসোনা। দেখবি উনি সব ঠিক করে দেবেন।
এমনি সময় হলে আমি এসব তন্ত্রসিদ্ধ, মন্ত্রসিদ্ধতে কতটা বিশ্বাস করতাম জানি না। কিন্তু গত দু’ দিন ধরে যা চলছে আমার সাথে তাতে আমার অবিশ্বাস করার মতো অবস্থা নেই। বৃদ্ধ আবার বললেন, তুমি কি এখন আমার সাথে কথা বলতে পারবে?
আমি ঘাড় নাড়লাম, পারব দাদু।
ছেলেটির দাদু ডাকে বেশ চমৎকৃত হলেন ভাদুড়ি মশায়। ছেলেটি অপালার সহপাঠী। সেই হিসেবেই তাঁকে দাদু বলে ডেকেছে। ছেলেটির প্রতি এক ধরনের অপত্য মায়া অনুভব করলেন তিনি। মৃদু হেসে বললেন, এবার আমাকে খুলে বলো তো কী হয়েছিল। কিচ্ছু বাদ দেবে না কেমন?
আমি বলতে শুরু করলাম। সবটা খুলে বললাম অপালার দাদুকে। জিতু বারণ করলেও, ওর মন্দিরে সিগারেট ধরাতে যাওয়ার ব্যাপারটাও বাদ দিলাম না।
সবটা গম্ভীর হয়ে শুনলেন অপালার দাদু। তার পর আমায় জিগ্যেস করলেন, তোমার মামাতো ভাই আসেনি?
না দাদু। ওর রেশন কার্ডে সমস্যা হয়েছে। আজ সেটা ঠিক করার ডেট পড়েছে। ওখানেই গেছে বাধ্য হয়ে। না হলে আসত।
আচ্ছা। তোমার থেকে কত বছরের ছোট এই মামাতো ভাই?
দু’ বছরের।
কী করে ও? কলেজে পড়ে?
হ্যাঁ। এখানকার কলেজেই পড়ে। ইকোনমিক্স অনার্স।
তুমিও তো ইকোনমিক্স।
হ্যাঁ দাদু। জিতু প্রথম দিকে বলেছিল প্রেসিডেন্সিতে ভর্তি হবে। আমি ওকে গাইডও করছিলাম। তার পর হঠাৎ মত বদলাল। বলল, শহরে যাবে না।
তা ভালো। সবাই যদি শহরে চলে যায় গ্রাম যে ফাঁকা হয়ে যাবে। পড়াশোনা নিজের হাতে। যে কোনও জায়গায় পড়লেই হল।
এই অবধি বলে চুপ করে গেলেন ভাদুড়ি মশায়। ভাবতে লাগলেন। তিনি ছেলেটির সমস্যাটা বোঝার চেষ্টা করছেন। খানিকক্ষণ পরে মৃদু হাসি ফুটে উঠল তাঁর মুখে। বললেন, তোমার কিচ্ছু হয়নি। উঠে বোসো।
বৃদ্ধের বলার মধ্যে কী যেন একটা শক্তি ছিল। একটা সম্মোহন ছিল। আমারও মনে হল, সত্যি আমার কিছু হয়নি। আমি ধীরে ধীরে উঠে বসলাম। বৃদ্ধ বললেন, তোমায় একটা প্রবাদ বলি বাবা। কথায় বলে, বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়। এর মানে জানো?
আমি ঘাড় নাড়লাম, না দাদু।
অপালা বলল, আমি জানি এর মানে। এর মানে হল আসলে বাঘটা নেই। বাঘের ভয়টা আছে।
বৃদ্ধ বললেন, ঠিক বলেছ দিদিভাই। দেখো শান্তনু, ওই যে বলে না, রজ্জুতে সর্পভ্রম। দড়ি দেখে সাপ ভেবে ভুল করা, এও অনেকটা তাই। তুমি এই মন্দির সম্পর্কে আগে থেকেই নানা মিথ শুনেছ। তার পর অন্ধকার মাঠে যখন তুমি এই মন্দির দেখলে তোমার একটু ভয় লাগল। কিন্তু তোমার যুক্তিবাদী মন সেই ভয়টাকে পাত্তা দিতে চাইল না। এখানেই বিপদটা হয়ে গেল। তোমার অবচেতনে ভয়টা চেপে বসল। এর চেয়ে তুমি যদি একটু ভয় পেয়ে নিতে তা হলে এত কাণ্ডই হত না। এর মধ্যেই তোমার ভাই জিতু মন্দিরের ভেতরে গেল। তার দেরি দেখে তোমার অবচেতন মন নানা কিছু কল্পনা করতে শুরু করল এবং তোমার যুক্তিবোধ প্রতি মুহূর্তে তাকে খণ্ডন করতে লাগল। এই দুইয়ের দ্বন্দে তোমার মনে একটা বিভ্রম সৃষ্টি হল। যার ফলশ্রুতিতে তুমি নানা অদ্ভুত জিনিস দেখতে শুরু করলে। আমার কথাগুলো কি তোমার যুক্তিগ্রাহ্য মনে হচ্ছে?

আমি বললাম, হ্যাঁ দাদু। মনে হচ্ছে কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি স্পষ্ট দেখেছি ওই ছায়ামূর্তিটা। তার কাপড় উড়তেও দেখেছি। সে যে আয় আয় বলে ডাকছিল সেটাও স্পষ্ট শুনেছি।
সবটাই তোমার অবচেতন মনের কল্পনা বাবা। আমরা আমাদের অবচেতনে যে ছবিগুলো তৈরি করি সেগুলো খুবই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দেখবে কিছু কিছু স্বপ্ন যেন বাস্তবের থেকেও সত্যি মনে হয়। তুমি চিন্তা কোরো না। আমি তোমায় একটা উপায় বলে দিচ্ছি। এটা করে দেখো, তুমি চিরকালের মতো এই ভয় থেকে মুক্তি পাবে।
কী উপায় দাদু?
এর উত্তরে বৃদ্ধ যে কথাটা বললেন সেটা শুনে আমি খানিকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলাম। তিনি বললেন, আজ সন্ধেবেলা তুমি আবার ওই মন্দিরের কাছে যাবে এবং এবার নিজে ওই মন্দিরে ঢুকবে।
নিজেকে সামলে আমি বললাম, একা ওই মন্দিরে যাব?
বৃদ্ধ বললেন, হ্যাঁ। শুধু যাবেই না, সেখানে খানিকক্ষণ বসবে। হাওয়া খাবে। দরকারে মায়ের পায়ের কাছে প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবে। আমার বিশ্বাস, তুমি দেখবে ওই মন্দিরের মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকত্ব নেই। আর যে মুহূর্তে তুমি সেটা অনুভব করবে তোমার অবচেতন মনের ওপর থেকে চাপ কমে যাবে। আমি কোনও মনোবিজ্ঞানী নই বাবা। কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে মানুষের ভয় পাওয়ার সাথে আমার পরিচিতি হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমি দেখেছি, মানুষকে তার ভয়ের উৎসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিলে তার ভয় কেটে যায়। আজ সন্ধেবেলা একা ওই মন্দিরে যেও। সব মঙ্গল হবে। যাও, এবার নিশ্চিন্তে বাড়ি যাও।
আমি অপালাকে আর অপালার দাদুকে বিদায় জানিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম। বাইরে এসে অপালার দাদু বড়মামার কাছেও একই নিদান দিলেন। একা একা মন্দিরে যেতে হবে শুনে বড়মামা একটু খুঁতখুঁত করছিলেন কিন্তু গোবিন্দ মামা বড়মামার কানে কানে বলল, ভাদুড়ি মশায় যা বলেন তা একেবারে অব্যর্থ। আমি আগেও এ জিনিস দেখেছি। ওনার কথা নিয়ে দ্বিমত করিস না মৃত্যুঞ্জয়। শান্তনুকে মন্দিরে পাঠা, ও ভালো হয়ে যাবে।
বড়মামা আমায় নিয়ে বাড়ি ফিরে এলেন। ততক্ষণে কাজ মিটিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছে জিতু। সব শুনে সে বেঁকে বসল, কিছুতেই না। দাদা একা একা বউকালীবাড়ি মন্দিরে যাবে না। আগের দিন বাইরে থেকেই দেখেই এত কাণ্ড হয়েছে। এর পর সন্ধেবেলা একা একা মন্দিরের ভেতরে গিয়ে বসে থাকলে আর দেখতে হবে না। কোথাকার কে মন্ত্রসিদ্ধ এলেন! উনি কী জানেন বউকালীবাড়ি মন্দির সম্পর্কে? শহরের লোক তো, সবজান্তা হাবভাব।
আমিই থামালাম জিতুকে, না রে জিতু। মানুষটাকে আমার ধাপ্পাবাজ মনে হয়নি। ওনার কথাগুলো খুবই যুক্তিযুক্ত। হতেও তো পারে আমার হ্যালুসিনেশন হয়েছে।
জিতু যেন একটু বিরক্ত হল। বলল, দেখ দাদা তুই জানিস আমি অত ভয়টয় পাই না। কিন্তু তুই যখন একবার ভয় পেয়েছিস এই রিস্ক নেওয়া ঠিক হবে না। তুই যেতে চাইছিস যা। কিন্তু আমিও তোর সাথে যাব। মন্দির থেকে কিছুটা দূরে বসে থাকব।
মামি বলে উঠল, তুই একা না জিতু। তোর বাবা, কাকা আর পদা মুনিশকেও নিয়ে যা। বিপদ বুঝলে সবাই মিলে ছুটে যেতে পারবি। আর শান্তনু যখন মন্দিরে ঢুকবে তখন আমি চণ্ডীতলায় পুজো দেব। ওর কিচ্ছু হবে না।
শেষমেশ এই সিদ্ধান্ত হল যে আজ সন্ধেবেলায় আমি একা বউকালীবাড়ি মন্দিরে ঢুকব। মন্দির থেকে কিছুটা দূরে ঢিপির নীচে আমার জন্য অপেক্ষা করবে বড়মামা, ছোটমামা, জিতু, পদা মুনিশ এবং আরও কয়েকজন। বিপদ বুঝলে তারা ছুটে যাবে।
দিদা আমার হাত ধরে বলল, আমার যে খুব ভয় করছে বাবুসোনা।
