৭
রাতের ঘুম ভালো হলে মনমেজাজ শরিফ থাকে। সকালে চোখ খুলে জানলা দিয়ে আসা এক ফালি নরম রোদের দিকে তাকিয়েই তিতাসের মনটা ফুরফুরে হয়ে গেল। বহুদিন পর এত গাঢ় ঘুম হল তার। মাঝের একটা সময় তো মুঠো মুঠো স্লিপিং পিল খেয়েও ঘুম আসত না। শেষ কিছুদিন ধরে যদিও এ সমস্যাটা অনেক কমে এসেছিল তবে খুব গভীর ঘুম হত না। অল্প কোনও শব্দেই ঘুম ভেঙে যেত। সেখানে এমন নিরবচ্ছিন্ন শান্তির ঘুম ভাবাই যায় না। বিছানায় উঠে বসে আড়মোড়া ভাঙল তিতাস। শরীরটাও একেবারে ঝরঝরে হয়ে গেছে। পল্লব এখনও ঘুমোচ্ছে। খাট থেকে নেমে পড়ল তিতাস। সাড়ে সাতটা বাজে। ঠিক করল, একেবারে চা বানিয়ে পল্লব আর অমিয়কে ডাকবে।
অমিয়র ফ্রিজটা বসার ঘরে। ফ্রিজ থেকে দুধ বার করতে গিয়ে থমকে গেল তিতাস। ফ্রিজের গায়ে ম্যাগনেট দিয়ে একটা কাগজের টুকরো আটকানো। তার ওপরে অমিয়র হাতের লেখা। লেখাটা পড়তে পড়তে ভুরু কুঁচকে গেল তিতাসের। অমিয় লিখেছে, পল্লব, জরুরি কাজে আমাকে বেরোতে হল। তোরা বেরনোর সময় চাবিটা সিকিউরিটির হাতে দিয়ে যাস।
মানুষের কথা বলার ধরন তার লেখায় প্রতিফলিত হয়। এ লেখা বড্ড দায়সারা। এমন ভাবে তো অমিয় কথা বলে না! তা হলে? ওর কি কিছু হয়েছে? মিতুলের সঙ্গে মনোমালিন্য মেটেনি বলে কি মুড অফ? কেমন যেন একটা খটকা লাগল তিতাসের। ফোন করল অমিয়র নম্বরে। কিন্তু পরপর দু’বার ফোন বেজে বেজে কেটে গেল। অমিয় ফোন ধরল না। পল্লবকে ধাক্কা দিয়ে তুলল তিতাস। কোনওমতে উঠে বসল পল্লব। ঘুম জড়ানো গলায় বলল, কী হয়েছে?
তিতাস বলল, অমিয় সাতসকালে বেরিয়ে গেছে। একটা নোট লিখে রেখে গেছে, জরুরি কাজ ছিল বেরিয়ে যাচ্ছি।
তো? কাজ থাকলে বেরোবে না?
ফোন ধরছে না তো। আমার কেমন একটা আনক্যানি ফিলিং হচ্ছে।
কথাটায় পাত্তা না দিয়ে তিতাসের কোমর জড়িয়ে শুয়ে পড়ল পল্লব। আদুরে বেড়ালের মতো পেটে মুখ ঘষতে ঘষতে বলল, আমার পাঁচ নম্বর ভার্টিব্রার ওপর একটা চুমু খা না তিতাস।
এটা পল্লবের বরাবরের স্বভাব। তিতাস যেহেতু ডাক্তার তাই চুমু খেতে বলার মাধ্যমে তার অঙ্গসংস্থান জ্ঞানের পরিচয় নেয় সে। মাঝে মাঝেই বলে ওঠে, তিতাস, আমার কিডনির ওপর একটা চুমু খা। আমার বাম নিলয়ের ওপর একটা চুমু খা। আর শুধু চুমুই বা কেন? মাথা চুলকে দিতে হলে বলবে, অক্সিপিটাল লোবের ওপরটা একটু চুলকে দে। মাথা টেপাতে হলে বলবে, ফ্রন্টাল লোবের ওপরটা খুব দপদপ করছে। এসব বাঁদরামো পল্লবের পক্ষেই সম্ভব। অন্য সময় তিতাস হাসে কিন্তু আজ এক ধাক্কা দিল পল্লবকে। বলল, সকাল সকাল দেয়ালা করিস না। ওঠ তো।
এইবার ঠিকমতো উঠে বসল পল্লব। বলল, কী ব্যাপার বল তো? তুই এমন করছিস কেন?
কারণ, গত দু’ বছরে অমিয় কখনও এমন করেনি। যতই জরুরি কাজ থাক আমাদের সি-অফ না করে ও অফিস যায়নি। একবার তো আমাদের জন্য এসপি-র সঙ্গে জরুরি মিটিং-ও ঢপ দিয়ে কাটিয়ে দিয়েছিল। মনে আছে?
হ্যাঁ, সে মনে আছে কিন্তু এবার হয়তো তার চেয়েও জরুরি কোনও কাজ পড়েছে। যাকগে, ওর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। তুই স্নানে যা। সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ি চল। রাস্তায় ব্রেকফাস্ট করে নেব।
মনের মধ্যে একটা খচখচানি নিয়েই স্নান করতে ঢুকে গেল তিতাস। খুব রাগ ধরে গেল অমিয়র ওপর। না বলে যাওয়া অবধি মানা যায়, তা বলে ফোনও ধরবি না? তিতাস ঠিক করে ফেলল, ফেরার পথে একবার মিতুলের সঙ্গে দেখা করে যাবে। কী নিয়ে ওদের ঝগড়া হয়েছে সেটা জেনে ঝগড়াটা মিটিয়ে দিতে হবে। খুব ঝাড়বে অমিয়কে। মিতুলের মতো মিষ্টি ফুটফুটে একটা মেয়ের সাথে ঝগড়া করার কোনও অধিকার নেই ওর।
সবে শাওয়ারটা খুলেছে তিতাস, বাইরে থেকে দরজায় টোকা দিল পল্লব। গলা উঁচু করে বলল, অমিয় ফোন ধরেছে। বলল, ভোর রাতে ব্যারাকপুর রোডের ওপর কোথায় একটা খুব বড় মারপিট হয়েছে। তাই ফোর্স নিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা ঘুমোচ্ছিলাম বলে ডাকেনি। ফিরে ফোন করবে।
আচ্ছা। একটু নিশ্চিন্ত হল তিতাস। শাওয়ারের জোর বাড়িয়ে দিয়ে মাথায় শ্যাম্পু ঘষতে শুরু করল। এই কোঁকড়ানো চুলে শ্যাম্পু করা একটা যুদ্ধ। একদিন ঠিকমতো শ্যাম্পু না করলে, সিরাম না লাগালে জট লেগে এমন অবস্থা হয় যে চিরুনির দাঁড়া ভেঙে যাওয়ার জোগাড়। মাঝে মাঝে তিতাস ভাবে একেবারে ন্যাড়া হয়ে যাবে কিন্তু এই চুলের ওপর আবার মায়াও আছে। এই চুলে নাক ডুবিয়েই না পল্লব বলেছিল, ‘তোমার জন্য লিখতে পারি এক পৃথিবী।’ নিজের মনেই হাসে তিতাস, বয়স যত বাড়ছে তত পাক ধরছে প্রেমে। বয়স হলে কেন যে প্রেমে এত পাক ধরে, কেন যে হৃদয় রাত জেগে পায়চারি করে তা তিতাস জানে না। জানবেই বা কী করে? সুমনসাঁই তো নিজেই জানেন না এর উত্তর। তবে তিতাস এটা জানে, প্রেমে পাক ধরার সঙ্গে শারীরিক চাহিদার সম্পর্কটা ব্যস্তানুপাতিক। সম্পর্কের শুরুতে প্রায় সবটাই আচ্ছন্ন করে রাখে শরীর। দু’টো নতুন শরীর প্রচণ্ড তীব্রতায় একে অপরকে কাছে টানে। তাদের নিষ্পেষণে যে প্রবল ঘূর্ণি ওঠে কালক্রমে তাই পর্যবসিত হয় শান্ত, শীতল, গভীর নির্ভরতায়। প্রেমের গভীরতা যত বাড়ে উপরিতলের ওই উদ্দামতা ক্রমশ স্তিমিত হয়ে আসে। তখন আঙুলে আঙুল ছুঁলে শরীর জাগে কম, মন জাগে বেশি। এসব ভাবতেই ভাবতেই মাথায় জল দিল তিতাস আর চুল ধুতে গিয়েই চমকে উঠল! মাথা কিচকিচ করছে বালিতে! চুল বেয়ে বালিধোয়া জল পড়ছে বাথরুমের মেঝেতে! এক মুহূর্ত আগেই যখন মাথায় শাম্পু ঘষছিল বালি তো ছিল না! তবে কি শাওয়ার থেকেই বালিটা আসছে? চকিতে শাওয়ারের দিকে তাকাল তিতাস। কিন্তু না! শাওয়ারের ঝাঁঝরি দিয়ে যে জল পড়ছে তাতে তো বালির চিহ্নমাত্র নেই! অথচ বাথরুমের মেঝে থিকথিক করছে বালিতে। এমনকী বালির পরিমাণ এতটাই বেশি যে বাথরুমের জল বেরনোর নালাটা অবধি আটকে গেছে বালি জমে। বাথরুমে এখন পায়ের পাতা ডোবা জল। আচমকা খুব ভয় পেয়ে গেল তিতাস। তার ষষ্ঠেন্দ্রিয় তাকে বলল, যা হচ্ছে বা হবে তা ভালো জিনিস নয়। দ্রুত বাথরুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিল সে। এক ঝটকায় খুলে ফেলল বাথরুমের দরজা আর খুলতেই ভয়ে, বিস্ময়ে, অপ্রত্যাশিত অভিঘাতে বিমূঢ় হয়ে গেল তিতাস। বাথরুমের দরজা খুলে সে যেন এসে পড়েছে সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে! কোথায় অমিয়র সেই চেনা ফ্ল্যাট? চেনা বাথরুম? তার বদলে সে এখন দাঁড়িয়ে আছে আধো অন্ধকার একটি বিপুলায়তন কক্ষে। অদ্ভুত নকশাকাটা বিশাল বিশাল চৌখুপি পাথরের মেঝে। পাথরের চাঁই জুড়ে জুড়ে বানানো দেওয়াল। দীর্ঘকায় সব পাথুরে গম্বুজ উঠে গেছে ছাদ পর্যন্ত। দেওয়ালের গায়ে জ্বলছে মশাল। তারই আবছা আলোতে দেখা যাচ্ছে, দেওয়ালের ওপর পাথরে খোদাই করে আঁকা বিবিধ বিচিত্র সব ছবি। কিছুটা দূরে একটা বৃহদাকার পাথরের বেদি। বেদির ঠিক পেছনে একটি নাতিউচ্চ কপাটবিহীন দরজা। মশালের আলো সেই দরজার ওপারের কালিগোলা অন্ধকারকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারছে না। বেদির সামনে নানা ধরনের উপাচার দেখে বোঝা যাচ্ছে কিছুক্ষণ আগেই পুজো হয়েছে। সার দিয়ে রাখা কয়েকটি পাথরের মালসার মধ্যে কী যেন পুড়ছে। ধোঁয়া উঠছে। অদ্ভুত এক ঝিমধরানো গন্ধ তাতে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, বেদির ওপর কোনও বিগ্রহ নেই! ধীরে ধীরে বিস্ময়ের প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে নিচ্ছিল তিতাস। সে আন্দাজ করল, এই কক্ষটি কোনও এক বহু প্রাচীন মন্দিরের গর্ভগৃহ। এ কি তবে সেই মন্দির যা সে স্বপ্নে দেখেছিল? কিন্তু মন্দিরই যদি হবে বিগ্রহ নেই কেন? আর সে এখানে এলই বা কী করে! তবে কি সে এখন স্বপ্ন দেখছে? সব গুলিয়ে যাচ্ছিল তিতাসের, তখনই কানে এল চাপা গরগর আওয়াজ। চমকে তাকাল সে। আওয়াজটা আসছে বেদির পেছনের সেই দরজার ওপারের অন্ধকার থেকে। আর এ আওয়াজটা চিনতে ভুল হল না তিতাসের। তিতাস জানে এবার ওই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসবে একটি বিশালাকার সিংহ। যার প্রতিটি পেশিতে স্তম্ভিত বিদ্যুৎ। কিন্তু সিংহটাকে দেখতে পাওয়া মানে তো তাকেও দেখতে পাওয়া। সিংহ আছে মানে সেও আছে। শিউরে উঠল তিতাস। না না, তাকে আর দেখতে চায় না তিতাস। একবার মাত্র তাকে দেখেছে তিতাস কিন্তু তাতেই বুঝেছে, পৃথিবীর সমস্ত বিপরীতার্থক অবস্থা একসঙ্গে স্থিত হয়েছে ওই আধারে। একই মুহূর্তে আলো আর অন্ধকারকে সহ্য করার মতো ক্ষমতা মানুষের নেই। চোখ বুজে ফেলল তিতাস। চোখ বুজে থেকেই অনুভব করল, লঘু পায়ে সিংহটা এগিয়ে আসছে তার দিকে আর আদিম এক ভয় আচ্ছন্ন করে দিচ্ছে তার সমস্ত চেতনা। পা দুটো যেন জমে গেছে পাথরের মেঝের সাথে। চাইলেও আর কোনওদিন যেন সে ফিরে যেতে পারবে না এই গর্ভগৃহ থেকে। খুব কান্না পাচ্ছিল তিতাসের। তার বন্ধ করে থাকা চোখ উপচেই জল গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে আর পড়া মাত্রই তীব্র শীতল এক নিঃশ্বাসে জমে বরফ হয়ে গেল সেই অশ্রুবিন্দু।
এসেছে। সে এসেছে।
সেই অখণ্ডমণ্ডলাকার বিস্ময় এখন প্রদক্ষিণ করছে তিতাসের চারপাশে, অসম্ভব গরম লাগতে শুরু করেছে তিতাসের। সে দরদর করে ঘামছে কিন্তু মৃত্যুহিম এক শৈত্যে সে স্বেদবিন্দুও স্ফটিকদানায় পরিণত হচ্ছে নিমেষে। আর পারছে না তিতাস। তার মনে হল সে এবার অজ্ঞান হয়ে যাবে আর ঠিক সেই মুহূর্তে তার মাথার ভেতর গমগম করে উঠল এক আশ্চর্য কণ্ঠস্বর। সেই কণ্ঠস্বর একাধারে সুরহীন কর্কশ ও অনির্বচনীয় সুরেলা। সেই কণ্ঠস্বরে যেন যুদ্ধজয়ের উল্লাস আবার একই সাথে তাতে সঞ্চিত হয়ে আছে প্রিয়জন বিয়োগের বেদনা। সেই কণ্ঠ যে ভাষায় কথা বলছে তা তিতাসের অজানা তবু তার অর্থ অনুধাবন করতে একটুও অসুবিধে হল না। আশ্চর্যতম সেই কণ্ঠ বলছে, অমিয় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাকে ধরিয়ে দাও। ধরিয়ে দাও। এক এক করে শেষ করে দাও প্রত্যেককে। কঠোর হও। নির্মম হও। নীতিজ্ঞান লোপ পাক। চৈতন্য উদ্ভাসিত হোক অন্ধকারে। আমায় ধারণ করো অন্তরে। বলো, ইযুজ্জু ইনান্না… ইযুজ্জু ইনান্না… ইযুজ্জু ইনান্না…
চোখের পাতা ক্রমশ ভারী হয়ে এল তিতাসের। ঘোর লাগা গলায় সে বিড়বিড় করে বলতে শুরু করল, ইযুজ্জু ইনান্না… ইযুজ্জু ইনান্না… ইযুজ্জু ইনান্না…
* * *
প্রায় সওয়া এক ঘণ্টা হয়ে গেল তিতাস স্নানে ঢুকেছে। স্নান করতে তো তিতাসের এত সময় লাগে না! একটু অস্থির হয়েই দরজায় টোকা দিল পল্লব, তিতাস। এই তিতাস। আর কতক্ষণ…, কথা শেষ করার আগেই ঝপ করে বাথরুমের দরজাটা খুলে গেল। সামান্য চমকে উঠল পল্লব। ও কী! তিতাসের চোখ দুটো অমন লাল কেন? কিন্তু সে কিছু বলার আগেই তিতাস বলে উঠল, চোখ দুটো খুব লাল হয়েছে না রে?
চিন্তিত গলায় পল্লব বলল, হ্যাঁ। ব্যথা-ট্যথা করছে না তো?
তিতাস বলল, না না। আসলে শ্যাম্পু ঢুকে গেছিল। অনেকটা জলের ঝাপটা দিয়েছি। ও ঠিক হয়ে যাবে।
আচ্ছা। অমিয় আবার ফোন করেছিল।
কী বলল?
বলল, মারামারিটা না কি একটু রায়টের দিকে চলে গেছে। পুলিশ ক্যাম্প বসেছে। ওখানেই থাকতে হবে। ফিরতে ফিরতে দু’-তিনদিন লেগে যাবে।
সে কী! ও সেফ আছে তো?
বলল তো সিচুয়েশন আন্ডার কন্ট্রোল। চিন্তার কিছু নেই।
বেশ। ঠিক আছে। তুই রেডি তো? আমি পাঁচ মিনিটে রেডি হয়ে আসছি।
আসছি মানে? এখানেই তো রেডি হবি।
না। অমিয়র ঘরের আয়নাটা বড়।
জামাকাপড় আর ব্যাগ নিয়ে অমিয়র ঘরে ঢুকে গেল তিতাস। দরজাটা বন্ধ করে দিল। বেশ খানিকটা অবাক হল পল্লব। প্রথম কথা, বরাবর তিতাস তার সামনেই চেঞ্জ করে আর দ্বিতীয় কথা, তারা যে ঘরে আছে সে ঘরের আয়নাটা কোনও অংশেই অমিয়র ঘরের আয়নাটার থেকে ছোট না। তা হলে চেঞ্জ করার জন্য হঠাৎ আয়নার দোহাই কেন দিল তিতাস? মাথা নেড়ে ভাবনাটা ঝেড়ে ফেলল পল্লব। মেয়েমানুষের কার্যকলাপ নিয়ে ভাবতে গেলে পেট গরম অবশ্যম্ভাবী। দেবতারাই যেখানে নারীর মনগহনের তল পায় না সেখানে কুতো মনুষ্যাঃ, মানুষ তো কোন ছার। জুতোর ফিতে বাঁধতে বাঁধতে গুনগুন করে গান ধরল পল্লব, ‘মন দিল না বঁধু/ মন নিল যে শুধু/ আমি কি নিয়ে থাকি…’ সে জানতেও পারল না, বন্ধ দরজার ওপারে তখন ঘৃণ্য এক চক্রান্তের জাল বুনে চলেছে তারই প্রিয়তমা তিতাস। না, এ তিতাস পল্লবের প্রিয়তমা নয়। এ তিতাস নির্মম চেতনাহীন এক পাষাণমাত্র। শাপগ্রস্ত। যে অভিশাপ সহস্রাধিক বছর ধরে গুমরে মরছে মহাসিন্ধুর ওপারে দুই নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা এক প্রাচীন সভ্যতার উপকথায়।
