কলকাতা নুয়া – রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
গোয়েন্দা কানাইচরণের কাহিনি
KOLKATA NOIR
Cases of Detective Kanaicharan By Rajarshi Das Bhowmik
প্রথম প্রকাশ – নভেম্বর ২০১৯
প্রচ্ছদ – রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
প্রচ্ছদলিপি – অরিজিৎ গাঙ্গুলি
.
উৎসর্গ
শ্রেষ্ঠা দে ও বাসবদত্তা ঘোষ
.
আত্মপক্ষ
গোয়েন্দা কাহিনির একটি বিশেষ সৌন্দর্য আছে। সে সৌন্দর্য তার রহস্যের সৌন্দর্য। কবিতার ধারণা না-থাকলে অনুমান করি এই সৌন্দর্যকে সম্যকভাবে উপলব্ধি করা যায় না। তাই, যিনি ‘মাইকা ক্লার্ক’ লেখেন, তাকেও গোয়েন্দা চরিত্র তৈরি করতে হয়। তিনি যে একদিন ‘দা হাউন্ড অফ বাস্কারভিলস’ এর মতো কাব্যিক উপন্যাস লিখবেন, তা যেন তাঁর কলমের নিয়তিতেই ছিল। এই বিশেষ সৌন্দর্যের টানে খবরের কাগজের দুদে সাহিত্য-সমালোচক এক রোম্যান ক্যাথলিক যাজককে গোয়েন্দা বানিয়ে দেন। এ তো শুধু বইয়ের কাটতি আর লেখকের খ্যাতির কথা ভেবে নয়! নির্দিষ্ট ভাবে এই সৌন্দর্যের স্বরূপ বর্ণনা করা আমার সাধ্যাতীত। উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে মাত্র। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে ‘লন্ডনে ফেলুদা’ ও ‘এলিফ্যান্টস ক্যান রিমেমবার’-এর কথা। দুটি উপন্যাসেই মানুষের স্মৃতি রহস্যের নিউক্লিয়াসটিকে আগলে রেখেছে। বর্তমান কাহিনিকারও গোয়েন্দা গল্পের সেই নিহিত সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট। ইদানীংকালের, থ্রিলার-ভিত্তিক গোয়েন্দা গল্পের ভিড়ে যে সৌন্দর্য জাস্ট উবে গেছে।
কানাইচরণ লেখা যখন শুরু করি, আমরা তখন প্রবাসে। প্রথমে ভেবেছিলাম, কানাইচরণ হবেন ঊনবিংশ শতকের আলোকজ্জ্বল এক গোয়েন্দা (তা কী উইলিয়াম অফ বাস্কারভিলের প্রভাবে!)। তিনি সেই সময়ের উপযোগী ক্রাইম সলভ করেন। নানা বাস্তব সমস্যায় সেই পরিকল্পনা রূপায়িত হয়নি। পরবর্তীতে, এক বিকালে লেক র্যালের ধারে বসে কালাপানির দিশার সামগ্রিক কাহিনিসূত্রটি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সুশীল সাহার আন্তরিক উদ্যোগে কানাইচরণের প্রথম কেস ফাইলটি প্রকাশিত হয়। অভিষেক মুখোপাধ্যায়ের আগ্রহে ‘পাইস হোটেলে হত্যা’ প্রকাশ পায় একটি অধুনালুপ্ত ব্লগজিনে। আমি বড়োপত্রিকার লেখক নই, আবার লিটল ম্যাগাজিনও আমার কাছে লেখা চায় না, তা সত্ত্বেও বিগত তিন-চার বছরে কানাইচরণের একটি ক্ষুদ্র অথচ অনুগত পাঠকমণ্ডলী গড়ে উঠেছে। তাদের জন্য রইল অপ্রকাশিত তৃতীয় কেস ফাইলটি।
সবশেষে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি ভ্রাতৃপ্রতিম অর্ণব বোসের, সে ‘পাইস হোটেলে হত্যা’-য় একটি মারাত্মক ভুল খুঁজে পেয়েছিল। ভুলটি ঘটেছে ইঁদুর মারার বিষের কেমিক্যাল কম্পোজিশানে! আমি লেখাটি সংশোধন করতে পারতাম, ইচ্ছে করেই করিনি। গোয়েন্দার কেস ফাইলে, পাঠকের গোয়েন্দাগিরিরও একটা সুযোগ থাক।
শুভেচ্ছান্তে,
রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
বেঙ্গালুরু, আগস্ট, ২০১৯
.
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা
গোয়েন্দা কানাইচরণের বয়স হচ্ছে, সামনে রিটায়ারমেন্ট, এবং সর্বোপরি সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না। হই হই করে মানুষজন যে ‘কলকাতা নুয়া’ পড়ছে তা জানতে পেরে তাই গোয়েন্দা কানাইচরণ বেজায় খুশি এবং যারপরনাই বিস্মিত! প্রথম সংস্করণের আত্মপক্ষে কানাইকে কেন্দ্র করে যে ক্ষুদ্র পাঠকমণ্ডলীর কথা লিখেছিলাম, বইপ্রকাশের পর তার আয়তন ক্রমবর্ধমান। এখন আর তাকে ‘ক্ষুদ্র’ বলা যবে না, বরং বেশ গায়ে-গতরে। বস্তুতই পুলিশ গোয়েন্দার এহেন সুখ্যাতি ছাড়িয়েছে মানুষের মুখে-মুখে। বহু পাঠক-পাঠিকা সামাজিক মাধ্যমগুলিতে পাঠপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের প্রতি আমার ও গোয়েন্দা কানাইচরণের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রইল। কৃতজ্ঞতা জানাই, আমার প্রকাশক শ্রীমতী মাধবী মজুমদারকে, এবং কানাইচরণের অবৈতনিক-অভিভাবক শ্রী অদ্বয় চৌধুরীকে। বেশ কিছু মুদ্রণ প্রমাদ দ্বিতীয় সংস্করণে শুধরে নেওয়া গেল। জনৈক পাঠক সতর্ক করেছেন, কানাইচরণের রিটায়ারমেন্ট সামনেই, সুতরাং আমি যত শীঘ্র সম্ভব যেন পরবর্তী কাহিনিগুলি যন্ত্রস্থ করে ফেলি। প্রকাশ থাক, গোয়েন্দা কানাইচরণকে নিয়ে লেখা একটি সুদীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রকাশ পাবে। শুভেচ্ছান্তে,
রাজর্ষি দাস ভৌমিক
অক্টোবর ১৪ ২০২০, বেঙ্গালুরু
.
কলকাতা মাধাইয়ের লাশ লুকিয়ে রাখে
আজও আমিষ ছাড়া বাঙালির উৎসব সম্পূর্ণ হয় না!
‘তোমাকে মিথ্যা বলেছি’, সুব্রত সরকার।
.
লেখক পরিচিতি
‘কলকাতা নুয়া’ রাজর্ষি দাশ ভৌমিকের (জন্ম ১৯৮৭) চতুর্থ গদ্যের বই। ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে দুটি উপন্যাস ও একটি গল্পগ্রন্থ। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি প্রদত্ত শান্তা বসু স্মৃতি পুরস্কার’ পেয়েছিলেন ২০১০ সালে। পেশায় অধ্যাপক, রাজর্ষি বর্তমানে বেঙ্গালুরু-নিবাসী।


Leave a Reply