৫
কয়েকদিন পর সকালে মতিদার সঙ্গে অফিসে মুখোমুখি দেখা হল। ঘড়িতে তখন দশটা, সাড়ে দশটা থেকে উইকলি ক্রাইম কনফারেন্স শুরু হবে, মতিদার হাতে আধ ঘণ্টাটাক সময়।
আমাকে জিজ্ঞেস করলেন — পাখির কেসটা কী হল?
—শুনেছ নাকি? জিজ্ঞাসা করলাম।
মতিদা হেসে বললেন—ভাসা ভাসা শুনেছি। পাখিটা কি রিয়েল পাখি?
আমি অবাক হলাম- রিয়েল পাখি না তো আবার কি! চড়াই পাখি।
মতিদা যেন হতাশ হলেন। ও, পুলিশি ভাষায় তো পাখি মানে অনেক কিছু হতে পারে। সেসব না তবে। গুড।
আমি গম্ভীরভাবে বললাম—অবশ্যই না।
মতিদা দুই আঙুলের ফাঁকে পেন নাচাতে নাচাতে বললেন—তা পাখিগুলোকে কে মারছে কোনো ক্লু পেলি?
আমি বাধা দিলাম—মারছে নয়, পাখিদের খুন করা হয়েছে।
—অ। মতিদার মুখ থেকে শুধু এটুকু শব্দ বেরল, বুঝলাম ভেতরে সামলে নিলেন।
হাতের পেনকে টেবিলের ওপর ছুঁড়ে টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ে বললেন—তা খুন যখন তখন মোটিভ, অ্যালিবাই, ফার্স্ট উইটনেশ এসব আছে তো?
আমি বললাম- কোনো মার্ডার কেসে প্রথম থেকে সেসব থাকে? আস্তে আস্তে বোঝা যাবে। একটা স্পেশাল টিম বানিয়ে দাও, লালবাজার থাকুক, সি আই ডিও আসুক, কমিশনার সাহেবকে কনফারেন্সে বলে দেখ।
—ক্ষেপেছিস, অত ফোর্স নেই। মতিদা হাত উলটালেন।
আমি হতাশ হয়ে বললাম—তদন্তের অগ্রগতি খুবই খারাপ।
মতিদা আশ্বস্ত করে বললেন—হবে, হবে, আগে মোটিভটা ভাব। সূত্র খুঁজতে গিয়ে লাভ নেই। একটা মানুষ খুন হলে, মৃতের একটা জীবনী পুলিশের সামনে খুলে দেওয়া হয়। কার সাথে বাওয়াল, কার টাকা মেরেছে, কে ঈর্ষা করে, বৈবাহিক সম্পর্ক, পরকীয়া, ইত্যাদি। পাখিদের, মারা…ইয়ে মার্ডারের পর কিন্তু পাখিদের জীবনটা তোর সামনে নেই। তাই কোনো মোটিভও থাকবে না।
আমি আপত্তি করলাম—পাখিদের জীবনের কিছুই যে একেবারে জানি না এমনটা নয়। পাখিদের আকার যেমন ছোটো তাদের জীবনও ছোটো, জীবনীও ক্ষীণতনু। সেই জীবনীর পাতা উলটে তোমার পক্ষীবিদ তথা ‘বাংলার আলপথ’-এর লেখক রন্তিদেব সেন আমাকে বলেছেন চড়াই গোত্রের পাখি, বুলবুলিরা, ফসলের প্রচুর ক্ষতি করে থাকে।
আমার কথার মাঝেই মতিদা কেমন উদাশ হয়ে গেলেন।
যেন অনেকটা দম নিয়ে পুকুরে ডুব দিলেন, তারপর ভুস করে জল ঠেলে ওপরে উঠে এলেন।
আমাকে বললেন—জানিস, বহুকাল আগে একটা সিনেমা দেখেছিলাম। নিউ এম্পায়ার না রক্সিতে, ঠিক মনে নেই। হিচককের একটা সিনেমা। নামটা মনে পড়ছে না।
পাখির প্রসঙ্গে আমি সিনেমাটার নাম আন্দাজ করতে পারলাম। খেই ধরিয়ে দিয়ে বললাম—বার্ডস!
—হ্যাঁ হ্যাঁ, বার্ডস। হিচককের তো। তোর কথায় মনে পড়ে গেল। খুব কম ক্ষেত্রেই খুনের মোটিভ রক্ষণাত্মক কোনো কারণ হয়। আত্মরক্ষার জন্য মানুষ মানুষকে খুন করে বই কি। রাজারাজড়ারা যেমন ক্রীড়ার জন্য বাঘ মেরেছে, খুন করেছে, তেমনি বাঘের উৎপাতে নাজেহাল প্রজাদের কথাতেও বাঘকে গুলি করত। উৎপাতে বিরক্ত হয়ে মারলে, তাকে খুন বলা যাবে কিনা আমি জানি না। তাকে বরং শিকার বলাই ভালো।
আমি বললাম—চাষিরা পাখিকে ওভাবে খুন করবে না মতিদা।
আমার কথা বোধহয় মতিদার কানে গেল না, তার মন বহুযুগ আগের নিউ এম্পায়ার বা রক্সি সিনেমায়, বললেন—মানুষ ভয় পেয়েও মানুষকে খুন করে। এইরকম খুনের মোটিভ খুব সূক্ষ্ম। খালি চোখে বোঝা যায় না। পাশবই, ডায়ারি দেখেও একজন মানুষের জীবনে থ্রেট যে আসলে কী বা কে—আমরা বলতে পারি না। বিনা-উৎপাতে পাখি কি কারুর থ্রেট হতে পারে?
—কোনো কারণ ছাড়া অমন ভাবে পাখিকে বিকৃতমনস্ক কেউই মারতে পারে। আমি বললাম।
—জানিস, বার্ডস সিনেমাটার কথা কেন বললাম। সিনেমাটা দেখে এত ভালো লেগেছিল, মূল গল্পটাও পড়েছিলাম। মরিয়ারের লেখা ছোটোগল্প। পারলে গল্পটাও পড়ে দেখিস। গল্পের পাখিরা সমুদ্রতীরে ঝাঁক বেঁধে বসে আছে, ঝাঁক বেধে উড়ে যাচ্ছে, আবার আকাশ কালো করে নেমে আসছে। পড়তে পড়তে আমারই মনে হচ্ছিল, এইসব পাখি আকাশ কালো করে নেমে এসে আমাকে ঠুকরে খাবে। আই হ্যাড ফেণ্ট দা থ্রেট।
মতিদা মিনিটকয়েক চুপ করে থাকলেন, হালকা হলেন, বললেন—কেসটা ছাড়িস না। সিরিয়াল কিলিং ভেবেই এগোতে থাক।
আমি হাসলাম, বললাম—সেভাবেই এগুবো, কিন্তু মামুলি দু-একটা ছাড়া কোনো সূত্র নেই। লোকবল নেই।
মতিদা ক্রাইম কনফারেন্সে যাওয়ার জন্য ফাইল গুছালেন। চুলে চিরুনি চালিয়ে, বেরুনোর আগে টেবিলে টোকা দিয়ে বললেন—ও বলতে ভুলে গেছি, ভানু সমাদ্দার তোর খোঁজ করছিল।
আমি হাতের কাজ ফেলে ছুটলাম মার্ভেল অপটিক্যালে।
হন্তদন্ত হয়ে আসাই সার হল, বউবাজার তখন সবে ঘুম ভেঙে জাগছে। মার্ভেল অপটিক্যালের মানুষপ্রমাণ সবজে রঙের কাঠের পাল্লা ভেজানো। একবার ভাবলাম ফিরে যাই। মতিদার কথা মনে পড়ল, লেগে থাকতে হবে। মার্ভেলের সাইনবোর্ডে দেখি লেখা আছে ১১টা হইতে ৭টা। ফুটপাথের চায়ের দোকানের পাথরের ওপর বসলাম। সিগারেট ধরালাম আর লিকার চা দিতে বললাম, চিনি ছাড়া।
সকালে আমার গুরু মতিদার সঙ্গে কথা বলে নিজের ভেতর অন্যরকম একটা উৎসাহ পাচ্ছিলাম। যেন তান্ত্রিক গুরু শবসাধক চ্যালার মাথায় হাত রেখে বললেন, ভয় নেই—এগিয়ে যা। সিগারেটে টান দিতে দিতে ঠিক করলাম—যা সূত্র হাতে আছে, সেটুকু হাতে নিয়েই বাকিটা কল্পনা করে একটা সার্চ শুরু করি।
সিরিয়াল কিলারকে ধরার ব্যাপারে সার্চের গুরুত্ব অপরিসীম। যেহেতু খুনির সঙ্গে নিহতদের সরাসরি কোনো লেনদেন থাকে না, তাই সিরিয়াল কিলারকে ধরার জন্য দুটি পদ্ধতি পুলিশমহলে স্বীকৃত। এক, খোঁচড়দের পথে ঘাটে ছড়িয়ে দেওয়া। পুলিশ ছদ্মবেশ নেবে। সিরিয়াল কিলারের সম্ভাব্য ঘাঁটিতে পুলিশ আর খোঁচড়রা ছদ্মবেশে থেকে অপেক্ষা করবে কখন খুনির মনে পাশবিক প্রবৃত্তি জেগে ওঠে। সিরিয়াল মার্ডার যদি একটি নির্দিষ্ট পাড়া বা মহল্লা-কেন্দ্রিক হয়ে থাকে তাহলে এই উপায়টি অত্যন্ত কার্যকরী। যেমনটা লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জ্যাক-দা-রিপারকে ধরতে অবলম্বন করেছিলেন। জ্যাক লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল ডিস্ট্রিক্টের নিম্নবর্গের মেয়েদের নিজের লালসার শিকার করছিল। পুলিশ হোয়াইটচ্যাপেলে বেশ্যাদের খদ্দের, ফলওলা বা দুখি ব্যক্তির ছদ্মবেশে থাকত। আমিও মেট্রোপলিটন পুলিশে থাকলে এই পন্থাই নিতাম, যদিও, বলাই বাহুল্য জ্যাক দা রিপার ধরা পড়েনি। এই পন্থা অবলম্বন করে ল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট সাফল্য পেয়েছে এমন উদাহরণও প্রচুর। সর্বশেষতমটি, ২০১৭ সালের ফ্লোরিডা টাম্পা শহরের ঘটনা, যেখানে খুনি একটি কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকাতে খুন করছিল। পুলিশ কয়েকমাসের চেষ্টায়, টোপ ফেলে সিরিয়াল কিলারকে ধরে। আমাদের নিজের শহরে, কলকাতায়, স্টোনম্যানের সময় লালবাজার এই বহুপরিচিত পথটি গ্রহণ করেছিল। কলকাতা পুলিশের ডিসিডিডি নিজে, রোঁয়াওঠা কম্বল গায়ে দিয়ে ফুটপাথবাসীর ছদ্মবেশে মাটিতে শুয়েছেন, কিন্তু স্টোনম্যান ধরা পড়েনি।
দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অপেক্ষাকৃত নতুন! বিদেশে, সত্তরের দশকের শেষের দিক থেকে এই পদ্ধতিটি কাজে লাগানো শুরু হতে থাকে, যদিও তার আগে থেকেই খাতায় কলমে এই নিয়ে গবেষণা চলছিল। এই ক্ষেত্রে পুলিশ টুকরো টুকরো ঘটনার মধ্যে দিয়ে সম্ভাব্য সিরিয়াল কিলারের একটি অবয়ব বানানোর চেষ্টা করে। হতে পারে সেই অবয়ব খুবই মামুলি, অথবা প্রচণ্ড নিখুঁত। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ যেমন কাজে লাগে তেমনি পুলিশের বিশেষজ্ঞরা ভাববেন খুনির ব্যক্তিগত জীবন কেমন হতে পারে, খায় কী, জীবিকা কী! এককথায়, সূত্রের ওপর নির্ভর করে ‘ক্রিমিনাল প্রোফাইলিং’। একবার যখন মোটের ওপর একটা খড়ের কাঠামোটি তৈরি হল, সেই কাঠামো নিয়ে খুনিকে খুঁজতে বেরোন…। পুলিশের পরম বন্ধু খোঁচড়দের মাধ্যমে খড়ের কাঠামোর সঙ্গে মানানসই একটি অবয়বের খোঁজ চলতে পারে, আই মিন, খোঁচড়রা ক্রিমিনাল প্রোফাইল অনুসরণ করে পথেঘাটে খুনির খোঁজ চালাল। পাশাপাশি, বিভিন্ন সরকারি নথিপত্রে খোঁজ চলতে থাকল। আজকের যুগে এটি বেশ পরিচিত পন্থা, বিশেষ করে কম্পিউটারের বিপুল অগ্রগতি আমাদের ডেটা সার্চকে একটি ক্লিকের মধ্যে এনে দিয়েছে। স্টোনম্যানের সময় ক্রিমিনাল প্রোফাইলিং-এর কনসেপ্ট সবে ভারতে ল্যান্ড করেছে। আর পাখি হত্যার ঘটনার সময় লালবাজারের কম্পিউটারগুলো উইন্ডোজ নাইনটি এইট, হার্ড ডিস্ক দশ জিবি-র।
.
এগারোটার সময় মার্ভেলের একমাত্র কর্মচারী এসে দোকানের পাল্লা সরাল। আমাকে দেখে বলল, বড়োবাবু এই এসে পড়লেন বলে। আমি আর একটা সিগারেট ধরালাম। কর্মচারী ধূপকাঠি জ্বালিয়ে নেতাজিকে ধোঁয়া দিল, দোকানের ভেতরে আর ফুটপাথের ওপর ঝাড়ু দিল।
পাক্কা সাড়ে এগারোটার সময় দেখতে পেলাম ভানু সমাদ্দার হেলতে দুলতে আসছেন। একবার ডাইনে হেলছিলেন, আবার সামলে বায়ে হেলছেন, গেঁটে বাত।
আমাকে দেখে লালা জড়ানো গলায় হেসে বললেন—আজ ছোটোবাবুর মুখ দেখে দোকান খুললাম, দিনটা ভালো যাবে।
ভানু সমাদ্দার তার আসন নেওয়ার পর জানতে চাইলাম——আমাকে খুঁজছিলেন?
ভানু বললেন—হ্যাঁ, একটা তো ফোন নাম্বার রেখে যাবেন। আমি যে লালবাজারে পা রাখিনে, বলিনি।
আমার উত্তরের অপেক্ষা না করে কর্মচারীকে ইশারা করলেন। সে ড্রয়ার খুলে একটি চিরকুট ভানুবাবুর সামনে রাখল। ভানু আঙুল দিয়ে সেটা আমার দিকে ঠেলে দিলেন।
আমি হাতে নিয়ে দেখি তাতে লেখা—পাঁচতলি, সুমারই, বড়লা, নিজ গ্রাম, বাঁশদিঘি, মদনপুর…এরকম খান দশেক জায়গার নাম।
ভানুবাবু লালা জড়ানো গলায় বললেন—বুঝলেন ছোটোবাবু, খোঁচড়রা কাদের সবচে বেশি ভয় পায় জানেন? খানিকটা লালা গিলে তারপর বললেন—কিছু মনে করবেন না, কাক কাকের মাংস খায় না, তবু বলছি। খোঁচড়রা সবচে বেশি ভয় পায় ব্যবসায়ীদের। এদের পেট থেকে খবর বের করা কী যে কঠিন। পুলিশ বললেও খবর দেবে না, বরং দুই ঘা প্যাঁদানি খেয়ে নেবে তাও ভালো। এদের সবার ভয় এই বুঝি আর একটা ব্যবসায়ীর গদি তৈরি হল। হাবড়ার চালপট্টিতে সবাই তো মহাজন, সবাই নিজের হাতের তাস লুকিয়ে রাখতে চায়, কটা দিন তাই সময় লেগে গেল।
ভানুবাবু খানিক কাশলেন, পায়ের কাছে রাখা কোনো অদৃশ্য বাটিতে কফ ঝেড়ে, আমার হাতে ধরা কাগজে আঙুল দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন—এইগুলিই কি আপনার ক্রাইম সিন?
—এদের মধ্যে চারটে, বাকিগুলি না।
—আচ্ছা। বলে ভানুবাবু ধুতির খুটে মুখ মুছলেন। —এই গ্রামগুলিতে গেল বছর ফলন খুব মার গেছে। মহাজনেরা বলছে সব বছর তো আর ফলন সমান যায় না। কম-বেশি থাকে। গেলবছর এই জায়গাগুলো থেকে জোগান কম ছিল।
আমি জানতে চাইলাম—এদিকে কি চাষিদের অসন্তোষ হয়েছে?
—অসন্তোষ বলতে?
—এই ধরুন, ফলন কম হওয়ার জন্য চাষি আত্মহত্যা করল। বিডিও অফিসে ঝামেলা হল।
ভানুবাবু বললেন—নাহ্ তেমন খবর নেই। ফলন কম আছে ঠিকই। তাই বলে এমনও কিছু আহামরি কম নয়। আকাশে বৃষ্টি আছে, পায়ের নীচে মাটি, এই যদ্দিন আছে ফলনও আছে।
—ফলন কেন কম হয়েছে আড়তদারেরা কিছু জানে?
—জানে বই কি। অনেক কারণই আছে। বৃষ্টির অদল বদল আছে, পাখি পোকামাকড় নিয়ম করে ফসল নষ্ট করে। ফসল কাটার সময় মজুর পাওয়া যায় না। অনেক ফসল খেতে নষ্ট হয়। জায়গা বিশেষে হরেক কারণ।
ফিরে আসছিলাম, ভানুবাবু বললেন—এই ছয়টা জায়গা মোটে নয় কিন্তু; আরও অনেক গ্রামেই ফসল কম। চাষের অবস্থা ভালো নয়।
আমি বললাম—সে বুঝেছি, আপনি বিচার-বিবেচনা করে এই কটি নাম লিখেছেন। আমার তদন্তে সুবিধাই হবে।
ভানুবাবু খপ করে হাত ধরলেন, চমকে গেলাম, ফোকলা দাঁতে হেসে বললেন—আছি কিন্তু, আপনাকে একদিন সিনিয়ার গোয়েন্দা না দেখে মরছি না।
ভানুবাবুর আড্ডার দুই সঙ্গী চলে এসেছিল। আমি লালবাজারে ফিরে এসে ভবানী ভবনে ফোন করলাম। সিদ্ধার্থকে দুরকম সার্চ শুরু করতে বলতে হবে।
