প্যারাডাইস লজ
হাজার একটা কাজ সেরে সৌভিক যখন লালবাজারে ঢুকল ততক্ষণে ঘড়ির কাঁটা সকাল এগারোটা ছুঁয়েছে। প্রথমে যেতে হয়েছিল আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায়, সেখানে সব সন্দেহভাজনরা আছে। জগমোহিনী ভোজনালয়ের কর্মচারীদের জামিনের মেয়াদ আজ শেষ হচ্ছে, জয়েন্ট সিপি সাহেব নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ বাড়াতে। নতুন সন্দেহভাজন, নীলুদার হোটেলের নীলু গোঁসাই আর অন্যান্যদেরও আজ পুলিশ কাস্টডিতে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে কোর্টে। এইসব দরকারি কথাবার্তা থানার বড়োবাবুর সঙ্গে সেরে সৌভিক গেছিল নিজের খোঁচড়দের সঙ্গে কথা বলতে। খোঁচড়রা গতরাতের ভিক্টিম চিট ফান্ডের দালাল দেবোত্তম দাসের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়েছে। সন্ধে অবধি দেবোত্তম চিট ফান্ডের অফিসে ছিল। ক্লারিকাল কাজকর্ম সেরে মেসের জন্য বেরিয়েছিল আটটা নাগাদ। কোম্পানিতে তার কোনো বন্ধু নেই, শত্রুও নেই, পসারও নেই তেমন। মাস গেলে দালালি বাবদ হাজার বারো রোজগার। মেদিনীপুরের গ্রামে বউ বাচ্চা আছে, তাদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে মর্গে গিয়ে বডি শনাক্ত করবে।
লালবাজারে ঢুকে সৌভিক প্রথমে গেল ফরেনসিক সেলে। সেখানে ড. মাইতির সহকারীর থেকে রিপোর্ট নিল। ড. মাইতি এখনও ল্যাবে আসেননি। নীলুদার হোটেলে কাজ সারতে সারতে ওনার ভোর হয়ে গেছিল। সৌভিক খোঁজ নিল, ফোটোগ্রাফার শিবু সিনে গেছিল কি না। সহকারী জানাল, শিবুও ভোরেই গিয়ে ছবি তুলে এনেছে। সৌভিক সহকারীকে ছবির ব্যাপারে তাগাদা দিয়ে চেম্বারে ঢুকে দেখল কানাই তোফা মেজাজে সিগারেট ধরিয়ে পা দোলাচ্ছেন!
ফরেনসিকের ফাইলগুলো কানাই-এর টেবিলে রেখে, প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট হাতে নিয়ে সৌভিক বিরক্তি প্রকাশ করে বলল—মাইরি কানাইদা, খুনের কেস, কোথায় রক্ত, গুলিগোলা নিয়ে ব্যাপার হবে, তা নয় কীসব ফুলকপি-বাধাকপি খাসির মাংস নিয়ে ঘাঁটতে হচ্ছে। কলকাতার সিরিয়াল কিলারদের, মাইরি কোনো ক্লাস নেই।
কানাই ধোঁয়া ছেড়ে বললেন—দোষটা কলকাতা শহরের না রে, পাইস হোটেলে মার্ডার হলে ফুলকপি আর খাসির মাংস নিয়েই ডিডাকশান করতে হবে।
সৌভিক আঙুল দিয়ে ফরেনসিক রিপোর্টগুলো দেখিয়ে বলল—কাল রাতের বাটির ডাল আর প্লেটের ডাল এক কম্পোজিশান, মুসুর ডাল। কিন্তু একটায় বিষ আছে, আর একটায় নেই। একই বিষ, অ্যালুমিনিয়াম কী যেন বলল, যাই হোক, ইঁদুর মারার! স্টমাক ওপেন করা হয়েছিল, ফুলকপির কোনো ট্রেস পাওয়া যায়নি, রান্নাঘরের স্যাম্পেলেও ফুলকপি নেই। ফরেনসিক আর্টিস্ট গেছিল, দেবোত্তম দাসের উলটোদিকে যে বসে ছিল তার একটা ছবি আঁকার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ওয়েটারটা গোলমেলে বর্ণনা দিচ্ছে, তাই ব্যাপারটা আর এগোয়নি। আমি দেবোত্তম দাসের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি। সেখানে বিশেষ কিছু নেই, সাসপেক্ট নেই। মামুলি চাকরি করে, সামান্য রোজগার। এমন লোককে মেরে কারুর কোনো লাভ হবে না।
কানাই অ্যাস্ট্রেতে সিগারেট ঘষলেন, তিনি যেন সৌভিকের কথা শুনেও শুনছিলেন না।
সৌভিক কথা থামিয়ে কানাই-এর উত্তর শুনবে বলে তাকাল।
কানাই বললেন—সকালে কী খেয়ে এসেছিস?
সৌভিক বিরক্ত হল। কানাই ফের জিজ্ঞেস করলেন।
—রুটি জেলি, ওমলেট কফি।
—আমি আজ বাড়ি থেকে ভাত খেয়ে আসিনি। ব্রেকফাস্ট করে সকাল নটার মধ্যে অফিসে ঢুকে গেছি। এমনকি জুতো পালিশও কাটিয়ে দিয়েছি।
—সাত তাড়াতড়ি এসে কী করছিলে?
—সিপিসাহেবকে কাল রাতের ব্যাপারটা সংক্ষেপে বললাম। একটা নাটক করতে হবে বলে কিছু লোকজনকে ডাকতে হল।
—অভিনেতা?
—আমার নিজের সোর্স তারা। একটা নাটক করে দেখবে। তোর সোর্সে আর ভরসা রাখছি না। আমার সোর্সগুলোরও মাসখানেক বসে গেঁটেবাত ধরে গেছে। এইসব করতে করতে অনেকটা সময় কাটল বলে কানাই হাসলেন।
—এসব কী যে বলছ, কিছুই বুঝছি না। সৌভিক বলল।
কানাই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন—চল, আজ আর ডেকার্সে না। একটা পাইস হোটেলে যাব। সেখানে গিয়ে বাকিটা বলছি। এই সামনেই, লালবাজার থেকে দুশো মিটার, হেঁটে।
তাড়া দিয়ে কানাই সৌভিককে তুলে নিলেন। লাঞ্চ করার নির্দিষ্ট সময়ের আগে বেরিয়ে পড়তে হল বটে কিন্তু সকাল থেকে ঘোরাঘুরি করে সৌভিকের খিদে পেতে শুরু করেছিল। সৌভিক তাই কয়েকটা ফোন সেরে কানাই-এর সঙ্গে বেরিয়ে এল। লালবাজার থেকে বেরিয়ে বাম দিকে বাঁক নিয়ে বউবাজার স্ট্রিটের ফুটপাথে দুই গোয়েন্দা মানুষের ভিড়ে মিশে গেলেন। ঘড়ি, চশমার আর ওষুধের দোকান পেরিয়ে একটি ছোটো গলিতে ঢুকলেন কানাই। গলিটির দুদিকে বসত বাড়ি, গলির নাম দেখতে পেল না সৌভিক। কয়েক পা আরও হাঁটার পর সৌভিক বুঝতে পারল গলিটি আসলে কানা। তিরিশ গজ গিয়ে গলিটি শেষ হয়ে গেছে, গলির শেষ মাথায় একটি পাইস হোটেল। লালবাজার থেকে দশ মিনিটের হাঁটা পথ, কিন্তু সৌভিক নিশ্চিত বলতে পারে যে আগে কখনও সে এখানে আসেনি। কানাই আর সৌভিক এসে যে পাইস হোটেলটির সামনে থামলেন তার নাম প্যারাডাইস লজ। গেরুয়া রঙের একতলা বাড়ি। দরজার বদলে রয়েছে বিশাল পাল্লা, পাল্লা দিয়ে ঢুকলে খাওয়ার ঘর। প্রতিটি টেবিল-চেয়ারে বসে খদ্দেররা খাচ্ছে। দিনের ব্যস্ত সময়। কানাই আর একটা সিগারেট ধরিয়ে রাস্তার ওপরে দাঁড়ালেন, বেশ কিছু লোক গলিতে দাঁড়িয়ে খাবার ডাক পড়ার অপেক্ষা করছে। হোটেলের ভেতর থেকে একটি ছেলে বেরিয়ে এসে অপেক্ষমাণ লোকদের বলে গেল, আর একটু অপেক্ষা করতে, ব্যাচ শেষ হয়ে এল বলে।
সৌভিক জিজ্ঞেস করল—এই হোটেলটার খোঁজ কি করে পেলেন?
কানাই মুচকি হেসে ধোঁয়া ছেড়ে বললেন –কি জানিস, যখন ট্রেনিং-এ ছিলাম একজন রাজস্থানী ছিলেন আমাদের মাস্টারমশাই, পুলিশ ট্রেনিং-এ। তিনি বলতেন, হোয়েন থিংস গেট কমপ্লিকেটেড উই গো ব্যাক টু দা বেসিকস! যখন সব কিছু বড্ড বেশি জটিল হয়ে যায়, আমাদের শিকড়ের কাছে ফিরে যেতে হয়। এই কেসটা নিয়েও ভাবতে গিয়ে আমার সেইটাই মনে হল। সব কিছু বড্ড ঘেঁটে উঠছে, খুব জটিল হয়ে পড়ছে। আসলে খুবই সোজা আর সরল কেস হয়তো। আমরাই জটিল করে ভাবছি। এই ফরেনসিক, কেমিক্যাল স্যাম্পেল এত কিছু পুলিশরা জানে, খুনি কিন্তু জানে না, কোনোদিনও জানবে না। সে আসবে, যা কাজ করার করে চলে যাবে। তবু যে সে ফরেনসিকে ধরা পড়ছে না, তার কারণ কি খুনির ফরেনসিকে বিশাল বিদ্যে নাকি এর মধ্যে ফরেনসিকের জটিলতা আদৌ নেই! খুনির নেহাত ভাগ্য যে ধরা পড়েনি, সিম্পল লাক! এই যে কলকাতা পুলিশ কোনোদিন স্টোনম্যানকে ধরতে পারল না, তার কারণ কি আমাদের রিসোর্সে তখন কিছুর অভাব ছিল? না, কলকাতা পুলিশ স্টোনম্যানের আগে পরে অনেক সিরিয়াল কিলিং মিস্ট্রি সল্ভ করেছে। করবেও, ভবিষ্যতে, কিন্তু স্টোনম্যান মিস হয়ে গেল কারণ ডিপার্টমেন্ট সেসময় একদম ফুটপাথে নেমে তদন্ত করতে পারেনি। যারা মারা গেছে তারা ফুটপাথবাসী, যে মেরেছে, সেও হয়তো ফুটপাথবাসী। এই খুনকে বুঝতে গেলে ফুটপাথের জীবনযাপনটা বুঝতে হবে। কম্বলমুড়ি দিয়ে দু-তিনরাত ফুটপাথে কাটালে জাস্ট হবে না। তেমনি আমাদের এই কেসটা বুঝতে গেলেও পাইস হোটেলকে আগে বুঝতে হবে। সেটা জয়েন্ট সিপিও বোঝেন না, ডিসি ডিডিও বোঝেন না! আনফরচুনেটলি, আমি আর তুইও বুঝি না। পাইস হোটেল কিন্তু আমাদের ডেকার্স-এর টিফিন ব্রেকের পাউরুটি ডিম, ঘুগনি না। যে পাইস হোটেলে খাচ্ছে সে সারাদিনের নামে খাচ্ছে। ২০ কী ৪০ টাকার মাছ ভাতের থালি চেটেপুঁছে সাফ করে দিয়ে খাচ্ছে। তার মনস্তত্বটা না বুঝলে কেসটাও বোঝা যাবে না। আমি তাই ঠিক করলাম সবার আগে পাইস হোটেলকে বুঝব। তোর বউদিকে বললাম, আজ আর আমার জন্য ভাত না বসাতে, ব্রেকফাস্ট সেরে অফিসে চলে এসেছি।
প্যারাডাইস লজের কর্মচারীটি এসে ডাক দিল। আগের ব্যাচের খাওয়া শেষ, লোকজন ধীরেসুস্থে উঠছে, হাত ধুচ্ছে, পরের ব্যাচের লোকজন ঘাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে জায়গা দখল করবে বলে। কানাই সিগারেট ফেলে, জুতো দিয়ে পিষে, মাথা বাঁচিয়ে খাওয়ার ঘরে ঢুকলেন। সৌভিক আঙুল তুলে দেখাল, দূরের কোণে একটি টেবিল ও মুখোমুখি দুটি চেয়ার ফাঁকা। দুজনে গিয়ে চেয়ার দখল করলেন। টেবিলে তখনও আগের খদ্দেরের এঁটো বাসন। হোটেলের কর্মচারী এসে কানাইদের থেকে অর্ডার নিল আর এঁটো বাসনগুলি একটির ওপর আর একটি চাপিয়ে রাখল। কানাই অর্ডার করলেন মাছ ভাতের থালি সঙ্গে এক্সট্রা আলুভাজা, সৌভিক বলল চিকেন থালি।
কর্মচারীটি খাবার নিয়ে এল। এঁটো থালাগুলো তুলল, টেবিল আর মোছা হল না।
সৌভিক মাথা নিচু করে খাওয়া শুরু করতে যাচ্ছিল, কানাই আবার বলতে শুরু করলেন—কেবলমাত্র পাইস হোটেলে খেতে এসে পাইস হোটেলকে একদিনে বুঝে যাব এত বোকা আমি নই! আমি বরং একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ থেকে পাইস হোটেলকে বুঝবার চেষ্টা করব। কিন্তু সেটাও একা করা সম্ভব নয়। সে জন্য কুশীলব চাই। যারা সাহায্য করবে। আমার খোঁচড়গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। ডিপার্টমেন্টে ক্লোজ ছিলাম বলে বিগত মাসকতক যোগাযোগ ছিল না। ডাক দিতেই সবাই সক্কাল সক্কাল লালবাজারে হাজির। সবাইকে নির্দিষ্ট কাজ বুঝিয়ে দিলাম। মোদ্দা কথাটা হল, কয়েকটা নাটক করতে হবে, বা এক্সপেরিমেন্টও বলা যেতে পারে।
সৌভিক অবাক হয়ে কানাইচরণের দিকে তাকিয়ে ছিল। কানাই বলে চললেন—কাল রাতভর ভেবে দেখলাম। সমস্যাটা খুব সোজা। ভিক্টিমদের পাতে এমন একটা পদ এসেছে যেটা তাদের পাতে থাকার কথা নয়। জগমোহিনী ভোজনালয়ে সহদেব আর রজনীকান্তের পাতে পাওয়া গেছে ফুলকপি, যদিও তারা ফুলকপি অর্ডার করেনি। অন্যদিকে নীলুদার হোটেলে পাওয়া গেছে অতিরিক্ত ডাল। এই অতিরিক্ত ডাল আর ফুলকপি ভিক্টিমরা অর্ডার না করলে কোথা থেকে এল? এটাই প্রাথমিক প্রশ্ন কিনা!
সৌভিক মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাল।
—প্রথমত, বাইরে থেকে কেউ হোটেলে ঢুকে ভিক্টিমদের পাতে ঢেলে দিতে পারে, দ্বিতীয়ত, হোটেলের মধ্যেই অন্য টেবিল থেকে কেউ এসে ভিক্টিমদের পাতে ঢেলে দিতে পারে, তৃতীয়ত, আগের লোকের ফেলে যাওয়া আইটেম ভিক্টিমরা নিজেদের পাতে তুলে নিতেও পারে। আর একটা সম্ভাবনা আছে, হোটেলের কর্মচারী কেউ যদি কালপ্রিট হয়। যদিও এই শেষ সম্ভাবনাটিকে আমি ধর্তব্যের মধ্যে আনছি না। যেহেতু ফরেনসিক ইতিমধ্যেই এদেরকে ক্লিনচিট দিয়েছে। এখন কথা হচ্ছে, পাইস হোটেলকে না বুঝলে এই সম্ভাবনাগুলোর মধ্যে কোনটি আদৌ সম্ভব বা বাস্তবে ঘটেছে বলা মুশকিল।
আমার খোঁচড়রা তাই কাস্টমার সেজে এই মুহূর্তে আমাদের সঙ্গেই তিনটি আলাদা আলাদা টেবিলে ছড়িয়ে আছে। খোঁচড়দের স্বাভাবিক কারণেই তুই চিনিস না, ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে লাভ নেই, ডিপার্টমেন্টাল এথিক্স বলে একটা ব্যাপার তো আছে না কি! প্রথম দলের কাজ হচ্ছে, তাদের টেবিলে বসা আগের লোকের অবশিষ্ট খাবার ওয়েটার এসে তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে নিজের পাতে তুলে নেবে। আর এমন হাবভাব করবে যাতে ওয়েটার বা পাশের টেবিলের সাধারণ লোকজন কিছুই বুঝতে না পারে। দ্বিতীয় দলের লোকজন টেবিলে বসে ভদ্রভাবে খাবে, কিন্তু তাদের এক সাথি বাইরে অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণ পরেই সে হোটেলে চুপচাপ ঢুকে একজনের পাতে একবাটি খাবার ঢেলে দেবে। সেই খাবারটি এই হোটেলের থেকেই আগে থাকতে সংগ্রহ করে রাখা। শেষ দল এখন খাচ্ছে, সেই দলের একজন খাওয়া শেষ হওয়ার মুখে উঠে পাশের টেবিলের কোনো একজন সাধারণ লোকের সঙ্গে কথা বলে, নিজের বেঁচে যাওয়া কোনো একটি খাবার তার পাতে দেওয়ার চেষ্টা করে যাবে। বলা বাহুল্য হোটেলের কর্মচারীরা এই বিষয়ে বিন্দুবিসর্গও জানে না, বাকি খদ্দেররাও জানে না যে তারা আমার এক্সপেরিমেন্টের অংশ। জানে কেবল, হোটেলের মালিক, তিনিও আমার অন্যতম খোঁচড়, যদিও এই মুহূর্তে তিনি হোটেলে উপস্থিত নেই তার জায়গায় ক্যাশ সামলাচ্ছে একজন কর্মচারী। সবশেষে এই নাটকের প্রধানতম কুশীলব, আমিই, আমার কাজ এই কোণের টেবিলটিতে বসে সবার প্রতিক্রিয়া, মুখভঙ্গি ও ঘটনাপরম্পরায় নজর রাখা।
কানাইচরণের থালায় মাছ পড়ে রইল, কানাই থালার দিকে একবারের জন্যও তাকালেন না। যন্ত্রবৎ ডালভাত খেতে খেতে হোটেলের টেবিলে টেবিলে তার নির্দেশিত নাটকের কুশীলবদের অভিনয় দেখলেন। সাধারণ দর্শক ও হোটেল কর্মচারীদের নজর করলেন। সৌভিক দেয়ালের দিকে মুখ করে বসেছিল, তাই সে কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না। অগত্যা মন দিয়ে চিকেন থালি খেল। ব্যাচ শেষ হওয়ার পর একটি গ্লাসে জল নিয়ে রান্নাঘরের পাশের কলতলায় গিয়ে মুখ ধুতে ধুতে সৌভিক জিজ্ঞেস করল—তা নাটকে শেষমেশ কী হল? কোনো সিদ্ধান্তে আসা গেল কি?
কানাই বললেন—খুনিকে বুঝতে আমরাই শুধু ভুল করিনি, খুনি নিজে মস্ত ভুল করে বসে আছে।
