দিন প্রতিদিন – ৬৫

৬৫

তার কপাল ভালো লুকা সাঁতরা তাকে তাড়িয়ে দেয়নি। হাতে-পায়ে পড়ে সুখেন তার শাস্তিটা মকুব করিয়েছে।

এলাকায় লুকার আনাগোনা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। শমিতার ঘরে মাঝে মাঝে কাউকে না কাউকে নিয়ে আসে লুকা। সুখেন দূর থেকে দেখে আর বিড়ি ফোঁকে। লুকার ব্যাপারে যত দূরে থাকা যায়, তত মঙ্গল।

সব বড় বড় লোক ওর হাতের মধ্যে। ক্ষমতা পেয়ে গেলে সাধারণ মানুষ অবধি নিজেকে কী না কী ভাবতে পারে। সেখানে লুকা সাঁতরা তো এখন একটা বিরাট ব্যাপার! খুব বড় একটা নাম। গত তিন বছর ধরে নিজের পুজোও শুরু করেছে লুকা। সব দলের লোক আসে। এহেন ক্ষমতা যার আছে তার কাছে কেউ যায়? পাগল নাকি?

রাত বারোটা। লুকা বড় রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরিয়েছে। সুখেন প্রথমে ভেবেছিল খেজুর করবে, পরক্ষণেই দাঁড়িয়ে গেছে। লুকা এখন আর উঠতি না। প্রতিষ্ঠিত প্রভাবশালী। তার মতো লোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে শমিতার ঘর পাহারা দেবে, এর থেকে বড় ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না।

শহরটা ধীরে ধীরে কঠিন ঠাই হয়ে যাচ্ছে ভেবে সুখেন বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে দীর্ঘশ্বাস ফেলছিল।

হঠাৎ দেখল একটা জিপ গাড়ি এসে দাঁড়াল। একজন লম্বা ঝকঝকে চেহারার লোক, আরেকজন একটু মোটাসোটা কিন্তু বেশ শক্তপোক্ত লোক লুকার দিকে এগিয়ে এল। সুখেন ধীর পায়ে লুকার গাড়ির পেছনে গিয়ে আড়ি পাতল।

একজন হিন্দিতে বলল, ‘অবিনাশ কোথায় আছে?’

লুকা পাত্তা দিল না। উত্তর না দিয়ে সিগারেট খেতে লাগল।

তিন চার সেকেন্ডের ব্যাপার!

গোটা এলাকা, সুখেন এবং অবশ্যই লুকাকে চমকে দিয়ে একটা বিরাশি সিক্কার চড় এসে লুকার গালে পড়ল।

উত্তেজনায় সুখেন আর লুকিয়ে থাকতে পারল না। উঠে দাঁড়িয়ে দেখল লুকা রাস্তায় রীতিমতো গড়াগড়ি খাচ্ছে। লম্বা লোকটা স্পষ্ট বাংলায় বলছে, ‘বাপেরও বাপ থাকে জানিস তো? আমরা তোদের সে বাপ। প্রশ্ন করছি, আর উত্তর দিচ্ছিস না? এত সাহস হয় কী করে? মাথুর, বেল্ট খুলবে নাকি?’

মাথুর বলল, ‘না, দাঁড়াও।’

মাথুর এগিয়ে গিয়ে ঝুঁকে বসে পড়ে রাস্তায় পড়ে থাকা লুকার কলার ধরল, ‘উত্তরটা দে।’

খবর হয়ে গেছিল বস্তির মধ্যে। লুকার চ্যালারা কারো না কারো ঘরে ব্যস্ত ছিল। খবর হাওয়ায় পৌঁছতে বেশিক্ষণ লাগে না। পড়িমরি করে সব দৌড়ে এল। ফুলকো লুচি তাওয়া থেকে নামানোর পর ফুটো করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে যেমন নেতিয়ে যায়, সুখেন দেখল লুকা সেভাবে নেতিয়ে গেছে। দুজনের দিকে সভয়ে তাকাচ্ছে। তার চ্যালারা ছুটে আসতে গেছিল, সভয়ে লুকা তাদের হাত তুলে বাধা দিয়ে বলল, ‘ভাগ শালা। কেউ আসবি না। যা যা, পালা।’

লুকার চ্যালারা বুঝতে পারছে না, লুকা এত ভয় পেয়ে গেছে কেন।

খান বলল, ‘কী বে, বলবি অবিনাশ কোথায় আছে?’

লুকা উঠে বসল রাস্তার উপর। দু’কানে হাত দিয়ে বলল, ‘বিশ্বাস করুন স্যার, আমি কোনও দোষ করিনি। আমি তো আমার কাজ করছি।’

খান লুকার কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বললেন, ‘অবিনাশ কোথায় আছে বল। বিকেল থেকে ঘুরছি। আর তো পারা যাচ্ছে না।’

লুকাও ফিসফিস করে বলল, ‘ট্যাংরায় আছে স্যার। ফারুকের কাছে।’

মাথুর বললেন, ‘আজ থাকবে তো?’

লুকা বলল, ‘আমায় নিয়ে চলুন। আমি দেখছি। আপনারা গেলে পালাতে পারে। আমি বুঝেছি আপনারা কারা স্যার। আমায় নিয়ে চলুন।’

সুখেন ভালো করে লুকার প্যান্ট দেখল। প্যান্টেই ছোটটা হয়ে গেছে কি না বুঝতে পারল না। খান আর মাথুর লুকার কলার ধরে গাড়িতে তুলে মুহূর্তের মধ্যে বেরিয়ে চলে গেল। লুকার গাড়ি, আধ খাওয়া সিগারেট…সবই রাস্তায় পড়ে রইল।

সুখেন সিগারেটটা তুলে জামায় মুছে আগুন ধরাল।

লুকার মূল চ্যালা পাতা হতভম্ব মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। সুখেন তার কাছে গিয়ে দাঁত বের করল, ‘চিরকাল শুনে এসেছি বাপেরও বাপ থাকে। আজ সত্যি নিজের চোখে দেখলাম রে ভাই।’

পাতা বলল, ‘এরা কারা সুখেনদা?’

সুখেন সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বলল, ‘বুঝতে পারলি না?’

পাতা বলল, ‘না।’

সুখেন ধোঁয়া ছেড়ে বলল, ‘মাঝে মাঝে ভগাদা তার ভক্তদের ডাকে এক আধ দিন সাড়া দেয়। লজ্জাও তো আছে বল। সব সময় কি বড়দের দেখলে চলে? আজ হয়তো সেরকমই একটা দিন। ভগাদা চোখ তুলে চেয়েছে। দেখ, সেরকম হলে তোকেও নিয়ে যেতে পারে।’

সুখেনের কথায় ভীষণ ভয় পেয়ে পাতা তৎক্ষণাৎ সে জায়গা ছেড়ে পালিয়ে গেল…।

.

৬৬

কখনও কখনও এমন ঝড় আসে, আগে থেকে কোনও পূর্বাভাস থাকে না। সাইক্লোন না, বা বড় কোনও ঝড় না। হুট করে হওয়া এমন একটা কালবৈশাখী, যেটা সব কিছু উড়িয়ে নিয়ে চলে যায়। এমনই একটা ঝড় হল। রুমা আগে থেকে বুঝতেও পারেনি।

সন্ধেবেলা চুপ করে শুয়ে ছিল। জরিনা বাইরে গেছে। হঠাৎ দরজা খুলে ছেলেটা ঢুকল।

ছেলেটাকে রুমা দেখেছে এই ঘরে ঘোরাফেরা করে, নাম শুনেছে আনিস, কিন্তু কথা হয়নি।

দরজা যে বন্ধ করে রাখতে হয়, সেটা একবারেই খেয়াল ছিল না তার। ছেলেটা দরজা খুলে ঢুকেই বন্ধ করে দিল।

রুমা সঙ্গে সঙ্গে উঠে বসে বলল, ‘এ কী? বাইর হও।’

ছেলেটা দাঁত বের করল, ‘ওই দ্যাহ, খানকির আবার শরম।’

রুমা চিৎকার করল, ‘বেরোও।’

বাইরে গান চলছে জোরে। ছেলেটা হেসে লুঙ্গি খুলে ফেলে ঝাঁপিয়ে এসে তাকে ধরল, ‘তাড়াতাড়ি ছাইড়া দিমু নে।’

রুমা ঠ্যালা দিয়ে ছেলেটাকে ফেলে দিল। ছেলেটা প্রস্তুত ছিল না, ভেবেছিল রুমা বাধা দেবে না। খেপে গিয়ে জামার পকেট থেকে একগাদা টাকা বের করে রুমার মুখে ছুঁড়ে ফেলে বলল, ‘ল। টেকা ল।’

রুমা ছিটকিনি খুলে বাইরে চলে গেল। ছেলেটা ল্যাংটো অবস্থাতেই বাইরে গিয়ে রুমার চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে ঘরে নিয়ে যেতে লাগল, ‘মাগীর শরম লাগে? খানকির শরম, চ তোর কেমন শরম দেখুম।’ বারান্দা ফাঁকা দেখে নিয়ে রুমা খুব আলতো করে ছেলেটার হাত ধরে ঘুরিয়ে ফুট তিনেক দূরে ছিটকে ফেলে দিল। ছেলেটা বারান্দায় গিয়ে পড়ল। কয়েক সেকেন্ড তার দিকে বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থেকে উঠে দাঁড়াল। রুমা বলল, ‘ভাল্লাগসে?’

আনিস রাগে উন্মাদ হয়ে গেল। দ্বিগুণ বেগে পাগলা ষাঁড়ের মতো ছুটে এল রুমার দিকে। রুমা আনিসের মাথাটা ধরে সজোরে দেওয়ালে ঠুকে দিল।

মাথা ঘুরে মেঝেতে পড়ে গেল আনিস, ‘তোরে আমি দেইখা নিমু।’

ক্রমাগত তড়পাতে শুরু করল ছেলেটা।

রুমা সায়া থেকে একটা ছোট ছুরি বের করে আনিসের গলায় আড়াআড়ি চালিয়ে দিল।

আনিস একবারেই প্রস্তুত ছিল না। গলায় হাত দিয়ে কাটা পাঁঠার মতো ছটফট করতে শুরু করল সে। কয়েক মিনিটের মধ্যে তার দেহটা প্রাণহীন হয়ে গেল। রুমা পুরোটা দেখলোও না। ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ছুরিটা লুকিয়ে ফেলল। উল্টোদিকের ঘর থেকে একটা মেয়ে বেরোল। আনিসকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করা শুরু করল।

চিৎকার শুনে বাইরে বেরিয়ে রুমাও কাঁদতে শুরু করল। অন্য ছেলেগুলো বাইরে ছিল। তারা চিৎকার শুনে ভেতরে ঢুকে আনিসকে পড়ে থাকতে দেখে হতভম্ব হয়ে গেল। রুমা আতঙ্কিত মুখে বলল, ‘সাহেবরে ফোন দাও। এইডা কী কইরা হইল?’

ছেলেগুলো হতচকিত হয়ে গেছে। যে মেয়েটা কাঁদছিল, তার মুখে হাত দিয়ে তাকে ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। একটা ছেলে হাত তুলে রুমাকে বলল, ‘ঢুইকা যান। সাহেবরে বলতাসি। একদম চিল্লাইবেন না। এখানে পুলিশ আইলে হইব না। সাহেব আসুক, যা হইবে দেখা যাইব।’

সাদিককে ফোন করা হল। সাদিক কাছেই ছিল। চলে এল। হতভম্ব হয়ে আনিসকে পড়ে থাকতে দেখে জিগ্যেস করল, ‘কে করেছে?’

একটা ছেলে জানাল আনিস তাদের সঙ্গে গল্প করতে করতে ভেতরে গেছিল। তারপর কী হয়েছে কেউ জানেন না। সাদিক সন্দিগ্ধ গলায় বলল, ‘তোরা জুয়া খেলছস, তারপর তোরাই ওরে মারছস। ভাবছস আমি বুঝি নাই, তাই না?’

‘না বস। আমরা মারি নাই। খোদার কসম লাগে।’

সাদিক বলল, ‘কিলিয়ার কর। ফেলায় আয় বডি। আমার আর কিছু জানার দরকার নাই। জ্বালাইবি না আমারে আর।’

রুমার দরজায় নক করল সাদিক।

রুমা দরজা খুলল। সে আগেই আনিসের দেওয়া টাকা লুকিয়ে ঘর পরিষ্কার করে ফেলেছিল। সাদিকের দিকে তাকিয়ে ভীত গলায় বলল, ‘এসব কী হইল?’

সাদিক দরজা বন্ধ করে বলল, ‘এখানে এই তো হয় জান। তোমার চিন্তার কিছু নাই। আমি আছি তো।’

রুমা সাদিকের বুকে মাথা দিয়ে প্রবল ভাবে কাঁদতে শুরু করল, ‘আমার খুব ডর লাগতাছে।’

সাদিক রুমার কাপড় খুলতে শুরু করল। আদুরে গলায় বলল, ‘ডর কী তোমার? আমি তো আছি। খানকির পোলারা নিজেরা নিজেরা খুনাখুনি কইরাই মরবে। এর আগেও এরা একটারে মারসে জুয়ার আসরে। তোমার চিন্তা নাই। তুমি আসো।’

রুমা শুয়ে পড়ল খাটে। সাদিককে শরীরে নেবার পালা শুরু হল…।

.

৬৭

বৃষ্টি শুরু হয়েছে। খান জানলার বাইরে তাকিয়ে বললেন, ‘অবিনাশের ফোনটা তুই ইউজ করছিস কেন?’

লুকা কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, ‘আমি কী করে জানবো বলুন তো ও কোথায় কী করে এসেছে? আমাকে ফোনটা দিয়ে বলেছিল ইউজ কর। দুবাই থেকে এনেছি।’

খান বললেন, ‘দুবাই থেকে এনেছে? ওকে। গুড ইনপুট। এখানে কী চলছে?’

লুকা বলল, ‘সেটা স্যার আপনারা অবিনাশকেই জিগ্যেস করে নিন।’

মাথুর বললেন, ‘কেন? তোর কি কথা বলতে প্রবলেম আছে?’

লুকা বলল, ‘স্যার আপনারা তো জানেন এই কাজগুলো আমি কারো নির্দেশে করি। নিজে থেকে কিছু করি না। আমরা ট্যাংরা এসে গেছি।’

মাথুর বললেন, ‘একটু এদিক ওদিক দেখি। তারপর দেখছি তোদের এই ব্যবসার লালবাতি কীভাবে জ্বালাতে হয়। চল। অবিনাশকে ফোন কর।’

খান গাড়ি দাঁড় করাতে বললেন। লুকা অবিনাশকে ফোন করল।

কথা বলে ফোন রেখে বলল, ‘চলুন। নিয়ে যাচ্ছি। আমাকে স্যার ছেড়ে দেবেন প্লিজ।’

খান বললেন, ‘চল। তারপর দেখছি।’

ঘুপচি একটা ঘর। বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। লুকা চাবি খুলে দিল।

দরজা খুলে দেখা গেল অবিনাশ খাটে শুয়ে ফোনে গেম খেলছিল। সে ভাবতেই পারেনি দুজনে চলে আসবে। অবিনাশ পালালো না। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।

খান লুকার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘বাইরে অপেক্ষা কর।’

লুকা বাইরে চলে গেল।

খান ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে চেয়ার টেনে বসে বলল, ‘খাটে বোস।’

অবিনাশ খাটে বসল। মাথুর আরেকটা চেয়ার টেনে বসলেন।

খান বললেন, ‘কী হয়েছে তোর? ফোন লুকিয়ে রাখতে হচ্ছে, কোনও রিপোর্ট করছিস না, আমরা কিছুই জানতে পারছি না, কী হয়েছে ঠিক?’

অবিনাশ মাথা নিচু করে বসে ছিল। মাথুর বললেন, ‘চড়-চাপড় মারতে হবে কথা বলানোর জন্য?’

অবিনাশ ফ্যাকাসে মুখে তাদের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কোড সেভেন।’

খান আর মাথুর দুজনেই চমকে উঠলেন। খান বললেন, ‘সিরিয়াসলি?’

অবিনাশ বলল, ‘হ্যাঁ স্যার। আমার কিছু করার নেই। যা ইন্সট্রাকশন আছে, সেভাবেই চলতে হচ্ছে।’

খান মাথুরের দিকে তাকালেন। মাথুর বললেন, ‘আমাদের কাছে এ ব্যাপারে কোনও মেসেজ আসেনি। আমরা কী করে বুঝব, তুই সত্যি কথা বলছিস?’

অবিনাশ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে পকেট থেকে একটা ছেঁড়া পাঁচশো টাকার নোট এগিয়ে দিল। খান নোটটা নিয়ে ভালো করে দেখে মাথুরের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন।

মাথুর উঠে দাঁড়ালেন, ‘তাহলে তো আমাদের আর কিছু করার নেই।’

খান বললেন, ‘খামোখা এতটা পথ এলাম। আগে জানতে পারলে কলকাতা আসতে হতো না।’

অবিনাশ বললেন, ‘স্যার, আমাকে কি আর…’

খান বললেন, ‘আমরা তোকে আর কিছু বলব না। চল, তুই যেভাবে কাজ করছিস, করে যা।’

দুজনে অবিনাশের ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। বাইরে লুকা উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে আছে। খান বললেন, ‘তুই নিজের ব্যবস্থা করে নে ফেরার, আমাদের কাজ হয়ে গেছে।’

লুকা ঘাড় নাড়ল, ‘ঠিক আছে স্যার।’

দুজনেই গাড়িতে উঠে বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। খানিকক্ষণ যাওয়ার পর খান ড্রাইভারকে বললেন, ‘আপনি গাড়িটা দাঁড় করিয়ে বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসুন। আমাদের কথা আছে কিছু।’

ড্রাইভার তাই করল। গাড়ি ফাঁকা হতে খান বললেন, ‘কোড সেভেন কলকাতায় অ্যাক্টিভেট হল আর তুষার স্যার জানেন না, এটা হতে পারে?’

মাথুর বললেন, ‘হতে পারে। একটা আলোচনা চলছিল। বাংলাদেশ আর পাকিস্তান টেরিটরি আলাদা আলাদা দুটো এজেন্সি দেখবে। প্যারালাল অর্গানাইজেশন শুরু হয়েছে। বাধ্যতামূলক নয় যে আমাদের জানতেই হবে। ফোন কর।’

খান মাথা নাড়লেন, ‘করছি। রাত দুটো বাজলেও কিছু করার নেই। জানিয়ে রাখি।’

ফোন করলেন খান। তুষার ঘুমন্ত গলায় ফোন ধরে বললেন, ‘বলো।’

খান বললেন, ‘কোড সেভেন অ্যাক্টিভেট হয়েছে স্যার। আমরা জানতাম না। আপনিও হয়তো জানতেন না।’

তুষার বললেন, ‘আধ ঘণ্টা আগে জেনেছি। মিনিস্ট্রির অ্যাপ্রুভালও এসে গেছিল। আমাদের প্যারালাল অর্গানাইজেশন যারা ওদের মতো করে বাংলাদেশে কাজ করবে, আর আমরা তার অনেক কিছুই জানতে পারব না। হতে পারে বাংলাদেশে এখন যা হচ্ছে, সেটা ওরা জানে, আমরা জানি না। আমাদের জানার প্রয়োজন আছে নাকি সেটাও দেখতে হবে।’

খান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বললেন, ‘তাহলে কি আমাদের টেরিটরি ভাগ হয়ে গেল স্যার? আমাদের আর বাংলাদেশ দেখতে হবে না?’

তুষার বললেন, ‘লিটারালি তাই দাঁড়ায়। তোমরা ফিরে এসো। কাল অফিসে কথা হচ্ছে। গুড নাইট।’

ফোন কেটে গেল।

খান চিন্তিত গলায় বললেন, ‘বাংলাদেশে তাহলে কারা অপারেট করছে, কী করছে, এর কিছুই আর আমরা জানতে পারব না। বুঝলে?’

মাথুর বিষণ্ণ গলায় বললেন, ‘এত ছুটোছুটিতে আমার আর এবার কলকাতার বিরিয়ানি খাওয়া হল না। বাদ দাও, চলো, ফিরি।’

খান জানলা থেকে গলা বের করে ড্রাইভারকে ডাকলেন, ‘চলে আসুন। এয়ারপোর্ট।’

গাড়ি এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিল…।