অপারেশন ট্রেইটর – ১

একবছর আগের একদিন

.

নতুন দিল্লি। রাত বারোটা। পালিকা বাজার পেরিয়ে লোকটা খানিকটা হেঁটে একটা গলির ভেতর প্রবেশ করল।

খানিকটা হাঁটার পর গলির শেষে একটা ছোট দরজা। লোকটা দরজা খুলে একটা নেমে যাওয়া সিঁড়ি দেখতে পেল। অভ্যস্ত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেল। লোকটা খানিকটা উত্তেজিত। বেশি উত্তেজিত হলে তার চোখ পিটপিট করে। এখন সেরকমই একটা কিছু হচ্ছিল তার মধ্যে। হাঁটছে বটে, একইসঙ্গে চোখ পিটপিটও করে যাচ্ছে।

ছোট্ট একটা ঘরের মধ্যে সিঁড়িটা নেমেছে। সেখানেই চারজন বসে আছে। তাকে দেখে একজন বলে উঠল, ‘পাঁচ মিনিট লেট স্যার।’

লোকটা বলল, ‘মাঝে মাঝে সব কাজ ভুলে রাতের শহরটা দেখতে হয়। এত মেকানিকাল আমি হয়ে যাইনি।’

‘আপনি ভালো মুডে আছেন উস্তাদ। খবরটা ভালোই মনে হচ্ছে। তাই না?’

লোকটা বলল, ‘মন্ত্রীসাহেবের সঙ্গে দেখা করলাম। তাকে বোঝালাম বাংলাদেশে কেন আমার ফুল কন্ট্রোল চাই। আমি আমার মতো করে কাজ করব। আই এস আই যেভাবে কাজ করবে, আমাদের সেটার সঠিক কাউন্টার করতে হবে। মিনিস্ট্রি আমাদের অ্যাপ্রুভাল দিয়ে দিয়েছে। ঢাকায় আমরা যেভাবে খুশি অপারেট করতে পারব। কাউকে কিছু জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এবার আমরা আমাদের মতো কাজ শুরু করতে পারি।’

ঘরের বাকি চারজন উল্লাস করে উঠল। লোকটা একটু হাসল, ‘উল্লাসের সময় নেই। কাজ শুরু করতে হবে। এজেন্ট রেডকে অ্যাক্টিভেট কর। সেন্ড হিম সিগন্যাল।’

একজন চমকে উঠল, ‘রেড? ওকে তো কোনও রকম কাজে না নেওয়ার নির্দেশ আছে স্যার।’

লোকটা বিরক্ত গলায় বলল, ‘ছিল। এখন নেই। এখন আমি যা বলব তাই হবে। বললাম তো, আমি বুঝে নেব। বাকিটা পরে দেখা যাবে।’

‘ওকে স্যার।’

এতক্ষণে যেন লোকটা ঠান্ডা হল। চোখ পিটপিটানিও বন্ধ হয়ে গেল। ঘরের বাকিরা সেটা বুঝলেও সে ব্যাপারে কোনও প্রশ্ন করল না। পরস্পরের দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে একবার দেখল শুধু। লোকটাকে অত কথা বলার সাহস তাদের নেই…

.

.

শেয়ালদা নেমে রাণা ক্যাব নিল। সেরকমই নির্দেশ ছিল। ভি আই পি রোডে ম্যাপ অন করে দিল। তার বরাবরই মাথা ঠান্ডা। যে ধরনের কাজ সে করে, তাতে মাথা ঠান্ডা রাখতেই হয়।

রাস্তাঘাটে জ্যাম। এই জন্য রাণার কলকাতা পছন্দ হয় না। তার মসৃণ রাস্তা পছন্দ। যাতায়াত হতে হবে নিশ্চিন্তের। যে রাস্তায় বাধা আসবে, তার সে রাস্তা পছন্দ নয়। বিরক্ত মুখে বসে রইল রাণা। ক্যাব ড্রাইভার বক বক করতে আর পানের পিক ফেলতে ভালোবাসে। রাণার সঙ্গে কিছুক্ষণ বক বক করার চেষ্টা করে বুঝল রাণা কথা বলতে উৎসাহী নয়। তখন সে তার বন্ধুস্থানীয় একজনকে ফোন করে বক বক শুরু করে দিল।

লোকেশনে পৌঁছে রাণা ক্যাব ছেড়ে দিল। পরপর চারটে আঠেরো তলা বিল্ডিং। এ, বি, সি আর ডি। চারটে বিল্ডিং। রাণা মোবাইল খুলে আরেকবার ঠিকানা দেখে নিল। সি বিল্ডিং চারশো তেরো নাম্বার রুম। নিজের মনেই সে একবার বলে নিল, ‘ওকে। চাপ নেই।’

সিকিউরিটি গেটে আটকাল। রাণা আই কার্ড দিয়ে নাম নথিভুক্ত করল। এই বিল্ডিং-এর এগারোতলায় রুবেল পাল নামে একজনের ফ্ল্যাটে যাবে লিখল। তেমনই নির্দেশ আছে। রাণাকে বলা হয়েছে, রুবেল পাল গত তিন মাস ধরে এই বিল্ডিং-এ ভাড়া নিয়ে আছে। অসুবিধে হবার কথা নয়।

সিকিউরিটি রুবেল পালকে ফোন করে জিগ্যেস করল, রাণাকে যেতে দেবে নাকি। রুবেল হ্যাঁ বলতেই সিকিউরিটি রাণাকে এন্ট্রি দিয়ে দিল।

লিফটে উঠে রাণা মাস্ক পরে নিল। মাস্ক না পরলেও হয়। কাজটা করে সে আট ঘন্টার মধ্যে বাংলাদেশে ঢুকে যাবে, আগামী এক বছর তার আসার কোনও প্রয়োজন নেই, তবু পরল। একটা পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে তার মা উঠল ফার্স্ট ফ্লোরে। বাচ্চাটা রাণাকে দেখে হাসল। রাণা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।

লিফট চার নম্বরে দাঁড়াতেই রাণা লিফট থেকে বেরিয়ে হাঁটতে শুরু করল। বলা আছে লিফট থেকে নেমে ডান দিকে যেতে হবে। রাণা তাই গেল।

ঠিক বলা হয়েছিল। ডানদিকে প্রথম ফ্ল্যাটটাই চারশো বারো, তারপর আরেকটু যেতেই চারশো তেরো পেয়ে গেল।

এসব সময়ে রাণার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় না। আগে হলে বাড়ত। আজকাল বাড়ে না। এই জন্যই তার ডিমান্ড এত বেশি। হালকা একটা শ্বাস ফেলে রাণা কলিং বেল টিপল।

সেকেন্ড ত্রিশেক পরে দরজাটা খুলে গেল। কিন্তু কেউ বেরোল না। রাণা সতর্ক হয়ে দরজা ঠেলল। ঘরে ঢুকতেই দেখল মেঝেতে একটা লাশ পড়ে আছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘরটা।

‘দরজাটা বন্ধ করে দাও।’

রাণা চমকে পাশে তাকিয়ে দেখল তার দিকে একটা রিভলভার উদ্যত হয়ে আছে। সে ঘাবড়ে গেল না। এটা প্রত্যাশিত ছিল। দরজা খোলা থাকার অর্থ আগে থেকে কেউ এসে গেছিল। সে লোকটার কথা অনুযায়ী দরজা বন্ধ করে দিল।

‘বোস।’

রাণা সোফায় বসল। লোকটা তার থেকে একটু দূরে একটা চেয়ার নিয়ে বসল। ছ’ফুট দু’তিন ইঞ্চি লম্বা হবে। টানটান চেহারা। বয়স পঞ্চাশের বেশিই হবে। মাথায় কাঁচা পাকা চুল। লোকটা পায়ের উপর পা তুলে বলল, ‘কত টাকা দিচ্ছে তোমায় এই অ্যাসাইনমেন্টটায়?’

রাণা বলল, ‘তিন লাখ।’

লোকটা মুখে চুকচুক শব্দ করে বলল, ‘এটাই এখানকার সমস্যা। এরা খুব কম টাকা দেয়।’

রাণা বলল, ‘আপনি কোথাকার?’

লোকটা বলল, ‘আমি এখন পাটায়া থাকি। এই যে, মেঝেয় পড়ে আছে হুসেন, আমার বহুদিনের টার্গেট ছিল। ওর জন্যই আমি এ দেশে এসেছিলাম। শুনলাম কী সব পেটি গ্যাংওয়ারে জড়িয়ে পড়েছিল। এর অপোজিট টিম তোমাকে পাঠিয়েছে। ওরা জানেই না হুসেন আসলে কী মাল।’

লোকটা জোরে হেসে উঠল। রাণা বলল, ‘কী মাল?’

লোকটা বলল, ‘ভালো দাম পেলে এরা বাপকেও বেচে দেয়। দেশ-টেশের সেন্টিমেন্ট এদের একবারেই নেই। হুসেনকে মারলে তোমার পুণ্যই হতো। তোমার কপাল খারাপ, ওকে আমি মারলাম।’

রাণা বলল, ‘আপনি কী করে জানলেন আমি আসব?’

লোকটা মাথা নাড়ল, ‘তুমি বুদ্ধিমান। তোমার হবে। রাণা দাস, বাবার নাম পরাগ দাস, আদি বাড়ি ত্রিপুরায়, এ রাজ্যে ২০০২-এ বাবার সঙ্গে চলে আসা, তারপর ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেও বেকার, তারপর হঠাৎই অপরাধজগতে প্রবেশ। এখন অবধি তেরোটা নিখুঁত অপারেশন করেছ। গুড, ভেরি গুড।’

রাণা অবাক হল। প্রাণপণে সেটা ঢাকার চেষ্টা করে বলল, ‘এত তাড়াতাড়ি এগুলো জেনে গেলেন কী করে?’

লোকটা মুখে একটা তাচ্ছিল্যের ভাব এনে বলল, ‘ওসব হয়ে যায়। আমায় সব খোঁজখবর রাখতে হয়। যাক গে, তোমায় টাকা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তোমার অ্যাকাউন্টে আমি অলরেডি তিন লাখ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। তোমাকে যারা রিক্রুট করেছিল, তাদের কেউ তোমাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করবে না।’

রাণা বলল, ‘যে কাজ আমি করিনি, সে কাজের টাকা আমি নিই না।’

লোকটা হাসল, ‘গুড বয়। আমি জানি তোমার এই ব্যাপারটা আছে। এই যে মাটিতে পড়ে আছে লোকটা, যাকে আমি আমার রিভলভার দিয়ে পরপর পাঁচটা গুলি করেছি, ওর এসব ছিল না। কলকাতায় বসে আই এস আইকে ইনফরমেশন দিয়ে যাচ্ছিল। তুমি জানো তো হোয়াট ইজ আই এস আই?’

রাণা বলল, ‘পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স। না জানার কিছু নেই।’

লোকটা বলল, ‘গুড। এই জন্য এই লাইনে শিক্ষিত ছেলে দরকার। শিক্ষিত না হলে এই লাইনে নামাই উচিত না। যত আজে বাজে পাবলিকে চারদিক ভরে গেছে।’

রাণা উঠল, ‘আমি এবার যাই। এখানে বসে থেকে কী করব?’

লোকটা সঙ্গে সঙ্গে রাণার দিকে রিভলভার তাক করল, ‘উহুহু, এ ভুল কোরো না। আমি না বললে ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে যেও না। কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে সেটা আমার ভাল্লাগবে না। তুমি যে কলেজে গ্র্যাজুয়েশন করছ বাবা, সে কলেজের আমি মালিক। আমি না বললে তুমি এ ফ্ল্যাট ছেড়ে বেরোবে না। ইন ফ্যাক্ট বেরোনোর কথাই ভাববে না।’

রাণা বিনা বাক্যব্যয়ে বসে পড়ল। লোকটা বলল, ‘তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে রাণা। এতগুলো খুন করেছ, অথচ তোমার রেকর্ড ক্লিয়ার। ভেরি ইম্প্রেসিভ। ভেরি মাচ ইম্প্রেসিভ। আমি অনেক দেখেশুনে তোমাকে রিক্রুট করার কথা ভেবেছি।’

রাণা বলল, ‘ওরকম হলে আমি অনেক আগেই কোথাও না কোথাও ঢুকে যেতাম। আমি ওভাবে কাজ করি না।’

লোকটা বলল, ‘আহ্‌…তুমি কী করে ভেবে নিচ্ছো আমি তোমার মতামত জানতে চাইছি? চাইছি না। আমি বলছি আমি ঠিক করেছি আমি তোমাকে রিক্রুট করব। ব্যস। তোমার হাতে আর কোনও অপশন নেই। তোমার বাবা নেই, ফ্যামিলি নেই, বিয়ে করোনি, এর থেকে ভালো আর কিছু হতেই পারে না।’

রাণা উঠে দাঁড়াল, ‘আপনি আমাকে গুলি করতে চাইলে করে দিন। কিন্তু এসব কাজ আমি করি না। আমি আমার নিজের মর্জিতে চলি।’

লোকটা বলল, ‘সে চলো। তোমাকে যেখানে পাঠানো হবে, তুমি নিজের মর্জিতেই চলবে। তবে যাবার আগে জেনে যাও, এ কাজটা তোমাকে দেশের জন্য করতে হতো। আজে বাজে কাজ না। ফর দ্য কান্ট্রি। কাল তুমি কী করবে তুমি কি জানো? এই যে টাকাগুলো পাও, এদিক সেদিক খরচ করে আসো, এসব করে কী লাভ হবে তোমার? এই পৃথিবীতে এভাবে উদ্দেশ্যহীনভাবে বেঁচে থেকে কি আদৌ কোনও লাভ আছে? তোমার মনে হয় না, দেশের জন্য তুমি কিছু করতে পারতে?’

রাণা ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘দেশের জন্য?’

লোকটা বলল, ‘হ্যাঁ, দেশের জন্য। করবে?’

রাণা বলল, ‘কী কাজ? কত টাকা পাবো?’

লোকটা বলল, ‘তুমি রাজি?’

রাণা বলল, ‘আমি জানি না। আমি কাজের ডিটেলসটা চাইছি।’

লোকটা কয়েক সেকেন্ড রাণার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ঠিক আছে। তুমি বেরিয়ে যাও এখন। রাত আটটার সময় নিকো পার্ক বাস স্ট্যান্ডে চলে এসো।’

রাণা বলল, ‘আর যদি না যাই?’

লোকটা ফিকফিক করে হাসতে হাসতে বলল, ‘এসব বাজে প্রশ্ন করার মতো বোকা তো তুমি নও। এতক্ষণে তোমার বোঝা উচিত ছিল আমি কী ধরনের লোক। বোঝোনি?’

রাণা লোকটার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে বলল, ‘বেরোলাম।’

লোকটা হাসিমুখেই বলল, ‘আমি খুব পাংচুয়াল। দেরি কোরো না। আমাকে যেন তোমাকে খুঁজে না আনতে হয়। বয়স হচ্ছে। এখন ওসব ঝক্কিতে যেতে চাই না।’

.

সন্ধে সাতটা বাজে। ট্যাক্সিতে চুপ করে বসে ছিল রাণা। সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সে।

ট্যাক্সিওয়ালা অধৈর্য হয়ে বলল, ‘দাদা আমাকে ছেড়ে দিন না! কেন শুধু শুধু বসিয়ে রেখেছেন?’

রাণা ঘড়ি দেখে বলল, ‘ঠিক আছে, আপনি আমাকে নিকো পার্কের সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যান।’

ট্যাক্সিওয়ালা বলল, ‘ওদিকে যাব না। আগে বলবেন তো! নেমে যান।’

রাণা বলল, ‘নো রিফিউজাল ট্যাক্সি। আমাকে বোকা পেয়েছিস? চুপচাপ চল, নইলে তোর কপালে দুঃখ আছে।’

ট্যাক্সিওয়ালা ট্যাক্সি থেকে নেমে গিয়ে রাণার দিকের দরজা খুলে বলল, ‘নাম, নাম বলছি।’

রাণা রিভলভার বের করে ট্যাক্সিওয়ালাকে দেখাল, ‘তুই আমাকে চিনিস না, আমিও তোকে চিনি না। তুই জানিস না ঠিক এই জায়গায় আমি এটা চালিয়ে দিয়ে চুপ চাপ গা ঢাকা দিয়ে দিতে পারি। যেখানে যেতে বলছি, চল। নইলে তোর কপালে দুঃখ আছে। সেকেন্ডবার বললাম। আর বলব না।’

ট্যাক্সিওয়ালা সুড়সুড় করে ট্যাক্সিতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দিল।

রাণা সিগারেট ধরিয়ে ব্যাঙ্কের অ্যাপ খুলল। লোকটা তিন লাখ বলেছিল, অ্যাকাউন্টে চার লাখ টাকা ঢুকেছে। ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ অ্যাকাউন্ট ব্যাল্যান্সের দিকে তাকিয়ে রইল সে। ট্যাক্সিওয়ালা একটা সিগনালে গাড়ি দাঁড় করিয়েই দরজা খুলে দৌড়ল। একজন পুলিশের সঙ্গে উত্তেজিত ভাবে কথা বলছে। রাণা নামল না। চুপ করে সিগারেট টেনে যেতে লাগল। পুলিশটা ভ্রু কুঁচকে গাড়ির দিকে এগিয়ে এসে তাকে গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলল। রাণা নামল।

পুলিশ অফিসার বলল, ‘আর্মসটা দেখি।’

রাণা পকেট থেকে রিভলভার বের করে বলল, ‘খেলনা রিভলভার স্যার। ভাইপোর জন্য নিয়ে যাচ্ছি।’

পুলিশ অফিসার বলল, ‘এটা দিয়ে আপনি ভয় দেখাচ্ছিলেন ওকে?’

রাণা বলল, ‘কী করব স্যার? নো রিফিউসাল লেখা, অথচ যাবে না বলছে। কোথাও কিছু পাওয়া যায় না, মাথা এমন গরম হয়ে গেছিল যে ওকে এটা দেখিয়ে ভয় দেখিয়েছি।’

ট্যাক্সিওয়ালা তাকে মারতে চলে এল। পুলিশ অফিসার তাকে ধমকে সরিয়ে দিল। বলল, ‘এটা যে আপনি করলেন, আপনার জেল হতে পারে জানেন?’

রাণা বলল, ‘দরকারের সময় এরা যে রিফিউজ করে দেয়, তাতে এদের কি কিছু হবে না স্যার? আমার জরুরি দরকার ছিল অথচ আধঘণ্টা ধরে একটা ক্যাব বা ট্যাক্সি কিচ্ছু পাচ্ছি না। আমি কী করতাম?’

ট্যাক্সিচালক লাফঝাঁপ করছিল, ‘আমি তোকে কিছুতেই নেবো না। তুই যেখানে খুশি গিয়ে মর। আমি নেই।’

পুলিশ অফিসার রাণাকে বলল, ‘শুনুন, আপনি অন্য কোনভাবে চলে যান। ও মনে হয় না আপনাকে আর নেবে।’

রাণা বলল, ‘আমাকে নিকো পার্কে পৌঁছতেই হবে। আপনি ব্যবস্থা করে দেবেন তবে?’

অফিসার বলল, ‘হ্যাঁ। আমাদের গাড়ি ওদিকেই যাবে। আপনাকে নামিয়ে দিচ্ছি। চলুন। ওকে আপনি ছেড়ে দিন।’

রাণা বলল, ‘ঠিক আছে। কত হয়েছে?’

রাণা ট্যাক্সিচালকের দিকে তাকাল। ট্যাক্সিচালক বলল, ‘লাগবে না তোর টাকা, যা এখান থেকে।’

রাণা একটা পাঁচশো টাকার নোট পকেট থেকে বের করে ট্যাক্সিচালকের দিকে ছুড়ে মারল। নোটটা রাস্তায় পড়ে গেল।

রাণা বলল, ‘ভাড়াটা। নিয়ে নিন।’

ট্যাক্সিচালক ঝুঁকে টাকাটা নিল। পুলিশ অফিসার বলল, ‘চলুন।’

রাণা পুলিশের জিপে উঠল। অফিসার গাড়িতে উঠে হাসতে হাসতে বলল, ‘আপনি যা তা লোক মশাই। খেলনা রিভলভার নিয়ে ঘুরছেন?’

রাণা বলল, ‘খেলনা কিনেছিলাম। এভাবে কাজে লেগে যাবে বুঝিনি।’

অফিসার বলল, ‘সত্যি, কতরকমের লোক যে ঘুরে বেড়ায়। আপনার কথা আমার বহুদিন মনে থাকবে।’

নিকো পার্কের সামনের বাস স্ট্যান্ডে সাড়ে সাতটায় নামল রাণা। পুলিশের জিপটা বেরিয়ে গেল।

রাণা সিগারেট ধরাল। ফোন বাজছে। ধীরাজ শর্মা ফোন করেছে।

রাণা ধরল, ‘হ্যাঁ।’

ধীরাজ বলল, ‘কীরে, কাজটা করার পর জানালি না তো? টিভি দেখে জানতে হচ্ছে। তোর টাকা লাগবে না?’

রাণা বলল, ‘না। টাকা পেয়ে গেছি।’

ধীরাজ অবাক হয়ে বলল, ‘মানে? কে টাকা দিয়েছে তোকে?’

রাণা বলল, ‘ও আছে। আপনি জেনে কী করবেন?’

ধীরাজ বলল, ‘কী বলছিস তুই? আমি তোকে এত কাজ দিয়েছি, তুই এখন আমাকে গরম নিচ্ছিস?’

রাণা বলল, ‘ফ্যামিলি রিলেশন তো নেই ধীরাজ ভাই। কাজ বলেন, কাজ করি। এখানে গরম ঠান্ডার কী আছে?’

ও-প্রান্ত খানিকটা চুপ করে গেল। তারপর বলল, ‘পুলিশে সব দিয়ে দেব। তখন বুঝবি! বেশি বেড়ে গেছিস তুই। তোর ডানা ছাটার টাইম হয়ে গেল।’

রাণা ‘বেস্ট অফ লাক’, বলে ফোন কেটে দিল। ধীরাজ রেগেমেগে আবার ফোন করা শুরু করেছে। রাণা পাত্তা দিল না। ফোন কেটে দিল।

ঠিক রাত আটটায় বাস স্ট্যান্ডের সামনে একটা এস ইউ ভি এসে দাঁড়াল। একটা কাচ নেমে গেল। ড্রাইভিং সিটে রাণা সকালের লোকটাকে দেখতে পেল। সে গাড়িতে উঠে লোকটার পাশে বসল। গাড়ি স্টার্ট নিল।

লোকটা বলল, ‘ধীরাজকে রাগিয়ে দিলে? পরে ওকে দরকার হতে পারে।’

রাণা অবাক হয়েও সামলে নিল। তার কল শুনছিল লোকটা। তবে সকালেই মনে হয়েছিল এর অনেক ক্ষমতা আছে। অবাক হবার কিছু হয়নি। সে বলল, ‘আমায় কী করতে হবে বলুন।’

লোকটা গাড়ির এসির তাপমাত্রা কমিয়ে দিল, হিমশীতল হয়ে গেল গাড়ির ভেতরটা। বলল, ‘এত কথা জেনে কী করবে তুমি রাণা? কোনও পিছুটান নেই, টাকার চিন্তা করতে হবে না, একটা সুযোগ পেয়েছো জীবনটাকে পাল্টে ফেলার, এত প্রশ্ন করে কী লাভ হচ্ছে?’

রাণা বলল, ‘আমার ধোঁয়াশায় থাকতে পছন্দ হয় না। আমি সবটা জানতে চাই। কী কাজ, কোন ধরনের রিস্ক জড়িয়ে আছে তাতে, সব জানতে চাই।’

লোকটা গাড়ির মিউজিক বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘গান শোন আপাতত। বলছি।’

রাণা চুপ করে গেল। এখন বলতে চাইছে না যখন, তখন খুঁচিয়ে লাভ নেই। কিছুক্ষণ পর একটা শপিং মলের পার্কিং স্পেসে গাড়ি দাঁড় করিয়ে লোকটা বলল, ‘একটা খুন করতে হবে। গুলি করবে, চলে আসবে।’

রাণার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটল, ‘সেই একই কাজ। আগে বললেই হতো।’

লোকটা বলল, ‘ঢাকায়।’

রাণা বলল, ‘ইম্পসিবল। ও দেশে আমি কিছু করি না। আপনি ও দেশের কাউকে ধরুন।’

লোকটা বলল, ‘কাজটা আমাদের করতে হবে। আমাদের এজেন্সিকে। তুমি ছাড়া আমার হাতে এই মুহূর্তে আর কেউ নেই।’

রাণা বলল, ‘আমি ছাড়া? সকালে আমাকে পেলেন, বিকেলে আমি আপনার এজেন্সির লোক হয়ে গেলাম?’

লোকটা হাসল, ‘সাত মাস আগে ভুবনেশ্বরে হোটেল লিস্টারে তুমি তারেককে উড়িয়েছিলে। তখন থেকে তোমার উপরে আমার নজর আছে। আমাদের পুলিশ তোমার ডিটেলস অনেক আগেই আমার কাছে পাঠিয়েছিল। আমি চাইলে অনেক দিন আগেই তুমি শ্রীঘরে থাকতে। শুধু আমি চাইনি বলে হয়নি। আর কিছু জানতে চাও?’

রাণা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বলল, ‘আপনি মিথ্যে কথা বলছেন। ওই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ আমি নষ্ট করে দিয়েছিলাম।’

লোকটা তার ফোন বের করে একটা ভিডিও চালিয়ে দিল। রাণা দেখল লিস্টারের রুমে ঢুকতে তাকে দেখা যাচ্ছে। লোকটা বলল, ‘ব্যাক আপ ফুটেজটা ওড়াতে পারনি। ব্যাড লাক। সে ঠিক আছে, তুমি কাজটা না করতে চাইলে কোরো না, আমি তোমাকে ফাঁসাব না, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে তোমাকে সাজেশন দেব এটা তোমার খুব ভালো কাম ব্যাক হতে পারে। তুমি যে কাজ করো, যে-কোনওদিন তোমাকে পুলিশ কুকুরের মতো গুলি করে মারবে। তার পরিবর্তে তুমি একটা সম্মানজনক পুনর্বাসন পেতে পারো। ডোন্ট মিস দিস চান্স রাণা।’

রাণা শ্বাস ছাড়ল। বলল, ‘ডিটেলস দিন।’

লোকটা বলল, ‘গুড বয়। তোমাকে একজনকে সরাতে হবে। আমাদের নিজেদের লোক।’

রাণা বলল, ‘নিজেদের লোককে সরাতে হবে, সেজন্য আমাকে রিক্রুট করছেন? কেন? আপনারা করছেন না কেন?’

লোকটা বলল, ‘আমি কাউকে বিশ্বাস করছি না বলে। আমি শুধু তোমাকে বিশ্বাস করছি।’

রাণা বলল, ‘বুঝলাম। আপনি নিশ্চিত, আমাকে কাল কেউ পাঁচ লাখ টাকা দিলে আমি অন্য দিকে চলে যাব না?’

লোকটা বলল, ‘হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত তুমি যাবে না। তুমি অনেকটা সিনেমার নায়কের মতো। যে কাজ একবার করবে বলে ঠিক করে নাও, সেটা করেই ছাড়ো। এছাড়া তুমি খুনি হতে পারো, দেশকে ভালোবাসো। জাতীয় সংগীত বাজলে উঠে দাঁড়াও।’

রাণা বলল, ‘সেটা ছোটবেলার অভ্যেস। ওসব আমি আপনাকে এক্সপ্লেইন করতে যাব না। তাছাড়া আপনি যে এ দেশকে রিপ্রেজেন্ট করছেন, তার কোনও প্রমাণ আমি পাইনি।’

লোকটা পকেট থেকে একটা ছোট ব্যাগ বের করে তার দিকে এগিয়ে দিল, ‘পাসপোর্টটা নাও। ভিসা করানো আছে। এখন থেকে তোমার নাম গৌতম বসু। নামটা মনে করে নাও। কাজ সেরে এই ব্যাগে থাকা ছোট ফোনটায় একটাই নাম্বার আছে। সেটায় ফোন করবে। ওরা তোমাকে এ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। বাকিটা আমি বুঝে নেবো।’

রাণা বলল, ‘ইনফরমেশন ক্লিয়ার নেই। আপনার কোনও কথাই ক্লিয়ার নয়। আমি টার্গেটকে খুঁজব কী করে? দ্বিতীয়ত আমি মারব কী দিয়ে? আর্মস?’

লোকটা বলল, ‘গুড কোয়েশ্চেন। ব্যাগের মধ্যে একটা স্মার্টফোন আছে। ঢাকায় পৌঁছে ওই স্মার্টফোনে একমাত্র সেভড নাম্বারে ফোন করবে। তোমাকে কী করতে হবে, ওখান থেকে ইন্সট্রাকশান দিয়ে দেওয়া হবে।’

রাণা বলল, ‘আমি এখনও বুঝতে পারছি না আমাকে কেন প্রয়োজন হচ্ছে।’

লোকটা বলল, ‘ওয়েলকাম টু আওয়ার টিম। বাকি কথা পরে হবে। চলো, ঢাকার ফ্লাইটের জন্য তোমাকে আর আধঘণ্টার মধ্যে এয়ারপোর্টে পৌঁছতে হবে। আর দেরি করা যাবে না।’

রাণা বলল, ‘কাজটা না হলে কী হবে?’

লোকটা বলল, ‘আমি যখন বুঝে যাব বা প্ল্যান চেঞ্জ করব, তোমাকে তখন দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে দেব। এছাড়াও বরিশালে তোমার আত্মীয় থাকে, যাদের বাড়িতে পালানোর প্ল্যান করেছিলে। খুব সমস্যা হলে সেখানে গা ঢাকা দিয়ে দেবে।’ রাণা মৃদুস্বরে বলল, ‘হু।’

লোকটা গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বলল, ‘ইয়োর কান্ট্রি নিডস ইউ রাণা। খুব বড় অপারেশন হতে যাচ্ছে এটা। তোমাকে পারতেই হবে।’

রাণা উত্তর দিল না। কিছুক্ষণ পর সে এয়ারপোর্টে প্রবেশ করল।

লোকটা রাণাকে নামিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে গেল।

.

ইমিগ্রেশন পেরিয়ে বেরিয়ে এসে রাণা লোকটার দেওয়া ফোন সুইচ অন করল। ফোন বুকে থাকা নাম্বারটা ডায়াল করতেই ও প্রান্তে ফোন রিসিভ হয়ে গেল, ‘এসে গেছেন?’

রাণা বলল, ‘হ্যাঁ।’

‘ঠিক আছে। মাল নিয়ে নিয়েছেন?’

‘মাল নেই কিছু।’

‘বাহ্‌। তাহলে তো খুব ভালো। দু’নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে আসুন। আমি দাঁড়িয়ে আছি।’

রাণা বেরোল। একজন যুবক বলল, ‘ও গৌতমদা, আসুন আসুন। আমার সঙ্গে আসুন।’

কিছুক্ষণ পর পার্কিং-এ পৌঁছল তারা। ছেলেটা বলল, ‘উঠুন উঠুন। অনেকটা যেতে হবে।’

রাণা বলল, ‘আপনার নাম?’

ছেলেটা বলল, ‘অমল। অমল সরকার। উঠুন উঠুন, গাড়িতে উঠুন। অনেক কাজ আছে।’

রাণা চুপ করে গাড়িতে উঠে বসল।

‘এখানে খুব জ্যাম হয়।’ অমল বলল।

রাণা বলল, ‘আমরা কোথায় যাচ্ছি?’

অমল বলল, ‘কেন? উস্তাদ বলেনি কিছু?’

অমল গাড়ি চালাচ্ছে। একটা গান চালিয়ে দিল। তাকে দেখে মনে হচ্ছে না জীবনে তার কোনও চিন্তা আছে। রাণা বলল, ‘উস্তাদ মানে?’

অমল বলল, ‘যে আপনাকে ঢাকা পাঠিয়েছে।’

রাণা কী বলবে বুঝতে পারল না। সে কী বলবে? তাকে তো অনেক কথা বলতে বারণ করা হয়েছে। কী বলবে তাও জানে না। চুপ করে থাকতে হবে। সেটাই মঙ্গল।

অমল তাকে আরেকবার খোঁচালো, ‘ও দাদা। উস্তাদ কিছু বলেনি?’

রাণা বলল, ‘না। আমাকে কিছু বলেনি।’

অমল বলল, ‘তাহলে কথা বলে নিন। আমি গাড়ি দাঁড় করাচ্ছি।’

অমল গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিল। রাণা বিস্মিত হয়ে অমলের দিকে তাকাল। অমল বলল, ‘আমার সামনে কথা বলতে অসুবিধে হলে আমি নেমে যাচ্ছি। কথা শেষ হলে ডেকে নেবেন। সিগারেট টেনে আসি।’

সত্যি সত্যি অমল নেমে গেল। রাণা তার ফোন বের করে লোকটাকে ফোন করল। একবার রিং হতেই ফোন ধরল লোকটা, ‘তুমি এই সিমটা এখনই ফেলে দেবে। ইউজ করবে না। ইন ফ্যাক্ট আমাকে আর ফোনই করবে না।’

রাণা বলল, ‘টার্গেট কে? বলা যাবে?’

লোকটা হাসল, ‘ধরে নাও, তুমি এখন যার সঙ্গে যাচ্ছ, সেই।’

রাণা চমকে উঠল, ‘মানে?’

লোকটা বলল, ‘এরকমই তো হয়। চাকরিতে ছাঁটাই হওয়া লোকটা চিঠি পাওয়ার আগে অবধি জানতে পারে না তার চাকরি চলে গেছে। তার জায়গায় যে লোকটা রিক্রুট হয়েছে, নিজের অজান্তে সে নতুন লোকটাকে সবকিছু শিখিয়ে দিয়েছে এর মধ্যেই। অমলের থেকে সবকিছু শিখে নাও। তারপর সুযোগ বুঝে কাজটা করে ফেলো। তুমি তো ঢাকা চেনো। তোমার ঢাকায় সড়গড় হতে বেশি অসুবিধে হবার কথা নয়।’

রাণা বলল, ‘মানেটা কী? আমায় কি এখানে থাকতে পাঠানো হয়েছিল? কাজটা সেরে ফেরার কথা বলেছিলেন। আমি এখানে থেকে যাব নাকি?’

ও-প্রান্ত থেকে ঠান্ডা গলায় উত্তর এল, ‘প্ল্যান চেঞ্জ হয়েছে। ইন্ডিয়ায় থেকে করবেটা কী বলো তো? দেশের কাজ করো, জীবনে কোনও কিছুর অভাব হবে না।’

রাণা কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে বলল, ‘আপনি নিশ্চিত অমল ট্রেইটর? ওকে মারতেই হবে?’

লোকটা বলল, ‘সেটা আমি বুঝব। আমি তোমাকে যে কাজে পাঠিয়েছি, মনে রেখো সে কাজটাই তোমার ফাইনাল ডেসটিনেশন। অমলের থেকে যতটা জানার জেনে কাজটা শেষ করে দাও।’

রাণা বলল, ‘আমি কী জানব? আমি কি এসব কাজ কোনওদিন করেছি নাকি?’

লোকটা বলল, ‘জেনে যাবে। ওসবে কোনও চিন্তা নেই। নাও ডু ইয়োর জব। সিমটা এখনই ডেস্ট্রয় করো।’

রাণা বলল, ‘আমি কি ওকে শেষ করার আগে আরেকবার আপনার সঙ্গে কন্ট্যাক্ট করে নেবো?’

লোকটা বলল, ‘আমার অত সময় নেই। কী করবে, নিজে বুঝে করবে। আর যদি ঢাকা পুলিশ বা যে কেউ তোমার সম্পর্কে কিছু জানতে পারে, আমরা কিছু জানি না। আমি তোমাকে চিনি না।’

রাণা বলল, ‘আমি খুব বড় ভুল করেছি আপনার কথা শুনে। আপনার কথা শোনা আমার একদম উচিত হয়নি।’

লোকটা হেসে বলল, ‘বেস্ট অফ লাক। ডেস্ট্রয় দ্য সিম।’

রাণা একটু থমকে গিয়ে বলল, ‘আর আমাকে মারতে কবে লোক পাঠাবেন?’

লোকটা বলল, ‘আশা করি কাউকে পাঠাতে হবে না। তুমি পারবে। আমি জানি। বেস্ট অফ লাক।’

ফোন কেটে গেল। রাণা চুপ করে বসে থেকে সিমটা ফোন থেকে বের করে নষ্ট করে দিল।

অমল সিগারেট টানছে। রাণা চুপ করে অমলকে দেখতে লাগল। সুধাকর দাসকে মারার কথা মনে পড়ে গেল। মারার আগে লোকটার কাছে লাইটার চেয়েছিল সে। সুধাকর রাগী গলায় বলেছিল, লাইটার হবে না। লাইটার দেওয়ার কাজ না তার।

লাইটার দিলে হয়তো সুধাকরের প্রতি কিছুটা মায়া হতো তার। না দিয়ে ভালোই করেছে। সুধাকরের শরীরটা রেল লাইনের উপর ফেলে এসেছিল রাণা। কাজটা শেষ করে দু’মাস গোয়াতে ছিল।

কাচে টোকা মারল অমল। ইঙ্গিতে জানতে চাইল কথা হয়েছে নাকি। রাণা হ্যাঁ সূচক ঘাড় নাড়ল।

অমল গাড়িতে উঠে বসে বলল, ‘কী বলল?’

রাণা বলল, ‘আপনার সঙ্গে থেকে কাজ শিখতে বলছে।’

অমল শিস দিয়ে উঠল, ‘তাহলে তো ভালোই হল। একজন পার্টনার পেলাম। একা একা সত্যি ভালো লাগে না।’

রাণা বলল, ‘কী কাজ আছে এখানে?’

অমল বলল, ‘কিছুই নেই। দু-চারজনের বাড়ি যাওয়া। কথা বলা। খাওয়া। ঘুমোনো। কোনও কাজ নেই।’

রাণা বলল, ‘এই উস্তাদের নাম কী?’

অমল একটু চমকাল, ‘সে কী! আপনাকে কেউ বলেনি, উস্তাদের নাম নেওয়া যাবে না? কিছু জানতে চাওয়া যাবে না?’

রাণা বলল, ‘না।’

অমল বলল, ‘তাহলে জেনে নিন। ওটাই ফার্স্ট লেসন।’

রাণা বলল, ‘এখন কাকে টার্গেট করতে হবে?’

অমল বলল, ‘সাদিককে।’

রাণা অবাক হল, ‘সাদিক কে? আপনি আমাকে তুমি বলতে পারেন।’

অমল বলল, ‘ওকে। সব একদিনে বুঝে যাবে? সাদিক ওয়াই। আমাদের পরের টার্গেট ধরো এক্স। এখানে অনেক এক্স ওয়াই-এর ব্যাপার আছে।’

রাণার মাথা ঝিমঝিম করছিল। এই বুঝে নেওয়ার পদ্ধতিটা বেশ বিরক্তিকর লাগছে তার। সে বলল, ‘ওয়াইটা কে?’

রাস্তায় ভীষণ জ্যাম হয়ে গেছে। গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে দিয়ে অমল বলল, ‘ভুবনেশ্বরে হোটেল লিস্টারে তুমি তারেককে উড়িয়েছিলে না? সাদিক হল তারেকের ভাই।’

রাণা চমকে উঠল, ‘আপনি কী করে জানলেন আমি তারেককে উড়িয়েছি?’

অমল হাসল, ‘ওটা আমার ইন্সট্রাকশনেই হয়েছিল।’

রাণা রাস্তার দিকে তাকাল। সব কিছুর সঙ্গেই কি সব কিছু মিলে যায়? তারেককে ওড়ানোর দরকার ছিল বলে ওরা তাকে রিক্রুট করেছিল। আবার হোটেল লিস্টারের সিসিটিভি ফুটেজও ওরা রেখে দিয়েছে তাকে ব্ল্যাকমেল করবে বলে। বৃত্ত মেলানোই ওদের কাজ? নাহ্‌। এত ভেবে লাভ নেই। দেখা যাক, সময় তাকে কোথায় নিয়ে যায়। বেঁচে থাকাটাই একটা যন্ত্রণা তার কাছে। যদি এরা তাকে মেরেও ফেলতে চায়, ফেলুক। কী আর হবে তাতে? জীবন একটা ওভার রেটেড জিনিস। অকারণে সেটাকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও অর্থ হয় না। তার চেয়ে অমল কী করছে, সেটাই দেখা যাক।

অমল বলল, ‘সাদিকের বাড়িতে আমার মিটিং আছে আজ। সাদিক একটা প্রোজেক্ট করছে। সে ব্যাপারেই মিটিং। তুমি আমার বন্ধু। কলকাতা থেকে পালিয়ে এসেছ। এখানে কাজ খুঁজছ। আমি তোমাকে ওদের কাছে আমার বন্ধু হিসেবে নিয়ে যাচ্ছি।’

রাণা বলল, ‘ওরা ব্যাক গ্রাউন্ড চেক করবে না?’

অমল বলল, ‘করে ফেলবে। চাপের কিছু নেই। তোমার কভার রেডি আছে। দেখা যাবে।’

রাণা বলল, ‘আমাদের কী কী জানতে হবে?’

অমল বলল, ‘এক্স লোকটাকে কারা ফান্ড করছে? আই এস আই করছে না অন্য কেউ করেছে? ওদের রুট কী হতে পারে? কোন কোন শহর?’

রাণা বলল, ‘তারেক কী করত?’

অমল বলল ‘ইন্ডিয়ায় বসে আই এস আইকে হেল্প করতো। ইউ ডিড এ গ্রেট জব।’

রাণা শ্বাস ছাড়ল। তারেকের ব্যাপারে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ভুবনেশ্বরের সুবল মোহান্তি। দু-দিন খোঁজ নিয়েছিল, তৃতীয় দিন অপারেশনটা কমপ্লিট করেছিল।

অমল বলল, ‘তুমি কাচ্চি খাও তো? আজ কাচ্চি খাওয়াব তোমায়। নাকি ভেজটেজের ব্যাপার আছে? বৃহস্পতিবার, শনিবার নিরামিষ খেতে হবে, এরকম কোনও ব্যাপার আছে নাকি?’

রাণা বলল, ‘খাই, আমি সব খাই। আমার ওসব ব্যাপার নেই।’

অমল খুশি হল, ‘গুড। এদেশে ওসব খাওয়ার সমস্যা হলে ভুগতে হতো। যাক, নিশ্চিন্ত হওয়া গেল।’

রাণা নিশ্চিন্ত হতে পারল না। অমল ঠিক কী বিশ্বাসঘাতকতা করছে যার জন্য তাকে শেষ করতে হবে?

অমল বেশ খুশি মনে গাড়ি চালাচ্ছে। শহরের তুমুল জ্যাম পেরিয়ে অবশেষে একটা ফ্ল্যাটবাড়িতে পৌঁছল তারা।

অমল বলল, ‘ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি খাবার ব্যবস্থা করছি।’

কিছুক্ষণ পর অমল খাবার নিয়ে এল। গরম গরম বিরিয়ানি প্লেটে ঢেলে বলল, ‘বসে পড়, বসে পড়।’

দুজনে বসে গেল। খেতে খেতে রাণা বলল, ‘এক্স যে লোকটা, মানে আমাদের টার্গেট যে, সে ঠিক কী করে?’

অমল খেতে খেতে হেসে ফেলল, ‘একদিনেই সব শিখে নেবে দেখছি। এত তাড়া কীসের? ধরো, এক্স বিভিন্ন শহরে থাকে। এক জায়গায় থাকে না। ঘুরে বেড়ায়। মূলত মিডল ইস্ট কান্ট্রিগুলোতে ওর অবাধ বিচরণ। ধরো পাকিস্তানে থাকে। শেষ দেখা গিয়েছিল কায়রোতে। তার আগে দুবাইয়ের একটা ক্রিকেট ম্যাচে বেটিং করিয়েছিল।’

রাণা বলল, ‘তার মানে ও ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে ব্লাস্ট করাতে যাবে কেন?’

অমল খুশি হল, ‘গুড কোয়েশ্চেন। আবার ব্যাডও। তোমাকে আরেকটু তলিয়ে ভাবতে হতো। ইন্ডিয়াতে এক একটা ব্লাস্টের বা টেররিস্ট অ্যাটাকের সুদূরপ্রসারী ফলাফল থাকে। পার্লামেন্ট অ্যাটাক হোক, তাজ অ্যাটাক হোক কিংবা পুলওয়ামা। হয়তো ওরা এমন কোনও অ্যাটাক করতে চাইছে, যার ফলে ওদের দরকার পড়ে।’

রাণা বলল, ‘এক্সকে ফান্ড করতে অর্গানাইজেশন লাগছে কেন? এক্সের নিজস্ব ইন্টারেস্ট নেই তাতে?’

অমল বলল, ‘আছে। তবে লক্ষ্য একই থাকলে এরা দু-চারটে ফান্ডিং পার্টনার ঠিকই জুটিয়ে ফেলে। খেলার মাঠে দেখো না, খেলে একজন, মূল স্পন্সর এক থাকলেও অনেক ছোট ছোট স্পন্সর থাকে। যত গুড়, তত মধু। বাই দ্য ওয়ে, তোমার দরকারি কয়েকটা জিনিস আমি গুছিয়ে রেখে দিয়েছি। যন্তরটা সব জায়গায় নেওয়ার দরকার নেই। আমি বলে দেব, কখন ক্যারি করতে হবে।’

রাণা মাথা নাড়ল, ‘ঠিক আছে। আপনার এখানের এস্টাব্লিশমেন্ট কস্ট কে পাঠায়?’

অমল বলল, ‘কে পাঠাবে? আমাকেই রোজগার করে নিতে হয়।’

রাণা বলল, ‘সোজা পথে, না বাঁকা পথে?’

অমল হাসল, ‘ডিপেন্ডস। যখন যেভাবে সম্ভব হয়। তবে যাই করবে, কিছুতেই এক্সপোজ হবে না। মাথা ঠান্ডা করে, সিক্রেটলি করতে হবে। এখানে বিপদে পড়লে কেউ বাঁচাবে না তোমায়। নিজের দেশ সবার আগে হাত তুলে নেবে। সেরকম হলে আই এস আই-এর হাতেও তুলে দিতে পারে। আই এস আই-এর টর্চার খুব ইনোভেটিভ হয়। ওর থেকে মনে হয় কুম্ভীপাক নরক বেটার জায়গা।’

রাণা বলল, ‘আপনি পাকিস্তান গেছেন?’

অমল বলল, ‘গেছি।’

রাণা বলল, ‘আপনি ওদের ভাষা জানেন?’

‘হ্যাঁ জানি। জানতে হবে। তোমাকেও জানতে হবে। এদেশেও বাংলাভাষার অসংখ্য ভাগ আছে। চট্টগ্রামে এক রকম, নোয়াখালীতে একরকম, আবার বরিশালে আরেকরকম। শিখে নিতে হবে।’

রাণা মাথা নাড়ল, ‘শিখে নেবো।’

অমল খুশি হল, ‘গুড। খাওয়া হয়ে গেলে প্লেট বেসিনে নিয়ে গিয়ে ধুয়ে রেখো। এখানে কাজের বুয়া নেই। আমাদেরই সব করতে হবে।’

অমলের খাওয়া হয়ে গেছিল। সে প্লেট নিয়ে উঠে গেল। রাণার অস্বস্তি হচ্ছিল। লোকটা, যাকে অমল উস্তাদ বলে ডাকছে, তাকে এদেশে পাঠিয়ে দিল। সে সব জায়গার ভাষাও জানে না ঠিক করে। অমল এতদিন ধরে এখানে কাজ করে যাচ্ছে। রাণার কোনও ট্রেনিংও নেই। ঠিক কী হিসেবে লোকটা তাকে অমলের বদলি হিসেবে এখানে পাঠিয়ে দিল? ভাবতে হবে। না ভাবলে কোনও হিসেবই মেলাতে পারা যাবে না।

অমলের ফ্ল্যাটটা ছোট হলেও ছিমছাম। অমল নিজেই গুছিয়ে রাখে সব কিছু। লোকটার কথা অনুযায়ী সে যদি অমলকে মেরেও ফেলে, তারপর তাকে বরিশালে চলে যেতে হবে। এখানে থাকতে পারবে না। উফ্‌! কী একটা জালে জড়িয়ে পড়ল! যতক্ষণ না পুরো ছবিটা স্পষ্ট হচ্ছে, ততক্ষণ অস্বস্তিটা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না তার।

.

বিরাট একটা বাড়ি। বাড়ি না বলে প্রাসাদ বলাই ভালো। একটা সুদৃশ্য ঘরে বসানো হল। রুমান নামে এন্ট্রি করেছে অমল। গৌতম নামে রাণা। এসির তাপমাত্রা কম। ঘর তীব্র শীতল হয়ে গেছে।

‘বেশিক্ষণ অপেক্ষা করাই নাই আশা করি।’

সাদিক ঘরে ঢুকতেই উঠে দাঁড়াল অমল। সাদিককে কর্পোরেট বড় কর্তার মতো দেখতে। ঝকঝকে চেহারা। রিমলেস চশমা পরে আছে।

অমলের দেখাদেখি রাণাও উঠে দাঁড়াল। সাদিক রাণাকে দেখে ভ্রু কুঁচকাল। অমল বলল, ‘আমার কলকাতার দোস্তো। একটা কেচ্ছা করে বর্ডার পেরিয়ে পালিয়ে চলে এসেছে।’

সাদিক সোফায় বসল, বলল, ‘বলেন কী? কেচ্ছা করেছে? কী কেচ্ছা?’

অমল বলল, ‘বোঝেনই তো। জোয়ান বয়েস। এই বয়সে যা হয়।’

সাদিক হো-হো করে হেসে উঠে বলল, ‘রক্ত গরম। কী বলেন? গরম রক্তের অনেক সমস্যা। ঠিক আছে, চিন্তার কিছু নাই, আমি আপনার দোস্তোর ব্যবস্থা করে দিমু নে। সব গরম ঠান্ডা করার ব্যবস্থা আছে বুঝলেন মিয়াঁ? চিন্তার কিছু নাই। কোক খাবেন?’ দরজার দিকে তাকিয়ে সাদিক গলা তুলল, ‘এই আসগর, দুই খান কোক নিয়ে আয়।’

অমল বলল, ‘সাদিকভাই, আমি আপনার প্রোজেক্টের জন্য ভাবছিলাম রাজশাহী যাব। ওখানে কিছু লোককে আমি চিনি। ওরা আমাদের কাজে আসতে পারে।’

সাদিক বলল, ‘ঠিক আছে। আমার গাড়ি নিয়া যান। আমি ড্রাইভারের ব্যবস্থা করে দেব।’

অমল বলল, ‘না, না। গাড়ি নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। বাসে যেতে হবে। গাড়ি নিয়ে গেলে অনেকের চোখে পড়ে যাব।’

সাদিক ক্যালেন্ডার দেখল, ‘কবে যাবেন আপনি? দশ তারিখ কিন্তু আমাকে ফোন করবেন না। ওদিন একটা মিটিং করতে হবে। সারাদিন আমায় পাবেন না।’

অমল মাথা নাড়ল, ‘ঠিক আছে। সে নিয়ে ভাবছি না। আপনার দোয়া থাকলেই হবে।’

সাদিক রাণার দিকে তাকাল, ‘আপনার নাম কী?’

রাণা গলা খাকরে বলল, ‘গৌতম।’

সাদিক রাণাকে আরেকবার খুঁটিয়ে দেখল। তারপর বলল, ‘ক’দিন থাকবেন এ পারে? কোন প্ল্যান করেছেন?’

রাণা ইতস্তত করে মাথা নাড়ল, ‘না। সেরকম কিছু ভাবিনি…।’

অমল রাণার কথার মাঝখানেই বলে উঠল, ‘আমি এ জন্যই ওকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছিলাম। মানে বুঝতেই পারছেন, বেঁচে তো থাকতে হবেই। কিছু কাজ যদি পাওয়া যেত।’

সাদিক বলল, ‘হইয়া যাইব। কিন্তু ইন্ডিয়া ফিরে আমারে ভুললে চলবে না। মনে রাখতে হবে। কী মিয়াঁ? মনে রাখবেন তো আমারে?’

রাণা হাসার চেষ্টা করল, ‘আপনি এত উপকার করছেন, আমি কী করে আপনাকে ভুলে যাব সাদিকভাই?’

একটা মোটামতো ছেলে কোক নিয়ে এসে টেবিলে রাখল। সাদিক বলল, ‘আপনারা যারা কলকাতার মানুষ, তারা খুব তাড়াতাড়ি মুখ মুছে ফেলেন, বুঝলেন ভাই! এ দেশে এসে আতিথেয়তা নিয়ে যায়, ও দেশে গেলে ভুলে যায়। কতবার হয়েছে এখানে কত আদর করলাম, ও আল্লা, কলকাতায় গিয়ে দেখি আমারে চিনতেই পারে না। ঠিক আছে, ব্যাপার না, আমি ওসব নিয়ে ভাবি না। আপনি রুমানভাইয়ের সঙ্গে আইছেন যখন, আপনি আমারও দোস্তো। আপনার দায়িত্ব আমি নিলাম। রুমানভাই, আপনার দোস্তোকে প্রোজেক্টে নিয়ে নিন। একটু ঘোরাঘুরির কাজ আছে। পারবেন না মিয়াঁ?’

রাণা ঘাড় নাড়ল, ‘হ্যাঁ পারব।’

সাদিক খুশি হল, ‘বাঃ। তাহলে তো ভালোই হল। চিন্তা নেই আর। কী রুমানভাই, আপনিই তো বিশ্বস্ত লোক খুঁজছিলেন, ভালোই হল।’

রাণা বলল, ‘আমাকে কী করতে হবে?’

সাদিক বলল, ‘রুমান ভাই বলে দেবে। তবে মিয়াঁ কাজের মাঝপথে ফিইরা যামু বলে কাঁদলে কিন্তু হইব না। এ কাজে সময় লাগব। আপনি না পারলে আগে থেকে বইলা দিয়েন।’

রাণার পায়ে আলতো করে চিমটি কাটল অমল। রাণা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, ‘না না। আমি থাকবো। কাজ করে তারপরেই না-হয় ফেরার কথা ভাবব।’

সাদিক খুশি হল, ‘বাহ্‌। তাহলে তো খুবই ভালো।’

রাণা কৌতূহলী গলায় বলল, ‘কিন্তু কাজটা কী?’

সাদিক হাসল, ‘সময়ে সব বলব দাদা। এখন আপনার গরম রক্ত। সেটার তো ব্যবস্থা করি আগে। আসগর, শুনছস? শুইনা যা!’

আসগর এসে দাঁড়াল…।

.