৬৫
‘এই দেশগুলোর সমস্যাই হল একনায়কতন্ত্র। কেউ যখন ক্ষমতায় বসে, তখন সে এমনভাবে চলতে শুরু করে, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বলে আর কিছু থাকে না। সবটাই চেয়ারের প্রতি আনুগত্য। এই দেশগুলোতে কাজ করতে গিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হয়৷ তার রাজনৈতিক বিষয়ে সম্যক ধারণা না থাকলে আমরা সমস্যায় পড়ে যাব। সন্ত্রাসবাদী দেশগুলো এই দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সুবিধা নিতে চায় সবসময়।’
মিটিং শেষ হয়ে এসেছিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কথায় সবাই সায় দিল। মন্ত্রী বললেন, ‘ঠিক আছে। আজকের মতো এখানেই আমি মিটিংটা শেষ করছি। তুষার, আপনি প্লিজ থাকবেন। আপনার সঙ্গে আমার কথা আছে।’
তুষার হাসলেন, ‘আমি কলকাতা থেকে ফিরে আপনার জন্যই বসে আছি স্যার।’
কনফারেন্স রুম ফাঁকা হতে বেশিক্ষণ লাগল না। তুষার মন্ত্রীর কাছেই বসে ছিলেন। ঘর পুরোপুরি ফাঁকা হলে মন্ত্রী বললেন, ‘কী আপডেট? পাওয়া গেছে?’
তুষার মাথা নাড়লেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। এই ডিফারেন্ট উইং যেভাবে কাজটা করেছিল, সেটাকে তাড়াতাড়ি বুঝে নিয়ে অপারেশনটা চালাতে হচ্ছে, কিছু গ্যাপ তো আছেই।’
মন্ত্রী বললেন, ‘শেখাওয়াত কী বলছে? ও আমাদের বুঝিয়েছিল বাংলাদেশে আমাদের অনেক বেশি গভীরতার সঙ্গে কাজ করা উচিত। এমন ইন্টেন্সিটি নিয়ে কাজ করল যে নিজেদের এজেন্টই ধরা পড়ে গেল। কী লজ্জার ব্যাপার বলুন তো?’
তুষার বললেন, ‘এই মুহূর্তে আমি কোনও গ্রুপের কথা মাথায় নিচ্ছি না স্যার। শেখাওয়াতের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি।’
মন্ত্রী বললেন, ‘ও সহযোগিতা করছে?’
তুষার মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমার অনেক কিছু জায়গা ক্লিয়ার না। হয়তো আমাকে বলতে চাইছে না। হয়তো আপনিই আমাদের কাউকে বলতে বারণ করেছেন। ওদের উইংটা তো আপনার অর্ডারেই আমাদের থেকে আলাদা হয়েছিল। শেখাওয়াত এমন কিছু কাজ করেছে, যেটা প্রেসে এলে আমরা সমস্যায় পড়তে পারি।’
মন্ত্রী বললেন, ‘তুমি কি আমাকে ইন্ডাইরেক্টলি দোষী বলতে চাইছ?’
তুষার বললেন, ‘আমার এজেন্টরা এতদিন ধরে কাজ করছে স্যার। আমরা কখনো এত বাজেট গ্র্যাান্ট পাইনি যেটা শেখাওয়াত পেয়েছে। ও ঠিক কী বলে আপনাদের কনভিন্স করেছিল? কোনও অ্যাপ্রুভালের ব্যাপার নেই, যাকে খুশি যখন তখন এজেন্সিতে রিক্রুট করে নিচ্ছে, যেখানে ইচ্ছে থাকছে, এত ইন্ডিপেন্ডেন্টলি কাজ করার পারমিশন পেল কোত্থেকে? আমরা তো পাই না স্যার। আমাদের হাজার ঝঞ্ঝাটের মধ্যে বরাবর কাজ করতে হয়েছে৷ কতবার বাজেটে স্যাংশানও পাইনি। এখানে ঠিক কী হচ্ছে যে এরা এত বাজেট নিয়ে চলে গেছে?’
মন্ত্রী ইতস্তত করে বললেন, ‘বেশিদিন তো এটা হয়নি।’
তুষার বললেন, ‘হ্যাঁ, এই তো লাস্ট বছর দুয়েক। শেখাওয়াত ওর মতো করে নেটওয়ার্ক বাড়িয়ে গেছে, অ্যাক্টিভিটি বাড়িয়ে গেছে, আমাদের সঙ্গে কোনরকম কো-অর্ডিনেশন করেনি, যা ইচ্ছে, তাই করেছে। আমি সেটাই বুঝতে চাইছি। ঠিক কীভাবে এসব হয়েছে?’
মন্ত্রী বললেন, ‘ইস্টার্ন কান্ট্রিগুলোতে আই এস আই এর অ্যাক্টিভিটি বেড়েছে৷ শেখাওয়াত আমাকে সেটার প্রমাণ দিয়েছিল। ইন্ডিপেন্ডেন্টলি কাজ করতে চেয়েছিল। তাতে সমস্যা হবার কথা ছিল না।’
তুষার বললেন, ‘অনেক বড় সমস্যা তৈরি হয়ে গেছে স্যার। আমাদের আবার নতুন করে ঘুঁটি সাজাতে হবে। আশা করব, এজেন্ট সুস্থভাবে ফিরবে।’
মন্ত্রী বললেন, ‘আর এজেন্ট কম্প্রোমাইজড হয়ে গেলে?’
তুষার বললেন, ‘আমাদের সব ড্যামেজের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। প্রাইমারিলি আমরা রিস্ক অ্যানালিসিস করছি।’
মন্ত্রী বললেন, ‘কীরকম?’
তুষার বললেন, ‘ধরা যাক একজন লোক বর্ডার পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। তার ইন্টেনশন এ দেশের ভিড়ে মিশে যাওয়া। এ ধরনের লোকের থেকে রিস্ক থাকে। আবার থাকেও না। কিন্তু এই লোকই যখন একটা ভিড় বাসে বা ট্রেনে একটা এক্সপ্লোসিভ জ্যাকেট পরে উঠে পড়বে, তখনই আমাদের সমস্যা শুরু হয়। বাংলাদেশের যেসব জায়গায় এসব মগজ ধোলাইয়ের কাজ হয়, আমাদের এজেন্ট তার প্রাইম সাসপেক্টের কাছে ছিল। তার সম্পর্কে প্রচুর তথ্য শেখাওয়াতকে পাঠিয়েছে। ওদের ফিউচার প্ল্যান কী, তা হয়তো আমাদের এজেন্ট জানে, শেখাওয়াত জানে না। সে প্ল্যান না জানলে কী সমস্যা হতে পারে, আমরা সেটাই অ্যানালাইজ করছি স্যার।’
মন্ত্রী ভ্রু কুঁচকে বললেন, ‘ইন্টেলিজেন্স ফেইলিওর থেকে এজেন্ট ধরা পড়ল?’
তুষার বললেন, ‘দেখছি সেটাও। আপাতত আপনি শেখাওয়াতকে যদি ইন্সট্রাকশন দিয়ে আমাকে রিপোর্ট করতে বলেন, তাহলে ভালো হয়। আমি ওর সঙ্গে দেখা করলেও ও আমায় সব বলেছে বলে আমার মনে হয় না৷ প্লিজ এটা আপনি দেখুন। ন্যাশনাল সিকিউরিটির ব্যাপার, এখানে ইগো জিনিসটা যত কম আসে, তত ভালো। তাই না স্যার?’
মন্ত্রী বললেন, ‘ঠিক। বলে দিচ্ছি৷ সরি মিস্টার রঙ্গনাথন। আপনার সঙ্গে আমার আগে কনসাল্ট করা উচিত ছিল।’
তুষার উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘ঠিক আছে স্যার। আগে ক্রাইসিস কাটুক, পরে দেখা যাবে।’
মন্ত্রী চিন্তিতমুখে চুপ করে বসে রইলেন।
.
৬৬
সাদিক ঢোক গিলছে। ওকে দেখে বোঝা যাচ্ছে, বেশ ভয় পাচ্ছে। খান বলল, ‘কী প্ল্যান আছে এখন মিয়াঁ? এ দেশটাকে আবার পাকিস্তান করে ফেলবে?’
সাদিক হাসার চেষ্টা করল, ‘কী যে বলেন ভাই! আমার অত ক্ষমতা আছে? আমাকে যেভাবে বলা হয়, আমি সেভাবে কাজ করি।’
অমল সাদিকের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। সাদিক সেটা দেখে বলল, ‘ঠিক বলিনি রুমানভাই?’
অমল বলল, ‘গিয়াস কী করছে এখানে? বলবেন? বলে দিলে ঠিক থাকবেন। না বললে আমি আপনার গ্যারান্টি নিতে পারব না।’
সাদিক ঢোক গিলে বলল, ‘আমি কী জানি ভাই? সাকিনার উপর খুব নজর ওর। জরিনার উপরেও। জরিনা তো আমার মাইয়া। ও যদি ওরে চালান কইরা দেয়, তাহলে কী হইত আপনিই বলেন।’
অমল বলল, ‘প্রায় সাড়ে ছ’শো মেয়েকে আরবে পাঠিয়েছেন। তারা কারো মেয়ে ছিল না বলুন?’
মাথুর চোখ কপালে তুললেন, ‘সাড়ে ছ’শো? শিওর?’
অমল মাথুরের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কম হবে না। বেশি হবে। চাইল্ড ট্রাফিকিং দিয়েই শুরু করেছিল।’
সাদিক বলল, ‘রুমানভাই, আপনি একজন পাকিস্তানপন্থী পরিবারের ছেলে হয়ে ইন্ডিয়ার হয়ে কাজ করতাসেন?’
খান হেসে ফেললেন। অমলও হাসল, ‘আপনি একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের হয়ে কাজ করছেন আর আমি করলেই দোষ?’
সাদিক মুখ কালো করে বসে রইল। সাদিকের হোটেলের বেসমেন্টে গাড়ি ঢুকিয়ে দিল জামাল। বেসমেন্ট ফাঁকা। অমল বলল, ‘আপনারা সাদিককে দেখুন। চল রাণা…সরি গৌতমভাই।’
খান বললেন, ‘দুজনে কী করে হবে?’
অমল বলল, ‘আমার মনে হয়, আমি জানি কোথায় ছিল গিয়াস। অধিক সন্ন্যাসী দরকার নেই।’
রুমাল মুড়িয়ে সাদিকের মুখে ঢুকিয়ে অমল বলল, ‘জামাল, গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাও। এখানে সাদিককে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপদ না। অন্য কেউ এলেই একে চিনে ফেলবে। দরকার হলে আমি ডাকব।’
গাড়ি থেকে নেমে গেল অমল। জামাল গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল।
অমল বলল, ‘চলো রাণা।’
দু’জনে লিফটের সামনে দাঁড়াল।
লিফট খুলতে অমল চার নম্বর টিপে বলল, ‘সাদিকের মিটিং রুম। আগেই বোঝা উচিত ছিল আমার।’
রাণা বলল, ‘সিসিটিভি আছে তো?’
অমল বলল, ‘ওই ফ্লোরে নেই। নিশ্চিন্ত থাকো।’
রাণা আশ্বস্ত হল।
চার নম্বর ফ্লোরে পৌঁছে লিফটের দরজা খুলে গেল। হোটেলের ইউনিফর্ম পরে একটা ছেলে ছুটে এল, ‘কী দরকার?’
অমল ছেলেটার কাঁধে ছোট একটা রদ্দা মারল। ছেলেটা মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।
করিডোরের দুদিকে ডানদিক বাঁদিকে দরজা। অমল বলল, ‘ওহ্, মাস্টার কী, এই ছেলেটার পকেটে আছে নাকি দেখো তো!’
রাণা ঝুঁকল। ছেলেটার ডানদিকের পকেটে কিছু নেই। বাঁপকেটে একটা কার্ড খুঁজে পেল। অমলকে দিতে সে প্রথম দরজাটা খুলল।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটা ঘর। পরিপাটি করে বিছানা করা। অমল বাথরুমের দরজা খুলল। নাহ। কিছু নেই। রাণাকে বলল, ‘ওইদিকের দরজাটা দেখো।’
রাণা দরজা খুলল। এই ঘরটাও পরিষ্কার। এভাবে ডানদিক বাঁ দিকে সবক’টা ঘরের দরজা খুলে দেখা শুরু হল। করিডোরের শেষ ঘরে গিয়ে চাবি দেওয়ার দরকার হল না। দরজা ঠেলতেই খুলে গেল। অমল শিস দিয়ে উঠল।
একটা বিরাট স্যুইট রুম। দুটো ছোট ছোট সোফার মাঝে একটা কাচের টেবিল রাখা। টেবিলের উপরে চাপ চাপ রক্ত। পাশের ঘরে দরজা ঠেলতেই দেখা গেল খাটে কোনও চাদর নেই। চাদর মেঝেতে পড়ে আছে।
অমল ঘরে রাখা ওয়ার্ডরোব খুলল। ওয়ার্ডরোব ফাঁকা।
রাণা বলল, ‘কেউ নেই?’
অমল বলল, ‘নাহ্। তুমি বাথরুমটা দেখো তো তাও।’
রাণা বাথরুমে ঢুকল। বিরাট বড় বাথরুম। একদিকে স্নানের জায়গা, সেটা কাচ দিয়ে ঘেরা। রাণা স্নানের জায়গার দরজা ঠেলে ঢুকল। বাথটবে জল উপচে পড়ছে। মেঝেতে রক্ত। সে ঝুঁকে রক্ত দেখতে গিয়ে টের পেল বাথরুমের দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ হয়ে গেল।
সে সঙ্গে সঙ্গে স্নানের জায়গা থেকে বেরিয়ে দরজা খুলতে গেল।
দরজা খুলল না…।
.
৬৭
গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে। স্ট্রিট লাইট খারাপ। আলো জ্বলছে না। জামাল দেখেশুনেই গাড়িটা রেখেছে।
সাদিকের মুখের রুমাল খুলে দেওয়া হয়েছে।
সাদিক খান আর মাথুরের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আপনারা দেখি খুব ভালোই বাংলা বলেন।’
খান সাদিকের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘অবাক হলেন?’
সাদিক বলল, ‘অবাক তো আমার হবার কথা জনাব। ইন্ডিয়ান লোকজন আমারে মুরগি কইরা গেল, আমি তো যত ভাবি, তত অবাক হই।’
মাথুর বললেন, ‘আমরাও অবাক হই, যখন কোনও শান্তশিষ্ট জায়গায় হঠাৎ করে ব্লাস্টের খবর আসে, আপনারাই সেগুলো করান, তখন আমরা অবাক হই। বুঝলেন?’
সাদিক ফিক ফিক করে হাসতে হাসতে বলল, ‘তাহলে আপনাদের অনেক অবাক হওয়া বাকি জনাব। এখনও সেভাবে অবাকই হন নাই।’
মাথুর প্রশ্ন করতে যাচ্ছিলেন, খান সঙ্গে সঙ্গে মাথুরের হাত চেপে ধরে সাদিককে বললেন, ‘চুপ করে বসে থাক। তোর সঙ্গে ভদ্রলোকের মতো ব্যবহার করছি বলে ভাবিস না আমরা ভদ্রলোক। বেশি বক বক করলে তোর কপালে দুঃখ আছে।’
সাদিক খানের দিকে তাকাল, ‘আপনি ভুইলা যান নাকি আপনি কোথায় আছেন? এত তাড়াতাড়ি ভুইলা গেলে হইব?’
একটা গাড়ি এসে দাঁড়াল। সাদিক চোখ ছোট ছোট করে বলল, ‘দুই খানা ইন্ডিয়ান এজেন্ট৷ আমার তো আর চিন্তাই নাই জনাব।’
খান পকেট থেকে রিভলভার বের করে সাদিকের মাথায় ধরলেন, ‘চুপ কর। মাথুর এর মুখে রুমাল দাও। বড্ড কথা বলছে।’
জামাল হঠাৎ গাড়ি স্টার্ট দিল। খান বললেন, ‘কী হল?’
জামাল বলল, ‘এই গাড়িটা কেন দাঁড়িয়ে গেল বুঝছি না। দাঁড়িয়ে থাকব না, একটু এগিয়ে যাই।’
সাদিক হাসতে শুরু করল। তাদের গাড়ি কিছুটা এগোতেই পেছনের গাড়িটা এগোতে শুরু করল। খান পকেট থেকে রুমাল বের করে সাদিকের মুখে গুঁজে দিলেন। মাথুর দড়ি বের করে বলল, ‘যদি এরই গাড়ি হয়, রিস্ক নিয়ে লাভ নেই। হাত বেঁধে দিই।’
সাদিক ছটফট করছিল। খান সপাটে চড় কষালেন, ‘অনেক হয়েছে। এবার আমার মতো করে কাজ হবে।’
মাথুর সাদিকের হাত বেঁধে দিল। খান বললেন, ‘জামাল, কী আপডেট? গাড়িটা আসছে?’
জামাল বলল, ‘না। দেখছি না।’
খান বললেন, ‘আবার দাঁড়িয়ে যাও। ও গাড়ি এলে দেখা যাবে।’
জামাল আবার গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিল।
সাদিকের মুখ রুমাল দিয়ে বন্ধ করা সত্ত্বেও হেসে যাচ্ছে। মাথুর জানলার বাইরে দেখে নিয়ে খানকে তামিল ভাষায় বললেন, ‘কী ব্যাপার? এ এত কনফিডেন্স পাচ্ছে কোত্থেকে?’
খান বললেন, ‘বুঝতে পারছি না। ওরা কোনও আপডেট দিল না। আপাতত আমাদের কিছু করার নেই। একে সামলে রাখতে হবে।’
মাথুর বললেন, ‘বেশিক্ষণ সামলে রাখা যাবে না। এভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাটা সুইসাইডাল হতে পারে। কোনও ঘরে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখতে পারলে ভালো হতো।’
খান ঘড়ি দেখলেন, ‘দশ মিনিট দেখি আর। অমল কোনও আপডেট না দিলে…’
জামাল আবার গাড়ি স্টার্ট দিল। খান বললেন, ‘কী হল?’
জামাল বলল, ‘ওই গাড়িটা।’
খান বললেন, ‘কজন আছে দেখা যাচ্ছে?’
জামাল বলল, ‘ভেতর দেখা যাচ্ছে না।’
খান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বললেন, ‘দাঁড়িয়ে যাও। দেখি কজন আসে।’
মাথুর বললেন, ‘ঠিক। দাঁড়িয়ে যাও।’
জামাল দাঁড়াতেই পিছনের গাড়িটাও দাঁড়িয়ে গেল৷ কেউ এল না। খান বললেন, ‘দেখা যাক আসে নাকি।’
জামাল বলল, ‘রিস্ক হয়ে যাবে স্যার, সাদিকের অনেক লোক।’
খানের ফোন বেজে উঠল। অমল। খান ধরলেন, ‘বলো।’
অমল বলল, ‘হোটেলে ব়্যাবের রেইড হয়েছে। কী করে খবর পেয়েছে জানি না।’
খান বললেন, ‘আমাদের লোক?’
অমল বলল, ‘কোনও আপডেট নেই।’
খান বললেন, ‘কী করব?’
অমল বলল, ‘অপেক্ষা করুন। দেখছি।’
খান বললেন, ‘শিওর?’
অমল বলল, ‘হ্যাঁ।’
ফোন কেটে দিল অমল।
.
৬৮
সাদিকের হোটেলের সামনে তাদের গাড়ি দাঁড়াতে ভিড় হয়ে গেল। নির্মল সেদিকে পাত্তা না দিয়ে হোটেলের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দৌড়ে রিসেপশনে গেল।
রিসেপশনে একজন যুবক বসে আছে। নির্মলকে বাহিনীর সঙ্গে রিসেপশনে ঢুকতে দেখে বলল, ‘ইয়েস স্যার?’
নির্মল প্রবল উত্তেজিত হয়ে ছিল। নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘সাদিক শেখকে ডাকুন।’
রিসেপশনিস্ট থতমত হয়ে বলল, ‘কাকে স্যার?’
নির্মল বলল, ‘হোটেলের ওনারকে ডাকুন।’
রিসেপশনিস্ট বলল, ‘উনি নেই স্যার।’
নির্মল মাথা নাড়ল, ‘ওকে। এটা একটা রেইড। আপনি কাউকে ফোন করবেন না। রজ্জাক, তুমি ওর পাশে বসে থাকো। আমি দেখছি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখি।’
রিসেপশনিস্ট ঘাবড়ে মনিটরের দিকে তাকাল, ‘দেখুন স্যার, এখানে কিছু দেখা যাচ্ছে না।’
স্ক্রিনে করিডোরগুলো দেখা যাচ্ছে। নির্মল দেখল সন্দেহজনক তেমন কিছুই নেই। সে বলল, ‘রুম এন্ট্রি দেখি।’
রিসেপশনিস্ট খাতা দেখাল। নির্মল ধমক দিল, ‘আইডিগুলো দেখান।’
রিসেপশনিস্ট আইডির ফটোকপিগুলো নির্মলের দিকে এগিয়ে দিল।
মিনিট খানেক রেজিস্টার চেক করে নির্মল বুঝল, এন্ট্রিতে কোথাও সমস্যা নেই। কিন্তু রিসেপশনিস্ট অতিরিক্ত ঘেমে যাচ্ছে। সে তীক্ষ্ণ চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কী নাম আপনার?’
রিসেপশনিস্ট বলল, ‘রায়হান।’
নির্মল বলল, ‘রায়হান সাহেব, আপনি যদি কিছু জানেন, তাহলে বলতে পারেন। পরে যদি আমি অন্যভাবে জানতে পারি, আপনার কপালে দুঃখ আছে। আমার মনে হচ্ছে আপনার পেটে অনেক কথা জমে আছে। বলার ইচ্ছে থাকলে, বলে ফেলুন। কোনও সমস্যা নেই। আমি সব শুনে নেব।’
রায়হান ঘাম মুছল। নির্মল বলল, ‘বলুন কী বলবেন।’
রায়হান বলল, ‘আমি নতুন জয়েন করেছি। এক মাস হল।’
নির্মল বলল, ‘ওকে। আর?’
রায়হান চারদিকে দেখে বলল, ‘ফোর্থ ফ্লোরে কোনও ক্যামেরা নেই স্যার।’
নির্মল রজ্জাকের দিকে তাকাল, ‘এখানে থাকো। দেখো এ কোথাও ফোন না করতে পারে। আর রায়হান সাহেব, হোটেলের বাকি স্টাফ কোথায়? কাউকে দেখছি না?’
রায়হান বলল, ‘রিসেপশনে কেউ নেই এখন। সার্ভিস স্টাফরা সার্ভিস রুমেই আছে।’
নির্মল বাহিনীর কয়েকজনকে নিয়ে লিফটে উঠে চার টিপল। ফোর্থ ফ্লোরের দরজা খুলতেই দেখতে পেল মেঝেতে একজন পড়ে আছে। নির্মল নিচু হয়ে পরীক্ষা করে বলল, ‘বেঁচে আছে। ঘরগুলো চেক কর।’
বাহিনীর জওয়ানরা ঘর চেক করতে শুরু করল। কোনও ঘরে কিছু পাওয়া গেল না। শেষ ঘরটার দরজা বন্ধ। নির্মল বলল, ‘রায়হানের কাছে মাস্টার কি আছে। কেউ নিয়ে এসো।’
.
রাণা বাথরুমে আটকে গেছে। কিছুতেই বেরোতে পারছে না। সে জানলার দিকে তাকাল। জানলায় শক্ত কাচ দেওয়া, খোলা সম্ভব না। অনেক চেষ্টা করেও কিছু করা গেল না। সে কি ইঁদুর কলে আটকে গেল?
রাণার জোরে জোরে শ্বাস পড়ছিল। অমল? অমল তাকে আটকে দিল? দরজায় ধাক্কা মারল। খুলল না। তারমানে উস্তাদ ঠিকই বলছিলেন?
ঘাড়ে জলের মতো কিছু একটা পড়ল। রাণা সঙ্গে সঙ্গে সরে উপরের দিকে তাকাল।
বাথরুমের লফট থেকে রক্ত পড়ছে!
রাণা তড়িঘড়ি চারদিকে দেখল। স্নানের জায়গায় একটা টুল আছে। সেটাকেই নিয়ে টুলের উপর উঠে লফটের দরজা খুলে তার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেল। লফট রক্তে ভেসে যাচ্ছে। সম্পূর্ণ নগ্ন রুমাকে গুটিসুটি করে ওখানেই রাখা হয়েছে। রাণা চিৎকার করল, ‘একী!’
তখনই বাথরুমের দরজা খুলে গেল। অমল বিরক্ত গলায় বলল, ‘তুমি বাথরুমে কী করছ? ব়্যাব ঢুকে গেছে। চলো।’
রাণা অবিশ্বাসী চোখে অমলের দিকে তাকাল। পরমুহূর্তে নিজেকে সামলে বলল, ‘আমি আটকে পড়ে গেছিলাম। দরজা ধাক্কাচ্ছি, আপনি শুনতে পাননি?’
অমল বলল, ‘আমি জানলা দিয়ে ব়্যাবের গাড়ি আসতে দেখে ওদের ফোন করতে গিয়ে দেখি টাওয়ার নেই। ঘর থেকে বেরিয়ে করিডোরে যেতে হয়েছিল। এর মধ্যে তুমি বাথরুমে আটকে গেছিলে। এই লকটাই ঠিক নেই যা বুঝছি। লকে কোনও সমস্যা আছে। কিন্তু এখানে রক্ত পড়ছে কী করে?’
রাণা বলল, ‘টুলে উঠে দেখুন।’
অমল সঙ্গে সঙ্গে টুলে উঠে রুমাকে দেখে বলল, ‘মাই গড। একটা চাদর নিয়ে আসো শিগগিরি। জানোয়ারটা ওকে এখানে রেখে গেছে! আমার আগেই বোঝা উচিত ছিল।’
রাণা দৌড়ে চাদর নিয়ে এল। সন্তর্পণে রাণা আর অমল মিলে রুমাকে নামিয়ে বিছানায় শোয়াল। অমল নাড়ি দেখে বলল, ‘বেড়ালের প্রাণ। এখনও বেঁচে আছে। চলো। হাসপাতালে নিয়ে যাই। সাকিনা। সাকিনা।’
অমল রুমাকে ঠেলল। রুমার চোখ মুখ ফুলে গেছে। চোখ মুখ থেকে রক্ত পড়ছে। অমল বলল, ‘ভয়াবহ অবস্থা। ভয়াবহ। গিয়াস মানুষ না, জানোয়ারেরও অধম। চলো। এখানে সময় নষ্ট করা যাবে না।’
রাণা বলল, ‘ব়্যাব?’
অমল বলল, ‘কিছু করার নেই। সারেন্ডার করতে হবে। সাকিনাকে বাঁচানোটা আসল। বাকি পরে দেখা যাবে।’
অমল পকেট থেকে রুমাল বের করল। রাণার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘গুলি চলতে পারে। তুমি উত্তর দিতে যেও না। আমি সাদা পতাকা দেখানোর ব্যবস্থা করি।’
রাণা একটু থমকে বলল, ‘বাংলাদেশের জেলে পচব?’
অমল বলল, ‘কিছু করার নেই। আগে মেয়েটার প্রাণ। পরে বাকি সব।’
অমল সন্তর্পণে দরজা খুলে সাদা রুমাল দেখাল।
নির্মল অমলের হাতে রুমাল দেখা মাত্র বাহিনীর প্রতি চেঁচিয়ে বলল, ‘দাঁড়াও, দেখি কে আছে ওখানে। বেরিয়ে আসুন।’
অমল বেরিয়ে এসে বলল, ‘আগে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন। পরে বলছি।’
নির্মল চিৎকার করল, ‘সেটা আমরা ঠিক করব। আপনি ডিরেক্ট করবেন না। হাঁটু গেড়ে বসুন।’
অমল দ্বিরুক্তি না করে হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ল…
.
৬৯
তুষার চুপ করে তার চেম্বারে বসে ছিলেন। খান আর মাথুরকে একবার ফোন করতে গিয়েও করলেন না। সাধারণত কেউ কোনও অপারেশনে গেলে আগে তারা ফোন করে রিপোর্ট না করলে তুষার নিজে থেকে ফোন করেন না।
পীযূষ চেম্বারে নক করলেন। তুষার বললেন, ‘এস।’
পীযূষ ঘরে ঢুকে বললেন, ‘স্যার, আমি একটা ফাইল পেয়েছি। কনফিডেন্সিয়াল ফাইল। আমাদের অ্যাক্সেস নেই। একমাত্র আপনারই অ্যাক্সেস আছে।’
তুষার বললেন, ‘কার বিষয়ে?’
পীযূষ বললেন, ‘বালুচিস্তান রিলেটেড। অনিল শেখাওয়াত তখন করাচীতে ছিল।’
তুষার নড়ে চড়ে বসলেন, ‘আর অমলও? টাইমলাইন ম্যাচ করেছে?’
পীযূষ মাথা নাড়লেন, ‘হ্যাঁ স্যার।’
তুষার বললেন, ‘কোথায় সে ফাইল?’
পীযূষ বললেন, ‘আর্কাইভ রুমে। যাবেন?’
তুষার বললেন, ‘চলো চলো।’
ব্যস্ত হয়ে আর্কাইভ রুমে পীযূষের সঙ্গে রওনা দিলেন তুষার। তুষারের আলাদা অ্যাক্সেস রুম আছে। তুষারের বায়োমেট্রিক আইডেন্টিটি ছাড়া সে রুমের দরজা খুলবে না। ঘরে ঢোকার আগে তুষার বললেন, ‘ইনডেক্স মিলেছে তো? ফাইল নাম্বার কত?’
পীযূষ বললেন, ‘আমি ওইটুকুই মিলিয়েছি। ফাইল নাম্বার সেভেন থ্রি ওয়ান স্যার।’
তুষার বললেন, ‘ওকে।’
পীযূষ চলে গেলেন। তুষার ফাইলটা বের করে টেবিলে রাখলেন। গোটা ফাইলটাই বাইনারি কোডে লেখা। শুধু ১ আর ০ ব্যবহার করে। তুষারের এরকম ফাইল পড়ার অভ্যাস আছে। বেশ কিছুক্ষণ ফাইলটা ওলটপালট করে দেখে চুপ করে চেয়ারে বসে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর ফোনটা বের করে অনিল শেখাওয়াতকে ফোন করলেন।
শেখাওয়াত প্রথমে ফোন ধরলেন না। তুষার আবার ফোন করলেন।
এবার ধরলেন, ‘বলো।’
তুষার বললেন, ‘বাজে কথা বলব না। সরাসরি কাজের কথাতেই আসি। তুমি অমলকে এজেন্সি থেকে বের করে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলে। সেই এজেন্টকে দিল্লি তোমার সুপারিশ না মেনে বাংলাদেশ স্লিপিং এজেন্ট হিসেবে পাঠিয়েছিল। তোমার রিপোর্ট অনুযায়ী অমল সিনিয়রের কথা শোনেনি, বালোচ নেতাদের সঙ্গে একা একা গিয়ে দেখা করে এসেছিল, প্রোটোকল ফলো করেনি। ইনসাবোরডিনেশনের মতো গুরুতর বিষয়ে তুমি অভিযোগ করেছিলে। সে ছেলেকে কেন তুমি বাংলাদেশে সবার আগে অ্যাক্টিভেট করলে?’
শেখাওয়াত কয়েকসেকেন্ড চুপ করে থেকে বললেন, ‘আমার মনে হয়েছিল ওকে দিয়ে কাজ হবে।’
তুষার বললেন, ‘হয়েছে?’
শেখাওয়াত বললেন, ‘হ্যাঁ, ও ঠিক করেই কাজ করছিল।’
তুষার বললেন, ‘ঠিক কী কারণে ওর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছিলে তুমি করাচীর সময়ে?’
শেখাওয়াত বললেন, ‘সেসব তো বলেছিলাম রিপোর্টেই। আমার কথা শুনত না।’
তুষার বললেন, ‘আমি যদি বলি ব্যাপারটা সেটা না। অমল তখন নতুন ছিল, অতিরিক্ত উত্তেজনার বশে বালোচ নেতাদের একটা অ্যাটাকের প্ল্যান তোমাকে বাইপাস করে ও দিল্লিতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। তুমি চেয়েছিলে পাকিস্তান আর্মির উপরে বালোচ অ্যাটাক হোক। কিন্তু অমল বুঝেছিল ওই অ্যাটাকটা হলে আমাদের সঙ্গে বালোচ নেতাদের সমঝোতা প্রকাশ্যে চলে আসবে। ও সেই খবরটাই দিল্লিতে জানিয়ে ব্যাপারটা থেকে তোমাকে নিরস্ত করেছিল। এই ঘটনার পর থেকেই তুমি অমলের উপরে রেগে গেছিলে।’
শেখাওয়াত বললেন, ‘তুমি কী করতে? তুমি একটা ডিসিশন নিয়েছ, তোমার সাবরডিনেট সেটা তোমাকে বাইপাস করে উপরে জানিয়ে দিলে ভালো লাগত তোমার?’
তুষার হাসলেন, ‘এখানে ভালো লাগালাগির কিছু নেই তো। তুমি এ ঘটনার পর অমলকে পাকিস্তান থেকে তাড়িয়েছিলে। নেহাত দিল্লির কাছে অমলের ভালো ইম্প্রেশন ছিল বলে ওকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তুমি অমলের উপর সেই তখন থেকেই রেগে ছিলে। এতদিন পরে এমন কিছু ম্যাজিক হয়নি যাতে তোমার রাগ কমে। সেটা কমার কোনও কারণ আমি দেখতে পাচ্ছি না। তুমি এই রাণা ছেলেটাকে পাঠিয়েছ অমলকে সরাতে। তাই না?’
শেখাওয়াত চিৎকার করতে শুরু করলেন, ‘হাউ ডেয়ার ইউ! তোমার এত সাহস তুমি এত সিরিয়াস একটা ব্যাপারে আমাকে অ্যাকিউজ করে দিলে? প্রমাণ দেখাতে পারবে?’
তুষার বললেন, ‘প্রমাণ তো পরে। আপাতত আমাদের ফিল্ড এজেন্টদের কিছু হলে তোমার কপালে অশেষ দুঃখ আছে। তুমি যে ভাবেই তোমার কাজের জন্য গ্র্যান্ট নিয়ে থাকো, আমি কিন্তু ঠিক বের করব তুমি কেন রাণাকে পাঠিয়েছ। এবং খুব সম্ভবত কাজটা হবার পর তোমার রাণাকেও সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। তোমার যদি এখনও কিছু বলার থাকে, বলতে পারো। এরপরে কিন্তু আমি বুঝব, এখানে অ্যাকিউজিশনের কোনও ব্যাপার নেই। যদি কিছু থাকে, বলে ফেলো।’
ফোন কেটে দিলেন শেখাওয়াত। তুষার শান্তমুখে আর্কাইভ রুমে বসে রইলেন।
মিনিটপাঁচেক পরে মেসেজ এল। তুষার দেখলেন শেখাওয়াত লিখে পাঠিয়েছেন, ‘আই ক্যানট কনট্যাক্ট রাণা নাও। টেল দেম টু স্টপ হিম।’
তুষার মেসেজটা দেখে হাসলেন। অঙ্কের উত্তর মেলার পর যে হাসি পায়, এ হাসিটা তেমনই…।
.
