৫৫
দুপুর তিনটে। একটা এস ইউ ভি গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে হাইওয়ের উপরে। গাড়ি থেকে কেউ নামেনি। যেন অপেক্ষা করছে গাড়িটা। অপেক্ষাটা সফলও হল। একটা সেডান এসে দাঁড়াল এস ইউ ভির পেছনে।
সেডান থেকে সাদিক নেমে এস ইউ ভির দরজার কাছে দাঁড়াতেই দরজা খুলে গেল। সাদিক গাড়িতে উঠে বসে দরজা বন্ধ করল। গিয়াস বসে আছে গাড়িতে। সাদিককে দেখে ঘড়ি দেখল, ‘পনেরো মিনিট লেট। সময়ের দাম দেওয়া উচিত।’
সাদিক বলল, ‘জ্যাম। ঢাকার জ্যাম। বোঝেন তো কী সমস্যা?’
গিয়াস ভর্ৎসনার চোখে সাদিকের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘যাই হোক, মেয়েটা কিছুই বলছে না। ওকে হেডকোয়ার্টারে পাঠানোর অর্ডার এসেছে।’
সাদিকের মুখ ছাইবর্ণ হয়ে গেল, ‘সে কী? আমি তো কিছু জানি না।’
গিয়াস বলল, ‘সব কথা তোমাকে জানানোর কথা তো নয়। এটা নিয়ে এত ভাবনারই বা কী আছে?’
সাদিক মাথা নিচু করে বলল, ‘জনাব, আমি জানি মেয়েটা কিছু করেনি। এ মেয়ের অত ক্ষমতা নেই।’
গিয়াস বলল, ‘সেটা আমরা বুঝব। আমাদের বুঝতে দাও।’
সাদিক বলল, ‘আপনারা যা ভালো বোঝেন। আমাকে কী করতে হবে?’
গিয়াস বলল, ‘তোমার কাছে আরেকটা মেয়ে আছে। জরিনা বলে। ওকেও আমি নিয়ে যেতে চাই।’
সাদিক চমকে উঠল, ‘কেন জনাব? জরিনা কী করল?’
গিয়াস বলল, ‘ওর কোনও ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। ঘুমের ঘোরে সাকিনা অনেকবার ওর নাম নিয়েছে।’
সাদিক বলল, ‘যন্ত্রণা থেকে নিয়েছে জনাব। জরিনাকে আমি জন্ম থেকে চিনি। ওর কোনওভাবেই কোনও কিছুতে থাকার কথা না। ঘর থেকে ও মেয়ে বেরোয় না।’
গিয়াস বলল, ‘কী রকম চেনো তুমি ওকে?’
সাদিক বলল, ‘জরিনার মা আমার ওখানেই ছিল। ওখানেই ওর জন্ম। ও কিছুতেই কোনও ব্যাপারে জড়িত না। সাকিনাও না। আপনি ওকেও অকারণে নিয়ে যাচ্ছেন।’
গিয়াস বলল, ‘সেটা আমি ঠিক করব। হেডকোয়ার্টার ঠিক করবে। তুমি না। জরিনাকে রাত আটটার মধ্যে এখানে নিয়ে আসার ব্যবস্থা কর। ওকেও ইন্টারোগেট করার দরকার আছে। হতে পারে এই সাকিনা জরিনার মাধ্যমেই র-এর এজেন্টের সঙ্গে কন্ট্যাক্ট করত।’
সাদিক কয়েক সেকেন্ড গিয়াসের দিকে চেয়ে থেকে বলল, ‘দেখছি কী করা যায়।’
গিয়াস রেগে গেল, ‘দেখছ মানে? এখানে দেখার কী আছে? আমি বলছি, তোমাকে সেটাই শুনতে হবে। আমার কথার অমান্য করার অধিকার তোমায় দেওয়া হয়নি।’
সাদিক বলল, ‘মেয়েটাকে আপনার কাছে রেখে দিলেন। অকথ্য অত্যাচার করলেন। ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করালেন। কিছুই পেলেন না। অকারণে টেনে টেনে নিয়ে যাবেন। তারপর জরিনাকেও নিয়ে যেতে চাইছেন। এভাবে কি কিছু করা যায়? আপনি আপনার ব্যর্থতা ঢাকতে এই মেয়েগুলোকে নিয়ে গিয়ে কষ্ট দিতে চাইছেন কেন?’
গিয়াস বিস্মিত হয়ে সাদিকের দিকে তাকাল, ‘আরে? তুমি আমার সঙ্গে তর্ক করছ? তোমার এত সাহস? তুমি জানো আমি কে?’
সাদিক বলল, ‘আপনি যখন এখানে আছেন, তখন আপনারও জানা উচিত আমি কে? জানেন আশা করি?’
গিয়াস থতমত খেয়ে গেল, ‘তুমি কিন্তু প্রসিডিওর মানছ না। এটা কথা ছিল না। কথা ছিল আমি যা যা বলব, যা যা চাইব, তা তোমাকেই সাপ্লাই করতে হবে। তুমি এখন বেঁকে বসছ, সমস্যাটা কী? জরিনাকে দিতে তোমার কী সমস্যা?’
সাদিক বলল, ‘শুধু জরিনা কেন, সাকিনাকে দিতেও আমার সমস্যা আছে। আপনি ওকে আমার কাছে হ্যান্ড ওভার করে দিন।’
গিয়াস বড় বড় চোখ করে সাদিকের দিকে তাকাল।
গিয়াস বলল, ‘কী হয়েছে তোমার?’
সাদিক বলল, ‘কিছু হয়নি। তবে কুড়িটা ছেলেকে বর্ডার পার করতে হলে আপনার আমাকে প্রয়োজন। সেটা ভুলে যাবেন না। অকারণে এসব মেয়েদের ট্যানাহ্যাচড়া করলে ফল ভালো হবে না। আমি দরকার হলে ইসলামাবাদেও কথা বলব।’
গিয়াস বলল, ‘ওকে। জরিনাকে লাগবে না। কিন্তু ডোন্ট টক অ্যাবাউট সাকিনা। আমার গাট ফিলিং বলছে ও অনেক গভীর জলের মাছ।’
সাদিক বলল, ‘আমার সাকিনাকে লাগবে। ওকে আমি নিয়ে যেতে দেব না।’
গিয়াস ফোন ঘাঁটতে শুরু করল, ‘তুমি এখন যাও। আমরা বরং পরে কথা বলব, কেমন?’
সাদিক বলল, ‘আপনি ঢাকা ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আমি জানি, সাকিনা আপনার সঙ্গে আছে। কোথায় আছে?’
গিয়াস বলল, ‘নেই তো।’
সাদিক পকেট থেকে রিভলভার বের করে গিয়াসের মাথায় তাক করল, ‘ডিকি খোল।’
গিয়াস রাগল না। ড্রাইভারকে বলল, ‘ওকে ডিকি খুলে দেখাও।’
ড্রাইভার গাড়ি থেকে নেমে ডিকি খুলল। সাদিকও নামল। ডিকি ফাঁকা। সাদিক গাড়ির দরজা খুলে রাগী গলায় বলল, ‘কোথায় সাকিনা?’
গিয়াস হাসি হাসি মুখে বলল, ‘বাই। পরে কথা হবে।’
সাদিক বলল, ‘বাইরে আয়। গাড়ির বাইরে আয়।’
গিয়াস মুখে চুক চুক শব্দ করে বলল, ‘একজন বেশ্যার জন্য এত প্রেম তোমায় মানায় না সাদিক। তোমার জন্য ভালো মেয়ে পাঠিয়ে দেব। দরজা বন্ধ কর। দেরি হলে মৌলানাকে আমি উত্তর দেব না। তুমি দেবে।’
মৌলানা শব্দটায় যেন সাদিকের মুখে নুন পড়ল। সে গাড়ির দরজা বন্ধ করে দিল। গিয়াসের গাড়িটা বেরিয়ে গেল।
সাদিক পকেট থেকে ফোন বের করল। কয়েকটা রিং হতে জরিনা ধরল, ‘জি সাহেব। কিছু বলবেন?’
সাদিক বলল, ‘না। কিছু বলার নাই।’
জরিনা বলল, ‘তাহলে ফোন দিলেন কেন?’
সাদিক বলল, ‘কোনও কারণ নাই। তুই ফোন রাখ।’
জরিনা বলল, ‘জি।’
সাদিক বলল, ‘রুমানভাই, আপনি আমার লগে এখন দেখা করতে পারবেন?’
.
৫৬
‘সাদিক ডাকছে।’
অমল ফোন রেখে বলল।
খান বললেন, ‘ঠিক কী রকম পরিস্থিতি হল যে তোমাকে ডাকতে হচ্ছে?’
অমল বলল, ‘বুঝতে পারছি না। সাদিক গিয়াসকে পারসোনালি ডিল করে। সেখানে আমাদের সবার প্রবেশ নিষেধ। আমি জানতেও পারি না গিয়াস ঠিক কী করছে বাংলাদেশে এসে। আন্দাজ করার চেষ্টা করি শুধু। এই ফোনটা গিয়াসের ব্যাপারে নাকি তাও জানি না।’
খান মাথুরের দিকে তাকালেন। মাথুর বললেন, ‘ডাকছে যখন, তখন যাওয়াই ভালো। কী বলো?’
অমল বলল, ‘জানি না। কভার এক্সপোজ হয়ে গেলে অনেক সময় সিচুয়েশন ক্রিয়েট করে মেরেও দিতে পারে। অবশ্য আমি ঠিক করেই এসেছিলাম সাদিকের কাছে যাব। আমাদের এজেন্টের জীবনের ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। সাদিক ছাড়া ওর কাছে যাওয়াও যাবে না।’
খান বললেন, ‘তাহলে যাও। রাণাও যাও অমলের সঙ্গে।’
অমল মাথা নাড়ল, ‘না, থাক। একসঙ্গে দুটো উইকেট পড়লে কী করে হবে? রাণাকে দরকার হলে বরং তখন ডেকে নেওয়া যাবে।’
খান বললেন, ‘আমরা ঠিক কী ভাবে তোমাকে হেল্প করতে পারব?’
অমল বলল, ‘এই মুহূর্তে আমাকে কেউ হেল্প করতে পারবে না।’
খান বললেন, ‘তোমাকে পাঠিয়ে আমরা এখানে বসে বসে কি সিনেমা দেখব? সেটা তো সম্ভব না। আমরা একটা গাড়ি নিয়ে যাই, দূরে অপেক্ষা করি। তুমি সাদিকের সঙ্গে ডিল করো। কী হবে, পরে দেখা যাবে।’
অমল বলল, ‘ঠিক আছে। কী বলে দেখা যাক।’
মাথুর বলল, ‘গাড়ির ব্যবস্থা?’
অমল বলল, ‘করছি।’
একটা নম্বরে ফোন করল অমল। ফোন রেখে বলল, ‘চলুন, বেরোন যাক। গাড়ি আসছে পার্কের সামনে। তার আগে চারজন প্রত্যেকের সঙ্গে একটা দূরত্ব রেখে এখান থেকে বেরোব। আমি বেরিয়ে ফুটপাথের উল্টো দিকে যাচ্ছি। ঠিক দু’মিনিট গ্যাপে একজন করে বেরোবেন।’
খান বললেন, ‘ফাইন।’
অমলের প্ল্যান অনুযায়ী সবাই এক একজন করে বেরিয়ে রাস্তার অপর প্রান্তে গিয়ে অমলের পেছন পেছন হাঁটতে শুরু করল।
একটা গাড়ি এসে দাঁড়াল পার্কের গেটের সামনে। অমল গাড়ির সামনের সিটে গিয়ে বসল। একজন একজন করে তিনজনে গাড়ির পেছনের সিটে বসল। গাড়ির ড্রাইভারকে রাণা চিনতে পারল। মাঝরাতে উঠে অমল এর সঙ্গেই দেখা করেছিল।
রাণার মধ্যে দ্বিধা তৈরি হতে শুরু করল। এই লোকটা কে? গিয়াসের লোক নয়তো? অমলকে কেন উস্তাদ মারতে বলেছিল? গিয়াসের লোক যদি এই দুজন লোককে ধরে ফেলে তাহলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। অমলকে অবিশ্বাস করার মতো এখনও কিছু হয়নি কিন্তু হঠাৎ এই ড্রাইভারকে দেখার পর থেকে তার অস্বস্তি হচ্ছে।
গাড়ি চলতে শুরু করেছে। অমল মাথা ঘুরিয়ে বলল, ‘ও জামাল। সাদিকের সঙ্গে প্রথম দেখা করতে ওই আমাকে সাহায্য করেছিল। সাদিকের বাড়ির উপর নজর রাখার জন্য ওই লোক রেখেছে।’
খান আর মাথুর একসঙ্গে জামালকে সালাম জানালেন। জামাল প্রত্যুত্তরে সালাম জানিয়ে বলল, ‘সাদিক খানিকটা দিশেহারা হয়ে গেছে যা বুঝতে পারছি। সকাল থেকে অনেকবার বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। শেষবার বেরোনর পর ফেরেনি। আপনাকে বাড়িতে ডেকেছে মানে বাড়িতে ফিরছে।’
অমল বলল, ‘হ্যাঁ। তাই হবে। ও বাইরে বেরিয়ে আমাকে ফোন করেছে, তার মানে দাঁড়ায় ও গিয়াসের সঙ্গে মিট করেছে। সাকিনা যদি আমার কভার এক্সপোজ করে দেয়, আর গিয়াস যদি সেটা সাদিককে বলে থাকে, তাহলে আমার আজ শেষ দিন হওয়া উচিত।’
কথাটা বলে অমল হেসে ফেলল।
রাণা অবাক হল। অমলের ভয় একবারেই নেই। কেমন স্বাভাবিকভাবে কথাটা বলছে।
খান বললেন, ‘এরকম সিচুয়েশনে আমরা এরকম মিট আপ অ্যাভয়েড করতে বলি…’
খানের কথা শেষ করতে দিল না অমল, ‘একবারেই না। এই চান্স আমরা কিছুতেই নিতে পারি না।’
মাথুর বিষণ্ণ গলায় বললেন, ‘হোয়াট আ সিচুয়েশন।’
ওয়াকিটকি বেজে উঠল জামালের। ও-প্রান্ত থেকে জড়ানো গলায় কী বলল তার কিছুই শোনা গেল না, তবে জামাল বলল, ‘সাদিক বাড়িতে ঢুকেছে।’
রাণা অমলের দিকে তাকাল। অমল কেমন ভাবলেশহীন হয়ে বসে আছে।
ওর মাথায় অন্য কিছু ঘুরছে না তো? সে সন্দেহ করতে না চাইলেও মনে সন্দেহ আসছে।
.
৫৭
কলকাতা অফিস। সন্ধে সাড়ে ছ’টা।
বৃষ্টি হচ্ছে। জানলার বাইরে কিছুক্ষণ বৃষ্টি দেখে তুষার তার ডায়েরিটা টেনে নিলেন।
পেন দিয়ে লিখলেন,
‘শেখাওয়াত।’ ‘স্লিপার সেল বাংলাদেশ…কেন?’ ‘কন্ট্রাক্ট কিলার ইন এজেন্সি- কেন?’
ভ্রু কুঁচকে কয়েক সেকেন্ড লেখাগুলোর দিকে তাকিয়ে থেকে ফোন বের করে পীযূষকে ফোন করলেন। পীযূষ ফোন ধরতেই বললেন, ‘তেরো-চোদ্দ বছর আগে এজেন্ট ট্রেনিং চিফ কে ছিল একবার চেক করে বল তো। আমি জানি কে ছিল, আরেকবার ক্রস চেক করতে হবে।’
পীযূষ বললেন, ‘দু’মিনিট স্যার।’
তুষার বললেন, ‘হ্যাঁ। ধরে আছি।’
পীযূষ দু’মিনিট নিলেন না। এক মিনিটের মাথায় বললেন, ‘শেখাওয়াত ছিলেন স্যার।’
তুষার বললেন, ‘ওই সময় ওর আণ্ডারে অমল ছিল?’
পীযূষ ত্রিশ সেকেন্ড সময় নিলেন এবার, দেখে বললেন, ‘হ্যাঁ স্যার ছিল।’
তুষার বললেন, ‘ওকে। রাখো এখন।’
ফোন কেটে তুষার কয়েক সেকেন্ড চুপ করে বসে থেকে আরেকটা নাম্বার ডায়াল করলেন। রিং হতেই ও-প্রান্ত থেকে একজন বয়স্ক মানুষের কণ্ঠস্বর ভেসে এল, ‘তুষার। আমি কি ঠিক দেখছি? এত দিন পরে বুড়ো মানুষটার সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছে হল তোমার?’
তুষার হাসলেন, ‘কেমন আছেন স্যার? অবসর জীবন কেমন কাটছে? আই এস আই এখন আর জ্বালাতন করছে না তো?’
সিং বললেন, ‘নাহ্। ওরা এখন তোমার মাথার চুল শেষ করবে। আমার না। আমার তো ওদের চুপ করে থাকাটাই ভয় লাগে বরাবর। যখনই দেখি কিছু হচ্ছে না, ভয় লাগতে থাকে যে আবার কোনও প্ল্যান করছে নাকি। কমপ্লিট ডিসগ্রেস টু হিউম্যানিটি যদি কিছু হয়ে থাকে, তা হল এই দেশটা। বাদ দাও। এসব কথা বললেই আমার প্রেশার বেড়ে যায়। নিজের প্রেশার অকারণ বাড়িয়ে লাভ নেই। কেন ফোন করেছিলে বলো।’
তুষার বললেন, ‘স্যার তেরো-চোদ্দ বছর আগের একটা ব্যাপারের জন্য ফোন করেছি। আমি তখন ইরানে ছিলাম বলে এখনও আমার ঘটনাটা অত স্পষ্ট করে মনে নেই। আপনার শেখাওয়াতকে মনে আছে?’
সিং বললেন, ‘অনিল শেখাওয়াত?’
তুষার বললেন, ‘হ্যাঁ স্যার।’
সিং বললেন, ‘কেন মনে থাকবে না? এক্সট্রিমিস্ট তো বরাবরই। ওর ধারণা গোটা পৃথিবীটা ওকে ঘিরেই ঘুরছে। আজব টাইপের ছেলে। আমাকে বলত স্যার আমরা কতগুলো শিক্ষিত মেয়েকে সেক্স ওয়ার্কার বানিয়ে পাকিস্তানে ছেড়ে দিতে পারি। বেস্ট রেজাল্ট আসবে। আমি ওকে অনেকবার বুঝিয়েছিলাম, এসব আমাদের ওয়ার্ক এথিকসের বিরুদ্ধে। কিন্তু মনে হয়নি সে কথাগুলো ও কোনভাবে কানে নিয়েছিল বলে।’
তুষার বললেন, ‘নেয়নি। এবং শেখাওয়াত একটা উইঙ এর চার্জেও আছে এখন।’
সিং বিস্মিত গলায় বললেন, ‘সে কী? আজে বাজে কিছু করে বসে আছে নাকি?’
তুষার বললেন, ‘সেসবই বুঝতে চেষ্টা করে যাচ্ছি স্যার। আপাতত আমি যেটা জানতে চাইছি, সেটা হল শেখাওয়াত থাকাকালীন আমরা অমল বলে একজন বাঙালি ছেলেকে পাকিস্তানে ইনফিল্ট্রেট করেছিলাম। সে ছেলেটাকে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। আমাদের বলা হয়েছিল অমলকে ইউজ করা যাবে না। অমলের ফাইলের অ্যাক্সেস অবধি আমাদের দেওয়া হতো না একটা সময়ে। অমলকে পাকিস্তান থেকে যে সরানো হয়েছিল, তার কারণটা কী ছিল?’
সিং বললেন, ‘অমল? নামটা চেনা লাগছে। এক বছর পাকিস্তানে ছিল?’
তুষার বললেন, ‘হ্যাঁ স্যার।’
সিং ইতস্তত করে বললেন, ‘খুব ইম্পরট্যান্ট ম্যাটার কী? বলাটা স্কিপ করা যাবে না?’
তুষার বললেন, ‘বললে ভালো হয় স্যার। সিচুয়েশন ডিমান্ডটাই এমন এখন।’
সিং বললেন, ‘ওকে। তাহলে বলছি। করাচীতে শেখাওয়াত অমলের হ্যান্ডলার ছিল। কিছু হয়ে থাকবে ওদের দুজনের মধ্যে। শেখাওয়াত রিপোর্ট করেছিল, অমল কথা শুনছে না, নিজের মতো করে চলাফেরা করছে। আমি ওর রেকমেন্ডেশনেই অমলকে বাংলাদেশে স্লিপার সেল থাকার নাম করে ট্রান্সফার করে দিই। ঠিক কী কী কারণ দেখিয়েছিল সেটা জানতে চেও না, সেটা বলব না।’
তুষার বললেন, ‘ঠিক আছে স্যার, এটুকু জানলেই হবে। থ্যাঙ্ক ইউ স্যার। গুড নাইট।’
ফোন কেটে তুষার ভ্রু কুঁচকে বসে রইলেন। হিসেবগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে…।
.
৫৮
‘সাকিনাকে যেভাবে এখানে কাজে লাগানো হল, তুমি সাপোর্ট করেছিলে?’ খান অমলকে জিগ্যেস করলেন। খান অমলকে শুরুর দিকে আপনি বললেও পরে তুমি করে বলছেন।
খানের আচমকা প্রশ্ন শুনে অমল ঘাবড়াল না। বরং সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল, ‘আমি কোডের চাকর। আমি তো এখানে একরকম রেস্ট করছিলাম। কোনও কিছুতেই জড়িত ছিলাম না। হঠাৎ করে আমাকে উস্তাদ যোগাযোগ করলেন। সাকিনার ব্যাপারে জানালেন। ওর সলিড কভার বানাতে হল। আমি প্রশ্ন করিনি। তবে এখন সময় পাল্টাচ্ছে। এক একটা এজেন্সি এক একরকম ভাবে তার অ্যাসেটদের কাজে লাগাচ্ছে। অবাক হলেও একবারে যে আকাশ থেকে পড়েছি, তা নয়। আই এস আই বেশ কয়েকটা হানি ট্র্যাপ ইউজ করেছে আমাদের লোকেদের উপর। সেটাও মাথায় ছিল।’
খান ঘাড় নাড়লেন, ‘ঠিকই। আমাদের উপায় থাকে না।’
জামালের গাড়ি এসে দাঁড়াল সাদিকের বাড়ির সামনে। অমল জোরে শ্বাস ছেড়ে বলল, ‘ঠিক আছে। জামাল, তুমি ওদের নিরাপদে রাখবে। আমি যাচ্ছি।’
রাণা মরিয়া হয়ে বলে উঠল, ‘আমি যাব। আমি গাড়িতে বসে থাকব না।’
অমল বিরক্ত হল, ‘জেদ করছ কেন? তুমি তো বুঝতে পারছ কতটা ঝুঁকি আছে?’
মাথুর অবাক হয়ে বললেন, ‘সেটাই তো। রাণার কী হল আবার?’
রাণা বলল, ‘আমার অস্বস্তি হচ্ছে। আমি এভাবে বসে থাকতে পারব না।’
অমল বলল, ‘থাকতে হবে। জেদ কোরো না।’
রাণা অমলের দিকে তাকাল। সে একবার ভাবছে খান আর মাথুরকে বলে দেবে সবটা। পরক্ষণে তার মনে হচ্ছে হতে পারে অমল সত্যিই কিছু জানে না। কিন্তু দুরকম ভাবনার একটাই ফলাফল আসছে। সে গাড়িতে বসে থাকতে পারবে না।
রাণা বলল, ‘নিয়ে চলুন। আপনাকে কিছু করতে গেলে একটা বাধা তো দেওয়া যাবে। এমনি এমনি উড়িয়ে দেবে নাকি?’
অমল বলল, ‘ওদের সবার হাতে অটোমেটিক গান থাকে। তুমি গিয়ে কী বাধা দেবে বলো তো?’
রাণা বলল ‘না, আমি যাব। আপনাকে একা ছাড়ব না।’
অমল শ্বাস ছেড়ে বলল, ‘কী বাচ্চা ছেলের মতো শুরু করলে তুমি রাণা? ঠিক আছে। কী আর বলি? চল।’
অমল রাণাকে নিয়েই গাড়ি থেকে নামল। দুজনে হাঁটতে হাঁটতে সাদিকের বাড়ির দিকে রওনা হল। তাদের ছদ্মবেশ আগেই মুছে দিয়েছিল অমল। নিরাপত্তারক্ষীরা দুজনের কাউকেই আটকাল না।
সরাসরি ড্রইং রুমে প্রবেশ করল দুজনে। অমলকে দেখে সাদিক শ্বাস ছাড়ল, ‘রুমানভাই, আপনি ছিলেন না, আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছিল।’
অমল বলল, ‘কেন? কী হয়েছে?’
সাদিক বলল, ‘সর্বনাশ হয়েছে। আর কী বলি বলুন? আমার মাথা কাজ করছে না। সাকিনাকে তুলে নিয়ে গেছে, তারপর থেকে যা চলতাছে, আমি আপনাকে যে কী বলি।’
অমল অবাক হবার ভান করল, ‘সাকিনাকেও তুলে নিয়ে গেছে? কে তুলেছে? পুলিশ? ওকে আসগরের ব্যাপারে সন্দেহ করছে নাকি?’
সাদিক জোরে জোরে মাথা নাড়ল, ‘না না। কী যে কন! তাহলে তো এত ঝামেলাই থাকত না। পুলিশ না। অন্য ব্যাপার।’
অমল বলল, ‘কী ব্যাপার?’
সাদিক স্তিমিতচোখে অমলের দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করল, ‘কীভাবে বলি আপনাকে। বলা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছি না।’
অমল বলল, ‘বলুন না।’
সাদিক বলল, ‘আপনার তো বর্ডারে চেনা জানা আছে। জরিনারে কোনভাবে ইন্ডিয়া পাঠানো যায়?’
অমল চোখ ছোট করল, ‘জরিনাকে? জরিনার কী হয়েছে?’
সাদিক অস্বস্তিতে কাশতে শুরু করল, ‘কিছু লোকের ওর উপরে নজর পড়েছে।’
অমল বলল, ‘এটা তো আপনিই মিটিয়ে নিতে পারেন। আপনি আছেন, ওকে কেন ইন্ডিয়ায় পাঠাতে হবে? যাদের নজর পড়েছে তাদের চোখ গেলে দিন!’
সাদিক মাথা নাড়ল, ‘কী যে বলেন ভাই, যাদের নজর পড়েছে, তাদের চোখ কেন, তাদের দিকে তাকানোর ক্ষমতাও আমার নেই। আমাকে আর জিগাবেন না, আমি বলতে পারুম না। গৌতমভাই, আপনি জরিনাকে পার করাইতে পারবেন?’
সাদিক রাণার দিকে তাকাল। রাণা বলল, ‘আমাকে ওপারে খুঁজছে। আমি কী করে…?’
সাদিক বলল, ‘তাও ঠিক। রুমানভাই, আপনি দেখেন তবে।’
অমল বলল, ‘দেখছি। আর সাকিনার কী হবে?’
সাদিক অসহায়ভাবে মাথা নাড়ল, ‘আমি কোনও আশাই দেখতাছি না।’
অমল বলল, ‘এখানে কি তারা জড়িত যাদের দিকে তাকানো যাবে না?’
সাদিক বলল, ‘জি ভাই।’
অমল বলল, ‘কোথায় আছে এখন?’
সাদিক বলল, ‘বুঝতে পারছি না ভাই। বেশি কিছু বলা যাবে না।’
অমল সাদিকের দিকে চুপ করে তাকিয়ে রইল। সাদিক মিথ্যে বলছে বলে মনে হচ্ছে না তার।
.
৫৯
আরিফ রহমান কিছুক্ষণ পর এসে ইন্টারোগেশন চেম্বারে প্রবেশ করলেন আবার। নির্মল আলমগিরের দিকে দৃষ্টি ফেরাল। আলমগির থমথমে মুখে নির্মলের দিকে তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে নিলেন।
আরিফ বসে বললেন, ‘বলো। তোমার ইন্ডিয়ান ট্রানজাকশানের ব্যাপারগুলো বলো। আমি শুনি।’
নির্মল বলল, ‘আমার কোনও ইন্ডিয়ান ট্রানজাকশান নেই।’
আরিফ বললেন, ‘তুমি শিওর?’
নির্মল বলল, ‘হ্যাঁ, শিওর।’
আরিফ পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে নির্মলের দিকে এগিয়ে দিলেন, ‘এখানে তোমার ফরেন ট্রানজাকশান দেখা গেছে। ইন্ডিয়ান রুপি কনভার্ট করেছ।’
নির্মল বলল, ‘হ্যাঁ। কত রুপি বলুন।’
আরিফ বললেন, ‘দশ হাজার রুপি।’
নির্মল হেসে ফেলল, ‘দশ হাজার রুপি মানে বাংলাদেশী টাকায় কত? ও দেশে গেছিলাম, এ টাকাটা বেঁচে গেছিল, নিয়ে এসে কনভার্ট করেছি আবার। এ টাকার জন্য আমার কী হতে পারে?’
আরিফ বললেন, ‘তোমার ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট আছে?’
নির্মল বিরক্ত গলায় বলল, ‘এটা বাজে প্রশ্ন হচ্ছে আরিফ সাহেব। আপনার পারসোনালিটির সঙ্গে যাচ্ছে না একবারেই। নিজেও বুঝতে পারছেন।’
আরিফ থতমত খেলেন খানিকটা। নির্মল বলল, ‘সাদিক শেখের অ্যাকাউন্টে লাস্ট মান্থে দেড় লাখ দিনার ঢুকেছে। চেনেন আপনি সাদিক শেখকে? তাকে কোনদিন আমার জায়গায় বসানোর সাহস হবে আপনাদের?’
আরিফ আরও একটু হকচকিয়ে গেলেন। তার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে তিনি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে গেছেন।
সোবাহান চেম্বারে প্রবেশ করলেন। হাসি মুখে নির্মলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘অসভ্যতা করছ তুমি। কোরো না। ফল ভালো হবে না।’
নির্মল বলল, ‘আমাকে আটকে রাখা হয়েছে কেন স্যার? আমার দোষ কী?’
সোবাহান চেয়ার নিয়ে বসলেন, ‘ওই যে, ইন্ডিয়া যোগ। তোমার সঙ্গে ইন্ডিয়ার লিংক আছে। তুমি র-এর কথা শুনে কাজ করছ।’
নির্মল হেসে ফেলল, ‘কী অদ্ভুত ব্যাপার বলুন তো স্যার। আমি নিজেই জানি না আমি র-এর হয়ে কাজ করি, অথচ আপনি জানেন।’
সোবাহান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে নির্মলের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘তোমাকে আমি সুযোগ দিয়েছিলাম নির্মল। তুমি সেটা নিতে পারলে না। তোমার একগুঁয়ে স্বভাব তোমার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আই অ্যাম সরি। ভেরি সরি।’
নির্মল ম্লান হাসল, ‘আমি তো অঙ্কের উত্তরটা জানতাম। ঘাবড়াইনি, যেটা করতে চান, করতে পারেন।’
সোবাহান বললেন, ‘ট্যাক্স থেকে সাদিকের ফাইল কে দিয়েছে তোমায়?’
নির্মল বলল, ‘কেউ দেয়নি।’
সোবাহান বললেন, ‘তোমার ফ্যামিলি এই মুহূর্তে বাইরে আছে নির্মল। আশা করব এমন কিছু কাজ করবে না যাতে তোমার সঙ্গে তোমার ফ্যামিলিরও ক্ষতি হয়।’
নির্মল সোবাহানের চোখে চোখ রেখে বলল, ‘আমি আপনাকে বললাম তো, সাদিকের যাবতীয় তথ্য আমি নিজেই বের করেছি।’
সোবাহান আরিফের দিকে তাকিয়ে হাসলেন, ‘দেখলেন আরিফ সাহেব, ছেলেটা কেমন তৈরি হয়ে গেছে। আমাদের দেশের ছেলেদের এত সাহস থাকত? র-এর থেকে ট্রেনিংটা পেয়েছিল বলেই না এদের এত সাহস হয়ে গেছে?’
আরিফ সোবাহানকে বললেন, ‘সাদিক শেখটা কে?’
সোবাহান বললেন, ‘একজন তরুণ তুর্কী। খুব ভালো ব্যবসা করছে। দেশের উন্নতি করার চেষ্টা করছে। সে তো এই সব ভারতের দালালদের সহ্য হবে না। তার ফলে যা হবার তা হচ্ছে। দে হ্যাভ টু ফেস দ্য মিউজিক, তাই না?’
আরিফ বললেন, ‘নির্মল বার বার বলছে ও একটা ইনভেস্টিগেশন করছিল, আপনি সেটা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সেটা কি এই সাদিক শেখকে নিয়েই?’
সোবাহান আরিফের দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করলেন, ‘আহ্ সাহেব, আপনি বুঝতে পারছেন না, সব র-এর শেখানো বুলি তো। এ দেশটাকে তো র কিনে নিয়েছে।’
আলমগির দরজা ঠেলে চেম্বারে প্রবেশ করলেন, ‘স্যার, একটা ব্রেকিং নিউজ আসছে।’
সোবাহান বিরক্ত মুখে বললেন, ‘কী নিউজ?’
আলমগির ফোন এগিয়ে দিলেন, ‘এক অনলাইন চ্যানেলে খবর বেরিয়েছে বাংলাদেশের এক ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার বিদেশি ট্রানজাকশান হয়েছে, এই ফরেন ফান্ডের অনেকটাই এমন একটা সন্দেহজনক ফান্ড থেকে আসে যা সন্দেহ করা হচ্ছে বাংলাদেশে টেরর ফান্ডের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। বেনামি সূত্রে এই ট্রানজাকশানের রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে তাদের দফতরে।’
সোবাহান খবরটা দেখে থমথমে মুখে নির্মলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এটা করে তুমি ভালো করলে কি?’
নির্মল হাসল, ‘আমি করিনি। কিন্তু যে করেছে, ঠিক করেছে।’
সোবাহান বললেন, ‘কে করেছে? আশা করি তোমার উপর আমায় থার্ড ডিগ্রি অ্যাপ্লাই করতে হবে না।’
আরিফ উশখুশ করছিলেন। হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমি ভুলে গেছিলাম। আমার একটা ফ্যামিলি মিট আছে। আমাকে বেরোতে হবে।’
সোবাহান রাগে লাফিয়ে উঠলেন, ‘বসুন আপনি। এখানে বসবেন। একদম কোথাও যাবেন না।’
আরিফ সোবাহানের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘মানে? আপনি আমাকে বাধা দিচ্ছেন নাকি?’
সোবাহান বললেন, ‘হ্যাঁ দিচ্ছি। আমার সে ক্ষমতা আছে। জানেন তো আমার কী ক্ষমতা আছে?’
আরিফ আঙুল তুলে বললেন, ‘সোবাহান সাহেব, আমি অনেক দিন ধরে এই কাজ করি। আমার প্রথম থেকেই সন্দেহ হচ্ছিল এই কাজটা আপনি নির্মলকে ফ্রেম করার জন্য করছেন। আপনার এই ঘৃণ্য প্ল্যানে আমি থাকব না। আমি বেরোলাম।’
সোবাহান চিৎকার করলেন, ‘আলমগির, আরিফ সাহেবকে আটকাও।’
আলমগির চেম্বারে প্রবেশ করে সোবাহানের কপালে রিভলভার তাক করে বললেন, ‘বসুন। অনেকক্ষণ ধরে আপনার বাড়াবাড়ি সহ্য করছি। বসুন।’
সোবাহান চমকে আলমগিরের দিকে তাকালেন।
