অপারেশন ট্রেইটর – ৬০

৬০

আকাশে মেঘ করে আছে। গরম বাড়ছে। সাদিকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাণা মাঝে মাঝেই পিছন ফিরে দেখছিল। তার বার বার মনে হচ্ছিল, কেউ তাদের ফলো করছে। অস্বস্তি হচ্ছে কেমন। অমল বলল, ‘ভয় পাচ্ছ?’

রাণা বলল, ‘সাকিনাকে কোথায় রেখেছে বলল না তো! পাচার করে দিয়েছে?’

অমল বলল, ‘সাদিককে বলেনি। জরিনার জন্য সাদিক চিন্তিত হয়ে পড়ছে কারণ জরিনা সাদিকেরই মেয়ে। ওরই কোনও নারীসঙ্গের ফলশ্রুতি ওই মেয়েটা। যতই যাই হোক, মেয়েটা ওর রক্ত। তাকে গিয়াস তুলে নিয়ে যেতে চাইছে বুঝতে পেরেই সাদিক খানিকটা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। আমাদের এই ছোট ফাঁক দিয়ে ঢুকতে হবে। ঢুকতে পারলে ভালো। না পারলে আমাদের কপাল খারাপ। আর কী বলব? চলো, গাড়িতে ফেরা যাক। সাদিকের লোক কাছে পিঠে নেই। থাকলে জামাল এতক্ষণে জানিয়ে দিত।’

রাণা আর কিছু বলল না।

গাড়িতে ফিরে অমল বলল, ‘সুখবর হল সাকিনাকে ওরা ভাঙতে পারেনি। আমাদের কভার এক্সপোজ হয়নি।’

খান বললেন, ‘স্ট্রং গার্ল। ভেরি কমেন্ডেবল। আর্মি ট্রেনিং নিয়েছে?’

অমল হাসল, ‘শুনেছি হাজব্যান্ড ট্রেনিং। ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সেই মেয়েটা স্ট্রং হয়ে গেছে।’

খান বিস্মিত হয়ে অমলের দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে বললেন, ‘বোঝো। আর দুঃসংবাদ?’

অমল বলল, ‘সাকিনা কোথায়, সাদিক লুকিয়ে যাচ্ছে।’

মাথুর বললেন, ‘তাহলে সাদিককে তুলতে হবে। আর কোনও উপায় নেই।’

রাণা অবাক হল। এই দুর্গ থেকে সাদিককে তোলা হবে কী করে?

অমল অবাক হল না। বলল, ‘ওরা যদি বুঝে যায় আমরা সাদিককে তুলেছি তাহলে বিপদ হতে পারে।’

মাথুর বললেন, ‘রিস্ক নিতে হবে। কিছু করার নেই।’

রাণা আর থাকতে পারল না। বলল, ‘সাদিককে তুলব কী করে? এখানে এত লোক নিয়ে আছে। সেটা সম্ভব নাকি?’

অমল হাসল, ‘দেখছি। জামাল! আমাদের আর কোনও অপশন নেই। কী করে ব্যাপারটা কমপ্লিট করা যায়?’

জামাল বলল, ‘আটটা ছেলে আছে এখন সাদিকের কাছে। এতগুলোকে মেরে বের করে আনা যায়। ব্যাপারটায় রক্ত পড়বে। অন্যান্য ঝামেলাও আছে।’

খান বললেন, ‘বেরোয় কতজনে?’

অমল বলল, ‘কখনো কখনো শুধু ড্রাইভার নিয়েও বেরোয়।’

জামাল বলল, ‘অপেক্ষা করতে হবে সেক্ষেত্রে।’

খান অমলের দিকে তাকালেন, ‘ফোন করো। কিছু একটা করে ওকে বের করো।’

অমল বলল, ‘ঠিক আছে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা যাক। তারপর ফোন করছি।’

মাথুর ঘড়ি দেখলেন, ‘ঠিক আছে। তাই হোক। সাদিককে চাই।’

অমল বলল, ‘জামাল আরিচা হাইওয়ের দিকে এগিয়ে চলো।’

জামাল গাড়ি স্টার্ট দিল।

রাণা বলল, ‘সাদিক যদি লোকগুলোকে নিয়ে আসে।’

অমল ঠান্ডা গলায় বলল, ‘তুমি আছ তো। জামালের অটোমেটিক মেশিনগান আছে। একটাকেও বাঁচিয়ে রাখার দরকার নেই।’

মাথুর খুশি হয়ে খানের দিকে তাকালেন, ‘এই তো, খাঁটি কথা বলে দিয়েছে। এবার ঠিক আছে।’

খান বললেন, ‘ঠিক। এবার অল আউটেই যেতে হবে। আর সময় নেই।’

রাণা ঘাড় নাড়ল, ‘আমি তৈরি।’

জামাল অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিল। মাথুর বললেন, ‘আমরা এখানে জড়াচ্ছি, তুষার স্যারকে একবার বলার দরকার আছে?’

খান বললেন, ‘না। এই মুহূর্তে কিছু বললে বারণ করে দেবেন। সাদিক ছাড়া আর কোনও অপশন নেই। তাই থাক আপাতত।’

মাথুর ঘড়ি দেখলেন, ‘অমল, ফোন করো।’

অমল বলল, ‘শহর ছেড়ে একটা ফাঁকা জায়গায় পৌঁছই। আমি কী বলব সেটাও ভাবতে হবে।’

খান বললেন, ‘বলে দাও তুমি জানতে পেরেছ কে ওর ভাইকে মেরেছিল। সাদিক চলে আসবে।’

অমল বলল, ‘খারাপ আইডিয়া না। এটাই ঠিক লাগছে। সাদিক তারেককে খুব ভালোবাসত। ও কিছুতেই তারেকের চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছে না। যাই হোক, এতক্ষণে একটু শ্বাস নেওয়ার সময় পেলাম। আপনাদের আরেকটা খবর জানিয়ে রাখি।’

খান আর মাথুর দুজনেই উৎসুক চোখে অমলের দিকে তাকালেন।

অমল বলল, ‘এই যে এত বাইরে বাইরে পাঠানো হচ্ছিল আমাকে বা রাণাকে একবার পাঠানো হয়েছিল। সে কোডগুলো সব ফেলে ডিকোডের চেষ্টা করেছিলাম। উত্তর দাঁড়াচ্ছে, ওরা খুব বড় কিছু প্ল্যান করছে। মিডল ইস্ট স্টাইলে ড্রোন অ্যাটাক। বায়োলজিক্যাল ওয়্যারের চেষ্টা হয়েছিল। পাকিস্তান ওতে আগ্রহী নয়। ওরা ডিরেক্ট অ্যাকশনে বিশ্বাসী। ড্রোন পার্টস বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে আলাদা আলাদা করে সাদিকের কারখানার স্টোরে আসছে। ওরা প্রচুর ফান্ডিং পাচ্ছে। এর অর্থ হল অদূর ভবিষ্যতে ওরা ড্রোন অ্যাটাকের প্ল্যান করছে।’

খান আর মাথুর দুজনে একসঙ্গে বলে উঠলেন, ‘মাই গড। লোকেশন?’

অমল বলল, ‘বাংলাদেশের পাঁচটা জায়গার কো-অরডিনেটস আর ভারতের সাতটা শহরের কো-অরডিনেটস আছে। নর্থ ইস্টের টানাপোড়েনে আই এস আই-এর ইন্ধনও আছে। সাদিকের সমস্ত ব্যবসার আসল জায়গা ওর স্টোরগুলো।’

খান বললেন, ‘একইসঙ্গে এখানে আইএসআই সম্পূর্ণ আলাদাভাবে সক্রিয়। তাই তো?’

অমল বলল, ‘হ্যাঁ। যার সঙ্গে সাকিনার মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ করতাম, তার কভার এক্সপোজ হয়ে গেছিল। তাকে মরতে হয়েছে। ওর কভার এক্সপোজ হওয়া সম্ভব ছিল না। এর অর্থ হয় আমাদের মধ্যেই কেউ ওদের খবর দিয়েছিল।’

খান বললেন, ‘কে কে জানে ওই এজেন্টের কথা?’

অমল বলল, ‘আমি আর উস্তাদ ছাড়া কেউ জানত না।’

খান বললেন, ‘আই এস আই এত এফিশিয়েন্ট হয়ে গেছে যে আমাদের ভেতরের কারো ইনপুট ছাড়া এত বড় অপারেশন করে নেবে, আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। যাই হোক, এগুলো নিয়ে পরে ভাবা যাবে। তুমি সাদিককে ফোন করবে এখন? এখানে তো চারদিকে আর কাউকে দেখছি না। এ জায়গাটাও শুনশান।

অমল ঘাড় নেড়ে পকেট থেকে ফোন বের করল, ‘রাইট। লেটস স্টার্ট দ্য অপারেশন।’

.

৬১

সোবাহান অবিশ্বাসী চোখে আলমগিরের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তোমার এত বড় সাহস? তুমি জানো আমি তোমার কী করতে পারি?’

আলমগির বললেন, ‘কিচ্ছু করতে পারেন না। আরিফ সাহেব নিজে দেখেছেন আপনি নির্মলকে ফ্রেম করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন ক্রমাগত। আপনি কী চান, সেটা আমরা বুঝতে পেরেছি। জাহির সাহেবের সঙ্গে মিলে আপনি যেটা করতে চাইছেন, সেটা আমরা করতে দেব না। বুঝেছেন? আপনার ফোন দিন।’

সোবাহান কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, আলমগির সোবাহানের মাথায় রিভলভার ঠেকিয়ে বললেন, ‘একদম সময় নেই আপনার হাতে। আমি এখানেই যা করার করে দেব। যা বলছি করুন। ফোন দিন।’

সোবাহান কাঁপা কাঁপা হাতে তার পকেট থেকে দুটো ফোন বের করে আলমগিরের হাতে দিলেন। আলমগির সোবাহানের ফোন দুটো নিয়ে পকেটে রেখে বললেন, ‘আপনাকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে অর্ডার এসে গেছে। আপনি এখানেই বসবেন।’

সোবাহান অবিশ্বাসী চোখে আলমগিরের দিকে তাকালেন। আলমগির বললেন, ‘কী ভাবেন? তলে তলে কাজ করে যাবেন, কেউ কিছু বুঝতে পারবে না? আমরা এখানে ঘাস খাবার জন্য আছি? আনোয়ার সাহেবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং তাকে হত্যার দায়ে আপনাকে রিমান্ডে নেওয়া হল। আপনি আপনার উত্তর তৈরি করুন। এস নির্মল, আসুন আরিফ সাহেব।’

সোবাহান দরদর করে ঘামছিলেন।

আলমগির আরিফ এবং নির্মলকে নিয়ে ইন্টারোগেশন চেম্বার থেকে বেরিয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিলেন। আরিফ নির্মলের হাত ধরে বললেন, ‘বিশ্বাস করো, আমি জানতাম না এত জঘন্যভাবে তোমাকে ফ্রেম করার প্ল্যান চলছিল। পরে বুঝেছি।’

নির্মল বলল, ‘ঠিক আছে সাহেব। আপনি যে সোবাহান সাহেবের কথায় প্রভাবিত হননি, তার জন্যই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’

আলমগির বললেন, ‘আমি তো বুঝতে পারছিলাম আরিফ সাহেবের মনে দ্বিধা কাজ করছে। অনলাইনে খবর পাঠানোর কাজটা অবশ্য আমিই করেছি। আমার মনে হয়েছিল খবরটা বেরোনো দরকার। পি এম আমাকে এখানে সিক্রেট মিশনে রেখেছিলেন। সোবাহানের ব্যাপারটা তিনি জানতেন। সাদিকের ব্যাপারটা নির্মল না থাকলে জানা সম্ভব ছিল না। পি এম স্পেশাল অর্ডার পাঠিয়েছেন সাদিকের ব্যাপারটা যেন নির্মল নিজে দেখে। এই মুহূর্তে কী করা উচিত বলে তোমার মনে হয় নির্মল?’

নির্মল অবিশ্বাসী চোখে আলমগিরের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আপনি সত্যি বলছেন? পি এম অর্ডার করেছেন?’

আলমগির বললেন, ‘হ্যাঁ। জাহিরের ব্যাপারে উনি সন্দেহ করেছিলেন। সোবাহান যে এত বেড়ে গেছে, তিনি ধারণা করতে পারেননি। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কী হয়েছিল তুমি কি ভুলে গেলে? কাছের লোকেরাই তো সব থেকে বড় শত্রু হয়। সবখানেই নজর রাখা প্রয়োজন। যাক গে, যা হয়, ভালোর জন্যই হয়। তুমি গেম প্ল্যান বল।’

নির্মল বলল, ‘এই মুহূর্তে সাদিককে রিমান্ডে নিতে হবে। আমি ওকে জেরা করতে চাই। প্রয়োজনে সোবাহান সাহেবের পাশে বসিয়ে দুজনকে একসঙ্গে জেরা করতে হবে।’

আলমগির বললেন, ‘ডান। তুমি যাবে সাদিককে তুলতে?’

নির্মল বলল, ‘হ্যাঁ। আমাকে বাহিনি দিন।’

আলমগির বলল, ‘দু’কোম্পানি বাহিনি নিয়ে যাও। প্রয়োজনে বাড়ি ঘিরে রেখে কলার ধরে ওকে তুলে নিয়ে আসবে। মিডিয়ায় খবর চলে গেছে। সাদিক আজকের মধ্যেই এক্সপোজ হয়ে যাবে।’

নির্মল বলল, ‘থ্যাঙ্ক ইউ স্যার।’

আলমগির বললেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ আমাকে না, তোমাকে আমার দেওয়া উচিত। তুমি ক্রমাগত সাদিকের পেছনে না লেগে থাকলে, জাহিরের কাছে না গেলে এদের নেক্সাসটা কিছুতেই ধরা পড়ত না। সোবাহান আর জাহির বড় কিছু প্ল্যান করছিল, সেটা আমরা বুঝতে পারছিলাম। কে জানে, সাদিকের কাজেও হয়তো এ দেশের বিরুদ্ধেই বড় কিছু প্ল্যান আছে।’

নির্মল বলল, ‘আছে স্যার। এত টাকার ট্রানজাকশান অকারণে হতে পারে না। এ ছাড়া আমি মাদ্রাসার প্রধানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই স্যার। আমার মনে হচ্ছে এই কুড়ি জন ছাত্রকে ইচ্ছে করে অদৃশ্য করা হয়েছে। এই বাচ্চারা তো কিছুই জানে না, এদের যদি তুলে নিয়ে গিয়ে মগজধোলাই করে কোনও অর্গানাইজেশনে জুড়ে দেওয়া হয়, সেটা আমাদের দেশের জন্য একবারেই ঠিক হবে না।’

আলমগির মাথা নাড়লেন, ‘রাইট। ওকেও তোলার ব্যবস্থা করা হোক।’ নির্মলের সঙ্গে যাওয়ার জন্য বাহিনি এসে উপস্থিত হল। নির্মল তার অফিস থেকে মাথা উঁচু করে বেরোল। এবার সাদিককে ধরার পালা।

.

৬২

বড় রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে।

কেউ গাড়ি থেকে নামেনি। সবাই গাড়ির ভেতর চুপ করে বসে আছে।

জামালের ওয়াকিটকিতে সংকেতের মাধ্যমে কেউ কিছু বলল। জামাল সেটা শুনে বলল, ‘সাদিক বেরিয়েছে। গাড়িতে ড্রাইভার বাদে তিন জন আছে।’

রাণা বলল, ‘ঠিক আছে।’

অমলের ফোন বেজে উঠল। অমল ফোন কানে দিল। ও-প্রান্ত থেকে কেউ একজন কিছু বলল। অমল সঙ্গে সঙ্গে ফোন রেখে মোবাইলের ব্রাউজার খুলে বিরক্ত গলায় বলল, ‘উফ্‌! এবার কী হবে?’

মাথুর বাদাম খাচ্ছিলেন। অমলের বিরক্তি দেখে বললেন, ‘কী হল?’

অমল বলল, ‘সাদিক এক্সপোজড। নিউজ এজেন্সিগুলোতে সব বেনামে সাদিকের ফরেন ট্রানজাকশানের ডকুমেন্টস পাঠিয়ে দিয়েছে।’

খান বললেন, ‘সে তো ভালো কথা।’

অমল বলল, ‘সাকিনাকে পাওয়ার জন্য ভালো কথা না স্যার। বুঝতে পারছেন না, সাকিনাকে পেতে গেলে আমাকে সাদিককে লাগবে। ওর কোনওরকম সমস্যা, আমাদের সমস্যা বাড়িয়ে দেবে।’

খান ভ্রু কুঁচকে বললেন, ‘তাহলে?’

অমল বলল, ‘আমি সাদিককে ফোন করে অবস্থা বোঝার চেষ্টা করি? যদি এখানে না এসে চলে যায়? এখানেই ফার্স্ট আসুক, আমি বরং সেটা কনভিন্স করাই?’

খান ভেবে নিয়ে বললেন, ‘করো।’

অমল সাদিককে ফোন করল। সাদিক ফোন ধরে নার্ভাস গলায় বলল, ‘রুমানভাই, খবর পেয়েছেন?’

অমল বলল, ‘মাথা ঠান্ডা রাখুন। আমার কাছে চলে আসুন। আমি দেখছি কী করা যায়।’

সাদিক বলল, ‘আপনি কী করবেন জনাব? আমার তো আর বাসায় ফেরা হবে না বুঝতে পারতাছি। দু’কোম্পানি ব়্যাবও নাকি আসতাছে। আপনার ভাবিরে আমি কী বুঝামু?’

অমল বলল, ‘ব়্যাবে আপনার আত্মীয় আছে না?’

সাদিক বিরক্ত গলায় বলল, ‘আর বইলেন না, তার আমি ফোনই পাই না। কিছুতেই ফোন ধরে না, এত বড় অফিসার।’

অমল বলল, ‘আপনি ফোন অফ করে চলে আসুন। দেখছি।’

সাদিক বলল, ‘আইতাছি জনাব। আমি ফোন অফ কইরা দিলাম। চইলাই আইতাছি।’

অমল বলল, ‘আসুন। গাড়ির নাম্বার বলছি, ঢাকা ভ ৩৪৫৩। রাস্তার বাঁ-দিকে দাঁড়িয়ে আছি। তাড়াতাড়ি আসুন।…’

অমল বলল, ‘এসে গেছে প্রায়। আপনারা দুজন কি গাড়িতে থাকবেন?’

খান আর মাথুর পরস্পরের দিকে তাকালেন।

মাথুর খানকে বললেন, ‘এবার তুষার স্যারকে জিগ্যেস করি?’

খান গম্ভীর মুখে মাথা নাড়লেন, ‘করো।’

মাথুর তুষারকে ফোন করলেন। একবার রিং হতেই তুষার ফোন তুললেন, ‘বলো মাথুর।’

মাথুর বললেন, ‘স্যার, সাদিককে হাইওয়েতে ডাকা হয়েছে। এখানেই পাকড়াও করে থার্ড ডিগ্রি দেওয়ার প্ল্যান করছি।’

তুষার বললেন, ‘সর্বনাশ! অমল কোথায়?’

মাথুর বললেন, ‘আমার কাছেই আছে।’

তুষার বললেন, ‘অমল এই বুদ্ধি অ্যাপ্রুভ করছে?’

অমল বলল, ‘কিছু করার নেই স্যার, সাদিককে ইন্টারোগেট না করলে সাকিনাকে আর পাওয়া যাবে না। এছাড়াও একটু আগে সাদিক এক্সপোজড হয়ে গেছে। গিয়াস সাদিকের সঙ্গে সবরকম সম্পর্ক বন্ধ করে দেবে। আমাদের হাতে এক ঘণ্টারও কম সময় আছে আমি যা বুঝতে পারছি।’

তুষার কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বললেন, ‘গো অ্যাহেড। আমি দেখছি কী করা যায়। কেউ মরে যেও না, তাহলেই হবে। অ্যাম আই ক্লিয়ার?’

খান হাসলেন, ‘টু হান্ড্রেড পারসেন্ট।’

সাদিকের গাড়ি দেখা যাচ্ছে। অমল গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে দাঁড়াল। জামাল খান, মাথুর এবং রাণা, তিনজনের হাতেই প্রয়োজনীয় অস্ত্র দিয়ে দিয়েছিল।

সাদিকের গাড়ি দাঁড়ান মাত্র কাচ নামিয়ে সাদিকের গাড়ির সামনে বসে থাকা আসলাম অমলকে বলল, ‘গাড়িতে আসেন।’

রাণা সময় দিল না মুহূর্তের মধ্যে গাড়ি থেকে নেমে আসলামের দু’চোখের মাঝখানে গুলি চালাল, আসলাম আর নড়ার সময়ও পেল না। ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিতে গেছিল, রাণা তাকেও গুলি করল। শব্দহীন গুলি। আশে পাশে কেউ কোনও শব্দও পেল না। সাদিকের সঙ্গে আরেকজন ছিল। গাড়ি থেকে নামার আগেই তাকেও রাণা মেরে দরজা খুলে সাদিককে বলল, ‘নামুন।’

সাদিক ফ্যাকাসে মুখে অমলের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘গৌতমভাই, রুমানভাই, এসব কী?’

অমল বলল, ‘আমাদের গাড়িতে আসুন। আপনার কোনও ক্ষতি হবে না। আসুন। ব়্যাব আসছে আপনাকে তুলতে। তার আগে চলুন।’

সাদিক বিনা বাক্যব্যয়ে তাদের গাড়িতে উঠল। মাথুর তখনও বাদাম খেয়ে যাচ্ছিলেন। সাদিক গাড়িতে উঠতেই মাথুর বললেন, ‘বাদাম খাবেন?’

সাদিকের বিস্ময়ভাব কাটেনি তখনও। অমলের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ভাই এগুলো কী হচ্ছে?’

গাড়ি চলতে শুরু করে দিয়েছে। অমল বলল, ‘কিছু হয়নি। আমি আপনারই লোক সাদিকভাই। আমাকে বলুন গিয়াস এখানে এসে কোথায় উঠেছে।’

সাদিক হতভম্ব গলায় বলল, ‘আপনি আসলামকে মেরে দিলেন? ড্রাইভারকে মারলেন? হারুনকে মারলেন কেন?’

রাণা সাদিকের কপালে রিভলভার ঠেকিয়ে বলল, ‘আসগরকেও মেরেছি। এবার গিয়াস কোথায় আছে বল, নইলে তোর কী হতে পারে তুই নিজেও জানিস না।’

সাদিক সিঁটিয়ে গেল।

অমল বলল, ‘আহ রাণা। তুমি সাদিকসাহেবকে ভয় দেখাছ কেন? সাহেব কি বলেছে বলবে না? বলেন সাহেব, দেরি করবেন না।’

সাদিক বলল, ‘আপনাকে তো আমি বলেছি রুমানভাই, সাকিনাকে গিয়াস কোথায় রেখেছে আমি বুঝতে পারছি না। আমি জানি গিয়াস কোথায় ছিল। এখন কোথায় আছে তা জানি না।’

অমল বলল, ‘যেখানে ছিল সেখানেই চলুন আগে। তারপর দেখা যাবে।’

সাদিক বলল, ‘গুলশানে আমার হোটেলে ছিল।’

রাণা সাদিকের মাথায় রিভলভারটা আবার ঠেকিয়ে বলল, ‘কোনওরকম নাটক করবি না।’

সাদিক বলল, ‘এমন করেন কেন গৌতমভাই, আপনারে কোনওদিন পর ভাবসি?’

রাণা বলল, ‘তোকে এত প্রশ্নের উত্তর দেব না। তুই যদি মিথ্যে বলিস, তাহলে তোর কী হবে, তুই নিজেও জানিস না।’

সাদিক বলল, ‘গুলশানে চলেন। দেরি কইরেন না। আমি তো এমনিই শেষ ভাই। আমার নামে নিউজ বাইরায় গেছে।’

অমল বলল, ‘দেখব আমি। দরকার হলে আপনাকে ইন্ডিয়া নিয়ে যাব। ও নিয়ে চিন্তা নাই।’

সাদিক চমকে গিয়ে বলল, ‘ইন্ডিয়া?’

খান খুক খুক করে কেশে বললেন, ‘আমরা ছাড়া আর আছেই বা কে?’

.

৬৩

জিপে উঠেই মোখলেসকে ফোন করল নির্মল। মোখলেসের ফোন পুরোটা রিং হয়ে কেটে গেল। বিরক্ত হল সে। এখন প্রতিটা মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেরি হওয়া মানেই অন্য কোথাও সমস্যা তৈরি হওয়া। গাড়িটা কিছুটা পথ যাবার পর সে দেখল দীপা ফোন করছে। নির্মল লজ্জা পেল। ছাড়া পাবার পর তার দীপাকে ফোন করার কথা মনে হয়নি! ছি-ছি।

সে সঙ্গে সঙ্গে ধরল, ‘বলো।’

দীপা কান্নায় ভেঙে পড়ল, ‘কোথায় তুমি? আমি ঢাকায় রওনা দিয়েছি।’

নির্মল বলল, ‘না না। রওনা দেওয়ার দরকার নেই। তখন একটা সিচুয়েশন হয়েছিল। ঠিক হয়ে গেছে। চিন্তা কোরো না।’

দীপা বলল, ‘তুমি ঠিক বলছ তো?’

নির্মল দেখল, মোখলেস ফোন করছে। সে বলল, ‘হ্যাঁ। নিশ্চিন্তে ঘোর। আমি একটা রেইডে যাচ্ছি। রাখছি, পরে কথা বলছি।’

দীপাকে কিছু বলতে না দিয়েই ফোন কেটে দিল নির্মল। মোখলেসের ফোন ওয়েটিঙে ছিল। ধরে বলল, ‘বল বল। পাখি ঘরে আছে?’

মোখলেস বলল, ‘আমি বেরোয়ছিলাম তো স্যার। এখনও বাইরে আছি।’

নির্মল বিরক্ত হয়ে বলল, ‘কোথায় বেরিয়েছিলে?’

মোখলেস বলল, ‘আমি ভাবলাম কেস ক্লোস হয়ে গেছে। আমি আগের ডেরায় ফিরে গেছিলাম।’

নির্মল বলল, ‘এখনই এস। আমি যাচ্ছি।’

মোখলেস বলল, ‘জি স্যার।’

নির্মল ফোন কেটে ড্রাইভারকে বলল, ‘তাড়াতাড়ি চল।’

ড্রাইভার চেষ্টা করছে, কিন্তু বিশেষ লাভ হল না। কিছুক্ষণ পরেই গাড়ি জ্যামে পড়ে গেল। নির্মল হতাশ হয়ে ড্যাশবোর্ডে ঘুষি মারল।

ড্রাইভার বলল, ‘হাইওয়ের দিকে রাস্তা ফাঁকা আছে স্যার। এদিকেই জ্যাম আজ।’

নির্মল বলল, ‘আমি হাইওয়ের দিকে গিয়ে কী করব? আমার ওদিকে কোনও কাজ নেই।’

বাহিনীর কয়েকজন গাড়ি থেকে নেমে রাস্তা করে নিল। সাদিকের বাড়ির সামনে গাড়ি দাঁড়াতেই নির্মল জিপ থেকে নেমে গেটে বলল, ‘দরজা খোল। ব়্যাব।’

গেট খুলল। নির্মল সাদিকের বাড়ির কলিং বেল টিপল। সাদিকের এক শাগরেদ বেরিয়ে এল। নির্মল বলল, ‘সাদিক শেখ কোথায়?’

শাগরেদ ঘাবড়ে গিয়ে বলল, ‘সাহেব বেরিয়ে গেলেন। আধঘণ্টা হয়েও গেছে গিয়া।’

নির্মল ভ্রু কুঁচকে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মিথ্যে বলছিস?’

ছেলেটা জোরে জোরে মাথা নাড়ল, ‘না স্যার। আপনি ক্যামেরা দেখেন। স্যার সত্যিই বাইরইয়া গেসে।’

নির্মল বুঝল ছেলেটা মিথ্যে বলছে না। তবু বাহিনীর ছেলেদের ঘর তল্লাশি করতে বলে দিল। মিনিট দশেকের মধ্যে সবাই জানিয়ে দিল সত্যিই বাড়িতে সাদিক নেই। নির্মল বিরক্ত মুখে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এল। সাদিকের না থাকার লক্ষণ একবারেই ভালো না। এ ধরনের প্রভাবশালী অপরাধীদের ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, ধরামাত্র এদের সবরকম যোগাযোগের উপায় বন্ধ করে দিতে হয়। ফোন একটা মারাত্মক যন্ত্র। এটার সাহায্যে এরা যেকোনও জায়গা থেকে সাহায্য পেয়ে যেতে পারে। পোর্টালে খবর বেরনোর পর থেকে কি সাদিক পালিয়ে গেল? সেক্ষেত্রে সাদিককে কী করে পাওয়া যাবে?

নির্মল ফোন বের করল। ট্যাক্সের নথি থেকে সাদিকের সম্পত্তিগুলোর তালিকা পাওয়া গেছে। সেগুলোতে হানা দেওয়া যেতে পারে। সাদিকের বাড়িতে থাকা শাগরেদগুলোকে আটক করে ভ্যানে তোলার নির্দেশ দিয়ে জিপে উঠে ড্রাইভারকে বলল, ‘আলোছায়া টেক্সটাইল মিল চল।’

ড্রাইভার অবাক হয়ে বলল, ‘ওখানে গিয়ে কী করবেন স্যার? ওখানে তো কাপড় তৈরি করে।’

নির্মল বলল, ‘চল। যা বলছি কর।’ ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিল।

মোখলেস ফোন করছে। নির্মল ফোন ধরে বলল, ‘কী হল? কোথায় আছ?’

মোখলেস বলল, ‘আমি এসে গেছি স্যার। এই দাঁড়ায় আছি। আপনার গাড়ি বেরোয় গেল, দেখলাম তো।’

নির্মল বলল, ‘সাদিকের ব্যাপারে কী জানা গেল?’

মোখলেস বলল, ‘এখানের দোকানি বলল কিছুক্ষণ আগে গাড়ি বাইর হইছে। সাদিক ওতে করেই গেছে।’

নির্মল বলল, ‘এই জন্য তোমার এখানে থাকার কথা ছিল। তুমি থাকলে ও কোথায় গেছে সেটা জানা যেত।’

মোখলেস বলল, ‘হোটেল যায় তো দু’দিন ধরে। মাঝে মাঝেই হোটেল যায়।’

নির্মল বলল, ‘কোন হোটেল?’

মোখলেস বলল, ‘গুলশানের হোটেল।’

নির্মল বলল, ‘ওখানে যেতে পারে?’

মোখলেস বলল, ‘যাইতেই পারে। আমি জানি না স্যার।’

নির্মল শ্বাস ছাড়ল, ‘তুমি কিছুই জানো না। রাখো।’

ফোন কেটে ড্রাইভারকে বলল, ‘গুলশান চলো তো।’

.

৬৪

ট্রাক চলছে বন্দরের দিকে।

ট্রাকের ভিতরে বাচ্চাগুলো গাদাগাদি করে বসে আছে। কেউ ভীত চোখে তাকিয়ে আছে। দু’চারজন কান্নাকাটি করছে।

লতিফ চৌধুরী বসে বসে ঢুলছিল। বলল, ‘কান্নাকাটি করার কী আছে? তোমরা আমাগো ভবিষ্যৎ।’

একটা বাচ্চা বলল, ‘বাসায় যাব।’

লতিফ চৌধুরী বলল, ‘বাসায় যাবা? কেন? বাসায় কী আছে?’

বাচ্চাটা বলল, ‘আব্বা আম্মা আছে।’

লতিফ বলল, ‘কিছুই শেখ নাই। তোমরা জানো না, আমাগো আব্বাহুজুর একজনই? জানো? তোমাগো যাতে কষ্ট না হয়, তার জন্য আমি নিজে যাইতাসি তোমাগো লগে। তোমরা আমার কষ্ট দেখতে পাও না?’

বাচ্চাটা চুপ করে গেল। লতিফ বলল, ‘কও তো পোলারা, তোমরা কোন দেশের নাগরিক?’

সবাই একযোগে বলল, ‘বাংলাদেশ।’

লতিফ দাড়ি নেড়ে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, ‘না-না, হয় নাই। আমাগো দেশের নাম পাকিস্তান। কও জোরে। কী আমাগো দেশের নাম?’

কেউ কেউ পাকিস্তান বলল। বেশিরভাগ বাচ্চা চুপ করে রইল।

লতিফ রেগে গেল, ‘কিছু শেখায় না এরা। শুধু টাকা লইয়া যায়। কামের কাম কিছু হয় না। আমাগো দ্যাশের নাম পাকিস্তান। ঠিক কইছি?’

এখনও অনেকে চুপ করে রইল। লতিফ এবার চিৎকার করল, ‘ঠিক কইছি কি না? যার মনে হবে ভুল কইছি, সে জাহান্নামে যাবে। বুঝছ?’

একটা বাচ্চা ভয়ে ভয়ে জিগ্যেস করল, ‘আমরা এখন কোই যাইতাছি হুজুর?’

লতিফ বলল, ‘কাম শিখতে যাইতাছি। আমরা কেউ তো কাম শিখি নাই। শিখছি? শুধু তর্ক করতে শিখছি। কেউ কিছু জানি না। শিখুম না? শিক্ষামূলক ভ্রমণ মানে কি বোঝো তোমরা?’

বাচ্চাগুলো কেউ কিছু বলল না।

ট্রাক দাঁড়াল। লতিফ ঘাবড়ে গিয়ে ফোন করল ড্রাইভারকে। ‘কী হইল? থাইমা গেলা কেন?’

ড্রাইভার বলল, ‘জ্যাম লাগছে হুজুর।’

লতিফ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘এই জন্য এখানে এত সমেস্যা। রাস্তায় নামলেই শুধু জাম হয়। পাকিস্তান হইয়া গেলে এসব হইবো না। আমাগো লক্ষ্য পাকিস্তান। দেখি সবাই কও দেখি, পাকিস্তান জিন্দাবাদ। কও কও। পাকিস্তান…’ বাচ্চাগুলো কেউ কেউ বলল, ‘জিন্দাবাদ।’ একসঙ্গে বলল না।

লতিফ রেগে গিয়ে বলল, ‘শিখাতে হবে। সব কয়টারে শিখাইতে হবে। অনেক কাম।’

ট্রাক আবার চলতে শুরু করল। লতিফ একসময় বসে বসে ঘুমিয়ে পড়ল। ঢুলে ঢুলে ঘুমাতে শুরু করল।

ফোন বেজে উঠল আবার তার। সে ধড়মড় করে উঠে বসে ফোন ধরল, ‘জি হুজুর।’

‘আপনারা প্রায় পৌঁছে গেছেন?’

‘জি হুজুর।’

‘আপনাদের আনলোড করে দেওয়া হবে। বাকিটা আমরা রিসিভ করে নেব। চিন্তার কোনও ব্যাপার নেই।’

‘জানি তো হুজুর। চিন্তা আমি করি না। আমি এই ছেলেগুলারে আপনাদের হাতে দিতে পারলেই নিশ্চিন্ত হব।’

‘গুড জব চৌধুরী। তুমি পুরস্কৃত হবে। তোমার জন্য আমরা গর্বিত।’

‘কী যে বলেন জনাব! যতক্ষণ না আর একবার এ দেশ পাকিস্তান হবে, ততক্ষণ আমার জীবনে বেঁচে থাকার কোনও মানে আমি খুঁজে পাব না।’

‘ইনশাল্লাহ।’

‘ইনশাল্লাহ জনাব।’

ফোন কেটে লতিফ বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, ‘তোমরা কত সৌভাগ্যবান জানো? তোমাগো নির্বাচন করা হইছে তার কাজে। স্বয়ং উপরওয়ালা তোমাগো নির্বাচন করসে। তোমরা এবার লড়াই করা শিখবা।’

কয়েকজন আবার কেঁদে উঠল, ‘বাসায় যামু।’

লতিফ বিরক্ত হয়ে হাতের কাছে যে ক’টা বাচ্চাকে পেল, তাদের চড় মারতে শুরু করল।

বাচ্চাগুলো ভয় পেয়ে কাঁদতে শুরু করল।

লতিফ ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বলল, ‘চুপ। সবাই চুপ। আমরা এসে গেছি। আর চিন্তা নেই। বসে থাকো।’

কেউ কেউ চুপ করল। বেশিরভাগই আতঙ্কে কান্নাকাটি করে যাচ্ছিল। একটা ছেলে হঠাৎ করে লতিফের হাতে কামড়ে দিল। লতিফ চিৎকার করে উঠল, ‘ও মাগো, কত সাহস? এই শিখছ তোমরা মাদ্রাসায়?’

লতিফ ঘাবড়ে গেছে দেখে ছেলেটার দেখা দেখি বাকি বাচ্চারাও লতিফকে আক্রমণ করল। কেউ কামড়াল, কেউ লতিফের দাড়ি ধরে টান মারল। একটা ছেলে লতিফের ফোন নিয়ে ট্রাকের দেওয়ালে সজোরে ছুঁড়ে মারল।

কুড়িটা ছেলে একসঙ্গে লতিফকে আক্রমণ করল। লতিফ হাত-পা ছুঁড়েও সামলাতে পারল না। কয়েক মুহূর্তের আচমকা হানায় ছেলেগুলো তার জামাকাপড় ছিঁড়ে বিধ্বস্ত করে দিল।

ট্রাক গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই লতিফ অজ্ঞান হয়ে গেল।