অপারেশন ট্রেইটর – ১৫

১৫

‘উঠো বিসি, টাইম হো গয়া, উঠো।’ চোখে জলের ছিটে দিলে কেউ। রাণা কোনমতে চোখ খুলল।

সামনে অপরিচিত একজন লোক বসে আছে। তার পাশে আসগর।

লোকটা উর্দুতে বলল, ‘অনেক বেশি সাবধানে থাকতে হবে। দু’মিনিটের মধ্যে ধরা পড়ে গেলে তুমি।’

রাণা বলল, ‘আপনি কে?’

লোকটা বলল, ‘বাঃ। যার কাছে এসেছ, তাকেই চেনো না?’

রাণা বলল, ‘আমি জানতাম না আমাকে কার কাছে পাঠানো হয়েছে। আমাকে শুধু বলা হয়েছিল একটা পার্সেল নিয়ে ফেরত যেতে হবে।’

লোকটা আসগরের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এসব লোক জোগাড় করে সাদিক?’

আসগর দুলে দুলে হাসছে। বোঝা যাচ্ছে তার বেশ রগড় হয়েছে।

রাণার রাগ হচ্ছিল। যদিও সে শান্ত থাকার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

লোকটা বলল, ‘যাও। ফ্লাইটের টাইম হয়ে গেছে। একটা কাজও যদি ঠিক করে করতে পারে। বুরবক।’

এবারও রাণা নিজেকে সামলাল। কোনওমতে উঠে দাঁড়াল। লোকটা একটা ছোট ব্যাগ বের করে রাণার দিকে এগিয়ে দিল, ‘পাসপোর্ট, টিকেট সব আছে। যাও। আমার একটু দেখার দরকার ছিল সাদিকের লোক কতটা সতর্ক। আমার দেখা হয়ে গেছে।’

রাণা ব্যাগ নিয়ে আসগরের দিকে তাকাল। আসগর অন্য দিকে তাকিয়ে আছে।

রাণা ঘর থেকে বেরিয়ে দেখল এটা আসলে একটা হোটেল রুম। ঘুম ঘুম ভাব আসছে একটা। না দাঁড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে হোটেলের বাইরে বেরিয়ে ক্যাবে উঠে বলল, ‘এয়ারপোর্ট।’

গাড়ি চলতে শুরু করলে সে প্রাণপণে নিজেকে সামলাল। ইচ্ছে হচ্ছে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করে লোকটাকে উড়িয়ে দেয়। এত সাহস! ওকে টেস্ট করছিল!

মাঝরাতে ঢাকা পৌঁছল সে। অমল দাঁড়িয়ে ছিল এয়ারপোর্টে। গাড়িতে উঠতেই বলল, ‘কী হল?’

রাণা বলল, ‘আমাকে গাড়িতে তুলে বেহুঁশ করে দিয়েছিল। পরে জানা গেল সেটা নাকি আমাকে টেস্ট করার জন্য করেছে। আমার কী করা উচিত এখন?’

অমল হাসল, ‘রাগ হচ্ছে?’

রাণা বলল, ‘সেটা হওয়াই তো স্বাভাবিক। আচমকা অপমান করার অধিকার তো কারো নেই, তাই না?’

অমল বলল, ‘ওদের অনেক অধিকার আছে। যত তাড়াতাড়ি জেনে নিতে পারো, তত ভালো। পার্সেল কোথায়?’

রাণা বলল, ‘আমাকে কিছু দেয়নি তো! আসগরকে দিয়েছে।’

অমল অবাক হয়ে বলল, ‘তোমাকে দেয়নি? উফ্‌…ওটা তো তোমার কাছেই থাকার কথা ছিল! এই পার্সেলেই তো সব শহরগুলোর মধ্যে লিংকের কাজ করত।’

রাণা বলল, ‘আমায় অজ্ঞান করে দিয়েছিল। জ্ঞান ফিরতে ব্যাগ ধরিয়ে দিল…’ বলতে বলতে টনক নড়ল রাণার। তড়িঘড়ি হ্যান্ডব্যাগ বের করল। একটু ঘাঁটতেই একটা খাম পাওয়া গেল। বলল, ‘পেয়েছি।’

অমল খুশি হল, ‘গুড। দাঁড়াও।’

রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিল অমল। খামটা হাতে নিয়ে সন্তর্পণে খুলল।

জোরে জোরে পড়ল, ‘মার্ক সেভেন ফাইভ ডট।’

তারপর সেটা বার বার আওড়াতে থাকল, ‘মার্ক সেভেন ফাইভ ডট…মার্ক সেভেন ফাইভ ডট।’

রাণা অবাক হয়ে বলল, ‘এটা কী?’

অমল বলল, ‘কোড। এখন মুখস্ত করে নিই। বাড়ি গিয়ে ঠান্ডা মাথায় ডিকোড করব। দাঁড়াও। খামটা আবার আগের মতো করে দি।’ অত্যন্ত সন্তর্পণে খামটা বন্ধ করল অমল।

রাণা বলল, ‘মালয়েশিয়ায় কে থাকে? আমি একদিন না একদিন ওর হিসেব করব। আমাকে অজ্ঞান করবে কেন?’

অমল বলল, ‘হিসেব সবার হবে রাণা। তার জন্য সঠিক সময় আসবে। আপাতত জেনে রাখো মালয়েশিয়ায় তোমার সঙ্গে যার দেখা হয়েছিল, তার নাম জামিল পাশা। ইন্ডিয়ার মোস্ট ওয়ান্টেড টেরোরিস্ট। বেশ কয়েকটা ব্লাস্টে অভিযুক্তের তালিকায় ওর নাম আছে। সাদিক জামিলের কাছে শিশু। ভুল বললাম। শিশু বললেও কম বলা হবে। জামিল হিউম্যান ট্রাফিকিঙে যুক্ত। শিশু হোক, মেয়ে হোক, ওর কোনও মায়া-দয়া নেই।’

রাণা জানলার বাইরে তাকাল। এতদিন এ ধরনের লোককে সে না জেনে মারত। এখন সব জানার পর মনে হচ্ছে কবে মারতে পারবে…!

.

১৬

ঢাকা ব়্যাব দফতর

নির্মল সরকার কম্পিউটারে গেম খেলছে। ফোন বাজল। ধরতেই গলা ভেসে এল, ‘আমার চেম্বারে এস।’

নির্মল গেম বন্ধ করে তাড়াতাড়ি আনোয়ার আলির চেম্বারে গিয়ে নক করল।

আনোয়ার বললেন, ‘এস।’

নির্মল চেম্বারে ঢুকল। আনোয়ার বললেন, ‘কক্সবাজারে একটা লাশ পাওয়া গেছে। আলম হোসেন নাম।’

নির্মল বলল, ‘হ্যাঁ স্যার শুনেছি।’

আনোয়ার বললেন, ‘যে বুলেটটা ইউজ হয়েছে, সেটা মামুলি বুলেট না। এ দেশের ছোটখাটো গ্যাংস্টারদের পক্ষে এ রিভলভার ইউজ করা সম্ভব না। অটোমেটিক জিনিস। সাইলেন্সার আছে। বুঝলে?’

নির্মল বলল, ‘নরওয়ের একটা মডেল আছে স্যার। ওটা ইউজ করেছে তার মানে।’

আনোয়ার মাথা নাড়লেন, ‘হ্যাঁ, তাই দাঁড়ায় বটে। তা তুমি আমাকে একটা কথা বলো, এই আলম কত বড় গ্যাংস্টার ছিল যে তাকে মারতে এত দামি রিভলভার ইউজ করা হল?’

নির্মল বলল, ‘ছোটখাটো কাজ করত স্যার। লোকাল লোক। মূলত টেক্সটাইলের ব্যবসা করত।’

আনোয়ার বললেন, ‘সেটা তো পানির উপরিভাগ। তলদেশে কী আছে, সেটাও তো দেখতে হবে। রেকর্ড ক্লিন, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই, কিন্তু হতে পারে সে গভীর পানির মাছ।’

নির্মল বলল, ‘ঠিক স্যার। আমাকে কী করতে বলছেন স্যার?’

আনোয়ার বললেন, ‘ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে যাতায়াত করা গাড়িগুলোর ডিটেলস বের করে ফেলো, আলমের বংশলতিকা। কতক্ষণ লাগবে?’

নির্মল বলল, ‘একদিন।’

আনোয়ার মাথা নাড়লেন, ‘না। একদিন না। বহিঃশত্রুর আক্রমণের কেস যদি হয়, তবে আমাদের হাতে বেশি সময় নেই। উই হ্যাভ টু অ্যাক্ট অ্যাজ আরলি অ্যাজ পসিবল।’

নির্মল বলল, ‘ওকে স্যার।’

আনোয়ারের চেম্বার থেকে ব্যাজার মুখে বেরোল সে। আজ তাদের ম্যারেজ অ্যানিভারসারি ছিল। দীপা বসে থাকবে। দীপাকে ফোন করতে ইচ্ছে করছে না এখন। ফোন করলেই গম্ভীর হয়ে যাবে। ওর মুড অফ হয়ে যাবে। দীপার মুড অফ হলে মাথা ধরে যায়, সে আরেক সমস্যা।

আইটি ডিপার্টমেন্টে ফোন করে সিসিটিভি ফুটেজ আনাল সে। কাজ করতে করতেই অবশ্য অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছিল নির্মল। দীপাকে না জানালেও সমস্যা হতে পারে। তৈরি হয়ে বসে থাকবে।

দীপার কথা ভাবতে ভাবতে একটা সময় ফুটেজে মগ্ন হয়ে গেল সে। ঢাকা ‘ভ ৩৪১২’ নম্বরের একটা গাড়ি সৈকতের বাইরের রাস্তায় ভোরবেলা ঘোরাফেরা করছে। এইটুকুই দেখা যাচ্ছে। ভেহিকেলসে নাম্বারটা পাঠিয়ে দিল নির্মল।

আলমের ফোন রেকর্ড বের করল সে। তেমন কিছুই নেই।

.

‘স্যার, খুব কম ফোন করত আলম। আজকালকার দিনে কেউ এত কম ফোন করে নাকি কে জানে!’

‘বিদেশে ফোন গেছিল?’

‘না। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় ও স্যাটেলাইট ফোন ইউজ করত।’

অবাক হয়ে আনোয়ার বললেন, ‘বলো কী? এটুকু ব্যবসায়ী, সে স্যাটেলাইট ফোন ইউজ করতে যাবে কেন? ওসব কারা ইউজ করে জানো তো?’

নির্মল বলল, ‘স্যার যাকে খুন করতে বিদেশি বুলেট ব্যবহার হয়, সে চোখের আড়ালে অনেক কিছুই করতে পারে। এতে তো অবাক হবার মতো কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না।’

আনোয়ার চিন্তিতমুখে নির্মলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘গন্ধটা সন্দেহজনক মনে হচ্ছে তোমার?’

নির্মল বলল, ‘হ্যাঁ স্যার। তদন্ত শুরু করা উচিত। একে সুবিধার লাগছে না।’

আনোয়ার বললেন, ‘কী করতে বলছ তুমি?’

নির্মল বলল, ‘লোকাল থানা আপাতত ওর পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আমরা যদি সন্দেহজনক কিছু দেখি, তখন তাদের তুলে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা ঠিক হবে।’

আনোয়ার বললেন, ‘তাই করো। দেখা যাক কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।’

নির্মল বলল, ‘ওকে স্যার।’

আনোয়ার সাহেবের চেম্বার থেকে বেরিয়ে নির্মল দীপাকে ফোন করল। দীপা ফোন রিসিভ করল না।

নির্মল ঠোঁট কামড়ে আবার তার ডেস্কে গিয়ে বসল। আজ রাতে আর তার বাসায় ফেরা হবে না। অনেক ভেবে দীপাকে মেসেজ করেই দিল সে।

আলমগির একটু দূরে বসে ছিলেন। নির্মলকে দেখে বললেন, ‘কী হল? টেন্সড মনে হচ্ছে?’

নির্মল লাজুক হাসল, ‘দাম্পত্য কলহ।’

আলমগির বললেন, ‘স্বাভাবিক, ছুটি নেওয়া হয় না। এ তো হবেই। বেশ কয়েকটা সন্ত্রাসীকে টার্গেটে রেখেছি আমরা। সব ক’টা না ধরলে ছুটিও পাবে না।’ কপট দুঃখ দেখিয়ে হাসলেন আলমগির।

.

১৭

‘আমি মাফ চাইতাসি ভাই। আমি বুঝি নাই জামিলভাই রাইগা যাইব।’

সাদিক যেভাবে তাকে কথাটা বলল, তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সে বিন্দুমাত্র দুঃখিত নয়। রাণা বলল, ‘ঠিক আছে। আপনি কী করবেন?’

আসগরকে ডাকল সাদিক। লোক দেখানো বকাবকি শুরু করে দিল। আসগর চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। কয়েক মিনিট পরে সাদিক বলল, ‘ভাইজান, আজ বিশ্রাম করেন, সারাদিন আমি আর জ্বালামু না। আর কিছু টেকা রাখেন।’

একটা মোটা খাম রাণার দিকে এগিয়ে দিল সাদিক। রাণা খামটা নিল।

সাদিক বলল, ‘বোঝেনই তো মিয়াঁ, আমাগো কামে বিশ্বস্ত লোকের দরকার হয়। আপনার তো তাও ভালো। আসগররে জামালভাই যা করসিলো, তা যদি আপনারে বলি, আপনি তো হয়রান হইয়া যাইবেন। ইলেকট্রিক শক দিসিল ভাই।’

শরীর দুলিয়ে হেসে উঠল সাদিক।

অমল বলল, ‘ভাই আমরা তাহলে উঠি। অনেক রাত হয়েছে।’

সাদিক ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘সে কী ভাই, খাইয়া যাইবেন না? খাইয়া যান। না খাইলে এত রাতে কোথায় খাবার পাইবেন? এই আসগর, তোর ভাবিরে বল বিরানি গরম করতে। খাইয়া না গেলে হয় কন? চলেন, টেবিলে চলেন।’

অমল বলল সে খেয়ে এসেছে। সাদিক জোর করে রাণাকে নিয়ে গেল। বিরিয়ানি বিন্দুমাত্র গরম করে দেয়নি। ফ্রিজ থেকে বেরোনো ঠান্ডা বিরিয়ানি। রাণা খানিকটা খেয়ে ফেলতে যেতেই সাদিক বলল, ‘খাইয়া নেন ভাই। খাবার ফেলাইতে নাই।’

রাণার অস্বস্তি লাগছিল। তাড়াতাড়ি খেয়ে নিল সে। বেসিনে মুখ ধুতে ধুতে দেখল সাদিক তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বলল, ‘ভাই, সিক্রেট কামে বাইরে যাইতাসেন। মাইয়া ছেলে দেখলেন, পিছন পিছন চইলা গেলেন, এভাবে কী হইব? শেখেন, ভালো কইরা কাম শেখেন।’

রাণার মাথা গরম হচ্ছিল। সে কিছু বলল না। সাদিকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে অমলের গাড়িতে উঠে সে রাগে ফেটে পড়ল, ‘আপনি ইচ্ছে করে আমাকে এখানে পাঠিয়েছিলেন, তাই না? আমাকে হ্যারাস করতে?’

অমল অবাক হল, ‘সে কী? কেন?’

রাণা বলল, ‘সেটা আমি কী করে জানবো? আপনি ওকে বলে দিতে পারতেন আমি যাব না।’

অমল বলল, ‘আমি তো চেষ্টা করেছিলাম। তুমি দেখেছিলে!’

রাণা গুম হয়ে বসে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, ‘আপনি আমায় একটা কিছু জোগাড় করে দিন। সাদিককে আমি উড়িয়ে দেব। ওকে দেখলে আমার মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে।’

অমল হেসে ফেলল, ‘আরে, এটা কি এত সোজা কোনও ব্যাপার? সাদিক কত বড় মাছ, সে খেয়াল আছে? মাথা গরম করলে এ কাজ কিন্তু ভীষণ কঠিন হয়ে যাবে।’

রাণা বলল, ‘ও আমাকে টার্গেট করেছে। এমনভাবে ট্রিট করছে আমি যেন ওর বাবার চাকর।’

অমল বলল, ‘সেটা তো ভালো। তার মানে ও তোমাকে বিশ্বস্ত ভাবছে। ওর সবথেকে কাছের চামচা আসগর। ওকে ও এতো বিশ্বাস করে যে যা ইচ্ছে তাই বলতে পারে, তুমিও সেরকম হয়ে যাচ্ছ।’

রাতের ঢাকা শহরে অমল গাড়ি চালাচ্ছিল। রাণা কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে বলল, ‘আমি এভাবে পারব না। আমার সমস্যা হয়। আসগর কোথায় থাকে? আমি আসগরকে ওড়াব। শুয়োরটা সব জেনে আমাকে ওই সিচুয়েশনে ফেলেছিল।’

অমল ব্রেক চেপে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিল। ঝাঁকুনি খেলো রাণা। অমল বলল, ‘তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?’

রাণা বলল, ‘মাথা খারাপ হয়নি। আমি এভাবেই কাজ করি। আসগরকে এই মুহূর্তে না ওড়াতে পারলে আমি কনসেনট্রেট করতে পারব না। আপনি জানেন ও কোথায় থাকে?’

অমল বলল, ‘আজ হয়তো সাদিকের বাড়িতেই থাকবে। কাল পুরান ঢাকায় যেতে পারে।’

রাণা বলল, ‘আপনি লোকেশন কনফার্ম করুন। আমি ওকে ওড়াব।’

অমল রাস্তার দিকে মুখ করে কিছুক্ষণ বসে রইল।

রাণা অধৈর্য হয়ে বলল, ‘কী হল?’

অমল বলল, ‘ঠিক আছে। আসগরকে ওড়াতে পারো, তবে সাদিক জানলে কিন্তু তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে না।’

রাণা বলল, ‘সেটা আমার উপর ছেড়ে দিন। আপনি ওকে লোকেট করুন।’

অমল মাথা চুলকোতে চুলকোতে হেসে ফেলল, ‘আচ্ছা পাগল পাঠিয়েছে তো উস্তাদ। বলে না মারলে কনসেনট্রেট করতে পারবে না। ঠিক আছে। দেখা যাক।’

.

১৮

ফ্ল্যাটে পৌঁছে অমল ঘড়ি দেখল, ‘সাড়ে তিনটে। তোমার যন্তরের ব্যবস্থা করি। তুমি রেস্ট নেবে, না যাবে?’

রাণা বলল, ‘যাব।’

অমল ফোন বের করল, ‘হ্যাঁ, আমি এসেছি।’

ফোন কেটে বলল, ‘চলো।’

দুজনে নামল। ফ্ল্যাটের উল্টোদিকে একটা বাইক দাঁড়িয়ে আছে। অমল সন্তর্পণে চারদিক দেখে বাইক আরোহীকে বলল, ‘আনসস?’

‘হ ভাই। এই যে।’

কাপড়ে মুড়িয়ে একটা রিভলভার অমলের হাতে তুলে দিল লোকটা। অমল সেটা নিয়ে বলল, ‘তুই যা। কাল আমারে খবর দিবি আসগর কোই আছে। ঠিক আছে?’

‘জি ভাই।’

ফ্ল্যাটে এসে অমল রাণার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তুমি আরেকবার ভেবে নাও। দরকার হলে উস্তাদের সঙ্গে কথা বলে নাও।’

রাণা বলল, ‘এই ব্যাপারে আমি কারো সঙ্গে কথা বলব না।’

অমল কালো কাপড়ে মোড়া রিভলভারটা টেবিলে রেখে বসে রইল। মেসেজ টোন বাজল তার ফোনে। বলল, ‘আসগর বেরিয়েছে। মগবাজারের ফ্ল্যাটে যাচ্ছে সম্ভবত।’

রাণা বলল, ‘তাহলে এখনই যাব।’

অমল রাণার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ভোর হয়ে যাবে তো?’

রাণা বলল, ‘চলুন।’

অমল কাঁধ ঝাকালো ‘অ্যাজ ইউ উইশ। চল।’

গাড়িতে উঠে অমল তার ফোনটা গাড়ির ড্যাশবোর্ডে রেখে বলল, ‘লাইভ লোকেশন আছে। চল।’

গাড়ি স্টার্ট করল অমল। রাণার মাথা গরম হয়ে আছে।

ঠিক এটাই হয় তার। একটা সময়ের পরে কাউকে না মারলে শান্তি হয় না। সাদিকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সে ট্রিগারড হয়ে আছে।

ড্রাইভ করতে করতে অমল ফোন করল কাউকে, ‘একা আছে? মগবাজারে যাচ্ছে তো? ঠিক আছে। আমি ওর বিল্ডিং-এ যাচ্ছি।’

ফোন রেখে অমল বলল, ‘সিসিটিভি নেই ও রাস্তায়। এটা বাঁচোয়া।’

রাণা চুপ করে বসে রইল।

বিল্ডিং-এর সামনে এসে গাড়ি দাঁড় করাল অমল। ফোনে কথা বলে বলল, ‘ফ্ল্যাটে ঢুকে গেছে। আমি গাড়ি রাখছি। চলো।’

গাড়ি রাস্তায় রেখে অমল বলল, ‘ইয়াসমিন অ্যাপার্টমেন্ট। হ্যাঁ। এই বিল্ডিংটাই। থার্ড ফ্লোর। চলো।’

রাণা বলল, ‘আপনি গাড়িতে থাকুন। ফ্ল্যাট নাম্বার বলুন শুধু।’

অমল বলল, ‘পারবে?’

রাণা বলল, ‘একাই করি এসব। নাম্বার?’

অমল হাল ছেড়ে দেওয়ার ভঙ্গি করে বলল, ‘থ্রি এ। মাস্ক পরো। এই নাও।’

রাণা মাস্ক পরে নিয়ে গাড়ি থেকে নামল। সিকিউরিটি তাকে দেখে চিৎকার করতে গেল, রাণা তার মাথায় রিভলভারের বাট দিয়ে মারল। একটা ছোট শব্দ করে মাটিতে পড়ে গেল সে।

রাণা সিঁড়িতে উঠল। তার মাথায় রক্ত যেন টগবগ করে ফুটছে। তিন তলায় উঠে ফ্ল্যাটের নাম্বার দেখল সে। থ্রি এ দেখে কলিং বেল টিপল। দরজা খুলল না। রাণা আবার কলিং বেল টিপল।

হালকা শব্দ করে দরজা খুলল এবার। বিরক্ত গলায় আসগর বলল, ‘কোন হালার পু…’

কথা শেষ করতে পারল না আসগর। গুলি তার দু’চোখের মাঝের অংশের নিখুঁত জায়গায় গিয়ে লাগল। সাইলেন্ট রিভলভার বিন্দুমাত্র শব্দ করল না। আসগর লুটিয়ে পড়ল মেঝেয়। রাণা চুপ করে কয়েক সেকেন্ড সেদিকে তাকিয়ে থেকে ধীর পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেল। সিকিউরিটির লোকটার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে সে ‘সরি’ বলে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে বসল। অমল গাড়ি স্টার্ট দিয়ে রেখেছিল। রাণা ওঠামাত্র সে অ্যাকসিলারেটরে চাপ দিল।

রাণা চুপ করে গাড়িতে বসে আছে। অমল বলল, ‘কমপ্লিট?’

রাণা বলল, ‘হু।’

অমল বলল, ‘আশা করব, সাদিক আমাদের ফলো করবে না। করলে…’

রাণা বলল, ‘গুষ্টিসুদ্ধ উড়িয়ে দেব। ভয় পাবেন না।’

অমল আর কোনও কথা বলল না। চুপ করে গাড়ি চালিয়ে যেতে লাগল।

.

‘তোমার মাথা ঠান্ডা হয়েছে?’

ফ্ল্যাটে পৌঁছে প্রথম কথা বলল অমল।

রাণা বলল, ‘স্নান সেরে এসে বলছি।’

অমল হাসল, ‘যাও।’

সময় নিয়ে স্নান করল রাণা। এই সময়টা মাথা ঠান্ডা করার সময়। এরপর ঘুমোতে হবে। অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমোনোর পর তার জীবন রিস্টার্ট হবে। আসগরের দু’চোখের মাঝখানে গুলিটা চালানোর বড্ড দরকার ছিল। সব থেকে ভালো হতো সাদিককে ওড়াতে পারলে। স্নান করতে করতেই লোকটার কথা মনে করার চেষ্টা করছিল সে।

লোকটা বলেছিল, অমল বিগড়েছে। অমল ঠিক কী বিগড়েছে? অস্পষ্ট কথা বলে তাকে পাঠিয়ে দিয়েছে। কোনও একটা উদাহরণ দিয়ে বলা উচিত ছিল। সাকিনা কি জানবে? সাকিনার কাছে যাওয়াটা সম্ভব না। সাদিক সন্দেহ করবে।

ভাবতে ভালোও লাগছে না। আবার না ভাবলে হচ্ছেও না।

স্নান সেরে বেরিয়ে রাণা বলল, ‘আমি ঘুমোব।’

অমল বলল, ‘সাদিক ফোন করেছিল। আসগরের ব্যাপারটা বলল। আসগর একটা সময় ছিনতাইবাজদের দলে ছিল। সাদিক ওদের সন্দেহ করছে। আজ রাতের মধ্যে ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটা ছিনতাইবাজের খবর হবার চান্স আছে। সো গুড জব।’

অমল হাসল। রাণা বলল, ‘আসগরের রিপ্লেসমেন্ট কাকে নেবে সাদিক?’

অমল বলল, ‘ওর কী লোকের অভাব আছে? কেউ না কেউ হয়ে যাবে। ওরাও জানে এ লাইনে লোক তৈরি করে নিতে হয়। যেভাবে তোমাকে তৈরি করতে চাইছে। একবার এ লাইনে ঢুকে গেলে কেউ আর ফিরতে পারে না। সাদিকদের মতো লোকেরা সমাজের জঞ্জাল।’

রাণা বলল, ‘আমি ঘুমোই। সাদিক আজকে ফোন করবে না বলেছিল। আমাকে ডাকলে বলবেন, ঘুমোচ্ছে।’

অমল বলল, ‘ঠিক আছে।’

রাণা তার ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। এই ঘুমটার জন্য তাকে কোনদিন নিজেকে সাধ্যসাধনা করতে হয়নি। কাজ শেষে ঘুমটা ভীষণ দরকার।

.

১৯

বেলা বারোটা নাগাদ রাণা উঠে বসল। আসগর যেভাবে তার পেছন পেছন যায়, দুঃস্বপ্নেও সেভাবেই এসেছিল। শুধু তার দুই ভ্রু-র মাঝে বুলেট বসে আছে। শরীর থেকে রক্ত বয়ে চলেছে। ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জলের বোতল নিয়ে জল খেল। অমল টিভি দেখছে। বলল, ‘নিউজ চ্যানেলে আসগরকে দেখাচ্ছে। হাই ফাই ব্যাপার হয়ে গেছে।’

রাণা টিভির সামনে বসল। রাস্তায় অবরোধ হচ্ছে। ‘বিশিষ্ট সমাজসেবী’ আসগর মিয়াঁর খুনের ঘটনায় শোকের আবহ। সে হেসে ফেলল। অমল চিন্তিত গলায় বলল, ‘হেড অফিস বিরক্ত হয়েছে। আসগরকে সরানোর ফলে সাদিক যদি ব্যাকফুটে চলে যায়, তাহলে সমস্যা হতে পারে।’

রাণা বলল, ‘আপনার কী মনে হয়? সাদিক অপারেশন শিফট করবে?’

অমল বলল, ‘জানি না। তবে সাদিকের বাড়ি যাওয়া দরকার। আমরা এখানে বসে থাকলে ওর সন্দেহ হতে পারে। শোকের আবহ, চুপ করে গিয়ে বসে থাকলে ভালো হয়।’

রাণা বলল, ‘গেলে যদি আবার নতুন কাজ দিয়ে দেয়?’

অমল বলল, ‘সেটা না গেলেও দিতে পারে। কাজের সঙ্গে ওদের কোনও খাতির নেই। কী করবে? যাবে?’

রাণা বলল, ‘চলুন।’

অমল বলল, ‘খেয়ে নিই চলো।’

খেয়ে নিয়ে দুজনে বেরোল।

সাদিকের বাড়ি পৌঁছে দেখল পরিবেশ থমথমে। সাদিক পান খাচ্ছিল মুখ লাল করে। তাদের দেখে জড়ানো গলায় বলল, ‘বসেন মিয়াঁ। খানকির পুলাগুলানরে পাইলে আমি কুত্তার মতো মারব। আসগর ছিল আমার ডান হাত, আসলে ছোট ভাইয়ের থেকেও বেশি।’

রাণা শান্ত মুখে বসল। অমল বলল, ‘আসগরকে মারলো কেন সাদিকভাই?’

সাদিক বলল, ‘শালার টাকার লোভ তো কম না ভাই। আমার লগে কাজ করত, আবার অন্যদিকেও তো সব কাম ছাড়ে নাই। সাউগার ভাই সোহেলের লগে কাম করত। কক্সবাজার গেসে। ওইডারে আনানোর ব্যবস্থা করসি। সব বাইর হইব। আপনি খালি দেইখা যান।’

অমল বলল, ‘আপনার তো সমস্যা হয়ে গেল ভাই। আসগর না থাকলে এত কাজ করবেন কী করে?’

সাদিক বলল, ‘না সে ঠিক আছে। কাসেম আছে। ওরে দিয়াই কাম চালাইতে হইব। আমার চিন্তা অন্য মিয়াঁ। আসগরের কাছে আমাগো পাসপোর্টগুলান ছিল। কাল গৌতমভাই যে পাসপোর্টে গেছিল, সেটাও ওর কাছে ছিল। পুলিশ এখন ঘর তল্লাশি করতে গিয়া ওইগুলান পাইলে বিপদ। আসগর কোই রাখতো সেসব, আমি তো জানি না।’

অমল বলল, ‘সেরকম হলে আমাদের গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হবে ভাই। আর তো কিছু করার নেই।’

সাদিক বলল, ‘এখন যা কাম চলে, তাতে আপনার কি মনে হয় আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকলে হইবে? আমি তো ভাবতাসিলাম গৌতমভাইরে কাল কলম্বো পাঠামু, গেল সেসব প্ল্যান!’

অমল বলল, ‘ঠিক আছে। মাথা ঠান্ডা করেন ভাই। এক দুটো দিন যেতে দিন। আবার সব ঠিক হয়ে যাবে।’

সাদিকের ফোন বেজে উঠল। সাদিক ফোন তুলে উত্তেজিতভাবে ঘরের বাইরে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে বলল, ‘সোহেল কিছু জানে না। বলে ওর লগে আসগরের তো কোনও ঝামেলাই নাই। উল্টে আসগরের লগে ওর ইন্ডিয়া যাবার কথা ছিল। না ভাই, আমারও মনে হইতাসিলো, সোহেল আসগররে মারবে না।’

অমল বলল, ‘তাহলে কে মারবে?’

সাদিক গম্ভীর মুখে বসে রইল, ‘কম পাপ তো করে নাই। কোথায় কী কইরা রাখসে সেটা দেখতে হইব। বেশিদিন লাগব না, বাইরাইয়া যাইব। আমারে কলম্বো ম্যানেজ করতে হইব ভাই, নইলে দুঃখ আছে। যদি পুলিশ পাসপোর্ট না পাইয়া থাকে, তাইলে গৌতমভাইরে কাল যাইতে হইব। আর যদি পাইয়া থাকে তাহলে তার ব্যবস্থা কী, দেখি। আপনি যাইতে পারবেন রুমানভাই?’

অমল বলল, ‘হ্যাঁ। কেন পারব না?’

সাদিক চিন্তিতমুখে রাণার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, ‘কেমন বাজে ব্যাপার বলেন গৌতমভাই। ছেলেটা কাল গেল, রাতে ফিরাই খুন হইয়া গেল। যে খানকির পুত এইটা করসে, সে জানে না কী করসে। ঠিক আছে। দেখা যাইব, ছাড় সে পাবে না।’

রাণা বলল, ‘ছাড়া উচিতও না। আসগরই আমাকে প্রথম সাকিনার কাছে নিয়ে গেছিল।’

সাদিক খুশি হল, ‘ও মিয়াঁ, আপনার দেখি আবার সাকিনার কথা মনে পইড়া গেল। আবার যাইতে ইচ্ছা করে নাকি?’

রাণা মাথা নাড়ল, ‘না, না। সেরকম কিছু না।’

সাদিক বলল, ‘আমি তো বুঝছি। আপনার রক্ত গরম মিয়াঁ। কখন যাইবেন বলেন, আমি ব্যবস্থা কইরা দিমু নে।’

রাণা বলল, ‘না না ভাই, এখন এখানে এই অবস্থা, এই পরিস্থিতিতে ওসব থাক।’

সাদিকের ফোন বাজছিল আবার। সাদিক ফোন ধরল, ‘জি মিয়াঁ, জি, হ, ঠিক আসে। আচ্ছা। ঠিক আছে।’

ফোন রেখে সাদিক বলল, ‘অগো বিল্ডিং-এর সিকিউরিটির জ্ঞান ফিরসে। সে বলতাসে লোকটারে দেখতে পায় নাই। মুখোশ পইরা ছিল। হালার পুত। আসগররে ওই ফ্ল্যাট কিইনা দেওয়াই আমার ঠিক হয় নাই। কত দাম জানেন ওই ফ্ল্যাটের? তার দিয়া ও যদি এইখানে থাকতো, সেইটাই ভালো হইত।’

কাসেম এসে দাঁড়াল। সাদিক বলল, ‘কী হইল?’

কাসেম বলল, ‘পুলিশ আইসে।’

সাদিক তাদের দিকে তাকাল, ‘দ্যাখসেন মিয়াঁ, এবার ওগোও খাওন লাগব। আপনারা বসেন। আমি দেইখা আসি।’

সাদিক উঠে গেল।

অমল বলল, ‘সাদিক প্রবল চাপে পড়ে গেছে দেখছি।’

রাণা বলল, ‘ওকে আসগরের কাছে না পাঠানো পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছি না।’

অমল হেসে ফেলল, ‘এত মাথা গরম তোমার?’

রাণা বলল, ‘কাসেম কোথায় থাকে?’

অমল রাণার দিকে হাঁ করে তাকাল, ‘কাসেমের সঙ্গে তো তোমার ঝামেলা নেই?’

রাণা বলল, ‘আমার সাদিককে দেখলেই মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে।’

অমল বলল, ‘ঠিক আছে। ফিরে আমরা এটা নিয়ে কথা বলছি। দরকার হলে তোমার সঙ্গে উস্তাদের কথা বলিয়ে দিচ্ছি।’

আধঘণ্টা ধরে পুলিশ সাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করল। সাদিক এসে গুম হয়ে বসে রইল। অমল বলল, ‘কী বলছে পুলিশ?’

সাদিক বলল, ‘আমার কাছে কাজ করত, কাল এতো রাতে ফিরেছে কেন, এসব। আমি কেন আসগরের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে কাজে রাখি নাই, খাওয়াতে হইব। বোঝেন না? খাইতে চায়। এদের হাঁ অনেক বড় রে ভাই। ছোট কিছুতে এদের পেট ভরবে না।’

অমল বলল, ‘মিনিস্ট্রি লেভেলে আপনার পরিচিতি আছে না?’

সাদিক বলল, ‘পুঁটি মাছে কাজ হইলে ভাই রুই-কাতলা লাগে না। সব সময় বড় মানুষদের বিরক্ত করার কি দরকার আছে? কী বলেন গৌতম ভাই?’

রাণা মাথা নাড়ল, ‘না। দরকার নেই।’

সাদিক বলল, ‘একটাই ভালো খবর আছে মিয়াঁ, ওরা পাসপোর্টের খবর পায় নাই।’

রাণা বলল, ‘কিংবা আপনাকে বলেনি।’

সাদিক চোখ ছোট ছোট করে রাণার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এটা তো আপনি ভালো কথা বলছেন ভাই। অনেক ভালো কথা বলছেন। আপনার বুদ্ধি আছে। এই জন্যই আপনারে আমার পছন্দ, বুঝছেন মিয়াঁ?’

অমল বলল, ‘রিস্ক নেওয়ার দরকার নেই। আপনি চাইলে আমি কলম্বো চলে যাব।’

সাদিক বলল, ‘আমি রাতে বলতাছি ভাই। কলম্বোর সিগনাল এতক্ষণ গ্রিন ছিল, এখন লাল হইয়া গেছে। আসগরের খবর সব জায়গায় চলে গেছে।’

অমল ঘাড় নাড়ল, ‘জি।’

সাদিকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে অমল থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। রাণা বলল, ‘কী হল?’

অমল বলল, ‘একবার লতিফ চৌধুরীর বাড়ি হয়ে যাই। আমার কেমন একটা অস্বস্তি হচ্ছে। নাহ্‌, ঘুরেই আসি, চলো।’

.