মগ্ননারাচ – ২

পরদিন ভোরে যখন মোতি আর ছুটকি জেটিঘাটে পৌঁছল, সবে পূর্ব আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। সারাটা রাত মোতি দু’চোখের পাতা এক করতে পারেনি। বাঁধাছাঁদা করতে করতে রাত গড়িয়েছে, বাকি সময়টা কিছুক্ষণ অন্তর ঘুম ভেঙে উঠে বসেছে। চুপ করে দালানে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছে। পুরনো আসবাব, গালিচা, মখমল, তাকিয়ায় নিজের মনে হাত বুলিয়েছে।

হোক ভাড়া কোঠি, তবু এখানেই ওর বড় হওয়া। আম্মুর আদর। প্রথম রেওয়াজ। আম্মু অবসরে টুপি বানিয়ে বিক্রি করত। কতরকম টুপি। পাঁচপানওয়ালি টুপি। দুপলড়ি টুপি। আলমপছন্দ টুপি। মিজদিল টুপি। সেগুলোর কয়েকটা সযত্নে রাখা আছে আলমারিতে। শেফালি আর যমুনা বলেছে, অতকিছু নিয়ে যাওয়া যাবে না। সব রেখে যাবে বাড়িওয়ালার কাছেই।

ওর চোখ জলে ভরে এসেছে বারবার। মনে হয়েছে, এতদিন পর সত্যিই যেন আম্মুকে ছেড়ে ও চলে যাচ্ছে অনেকদূরে। মায়ের হাতে বোনা রেশমি রুমাল জড়িয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ফিসফিস করেছে, ‘আম্মু, ওকানে তোমার মোতিয়া ভালো থাকবে, দেখো। অনেক বড় বাইজি হবে। সাহেবরা ভরে ভরে সেলাম ঠুকবে। খুদা হাফিজ।’

জেটিঘাটে জড়ো হয়েছে সাত আটজন নারী। সবাই যে মোতির মতো ভূতপূর্ব নর্তকী তা নয়। সাধারণ ধোপানী, ভিশতিনী, নবাবের প্রাক্তন পরিচারিকাদের মধ্যেও কেউ কেউ আছে। সবচেয়ে যে বয়স্ক, সে হল লম্বোদরী। সে আসামেরই মেয়ে, বয়সে মোতির মায়ের মতো, নবাবের হিন্দু রসুইয়ে সে ছিল পাচিকা। এছাড়া ফতেমা, রোশনারা, হিন্দুপল্লীর লক্ষ্মী, কানির মতো মেয়েরাও রয়েছে। সবারই কাঁধে একটা করে ঝোলা। তাতে খানদুয়েক পোশাক। শেফালি আর যমুনা বারবার বলেছে, বেশি কিছু নেওয়ার দরকার নেই। ওখানে পৌঁছলেই সবকিছু পাওয়া যাবে।

লম্বোদরী মুখ টিপে হেসেছে, ‘হ-হ জানি। ওকানে এক্কেরে রানির হালে থাকুম! আমার মাইয়াডা গেছে যে!’

মোতি হাসল। লম্বোদরী পিয়াজুবাইকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছিল। তাই পিয়াজু চলে যাওয়ার পর সেও এখন মেয়ের টানে আসাম চলেছে।

গঙ্গা টপকে হাওড়া। তারপর শিয়ালদা। সেখান থেকে আসামের ট্রেন ছাড়বে। এতদিন গঙ্গার এপার থেকে দূরের হাওড়া দেখেছে মোতি, শুনেছে জাহাজের ভোঁ শব্দ। জন্মাবধি এই মেটিয়াবুরুজই ছিল তার দুনিয়া। গঙ্গা পার হওয়ার জন্য নৌকোয় উঠতেই মোতির বুকের ভেতরটা কেমন ফাঁকা হয়ে গেল। রোশনারা, লম্বোদরী, পুঁটিবালারা আনন্দে ডগমগ, নিজের মধ্যে গল্পে মশগুল।

কত মাস তীব্র উৎকণ্ঠায় কেটেছে, দিন গিয়েছে অজানা বিপদের আশঙ্কায়। স্বভূমিকে ধীরে ধীরে শ্মশান হতে দেখেছে ওরা, এখন নতুন দেশে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্নে বিভোর তারা। শেফালি আর যমুনা থেকে থেকে সেখানকার কোনও মনোরম অভিজ্ঞতা বলছে, আর ওরা চোখ বড়বড় করে শুনছে।

মোতির কর্ণকুহরে সেসব প্রবেশ করছিল ঠিকই, কিন্তু মস্তিষ্কে কোনও প্রভাব বিস্তার করছিল না। মেটিয়াবুরুজ যত দূরে সরে যাচ্ছিল, ওর চোখদুটো বাষ্পে ভরে উঠছিল। ছুটকি বুঝতে পারছিল ওর বেদনা, কোনও কথা না বলে ও মোতির হাতটা ধরে বসেছিল।

হাওড়ার ঘাটে নামামাত্র দুজন দেহাতী লম্বাচওড়া পুরুষ ছুটে এল। পরনে পেয়াদার পোশাক, হাতে লাঠি। সে কী তাদের লম্ফঝম্প! সবাইকে হেঁকেডেকে একত্র করে তারা নিয়ে গেল ঘাট থেকে কিছু দূরে একখানা বাড়িতে।

মোতি জিজ্ঞাসু চোখে তাকাতে শেফালি ওর কানে এসে ফিসফিস করল, ‘কাল সকালের আগে ট্রেন নেই লো। আজ রাতটা একেনে থাকতে হবে। সব ব্যবস্থা করে রেকেচে ওরা।’

ছুটকি মুগ্ধচোখে তাকায়, ‘সাহেবসুবোদের ব্যাপার দিদি। রকম সকমই আলাদা!’

তা হবে। বাড়িটা মন্দ নয়। চারদিকে পাঁচিল, মাঝখানে লম্বা লম্বা টিনের ঘরের খুপড়ি। সেখানে পুরুষ নারী নানারকমের মানুষ গিজগিজ করছে। তারই মধ্যে একটা ঘরে মোতি আর ছুটকির থাকার বন্দোবস্ত হতে না হতেই একজন ভৃত্য এসে বলল, ‘খাবার তৈরি। এই নাও তেল। তেল মেখে খিড়কির পুকুরে স্নান করে এসো।’

খেতে বসে তো ওদের সকলের চক্ষু চড়কগাছ! এ যে এলাহি বন্দোবস্ত! তার ওপর সামান্য চাকরবাকর থেকে দিশী বড়বাবু, এমনকী শ্বেতাঙ্গ বড়সাহেব অবধি ওদের আতিথেয়তায় কোনও ত্রুটি রাখছেন না।

পুঁটিবালা মনের সুখে মাছভাজা চিবোতে চিবোতে মোতির দিকে ঝুঁকে এল, ‘মোতিদিদি, একেনেই এই, তবে আসামে গিয়ে না জানি কেমন রানির মতো থাকব। মাইরি বলচি, এমন সৌভাগ্যি কপালে ছিল!’

তা ওদের সৌভাগ্য কতটুকু, তা কূট প্রশ্ন, তবে শেফালি আর যমুনার যে আজ ভাগ্য সুপ্রসন্ন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

ডিপোর সাহেব বলেই দিয়েছিলেন, কুলির দাম এখন বেশ চওড়া। মাথাপিছু একশো টাকা। তাদের ডিপোয় জমা দিয়ে এগ্রিমেন্ট হয়ে গেলেই শেফালি আর যমুনার বরাতে জুটবে মাথাপিছু দশটাকা করে কমিশন। ডিপোর অফিসঘরে বসে শেফালি যমুনার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপল, ‘কী বলেচিলুম?’

‘সত্যি দিদি। তোমার এলেম আচে। মেটেব্রুজের রেন্ডিগুলোকে পজ্জন্ত ঘোল খাইয়ে দিচ্চ!’

‘না খাইয়ে উপায় আচে? গাঁ-গঞ্জের ঘরের বউগুলো যে আর বশ হচ্চে না, সে তো দেকতেই পাচ্চিলি। আসাম থেকে যেক’টা কুলি পালিয়ে ফিরেচে, এসে সব সত্যি কতা ফাঁস করেচে। আমরা যে আড়কাঠি তা টের পেলেই গাঁয়ের লোক দূর দূর করচে!’

‘হ্যাঁ গো দিদি। আগে কত সহজে সব কাজ হত। একটু ভালো গয়না আর কাপড়চোপড় পরে বর্ধমান হুগলির দিকের কোনও গাঁয়ে গেলেই ঘরের মাগিগুলো ঝাঁপিয়ে পড়ত। তকন শুধু তাদের সঙ্গে কুটুম্বিতা পাতানো, একটু খাবার দেওয়া, ছেলেপিলেদের হাতে এক আধটা পয়সা গুঁজে দেওয়া। ব্যস। এমনিই ওদের পেটে ভাত নেই, পরনে কাপড় নেই, তার ওপর ঘরের মিনসের কিল ঘুষি খেয়ে সারা। আসামের বাগানের সুখ, ভালো খাবারদাবার, মাইনের লোভ দেখালেই তারা একপায়ে খাড়া হয়ে যেত, লুকিয়ে বেরিয়ে আসত।’

‘শুধু তাই কেন? আমি তো একবার কয়েকজনকে তীর্থে নিয়ে যাওয়ার নাম করেও এই কলকেতার ডিপোয় এনেচিলাম। তারপর ভুলিয়েভালিয়ে রেজিস্টারিতে সই করিয়ে চালান করে দিলাম। সেসব দিন একন গেচে। লোকে এখন অনেক সেয়ানা। কাগজেও লেকালেকি হচ্চে নাকি। আসাম শুনলেই গাঁ-গঞ্জের লোকেরা বাঁশ নিয়ে তাড়া করচে।’ শেফালি নাকে নস্যি নিল, ‘ওইজন্যই তো একন অন্যদিকে নজর দিলাম। এই মেটেব্রুজে তো বাইরে কোনও খবরই পৌঁচয় না। এখান থেকে একন কিচুদিন ভালো কুলি চালান দেওয়া যাবে। আগেও নিয়ে গেচি কটাকে।’

যমুনা সহসা উতলা হয়ে ওঠে, ‘কিন্তু যাই বলো দিদি, এরা আবার রেজিস্টার সাহেব এলে আবার বেঁকে বসবে না তো? এখন তো অনেক কড়া নিয়ম হয়েচে। সব বুজিয়ে সই করাতে হবে।’

‘কিচ্চু ভয় পাস না। আমি এদের মাতা চিবিয়ে খেয়ে রেকেচি। বলেচি, রেজিস্টার সাহেবের মেজাজ বড় কড়া, চায় না তোমরা ওকানে গিয়ে ভালো থাকো, কামাও। তোমাদের মন ভুলোনোর জন্য নানারকম ভয় দ্যাকাবেন। তাতে ভুললে তোমাদেরই ক্ষতি। আর যদি বেঁকেও বসে, সটান জাহাজে তুলে দেব। ওকানে গিয়ে বাপ বাপ করে আঙুলের ছাপ দেবে।’

ঊনবিংশ শতাব্দী এক আজব সময়কাল। একদিকে নবজাগরণে মাতোয়ারা দেশ, অন্যদিকে প্রদীপের নীচে চাপা পড়া অগণিত শোষিত বঞ্চিত মানুষ। আড়কাঠিদের মারফত বাংলার গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুধু ল্যাটিন আমেরিকার আখের খেতেই ‘ইনডেনচারড কুলি’ করে দলে দলে লোক পাঠানো হত না, পাঠানো হত আসামেও। কেন পাঠানো হত? তার জন্য বলতে হবে ছোট্ট একটা গল্প। সেই গল্পের নায়ক হল চা।

উনিশ শতকের প্রথম দিকে নীলকর সাহেবদের অত্যাচার সুবিদিত। প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়া নীলবিদ্রোহ এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে নীল তৈরি আবিষ্কারের পর নীল চাষ বন্ধ হয়। এদিকে নীলচাষে বিনিয়োগ করা বিরাট মূলধন নিয়ে কী করা যায়? সেইসময় চীন থেকে চায়ের আন্তর্জাতিক বাজার ছড়িয়ে পড়ছে গোটা বিশ্বে। ব্রিটিশরা নীল চাষের বিকল্প হিসেবে বেঁচে নিল চা শিল্পকে। পার্লামেন্টে ঝটিতি বিল পাস হয়ে গেল। আর চা চাষের জন্য সুবিস্তীর্ণ এলাকা হিসেবে বেছে নেওয়া হল উত্তরপূর্ব ভারতের আসামকে।

১৮৫০ সালে আসামে হাজার একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে, মাত্র ৩১ বছর পর ১৮৮১ সালে সেই চাষের জমি বেড়ে দাঁড়াল ২ লক্ষ একর। মাইলের পর মাইল চা বাগান গড়ে উঠছে। টি-প্ল্যান্টার সাহেবদের ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠছে। একেকটা চা বাগান যেন একেকটা স্বতন্ত্র সাম্রাজ্য! জমিও অঢেল, মূলধনও প্রচুর, শুধু অভাব হল কুলির। আসাম তখন জঙ্গলাকীর্ণ ভূমি, যোগাযোগের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। সেখানে পর্যাপ্ত কুলি সরবরাহ করাই মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়াল।

আর ঠিক তখনই শুরু হল কুলি সংগ্রহের জন্য প্রতারণা। ঠিক যেভাবে ১৮৪০ সালে দাস ব্যবসা নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ার পঞ্চাশবছর পরেও ‘কনট্র্যাক্ট’ বা ‘ইনডেনচারড লেবার’-এর নামে ল্যাটিন আমেরিকার আখের খেতে পাঠানো হচ্ছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে, ঠিক একই কৌশলে তখন বোকা বানানো চলছে আসামের নামেও। গ্রামে গ্রামে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে পুরুষ কিংবা নারী আড়কাঠিদের, তারা ভুলিয়েভালিয়ে নিয়ে আসছে মানুষদের, পাচ্ছে মাথাপিছু মোটা বকশিশ।

নামেই পাঁচ বছরের কন্ট্র্যাক্ট। উদয়াস্ত খেটে একশ বছরেও শোধ হবে না কর্জ, অকথ্য অত্যাচারে জীবন নির্বাপিত হবে সেই চা বাগানেই। সেইসব চা বাগানে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলে কিছু নেই, জাতপাত ধর্ম বর্ণের কোনও ছোঁয়াছুঁয়ি নেই। প্রত্যেক কামিন অর্থাৎ মহিলা কুলিকেই শিকার হতে হয় পুরুষের লালসার, বাগানের ম্যানেজার থেকে ডাক্তার, স্টিমারের সারেঙ থেকে কুলি লাইনের সর্দার নির্বিশেষে। কে কার স্ত্রী, কে কার সন্তান, তা নিয়ে কারুর কোনও মাথাব্যথা নেই। প্রতিটি কুলির স্ত্রীকে নিয়ম করে যেতে হয় ছোট-বড়সাহেবদের বাংলোয়। আধপেটা খাওয়া, অমানুষিক অত্যাচার আর সারাজীবনের দাসত্বে শেষ হতে হতে ভুলে যায়, একদিন তারা কোনও গৃহস্থ পরিবারের বধূ ছিল, কিংবা ছিল কোনও কৃষক।

এদিকে আসামে বছরের পর বছরের এইভাবে পাচার হওয়া নির্বাসিত কুলিদের হতভাগ্য দশা দেশে সম্পূর্ণ অজানা। দেশের শিক্ষিত সমাজ তখন উত্তাল জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নিয়ে। কেউ জানে না এইভাবে ফুঁসলে নিয়ে যাওয়া হতভাগ্য মানুষগুলোর কী অবস্থা হচ্ছে। ব্রিটিশ টি-প্ল্যান্টাররা তাদের বেঁধে ফেলে সারাজীবনের দাসত্বখতে, পালাবার চেষ্টা করেও ধরা পড়ে যায়।

সেইসব কুলিদের কথা জানা যেতও না, যদি না দুটি মানুষ আসাম থেকে ফিরে কলম ধরতেন। প্রথমজন সমাজের সম্পূর্ণ বিপরীত স্রোতে হেঁটে নিজের স্ত্রীকে ডাক্তার করেছিলেন, সেই দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়। আর দ্বিতীয়জন দ্বারকানাথেরই প্রতিবেশী, বন্ধু, সহযোদ্ধা, রামকুমার বিদ্যারত্ন। দুজনেই ছিলেন ব্রাহ্মধর্মের সক্রিয় সদস্য।

প্রথমে রামকুমার আসামে গিয়েছিলেন ব্রাহ্মধর্ম প্রচার করতে। কিন্তু বাংলা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে গজিয়ে ওঠা সেখানকার ছোট-বড় বাগানে চা-কুলিদের ওপর নিয়ন্ত্রণহীন অত্যাচার দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন। তাঁর বিস্ময় মাত্রা অতিক্রম করল, যখন দেখলেন, কুলিরা খুন হলেও ইংরেজ বিচারকরা ঠিকমতো বিচার করেন না। টি-প্ল্যান্টার সাহেবদের শাস্তি দেওয়া দূরে থাক, উল্টে নিহত কুলির পরিবারকে আরো হেনস্থার সম্মুখীন হতে হয়। রামকুমার দ্বারকানাথের ‘সঞ্জীবনী’ পত্রিকায় লিখে পাঠাতে লাগলেন সেইসব ভয়ংকর ঘটনা।

রামকুমার লিখলেন, দেশসুদ্ধ সব লোক ল্যাটিন আমেরিকায় কুলি পাচার করা নিয়ে রে রে করছে, এদিকে ঘরের কাছে আসামে যে আরেকদল আড়কাঠি হাজার হাজার সরল নিষ্পাপ মানুষকে পাচার করে সারাজীবনের মতো নরকবাস করাচ্ছে, তার খবর কে রাখে?

আড়কাঠিরা যে কত বিচিত্র উপায়ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে মিথ্যে প্রলোভনে এইসব অসহায় পুরুষ-নারীকে এখানে চালান করেছে, ভাবলে শিহরিত হতে হয়।

রামকুমার এখানেই থামলেন না। একদম অকাট্য প্রমাণসমেত তুলে ধরতে শুরু করলেন ভয়ংকর সমস্ত ঘটনা। শ্রীহট্টের কলাগোলা চা বাগানের ম্যানেজার গর্ডন সাহেব উমেশ নামের এক চোদ্দ বছরের কিশোর কুলির পেটে লাথি মেরেছিল। উমেশের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও জেলা জজ গর্ডনকে নির্দোষ বলে মুক্তি দিয়েছেন। রামকুমার লিখলেন, খুনি আর বিচারক যখন বন্ধু, এর চেয়ে বেশি আর কী আশা করা যাবে? ইংরেজরা নাকি ন্যায়পরায়ণ জাতি। এই তার নমুনা?

রামকুমার ওয়েব সাহেবের ঘটনাটাও প্রকাশ করলেন ‘সঞ্জীবনী’-তে। ওয়েব সাহেব ছিল ‘ইন্ডিয়ান স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি’র কোকিলামুখ জাহাজ ঘাটের একজন কর্মচারী। জাহাজে করে যে সব চুক্তিবদ্ধ কুলিরা আসত, চা বাগানের লোকরা এসে রেজিস্টার অনুযায়ী তাদের নিয়ে যেত। বাগানে নিয়ে যাওয়ার আগে অবধি ওয়েব সাহেবের দায়িত্ব ছিল তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করার।

তা ওয়েব রক্ষণাবেক্ষণ করত বটে। শুকুরমণি নামে এক বিবাহিতা কুলিকে সে বারবার বিছানায় টানতে চাইছিল, শুকুরমণি সম্মত হয়নি। তখন ওয়েব সাহেব মেয়েটির স্বামী বুধনকে প্রচণ্ড মারধোর করে, তার সামনেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে এবং তাকে এমনভাবে মারধোর করে, যে কয়েকদিন পরেই শুকুরমণি মারা যায়।

ওয়েব সাহেবকে এই অপকর্মে সাহায্য করে বেণুধর নামে তার এক দেশীয় কর্মচারী। এতকিছুর পরে চা বাগানের নিজস্ব ডাক্তার শুকুরমণির মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে বিষয়টা ধামাচাপা দিয়েই দিয়েছিলেন। শুকুরমণির হতভাগ্য স্বামী বুধন নামের কুলিটি বহু সাক্ষী প্রমাণ জোগাড় করলে লোয়ার থেকে হাইকোর্টের জজেরা নাম কা ওয়াস্তে কয়েক টাকা করে জরিমানা ধার্য করে ওয়েব আর বেণুধরকে ছেড়ে দিলেন।

এই দুটো ঘটনার খবরই সুদূর আসাম থেকে কিছুতেই যাতে রাজধানী কলকাতায় এসে না পৌঁছয়, তার জন্য টি-প্ল্যান্টাররা ও ব্রিটিশ আইনরক্ষকরা যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষরক্ষা হল না। রামকুমার বিদ্যারত্ন আসামে এসে সব জানতে পেরে তথ্যপ্রমাণ সহ এই দুটো ঘটনাই প্রকাশ করলেন সঞ্জীবনীতে। বলাই বাহুল্য, লেখকের নাম প্রকাশ করা হল না।

‘উদাসীন সত্যশ্রবার আসাম ভ্রমণ’ নামে সেই লেখায় ফল হল মারাত্মক। দেশ জুড়ে হইহই পড়ে গেল। টি-প্ল্যান্টার সাহেবরা আসাম থেকে প্রকাশ্যে হুমকি দিল, ‘The contributor to the Sanjibani will be the first victim to the planter’s gun.’ যে সঞ্জীবনীতে এইসব লিখছে, সে আমাদের বন্দুকের প্রথম শিকার হবে।’

রামকুমারকে মারার জন্য বিরাট ষড়যন্ত্র শুরু হল। সঞ্জীবনীতে লেখা হল, ‘সংবাদদাতাকে যে শুধু চা বাগানের মালিক সাহেবরাই মারতে চায় তা নয়, প্রতিটি চা বাগানের হাকিম, মোক্তার, সরকার, ডাক্তার, কেরানি, গোমস্তা, তারাও সবাই একজোট হয়ে চাইছে কুলিদের প্রতি এই অত্যাচারকে ধামাচাপা দিতে। আমাদের সংবাদদাতার জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে।’

কিন্তু জীবন যতই বিপন্ন হয়ে উঠুক, রামকুমার কাজ বন্ধ করলেন না। জাহাজঘাটে, নৌকোয়, ডিপোয়, যেখানে পারলেন কুলিদের থেকে তাদের প্রতারণা ভরা অভিজ্ঞতা শুনে লিখে পাঠিয়ে দিতে লাগলেন। অনিয়ন্ত্রিত যৌন অত্যাচারে কামিনরা যখন তখন গর্ভবতী হয়ে পড়ে। সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেরদিনই কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয় তাদের। বাধ্য হয়ে তারা নবজাতক শিশুকে নিয়েই বাগিচায় যায়। অথবা কুলি লাইনের বস্তিতে ফেলে রেখে চলে যেতে হয়।

রামকুমার একটা সমীক্ষা সামনে আনলেন। আসামের চা বাগানগুলোয় শিশুমৃত্যুর হার প্রচণ্ড বেশি। প্রতি একশোটি শিশুতে মারা যায় চুয়াল্লিশজন। এর কারণ জন্মের অব্যবহিত পরেই মায়েদের বাগানে কাজে যোগদান। অপুষ্টি। এছাড়া চা বাগানে নানারকমের অসুখ লেগেই থাকে। থিকথিক করে টাইফয়েড ম্যালেরিয়া কলেরার জীবাণু।

রামকুমার লিখলেন, প্রচুর কামিন সন্তান পালন করতে পারবে না বুঝে গর্ভপাত বেছে নিচ্ছে। এরা অধিকাংশই অতীতে ছিল কোনও ভদ্র গৃহস্থ পরিবারের বধূ। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া আড়কাঠিদের ছলনায় ভুলে এই নারকীয় জীবন তাদের দিনের পর দিন কাটাতে হচ্ছে। পালাতে চেয়েও তারা ধরা পড়ে যায়। অথবা গভীর অরণ্যে বা পাহাড়ের নীচে বাঘ, ভালুক, গন্ডার ছিঁড়ে খায় তাদের। এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরো মর্মান্তিক হবে।

কিন্তু ব্রিটিশ সরকার কোনও উচিত ব্যবস্থা নেওয়া দূর, চা বাগানের মালিকদের স্বার্থ দেখতেই বেশি উদ্যোগী হল। তার কারণও ছিল। ইংল্যান্ডে ততদিনে তৈরি হয়েছে এই সমস্ত চা বাগান মালিকদের অ্যাসোসিয়েশন। ভারতেরও প্রচুর প্রভাবশালী ইংরেজ কর্তা, ব্যবসায়ী এমনকী কিছু ভারতীয় ধনী কিনে ফেলেছেন চা বাগানগুলোর শেয়ার। তাঁদের ক্রমাগত চাপ ও স্বার্থের কাছে সাধারণ কুলিদের দুঃখ দুর্দশা ও জনগণের বিক্ষোভ তো গৌণ হয়ে যাবেই। অতএব যা হওয়ার তাই হল। কুলিদের আগে ছিল তিনবছরের কনট্র্যাক্ট, সেটাকে বাড়িয়ে করা হল পাঁচ বছর। আগে লাইসেন্স প্রাপ্ত কনট্র্যাক্টররাই কুলি সরবরাহ করতে পারত। কিন্তু এখন নিয়ম করা হল, যে কোনও কুলি সর্দার যেখান থেকে খুশি যেভাবে খুশি যত ইচ্ছে কুলি নিয়ে আসতে পারবে। রামকুমার বিদ্যারত্ন, দ্বারকানাথসহ ভারতসভার সদস্যদের তুমুল আপত্তি সত্ত্বেও পাশ হয়ে গেল এই কুখ্যাত Inland Emigration Act।

আগে কন্ট্র্যাক্টররা কুলি চালান দেওয়ার আগে কুলিদের মেডিকেল পরীক্ষা ছিল বাধ্যতামূলক। নতুন আইনে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হল। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আড়কাঠিদের প্রলোভনে ফেঁসে আসাম পৌঁছনোর আগেই মরতে লাগল বহু কুলি। একবার এগ্রিমেন্ট হয়ে গেলে কিছুতেই রেহাই নেই, এমনকী টাকা দিয়েও তারা মুক্ত হতে পারবে না। নামেই ইনডেনচারড লেবার, আসলে ক্রীতদাস।

আগে কোনও কুলি পালালে ওয়ারেন্ট বের করে তাকে গ্রেফতার করে ফেরত পাঠানো হত চা বাগানে। নতুন আইনে পাশ হল, ওয়ারেন্টও লাগবে না, যে কেউ তাদের ধরে এনে বাগানে কাজ করাতে বাধ্য করতে পারে। ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ লিখল, এ কি কুলি আইন না slave act?

কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না, দেশজোড়া আন্দোলনের মাঝেই গভর্নর জেনারেল লর্ড রিপন বিলটি পাস করে দিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। আগে ডিপো থেকে রেজিস্ট্রেশন করে তবেই আসামের জাহাজে ওঠা যেত, নতুন আইনমাফিক শুরু হল যেভাবে হোক প্রতারণা করে চা বাগানে নিয়ে এসে সেখানেই রেজিস্ট্রেশন করা। এতে সরকারেরও লাভ হল। কুলিরা বাগানে পৌঁছে চুক্তিতে সই করছে, ফলে এদের কোনও দায়দায়িত্ব সরকারের নয়।

যে বছর স্যার জন লরেন্স জাহাজের সলিলসমাধি ঘটল, সেই ১৮৮৭ সালের রিপোর্ট বলছে, শুধু ওই বছরেই আসাম অঞ্চলে কুলি পাচার করা হয়েছিল ৩১৫৪০ জন, যাদের মধ্যে মাত্র ৯৬৮৯ জন ছিল আইনমোতাবেক রেজিস্টার করা, বাকি ২১৮৫১ জনকে চালান করা হয়েছিল কোনও আইনকানুনের তোয়াক্কা না করেই।

তাই এতক্ষণে সহজেই অনুমেয়, মোতি, ছুটকি আর মেটিয়াবুরুজের সেই কয়েকজন হতভাগ্য রমণীর ভাগ্যে কী ঘটতে চলেছে!

হাওড়া কুলি ডিপো থেকে যেতে হল শিয়ালদা স্টেশন। সেখান থেকে ট্রেন ছাড়ল পরেরদিন সকাল সাতটায়। বিকেল পাঁচটার সময় সেই ট্রেন গিয়ে পৌঁছল গোয়ালন্দ স্টেশনে। সারারাত ডিপোতে থাকা, তারপর দিনভর রেলগাড়ির ঝাঁকুনি, মোতিরা যখন ক্লান্ত দেহে স্টেশনে নামল, পা যেন সবার ছিঁড়ে পড়তে চাইছে। কিন্তু উপায় নেই। এখনই নাকি গোয়ালন্দ ঘাট থেকে স্টিমার ছাড়বে, দেরি করলে আবার দু-এক দিন এখানকার কুলি ডিপোতে থাকতে হবে। থাকা মানেই খরচ বাড়বে, অতএব দ্রুত পা চালিয়ে এখনই পৌঁছতে হবে জাহাজঘাটায়।

মোতির পাশে পাশে হাঁটছিল পুঁটিবালা আর ছুটকি। পুঁটিবালা মেয়েটা একটু লাজুক, বয়স চোদ্দ পনেরো হবে। ওর বাবা ছিল হিন্দুপাড়ার নাপিত, নবাবের ইন্তেকালের বছরখানেক আগেই সে মারা যায়। তারপর পুঁটিবালার বিধবা মা ধোপানির কাজ করত, মেয়েকে কোনওদিনই সেভাবে মেটিয়াবুরুজের গলিগালাতে বেরোতে দিত না। মাসকয়েক আগে হঠাৎ করে মা মারা যাওয়াতে বেচারি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। নিজের চেনা এলাকা দ্রুত পালটে যাচ্ছিল। উটকো সব লোকের আনাগোনা বাড়ছিল। যখন তখন রাতের বেলা দরজায় ঠকঠক আওয়াজ। ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকত ও। তাই আসামে গিয়ে কাজ করে খাবে, সম্মানজনক এই প্রস্তাবে সাড়া দিতে দু’বার ভাবেনি।

এখন হাঁটতে হাঁটতে পুঁটিবালা শ্রান্ত চোখে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিল।

ওর কৌতূহলী চাহনি দেখে একজন পাহারাদার লাঠি ঠুকতে ঠুকতে এগিয়ে এল, ‘ক্যা চাহিয়ে?’

পুঁটিবালা একটু ইতস্তত করে বলল, ‘ওই শেফালি আর যমুনা কোথায় গেল? রেলগাড়ি থেকে নেমে তো আর দেকতে পাচ্চি নে।’

‘কেন, কী দরকার ওদের?’

পুঁটিবালা কী বলবে বুঝতে পারল না। পাহারাদারের বাজখাঁই গলায় ও ভীতচোখে মোতির দিকে তাকাল।

মোতি অত লাজুক নয়, সে মেটিয়াবুরুজের পেশাদার নর্তকী। পাহারাদারের কথায় ঝংকার দিয়ে বলে উঠল, ‘কী আবার জরুরত হতে পারে বাবু? ওদের কথায় এতদূর যাচ্ছি, ডর লাগে না? চেনা আউরত সাথে থাকলে একটু ভরসা থাকে।’

চিঁড়ে ভিজল না, পাহারাদার রুক্ষস্বরে বলল, ‘ওরা তাড়াহুড়োয় ট্রেন থেকে নামতে পারেনি। পরের স্টিমারে আসবে। তোমরা জলদি চলো!’

মোতিরা হতবাক হয়ে গেল, কিন্তু থামতে পারল না। পাহারাদারদের তাড়ায় ভেড়ার পালের মতো দ্রুত পা চালাতে হচ্ছিল ওদের। রাতজাগা চোখে যন্ত্রের মতো শুধু হেঁটে চলেছিল বন্দরতটের দিকে। সূর্যদেবও থেমে নেই, তিনিও ধীরে ধীরে ঢলে পড়ছেন পশ্চিমদিকে। আলো মুছে গিয়ে ফুটে ফুটে উঠছিল একটা দুটো তারা।

পুঁটিবালা আর লম্বোদরী একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিল। পা কেটে রক্ত ঝরছে। তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই। অবিশ্বাস আর আশঙ্কা ফুটে উঠছিল ওদের চোখে। শেফালি আর যমুনা পরের জাহাজে সত্যিই আসবে তো?

সন্ধ্যার অন্ধকারে চাঁদের আলোয় হাঁটতে হাঁটতে মোতি হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। পেছন ফিরে তাকিয়ে কাঁপা গলায় বলল, ‘আচ্ছা বাবু, যদি ওরা না আসে, তাহলে? এই মুলুকে তো কাউকে চিনি না।’

পাহারাদার বিরক্ত চোখে একবার তাকিয়ে বলল, ‘তোদের চিন্তা করার দরকার নাই! যা বলছি, কর!’

পুঁটিবালার গলা শুকিয়ে এল। এতদূর এসে কি ফাঁদে পড়ল ওরা? কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। লম্বোদরী কানের পাশে ফিসফিস করে বলল, ‘মুই কহি, অহন পালাবার কুনু উপায় নাই!’

‘মানে? কী বলচ কিছু বুজতে পারচি না।’ পুঁটিবালা বলল বটে, কিন্তু কোনও কথা শোনা গেল না।

প্রচণ্ড জোরে ভোঁ বাজছে।

সামনের দিকে তাকাতেই ওরা দেখল, কালো জলে দুলছে একটা জাহাজ। চাঁদের আলোয় নদীর ঢেউগুলো রুপোর মতো ঝিকমিক করছে। ঘাটের ধাপে ধাপে প্রচুর লোকজন ছড়িয়ে আছে। মালপত্র বোঝাই গরুর গাড়িগুলো একপাশে দাঁড়িয়ে, মাঝে মাঝে কোনো কোচোয়ান ক্লান্ত শরীরে গামছা দিয়ে ঘাম মুছে নিচ্ছে। চারপাশে অচেনা মুখের ভিড়, ভয়ার্ত চোখে সবাই পরস্পরকে পরখ করছে। কে কোথা থেকে এসেছে? কার ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে?

আর তার মাঝখানে, ঘন অন্ধকারের চাদরে মোড়া একটা বিশাল জাহাজ, যেন এক নীরব দৈত্য হাঁ করে ওদের গিলে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। জাহাজের খালাসিরা আলো-আঁধারিতে ছায়ার মতো নড়াচড়া করছে। দূরের জাহাজের দোতলায় কয়েকটা লণ্ঠনের কম্পমান আলোতে দেখা যাচ্ছে, এরমধ্যেই সেখানে কিছু লোক উঠে বসে আছে, গাদাগাদি করে জায়গা করে নিচ্ছে।

মোতি নিঃশ্বাস আটকে ফিসফিস করে বলল, ‘হায় আল্লা, কিতনা বড়া জাহাজ হ্যায়! কিতনা লোক!’

পুঁটিবালার গলা শুকিয়ে এল। এই জাহাজে উঠলে ওরা নামবে কোথায়? কত দূর যাবে? কেউ কি সত্যিই জানে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *