মগ্ননারাচ – ২৪

২৪

পৌষ মাসের কাঁপিয়ে দেওয়া ঠান্ডা। উত্তর থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া যেন প্রতিটি গাছের পাতাকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। শীতে জমে যাওয়া মাটির উপর মধ্যরাতে মরামাটিয়া চা বাগান যেন আরও নীরব, আরও নিস্তব্ধ।

তবে আজ রাতে চাঁদের আলো আছে। জ্যোৎস্না ছড়িয়ে পড়েছে পাতা ঢাকা মাটির উপর।

নিস্তারিণী আর মোতি বিড়ালপায়ে হাঁটছিল। মরামাটিয়া চা বাগানের এইদিকটা সেভাবে কেউ আসে না। বহুদিন পরিত্যক্ত। অথচ এখানেই প্রথম গুদাম তৈরি হয়েছিল। বৃদ্ধ কুলিরা ফিসফিস করে, বহুদিন আগে সেই গুদামে নাকি জ্যান্ত পুড়ে মারা যায় কয়েকজন কুলি। পুড়েছিল না পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল কে জানে, তবে তারপর থেকে এগুলোকে আর ব্যবহার করা হয় না।

নষ্ট হয়ে যাওয়া ড্রায়ার শেড, চিমনি ঘর, টিনের ঘরগুলো সার দিয়ে দৈত্যের মতো দাঁড়িয়ে আছে। যেন ভূতের মিছিলের ছায়া। চুনকাম ওঠা দেওয়ালগুলো ভাঙাচোরা, ছাদের উপর বট অশ্বত্থ গজিয়ে উঠেছে। ঘরের ভেতর থেকে ইঁদুরের ছুটোছুটির শব্দ ভেসে আসছে। গন্ধটা কেমন স্যাঁতসেঁতে আর পচা। দূরে গাছের ভাঁজে ভাঁজে কুয়াশা জমাট বেঁধে রয়েছে।

হাঁটতে হাঁটতে নিস্তারিণী বলল, ‘মাগো! এ কোন খান দিয়ে যাচ্ছি আমরা? পায়ের তলায় মনে হচ্ছে লতা কিলবিল করছে।’

‘ডরো মাত।’ উত্তেজনায় আজও মোতির মুখ দিয়ে নিজের ভাষা বেরিয়ে আসে, দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে ও বলল, ‘ঠান্ডার সময় সাপেরা ঘুমোয় গর্তে।’

‘উফ্‌, তুইও যেমন মোতি! রাতের বেলায় কেউ নাম নেয়? আচ্ছা, অন্য কোনও পথ ছিল না?’

‘না। সুরেন তো বলল, এই রাস্তা দিয়ে গেলেই সোজা আমরা অফিস ঘরের পেছনে উঠব।’

‘পুঁটিবালারাও এই পথ দিয়ে গেছে?’

‘হাঁ। বাত কম করো। চলো জলদি।’

নিস্তারিণী ত্রস্তা হরিণীর মতো এগোচ্ছিল। ডানদিক থেকে খালের দুর্গন্ধ ভেসে আসছে। হঠাৎ পাতার খচখচ শব্দ হতেই ও সিঁটিয়ে গেল। তারপর দেখল, একটা ছোট একতলা বাড়ি। আগে এটা কী ছিল কে জানে। বাড়ির পাশ দিয়ে সরসর করে কী যেন ঢুকে গেল। ওর পিঠ দিয়ে একটা হিমস্রোত নেমে গেল। ভয়ার্ত মুখে চাঁদের আলোয় ও তাকাল মোতির দিকে।

মোতির খুব একটা হেলদোল নেই। নিরুত্তাপ ভঙ্গিতে হাঁটছে। আসলে তার মন পড়ে আছে অন্য দিকে। আজ খুব মনে পড়ছে চন্দ্রনাথের মুখ। সেই পুরোনো দিনগুলো, যখন মেটিয়াবুরুজের গঙ্গার ঘাটে রাতের বেলায় বসে ওরা একসঙ্গে দূরের জাহাজ দেখত। চন্দ্রনাথ দু’কলি গেয়ে উঠলেই মোতিও ঠোঁট মেলাত। চন্দ্রনাথ বলত, ‘দেখো মোতি, একদিন আমরাও এই জাহাজে চড়ে নতুন দুনিয়া দেখব।’

‘বাহ, তুমি তো নবাবের পেয়ারের লোক। উনি কি তোমায় ছাড়বেন?’ মোতির চোখে দুষ্টুমির ঝিলিক খেলে যেত।

‘তিনি কলাকার মানুষ, বুঝিয়ে বললে নিশ্চয়ই ছাড়বেন।’

চন্দ্রনাথের কথাগুলো তখন স্বপ্নের মতো লাগত, কিন্তু স্বপ্নেরও একদিন শেষ হয়!

চন্দ্রনাথ যেন হাওয়ার মতো উড়ে গেল, কোথায় যে হারিয়ে গেল তা কেউ জানে না। মোতির গলার কাছটা দলা পাকাতে থাকে। সেটা কি ভালোবাসা না ভালোবাসার অপরাধবোধ, তা জানে না মোতি।

আজকাল চন্দ্রনাথের মুখের জায়গায় অদ্ভুতভাবে ভেসে উঠছে অন্য এক মুখ। সেই মুখ সুরেনের। মরামাটিয়া চা বাগানের এই বিপ্লবের সময়ে সুরেনের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, বুদ্ধিমত্তা আর সবাইকে একজোট করার ক্ষমতা মোতিকে অবাক করেছে। বলিষ্ঠ চেহারা, বুদ্ধিমান চাহনি, কুলিদের সমস্যা সমাধান, কামিনদের সম্মান করা এসব কিছুতেই সুরেন যেন সকলের থেকে আলাদা।

না চাইতেও অবচেতনে মোতির মনে প্রশ্ন জাগে, চন্দ্রনাথ কি পারত এমনভাবে লড়াই করতে?

এমন অদ্ভুত প্রশ্ন মনে আসতেই নিজেই নিজেকে ভর্ৎসনা করে ও। চন্দ্রনাথ ছিল শিল্পী, তার মন ছিল ফুলের মতো নরম। সে বিশ্বাস করত কথার জাদুতে, বিশ্বাস করত ভালোবাসার শক্তিতে। চন্দ্রনাথের মনের কোমলতা ছিল তার শক্তি, আবার তার দুর্বলতাও।

কিন্তু সুরেন আলাদা। সে কেবল স্বপ্ন দেখে না, স্বপ্নের জন্য লড়াই করে। মোতি ওর অতীত জানে না। তবে এটা অনুমান করতে কষ্ট হয় না, সুরেন যথেষ্ট শিক্ষিত। মরামাটিয়া চা বাগানের কুলিদের মধ্যে যে অসহায়ত্ব আর ভয়ের শিকল ছিল, তা ও ভেঙে ফেলতে চায়। সবাইকে সাহস জোগায়। এমনকী ওদের খিদে মেটানোর জন্য নিজে ক্ষুধার্ত থেকেও খাবার তুলে দেয়।

মোতির মনে পড়ে গেল, সেইদিনের কথা, যেদিন প্রখর রোদে একটানা কাজ করে ও অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। সুরেন নিজের ভাগের ভাতটুকু এনে ওর মুখে তুলে দিয়েছিল।

নানাভাবে ওদের সাহস জোগায় সুরেন। রামায়ণ, মহাভারতের গল্প বলে। কী যেন একটা অস্ত্র ছিল মহাভারতের? হ্যাঁ, মগ্ননারাচ। সেই বাণের মতো নিঃশব্দ অথচ বিধ্বংসী হতে বলে ওদের। শুনতে শুনতে মোতির রক্ত গরম হয়ে যায়। শুধু মোতির কেন, সকলেরই।

মোতি নিজেও জানে না কেন সুরেনের কথা বারবার মনে পড়ে। মনে হয়, সুরেনের পাশে থাকলে ওর নিজের ভেতরের অস্থিরতা থিতিয়ে আসে। সুরেনের কথাতেই ও এই দুঃসাহসিক কাজে রাজি হয়েছে। কিন্তু এই অনুভূতি কি শুধুই বিপ্লবের নেতা সুরেনের প্রতি মুগ্ধতা?

নাকি তার মধ্যে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও আকর্ষণ?

মোতি বুঝতে পারছে, তার মন যেন একদিক থেকে অন্যদিকে দুলছে। আর সেই দোলাচলে তোলপাড় হচ্ছে ওর অন্তর।

‘কীরে, কোথায় হারিয়ে গেলি? আমরা এসে পড়েছি!’

নিস্তারিণীর কনুইয়ের খোঁচায় মোতি বাস্তবে ফিরে এল। হ্যাঁ। রেজিস্ট্রি অফিসের একদম পেছনেই এসে পড়েছে ওরা। কাঠের পুরনো কোঠাবাড়ি। লম্বা দালানটা অন্ধকারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, যেন শ্বাপদ ঘেরা দুর্গ। কাঠের তৈরি ঘর, বারান্দার বাঁকে ছায়া ঘন হয়ে আছে। জানালাগুলো শক্ত করে বন্ধ।

দুজন প্রহরী টহল দিচ্ছে বাইরের দিকে। হাতে লম্ফ। নিস্তারিণী আর মোতি আরেকটু এগোতেই তাদের গলা শুনতে পেল।

‘আচ্ছা ঝামেলা তো, এখন আমরা তোদের বুনো মোষ তাড়াতে যাব? আমাদের কি তোদের গোলাম পেয়েছিস?’

নিস্তারিণী আর মোতি চোখাচোখি করতেই ওদিক থেকে পুঁটিবালার গলা শোনা গেল।

‘চলুন না একটু। আমার ঘরে তো আমি একাই থাকি। পাশে আমার এই মাসি থাকে। মোষটা এমন দাঁড়িয়ে আছে যে, ঘরে ঢুকতেই পারছি না।’

লম্বোদরীও বেঁকেচুরে বলছে, ‘হ্যাঁগো। সারাটা দিন হাড়ভাঙা খাটুনি করি। রাইতে একটুখানি শুইতে না পাইলে আর চলবে নায়গো। আমার এই মাইয়াডা খুব ডরপোকগো, একটুতেই আঁতকে উঠে। তাছাড়া মোষডা যদি সব ভাঙিচুরা করে? সাহেবরা জানলে হামাক সবারে কুত্তার মতো পিটাইবে।’

নরম অনুরোধে লম্ফ চোখের সামনে তুলে ধরে প্রহরীদুটো ভালো করে মেপে নেয় দুটো মেয়েমানুষকে। নতুন পাদ্রির নিষেধ আছে ঠিকই, কিন্তু একটু রসিকতা করলে কি কেউ টের পাবে?

প্রহরীদের চোখে চোখে কথা হয়। তারপর গম্ভীরস্বরে একজন লাঠি বাগিয়ে হাঁটা দেয়, ‘চল। দেখি!’

অফিস ঘরের পেছনে কিছুক্ষণ নিস্তারিণী আর মোতি পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর নিস্তারিণী ফিসফিস করল, ‘সাবধানে আয়।’

নিস্তারিণী খুব সতর্কভাবে আঁচল থেকে বের করল দুটো শক্ত পাথর। এই পাথরদুটো ওকে দিয়েছে সুরেন। কীভাবে দুটো পাথরকে একটা বিশেষ কৌশলে সজোরে আঘাত করলে তা কাঠের জানলার হুড়কোটাকে ভেঙে দেবে, সেই অভ্যেস ও করেছে গত তিনদিন ধরে। পাথর দুটোকে দু’হাতে ধরে জানলার দুই পাল্লার মাঝখানে ঠুকতেই চাপা একটা শব্দ করে খুলে গেল সেটা।

নিস্তারিণী উল্লসিত মুখে মোতির দিকে তাকাল। চাঁদের নরম আলোয় মোতি হাসল।

তারপর দুজনেই গাছকোমর করে কাপড়খানা বেঁধে জানলা টপকে নিঃশব্দে বিড়ালের মতো লাফিয়ে পড়ল অফিস ঘরের ভেতরে।

অন্ধকার ঘরের ভেতরে ওদের সঙ্গে সঙ্গে বাইরের ঠান্ডাটাও যেন ঢুকে পড়ল। ঘরের বাতাসে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ, পুরনো কাঠের। জমে থাকা শ্যাওলার। চারপাশটা যেন কালো ধোঁয়ার মধ্যে ঢাকা, কোথাও একফোঁটা আলো নেই। মোতি তার মধ্যেই হাতড়ে হাতড়ে বসে পড়ল মেঝেতে। কাঁধের ঝোলা খুলে একে একে জিনিসগুলো বের করতে লাগল। একটা চ্যাপ্টা তেলের শিশি। কয়েকটা শুকনো কাপড় বাঁধা কাঠি।

‘বেশি সময় নেই মোতি। বাইরে পাহারাদাররা ফিরলেই সব শেষ।’

‘তুই জানলাটা ভেজিয়ে দিয়ে পাশেই থাক। বাইরে খেয়াল রাখ।’

নিস্তারিণী দ্রুত জানালার কাছে সরে গেল। জানলাটাকে ভেজিয়ে দিয়েও এমনভাবে ফাঁক রাখল যে, চাঁদের একটা সরু রশ্মি ঠিকরে এসে পড়ল ঘরের মাটিতে। দূরে শুকনো পাতার শব্দ। পোকামাকড়ের আওয়াজ। শিয়ালের ডাক।

মোতি তেলের শিশিটার প্যাঁচ খুলল। তারপর ঘরের কাঠের মেঝের কোণগুলোতে সাবধানে তেল ঢালতে লাগল। শুকনো কাপড়ের কাঠিগুলোকে তেলে ভিজিয়ে নিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দিতে লাগল।

চাঁদের অস্পষ্ট আলোয় ওকে দেখাচ্ছে ঠিক যেন কোনও অশরীরী প্রেতিনী!

নিস্তারিণী ফিসফিস করল, ‘হল?’

‘হাঁ। এবার আগ লাগালেই সব খতম!’ মোতি নিজের গলার দৃঢ়তা শুনে নিজেই চমকে গেল। এতটা সাহস কবে পেল সে?

সুরেনের কথাগুলো মনে পড়ে গেল ওর, ‘মোতি, তুমি যদি সত্যি লড়াই করতে চাও, তবে তোমার ভয়কে আগুনের মতো ব্যবহার করো। ভয়ই তোমায় শক্তি দেবে।’

মোতি এবার ঝোলা থেকে চকমকি পাথর বের করল। সন্তর্পণে দুই তালুতে চকমকি ঘষতেই ছোট্ট আগুনের ফুলকি ঝলসে উঠল।

নিস্তারিণীর কাঁপা কাঁপা হাতে একটা তেলভেজানো কাঠি বাড়িয়ে দিতেই দপ করে লাঠিখানা আগুনে জ্বলে উঠল।

মোতির মুখখানা আগুনের লাল আলোয় টকটকে দেখাচ্ছে। জানলার দিকে সরে এসে হিসহিসে স্বরে ও বলল, ‘এবার ছুড়ে দে!’

নিস্তারিণী কাঁপতে কাঁপতেই জ্বলন্ত কাঠিটা তেলের উপর ছুড়ে দিল। হুস করে একটা আওয়াজ হল। আগুন লকলক করে ছড়িয়ে পড়তে লাগল মেঝের উপর। আগুনের তীব্রতা এতটাই যে মুহূর্তের মধ্যেই গোটা ঘরটা আলোকিত হয়ে উঠল। সেই আলোয় ওরা দেখতে পেল, ঘরের চারপাশে ডাঁই করে রাখা রাশি রাশি কাগজ!

কাঠের মেঝে দপদপ করে জ্বলতে শুরু করল। অজগরের মতো সেই আগুন গিলে খেতে লাগল ঘরের সবকিছু।

‘চল! আমরা পালাই!’ মোতি আর নিস্তারিণী এক মুহূর্তও অপেক্ষা করল না। দ্রুত জানালা দিয়ে বেরিয়ে এল। নিস্তারিণী জানালার পাল্লাদুটো ভেজিয়ে দিল যেন বাইরের থেকে কিছু বোঝা না যায়। তারপর রুদ্ধশ্বাসে ছুটতে লাগল পুরনো গুদাম পেরিয়ে জঙ্গলের দিকে।

‘এই কাজটা আমরা সত্যিই করে ফেললাম? কী করে করলাম?’ নিস্তারিণী কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল।

‘কিঁউ কি আমাদের খোয়া যাওয়ার আর কিছু নেই। তাই ভয়ডরও নেই।’

রেজিস্ট্রি অফিসের পেছনের কাঠের বাড়ির আগুনের শিখা ওপরে উঠতে শুরু করেছে। প্রথমে ধোঁয়া। তারপর সেই ধোঁয়ার মধ্যে হুড়মুড়িয়ে জ্বলে উঠল বাড়িটা। লকলক করে ছড়িয়ে পড়ছে আগুন, যেন হিংস্র কোনও পশুর গর্জন। বাতাসে পোড়া কাঠ আর তেলের গন্ধ মিশে যাচ্ছে। আর সেই গন্ধের মধ্যে মিশে আছে বহু বহু বছরের লাঞ্ছনা। চোখের জল। রক্ত। সম্মান।

দূরে যেন শোনা যাচ্ছে পাহারাদারদের কোলাহল।

মোতি ছুটতে ছুটতে একবার পেছনে তাকাল, ‘লম্বোদরীদিদি আর পুঁটিবালা ক্যায়সে আয়েগি?’

‘সুরেন আর বুড়ো ওভারশিয়ার ওদের নিয়ে আসবে। রাতের অন্ধকারে আমাদের নদী পেরোতে হবে। তারপর কাল সকাল থেকে দলে দলে পালাবে সবাই।’

‘পালাতে দেবে পাহারাদারেরা?’

‘কীসের জোরে আটকাবে?’ নিস্তারিণী ক্রুদ্ধ সিংহীর মতো তাকাল, ‘কাগজ কোথায়, কাগজ? যাক না জজসাহেবদের কাছে। যাক না জাহাজঘাটায় ডিপোঅফিসে। যাক না পুলিশে। কী দ্যাখাবে?’

মোতি কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, হঠাৎ ওর পা যেন কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে গেল। পিচ্ছিল মাটিতে হড়কে গিয়ে সজোরে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল। মুখ থুবড়ে পড়তে পড়তে কোনওরকমে দু’হাতের ভর দিয়ে নিজেকে সামলে নিল। তবুও কপালের পাশটা ঘষে গিয়ে কেটে গেল।

অন্ধকারে যন্ত্রণার ঝাঁকুনি সামলে ও উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু ঠিক তখনই শুনতে পেল ঘন গর্জনের মতো একটা গোঙানি। মৃত্যুর মুখ থেকে আসা কোনও জন্তুর শব্দ যেন! বুকের ভেতরটা থরথর করে কেঁপে উঠল মোতির। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল মুহূর্তের জন্য।

আর ঠিক তখনই আকাশের মেঘ সরে গিয়ে চাঁদের আলো ঠিকরে পড়ল সেখানে। আর সেই আলোতেই মোতি হিম হয়ে দেখল, যার গায়ে সে ধাক্কা দিয়েছে, সেটা কোনও মাটি বা পশু নয়। একটা মানুষের শরীর।

আরো ভালো করে তাকিয়ে বুঝল, সেটা আর কেউ নয়, বদমাশ কুলি সর্দার বাঘ বলরাম।

নিস্তারিণী ইতিমধ্যে আতঙ্কে গাছের গায়ে পিঠ ঠেকিয়ে সিঁটিয়ে গেছে। মুখ দিয়ে কোনও শব্দ বেরোচ্ছে না। এ যেন মৃত্যু এসে পথ আগলে দাঁড়িয়েছে। স্বয়ং যমরাজ এসে উপস্থিত হলে হয়তো এরচেয়ে ভয়ংকর অনুভূতি হত না।

কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, বাঘ বলরাম ওদের দেখে উঠে দাঁড়ানোর কোনও চেষ্টা করল না। তার মস্ত শরীরটা মাটির ওপর ঢিলে হয়ে পড়ে আছে। চোখদুটো আধখোলা, কিন্তু সেই চোখে কোনও দৃষ্টি নেই। মুখ দিয়ে ক্রমাগত অস্পষ্ট কিছু বিড়বিড় করছে। শরীর থেকে ঘামের সঙ্গে মিশে বেরোচ্ছে আফিমের গন্ধ। মাঝেমাঝে অতিকষ্টে চোখ খুলছে। মাথা উঁচু করে দেখতে চেষ্টা করছে, দূরের আকাশে ধিকিধিকি উঠতে থাকা আগুনকে, কিন্তু পারছে না। ধপ করে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে দুর্বল মাথাটা।

মোতি ঢোঁক গিলল। ওর হাতের মুঠো শক্ত হয়ে এল। ওরা অনেকবারই শুনেছে, বাঘ বলরাম রাতের বেলায় নাকি আফিমের নেশা করে এদিক-সেদিক পড়ে থাকে। তাই বলে এই অরণ্যে?

নিস্তারিণী ফিসফিস করল, ‘মোতি, পালা!’

মোতি দাঁতে দাঁত চিপল। এই পাষণ্ডটা ওদের ওপর অনেক অত্যাচার করেছে! রাতের পর রাত ওদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। নানা অছিলায় শরীরের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গে হাত বুলিয়েছে। মুখের সামনে থেকে খাবারের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে। এমনকী পুঁটিবালার মতো কিশোরীকেও ছাড়েনি এই নরপিশাচ। কুলি মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়াটা যেন ওর জন্মগত অধিকার।

রাগে মোতির চোখে যেন আগুন নেমে এল। ওর হাতদুটো কাঁপছে। সেই হাতেই ও ঠাসঠাস করে দুটো চড় কষাল বাঘ বলরামের গালে।

নিস্তারিণী শিউরে উঠল।

কিন্তু বাঘ বলরামের কোনও সাড়া নেই। যে সবাইকে শিকারের চোখে দেখে, সে নিজেই এখন যেন শিকারে পরিণত হয়েছে।

মোতি কষিয়ে একটা লাথি মারল বলরামের মোটা পেটের ওপর। একেবারে শক্তপোক্ত লাথি। বলরাম গোঙাতে গোঙাতে ছটফট করে উঠল। বলল, ‘মার! মার!’

‘মার তো তুই খাবি রে কুত্তেকে আউলাদ!’ মোতি পরপর আরো দুটো লাথি মারল। ওর চোখ দিয়ে ঘৃণা ঝরছে। ঝরছে জলও। লম্বোদরীর কান্নাভেজা মুখখানা মনে পড়ে যাচ্ছে ওর।

‘মোতি, আর নয়। এবার পালাই, চল!’ নিস্তারিণী কাঁপতে কাঁপতে ফিসফিস করে বলল। ওর মনে হচ্ছে, এই ভয়ঙ্কর লোকটা যদি হঠাৎ নেশার ঘোর কাটিয়ে উঠে দাঁড়ায়, তবে ওরা কেউই বাঁচবে না।

কিন্তু মোতির যেন মাথায় খুন চেপে গেছে। ওর মনে হচ্ছে, এই লোকটাকে এখানেই শেষ করে দিতে পারলে শান্তি পাওয়া যেত। কিন্তু না। প্রতিশোধ নেওয়ার সময় পরে আসবে।

মোতি বলরামের দিকে একদলা থুতু ছুড়ে দিয়ে বলল, ‘এই নরকেই পচে মর, শুয়োরের বাচ্চা!’

তারপর নিস্তারিণীর হাত ধরে আবার ছুটতে শুরু করল।

ছুটছে তো ছুটছে। ছোটা আর শেষ হয় না। পায়ের তলায় পাতা মচমচ করছে। শুকনো কাঠে আঁচড় লেগে রক্ত ঝরছে, গাছের কাঁটা মাংসের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে, তবুও থামার উপায় নেই। আগুনের লেলিহান শিখা আর আকাশে পুঞ্জীভূত ধোঁয়া এখান থেকেও দেখা যাচ্ছে, আর হয়ত সে কারণেই সব পাহারাদারেরা ওদিকে ব্যস্ত।

নিস্তারিণী দম নিতে নিতে ছুটছে মোতির পাশে। জঙ্গল ঘন হচ্ছে। কালো ছায়ার গাঢ় অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে পথ। কিন্তু ওদের গন্তব্য জানা আছে। সুরেন বলেছিল, নদীর ধার বরাবর একবার পৌঁছতে পারলে আর ভয় নেই। পালানো সহজ হবে।

মোতি হঠাৎ বলল, ‘নিস্তারিণীদিদি, ওরা কি পৌঁছেছে?’

‘যদি পৌঁছায়, তবে নদীর ধারে পাওয়া যাবে। দেখিস মোতি, পালাবার রাস্তা আমরা বানিয়েই ছাড়ব। কেউ আটকাতে পারবে না।’ নিস্তারিণীর কণ্ঠে দৃঢ়তার ঝলক।

অবশেষে একসময়ে ওরা এসে পড়ল নদীর ধারে। কালো জলের বুকটা মসৃণ আর শান্ত। চাঁদের আলো পড়লে যেন জলে রুপোর রেখা টেনে দেয়।

‘ওই তো! ওরা অপেক্ষা করছে!’ নিস্তারিণী চিৎকার করে উঠল।

লম্বোদরী আর পুঁটিবালা দাঁড়িয়ে আছে নদীর পাড়ে। পুঁটিবালা মুখে আতঙ্ক নিয়ে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে।

লম্বোদরী ঠান্ডা মাথায় নদীর গতিপথটা লক্ষ্য করছে, যেন হিসাব কষে নিচ্ছে কোথা দিয়ে পার হওয়া সহজ হবে।

আর সুরেন! সে দাঁড়িয়ে আছে অন্যদের থেকে কিছুটা দূরে। চোখে দৃঢ়তা, হাতে শক্ত বাঁশের লাঠি। মোতিকে দেখেই ওর মুখে হাসি ফুটল। ‘শুধু তোমরাই বাকি ছিলে। এসো, এবার নদী পার হতে হবে।’

নিস্তারিণী লম্বোদরী আর পুঁটিবালা ঝপাঝপ ঝাঁপ দিল নদীতে। শীতের ঠান্ডা জল ওদের শরীরকে যেন কাঁপিয়ে দিল। তবু ওরা থামল না। যেভাবে হোক, দূরের ডাঙায় পৌঁছতে হবে। সেখানে অপেক্ষা করছে বুড়ো ওভারশিয়ার, নৌকো নিয়ে।

‘কিন্তু আ-আমি তো সাঁতার জানি না। আমি কী করে পার হব?’ দ্বিধান্বিত স্বরে বলল মোতি।

সুরেন এক পা এগিয়ে এল। ওর মুখ এই ঠান্ডাতেও ঘেমে উঠেছে, ‘ভয় পেয়ো না। আমি তোমায় নিয়ে যাব। আমার পিঠে চড়ে থাকবে। শক্ত করে ধরবে আমায়।’

‘তো-তোমার পিঠে!’ মোতি আড়ষ্টস্বরে বলে, ‘তুমি পারবে?’

‘পারব না কেন!’ সুরেন মাথায় শক্ত করে গামছা বাঁধতে বাঁধতে বলল।

মোতি কিছুক্ষণ অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে থাকল সুরেনের দিকে।

‘চড়ো আমার পিঠে।’ সুরেন হাঁটু মুড়ে বসে পড়ল, যাতে মোতিকে সহজে তুলতে পারে। মোতি দু’হাতে ওর কাঁধ জড়িয়ে ধরল। সুরেনের শরীরের তাপে মোতির আতঙ্ক যেন কিছুটা গলে গেল।

নদীতে পা দিতেই শীতল জল তাদের পায়ের চারপাশে ঘুরপাক খেতে শুরু করল। মোতি শক্ত করে চেপে ধরল সুরেনকে। ধীরে ধীরে জলের মধ্যে ভিজে যেতে লাগল দুটো শরীর।

সুরেন নিজের শক্তি দিয়ে জলের বুকে সাঁতরে চলল।

মোতি আর কিছু ভাবতে পারছিল না। শুধু সুরেনের ঘাড়ের কাছে মুখ গুঁজে রেখে ও চোখ বন্ধ করে ছিল। চারপাশে কেবল জলের শব্দ। জলের নিচে পাথরের গায়ে ধাক্কা খাওয়ার শব্দ।

সুরেন যখন নদীর ওপারে পৌঁছল, তখন ওর নিঃশ্বাস ভারী হয়ে গেছে।

বুড়ো ওভারশিয়ার নীলকণ্ঠ সেই চরায় দাঁড়িয়ে ছিল। এরমধ্যেই দ্রুত সে আর তার দলের মাঝি ডিঙি নৌকোয় তুলে দিয়েছে লম্বোদরীদের।

ডাঙায় উঠে মোতি কাঁপা স্বরে বলল, ‘আমি তোমার মতো সাহসী মানুষ কখনো দেখিনি। তুমি… তুমি আমায় বাঁচালে।’

‘জলে আমি নিজেই নিজেকে মেরে ফেলেছিলাম, অন্যকে বাঁচানোর ক্ষমতা কোথায়?’ এই প্রথম সুরেনের মুখে হাসি দেখল ও, ‘আমরা সবাই পালাচ্ছি মোতি। একসঙ্গে পালাচ্ছি। তোমায় তো একা ফেলে যেতে পারি না। পাহারাদাররা তোমাদেরও দেখে ফেলতে পারে হয়ত।’

মোতি অপলক চোখে দেখছিল সুরেনকে। জ্যোৎস্না রাতে ওকে যেন মনে হচ্ছিল, নবাবের সুলতানখানার কোনও পাথরে কোঁদা ভাস্কর্য। একদম নিখুঁত, বলিষ্ঠ। দৃঢ় চোয়াল, উঁচু কপাল, গভীর চোখের দৃষ্টি। সব মিলিয়ে এক অপরাজেয় পুরুষের প্রতিমূর্তি। চাঁদের আলোয় তার কাঁধের পেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল, যেন যুদ্ধের আগে প্রস্তুত এক সৈনিক। এলোমেলো চুলের মাঝে শক্ত চিবুক, আর চোখেমুখে এক চাপা দৃঢ়তা। যেন যে কোনও মুহূর্তে ঝড় উঠলেও সে অবিচল থাকবে, পাহাড়ের মতো।

সুরেন বলল, ‘আর দেরি করো না। যাও। নৌকোয় উঠে পড়ো।’

‘তুমি যাবে না?’

‘যাব। আগে বাবামশাই… মানে তোমার পাদ্রিসাহেব আসুন।’

‘তিনি কোথায়?’

‘তিনি বিষগুঁড়ি বাগান থেকে কয়েকজনকে নিয়ে আসছেন।’

‘ওখানেও কি আগুন লাগানো হয়েছে?’

‘হ্যাঁ, সে তো হয়েইছে। কাগজ ধ্বংস না হলে কীসের জোরে পালাবে ওরা? তবে তার আগে সেখানকার এক শয়তান সাহেবের রান্নায় বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে অনেক কথা। তুমি এখন যাও। পরে বলব।’

অন্ধকার ঘন হয়ে এসেছে। ব্রহ্মপুত্রের জলরাশি গভীর রাতে আরো বেশি ঠান্ডা, আরো বেশি রহস্যময়। চাঁদের আলো কখনো স্পষ্ট, কখনো মেঘের পর্দায় আড়াল। নদীর বুকের তীব্র স্রোতের শব্দের সঙ্গে মিশে আছে জলের ওপরে হালকা হাওয়ার শোঁ শোঁ আওয়াজ।

বুড়ো ওভারশিয়ার নীলকণ্ঠ ওরফে কৃষ্ণসুন্দর এগিয়ে এসেছেন। মোতিকে হাত ধরে নৌকোয় তুলে দিয়ে সুরেনকে বললেন, ‘এখন আমাদের কী করণীয়, সৌরেন্দ্র?’

‘ভেবাপদ মাঝিকে সব বলা আছে। তবু আপনাকে আরেকবার বলে দিচ্ছি।’ সৌরেন্দ্র গম্ভীর গলায় বলল, ‘আমাদের হাতে তিনটে পথ। প্রথম হল রেলপথ। এই নদী বরাবর সোজা উজানে গেলে গোয়ালন্দ। তারপর সেখান থেকে ট্রেনে সোজা কলকাতা। কিন্তু স্টেশনে ধরা পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। তাই আমরা ওটা বাদ দিয়েছি।’

‘হ্যাঁ সে তো বটেই। ধুবড়ি, গোয়ালন্দ, এইগুলো তো ডিপো পয়েন্ট। ওদিকে যাওয়াই যাবে না।’

‘হুম। দ্বিতীয় হল জঙ্গলপথ। কিছুটা গিয়ে গভীর জঙ্গল। সেই জঙ্গলের দক্ষিণ-পশ্চিম বরাবর অনেকটা পথ এগোলে মেঘালয় আর ত্রিপুরার ভেতর দিয়ে বাংলার দিকে এগনো যাবে। কিন্তু সেই পথ খুবই বিপজ্জনক। হিংস্র জন্তু, বিষাক্ত সাপ, পাহাড়ি রাস্তার বিপদ… একবার পথ হারালে জীবন শেষ।’

‘না। এরা পারবে না ওই পথ চলতে।’ দ্রুত মাথা নাড়লেন কৃষ্ণসুন্দর, ‘আর?’

ঠান্ডা বাতাসে ব্রহ্মপুত্রের জলরাশি কাঁপছে। আলো-আঁধারি চাঁদের আলো পড়লে ঝিকমিক করে উঠছে জল। তীব্র ঠান্ডায় সিক্ত পোশাকে কেঁপে উঠছে ওরা সবাই।

সৌরেন্দ্র বলল, ‘আমরা এখন যে জায়গায় আছি, এখান থেকে নৌকো করে সরাসরি দক্ষিণের দিকে এগোতে হবে। ব্রহ্মপুত্রের স্রোত খুব তীব্র। ভেবাপদ মাঝিকে খুব সতর্ক হয়ে চালাতে হবে।’

‘আচ্ছা, আমাদের মরামাটিয়ার নবীন দারোয়ানের ছেলে নাকি খুব অসুস্থ…!’

‘জানি। ওর জন্য কলকাতা থেকে ওষুধ আসছে।’ সৌরেন্দ্র বলল, ‘এখন শোনো, আমরা প্রথমে যাব ধুবড়ি ঘাটের দিকে, কিন্তু ঘাটে যাব না। তার আগের একটা খাঁড়ি দিয়ে ঢুকে যাব। সেখানে কোম্পানির নজরদারি নেই। সেই খাঁড়ি গিয়ে মিশেছে গোয়ালন্দের কাছে। যদি তীরের কাছে না গিয়ে মাঝনদী ধরে এগোতে পারি, তাহলে কোম্পানির টহলদারি নৌকোর নজর এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।’

‘কিন্তু যদি মাঝনদীতে টহলদারির নৌকো এসে পড়ে?’

‘তাহলে নিজেদের রক্ষা করার উপায় আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। অস্ত্র বলতে আমাদের কাছে কিছুই নেই। শুধু নৌকোর কৌশলে আর অন্ধকারের সুবিধা নিয়ে এগোতে হবে।’ সৌরেন্দ্র বলল, ‘এবার তুমি যাও।’

কৃষ্ণসুন্দর সামান্য উসখুস করছিলেন।

সৌরেন্দ্র বলল, ‘অত ভেবো না। বউদিদি আমারও দিদি। বাবামশাই এসে পড়লে আমি সবাইকে সাবধানে নিয়ে যাব।’

নৌকো চলতে শুরু করল। লম্বোদরী হঠাৎ এই গভীর রাতে খোলা আকাশের নীচে ডুকরে কেঁদে উঠল। বলল, ‘এসেছিলাম মুর মাইয়াটারে খুঁজতে। পেলাম না।’

বাকিরাও ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। কেউ কাঁদছিল ভয়ে। কেউ অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করে। কেউ মুক্তি পেতে চলার অবিশ্বাসে।

মোতির বুকের মধ্যে কেমন যেন তাপের ঢেউ উঠে আসছিল।

দূরে অন্ধকারে চরায় নিশ্চল পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে সুরেন। ছেলেটার প্রতি তার মনের মধ্যে অদ্ভুত মায়া জমে উঠছে। ভয় আর ক্লান্তির মধ্যে সুরেনের শক্ত পিঠটা যেন ওর কাছে একটুকরো আশ্রয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *