১৫
মরামাটিয়া চা বাগানের নামেই বোঝা যায়, এ যেন মরা মাটির ওপর জোর করে বাঁচিয়ে রাখা এক টুকরো সবুজ। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবুজের রং রক্তে মাখা। বাগানের প্রতিটা কুলির চোখে ভয়। সাহেবদের চোখে সেই ভয়কে ঘৃণায় পরিণত করার খেলা।
মরামাটিয়া এমনিতেই নরক। খাবার অল্প, বেতনের নামগন্ধ নেই, কাজের বোঝা অথৈ সমুদ্রের মতো। দিন নেই রাত নেই, কুলি মজুরেরা জানে শুধু হাড়ভাঙা খাটুনি। তাতেও দিনের পর দিন ঋণ বেড়েই চলে। তবে নতুন পাদ্রি রেভারেন্ড মণিময় দত্ত আসার পর পরিস্থিতি যেন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠল।
এরমধ্যে শীত আসতে চলেছে। হিমেল হাওয়ায় সবার কাঁধ কুঁজো হয়ে আসছে। পুবের জঙ্গলের গাছগুলো ঝরাপাতায় ঢাকা। ভোরবেলায় চা-বাগানের বিস্তীর্ণ সবুজের উপর ধূসর কুয়াশার আস্তরণ যেন এক বিষণ্ণ চাদর টেনে দেয়।
মণিময় দত্ত নামেই দিশী বাঙালি। তার চলাফেরা দেখলে তা বোঝার কোনও উপায় নেই। গলায় ঝোলানো ক্রশ। হাতে ধরা ছোট্ট বাইবেল। সবসময় পরনে সাদা রেভারেন্ডের পোশাক। মাথায় হ্যাট, হাতে লাঠি। সেই লাঠি অবশ্য সাজসজ্জার অংশ মাত্র, তবুও কুলিরা তাকে দেখলেই পিছিয়ে যায়। দাঁড়িগোঁফে ঢাকা মণিময়ের মুখে সর্বদা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। চলাফেরায় এমন একরকম রোয়াব, যেন সে বড়সাহেবের থেকেও বড় ক্ষমতার অধিকারী।
কুলিরা তাকে ভয়ে ‘সাহেববাবু’ বলে ডাকে, আড়ালে বলে, ‘বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়!’
প্রথম প্রথম কুলিকামিনরা ভেবেছিল, আর যাইহোক, শিক্ষিত বাঙালিবাবু, এসে বুঝি তাদের কষ্ট লাঘব করবে। যিশুর নাম নিয়ে শান্তির বাণী শোনাবে, অন্তত অত্যাচার করবে না। সাহেবদের কুলিদের দুর্দশা কথা বোঝাবে।
সে গুড়ে বালি। রেভারেন্ড মণিময় দত্ত যেন নজরদারি করার যন্ত্র হয়ে উঠেছেন। যেদিকে চোখ যায়, তাঁর নজর। কাজের সময়টুকুও যেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে মাপছেন। কারা কথা বলছে? কারা আলসেমি করছে? কারা কাজের সময় ঢিলে গতিতে হাত চালাচ্ছে? দেখতে পেলেই তিনি হাঁক দিচ্ছেন বাঘ বলরামের লোককে।
শুরুতে কুলিমজুরেরা অবাক হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারল, এই রেভারেন্ড আসলে একটি পাক্কা শয়তান। আসার পর থেকেই বড় আর ছোট দুই সাহেবকে এমন হাত করেছেন, তাঁরা একেবারে গদগদ। বাগানে খ্রিস্টান বানানোর দারুণ একখানা উপায় বাতলেছেন মণিময়। প্রতিদিনের কাজের কোটা না পূরণ করলে যে কড়া শাস্তি আছে, তা নাকি মকুব হবে যিশুর শরণ নিলেই। মণিময় সাহেবদের বুঝিয়েছেন, এতে কুলিদের মধ্যে খ্রিস্টান হওয়ার হিড়িক পড়ে যাবে।
ফিলিপ আর পিটার, দুজন সাহেবেরই খুব মনঃপূত হয়েছে প্রস্তাবটা। তাঁরা সুপারিশ করে পাঠিয়েছেন কলকাতায় বোর্ডের কাছে। এবার অনুমোদন এলেই হয়।
সুরেনরা রাগে ফুঁসছিল। সন্ধেবেলা কুলিলাইনের কুঁড়েগুলোর সামনে সকলে গোল হয়ে বসে। আগে মেয়েরা আসত না, কিন্তু আজকাল পুঁটিবালা, লম্বোদরী, নিস্তারিণী আর মোতিও এসে বসে। ফতেমা রোশনারা বা সরস্বতীরা যদিও এখনো আসে না, কিন্তু মোতিরা তাতে দমেনি। এখানে এমনিই সবাই শোষণে নির্যাতনে উলঙ্গ, আর মেয়ে বলে মুখ লুকিয়ে ঘরে বসে কী হবে?
সন্ধের সময় ঠান্ডাটা আরো বাড়ে। ওদের ভাঙা চালা আর খড়ের বেড়ার কুঁড়েঘরে শীতকে ঠেকানোর চেষ্টা বাতুলতা। তাই একটা উন্মুক্ত জায়গায় সবাই জড়ো হয়ে জঙ্গলের শুকনো কাঠে আগুন জ্বালানো হয়। সেই আগুনের মাঝখানে আগুনের হলুদ লাল শিখাগুলো যেন কুলিকামিনদেরই মনের প্রতিফলন হয়ে ধরা দেয়। সবার মনেই দুশ্চিন্তা। সবে অগ্রহায়ণ মাস পড়েছে। এতেই এই। পৌষ মাঘে কী হবে?
মাধব নামের বয়স্ক কুলিটা সেদিন থেমে থেমে বলছিল, ‘ওই যে নতুন পাদ্রি…ওই মণিময় দত্ত, হে হে হে, মণিময় না মরাময়, ঠিক বুঝি না! বড় সাহেবের থেকেও বেশি রোয়াব দেখাচ্ছে! চাবুকের ভয় তো ছিলই, এখন ধর্মের ভয়ও ঢোকাচ্ছে। বাপ রে, কী যন্ত্রণা!’
মাধবের কথা শুনে লম্বোদরী ফুঁসে উঠল, ‘আর কত্ত সহ্য হবি? আমি হুনেছি, পাদ্রিটা নাকি রাতের আঁধারে বসে বড় বড় কাব্যি লেখে। সেই লেখাতে নিচ্চয়ই বলে আমরা সব পাপী! হেরাই বুঝি একমাত্র ভগবানের চরণে শান্তি পাইতে পারে। হায় হায়! ভগমান যে সবজায়গায় আছে, সেইটা ওই দিশী পাদ্রি বুঝব ক্যামনে!’
লক্ষ্মী নামের এক কামিন রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল, ‘আর কত সহ্য করব বলো! কাল আমার ছোট ভাইটা একটুখানি জিরোতে গেছিল, তাতেই বাঘ বলরামের লোক ওরে এমন মাইর দিছে… হায় ভগবান! পিঠের হাড় বোধ হয় ভেঙেই গেছে।’
সবাই নিজের নিজের মতো করে ক্ষোভ প্রকাশ করছিল। এমন সময় নিস্তারিণী বলল, ‘তবে মন্দের ভালো, শয়তানটার জন্য আমরা কিছুদিন শান্তি পেয়েছি।’
সবাই মাথা নাড়ল। কথাটা মিথ্যে নয়। নতুন পাদ্রি এসে বলে দিয়েছেন, ধর্মান্তরের আগের এক মাস কোনও মেয়েকে দিয়ে যৌন চাহিদা মেটানো যাবে না। এই কথা শুনে ছোট সাহেব পিটার একেবারে চুপসে গেছেন। তখন মণিময় দত্ত চোখ টিপে বলেছেন, ‘আরে সবুরে মেওয়া ফলে, সাহেব! জেনেশুনে পাপ করবেন নাকি? বাইবেলে এটা একেবারে নিষিদ্ধ।’
বাইবেলকে সকলেই ভয় করে। তাই সাহেবের কড়া নির্দেশে যখন তখন মেয়েদের তুলে নিয়ে যাওয়া বন্ধ হয়েছে। অন্তত এই একমাসের জন্য। লম্বোদরীর ওপর বাঘ বলরাম প্রতি রাতে পাশবিক নির্যাতন শুরু করেছিল। সেটাও বন্ধ হয়েছে।
পুঁটিবালা বলল, ‘হ্যাঁ। বাঘ বলরামের লোকগুলো অবধি বাজে কথা বলছে না।’
সুরেন এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিল। আগুনের লালচে আলোয় তার মুখে গভীর চিন্তার ছাপ পড়েছে। গম্ভীর মুখে সে বলল, ‘অন্ধের কি বা দিন কি বা রাত। আজ হোক বা কাল, ধর্মান্তরের পরেই আবার মেয়েদের তুলে নিয়ে যাওয়া শুরু হবে। তার আগেই যা করার করতে হবে।’
‘কী করবে তুমি?’ বুড়ো মাধব কুলি বাধা দিল, ‘আচ্ছা, এই বদমাশ মরাময়টারে সরায়ে দিলে হয় না?’
‘সরিয়ে দিলে!’
‘হ্যাঁ। লোকটা রাতের বেলা উঠে জঙ্গলের ধার বেয়ে হাঁটে। ঘরেও একা থাকে। তখন গিয়ে ঘাড়ে একখানা রদ্দা মারলেই শেষ। তারপর লাশখানা মাটি খুঁড়ে…।’
বাকিবুল্লা নামের উত্তরভারতীয় কুলিটা হিন্দি বাংলা মিশিয়ে বলল, ‘লেকিন পড়ালিখা জানা আদমি, যদি ফাঁস করে দেয়? তব তো হাম সব খতম!’
‘আরে বাপু, ফাঁস করার আগেই তো ও ওর যিশুর কোলে চইলা যাবে।’ মাধবের চোখে রাগের আগুন, ‘ধর্মের নাম কইরা যদি এইসব অমানুষি করে, তাইলে এদের কইছি, থুঃ!’
সুরেন বলল, ‘অত তাড়াহুড়ো করলে হবে না। কুলিদের মধ্যেই যে কেউ ওদের চর লুকিয়ে নেই, তার কী মানে? আর কিছুদিন যাক।’
কথাটা ঠিক। কুলিলাইনের অনেক কুলিই বাঘ বলরামের স্যাঙাতদের সঙ্গে গা ঘসাঘসি করে। কুলিগিরি থেকে মুক্তি পেয়ে যদি লাঠিয়াল হওয়া যায়, অন্তত রোজের অত্যাচার থেকে তো মুক্তি।
এতক্ষণ পর মোতি ধীরে ধীরে বলল, ‘হাম সব ভুখা মরেঙ্গে, উয়োভি আচ্ছা। লেকিন আল্লাহ্ কো নেহি ছোড়েঙ্গে।’
‘একদম সহি বাত!’ বাকিবুল্লা এক হাত বজ্রমুষ্টি পাকিয়ে ওপরে তুলল।
হিন্দু মুসলিম সব কুলিরাই এবার হই হই করে উঠল।
‘শ-শ-শ! আস্তে!’ সুরেন গভীর ভাবে তাকিয়ে দেখছিল সবার মুখের দিকে। ওর মুখে দৃঢ়তার ছাপ, ‘আমাদের লড়াই শুধু ধর্মের জন্য নয়। আমাদের লড়াই বেঁচে থাকার জন্য। সম্মানের জন্য। মণিময় দত্ত বা তার সাহেবরা যদি ভাবে আমাদের ধর্ম কেনা মানেই আমাদের কিনে নেবে, তারা ভুল করছে।’
‘তাহলে আমরা কী করব?’ নিস্তারিণী কাতরস্বরে বলল, ‘হাতে তো এই ক’টা দিন। ওদের কী একটা পরবে তো আমাদের খ্রিস্টান করবে!’
‘বড়দিন। আসতে এখনো মাসখানেক দেরি আছে।’ সুরেন মন্দ্রস্বরে বলল, ‘চিন্তা করো না। শুধু মণিময় দত্তকে সরালেই তো হল না, আগে সব দিক ঠিক করে খতিয়ে দেখতে হবে।’
লম্বোদরী বলল, ‘ওই পাদ্রির লগে বুড়া ওভারশিয়ার নীলকণ্ঠের বড় দহরম মহরম রে! খেয়াল করছস? বুড়া নীলকণ্ঠরে মন্দের ভালো ভাবতাম। ভাবতাম বুড়া তাও মাইনষের মতো কথা কয়। হেই যে মাঝে-মাঝে মুইষা যাওয়া বুড়ি বিন্নিরে লুকাইয়া চিঁড়া মুড়ি খাওয়াইত, হেই যে মাঝেমাঝে ছোট ছাওয়ালগুলানরে লুকাইয়া পান্তা দিত। হেই বুড়োও দেখি আর পাঁচটা খচ্চরের মতোই! পাদ্রির লগে গলায় গলায় ভাব পাতায়া ঘুরতাছে। স্যাঙাত হইছে বাঁশের চেয়ে কঞ্চির দড় মণিময়টার! ছ্যা ছ্যা!’
মাধব গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, ‘কিন্তু লম্বোদরী, নীলকণ্ঠ কি আর খালি পাদ্রির পিছে পিছে ঘুরতাছে রে? আমাগোও নজর রাখতাছে! ওই যেদিন হঠাৎ বড়সাহেবের সামনে মুনিষদের নাম পইড়া দিল, কেডা কেডা কামে ঢিলা দিছে। সেই দিনই বুইঝা গেছি, এ বুড়োটা আর আগের বুড়ো নাই। ওরে আমাগো ওপর লাঠি চালানোর নতুন কৌশল দিয়া পাঠানো হইছে।’
‘নীলকণ্ঠের এই আচরণ বদলানোর পেছনে নিশ্চয় কিছু কারণ আছে। হয়তো মণিময় দত্তর কাছে সে কিছু একটা পাচ্ছে। হোক সেটা মদ কিংবা অন্য কোনও লোভ…!’ বলতে বলতে সুরেন একটু থমকে গিয়ে বলল, ‘আরেকটা কথা বলো তো, এই পাদ্রিটা কি আগে কোনওদিনও এই মরামাটিয়ায় এসেছিল? কিংবা অন্য কোথাও?’
মাধব এখানকার অন্যতম পুরনো কুলি, সে মাথা নেড়ে বলল, ‘না তো! কই, এরে তো আগেতে কখনো দেহি নাই!’
বাকি পুরোনো কুলিরাও ঘাড় নাড়ছিল। সুরেন চুপ করে রইল। ওর যেন লোকটাকে কেমন চেনা চেনা লাগছে। কোথায় যে দেখেছে, কিছুতেই মনে করতে পারছে না! লোকটার হাঁটাচলা, চোখের চাহনি বড্ড যেন পরিচিত!
রামবিলাস নামের আরেক বৃদ্ধ কুলি বলল, ‘মাধব, বুড়ো নীলকণ্ঠ ধুবড়ি ঘাটে কেন যায় বলতে পারিস?’
মাধবের চোখ দুটো সংকীর্ণ হয়ে এল। গলা নামিয়ে বলল, ‘শুনছি, সাহেবগুলানের কলকাতা ত্যাহানত মাইনসে আসে মাঝেমধ্যে কাগজপাতির গিচ্যা। ধুবড়ি ঘাটে নাও ভিড়ে। নীলকণ্ঠ সাহেবগুলানের হুকুমে গিয়া সেইসব কাগজ আনিয়া নেয়। তবে…।’ মাধব থেমে গেল।
‘তবে কী?’
‘না, তেমন কিচ্ছু না। একদিন নীলকণ্ঠের কোঠার পাস দিয়া আইতেছিলাম, দেহি বুড়াডা অনেক হিজিবিজি কাগজের টুকরা একডা ব্যাগত পুরতাছে। আমায় দ্যাহে নাই। তাড়াহুড়ো কইরা বাইর হইয়া গেলো ডাকে দিবো বইলা।’ মাধবের শুকনো চোখ কুতকুত করে উঠল, ‘তা ওইসব হিজিবিজি টুকরা ডাকে দেয় ক্যান? এইডার মধ্যে কি কোনও গুপ্ত কথা আছে নাকি?’
‘গুপ্ত কথা!’ সুরেনের কপালে ভাঁজ পড়ল, ‘এমনও হতে পারে মণিময় দত্ত এই বাগানটাকে নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আর তার জন্য হাত করেছে নীলকণ্ঠকে। হয়ত এই বাগানের গোপন কথা কাউকে লিখে পাঠাচ্ছে কলকাতায়। হয়ত মণিময় দত্ত এখানে সাহেবদের চেয়েও বড় প্রভু হতে চায়। আর বুড়ো নীলকণ্ঠ হচ্ছে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত কুকুর!’
‘কী বুদ্ধি রে তোর!’ মাধব আর রামবিলাস একসঙ্গে বলে উঠল।
‘ওসব ছাড়ো।’ সুরেন বলল, ‘একটা কথা মাথায় রাখো তোমরা। মণিময় দত্ত বদমাশ হতে পারে, ওকে মেরে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হতে পারে, কিন্তু তা সাময়িক। আমাদের এমন কোনও ফন্দি আটতে হবে, যাতে আমরা সবাই এই নরক থেকে বেরোতে পারি।’
‘তুই তো অনেক ওঝা গুণিনের দাওয়া দারু জানস। এই হারামিগুলারে বিষ খাইয়ে মাইরা ফালাইলেই হয় না?’
‘আরে বাবা, বাঘ বলরাম, মণিময়, পিটার, ফিলিপদের মেরে কী হবে, ওদের জায়গায় অন্য কেউ আসবে।’ সুরেন বিরক্ত মুখে বলল, ‘ভালো করে বোঝো। যতদিন আমাদের ওই দস্তখত দেওয়া রেজিস্ট্রির কাগজ রয়েছে, আমরা কোথাও পালাতে পারব না। তাই শিকড়কে আগে ওপড়াতে হবে।’
মাধব, বাকিবুল্লা, লম্বোদরীরা তো বটেই, অন্যরাও হাঁ করে তাকিয়ে রইল সুরেনের দিকে।
সুরেন যে উচ্চশিক্ষিত, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সরস্বতী একদিন ওদের বলছিল, কুলিলাইনে এমনকী বাগানের কর্মচারীদের মধ্যেও কেউ অসুস্থ হলে সুরেন নাকি তাকে ওষুধ দেয়। অনেকসময় ভালোও করে তুলেছে। সেইজন্যই পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে গিয়েও তাকে তেমন কোনও শাস্তি দেওয়া হয়নি।
কিন্তু সে এখানে এল কী করে? আগে তার বাড়ি কোথায় ছিল? কেউ জানে না।
