মগ্ননারাচ – ১৬

১৬

ভুবনমণি জোরে জোরে পড়ছিল, ‘আমার প্রিয় নির্ভীক নারীদের জানাই, কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় বিলাতি ডিগ্রি নিয়ে আসার পর যে কুৎসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, তোমাদের সেই অনুমান একেবারেই সঠিক নয়। কলকাতার বেশ কিছু নামী তথাকথিত প্রগতিশীল চিকিৎসক মন্তব্য করেছেন, ওসব ডিপ্লোমা হল কাগজে লেখা আর বই পড়া থিয়োরি। হাতে কলমে রোগী দেখাটাই হল আসল। যদি সাহস থাকে, তবে দুরারোগ্য ব্যাধি সারিয়ে দেখান, তবে বুঝব, হ্যাঁ। তিনি সত্যিকারের ডাক্তার হয়েছেন।

‘তোমরা শুনলে অবাক হবে, কোনও কোনও বিজ্ঞ নেতা এমনও বলেছেন, এমন নারী সমাজের কলঙ্ক। ভদ্রবাড়ির মেয়েরা শুনলে মাথা বিগড়ে যাবে। নারী শিক্ষিত হয় সংসার সুনিপুণভাবে পরিচালনার জন্য। নারীকে যদি সংসার ছেড়ে বাইরে বেরোতে হয়, অমন শিক্ষা পেয়ে লাভ কী?

‘এই সব অর্বাচীনদের আমরা এটাই জবাব দিতে চাই যে, নারীর ক্ষমতা শুধু রান্নাঘরে আর মন্দিরে সীমাবদ্ধ নয়। নারীর ক্ষমতা হল তার নিজের ইচ্ছাশক্তি। আজ কাদম্বিনী সেই ইচ্ছাশক্তিকে দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন যে নারী সেবা করতে পারে, সে পুরুষের সমান হতে পারে, এমনকী তার চেয়েও অনেক বড় হতে পারে। উত্তিষ্ঠিত জাগ্রত!

‘তবে কাদম্বিনী এঁদের যথাযোগ্য উত্তর দিয়েছেন। কিছুদিন আগের একটি ঘটনা তোমাদের বলি। শহরের এক নামজাদা রায়বাহাদুরের পুত্রবধূর পেট ক্রমশই ফুলে যাচ্ছিল। এমন হয়েছিল, বড় বড় ডাক্তাররা গিয়ে পরীক্ষা করে বলেছেন, পেটে টিউমার আছে। অপারেশন করতে হবে। কিন্তু বাড়ির বধূর অস্ত্রোপচার কেমন করে পুরুষ ডাক্তার করবেন? তাতে যে জাত ধর্ম সবই খোয়া যাবে। চিন্তায় কাতর রায়বাহাদুর তখন বিলাতফেরত বাঙালি মহিলা ডাক্তারের সংবাদ পেয়ে উৎসুক হয়ে ওঠেন। কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় গিয়ে পরীক্ষা করে বলেন, পেটে বাচ্চা আছে। টিউমার নয়। মেয়েটি গর্ভবতী। সবাই তখন হেসে উড়িয়ে দিল। এত বড় বড় ডাক্তার কি তবে ভুল? মোটেই নয়।

‘রায়বাহাদুর বিলেত থেকে তিনটে ডিপ্লোমা নিয়ে ফিরে আসা এই বঙ্গতনয়ার ওপর ভরসা হারাননি। গত সপ্তাহে কাদম্বিনী সেই মেয়েটির অপারেশন করে প্রসব করিয়ে শহরের গোটা ডাক্তার মহলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তোমাদেরও এভাবে জবাব দিতে হবে।’

কাদম্বিনী এতক্ষণ চুপ করে শুনছিলেন। এবারে আর থাকতে না পেরে বাধা দিলেন, ‘এসব কী ছাইপাঁশ লিখেছিস তুই, ভুবন? এই লেখা তুই ছাপতে দিচ্ছিলি তোর কাগজে? না না, কক্ষনো না।’

ভুবনমণি হতবাক হয়ে গেল, ‘ছাইপাঁশ? এগুলো মিথ্যা কথা?’

কাদম্বিনী বিরক্ত মুখে বললেন, ‘মিথ্যা না হোক, অপভ্রংশ তো বটেই।’

‘তুমি ওই রায়বাহাদুরের ছেলের বউকে সারাওনি?’

‘আহ, তা বলছি না। কিন্তু তোর কি মনে হয়, আমি কাউকে জবাব দিতে তার অপারেশন করেছি? কারুর কুৎসার উত্তর দিতে বিলেত গেছি?’

‘তবে?’

‘তবে আবার কী! আমি ডাক্তার হয়েছি নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য, বিলেত গেছি যাতে ডাক্তারিটা করতে পারি। কাউকে দেখাতে নয়। আমার মনে হয়েছিল, বিদ্যা মানে তা কেবল বইয়ে লেখা কিছু কথা নয়। বিদ্যা হল মানুষের সেবা করার উপায়। আমি যদি মানুষের সেবা করতে পারি, তাহলেই আমার জীবন, আমার পড়াশোনা সার্থক হবে। আমাকে যারা বাধা দিয়েছেন বা দিচ্ছেন, তাঁরা চান নিজেদের অজ্ঞতার অন্ধকারে বন্দি থাকতে। তাই বলে আমি কেন সেই অন্ধকারে ঢুকব? মেয়ে মানেই কি সবসময় নিজেকে প্রমাণ করতে হবে নাকি? সীতার মতো অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে বারবার?’

‘তা কেন? কিন্তু যারা কুৎসা রটাচ্ছে, তাদের উত্তর দিতে হবে না?’

‘উত্তর কি শুধু মুখেই দিতে হয় নাকি? রাস্তায় হাঁটার সময় যদি অনেক কুকুর মিলে তাড়া করে, সবাইকে ঢিল ছুড়তে গেলে তো ঢিলই ছুড়ে যাবি, হাঁটা শেষ করবি কবে? আমি শুধু নিজের কাজটা ভালো করে করতে চাই। মানুষের সেবা করতে চাই। যতদিন সম্ভব কাজ করব। সেটাই আমার উদ্দেশ্য। মনে রাখবি, ডাক্তার শব্দটা শুধু পুরুষদের বোঝায় না।’

‘ওহ, তার মানে এত কুৎসা তুমি সব মেনে নেবে?’

‘তোকে কে বলল, মেনে নেব? মোটেই মেনে নেব না। উপেক্ষা করছি। উপেক্ষা করব।’ কাদম্বিনী দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, ‘তারা যদি আমার কাজের মধ্যে ভুল খুঁজে পায়, সেটা অবশ্যই গ্রহণ করব। কিন্তু যারা শুধু কুৎসা করতে ভালোবাসে, তাদের কথা শুনে আমি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাব কেন? আমি শুধু জানি, ডাক্তার হিসেবে আমার দায়িত্ব হল রোগীর সেবা করা। সেটাই আমার আসল পরিচয়। এর বাইরে কে কী বলল, সেটা আমার কাছে একেবারে গুরুত্বহীন, ভুবন!’

ভুবনমণি মোহাবিষ্টের মতো বলল, ‘তাহলে কী লিখব আমার কাগজে?’

‘যদি একান্তই লিখতে চাস, লেখ মেয়েদের ডাক্তারি পড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা। লেখ, কীভাবে এখনো সচেতনতার অভাবে, আর নারী ডাক্তারের অভাবে কত মেয়ে মারা যাচ্ছে। গ্রামেগঞ্জে তো ছেড়েই দিলাম, শহরেও। এই যে ক্যাম্পবেল স্কুলে গাইনোকলজি পড়াতে যাই, হাতেগোনা কয়েকজন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান বা ইহুদি ছাত্রী বাদ দিলে সবই তো প্রায় পুরুষ ছাত্র।’

ভুবনমণির মুখে গর্বের ছাপ পড়ল, ‘তুমিই কিন্তু দেশের প্রথম ডাক্তারি কলেজের মাস্টারনি। “Indian Messenger” কয়েকদিন আগেই বড় বড় করে খবর করেছিল, First instance of a lady being called upon to perform the honorous duty of medical lecturer in this country! আমি কাটিংটা যত্ন করে রেখে দিয়েছি।’

‘ওসব কথা রাখ। যেটা বলছি শোন। গাইনির ছাত্রগুলো ইন্টার্নশিপে গিয়ে মাছি তাড়ায়। কুণ্ঠাবশত দেশীয় রোগিণীরা আসেই না তাদের কাছে। তাদের পরিবারও চায় না। অথচ নারী ডাক্তার পর্যাপ্ত থাকলে তো তারা চিকিৎসা নিতে আসত। এইভাবে কত প্রাণ ঝরে যাচ্ছে।’ কাদম্বিনী একটানা বলে দম নিলেন, ‘যে মেয়েরা আমাকে দেখে সাহস পেতে চায়, তাদের উদ্দেশে বরং এটা লেখ যে, কাজের মাধ্যমেই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। তর্ক বা উঁচুগলায় ঝগড়া করে নয়।’

ভুবনমণি চমকে উঠল। বহুদিন আগে বলা সৌরেন্দ্রর কথাগুলো মনে পড়ে গেল ওর।

‘ভুবন, তোমায় হতে হবে মগ্ননারাচ। নারাচের মতো সব বাধাবিপত্তিকে তো তুমি ঘায়েল করবেই, কিন্তু তা করতে হবে গোপনে। উচ্চকিতস্বরে নয়। তোমায় জমাট বাঁধতে হবে সকলের অলক্ষ্যে, কিন্তু যখন প্রকাশিত হবে, তখন তুমি হয়ে উঠবে বিধ্বংসী।’

ও দ্রুত নিজেকে সামলে নিল, ‘ঠিকই বলেছ। আমি সেভাবেই লিখব এবার থেকে। সংযতসুরে। কিন্তু তুমি জানো, প্রতিমাসে আমার দপ্তরে যত চিঠি আসছে, তার সিংহভাগই তোমায় নিয়ে। তোমায় নিয়ে লেখা কত মেয়ে যে পড়তে চায়! কেউ কেউ তোমার ছবিও দেখতে চায়। আসলে তোমার যাত্রাটা ওদের কাছে আলোর পথ দেখানোর মতো।’

‘হতে পারে। কিন্তু সেই আলো তো তাদের নিজেদেরই খুঁজে নিতে হবে, তাই না!’ কাদম্বিনী দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, ‘আমি কেবল পথ দেখাতে পারি। চলার শক্তি তাদের নিজেদের মধ্যেই থাকতে হবে। কে কী বলছে, তাতে পরোয়া করলে চলবে না। দেখবি, এভাবে ধীরে ধীরে মেয়েরাই নিজেদের কাজে প্রমাণ করবে যে, তারা যোগ্য। এইসব তর্ক করে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে না। আর তখন এমন কুৎসারও কোনো দাম থাকবে না।’

ভুবনমণি উত্তরে কী বলতে যাচ্ছিল, এমনসময় হন্তদন্ত হয়ে উপস্থিত হলেন গগনচন্দ্র, ‘আজকের ডাকে দ্বারিকবাবুর চিঠি এসেছে?’

‘না তো! সকালে দেখেছি। কিছু আসেনি। কেন?’

গগনচন্দ্র চিন্তিতমুখে বললেন, ‘আমিও এখন একবার ডাকবাক্সটা খুঁজে এলাম। দ্য বেঙ্গলিতে পরপর যে প্রবন্ধগুলো ছাপা হচ্ছে, তাতে তো দেশে আগুন জ্বলে যাচ্ছে! চরম বিপদের গন্ধ পাচ্ছি।’

ভুবনমণি মাথা নাড়ল, ‘হুঁ। আমিও পড়ছি নিয়মিত। বিপদ কীসের?’

‘কী বলছ ভুবন! দ্বারিকবাবু যেভাবে লিখছেন, টি-প্ল্যান্টাররা পরিষ্কার বুঝতে পারছে কেউ একটা ওখানে গেছে। ওঁকে ধরতে পারলে কী হবে, ভেবে দেখেছ? আগেরবার রামকুমারকে গুলি করে মারার হুমকি দিয়েছিল।’ গগনচন্দ্র একটু থেমে বললেন, ‘না না। দ্বারিকবাবুকে জানাতে হবে, এখন কিছুদিন লেখা পাঠানো বরং বন্ধ থাকুক।’

কাদম্বিনী উৎকণ্ঠাভরা চোখে তাকালেন, ‘সেকথা ওনাকে এখুনি জানানো যায় না?’

‘চাইলে তার করা যায়, কিন্তু কোনওভাবে যদি জানাজানি হয়!’

ভুবনমণি বলল, ‘কেন, আপনাদের সেই হামচুপামূহাফ?’

গগনচন্দ্র সামান্য মাথা নেড়ে চুপ করে গেলেন। তারপর অন্যমনস্কভাবে জামার পকেট থেকে বের করলেন একটা খাম, ‘যাকগে, যা দিতে এসেছিলাম। আপনার নামে একটা চিঠি এসেছে মা।’

কাদম্বিনী গগনচন্দ্রর থেকে প্রায় বছরপঁচিশের ছোট, গগনচন্দ্র তাঁকে কন্যাবৎ ভালোবাসেন, ‘মা’ বলে ডাকেন, এদিকে ‘আপনি আজ্ঞে’ও ছাড়েন না।

কাদম্বিনী স্বামীর জন্য চিন্তা করতেই করতেই ঝুঁকে খামটা নিলেন। হ্যাঁ। ঠিকই। ওপরে বড় বড় করে ইংরেজিতে লেখা। ডাঃ মিসেস কাদম্বিনী গাঙ্গুলি।

প্রেরকের জায়গায় লাল রঙের বড় সিল। সুন্দর হরফে ইংরেজিতে লেখা, নেপাল রাজ জঙ বাহাদুর।

নেপাল থেকে কে চিঠি লিখল তাঁকে? কাদম্বিনী দ্রুত খাম ছিঁড়ে চিঠিটা পড়ে ফেললেন। তারপর অবাক চোখে তাকালেন, ‘নেপালের রাজার দপ্তর থেকে চিঠি এসেছে।’

‘কেন গো?’ ভুবনমণিও বিস্মিত।

‘রাজার মা বহুদিন ধরে অসুস্থ। কোনও ডাক্তার সারাতে পারেননি। রাজা নাকি কোথা থেকে আমার নাম শুনেছেন। তাঁর অনুরোধ, আমি যদি রাজমাতার চিকিৎসার ভার নিই।’

‘নেপালে! এখন নেপালে যেতে হবে তোমায়?’

কাদম্বিনী বিচলিতমুখে তাকালেন। অসহায়ভাবে বললেন, ‘ছেলেমেয়েগুলোকে অন্তত দিনে একবার চোখের দেখা তো দেখতে পাই। সবেমাত্র বাড়িতে রাজমিস্ত্রি লাগালাম!’

‘আমরা বাড়ির এতগুলো লোক তবে কী করতে রয়েছি বউদিদি? এইসব কাজের জন্য তোমার জন্ম হয়নি।’ ভুবনমণি শান্ত স্বরে বলল, ‘তুমিই তো একটু আগে বললে, কাজ দিয়েই যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। আমি জানি, নিজেকে যোগ্য প্রমাণের কোনও দায় তোমার নেই, কিন্তু মানুষের সেবাই তো তোমার কাছে মুখ্য। সে-ই তোমার ধর্ম। তুমি যাও বউদিদি! সুস্থ করে তোলো নেপালের রাজমাতাকে!’

কাদম্বিনী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইলেন। মনের মধ্যে যেন এক অদ্ভুত টানাপোড়েন চলছে। একদিকে তাঁর ডাক্তার হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব, মানুষের সেবা করার আদর্শ, যার জন্য তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন এতদিন। অন্যদিকে তাঁর নিজের ঘরসংসার, সন্তানদের মায়া। রোজ সকালে ছোট বুবুকে কোলে নিয়ে আদর করা, সন্ধ্যাবেলা ছেলেমেয়েদের পড়ানো, সতীশকে ওষুধপথ্য দেওয়া, রান্নাঘরের তদারকি। এইসব ছোট ছোট সুখের মুহূর্তগুলোও তো তাঁর জীবনের জ্বালানি!

গগনচন্দ্র এতক্ষণ পর মৃদু স্বরে বললেন, ‘মা, আপনার কাজের জন্যই তো এত মানুষের আশীর্বাদ জুটেছে। এমন সুযোগ যদি হাতছাড়া করেন, তবে তা মহাপাপ হবে। আমি নিশ্চিত, গাঙ্গুলিমশাই থাকলেও একই কথা বলতেন।’

কাদম্বিনী চুপ করে গগনচন্দ্রের কথা শুনলেন। কথাগুলো যেন তাঁর নিজেরই মনের গহনে ধ্বনিত হচ্ছে। তিনি জানেন, তাঁর কাজ শুধুমাত্র ব্যতিক্রমী হয়ে তৃপ্ত থাকা নয়, ঘরে ঘরে মেয়েদের ডাক্তার হওয়াটাকে স্বাভাবিক ঘটনার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। তা করতে গেলে দূরে তো যেতেই হবে।

ভুবনমণি এবার এগিয়ে এসে কাদম্বিনীর হাত ধরল।

‘বউদিদি, তুমি যাও। আমি জানি তুমি সতীশ আর বুবুর কথা ভাবছ। সতীশের পথ্যটা আমায় ভালো করে বুঝিয়ে দিও। আর তোমার বুবু? সে তো মা’কে ছাড়াই এতক্ষণ ঘুমিয়ে থাকে। একদিন যখন বড় হবে, তখন সে যেন গর্ব করে বলতে পারে যে, তার মা ছিলেন এক যোদ্ধা। তিনি হাজার হাজার মেয়েদের কাছে আদর্শ স্থাপন করেছিলেন।’

কাদম্বিনীর চোখের কোণে জল জমে উঠল। তিনি ধীরে ধীরে মাথা নাড়লেন, ‘কাগজ চালিয়ে খুব ভারী ভারী কথা শিখেছিস। ঠিক আছে। আমি যাব। নেপালের রাজমাতার চিকিৎসার দায়িত্ব আমি নেব। শুধু তুই আমায় একটা কথা দে ভুবন। তুই তোর নতুনদাদার খবর নিবি। আমি কিন্তু তোর ভরসায় নেপালে গিয়ে থাকব। তুই ওঁর খোঁজ রাখবি নিয়মিত। দেখিস, আসামে যেন তাঁর কোনও বিপদ না হয়!’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *