২১
নেপালে আজ কাদম্বিনীর শেষ দিন। গত তিনমাসের স্মৃতি যেন একসঙ্গে এসে ভিড় করছে তাঁর মনে। অতিথিভবনের এই মহল যেন বড় আপন হয়ে উঠেছে তাঁর কাছে। নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন তিনি। কাঁধের পাশ দিয়ে আলতো করে একটা রোদের টুকরো এসে পড়েছে বাক্সের ওপরে রাখা শালু কাপড়টার ওপর। প্রতিটি আসবাব, জানলার পাশে রাখা ফুলদানি, লম্বা আয়নাটা পর্যন্ত আজ আপন মনে হচ্ছে। যেন মনে হচ্ছে, কতকাল ধরে তিনি এখানে থেকেছেন!
রাজমাতা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাঁর শরীরের জড়তা কেটে গিয়ে চোখেমুখে এক নতুন জীবনীশক্তি খেলা করছে। এর মধ্যে দু’বার তাঁকে নিয়ে কাদম্বিনী বাইরে বেরিয়েছেন। রাজা প্রথমে আপত্তি করেছিলেন, তাঁদের পরিবারে কোনও মহিলারই বাইরে যাওয়ার রীতি নেই। কিন্তু কাদম্বিনী তখন তাঁকে বুঝিয়েছিলেন, প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া, খোলা বাতাসে থাকা রাজমাতার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা প্রয়োজন।
প্রথম যেদিন রাজপ্রাসাদের অন্দরমহল পেরিয়ে তাঁরা খোলা বাগানে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, রাজমাতা আবেগে কাঁপছিলেন। কোনও জন্মাবধি অন্ধ মানুষ দৃষ্টি ফিরে পেলে যেমনভাবে শুষে নিতে চায় সব দৃশ্য, সেভাবেই তিনি গাছের পাতা থেকে শুরু করে দূরের আকাশ পর্যন্ত সবকিছুকে যেন চোখ মেলে দেখছিলেন, জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে মনের গভীরে টেনে নিতে চাইছিলেন।
তাঁর বুকের ধুকপুকানি পর্যন্ত শুনতে পাচ্ছিলেন কাদম্বিনী।
‘রানিমা, আপনি ঠিক আছেন তো?’ কাদম্বিনী আকুল গলায় প্রশ্ন করেছিলেন।
‘হ্যাঁ…হ্যাঁ…আমি ঠিক আছি।’ রাজমাতার গলা কাঁপছিল আবেগে, ‘কতদিন পর এই মুক্ত আকাশ দেখছি, জানিস ডাক্তারবাবু? যেন আমি ফিরে গেছি আমার শৈশবে। আমার বাবার বাড়িতে ঠিক এমনই একটা বাগান ছিল, সেখানে আমি প্রথম ফুল চিনেছিলাম।’
বৃদ্ধা প্রচণ্ড উত্তেজনায় হাঁটছিলেন ধীরে ধীরে। কাদম্বিনী তাঁর পাশে হাঁটতে হাঁটতে অবাক হয়ে যাচ্ছিলেন। শরীরের কাঁপুনিকে উপেক্ষা করে কী প্রবল জীবনীশক্তিতে তিনি এগিয়ে চলেছিলেন ফুলের বাগানের দিকে।
একটু পরেই তিনি থেমে গেলেন একটা শিউলি গাছের সামনে। গাছটা ভরে গেছে ফুটন্ত সাদা কমলা রঙের শিউলিতে।
‘ছোটবেলায় এই ফুলের মালা গাঁথতাম আমি।’
কাদম্বিনী কিছু বললেন না। শুধু দেখছিলেন, কীভাবে রাজমাতা একেকটা শিউলি ফুলকে পরম মমতায় স্পর্শ করছেন, ‘জানিস ডাক্তারবাবু, এই ফুলের গন্ধে আমি আমার মাকে অনুভব করি। মা আমায় শিউলিফুলের মালা গাঁথতে শিখিয়েছিল। সেই মা যখন শেষবারের মতো চোখ বুজল, ছেড়ে চলে গেল আমায়, শেষ দেখাও দেখতে যেতে দেওয়া হয়নি আমায়!’
কাদম্বিনী রাজমাতার হাতের আঙুল জড়িয়ে ধরলেন, ‘মা কখনো সত্যি সত্যি আমাদের ছেড়ে যান না, রানিমা। তাঁরা থেকে যান আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের হৃদয়ে। আমাদের রক্তে।’
‘তুই ঠিক বলেছিস রে!’ রাজমাতা ফোকলা দাঁতে অনাবিল হেসেছিলেন, ‘আজ যেন আমি আমার মাকে খুঁজে পেলাম। যেন তারই হাত ধরে আমি ফিরে এসেছি আমার ছোটবেলায়। তুই-ই আমার মা, ডাক্তারবাবু!’
সেদিনের সেই মুহূর্ত মনে পড়তে নিজের বাক্স গোছাতে গোছাতে কাদম্বিনীর চোখে জল এল। মন অন্যদিকে ঘোরাতে চোখ তুলতেই তিনি মেঘলাকে দেখতে পেলেন।
‘কখন চুপিচুপি এসে দাঁড়িয়ে আছিস? খেয়ালই করিনি!’
মেঘলা কোনও কথা বলল না। শুধু তাকিয়ে রইল একদৃষ্টিতে।
‘ওমা, কথা বলছিস না কেন?’
মেঘলা ঘরঘরে গলায় বলল, ‘তুমি চলে যাচ্ছ, তাই না?’
কথা বলতে গিয়ে ওর ঠোঁট কাঁপছে। চোখের কোণে জমে থাকা জলটা জোর করে আটকে রাখার চেষ্টা করছে।
কাদম্বিনী প্রাণপণে নিরাসক্ত থাকার চেষ্টা করলেন, ‘হ্যাঁ মেঘলা, আজই ফিরতে হবে। এখানকার কাজ শেষ হয়েছে। রাজমাতা এখন অনেকটাই সুস্থ।’
‘কিন্তু আমার কাজ তো এখনো শেষ হয়নি! তোমার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এখনো অনেক কিছু শেখা বাকি আছে। তোমায় ছাড়া আমি কীভাবে চলব?’ বলতে বলতে মেঘলা অঝোরে কেঁদে ফেলল।
কাদম্বিনী সস্নেহে ওকে বুকে টেনে নিলেন। মেয়েটা খুব নরম মনের। ছোট থেকে মায়ের স্নেহ পায়নি। অবশ্য এখানে রাজার কোনও ছেলেমেয়েই সেভাবে মায়ের সাহচর্য পায় না। তারা বড় হয় ধাত্রীদের যান্ত্রিক কঠিন আশ্রয়ে। এমনকী, জন্মের পর তাদের স্তন্যও পান করায় দুধ মা নামের ধাত্রীরা। কাদম্বিনীর অবাক লাগে। এই প্রথা দেশের অনেক রাজপরিবারেই আছে। একটা শিশুর জন্মের পর তার প্রথম সংযোগ তৈরি হয় তার মায়ের সঙ্গে। সেখানটাই যদি শূন্য থাকে, কী করে সে পরে স্বাভাবিক জীবন যাপন করবে?
‘শোন মেঘলা।’ কাদম্বিনী ওর পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন, ‘তোকে নিজেই নিজের পথ চলতে হবে। আর তুই সেটা পারবি। কখনো হার মানবি না।’
মেঘলা ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল, ‘কী করে বুঝব, কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল? এখানে তো আমার নিজের বলতে কেউ নেই! শুধু তুমি ছিলে, যার সঙ্গে সব কথা বলতাম। যদি চলতে গিয়ে ভুল করে ফেলি?’
‘ভুল করলে করবি। ভুল না করলে কখনো সঠিকটা বুঝতে পারবি না। ভুল হওয়া মানেই তো শেখা। যদি খুব শিগগির বিয়ে করতেও হয়, নিজের স্বপ্নটাকে মেরে ফেলবি না। তোকে অনেক বড় হতে হবে মেঘলা। বড় হওয়া মানে কিন্তু শুধু লেখাপড়া শেখা নয়, বড় হওয়া মানে নিজেকে জানার শক্তি অর্জন করা। কারুর অন্দরমহলের পুতুল হয়ে বসে থাকার জন্য তোর জন্ম হয়নি। আমি জানি, তুই পারবি। তুই ভিতু নোস। অনেক সাহস আছে তোর মধ্যে। আর কখনো যদি মনে হয় যে তুই একা পারছিস না, আমায় চিঠি লিখবি। আমি যেখানেই থাকি, ঠিক চলে আসব।’
মেঘলা চোখ মুছতে মুছতে বলল, ‘তুমি কথা দাও, আবার দেখা হবে আমাদের।’
‘অবশ্যই হবে। তুই যেদিন নিজের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবি, আমি সেই আলোতেই সেদিন তোকে খুঁজে পাব। তুই শক্তিশালী মেঘলা, তুই পারবি।’
মেঘলা চলে যাওয়ার পর অনেকক্ষণ নিজের মনেই কাঁদলেন কাদম্বিনী। ইউরোপ হোক, এশিয়া হোক কি আফ্রিকা। প্রতিটা মহাদেশ, প্রতিটা দেশ, প্রতিটা সভ্যতা, প্রতিটা সমাজ নির্বিশেষে মেয়েদের কী দুরূহ অবস্থা! জন্মাবধি যেন সমাজ তাদের চারপাশে গেঁথে দেয় শৃঙ্খলের বেড়ি। কোথাও ধর্মের নামে, কোথাও সংস্কারের নামে, কোথাও আবার ক্ষমতার নামে।
অথচ নারীরা তো দুর্বল নয়, তাদের দুর্বল করে রাখা হয়। মেয়েদের স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে, নিজের জীবন গড়ে তোলার অধিকার আছে। কিন্তু সেই অধিকার তাদের কেড়ে নেওয়া হয় শাসনের নামে, ভালোবাসার নামে, কখনো কর্তব্যের নামে।
মেঘলার কথা ভাবতে ভাবতে কাদম্বিনী যেন নিজের অতীতকেও দেখতে পাচ্ছিলেন। সেই সংগ্রাম, সেই লড়াই, সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর চেষ্টা। কত কুৎসা। কত অপপ্রচার। কত আঘাত!
কাদম্বিনীর বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল। এই অন্দরমহলের বাইরে কত মেঘলা আছে, যারা আজও মুক্তির স্বাদ পায়নি! যারা এখনো নিজেদের শক্তিকে চিনতে পারেনি। মেঘলাকে তিনি যেটুকু শিক্ষা দিয়েছেন, সেটা হয়তো একটা বীজ মাত্র। সেই বীজকে বৃক্ষ হয়ে উঠতে হবে মেঘলার নিজের শক্তিতে। কিন্তু তিনি যদি আরো মেঘলাদের মাঝে সেই বীজ ছড়িয়ে দিতে পারেন, তাহলে হয়ত একদিন অরণ্য তৈরি হবে। লড়াই হয়ত সেদিন সম্পূর্ণ হবে।
সেদিন হয়ত মেয়েরা নিজেদের শক্তিকে চিনে নেবে, নিজেদের পথ তারা নিজেরাই বেছে নেবে।
রাজমাতার কাছে বিদায় নেওয়ার সময় আরেকপ্রস্থ কান্নাকাটি হল। রাজমাতার চোখে বারবার জল আসছিল। বলছিলেন, ‘তুই আমার জন্য যা করেছিস, সেই ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারব না।’
‘এভাবে বলবেন না রানিমা। আমি আমার কর্তব্যটুকু করেছি।’
‘না। তুই আমার জীবনে শুধু ডাক্তারবাবু নোস। তোকে আমি কী দেব বল তো? কোনও উপহারই তোর জন্য যথেষ্ট নয়।’ রাজমাতা আর্দ্র চোখে তাকালেন।
কাদম্বিনী রুদ্ধস্বরে বললেন, ‘আমি আপনার কাছে যে স্নেহ পেয়েছি, সেটাই আমার কাছে অনেক। আমার আর কিছু লাগবে না। রাজামশাই আমার ফিজ গতকালই মিটিয়ে দিয়েছেন। বরং আমার প্রাপ্যের চেয়ে অনেক বেশি দিয়েছেন।’
‘ওসব কথা বলে আমায় ভোলাতে পারবি না। তুই আমার কাছে কী চাস বল।’
‘সত্যিই যা চাইব, আপনি দেবেন?’
‘দেব।’
কাদম্বিনী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, ‘মেঘলার মাথা খুব ভালো। ওর বড় হওয়ার অনেক ইচ্ছে। ওকে পড়ান। নিজের মতো করে ডালপালা মেলতে দিন। দেখবেন, ও একদিন আকাশ ছোঁবে।’
‘আমায় কী করতে হবে, সেটা বল।’
‘রাজামশাইকে বলে ওর জন্য একজন ভালো শিক্ষিকা আনান। বাড়িতেই পড়ুক। তারপর নাহয় তৈরি হয়ে এন্ট্রান্স দেবে।’ কাদম্বিনী অধীর চোখে রাজমাতার হাতদুটো ধরলেন, ‘বলুন। করতে পারবেন?’
রাজমাতা ওর চোখের দিকে তাকালেন, বললেন, ‘পারব।’
ভৃত্যরা প্রস্তুত হয়েই ছিল। রাজমাতার ইশারায় এরপর একের পর এক জিনিস সামনে এনে রাখতে লাগল। কাদম্বিনী বিস্মিত চোখে দেখতে লাগলেন।
প্রথমেই আনা হল এক বিশাল বাক্স, যার ঢাকনা খুলতেই ঝলমলে আলো যেন ঘরের চারদিক আলো করে তুলল। সেই বাক্স ভর্তি রয়েছে অমূল্য রত্নে। হিরে, চুনি, পোখরাজ, নীলা, পান্না। প্রতিটি রত্নের গায়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ খোদাই করা, যা দেখলেই বোঝা যায় শিল্পীদের কত যত্ন আর নিষ্ঠা লেগেছে তা বানাতে। সঙ্গে রয়েছে আরেকটা বাক্স, অনেক বড় আর ভারী। তাতে রাশি রাশি সোনার গয়না। হার, কঙ্কণ, টিকলি, কড়ি, মল, কোমরবন্ধ, এমনকী নূপুরও। প্রতিটি গয়নার গায়ে রাজকীয় ছাপ। সোনার গাঢ় হলুদ আভা মিশে যাচ্ছে মশালের আলোয়।
এরপর এল সোনা ও রুপোর বাসনকোসনের এক আস্ত সিন্দুক। তাতে রয়েছে থালা, বাটি, গেলাস, কলসি, এমনকী সোনার তৈরি ছোট্ট চামচ পর্যন্ত। সেইসব বাসনে খোদাই করা ফুলের নকশা, লতাপাতার আঁকিবুঁকি, ময়ূরের খুদে মূর্তি যেন অপূর্ব শিল্পকর্ম।
এরপর কয়েকজন পরিচারিকা নিয়ে এল হাতির দাঁতের খোদাই করা একরাশ জিনিস। ছোট মূর্তি, খেলনা ঘোড়া, পাখি, বাঘ, গন্ডার। এত নিখুঁত কাজ যে সেগুলোকে বাস্তব মনে হয়।
সবশেষে রাজমাতা নিজের হাতে কাদম্বিনীর গলায় পরিয়ে দিলেন এক গুচ্ছ মুক্তোর মালা। প্রতিটা মুক্তো যেন তুষারপিণ্ডের মতো সাদা, ঝকঝক করছে আলোর প্রতিফলনে।
চূড়ান্ত বিব্রত হয়ে কাদম্বিনী বলে উঠলেন, ‘এ-এসব কী! না না এত কিছু আমি নিতে পারব না কিছুতেই!’
‘চুপ কর। মনে মনে তো খুব আহ্লাদ হচ্ছে, তা জানি।’ রাজমাতা স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় রসিকতা করলেন। তারপর বললেন, ‘ভাবিস না, শুধু তুই-ই সব নিয়ে যাবি। অ্যাই, নিয়ে আয় তো!’
কাদম্বিনী হতভম্ব হয়ে দেখলেন, এক ভৃত্যের পিছুপিছু হেলতে দুলতে এসে উপস্থিত হল একটা সাদা রঙের ছোট্ট গোলগাল টাট্টু ঘোড়া। তার শরীরে মখমলের মতো মসৃণ সাদা লোম। পিঠে সোনালি জরির নকশা করা মখমলের আস্তরণ। গলায় ঝুলছে ছোট ছোট রুপোর ঘণ্টা। বড় বড় কালো চোখ মেলে সে তাকিয়ে আছে।
‘এই ঘোড়াটা তোর ছোট ছেলেটার জন্য। আমি ওর নাম দিলাম জংলু। জংলুকে বলবি, ওর এক দিদিমা দিয়েছে।’ রাজমাতা হেসে বললেন।
কাদম্বিনী বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলেন। এত উপহারের প্রত্যাশা তিনি কখনোই করেননি। বিনয়ের সুরে বললেন, ‘রানিমা, আমি তো শুধু আমার কাজটাই করেছি। এর জন্য এত কিছু গ্রহণ করা আমার পক্ষে অসম্ভব।’
‘আবার বড় বড় কথা বলছিস? না, তুই শুধু আমার চিকিৎসা করিসনি, তুই আমাকে আমার হারিয়ে যাওয়া জীবনের আনন্দ ফিরিয়ে দিয়েছিস। এই কয়েকটা মাস যে আমি বেঁচে থেকেছি, আর যে ক’টা দিন বেঁচে থাকব, তা তোরই জন্য। আমি এবার থেকে সবাইকে বলব, আমার এক মেয়ে কলকাতায় থাকে। সে এসে আমায় বাঁচিয়েছিল। নতুন করে হাসতে শিখিয়েছিল।’
কাদম্বিনী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে মাথা নোয়ালেন। রুদ্ধ স্বরে বললেন, ‘আপনার এই ভালোবাসা কোনদিনও ভুলব না।’
‘তা তো বুঝলাম। কিন্তু আমার জামাইকে কবে আনবি?’
‘আনব রানিমা। তিনি তো এখন বড় ব্যস্ত। তাঁর শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। সব মিটলে তাঁকে নিয়ে এসে আপনাকে প্রণাম করে যাব।’ কাদম্বিনী নিচু হয়ে পা ছুঁলেন।
রাজমাতা কাদম্বিনীকে বুকে টেনে নিলেন।
