চার
ঘুমটা ভাঙ্গতে অনেক বেলা হয়ে গিয়েছিল। চোখ মুছতে মুছতে উঠে বসল মিকা। গত রাত্রির ঘটনাগুলো স্বপ্নের মতই মনে হচ্ছিল। এ সব কি কখনও সত্য হতে পারে। কিন্তু স্বপ্ন বলে উড়িয়ে দেবার উপায় নেই। এখনও যে শদরার গায়ের গন্ধ তার গায়ে লেগে আছে।
এখানে বসেই সে একবার শদরাকে দেখতে পেল। পাশের ঘরে জানালার ধারে মাথা নীচু করে বসে আছে। ভারী গম্ভীর, চিন্তামগ্ন। অমন করে কি ভাবছে শদরা? গত রাত্রির কথা স্মরণ করে অনুতপ্ত?
হঠাৎ মনে হোল মিকার, জীবনটা যেন ক্রমশই জটিল হয়ে আসছে। গ্রন্থির পর গ্রন্থি পড়ছে, পাকের পর পাক। এত সমস্যার সমাধান কি করে মিলবে? শদরা হাসিখুশী, উজ্জ্বল মেয়ে, ওর মুখেও কালো ছায়া! কি যে হয়েছে, কে জানে? মিকা আর একবার নুয়ে পড়ে শদরাকে ভাল করে দেখতে চেষ্টা করল। না, জানালাটা বন্ধ হয়ে গেছে।
একজন দাস এসে সংবাদ দিল—মালিক ডেকেছেন। মালিক অর্থাৎ শদরার পিতা নারগেল শারেজের। ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই হঠাৎ এমন জোর তলব কেন? জরুরী কিছু নিশ্চয়ই। গত রাত্রির ঘটনা কারু চোখে পড়ে যায় নি-তো? মিকার মনে হচ্ছিল দাসের ভাবভঙ্গী আর কথা বলার ধরন যেন একটু আড়ষ্ট, সহজ স্বাভাবিক নয়। আবার নিজের মনেই হাসল মিকা। মনের গতিটা এমনই কুটিল হয়ে উঠেছে যে, যা কিছু দেখে, সবই যেন বাঁকা বলে মনে হয়।
নারগেল শারেজের বাবিলের একজন সম্পন্ন নাগরিক। তাঁর প্রচুর দাসদাসী। সম্পদ উপচে পড়ছে। দায়ে ঠেকলে অনেককেই তাঁর কাছে হাত পাততে হয়। সাধারণভাবে লোক তিনি ভালই। দশজনে মান্য-গণ্যও করে।
নারগেল শারেজের বিপত্নীক। শান্তিপ্রিয় মানুষ, নির্ঝঞ্ঝাট জীবন ভালবাসেন। খুব শিশু বয়সেই মিকা তাঁর কাছে আশ্রয় লাভ করেছিল। বহু দাসদাসীর মধ্যে সেও ছিল একজন। কিন্তু দাসের মত ব্যবহার কোনদিনই সে পায় নি। ফুটফুটে সুন্দর ছেলে বলেই হোক বা যে-কোন কারণেই হোক, প্রথম থেকেই সে নারগেল শারেজের স্নেহ- দৃষ্টিতে পড়ে গিয়েছিল। ফলে সে ঘরের ছেরে মতই বড় হয়ে উঠেছিল। সে যে ইহুদী একথা তার মিকা নামেই পরিস্ফুট, তবু সবাই তাকে ক্যালদীয় সমাজের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল।
ব্যাপারটা মিকার কাছে খুবই রহস্যময় বলে মনে হোত। কেন, তার উপর এই অযাচিত অনুগ্রহ কেন? বহুবার আপনাকে আপনি সে এই প্রশ্ন করেছে। কিন্তু কোনই উত্তর পায় নি। এক দিন শদরাকেও এই প্রশ্ন করেছিল, আচ্ছা শদরা, বলতে পারো—
: নিশ্চয়ই বলতে পারি।
: বা রে, জিজ্ঞাসা না করতেই? কি বলতে পারো তুমি?
: না বলতে পারি কি? তুমি যা কিছু জিজ্ঞাসা করো, আমি সব বলতে পারি।
: বেশ তো, বলো দেখি, আমার মত একটা অনাথ ইহুদী ছেলের উপর তোমার বাবার এমন অনুগ্রহ কেন?
: উঃ, কি কঠিন প্রশ্ন? তোমাকে সন্তানের মত ভালবাসেন, তাই।
: একটা পথে পাওয়া ইহুদী ছেলেকে—
: তাঁর মন প্রশস্ত ও উদার, তোমার মত সংকীর্ণমনা ইহুদী তিনি নন। কেন, তাঁর মেয়ের চরিত্র দেখে তাঁর চরিত্র বুঝতে পারো না?
কিন্তু মিকার কৌতূহল তাতে নিবৃত্ত হয় নি। আর ইহুদী মনোভাব বাড়বার সঙ্গে সঙ্গে এই অনুগ্রহ গ্রহণ করাটা তার কাছে কেমন যেন অস্বস্তিকর বলে মনে হচ্ছিল। অথচ কি করে-যে তাকে এড়িয়ে চলবে, সে পন্থাও খুঁজে পাচ্ছিল না। আজ এই জরুরী ডাক পেয়ে তার মনে হোল, কে জানে, হয়তো বা আজ সেই সমস্যার একটা সমাধান হয়ে যাবে।
এইসব ভাবতে ভাবতে মিকা নারগেল শারেজের কাছে এসে দাঁড়াল। নারগেল শারেজের তাঁর স্বভাবসিদ্ধ জলদগম্ভীর কণ্ঠে বললেন—বসো। মিকা বসল। কণ্ঠস্বরই শুধু জলদগম্ভীর নয়, মিকা লক্ষ্য করল, তাঁর মুখকান্তিও জলদগম্ভীর, থমথম করছে। এবার মিকা নিঃসন্দেহ হোল, তার আশঙ্কা মিথ্যা নয়। গুরুতর কোন কিছু নিশ্চয়ই ঘটেছে।
“এটা কি?” নারগেল শারেজের কোন মতে দুটো আঙ্গুল দিয়ে আধ-ময়লা একটা ইহুদীর পোশাক তুলে ধরে চোখ-মুখের কুঞ্চিত রেখায় যতটা সম্ভব ঘৃণার ভাব ফুটিয়ে তুলে আবার প্রশ্ন করলেন—এটা কি?
এবার আর বুঝতে বাকী রইল না। আবহাওয়া যে শুধু থমথমে তাই নয়, তাঁর মুখ দেখে মিকা বুঝতে পারল, একটা ঝড় এবার উঠবেই। কিন্তু এ ঝড়-যে উঠবেই, এ কথা তো জানাই ছিল। এরই জন্যে তো অপেক্ষা করে বসে আছে সে। তবে আসে আসুক ঝড়। এতদিনের ঘর যদি ভেঙ্গেই পড়ে, পড় ক। মিকা ভয় কোরো না। সোজা হয়ে দাঁড়াও।
এটা কি?—এ প্রশ্ন তো বাহুল্য মাত্র। কাজেই এই প্রশ্নের কোন উত্তর দিল না সে।
: এটা এ বাড়ীতে কি করে এল, তুমিই বোধ হয় একথা বলতে পারবে?
: হ্যাঁ, পারব। কাল রাত্তিরে আমিই এ পোশাক পরে এসেছিলাম।
: এই পোশাক পরে এসেছিলে বলতে লজ্জা হোল না? কেন, আমি তোমাকে যথেষ্ট কাপড়-চোপড় কি দেই না যে, তুমি কোন এক ঘৃণ্য ইহুদীর পোশাক গায়ে জড়িয়ে এসেছিলে? তোমার ঘৃণা হয় না? আমার এই নিয়ে দাসেরা সব হাসাহাসি করছে। তাদের মুখে সব কথা শুনে আমি লজ্জায় মরে গেলাম।
মিকা শান্ত কণ্ঠে বলল,
: ইহুদীর সন্তান ইহুদীর পোশাক পরবে, তাতে লজ্জার তো কোন কথা নেই।
: ইহুদীর সন্তান? কে ইহুদীর সন্তান?
: আমি।
: তুমি? ও, এতদিনে সে কথা মনে পড়েছে? কিন্তু আমি তো তোমাকে ইহুদীর ছেলের মত করে গড়ে তুলি নি। তুমি আজ জ্ঞানে বুদ্ধিতে শিক্ষাদীক্ষায় আচার- ব্যবহারে ধর্মে-কর্মে ক্যালদীয়। আমি এক আঁস্তাকুড় থেকে কুড়িয়ে এনে তোমাকে ধুয়ে মুছে বিশুদ্ধ করে তুলেছি। তুমি ক্যালদীয় সমাজে স্থান পেয়েছ, তাদেরই একজন হয়েছ। সে সুযোগ আমি তোমায় দিয়েছি। তোমাকে ভাল ঘর দেখে সুন্দরী ও গুণবতী ক্যালদীয় মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেব—মনে মনে আমি এই কল্পনা করেছি। আমি তোমার ইহুদী নাম নিশ্চিহ্ন করে মুছে দেব।
: আপনি যতই করুন, যে ইহুদীর রক্ত আমার ধমনীতে বইছে, তাকে আপনি বদলে দিতে পারবেন না। অস্বীকার করলেই তা মিথ্যা হয়ে যাবে না। কিন্তু আপনি জানবেন, ইহুদীর সন্তান বলে পরিচয় দিতে আমি লজ্জা বোধ করি না। সমস্ত পৃথিবীর সামনে আমি একথা সগৌরবে ঘোষণা করতে প্রস্তুত আছি।
: বিধাতার অপসৃষ্টি, ঘৃণ্য ইহুদী জাতি। তুমি তাদেরই একজন, একথা বলতে তুমি গৌরব বোধ করো?
বিধাতার অপসৃষ্টি! ঘৃণ্য ইহুদী জাতি! ক্রোধে মিকার সর্ব শরীর রি রি করে উঠল।
: হ্যাঁ, করি, শতবার করি। বিধাতার অপসৃষ্টি তারা নয়, তারা ঘৃণ্য নয়। উত্থান- পতন জগতের ধর্ম। ভাগ্যদোষে তারা আজ লাঞ্ছিত, কিন্তু এ দিন থাকবে না। দিন চিরকাল একভাবে যায় না। দৃষ্টান্তের জন্য বেশী দূরে যাবার দরকার কি? একদিন যে- বাবিল সাম্রাজ্য প্রতিবেশী জাতিগুলো ঈর্ষা ও আতঙ্কের বস্তু ছিল, আজ কি হয়েছে তার পরিণতি? পারস্যরাজ তাকে বাহুবলে পদানত করে তার মুখে বলগা এঁটে দিয়েছে। তবু এত গর্ব? তবু এত ঘৃণা? ভাগ্যচক্রের আবর্তনে কাল যে উপরে ছিল, আজ সে নীচে পড়েছে, আর কাল যে নীচে ছিল আজ সে উপরে উঠে আসছে। ইহুদী আজ লাঞ্ছিত, নির্যাতিত, কিন্তু এই ইহুদীই আবার জেগে উঠবে, কেউ তাকে বাধা দিয়ে দমিয়ে রাখতে পারবে না।
নারগেল শারেজের স্তম্ভিত হয়ে মিকার বক্তৃতা শুনছিলেন। এ কি তাঁদের সেই মিকা! নম্র বিনয়ী ও লাজুক বলে পাড়ার সবার কাছে যে পরিচিত, আর সবাই যাকে ভালবাসে? সেই মিকা তাঁর মুখের সামনে দাঁড়িয়ে এমন উদ্ধত ভঙ্গীতে এসব কথা কইছে! আশ্চর্য ধৃষ্টতা!
: হতভাগা, তুমি এতদূরে চলে এসেছ! বটে তাই ওরা বলাবলি করে, ওই ছোটলোকদের পাড়ায় তোমাকে আজকাল খুব ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। তাই তোমার রোজ বাড়ী ফিরতে এত রাত হয়ে যায়। আমি আরও ভেবেছি, বয়স হয়েছে, ওটা বয়সের ধর্ম। পুরুষমানুষ এই বয়সে একটু আনাচে কানাচে ফিরবেই, সময় হলে শুধরে যাবে। আর তুমি তলে তলে ওই ছোটলোকদের সঙ্গে মিলে বাবিলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলেছ!
: আমি কারু বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র করি নি। আর আপনি যাদের ছোটলোক বলছেন, এই বাবিলে তারাই আমার সবচেয়ে আপনার লোক।
“নিমক হারাম, বেঈমান” গর্জন করে উঠলেন নারগেল শারেজের। এরাই তোর সবচেয়ে আপনার লোক। শৈশব থেকে কার অন্নে তুই প্রতিপালিত? পথের কুকুর পথেই মরে পড়ে থাকতিস্, কে তোকে বাঁচিয়ে তুলেছে? এতটুকু কৃতজ্ঞতা নেই? নিমক হারাম! ইহুদীর রক্ত যাবে কোথায়?
ক্রোধে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল মিকা। তার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু সে আপনাকে সামলে নিল। একটু থেমে সংযত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল—না, সেজন্য আমি এতটুকু কৃতজ্ঞ নই। কেন আপনি আমাকে আমার দুঃখী সমাজের বুক থেকে ছিনিয়ে এনে আপনাদের আদুরে পোষা কুকুর বানিয়ে তুললেন? কেন আমি আজ আপন মানুষ থেকে এমনভাবে বিচ্ছিন্ন? কেন আমি আজ আমার ভাষা তাদের মত করে বলতে পারি না? কেন আমি আজ আমার স্বজাতির পোশাক পরবার অধিকার থেকে বঞ্চিত? কেন আমি আমার নিজের ভাইকে প্রকাশ্যে ভাই বলে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারি না? আপনি—আপনিই আমার জীবনে অভিশাপ নিয়ে এসেছেন।
: মিকা, তুমি অনেক বলেছ, আমি আর শুনতে চাই না। আপাতত তুমি ঘর থেকে বাইরে গিয়ে আমাকে একটু বিশ্রাম করতে দাও। এ বিষয়ে পরে তোমার সঙ্গে বোঝাপড়া হবে।
: বোঝাপড়া? এখনও কি তার বাকী আছে নাকি? আমার বোঝাপড়া শেষ হয়ে গিয়েছে। শুধু এই ঘর থেকে নয়, আমি একেবারেই চলে যাচ্ছি এই বাড়ী ছেড়ে।
: মিকা, কি বলছ তুমি? এ বাড়ী ছেড়ে চলে যাবে? কি করছ ভেবে দেখো?
: আজ নয়, এই ভাবনা আমার অনেক দিন আগে থাকতেই শুরু হয়েছে।
: কোথায় যাবে তুমি?
: যারা আমার আপন মানুষ তাদের কাছে।
নারগেল শারেজের আর কোন কথা বলতে পারলেন না। স্তব্ধ হয়ে বসে রইলেন। মিকা যদি তখন স্বাভাবিক অবস্থায় থাকত, তা হলে নারগেল শারেজের মুখের দিকে তাকালে অবাক হয়ে যেত।
উত্তেজিত মিকা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে হন হন করে নিজের ঘরে ফিরে এল। পেছন পেছন শদরা এসে ঢুকল।
: শদরা, সব শেষ করে দিয়ে এলাম। এবার আমার ছুটি। আঃ, কি ভালই-যে লাগছে!
: হুঁ, ভাল তো লাগবেই। থাক থাক, তোমাকে আর বলতে হবে না। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সব কথাই আমি শুনেছি। কিন্তু আমার কাছ থেকে ছুটি নিয়েছ? না, তার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে করো না?
: এবার মহারানীর কাছে যথারীতি আবেদন করছি।
: থাক, তোমার এই আবেদন তো আর মঞ্জুরীর অপেক্ষা রাখে না।
: কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের বোঝাপড়া তো আগেই হয়ে গিয়েছে। কি বলো শদরা, হয় নি?
: একে কি আর বোঝাপড়া বলে? তুমি যে-শর্ত দিয়েছ, আমাকে নিরুপায় হয়ে তাই মেনে নিতে হয়েছে। কিন্তু মিকা, সত্যই কি তুমি এ বাড়ী ছেড়ে—আমাকে ছেড়ে চলে যাবে?
: বাঃ, এত কথার পরে শেষে এই প্রশ্ন? যেতে আমাকে হবেই। এরপরে আমার আর কোন মতেই থাকা চলে না। শদরা, তুমি আমাকে বাধা দিও না।
: না, বাধা দেব না, কারণ—
: কারণ?
: কারণ বাধা দিয়ে কোন ফল হবে না। তা ছাড়া মর্যাদাভ্রষ্ট হয়ে আমি তোমাকে থাকতে বলতে পারব না।
: দুঃখ করো না শদরা, এ ঘটনা ঘটতই, দুদিন আগে আর পরে, না ঘটে যে উপায় ছিল না! চারদিক দিয়ে যে-জাল আমাদের ঘিরে ধরেছে, আঘাত দিয়ে তাকে কাটাতেই হবে, এ আঘাত অপরিহার্য।
: মিকা, আমার মনে হচ্ছে কি জানো? কাল রাত্রিতে আমরা নতুন একটা অধ্যায় শুরু করেছিলাম। আজ প্রভাতে তোমার ছুটির ঘণ্টা বাজল, আর আমার? আমার কি রইল?
: শদরা, তোমার জন্য আমিই তো রইলাম, আর তুমি কি চাও?
: আর কি চাই? না আর বোধ হয় কিছু চাই না। কিন্তু তুমি থাকবে তো? মাঝে মাঝে এমন ভয় হয়। মিকা, তুমি কখন যাবে?
: এখনি।
: এখনি? কোথায় যাবে?
: সে জন্য তুমি কিছু ভেবো না। ইতিমধ্যে আমার অনেক বন্ধু জুটে গিয়েছে।
: কিন্তু তোমার সঙ্গে আমার আবার কখন, কোথায় দেখা হচ্ছে?
: কাল সন্ধ্যার পরে, কবারের তীরে, বাইশী গাছটার গা ঘেঁষে বসে থাকব।
: থেকো কিন্তু। নইলে অন্ধকারে আমার ভীষণ ভয় করবে।
: জীবনে এক একটা সময় আসে যখন অন্ধকারের ভয় আর থাকে না। অন্ধকারকেই জীবনের সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে মনে হয়। কি শদরা, হয় না?
: ইস্, মুখচোরা মিকা একদিনেই বড় বেশী বাচাল হয়ে উঠেছে। কিন্তু মিকা, এত কথা শিখলে কোথায় বলো তো?
: তুমি জানো না? তোমার ছোঁয়া পেয়ে। আমার সব কথা তো তোমার মুখ থেকেই চুরি করা। আমি তোমাকে যা-কিছু দিই, সব তো তোমার কাছ থেকেই নেয়া। শদরা, যাবার আগে তোমার কাছ থেকে একটু আদর নিয়ে যেতে ইচ্ছা করছে।
: থাক, আদরে আর কাজ নেই। তাহলে আমি এক্ষুণি কেঁদে ফেলব। ওটা ভবিষ্যতের জন্য জমা রইল।
: কবে, কখন, কোথায়?
: কাল, সন্ধ্যার পরে, কবারের তীরে, বাইশী গাছটার গা ঘেঁষে বসে। মিকা চলে গেল।
