সাতাইশ
মিকা আর শদরার বিচারসভা। সমস্ত নগরী যেন বিচারসভার দুয়ারের কাছে এসে ভেঙ্গে পড়েছে। একই পিতার ঔরসজাত ভাই আর বোনের ব্যভিচার, এমন জঘন্য কথা কে শুনেছে! পৃথিবীতে কোনও দেশের, কোনও জাতের, কোনও ধর্মের মানুষের মধ্যে এই কুৎসিত রীতি প্রচলিত নয়। একমাত্র পশু–একমাত্র পশুর পক্ষেই সম্ভব।
স্ত্রী-নবী নোয়াদিয়ার তীক্ষ্ণ কণ্ঠে প্রচারিত হচ্ছে—এই জঘন্য পাপের ফলেই এবার জেরুজালেম আর যাহুদায় এমন ঘোর অনাবৃষ্টি আর অজন্মা চলেছে। সবাই বলছে, ঠিক কথা, প্রভুর নগরীতে এমন পাপ, প্রভু কেমন করেই বা সহ্য করবেন। ধার্মিক ও পুণ্যবান লোকেরা ক্রোধের দন্তে দত্ত ঘর্ষণ করে বলছেন, বাবিলের কুত্তা আর কুত্তী, কেন—বাবিলের পথে ঘাটে তোদের জায়গা জুটল না? আমাদের এই পবিত্র নগরীকে কলঙ্কিত করতে এলি কিসের জন্য?
কিন্তু অনেকের মনেই আনন্দ আর উত্তেজনা। তাদের চোখে মুখে তার চিহ্ন সুপরিস্ফুট। শাস্ত্রীর বিধান-অনুসারে ব্যভিচারের জন্য কি দণ্ড নির্দিষ্ট করা আছে, ইহুদী সন্তানদের মধ্যে কে-ই বা তা না জানে! অপরাধীদের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে। আর নগরবাসীরা তাদের লক্ষ্য করে প্রস্তরখণ্ড ছুঁড়তে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মৃত্যু না হয়। অপরাধীদের উদ্দেশে প্রস্তর নিক্ষেপ করবার পবিত্র অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা হবে না।
কিন্তু এই বিধান তো এখন শুধু পুঁথির পাতায় আর ইহুদীদের মুখে মুখেই প্রচলিত। ইহুদী জাতির স্বর্ণযুগে—যখন তাদের ধর্মের জোর ছিল, শাস্ত্রীয় বিধি- অনুসারে যথাযথভাবে সমাজ শাসন চলত, ব্যভিচারের এই দণ্ডের ব্যবস্থা তখন ছিল। কিন্তু সে সব দিন কি আর এখন আছে! এ যুগের ইহুদীরা এই মনোরম দৃশ্য দেখবার বা এই পবিত্র অধিকার প্রয়োগ করবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তবে এখন আচার্য ইষ্রা যখন সমাজপতি তখন শাস্ত্রীয় নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালিত হবে, এই বিশ্বাস অনেকের মনেই ছিল। সেই আশায় অনেকেরই হাত নিসপিস্ করছে। কতক্ষণে বিচারকার্য শেষ হয়ে যাবে এখন শুধু তারই প্রতীক্ষা। প্রতীক্ষারত লোকগুলো বিলম্ব দেখে ক্রমেই অধৈর্য হয়ে উঠছিল।
গরীব পাড়ার লোকেরা বলাবলি করছিল; নাঃ, এই দুনিয়ায় মানুষ চেনবার আর উপায় নেই। আমরা একদিন ওকে কি ভালই না মনে করেছিলাম! এক সময় ওর কথায় প্রাণ দিতেও প্রস্তুত ছিলাম। কেমন করে আমাদের সকলের চোখে ধুলো দিয়েছিল!
হানানি আর নহিমা পরস্পরের মুখের দিকে চেয়ে স্তব্ধ হয়ে বসে ছিল। বাক্পটু হানানি আর বাক্পটু নহিমা কেউ আর আজ কথা খুঁজে পাচ্ছে না। হানানি ভাবছিল, কাকে গাল দেবে—কার বিরুদ্ধে আক্রমণ করবে? তার সমস্ত অন্তর জ্বলে যাচ্ছে, কিন্তু এ নিয়ে কার সঙ্গে লড়াই করবে, সেই প্রতিপক্ষকে খুঁজে পাচ্ছে না। এমন অবস্থা, প্রতিবাদটুকু পর্যন্ত করতে পারবে না, নির্বাক হয়ে সব কিছু দেখে যেতে হবে।
অবশেষে এতক্ষণের একটানা নিঃশব্দতা ভঙ্গ করে হানানি বলল, নহিমা, আমি একবার যাব।
না, তুমি যাবে না, নহিমার চোখ দু’টি ছলছল করে উঠল। কি করবে তুমি ওখানে গিয়ে? কোন প্রতিকার করতে পারবে না, শুধু দুঃখই পাবে।
: জানি আমার বুক ফেটে যাবে, তবু আমি না গিয়ে পারব না। এ সময় এখানে বসে থাকা আমার পক্ষে অসহ্য। না নহিমা, আমি যাবই। তুমি আমাকে বাধা দিও না।
বিচারসভায় সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ সকলেই উপস্থিত ছিলেন। বিচারপতি স্বয়ং আচার্য ইষ্রা। বিচারপতির আসনের সামনে তীরশথ নেহেমিয়া, লোকপ্রধানগণ, অধ্যক্ষগণ, মন্দিরে বিশিষ্ট যাজকগণ নিজ নিজ আসন অধিকার করে আছেন। বিচারগৃহের বাইরে উন্মুখ জনতা। তাদের অধীর কোলাহলের শব্দ ভেতর থেকেও শোনা যাচ্ছিল। বিচারসভার কেন্দ্রস্থলে সকলের কৌতূহল, বিদ্রূপ ও ঘৃণার পাত্র মিকা ও শদরা। সবাই অবাক হয়ে ওদের দেখছিল। ওদের চোখে মুখে সংকোচ বা ভয়ের কোন চিহ্ন নেই। শুধু কেমন যেন উন্মনস্ক।
মিকা বলল, শদরা, ভয় পেও না।
শদরা বলল, না।
বিচারপতি প্রথা-অনুযায়ী প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে চললেন। কিন্তু ওরা কোন প্রশ্নের উত্তর দিল না, নির্বাক হয়ে রইল। আচার্য ইষ্রার কাছে লিখত নারগেল শারেজের চিঠির মধ্য দিয়ে ওদের অপরাধ সুপ্রমাণিত হয়ে গেল। এর উত্তরে ওদের বলার মত কিছুই ছিল না। ওদের পক্ষ হয়ে আর কেউ কোন কথা বলল না। এর পর বিচারের রায় কি হবে, সে বিষয়ে কারু মনে কোন সন্দেহ ছিল না। বিচারপতি তাঁর রায় ঘোষণা করতে যাবেন, এমন সময় তীরশথ নেহেমিয়া উঠে দাঁড়ালেন।
: মহামান্য বিচারপতি যদি অনুমতি করেন, বিচারাধীন ব্যক্তিদের সম্পর্কে আমি দু’ একটি কথা বলতে চাই।
মিকার সঙ্গে তীরশথের-যে কী গভীর স্নেহের সম্বন্ধ, এখানে সে কথা কারু অজানা ছিল না। তবে কি তিনি ওদের জন্য প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন? বিচারসভায় একটা গুঞ্জনধ্বনি শোনা গেল।
এতক্ষণ নেহেমিয়া স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলেন। মিকা আর শদরা তাঁকে দেখতে পায় নি। তাঁকে উঠে দাঁড়াতে দেখে তারা আশ্চর্য হয়ে ভাবল, এর মধ্যে তীরশথ আবার কি বলবেন? তাঁর কি বলবার থাকতে পারে? ওরা কৌতূহলী হয়ে তাঁর মুখের দিকে তাকাল। কিন্তু নেহেমিয়া যেন তাদের দেখেও দেখলেন না।
বিচারপতি ইষ্রা বললেন, আপনি বলুন। আপনি যদি এ সম্পর্কে কোন নতুন আলোকপাত করতে পারেন, তাহলে তা বিচারকার্যের পক্ষে সহায়ক হবে।
নেহেমিয়া বললেন, মহামান্য বিচারপতির অনুমতি নিয়ে আমি বলছি, অপরাধীদের ব্যভিচারের অভিযোগ সুপ্রমাণিত হয়েছে। সে সম্পর্কে আমার কোনই বক্তব্য নেই। কিন্তু একটা কথা আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, অপরাধীরা উভয়েই জন্মসূত্রে পরজাতীয় ও পরধর্মের অনুসারী। সেই কারণে আমাদের ধর্মশাস্ত্রোক্ত এই সামাজিক বিধান এদের উপর প্রয়োগ করা সংগত হবে কি না সে বিষয়ে আমার মনে খুবই সন্দেহ আছে। প্রশ্ন উঠবে, এদের সম্বন্ধে কি তবে করণীয়? আমার ব্যক্তিগত অভিমত এই যে, এদের অবিলম্বে এ দেশ থেকে বহিষ্কৃত করে দেওয়া হোক যাতে এদের সংস্পর্শে আসার ফলে এই পাপ আমাদের সমাজদেহে সংক্রামিত হতে না পারে।
কথাটা বিচারপতিকে চিন্তিত করে তুলল। তিনি মাথা নত করে ভাবতে লাগলেন। উপস্থিত বিশিষ্ট লোকেরা কেউ নেহেমিয়ার প্রস্তাবে পক্ষে কেউ বা বিপক্ষে বলাবলি করতে লাগলেন। কথায় কথায় বাগবিতণ্ডা বেধে উঠল। বিচারপতি শান্ত হবার জন্য হাত তুললেন। সবাই নীরব হয়ে গেল।
বিচারপতি বললেন, আমি তীরশথের এই যুক্তির গুরুত্ব অস্বীকার করতে পারি না। আপনারা সবাই আপনাদের সুচিন্তিত অভিমত জানিয়ে আমাকে এ বিষয়ে সাহায্য করুন।
বিচারসভায় অধিকাংশ নেহেমিয়ার প্রস্তাব সমর্থন করল তাঁদের মতামত জেনে নিয়ে বিচারপতি ইষ্রা ঘোষণা করলেন : বিচারসভায় অধিকাংশ সদস্যদের সঙ্গে একমত হয়ে আমিও এই কথা মনে করি, যে, অপরাধীদের সম্পর্কে তীরশথ যে-প্রস্তাব উপস্থিত করেছেন সেইটাই যুক্তিসংগত ও ন্যায়সংগত। তদনুসারে আমি ঘোষণা করছি যে, আজ দিবাবসানের পূর্বেই অপরাধীদের জেরুজালেম ত্যাগ করে চরে যেতে হবে। ভবিষ্যতে আর কোন দিন এই নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না। সেই সঙ্গে সমস্ত নাগরিকদের মধ্যে এ কথা প্রচার করে দিতে হবে যে, তারা কেউ এদের আশ্রয় দিতে পারবে না। যদি কেউ এই আদেশ লংঘন করে, তাকে কঠোর দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
মিকা আর শদরা মৃত্যুদণ্ড-সম্পর্কে স্থির নিশ্চিত হয়ে ছিল। ভাবছিল, আর কিছুক্ষণ বাদেই তাদের সমস্ত চিন্তা ও সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু তীরশথের এই অপ্রত্যাশিত হস্তক্ষেপের ফলে সমস্ত কিছুই উলটে গেল। তখন তাদের মনে পড়ল, এবার সমস্যা আবার নতুন করে দেখা দিল, আবার নতুন করে ভাবনা করতে হবে, যে- ভাবনার কোন শেষ নেই।
বিচারসভা ভেঙ্গে গেল। সবাই আসন ছেড়ে উঠে পড়ল। মিকা আর শদরা মুক্ত। ওরা যন্ত্রচালিতের মত সামনে এগিয়ে চলল। এখন কি করবে, কোথায় যাবে, কে ওদের বলে দেবে! বাইরে বেরোবার দরজার কাছে আসতেই পেছন থেকে নেহেমিয়া ডেকে বললেন, মিকা, সামনে নয়, তোমরা দু’জনে আমার পেছনে এসো।
ডাক শুনে ওরা দু’জন চমকে উঠল। কত দিন বাদে নেহেমিয়ার কাছ থেকে আবার এমন স্নেহপূর্ণ কণ্ঠের সম্ভাষণ! কিন্তু কেন, কেন তিনি তাদের এমন এর ডাকছেন। না, ওরা তাঁর পেছনে যাবে না। এই অবস্থায় ওরা যদি তাঁর পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়, আর সবাই কি বলবে? তীরশথকে লক্ষ্য করে ওরা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করবে না?
কেন তিনি ডেকেছিলেন তার কারণটা বুঝতে বেশী সময় লাগল না। মিকা আর শদরার মুক্তির সংবাদ ইতিমধ্যেই বাইরে পৌঁছে গেছে। খবর পেয়ে লোকগুলো ক্ষেপে যেন আগুন হয়ে উঠল। সেই কখন থেকে কত আশা করে তারা অপেক্ষা করে বসে আছে। হাতের শিকার কি এমনি করেই ফসকে যাবে? কিছুতেই না। ওরা বলছে, “তোমাদের বিচার তোমরা করেছ, বেশ তো, ছেড়ে দাও এদের। এর পর আমাদের বিচার আমরা করব।” রক্ত দেখবার জন্য লোকগুলো যেন একেবারে পাগল হয়ে উঠেছে।
দরজা খুলতেই দেখা গেল, বাইরে রাস্তার উপর বিপুল জনতা মারমুখো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওরা উত্তেজনায় অজগরের মত ফুঁসছে। মিকা আর শদরাকে দেখা মাত্র ওরা ঢেউয়ের মত ঝাঁপিয়ে পড়ল। ওরা এদের ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। সেই মুহূর্তে নেহেমিয়া পেছন থেকে ছুটে সামনে এসে এদের দু’জনকে আড়াল করে দাঁড়ালেন। নেহেমিয়াকে সামনে দেখে লোকগুলো ভড়কে গিয়ে একটু পিছিয়ে গেল।
এই সুযোগটুকু পেয়ে নেহেমিয়া তাদের উদ্দেশ করে চিৎকার করে উঠলেন, সরে যাও, তোমরা। এদের গায়ে কেউ হাত দিতে পারবে না—বিচারপতি আচার্য ইষ্রার আদেশ।
সামনের লোকেরা শুনতে পেল, কিন্তু পেছনের লোকেরা শুনতে পেল না। সামনের লোকেরা একটু পিছিয়ে গেল বটে, কিন্তু পথ আটকে রইল। ইতিমধ্যে সাত আটজন অশ্বারোহী শান্তিরক্ষক এসে পৌঁছে গেছে। নেহেমিয়ার নির্দেশমত তারা মিকা, শদরা আর নেহেমিয়াকে ঘিরে দাঁড়াল। অশ্বারোহীদের আসতে দেখে জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে উঠে নানা রকম ধ্বনি তুলতে লাগল।
“মারো মারো, এ দুটোকে এখানেই শেষ করে দাও। এই রাস্তা ছাড়িয়ে আর যেন এগিয়ে যেতে না পারে।”
ওরা ঢিল আর পাথর ছুঁড়তে লাগল। বিচারপতি যাই বলুন না কেন, শাস্ত্রোক্ত দণ্ডবিধি প্রতিপালন না করে ওরা ছাড়বে না! সামনের লেকেরা তীরশথকে বাধা দিতে দেখে ইতস্তত করছিল। কিন্তু পেছনের লোকেরা তাঁকে দেখতে পাচ্ছিল না। তারা বৃষ্টিধারার মত প্রস্তর বর্ষণ করে চলল।
মিকা বলল, শদরা, ভয় পেও না।
শদরা বলল, না।
পথের ধারে হানানি দাঁড়িয়েছিল। অশ্বারোহী শান্তিরক্ষকদের বেষ্টনীর ফাঁক দিয়ে সে ভেতরে এসে পড়ল। মিকা আর শদরার মুখের দিকে তাকিয়ে ব্যাকুল হয়ে উঠল হানানি। সে মিকাকে দু’হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরল। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই। সেই মুহূর্তেই একটা পাথরের টুকরা এসে তার মাথায় লাগল। ঝর ঝর করে রক্ত ঝরে পড়তে লাগল।
মিকা অস্থির হয়ে বলে উঠল, হানানি, তুমি কেন আবার এর মধ্যে এলে?
নেহেমিয়া বললেন, এসেছে, ভালই হয়েছে।
কখনও বেশী, কখনও একটু কম, পাথর ছোঁড়া চলছেই চলছে। কিছু কিছু সবার ভাগেই পড়ল। সবচেয়ে বেশী ঘায়েল হচ্ছে শান্তিরক্ষকরা আর তাদের ঘোড়াগুলো। শদরার কপাল কেটে রক্ত ঝরছে। নেহেমিয়ার ইঙ্গিতে তিনজন ঘোড়সওয়ার তিন দিকে ছুটল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেবার জন্য। ঘোড়ার তাড়া খেয়ে লোকগুলো যে যে-দিকে পারে ছুটতে লাগল। ঘোড়সওয়াররা ফিরে এল, জনতাও আবার নতুনভাবে সংগঠিত হয়ে ফিরে এল। আবার শুরু হোল পাথর-বৃষ্টি। আবার ঘোড়া ছুটল। জনতাও ছুটল। ঘোড়াগুলো ফিরে এল। জনতাও ফিরে এল।
হানানি ডেকে বলল, তীরশথ, একবার এদিকে চেয়ে দেখুন।
: কি?
: দেখতে পাচ্ছেন না, ওই-যে ওদিকে একটা ভিড় জমেছে, তার মাঝখানে একটা লোক দাঁড়িয়ে ওদের উদ্দেশ করে দাঁত মুখ খিঁচিয়ে কি যেন বলছে।
: হ্যাঁ, দেখতে পেরেছি। ও কে?
: মন্দিরের একজন যাজক। আমি চিনি ওকে। ও কি করছে বুঝতে পারছেন? আমাদের উপর হামলা করবার জন্য ওদের উসকে দিচ্ছে। তারশথ! তীরশথ! এক বার বাঁ দিকে তাকান।
: হ্যাঁ, দেখতে পাচ্ছি। আর একটা ভিড়, আর তার মাঝখানে আর একজন বক্তা।
: তীরশথ, এবার ওখানে দেখুন।
: আরও? হ্যাঁ, হ্যাঁ, দেখতে পেয়েছি। কিন্তু ও কে? ওর লম্বা চুলগুলো উড়ছে। মেয়েমানুষ বলে মনে হচ্ছে যেন।
: ঠিকই ধরেছেন। স্ত্রী-নবী নোয়াদিয়া।
: বাঃ, সব ব্যবস্থাই ঠিকমত চলছে। কিন্তু টোবিয়া কোথায়?
: ওখানেই কোথাও আছে। আশে পাশেই ঘোরাফেরা করছে। সনবল্লাটাও বেশী দূরে নয়। তীরশথ, আমার বেয়াদবি মাপ করবেন, এরা-যে আমাদের দুর্ভেদ্য প্রাচীরকে ফুটো করে ঢুকে পড়েছে, এখনও কি তা দেখতে পাচ্ছেন না?
পেয়েছি হানানি, নেহেমিয়া বললেন, কিন্তু বুঝতে বড় বেশী দেরী হয়ে গিয়েছে। আজ আমি একা, বড় একা। আর আমি বড় ক্লান্ত।
আবার জোর পাথর-বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। ঘোড়া ছুটল, জনতাও ছুটল। ঘোড়া ফিরে এল। জনতাও ফিরে এল।
এইভাবে ঘেরাও হয়ে ওরা এগিয়ে যেতে লাগল। যতই এগিয়ে চলল, জনতার চাপ ক্রমে একটু একটু করে কমতে লাগল। ওদের উৎসাহে ভাঙ্গন ধরেছে।
