পাপের সন্তান – ২

দুই

: কবার, কবার তুমি কি ক্যালদীয়? বলো, তুমি কি বাবিলের নদী? তুমি তো যাহুদার কেউ নও। তুমি তো ইহুদী জাতির কেউ নও। মায়াবিনী, তবে তুমি আমাকে এমন করে টানো কেন? কোন দূর শৈশবে আমি আমার মাকে হারিয়েছি, তাঁর মুখখানি মনে করতে পারি না। তবু তাঁর কথা যখন মনে পড়ে, বুকটা কেমন করে ওঠে, ঘরে আর মন টেকে না। তখন আমি ছুটে চলে আসি, তোমার কূলে এসে বালুভূমির উপরে শুয়ে পড়ি। আর তুমি তোমার ওই কুলকুল গানে কি-যে সান্ত্বনা জোগাও, কবার, আমি সব দুঃখ ভুলে যাই। আমার মন ভরে ওঠে। কবার, আমি তোমার গাছে আমার মায়ের কণ্ঠ শুনতে পাই। কবার, কবার, তুমি কি আমার সেই হারিয়ে যাওয়া ইহুদীনী মা? কিন্তু তুমি-যে ক্যালদীয়? আমি কি তোমাকে ভালবাসতে পারি? কিন্তু কি করব, তোমাকে না ভালবেসে-যে পারি না।—শদরা, শদরা, কবার আর তুমি—তোমাদের ছেড়ে মিকা কি করে বাঁচবে!

উদ্‌ভ্রান্ত মিকার মুখের দিকে সস্নেহে তাকিয়ে কবার তাকে কলগুঞ্জনে গান শোনায়। এ ভাষা তার অজানা নয়। মিকা যখন ছোট ছিল, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত এই নদীর সঙ্গে তার কত কথা-বলাবলি, কত বা নিঃশব্দ ভাষা-বিনিময়! কবার তার কত সুখ আর দুঃখদিনের সাথী!

কিন্তু কবার যে ক্যালদীয়। না, কোন ইহুদী কোন ক্যালদীয়কে ভালবাসতে পারে · না। ভালবাসা উচিত নয়, ভালবাসা পাপ। কিন্তু মিকা আর শদরা? মিকা, মিকা, তুমি কি এখনও শদরাকে ভালবাসো? তুমি না ইহুদী? শদরাকে ভুলে যাও, ভুলে যাও কবারকে, ভুলে যাও বাবিলকে। এই বিরাট বিশ্বভুবনে একমাত্র যিহোবা, যাহুদা আর ইহুদী জাতিই তোমার ধ্যান, জ্ঞান, জপমন্ত্র হোক।

কিন্তু এমন উচ্ছল কণ্ঠে কি বলছে কবার?

: আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখো মিকা, তার কি কোন শেষ আছে? পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখো মিকা, তার কি কোন সীমান্ত বাঁধা আছে? সীমাহীন বিশ্বপ্রকৃতি দিগ্‌দিগন্তে প্রসারিত। তোমরা মানুষ তার বুকে জন্ম নিলে। আর তাকে খণ্ডে খণ্ডে খণ্ডিত করে আপনাদের হাতে আঁকা গণ্ডী দিয়ে গণ্ডীবদ্ধ করে দিলে। তোমরা আপনাদের গোষ্ঠী আর জাতিকে কেন্দ্র করে কত দেশ আর কত রাজ্য গড়ে তুললে, হানাহানি, কাটাকাটি করে অপরকে হত্যা করলে, আপনারা নিহত হলে। তোমরা তোমাদের খুশী আর রুচি-অনুসারে নামকরণ করলে, আর সেই নাম আমাদের গায়ে মুদ্রাঙ্কিত করে দিলে।

আজ তুমি প্রশ্ন করো, আমি বাবিলের না যাহুদার? আমি ক্যালদীয় না ইহুদী? মিকা, এ তোমার কেমন প্রশ্ন? তোমরা মানুষ, তোমরা এই ভাবে ভাবো! কিন্তু বিশ্ব- প্রকৃতি তো এভাবে আপনার পরিচয় দেয় না। তুমি কি জানো মিকা, সুদূর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তোমার যাহুদার বাতাস কত দেশ আর কত রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে আমার বুকে এসে দোলা দেয়। আমি মর্মরিত হয়ে উঠি, আর কল্লোল গান গেয়ে চলি। তুমি কি জান মিকা, বাবিলের নদী থেকে জলীয় বাষ্প উঠে বাবিলের আকাশে যে-মেঘ জমা হয়, সেই মেঘের পুঞ্জ উত্তর বায়ুতে ভাসতে ভাসতে গিয়ে যাহুদার আকাশ আচ্ছন্ন করে ফেলে। আর তারই অবিরল ধারা-বর্ষণে যাহুদার ভূষিত মাটি সিক্ত ও তৃপ্ত হয়ে ওঠে তবু কি তুমি প্রশ্ন করবে, আমি বাবিলের না যাহুদার ছল ছল ছলাৎ!

মিকা চমকে উঠল। নদীর ঘাটে কে যেন কলসী ডুবিয়ে জল ভরছে। উঠে বসল মিকা। কে, কে, কে এ? এ-যে সেই মেয়েটি, সেই ইহুদী মেয়েটি। যাকে ওরা সেদিন তারই চোখের সামনে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে সেই নারীমাংসলোভী হিংস্র পশুগুলোর বীভৎস হাসি যেন তার কানে ভেসে এল। অপরাহের শান্তিঘন স্তব্ধতা বিষাক্ত হয়ে উঠল।

আহা, এতটুকুন মেয়ে, যেন বাইশী গাছের কচি পল্লবটি। একটু বাতাসের ভরেই নুয়ে পড়ে। কি নিষ্ঠুর লাঞ্ছনার মধ্য দিয়ে ওর নারী-জীবনের সূচনা হোল! কি আছে ওর অদৃষ্টে কে জানে! কে জানে কি হবে ওর পরিণতি! মিকা, এ-যে তোমার বোন, তোমার ইহুদী জাতির মেয়ে। এই লাঞ্ছনা প্রতি ইহুদীর ঘরে ঘরে। আর তুমি কি করছ? নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে দেখছ? এমনি অক্ষম আর এমনি অপদার্থ হয়েই তুমি জন্মেছ? একটা অব্যক্ত যন্ত্রণায় মিকার অন্তরাত্মা মুচড়ে উঠতে লাগল।

মেয়েটি জলভরা কলসী নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। সূর্যের শেষ রশ্মি ওর মুখের উপর এসে পড়েছে। সেই আলোয় দেখা গেল বিষাদ ভাবনত মুখখানি গভীর চিন্তায় মগ্ন। দস্যুরা ওর মুখ থেকে কিশোরীর সহজ আনন্দে ফুটে ওঠবার চাঞ্চল্য আর আবেগটুকু ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

বাড়ীর পথে পা বাড়াতে গিয়ে হঠাৎ মিকার দিকে মেয়েটির চোখ পড়ল। মিকাকে দেখেই ওর পা থেমে গেল। গতিশক্তি হারিয়ে সে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। ওঃ, কি ভয় ওর দু’টি চোখে! যেন বাঘের মুখে হরিণী। মিকা শরমে মরে গেল। পোশাক দেখে তাকে ক্যালদীয় বলে মনে করেছে। কি বলে মেয়েটিকে আশ্বস্ত করবে সে! হঠাৎ একটা আর্ত চিৎকার করে জলভরা কলসীটা ফেলে দিয়ে মেয়েটি ব্যাধতাড়িত পশুর মত ঊর্ধ্বশ্বাসে বাড়ীর দিকে ছুটল। সেই ভয়ার্ত চিৎকার মিকার মর্মে গাঁথা রইল। এ কি সে কোনদিন ভুলতে পারবে!

মিকা, তোমাকে দেখে ভয় পেয়েছে। তোমার হাত থেকে আপনাকে বাঁচাবার জন্য ছুটে পালিয়ে গেল। মিকা, তুমি ওই ওদেরই একজন। তুমি ইহুদী হয়েও ক্যালদীয়। তোমার এই কলঙ্ক কি কোনদিন ঘুচবে?

ক্রমে সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এল। আকাশের বুকে তারার ফুলগুলো একটি একটি করে ফুটে উঠতে লাগল। ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। কবারের অস্ফুট কলধ্বনি। কি বলছে কবার? শুনবে না, শুনতে চায় না মিকা। কবার তার কেউ নয়। ওই-যে দূরে বাতিগুলো মিট মিট করে জ্বলছে, সেই দিকেই তার দৃষ্টি নিবদ্ধ। সেই দিকেই সে চলল। মদ্যপায়ী যেমন সন্ধ্যার পরে নেশায় টানে পানশালার দিকে ছোটে, তেমনি মিকারও সন্ধ্যার পর ওদিকে যাওয়া চাই।

নগরের একপ্রান্তে ইহুদী-পল্লী। এইখানেই ভূমিদাস ইহুদীদের মধ্যে মিকা তার আপন মানুষদের সন্ধান পেয়েছে। এরা হাড়-ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও পেটের ভাত জোটাতে পারে না, উঠতে বসতে কথায় কথায় প্রভুদের শাসানী আর মারপিট। এই অসহায় আর নিঃসম্বল প্রাণীগুলোকে নিয়ে সুখী বাবিলের একপ্রান্তে একটি ছোট্ট শ্রীহীন যাহুদা গড়ে উঠেছে।

মিকা যখন এসে পৌঁছল তখন সেখানে গান চলছে। দ্রুতচালিত আঙ্গুলের আঘাতে তারের যন্ত্রে টিউটিউ কান্নার রোল উঠছে। আর তারই সঙ্গে গলা মিলিয়ে গায়ক গান গাইছে। তাকে ঘিরে সবাই চারদিকে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে, মন্ত্রমুগ্ধের মত গান শুনছে। মিকা আসতে সঙ্গে সঙ্গেই গান বন্ধ হয়ে গেল। এমন সময় হঠাৎ একজন ক্যালদীয়কে আসতে দেখে সবাই ত্রস্ত হয়ে উঠল। কোন ভাল মতলব নিয়ে কোন ক্যালদীয় তো কখনও ইহুদীদের কাছে আসে না। কে জানে কোন বিপদ সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে! সব চুপ, কারু মুখে কোন কথা নেই।

ভিড়ের মধ্য থেকে হঠাৎ কে একজন চিৎকার করে উঠলো।

: মিকা, মিকা, আমাদের মিকা-যে!

সঙ্গে সঙ্গে সকলের মধ্যে আশ্বস্তির ভাব ফিরে এল।

: এই-যে মিকাভাই, বসো, বসো, গান শোন

মিকা বসে পড়ল, গান চলতে লাগল।

“আমরা বাবিলের নদীর তীরে বসেছিলাম। বসে বসে কাঁদছিলাম আর ভাবছিলাম আমাদের যিওনের কথা।

বাইশী গাছের শাখায় আমরা আমাদের বীণাগুলো টানিয়ে রেখেছিলাম।

যারা আমাদের বন্দী করে নিয়ে এসেছিল, তারা আমাদের কাছে গান শুনতে চাইল, যারা আমাদের জীবনকে উচ্ছন্ন করে দিয়েছে, তারা আমাদের কাছ থেকে আমোদ পেতে চাইল—তোমরা আমাদের যিওনের গান শোনাও।

এই বিদেশীর দেশে আমরা প্রভুর গান কেমন করে গাইব?

হে জেরুজালেম, আমরা যদি তোমাকে ভুলে গিয়ে থাকি, আমাদের দক্ষিণ হস্ত যেন তার দক্ষতা হারায়। আমরা যদি তোমাকে স্মরণ না করি, তোমাকে যদি আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ আনন্দ বলে বর্ণনা না করি, তবে আমাদের জিহ্বা যেন তালুর সঙ্গে লগ্ন না থাকে।

“হে বাবিলকন্যা, হে বিনাশপাত্রী, তোমার ধ্বংসের দিন আসন্ন। আমাদের উপর যে-আঘাত তুমি হেনেছ, সেই আঘাত তোমার উপরেও নামবে। সেদিন দূরে নয়, যেদিন তোমার শত্রুরা তোমার কচি শিশুদের পাথরের উপর আছড়ে আছড়ে মারবে।”

গান থামল। কিন্তু প্রতিটি স্রোতার বুকের বীণার তার রেশ বেজে চলল, সেই অনাহত বীণার ঝংকার সমস্ত ইহুদী পল্লীকে প্লাবিত করে দিল। ওদের চোখ দিয়ে জল ঝরছে। ওরা নিঃশব্দে কাঁদছে। স্বদেশ থেকে নির্বাসিত, আজন্ম শোষিত, নির্যাতিত এই দুর্ভাগ্যের সন্তানগণ দীর্ঘদিন ধরে এমনি কান্নাই কেঁদে আসছে। আর কতদিন? যিহোবা, যিহোবা, তোমার মুখ কি এখনও ফিরাবে না? শাস্তির পাত্র কি এখনও নিঃশেষ হয় নি? আর কতদিন? একটা সীমাহীন রোদন রাত্রির অন্ধকারের বুকে তরঙ্গিত হয়ে উঠতে লাগল। বাবিলের আকাশে যে-তারাগুলো দেখা দিয়েছিল, তারাও ওদের দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে রইল।

মুহ্যমান গায়ক মাথা নীচু করে চুপ করে বসে ছিল, হঠাৎ কে জানে কি মনে করে হাতের যন্ত্রটাকে ফেলে দিয়ে যেন গর্জন করে উঠে গানের শেষ স্তবকটি আবার গেয়ে উঠল,

“হে বাবিলকন্যা, হে বিনাশপাত্রী, তোমার ধ্বংসের দিন আসন্ন। আমদের উপর যে-আঘাত তুমি হেনেছ, সেই আঘাত তোমার উপরেও নামবে। সেদিন দূরে নয়, যেদিন তোমার শত্রুতা তোমার কচি শিশুদের পাথরের উপর আছড়ে আছড়ে মারবে।”

গায়কের মাথার ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চুলগুলো দ্রুত নাড়া খেয়ে সাপের মত খেলা করতে লাগল। শ্রোতাদের চোখে যেন মেঘের আড়ালে ক্রোধের বিদ্যুৎ চমক মারতে লাগল। গায়ক তার গানের মধ্যে কি-যে উত্তেজনা ও প্রতিহিংসার বিষ ঢেলে দিয়েছে, শ্রোতারা সেই বিষের প্রদাহে অস্থির হয়ে উঠল, কেউ কেউ বা দাঁড়িয়ে পড়ল।

মিকা, মিকা, তোমার ওই পরনের অশুচি কাপড়টা ছেড়ে ফেলো, ও আমরা আর সইতে পারছি না।

কে বলেছিল একথাটা কে জানে! কিন্তু সে সকলের মনের কথাই বলেছিল। সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন এসে তার চারদিকে ঘিরে ধরল। তাদের সকলের চোখে সেই একই দাবী।

মিকা আবেগে কাঁপছে। কি-যে করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। এমন সময় সাত আট বছরের একটি সুকুমারকান্তি বালক দৌড়ে এল মিকার কাছে। বলল

: নাও পারো, মা দিয়েছে। দেরী কোরো না।

মা দিয়েছে! মা! না, মিকা আর দেরী করল না। তার জীবনের এ এক মাহেন্দ্রলগ্ন। ইহুদী সমাজ আজ তার দিকে বাহু প্রসারিত করে দিয়েছে। পুরানো দিনের সমস্ত গ্লানি, সমস্ত কলঙ্ক ধুয়ে মুছে নবজাত শিশুটির মতই বিশুদ্ধ হয়ে উঠল সে। আজ যেন মিকার নবজন্ম।

মিকা ইহুদীর পোশাক পরল। সামান্য একটা বস্ত্রখণ্ড, তা ছাড়া আর কি! কিন্তু তারই মধ্যে ছড়িয়ে আছে কতদিনের কত দীর্ঘ ইতিহাস, কত আশা-আকাঙ্ক্ষা আর অশ্রু-ঝরা করুণ কাহিনী। মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত বিচ্ছিন্নতা কেটে গেল। যারা তার চারদিকে ঘিরে উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়েছিল, তাদের সঙ্গে এক অপূর্ব অননুভূত একত্ব বোধ করল সে। এ কোন যাদুর খেলা!

মিকা ইহুদী পোশাক পরল। সঙ্গে সঙ্গে যারা সেখানে উপস্থিত ছিল, স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা সবাই যিহোবার জয়ধ্বনি করে উঠল। মিকাও যোগ দিল তাদের সঙ্গে। জীবনে এই প্রথম, তার সমস্ত শরীর রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল। পরিত্যক্ত মূল্যবান ক্যালদীয় পোশাকটাকে ওরা টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলল। আগুন জ্বেলে জ্বালিয়ে দিল। পোশাকটা পুড়তে লাগল। আবার তারা যিহোবার নামে জয়ধ্বনি করল। সেই আগুনের প্রদীপ্ত আভায়, সেই মিলিত জয়ধ্বনির মহামন্ত্রে মিকা ইহুদীর ধর্মে আর ইহুদীর জাতীয়তায় দীক্ষিত হয়ে গেল।

কিন্তু কে এই রহস্যের সমাধান করবে, সেই পরম মুহূর্তে হঠাৎ কেন-যে তার মনে পড়ে গেল শদরার মুখখানি? শদরা, শদরা এখন কি করছে? কিন্তু সেই প্রবল ভাবাবেগে, মিলনের কোলাকুলি আর আনন্দ কোলাহলের আড়ালে সেই মুখখানি একবার একটু ঝিলিক মেরে পরক্ষণেই অস্পষ্ট হয়ে মিলিয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *