পাপের সন্তান – ১১

এগারো

এ এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। দিনের পর দিন ওরা চলেছে, দিনের পর দিন যাহুদার ব্যবধান ক্রমেই কমে আসছে। সারা দিন পথ চলে আর রাত্রিবেলা তাঁবু খাঁটিয়ে বিশ্রাম করে।

এখানে রাজকীয় ব্যবস্থা। এখানে কেউ পায়ে হাঁটে না। হয় ঘোড়ায়, নয়তো গাধায় চেপে চলে। মিকা আর দানিয়েলের জন্য একটি ঘোড়া বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু শদরা কি কোন দিন ঘোড়ায় চেপেছে! প্রথম কয়েকটা দিন তাকে নিয়ে বিপদেই পড়তে হয়েছিল। ভয়ের চোটে তার দেহের সমস্ত ভার মিকার উপর ছেড়ে দিয়ে সে এমন করে তাকে আঁচড়ে থাকত যে, ভারসাম্য বজায় রেখে চলা মিকার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াত। ঘোড়াটাও মাঝে মাঝে এ রকম বে-দত্তুর ব্যাপার দেখে বিগড়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানাত। মিকা হেসে বলত, দানিয়েল, ভুলে যেও না, এটা আমাদের বাসরশয্যা নয়, আমরা ঘোড়ায় চেপে চলেছি। আর শদরা উত্তর দিত, ভুল তুমিই করছ মিকা। আমাদের বাসরশয্যা সর্বত্র প্রসারিত, ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

কিন্তু শদরার এই আনাড়ি ও আড়ষ্ট ভাবটা কেটে যেতে বেশী সময় লাগল না। ক’দিন পরেই দেখা গেল মিকাকে পেছনে বসিয়ে সেই সম্মুখের আসন দখল করে বসেছে। শেষে আর পেছনে বসতে চায় না।

এ এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। ঘোড়ার পিঠে বসে দুলতে দুলতে শদরা বলছিল

: মিকা, ঘরোয়া মানুষগুলোর কথা ভেবে এখন আমার বড় করুণা হয়! আহা, ওরা পৃথিবীর কিছুই দেখতে পেল না, চিরকাল খাঁচার মধ্যে পড়ে রইল। এত বড় একটা পৃথিবী, এমন অফুরন্ত গতিতে ছুটে চলা, এর কোন আস্বাদই ওরা পেল না। এ আনন্দ থেকে ওরা বঞ্চিত। মিকা, আমরাও তো একদিন অমন ছিলাম। আর আজ আমরা মুক্ত, আজ আমরা অসীম নীলাকাশের দু’টি পাখী।

: কিন্তু শদরা, পাখী-যে আবার ফিরে আসে তার নীড়ে। শুধু নীলাকাশে যে তাদের চলে না। আর তুমি কি ভুলে যাচ্ছ, যাহুদার বুকে নীড় বাঁধবার জন্যই-যে আমরা ছুটে চলেছি। আমাদের এই অফুরন্ত গতি সেইখানে গিয়ে ফুরিয়ে যাবে।

: হ্যাঁ, অমন করে মৃত্যুর সীমান্তে এসে জীবন ফুরিয়ে যায়।

: এ তুমি কি বলছ শদরা? এমন কথা কেন বলছ?

: এ কি আমি বলছি? কে যেন দিবারাত্রি আমার ভেতর থেকে এই কথাই বলে চলেছে। যতই বাহুদা কাছে আসছে, আমার ততই ভয় করছে।

: কেন, শদরা, কেন?

: আমি জানি না।

কোন্ কথা থেকে কোন্ কথা এসে যায়! গভীর আনন্দের বুকে বিষাদের এক স্নান ছায়া ছড়িয়ে পড়ল। কেউ আর কোন কথা বলল না। সমস্ত পথ নিঃশব্দে কেটে গেল।

সেদিন রাত্রির অন্ধকারে এক নির্জন জায়গা খুঁজে নিয়ে ওরা দু’জনে বসে ছিল। মিকার হাতের আঙ্গুলগুলো নিয়ে খেলা করতে করতে শদরা বলছিল,

: মিকা, আজ আমি তোমাকে খুব দুঃখ দিয়েছি, না? কিন্তু তুমি আমাকে বিশ্বাস করো মিকা, আমি তোমাকে দুঃখ দিতে চাই নি। তবু কেমন করে কি-যে হয়ে যায়! আমি কত যত্ন করে আর কত আগ্রহভরে তোমার জন্য ফুলগুলোকে সাজিয়ে রাখি, আর কে যেন এসে তাদের ছড়িয়ে ফেলে দিয়ে চলে যায়। মিকা, এ জীবন কি আমাদের হাতে?

মাঝে মাঝে ভোরবেলার প্রথম জাগা পাখীগুলোর মতই চপল আর চঞ্চল হয়ে ওঠে শদরা। এত খুশী সে কোথায় চেপে রাখবে খুঁজে পায় না। আর সেই উছলে ওঠা আনন্দ যেন সমস্ত তাঁবুতে ছড়িয়ে পড়ে। কে জানে কেন, সবার চোখ যেন একটা নতুন আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এমনকি হঠাৎ একদিন শোনা গেল, সেই-যে কাটখোট্টা গোমড়ামুখো পাচকটা, সেও গলা ছেড়ে গান গেয়ে উঠেছে। মিকা বলে, শদরা, এ কোন্ বসন্তের ছোঁয়া লাগল! দেখছো, শুকনো কাঠটায় পর্যন্ত ফুল ফুটে উঠেছে।

একদিন নেহেমিয়া মিকাকে একান্তে ডেকে বললেন,

: শোনো মিকা, তোমাকে একটা কথা বলব। দানিয়েলকে কিন্তু তুমি সব সময় তোমার সঙ্গে সঙ্গে রাখবে। বিশেষ করে রাত্রিবেলা সে যেন তোমার কাছেই থাকে।

চমকে উঠল মিকা।

: কেন, একথা বলছেন কেন?

: আবার জিজ্ঞেস করছো কেন? নেহেমিয়ার মুখে মৃদু হাসি খেলা করে গেল।

: তোমরা কি নেহেমিয়ার চোখকে ফাঁকি দিতে পেরেছ বলে মনে করো? প্রথম দিনই আমার সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু এখন তো শুধু আমি নই, আমার অনুচর আর সৈন্যদের মধ্যে কারু আর বুঝতে বাকী নেই। দানিয়েলের আসল রূপটা সবাই ধরে ফেলেছে। আর তোমরা কি চোখ বুজে থাক? লোকের ভাবভঙ্গী চাল চলন, কিছু‍ই কি দেখো না?

মিকা মাথা নীচু করে রইল। কি বলবে খুঁজে পেল না।

: আরে না না, তোমরা আমাকে ফাঁকি দিয়েছ বলে আমি তোমাদের তিরস্কার করছি না। আমার তো বেশ ভালই লাগছে তোমাদের দু’জনকে নিয়ে। কিন্তু আমাদের এখানে সব লোকই তো আর ভাল নয়। এদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা না করতে পারে এমন কাজ নেই। সেইজন্যই তোমাকে একটু হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি। আর ক’টা দিন বাদেই আমরা আমাদের গন্তব্যস্থলে গিয়ে পৌঁছব। এই ক’টা দিন তোমরা দু’জনেই একটু সাবধানে থেকো।

কৃতজ্ঞতায় মিকার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এল।

: আপনি আমাদের উপর রাগ করেন নি তো?

: আরে না না, রাগ করব কি! আমি কি রাগ করতে পারি তোমাদের উপর! তবে কি জান, একটু দুশ্চিন্তায় থাকি তোমাদের জন্য। থাক থাক, এখন নয়, আমি পরে তোমাদের সব কথা শুনব।

মিকা শদরার কাছে সব কথা খুলে বলল। কিন্তু কি আশ্চর্য, শদরা মোটেই আশ্চর্য হোল না। বলল, আমি বুঝতে পেরেছিলাম, কিন্তু তোমাকে বলি নি তুমি দুশ্চিন্তায় পড়বে বলে। আমি কি করব বলো, একটা তাঁবুর মধ্যে এতগুলো লোকের চোখের সামনে কত দিন আর চেপে রাখা যায়! সবাই তো আর তোমার মত অন্ধ নয়।

: বাঃ, আমি অন্ধ?

: তা ছাড়া কি? তোমার মত হাবা আর দুনিয়ায় দু’টি আছে নাকি? কিছুই তোমার চোখে পড়ে না। তুমি কি চোখ বন্ধ করে চলো? রোজ রোজ খাবার সময় আমার পাতে সবচেয়ে ভাল জিনিসগুলো কেমন করে এসে পড়ে, এও কি তোমার চোখে পড়ে না কোনদিন? আর রাতারাতি সবাই কেমন রসিক হয়ে উঠেছে। আমাকে একা দেখলেই হয় গান গাইবে নয় শিস দিয়ে উঠবে, হতভাগার দল!

: আহা, অমন চট কেন? বেচারারা করবে কি? তোমাকে যে দেখে সেই মুগ্ধ হয়ে যায়। সেজন্য দায়ী তো তুমিই।

: আমিই দায়ী? বেশ। তা ওদের জন্য এতই যদি দরদ, তাহলে হন্তদন্ত হয়ে এ কথাটা আমার কাছে বলতেই বা ছুটে এসেছ কেন?

: আমি বুঝি নিজে থেকে এসেছি। নেহেমিয়া-যে বললেন—

: ও, তাও নিজে থেকে আস নি। নেহেমিয়া বললেন, তাই? তবে তো খুবই বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছ। আর তোমার নেহেমিয়াকে বোলো, দানিয়েলের জন্য তাঁর দুশ্চিন্তার কোনই প্রয়োজন নেই, দানিয়েল ভালই আছে, ভালই থাকবে।

: ছিঃ শদরা, নেহেমিয়ার মত উপকারী বন্ধু, তাঁকে কি এমন করে বলতে পারি!

: বা রে, কথাটা খারাপ হোল কিসে! তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগে মরছেন, তুমি তাঁকে আশ্বস্ত করবে। করাই তো উচিত। তিনি বন্ধুর মত কাজ করেছেন, তুমিও বন্ধুর মতই কাজ করবে।

আর ঠিক সেই সময়েই তাঁবুর ভেতরে তাঁর নিজের ঘরে বসে নেহেমিয়া অমন গভীরভাবে কি ভাবছিলেন? যাহুদার কথা? প্রভুর মন্দিরের কথা? জেরুজালেম নগরীকে গড়ে তোলবার কথা? নগরীর প্রাচীর গেঁথে তোলবার কথা? নেহেমিয়া! ভাগ্যিস্ কেউ কারু মনের ভেতরকার ছবিটা দেখতে পারে না। কিন্তু যদি পারত?

কঠিন আত্মধিক্কারে পূর্ণ হয়ে ওঠে তাঁর মন। তবু সমস্ত ধিক্কার আর গ্লানিকে ছাপিয়ে মনের পরদায় ফুটে ওঠে সেই ছবিখানি। মিকা আর দানিয়েল যেদিন তাঁর তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিল, তার পরদিন ভোরবেলা অন্ধকার থাকতেই ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল, যেমন তাঁর চিরদিনের অভ্যাস। তাঁবু থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেন। ভোরবেলার ফুরফুরে হাওয়ায় শরীরটা যেন জুড়িয়ে গেল। সেই মিঠে হাওয়ায় নদীর ধারে বেড়াচ্ছেন, এমন সময় ঝুপ করে একটা শব্দ।

কিসের শব্দ? নদীর জলে কে যেন স্নান করছে। এমন ভোরে স্নান করে কে? কৌতূহলী হয়ে উঠলেন নেহেমিয়া। পায়ে পায়ে এগোলেন। একটু বাদেই অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন তিনি। আর পা চলল না। নদীগর্ভ থেকে উঠে এল, সদ্যোস্নাত একটি ইহুদী বালক, না না, বালক নয়, এ-যে একটি মেয়ে। হ্যাঁ, মেয়েই তো। পুরুষের পোশাকে আবৃত একটি পূর্ণযৌবনা ইহুদী মেয়ে। ভিজে কাপড়ের উপর যৌবনের সুডোল পূর্ণতা রেখায় রেখায় ফুটে উঠেছে। নেহেমিয়া আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলেন। তা না হলে এমন নির্লজ্জভাবে তার দিকে তাকিয়ে রইলেন কি-করে!

মেয়েটি একবার চকিতভাবে চারদিকে চেয়ে ভিজে কাপড়টা দ্রুত বদলে ফেলল। তার যৌবন-সমৃদ্ধ কনককান্তি একবার বিদ্যুতের মতই ঝলসে উঠল। চল্লিশ বৎসর- বয়স্ক প্রবীণ নেহেমিয়া স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন। না, আর সন্দেহ নেই—দানিয়েল। হ্যাঁ, দানিয়েলই বটে। কি আশ্চর্য, এই অপরূপ সুন্দরী পূর্ণাঙ্গী যুবতী কি করে ওই বালকের ছদ্মবেশের আড়ালে আপনাকে এমন করে লুকিয়ে রাখে!

এমন সময় শদরা হঠাৎ এদিকে মুখ ফেরাতেই নেহেমিয়ার সঙ্গে চোখা চোখি হয়ে গেল। মাঝখানে সামান্যই ব্যবধান। পরস্পরকে স্পষ্ট করে চিনে নিতে কারু কোন অসুবিধা হোল না। সংকুচিত নেহেমিয়া দেখলেন, দানিয়েলের চোখে আগুন জ্বলে উঠেছে। আর তিনি সেখানে দাঁড়াতে পারলেন না। বেত্রাহত কুকুরের মত ছুটে সেখান থেকে পালিয়ে এলেন।

পালিয়ে এলেন। কিন্তু সেই স্মৃতি তাঁকে ছাড়ল না, শিকারী কুকুরের মত তাঁকে পেছন পেছন তাড়া করে চলতে লাগল। হায় যিহোবা, এ তোমার কোন্ পরীক্ষা! ধর্মপ্রাণ, সচ্চরিত্র, বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান, বহুলোকের শ্রদ্ধার পাত্র নেহেমিয়াকে নিয়ে এ তুমি কি খেলা শুরু করলে!

সেই স্মৃতি তাঁকে ছাড়ল না, একটি মধুর আবেশের মত তাঁর সমস্ত চেতনাকে ব্যাপ্ত করে রইল। কি লজ্জা, কি লজ্জা! কিন্তু বড় ভাল লাগে সেই কথা ভাবতে।

কাজের মানুষ নেহেমিয়া। চিরদিন কাজের মধ্যেই ডুবে ছিলেন। কাজই ছিল তাঁর প্রাণ। এর মধ্যে কখন যৌবন এসেছিল, কখনই বা তার সবুজ পল্লবগুলো পাণ্ডুরাভ হয়ে উঠল, এ খবর তো তাকে কোনদিন কেউ বলে দেয় নি। কে জানত, নারীদেহের পানপাত্রে এত সুধা উছলে উঠতে পারে! এ-যে এক পরম আবিষ্কার। আর সেই আবিষ্কার তাঁর হৃদয়কে মথিত করে তুলল।

যৌবনের পূর্ণ মধ্যাহ্নে রাজপ্রাসাদের বিলাসব্যসনের দূষিত আবহাওয়ার মধ্যে বাস করেও যাঁর মনে কোনদিন এতটুকু চাঞ্চল্য বা স্খলন দেখা যায় নি, যৌবনের প্রত্যন্ত সীমায় এসে এ তাঁর কি হোল! আপনাকে ধিক্কার দিয়ে বলেন—ছি ছি নেহেমিয়া, এ-যে তোমার নিজের মেয়ের মত, এর সম্পর্কে এমন কথা কি করে তুমি ভাবো?—কিন্তু এ ভাবনা-যে উঠে আসে হৃদয়ের কোন্ এক গভীর মর্মদেশ থেকে। সেই উৎসের সন্ধান তো নেহেমিয়ার জানা নেই। আর নির্জন মুহূর্তে সেই ঘনীভূত আবেগ যখন দেহের সূক্ষ্ম স্নায়ুতন্ত্রীগুলোকে এক আদিম কামনায় চঞ্চল আর অস্থির করে তোলে, অসহায় নেহেমিয়া তখন কি করে তাঁকে সংযত করবেন! নেহেমিয়া ভয় পেয়ে গেলেন।

হায় প্রভু, এই কি নেহেমিয়ার প্রকৃত স্বরূপ! এই কি তার মনের গোপন চিত্র? শুধু ভণ্ডামি করেই এতকাল সে লোকের চোখে ধুলো দিয়ে এসেছে?—শয্যার উপর বসে নেহেমিয়া যিহোবার কাছে বুক-ফাটা কান্না কাঁদেন। অশ্রুজলে বুক ভেসে যায়। প্ৰাৰ্থনা করতে করতে রাত্রি ভোর হয়ে আসে।

তাঁর যে কি হয়েছে, দানিয়েলের দিকে সোজাসুজি তাকাতে পারেন না। চোখ নেমে আসে। ভয় হয়, দানিয়েলের তীক্ষ্ণ চোখ দু’টি বুঝি তাঁর মনটাকে তন্ন তন্ন করে পরীক্ষা করে দেখছে। কি জানি, যদি তাঁর মনের এই কুৎসিত ছবিটা দানিয়েলের চোখে পড়ে যায়, তাই তিনি তাকে যত দূর সম্ভব এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু রাত্রি যখন ঘন হয়ে আসে, তখন-যে চিন্তাটাকে দূরে সরিয়ে রাখতে চান, সেই চিন্তাটাই নানা রূপ ধরে ঘুরে ঘুরে আসে। হায় যিহোবা, এ যাত্রার শেষ হবে কবে? পাশের ঘরে মিকা তখন দানিয়েলকে বলছিল, নেহেমিয়া কিন্তু ভারী চমৎকার লোক, না দানিয়েল? এমন লোক আমি আর কখনও দেখি নি।

দানিয়েল যেন তার সুরে সুর মিলিয়ে উত্তর দিল, হ্যাঁ, আমিও দেখি নি।

মিকার মনে একবার কেমন যেন একটু সন্দেহ হোল, দানিয়েল বিদ্রূপ করছে না তো? কিন্তু দানিয়েলের মুখ দেখে ঠিক বোঝা গেল না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *