মৃত্যুর মুখ – মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য
প্রথম প্রকাশ – ১লা বৈশাখ ১৪৩৩। এপ্রিল 2026
.
শুভাশিস ঘোষ
সুহৃদপ্রতিমেষু
মুখবন্ধ
কেউ কেউ বলেন, ভয় পাওয়া নাকি এক ধরনের মর্ষকাম। এতে রক্তে অ্যাড্রিনালিন বাড়ে। আসলে বাস্তবে থাকুক কি না থাকুক ভূত পেত্নি দত্যি দানো নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।
সে কারণেই সিনেমায় বা সাহিত্যে ভূতপ্রেতের অহরহ দেখা মেলে। ভূতের বই পড়তে ভালোবাসেন বেশির ভাগ পাঠক। ভূতপ্রেতে বিশ্বাস করা বা না করার সঙ্গে ভূতের গল্প কাহিনি পড়ার কোনও সম্পর্ক নেই। কোনও মৃতদেহের মধ্যে অলৌকিক উপায়ে প্রাণ সঞ্চার হলে তাকে বলে দানোয় পাওয়া।
কেউ বলেন, দানো কথাটা এসেছে দানব থেকে। কেউ আবার বলেন দানোর সঙ্গে দানবের কোনও সম্পর্ক নেই। এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত। তবে একটা ব্যাপার কেউই স্বীকার করতে দ্বিধা করবেন না যে, মানুষ ভয় পেতে ভালোবাসে।
এই বইতে রয়েছে ‘গোপন নদীর কিনারে’ এবং ‘মৃত্যুর মুখ’ নামে দুটি অতিপ্রাকৃত ও ডার্ক ফ্যান্টাসি গোত্রের উপন্যাস। ‘গোপন নদীর কিনারে’ একটি শারদ পত্রিকায় প্রকাশিত হবার পর বহু পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। সেই উপন্যাসটিকে কিছুটা পরিমার্জন করে রাখা হয়েছে এখানে। এই বইয়ের দ্বিতীয় উপন্যাসটির নাম ‘মৃত্যুর মুখ’। পাণ্ডুলিপি থেকে সরাসরি সংকলিত হয়েছে এই অতিলৌকিক ঘরানার উপন্যাস। দুটি উপন্যাসই গা ছমছমে ভয়ের এবং প্রাপ্তমনস্ক পাঠকের কথা ভেবে লেখা। বইটি শেষ করার পর পাঠকের অ্যাড্রিনালিন রাশ হয় কি না সেটাই দেখার।
মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য
জানুয়ারি, ২০২৬
.
ফ্ল্যাপের লেখা
বাংলা অসম সীমানার মহিষবাথান ফার্মে কাজ করতে এসে দানা বাঁধে আনিস আর জাফরের বন্ধুত্ব। স্থানীয় যুবতী জরির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় আনিসের। তার সঙ্গে ঘর ছেড়ে পালায় জরি। কিছুদিন পর নদীতে ভেসে ওঠে আনিস আর জরির পচা-গলা লাশ। জাফর ট্রান্সফার নিয়ে চলে যায় কলকাতায়। এক বছর পর সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর সঙ্গে মহিষবাথানের জঙ্গলে বেড়াতে এসে জরি আর আনিসের সঙ্গে আকস্মিকভাবে দেখা হয়ে যায় জাফরের! তাহলে সেদিন নদীর জলে ভেসে ওঠা দুটো লাশ কাদের ছিল?
ভুটান পাহাড় থেকে নেমে এসেছে দোলনা নদী। কালেভদ্রে জল আসে সেই নদীর শুকনো খাতে। তবে হেমগুড়ির লোক জানে, একবার যদি সেই মজা খাতে জল ঢুকে পড়ে, তাহলে অপঘাতে মরতে হয় গ্রামের কাউকে না কাউকে। এক সকালে শুকনো খাতে জল দেখতে পায় কনকচাঁদ। সেদিনই এক ঘনঘোর বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার পথে সে দেখে, নদীর কিনারে পড়ে আছে হেমগুড়ি গ্রামের মেয়ে ফুলকি। গায়ে একটা সুতোও নেই। লাশকাটা ঘরে নিয়ে গেলে উঠে বসে ফুলকি। তারপর?
একমলাটে ২টি অলৌকিক আতঙ্ক।


Leave a Reply