গোপন নদীর কিনারে – ৮

রাতের খাওয়া হয়ে গেছে। হাতে গড়া রুটি আর আলুর দম। ডিনারের পর বিছানায় বসে চন্দ্রচূড় ধোঁয়া দিয়ে রিং বানাবার চেষ্টা করছে। বার চারেক চেষ্টার পর হাল ছেড়ে দিল। মনঃসংযোগ করতে পারছে না। মনটা ছড়িয়ে আছে চারদিকে। সোপ অপেরায় যেমন রিক্যাপ দেখায় তেমনি করে হেমগুড়িতে তার প্রথম দিনটার কথা মনে মনে ভাবছিল সে।

এই বাড়ির উঠোনের এক কোণে পাতকুয়ো। সাদা থান পরা এক মহিলা বাসন মাজছিল কুয়োর পাড়ে। চন্দ্রচূড়কে দেখে ঘোমটা দিল মাথায়। এগিয়ে এল জিজ্ঞাসু মুখে। চন্দ্রচূড় পরিচয় দিল নিজের। মহিলা গলা উঁচিয়ে বলেছিল, কোথায় গেলি রে? এদিকে আয় একবার। দ্যাখ কে এসেছেন।

খকখক করে কাশতে কাশতে ‘আসছি, আসছি’ বলতে বলতে সুতির ফতুয়া আর লুঙ্গি পরা একজন বেরিয়ে এসেছিল ঘরের ভেতর থেকে। চন্দ্রচূড়ের দিকে তাকিয়ে হাত জড়ো করে বলেছিল, নমস্কার, আমি বনবিহারি রায়। আমার সঙ্গেই আপনার কথা হয়েছিল ফোনে। সুবোধবাবু আপনার কথা বলেছে আমাকে। তার পর সাদা থান পরা মহিলার উদ্দেশে বলল, যা দিদি, একটু চা করে নিয়ে আয়।

দোতলা কাঠের বাড়িটাকে দেখছিল চন্দ্রচূড়। বাইরে দিয়ে রেলিংবিহীন কাঠের সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয় দোতলায়। সবুজ রং করা হয়েছিল কোনও এককালে। তার পর আর বোধ হয় রং-টং করা হয়নি। মহিলার বাসন মাজা হয়ে গিয়েছিল। নিচতলায় রান্নাঘর। সেই ঘরে বাসন-কোসন রেখে ভেতর থেকে একটা বেতের মোড়া নিয়ে এসেছিল মহিলা।

উঠোনে এসে বলেছিল, দুধ চা না লাল চা? চিনি খান তো চায়ে?

চন্দ্রচূড় বলেছিল, লাল চা হলে চিনি ছাড়া, দুধ চা হলে চিনি দিয়ে।

বনবিহারি বলেছিল, আমার জন্যও এক কাপ করিস।

সন্ধে ঘনাচ্ছিল। দূরে কোনও প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে ভেসে আসছিল শাঁখে ফুঁ দেবার আওয়াজ। চন্দ্রচূড় উসখুস করছিল ভেতরে ভেতরে। সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে। বনবিহারি তার বাবার বয়সি। তার সামনে সিগারেট ধরানোটা উচিত হবে কি না বুঝতে পারছিল না। পকেটে হাত দিয়েও কী ভেবে হাতটা বের করে নিয়েছিল চন্দ্রচূড়। গোবর দিয়ে নিকানো উঠোন। একদিকে তুলসীমঞ্চ। পেছনদিকটায় গাছগাছালি আছে কিছু। উঠোনে বসেই দেখা যাচ্ছিল আম, কাঁঠাল, জামরুল গাছের দঙ্গল। সুপুরি আর নারকেল গাছ আছে অগুনতি। একফালি ফুলবাগান। জবা, নীলকণ্ঠ, গোলাপ, গন্ধরাজ, জুঁই।

বনবিহারি কাশছিল খকখক করে। হঠাৎ খেঁকিয়ে উঠে বলল, যাহ্! যা এখান থেকে! বিরক্ত করিস না তো একদম। চন্দ্রচূড় অবাক হয়েছিল। আশেপাশে তো কেউ নেই। তবে কাকে ধমক দিচ্ছে! মেয়ের সঙ্গে মিসহ্যাপ হয়েছিল এক বছর আগে। সেই শোক থেকেই কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে মানুষটার!

তখনই চোখ গিয়েছিল নিচতলায়। গরাদহীন খোলা জানলা দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে কেউ। চোখের পলক পড়ছে না। মেয়েটার গায়ের রং চাপা। এই মেয়েটাই কি ফুলকি? চন্দ্রচূড় মুখ ফিরিয়েছিল বনবিহারির দিদির গলা খাকারি শুনে। সাদা থান পরা মহিলা চা নিয়ে এসেছিল একটা প্লাস্টিকের ট্রে-তে করে। সঙ্গে এক জামবাটিভর্তি মুড়িমাখা। পেঁয়াজ, লঙ্কাকুচি, আদাকুচি, ঝাল চানাচুর দিয়ে। চায়ের পেয়ালা এগিয়ে দিয়ে বলেছিল, আপনার থাকার ব্যবস্থা দোতলায়। আপনি চা খান, আমি আপনার ঘর সাফসুতরো করে দিই। হয়ে গেলে আপনাকে ডাকছি।

বনবিহারি বলেছিল, এ বাড়ির দোতলায় বাথরুম নেই। বাহ্যি করার জায়গা উঠোনের ওদিকটায়। আপনারা তো শহুরে মানুষ, এই একটা ব্যাপারে অসুবিধে হবে জানি। কী আর করবেন, একটু মানিয়ে গুছিয়ে নেবেন আর কী।

উঠোনের একদিকে ইটের গাঁথনি মতো করা। ওপরে টিনের চাল। বনবিহারি বলেছিল, এই গ্রামে কোনও বাড়িতেই ঘর লাগোয়া বাথরুম পাবেন না। বাহ্যি করতে গেলে ঘরের বাইরে যেতে হয়। একটা সময় এই বাড়িতে খাটা-পায়খানা ছিল। রোজ ভোরবেলা মেথর আসত টিন নিয়ে। কয়েক বছর হল সরকার থেকে এদিকের প্রায় সব বাড়িতেই ইটের গাঁথনি দেওয়া ল্যাট্রিন বানিয়ে দিয়েছে। তবুও এদিকের বহু লোক এখনও মাঠেঘাটে বাহ্যি করতে যায়।

গ্রামের দিকে একটু তাড়াতাড়ি নৈশাহার করে নেওয়াই দস্তুর। রাত ন’টায় ভাত খাবার অভ্যেস নেই চন্দ্রচূড়ের। বিছানায় গিয়ে ঘুম আসবে না এত সহজে। ভাগ্যিস মোবাইলে দু-চারটে গেম ডাউনলোড করা ছিল। গেম খেলে সময় কাটানো গেল কিছুক্ষণ। নতুন জায়গায় ঘুম আসে না চট করে। শুয়ে শুয়ে আকাশপাতাল ভাবছিল চন্দ্রচূড়। ভাবতেই কেমন অদ্ভুত লাগছিল, গৌরব রাতে এই বিছানায় ঘুমোত। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে ফুলকি কি আসত গৌরবের কাছে? উঁহু, মনে হয় না। যদি দুজনের মধ্যে আগে থেকেই শারীরিক সম্পর্ক থাকত তবে ফুলকিকে জোর করে ধানখেতে নিয়ে গিয়ে গৌরব ধর্ষণ করত না।

চন্দ্রচূড় তটিনীর যুক্তিগুলো নিয়েই ভাবছিল। তার ওপর জোর খাটাবার সময় নিশ্চয়ই বাধা দিয়েছিল ফুলকি। সে কারণেই হয়তো গলা টিপে তাকে খুন করতে গিয়েছিল গৌরব। কিন্তু ফুলকির প্রতি যে এ বাড়ির পেয়িং গেস্টের কুনজর আছে সেটা কি বনবিহারি বা তার দিদি বোঝেনি? ফুলকি না হয় একটু বোকাসোকা, বনবিহারিও না হয় উদাসীন লোক, কিন্তু ফুলকির বিধবা পিসি? সে-ও কি বোঝেনি গৌরবের কুমতলব?

আলনায় চন্দ্রচূড়ের জামা-প্যান্ট টাঙানো। একদিন গৌরবের জামা- কাপড় ঝুলত এই আলনায়। একটা মান্ধাতার আমলের ড্রেসিং টেবিল আছে এই ঘরে। উঠে গিয়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল চন্দ্রচূড়। এই ঘষা কাচের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গৌরব নিজেকে দেখত। স্নানের পর চুল আঁচড়াত, একটু আগে যেমন সে নিজে আঁচড়েছিল। গৌরবের কোনও ফোটো এই ঘরে নেই। থাকার কথাও নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় গৌরব বসাককে খুঁজেছিল চন্দ্রচূড়। পায়নি। এসব নিয়ে গৌরবের কোনও আগ্রহ ছিল না।

চন্দ্রচূড়ের জানতে ইচ্ছে করছিল, কেমন ছিল লোকটা দেখতে? কেমন ছিল তার স্বভাব? কেমন ছিল ফুলকির সঙ্গে তার সম্পর্ক? এসব ভাবতে ভাবতেই একসময় ঘুমিয়ে পড়েছিল চন্দ্রচূড়। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল কুকুরের ডাকে। ভৌক ভৌক করে চাপা গলায় একটা কুকুর ডেকে উঠেছিল আশেপাশে কোথাও। একটুক্ষণ পর আবার। আওয়াজটা কি আরও খানিকটা কাছে এগিয়ে এল? সচকিত হল চন্দ্রচূড়। কুকুরের পায়ের শব্দটা এগিয়ে আসছিল কাঠের সিঁড়িটার দিকে।

শব্দ না করে সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসছিল কোনও চতুষ্পদ। মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া-ছাড়া করছে। দূরে কোথাও একটা নিশাচর পাখি ডেকে উঠল তীক্ষ্ণ স্বরে। খোলা জানলার ওদিক দিয়ে ডানা ঝাপটে চলে গেল। তারপর আর কোথাও কোনও শব্দ নেই। নিস্তব্ধ রাতে কুকুরটার শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজ জোরালো হয়ে কানে ভেসে আসছিল।

সেই ঘটনার পর থেকেই কুকুরটা বাইরে বাইরেই নাকি থাকে। গৌরব যখন ফুলকিকে রেপ করছিল তখন খৈরি হাজির হতে পারেনি। যদিও গলা টিপে মারার সময় চলে এসেছিল গন্ধ শুঁকে শুঁকে। ফুলকি গলার বকলস খুলে ছেড়ে দিয়েছে কুকুরটাকে। তার অভিমান হওয়াই স্বাভাবিক। তবে কুকুরের মতো প্রভুভক্ত প্রাণী হয় না। হয়তো সে কারণেই এ বাড়িতে ফিরে ফিরে আসে খৈরি।

সন্ধেবেলা একবার কৌতূহলী হয়ে ওই ঘরে ঢুঁ মেরে এসেছিল চন্দ্রচূড়। সারা ঘরে একটা সোঁদা গন্ধ। এদিক-সেদিক মাকড়সা জাল বুনেছে। একটাই জানলা। গ্রিল নেই। কাঠের পাল্লাটা বন্ধ। আদৌ খোলা হয় কি না কে জানে। ঘরে ঢোকার একটাই দরজা। কাঠের পাল্লাটা ভেজানো ছিল। ঠেলতেই খুলে গিয়েছিল। উঁকি মেরে দেখেছিল চন্দ্ৰচূড়। মরা বিকেলের আলোয় স্পষ্ট কিছু দেখা যাচ্ছিল না। মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে ভেতরটা দেখছিল সে।

ঘরে একটা কাঠের আলমারি আছে। একটা টেবিল ফ্যান। স্প্রিং খারাপ হয়ে যাওয়া গদি ছেঁড়া সস্তার সোফা। একপাশে কাঁঠালকাঠের একটা চৌকি। ওপরে আদ্যিকালের রংচটা তোশক পাতা। চৌকিটার কাছে যেতেই বোটকা গন্ধটা ঝাপটা মেরেছিল চন্দ্রচূড়ের নাকে। আগে বনবিহারি আর শোভা থাকত এই ঘরে।

সচকিত হয়েছিল চন্দ্রচূড়। সিঁড়ি দিয়ে কেউ উঠে আসছে না পা টিপে টিপে? হ্যাঁ, ঠিকই তো। লঘু পায়ের শব্দ। ফুলকিই কি তবে উঠে এসেছে সিঁড়ি দিয়ে? বেড়ালের মতো নিঃশব্দে পাশের ঘরটায় চলে গেল কেউ। সে ঘর থেকে ভেসে আসতে লাগল ‘খৈরি… খৈরি’ ডাক। মেয়েলি নয়, পুরুষালি গলা। অস্ফুট শব্দ করে ফুলকি আদর করছে তার পোষ্য কুকুরটাকে। সেই গোঙানির মতো শব্দ শুনলে গায়ে কাটা দেয়।

সত্যিই কি সেদিনের পর অপদেবতা ভর করেছে ফুলকিকে? বিজ্ঞানের এই যুগে এসব কথা ভাবাও হাস্যকর। মন শক্ত করল চন্দ্রচূড়। সেই পুরুষকণ্ঠের গোঙানির মতো আওয়াজ আর খৈরির আদুরে গলায় ঘরঘর শব্দটা ধীরে ধীরে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে লাগল। শব্দটা মুছে যেতে লাগল চন্দ্রচূড়ের কান থেকে। এভাবে কখন যে তার চোখ জড়িয়ে এসেছে সে জানে না।

ঘুম ভাঙল ঝড়-বৃষ্টির দাপটে। জানলার পাল্লাটা মুহুর্মুহু এসে শব্দ করে ধাক্কা খাচ্ছিল জানলায়। গাছপালার পাতা, ধুলোবালি উড়ে আসছিল জানলা দিয়ে। কাঠ দিয়ে তৈরি এই ঘরের মেঝে। কাঠের পাটাতন ভিজে যাচ্ছিল জানলা দিয়ে ঢুকে পড়া বৃষ্টির জলের তোড়ে।

চোখ কচলে বিছানা থেকে নেমে এল চন্দ্রচূড়। জানলার কাছে গিয়ে দেখতে পেল, বাইরে শুরু হয়েছে তুলকালাম বৃষ্টি। দমবন্ধ গুমোট ছিল বিকেল থেকে। গাছের পাতা নড়ছিল না। ঘরের জানলা দিয়ে ভুটান পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেয়েছিল বাইরে বিদ্যুতের চকমকি। চাইছিল একটু বৃষ্টি হোক। তাহলে শরীরটা জুড়োয়।

বিছানায় মশারি টাঙিয়ে জানলা খুলেই শুয়েছিল চন্দ্রচূড়। ঘনঘন মেঘ ডাকছিল ঠিকই তবে বৃষ্টি হচ্ছিল না। সেই বৃষ্টি নামল ভোররাতের দিকে, এখন। জানলার পাল্লা বন্ধ করল চন্দ্রচূড়। এসে শুয়ে পড়ল বিছানায়। শুতে শুতেই তলিয়ে গেল গভীর ঘুমে।

বেলা আটটা নাগাদ যখন তার ঘুম ভাঙল তখন ধরে গেছে বৃষ্টিটা। দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁত ব্রাশ করছিল চন্দ্রচূড়। হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল সে।

সিঁড়ির ওপর লেগে রয়েছে কালচে মতো কী ওটা? রক্তের দাগ না?

ফতুয়া আর লুঙ্গি পরা বনবিহারি দাঁতন করছিল নিমের ডাল দিয়ে। চন্দ্রচূড় দোতলার বারান্দা থেকে হাঁক দিয়ে বলল, বনবিহারিবাবু, শুনছেন? একটু দেখে যাবেন? কাঠের সিঁড়িতে কালচে রক্তের দাগ দেখছি। রক্তের দাগ কোত্থেকে এল?

দাঁতন বন্ধ করে মুখ তুলে চন্দ্রচূড়ের দিকে তাকাল বনবিহারি। তার খুব যে হেলদোল হল এমন মনে হল না। কুয়োতলায় গেল ধীর পায়ে হেঁটে। দড়ি দিয়ে বাঁধা লোহার বালতি নামিয়ে জল তুলল পাতকুয়ো থেকে। মুখ ধুয়ে নিল। খকখক করে কাশল। শব্দ করে কুলকুচি করল। যেন কিছুই হয়নি এমন একটা ভঙ্গিতে ধীরে-সুস্থে উঠে এল সিঁড়ি দিয়ে।

চন্দ্রচূড় এতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিল অধৈর্য হয়ে। বনবিহারি জিজ্ঞাসু মুখ করে তাকাল তার দিকে। বলল, কী হয়েছে?

চন্দ্রচূড় আঙুল উঁচিয়ে দেখাল জায়গাটা যেখানে রক্তের কালচে লাল দাগ। বলল, এটা কী?

বনবিহারি লুঙ্গির কষি বাঁধল। থকথকে রক্তের দলার মতো জিনিসটাকে নিরীক্ষণ করল নিচু হয়ে। চন্দ্রচূড়ের উত্তেজনায় ছাই ঢেলে দিয়ে বলল, ও কিছু না। কাল রাতে খৈরি হয়তো খরগোশ-টরগোশ জাতীয় কিছু একটা মেরে নিয়ে এসেছিল পাশের জঙ্গল থেকে। চন্দ্রচূড় অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে থাকল বনবিহারির দিকে। হাঁ হয়ে গিয়ে বলল, খরগোশ?

বনবিহারি নির্লিপ্ত গলায় বলল, মেছো বিড়ালও হতে পারে। এমন প্রায়ই নিয়ে আসে। খৈরি তো আর রাস্তার কুকুর নয়, ওর মধ্যে বুনো কুকুরের রক্ত আছে। শিকার করে খাবার জোগাড় করাই তো ওর অভ্যেস।