বিমর্ষ পাখির রঙে
আমি বিদ্রুপের হাসি হেসে বললাম, এত করে জানতে চাইছ যখন, বেশ, বলছি তবে। আচ্ছা জরি, তোমার আব্বার হার্টের সমস্যা হয়েছিল। ভেলোর থেকে অপারেশন করিয়ে আনা হয়েছিল। তখন কে জুগিয়েছিল টাকা? শুধু টাকা জোগানো নয়, সে সময়টায় আমি তোমার জন্য কতটা কী করেছি তুমি ভালো করেই জানা।
জরি বলল, আমি তো কখনও অস্বীকার করিনি সে কথা!
আমি কেঠো গলায় বললাম, তোমার আব্বাকে গোর দিয়ে আসার পর যখন তুমি ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছ তখন তোমার পাশে কে ছিল? আমি। তোমার আম্মির যখন ইন্তেকাল হল তখন তুমি বাঁচার জন্য লড়াই করছিলে তখন কে ছিল তোমার পাশে? আমি। সেদিন আমি যদি অর্থ দিয়ে তোমার পাশে না দাঁড়াতাম তবে তুমি ভেসে যেতে।
বিমর্ষ পাখির রঙ ধার নিয়েছে জরির মুখের অবয়ব। ক্লান্ত দুটো আয়ত চোখ। নিস্তেজ গলায় বলল, আমি জটিল হিসেব বুঝি না। আমি মূর্খের মতো ভেবেছিলাম আপনি একজন মানুষ হয়ে আর একজন জলে ডুবে যাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আপনার যে তলে তলে অন্য মতলব ছিল সেটা আমি বুঝতে পারিনি।
আমি তেতো গলায় বলল, তুমি মূর্খ মেয়েমানুষ! তোমার কথা আলাদা। কিন্তু আনিস তো তা নয়, ওর তো এই সহজ সরল কথাটা বোঝা উচিত ছিল।
আনিস ধীর গলায় বলল, তুমি তোমার আব্বার কথা বলতে। তুমি বলতে মানুষ হয়ে মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে তার চাইতে বেশি আনন্দ আর কিছুতে নেই।
তুমি ইদের সময় মসজিদের বাইরে সার দিয়ে বসা গরিব মানুষদের চার আনা, আট আনা বিলি করে আনন্দ পেতে। তুমি নিজেই সেসব কথা আমাকে বলেছ। সেই তুমি জরিকে যখন অর্থসাহায্য করছ তখন আমার ধারণা হয়েছিল যে, তুমি ঘুরিয়ে আমাকেই সাহায্য করছ। সবটাই বন্ধুত্বের কারণে।
বিশ্রী একটা গালি দিয়ে বললাম, নিকুচি করেছে চার অক্ষরের বন্ধুত্বের। শুনে রাখো আনিস, এই দুনিয়ায় স্বার্থ ছাড়া কেউ এক পা হাঁটে না। জরিকে আমি জয় করতে চেয়েছিলাম।
আনিস আমাকে দেখতে দেখতে বলল, তার মানে দাবার চালের মতো একটা একটা করে বোড়ে সাজিয়ে গেছ তুমি? জরিকে পাওয়ার জন্য?
আমি বললাম, হ্যাঁ তাই। তুমি মহা মূর্খ। একটা ওয়ার্থলেস নিনকমপুপ যদি ঘটে একটুও বুদ্ধি থাকত, তবে বুঝতে পারতে যে, আমি তোমার পাশে নয়, জরির পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তোমরা কেউ কিছু বুঝতেই পারোনি। কিংবা হয়তো বুঝেছ, কিন্তু নিজেদের মনকেই চোখ ঠেরে ছিলে।
জরি বলল, তার মানে যখন আমরা দুজন মহিষবাথান ছেড়ে পালালাম তখনই আপনার মাথায় পোকাটা নড়ে উঠল। আপনি ভাবলেন যে, আপনি যখন আমাকে পাননি তখন আর কেউ যেন না পায়!
আমি এতক্ষণ নিজেকে সংযত রেখেছিলাম। কপালের দু’দিকের রগদুটো দপদপ করছিল। আর পারলাম না। আমি গর্জে উঠে বললাম, সত্যিটাই যখন শুনতে চাইছ তখন সত্যিটাই বলব।
আমি ভেবেছিলাম, আমি যখন পাইনি তখন সিরাজুল তোমাকে পেলে কি আমার কষ্ট হবে না? নিশ্চয়ই হবে। খারাপ লাগবে না? আলবাত লাগবে। কিন্তু পাশাপাশি এটাও তো ঠিক যে, সিরাজুল ইসলামকে তো আমি সেভাবে চিনিই না। কাজেই তোমাকে না পাওয়ার যন্ত্রণা আমি সহ্য করে নিতে পারব। কিন্তু খোদার কসম, আনিস যেন তোমাকে না পায়!
আনিস ক্লান্ত গলায় বলল, আমার ওপর তোমার এত ঈর্ষা কেন জাফর? আমি তো তোমার ক্ষতি করিনি কখনও!
আমি বললাম, তুমি তলিয়ে বোঝার চেষ্টা করোনি, তাই বোঝোনি। মহিষবাথান হাটে আমরা একসঙ্গেই প্রথমবার দেখেছিলাম জরিকে। ওর ঘুগনি খেয়েছিলাম। আলাপ হয়েছিল ওর সঙ্গে। প্রতি সপ্তাহে হাটে যাওয়াটা ছিল বাহানা, জরির সঙ্গে দেখা করাটাই ছিল হাটে যাওয়ার আসল কারণ। সেই দিনগুলোর কথা কি ভুলে গেলে? তুমি একাই ওকে ভালোবাসোনি, আমিও ভালোবেসেছিলাম। সেই জরি তোমার বিবি হয়ে আমার চোখের সামনে চব্বিশ ঘণ্টা যদি থাকে সেটা আমি সহ্য করব কী করে!
জরি বলল, জাফর ভাই, আপনি কী বলছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছি না!
আমি হিসহিসিয়ে বললাম, আনিসের বিবি হয়ে তুমি যখনই আমার সামনে আসবে, ততবার আমি মনে মনে ভাবব, আনিস তোমার নরম শরীরটাকে কীভাবে প্রতি রাত্রে ছিঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে, কীভাবে রমণ করছে তোমাকে। আর কে সেটা করছে? যে তোমাকে আদৌ ডিজার্ভই করে না।
শোনো, আমি মহাত্মা নই জরি। আমি এমন একজন মানুষ যে হেরে যেতে শেখেনি। তোমাকে আনিস দখল করে নেবে, রাতের পর রাত সম্ভোগ করবে তোমাকে, সেটা আমি সহ্য করতে পারব না কিছুতেই। আনিসের কাছে আমি হেরে যেতে চাইনি।
জরির চোখে ফুটে উঠেছে ঘৃণা আর বিস্ময়। আমাকে দেখতে দেখতে ভারী একটা শ্বাস ফেলে বলল, হায় আল্লা!
আমি বললাম, শুরুতেই সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। বিবেকের টানাপোড়েন চলছিল ভেতরে। দিন সাতেক বাদে একদিন মনস্থির করে এক সন্ধের পর চুপিচুপি যাই তোমাদের বাড়ি। হর্ষ আর তরুণ জানে না সেসব
আমি তোমার ছোট চাচির সঙ্গে দেখা করি। জোগাড় করি সিরাজুলের ফোন নম্বর। তোমার চাচিকে বুঝিয়ে বলি সিরাজুলের লোক আমাদের অফিসে গোখাদ্য সাপ্লাই দেওয়ার জন্য টেন্ডার ফেলতে চাইছে। কয়েক লক্ষ টাকার টেন্ডার। মালের রেট কী হবে, কী কোয়ালিটির মাল সাপ্লাই দিতে হবে এসব ব্যাপারে সিরাজুলের সঙ্গে আমার সামনাসামনি কথা বলা দরকার।
আনিস বলল, তোমার কথায় কনভিন্সড হয়ে জরির চাচি তোমাকে সিরাজুলের ফোন নম্বর দিল?
আমি বললাম, হ্যাঁ দিল। আমাকে ভেবেছিল ঘুষখোর সুপারভাইজার। টু পাইস কামাবার ধান্দার জন্য সিরাজুলকে খুঁজছি। তোমার চাচি আমাকে ফোন নম্বর দিয়ে দিল। পরদিন আমি ফোন করলাম সিরাজুলকে। সে সময় ও মুসাফিরগঞ্জের বাইরে। এক সপ্তাহ বাদে আমাকে ওর কাছে যেতে বলল।
দিন সাতেক বাদে একদিন বাসে চেপে সন্ধের পর মুসাফিরগঞ্জ পৌঁছলাম। সিরাজুল ওই এলাকার বেতাজ বাদশা। কাজেই বাড়ি চিনতে অসুবিধে হল না। বাইরের ঘরে বসাল আমাকে। ওকে বললাম, আমি জানি কোথায় তোমরা লুকিয়ে আছ।
আনিস বলল, সিরাজুল তোমার কথা বিশ্বাস করল?
আমি বললাম, সিরাজুল আমাকে মাপল সরু চোখে। ঘর থেকে সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলল। বন্ধ ঘরে বললাম ওকে সব। সিরাজুল আমার কথা বিশ্বাস করল। চা-মিঠাই এল আমার জন্য। রাত হয়ে গিয়েছিল। বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে তখন। সিরাজুল নিজের গাড়িতে আমাকে পৌঁছে দিয়েছিল মহিষবাথানে।
জরি বলল, তারপর?
আমি বললাম, তারপর আর কী! তার ঠিক ক’দিন বাদে তাতাসি নদীর জলে ভেসে এল দুটো লাশ। ওই একবারই সিরাজুলের সঙ্গে মুখোমুখি কথা হয়েছিল। আর যোগাযোগ হয়নি। সিরাজুল আমাকে টাকা অফার করেছিল। আমি বলেছিলাম টাকার জন্য আমি বিশ্বাসঘাতকতা করছি না। আমার বেইমানির কারণ অন্য।
আমি ভেবেছিলাম সিরাজুল তোমাদের গর্ত থেকে টেনে বের করে জোর করে বিষ খাইয়ে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। এমনও হতে পারে, তোমরা সিরাজুলের হাত থেকে পালাতে পালাতে একসময় হাল ছেড়ে দিয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছ। এখন বুঝতে পারছি যেমন ভেবেছিলাম ঘটনাটা তেমন ঘটেনি।
জরি আর আনিস আমার দিকে হাঁ করে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেন আমি চিড়িয়াখানার জন্তু। জরি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, মুনকর আর নাকিব নামে দুই ফেরেশতা আছে। তাদের কী কাজ আপনি কি জানেন জাফর ভাই?
আমি বললাম, হঠাৎ মুনকর আর নাকিবের কথা উঠছে কেন?
জরি বলল, কারণ আছে বলে উঠছে। আপনি হয়তো জানেন। তবুও আমিই বলি, তাদের কাজ হল কবরে ঢুকে মৃতদের জেরা করা। মৃত্যুর মুখ কেমন হয় জানেন? আমি বলছি শুনুন। মৃত্যুর মুখ হল ধূসর।
আপনি কি জানেন, মালিক নামে আর এক ফেরেশতা আছে জাহান্নমের দায়িত্বে? আর আছে আজরাইল। এরা সকলেই মৃত্যুর দূত। যখন কারও সময় ফুরিয়ে আসে, তখন এরা খুঁজে খুঁজে বের করে তাকে। প্রয়োজনে মাটির নিচ থেকে তুলে আনে ওপরে।
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, ওসব ধর্মকথা আমাকে শুনিয়ে লাভ হবে না জরি। আমি যা চাই তা পাওয়ার জন্য সব কিছু করতে পারি। আনিস উঠে দাঁড়াল। নিস্তেজ গলায় বলল, এদিকে একবার আসবে জাফর? একটা জিনিস দেখাব তোমাকে।
পারভিনের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম উত্তেজনায়। এবার হাতঘড়িটা দেখে নিয়ে বললাম, নিশ্চয়ই দেখব। তবে পারভিন একা আছে গাড়িতে। ওকে নিয়ে আসি এখানে।
আনিস বলল, সে তো যাবেই। তার আগে এখানে এসো একবার। আনিসের গলায় শুধু অনুরোধ নয়, প্রচ্ছন্ন আদেশ ছিল। কথা না বাড়িয়ে আমি গিয়ে দাঁড়ালাম ওর পাশে। দূরের জঙ্গলের দিকে আঙুল উঁচিয়ে আনিস বলল, ওদিকে দ্যাখো।
ক্ষীণ চাঁদের আলোয় আবছা দেখাচ্ছে তাতাসি নদীটাকে। থোকা থোকা হাসনুহানা ফুটে আছে নদীর চরে। অশ্বত্থ বট জারুল গাছের দল বিশ্বস্ত রক্ষীর মতো দাঁড়িয়ে আছে নদীর ওদিকটায়। সাদা সাদা কাশফুল ফুটেছে। অপার্থিব এক সৌন্দর্যে ভেসে যাচ্ছে চরাচর। আনিস বলল, নদীর ওপারে হাসনুহানা ঝোপের আড়ালে ওই জোড়া ডুমুরগাছ দেখতে পাচ্ছ? ওই গাছের ডালে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলেছিল সিরাজুল।
আমার গায়ে কাঁটা দিল। ভয়টাকে গোপন করে দাঁতে দাঁত ঘষে বললাম, তুমি কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছ?
আনিস বলল, গত বছর আশ্বিন মাসের ঘটনা। ভোররাতে দুজন স্থানীয় জেলে নদীর এদিকটায় মাছ ধরতে গিয়েছিল। ওরাই জোড়া ডুমুরগাছে ঝোলা সিরাজুলের লাশটাকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ মার্ডারের কেস রুজু করেছিল প্রথমে। পলিটিকাল প্রেশার ছিল বলে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছিল, কিন্তু চার্জশিট তৈরি করতে পারেনি। যাদের ধরেছিল তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
আসলে কী জানো জাফর, সিরাজুলকে কেউ খুন করেনি। না তার নিজের দল, না তার প্রতিপক্ষ। আমি জানি তুমি আমার কথাটা বিশ্বাস করবে না। করার কথাও নয়। কিন্তু এটাই সত্যি যে, তার পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল বলে সে নিজেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল।
আমি ছিটকে সরে গেলাম। চোখ বিস্ফারিত করে বললাম, সিরাজুল আত্মহত্যা করতে যাবে কেন? ওর বয়স চল্লিশের অনেক কম। শরীর স্বাস্থ্য ভালো। লম্বা জীবন পড়ে ছিল ওর সামনে। টাকাপয়সার অভাব নেই। ওকে তো শুনেছি অন্য পার্টির লোক মার্ডার করেছিল। মহিষবাথানের সব লোক সেটা জানে। মেজোবাবুও সেটাই বলছিলেন।
আনিস বলল, মেজোবাবুর কথা বেশি না বলাই ভালো। সেই পুলিশ তো সিরাজুলের কাছ থেকে মাসোহারা নেয়। সিরাজুল রামপুরে হুমায়ূন ভাইয়ের কোয়ার্টারে লোক পাঠিয়েছিল। টের পেয়ে আমি আর জরি পালিয়ে গিয়েছিলাম গুয়াহাটি। ঘর ভাড়া নিয়েছিলাম পান্ডুতে। সেখানে অবধি পৌঁছে গিয়েছিল সিরাজুলের লোক। আমাদের দুজনের কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে মহিষবাথানে নিয়ে এসেছিল ওরা। সেসব কি তোমার মেজোবাবু জানে না ভেবেছ?
আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম, কী বলছ তুমি!
আনিস বলল, মেজোবাবুর কথা ছাড়ো, আমি সিরাজুলের ভাগ্যটার কথা ভাবি শুধু। সে শুধু শুধু আত্মহত্যা করতে যাবে কেন? কী জানো জাফর, আজরাইল হল মৃত্যুদূত। যার যখন সময় হবে আজরাইল তাকে খুঁজে বের করবেই। এই তোমার কথাই ধরো, এই যে তোমার সঙ্গে আমাদের দু’বছর পর অপ্রত্যাশিতভাবে এমন একটা পরিবেশে দেখা হয়ে যাবে সেটা কি তুমি কখনও ভাবতে পেরেছিলে?
মেরুদণ্ড দিয়ে ভয়ের স্রোত নেমে গেল আমার। কেউ কি কোনও ফাঁদ পেতে রেখেছে আমার জন্য? আমার জ্ঞানবুদ্ধির পরিধির বাইরে এসব কী ঘটছে? কিছুই ঠাহর করতে পারছি না। আমি উঠে দাঁড়ালাম। ধুকপুক করছে বুকের ভেতরটা। এক ছুটে বেরিয়ে এলাম বাইরে।
রাস্তায় জনপ্রাণী নেই। সবুজ অন্ধকার মেখে দাঁড়িয়ে আছে গাছগুলো। আমি হাঁফাচ্ছি। পেছন ফিরলাম। না, কেউ তাড়া করে আসছে না আমাকে। ফুসফুসে সাহসের হাওয়া ভরছি। পেছনদিকে ভিতু চোখে তাকালাম। আমার গায়ের সব রোম দাঁড়িয়ে গেল অজানা আতঙ্কে। বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে দেখি আমার পেছনে সাদা কাঠের বাড়িটা নেই। নেই মানে নেই! ভোজবাজির মতো উবে গেছে গোটা বাড়িটা! মনে হচ্ছে বাড়িটার অস্তিত্ব কখনও যেন ছিলই না এখানে।
