ক্যালকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার
পূর্বকথা
গ্রামের ছেলে নবকুমার ভাগ্যান্বেষণে মাস্টারদার সঙ্গে কলকাতায় এসেছিল। চিৎপুরের যাত্রাদলের পার্শ্ব-অভিনেতা মাস্টারদা। মাস্টারদা তাকে জানিয়েছিলেন, কলকাতা খুব খারাপ জায়গা, একটু অসতর্ক হলেই কুমিরের মতো গিলে ফেলবে।
যাত্রাদলের প্রম্পটারের চাকরি পেয়ে গিয়েছিল নবকুমার। থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল পাশের সোনাগাছিতে একজন প্রাক্তন যাত্রা-অভিনেত্রী শেফালি মায়ের বাড়িতে। শেফালি মা সোনাগাছিতে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন বটে, কিন্তু খুব শক্ত মনের মানুষ। সেখানেই ইতি নামের এক যৌনকর্মী, যে পরে ‘দুর্বার’-এ যোগ দেয়, নবকুমারের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল।
ভাগ্য নবকুমারকে চিৎপুর থেকে টালিগঞ্জের সিনেমাপাড়ায় নিয়ে যায় যাত্রাদলের মালিক বড়বাবু এবং তাঁর বিশেষ মহিলা মন্দাক্রান্তা-র অনুগ্রহে। তার যখন নায়ক হওয়ার বেশি দেরি নেই, তখনই ঘটনাটা ঘটে গেল। নবকুমার তার সোনাগাছির প্রিয় মানুষদের ভুলতে পারেনি—তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চেয়েছিল। এর পরিণতি এমন ভয়ংকর হয়েছিল যে, নবকুমার মানসিক অবসাদে ভেঙে পড়ে। অভিনয় করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলল সে।






Leave a Reply