ক্যালকাতায় নবকুমার – ১৭

সতেরো

নবকুমারের মনে এখন যে ছটফটানি, তা এতদিন ছিল না। কেবলই মনে হচ্ছিল, যদি লোকে তার নিন্দা করে, যদি কাগজে লেখা হয়, নবাগত নায়কের খারাপ অভিনয়ের জন্য ছবিটা বসে দেখা যায় না, তা হলে সে কী করবে? এই ব্যাপারটা নিয়ে সে কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে না। এই সিনেমা জগতের সবাই যে যার নিজেরটা নিয়েই ব্যস্ত। তাদের কারও কাছে গিয়ে বলাই যাবে না—আমার যদি বদনাম হয়, তা হলে কী করব? তবু তার মধ্যে শব্দযন্ত্রী অনুপ ঘোষকে একটু কাছের লোক বলে মনে হচ্ছিল। স্টুডিওতে তাকে দেখতে পেয়ে সে ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা করল—’আপনার তো অনেক অভিজ্ঞতা আছে, ”পদ্মপাতায় জল” সবাই দেখবে তো?’

‘না দেখার তো কোনও কারণ নেই!’ অনুপ ঘোষ নস্যি নিয়েছিল।

‘না, মানে, আমি তো নতুন!’ নবকুমার বলেছিল।

”’অপুর সংসার” যখন হয়েছিল, তখন তো সৌমিত্রদা নতুন ছিলেন। লোকে দ্যাখেনি? ”পলাতক”-এর আগে কেউ অনুপকুমারকে হিরো ভেবেছিল? ওসব নিয়ে তুমি ভেবো না। সবসময় এমন ভঙ্গি করবে, যেন তুমি একাই ফাটিয়ে অভিনয় করেছ। কলার তুলে ঘুরে বেড়াও।’ হেসেছিল অনুপ ঘোষ।

”পদ্মপাতায় জল” মুক্তি পাবে ঠিক তিন সপ্তাহ পরে। দক্ষিণ কলকাতার যে নামি প্রেক্ষাগৃহে ভালো ভালো বাংলা ছবি মুক্তি পায়, সেখানেই ইভনিং শো পেয়ে গিয়েছে ছবির প্রদর্শক। বাকি প্রেক্ষাগৃহগুলোতে রোজ তিনটে শো। এখন তার কিছুই করার নেই। বড়বাবুর সঙ্গে দেখা করে গ্রাম থেকে ঘুরে আসার অনুমতি চাইবে বলে যখন ভাবছে, তখনই মন্দাক্রান্তা-র ফোন এল। মোবাইল বাজতেই সে সাড়া দিয়েই শুনল—’কেমন আছ নবকুমার?’

গলার স্বরে আন্তরিকতা, খুশি হল সে। জিজ্ঞাসা করল—’ভালো। আপনি?’

‘আমি তো কখনও খারাপ থাকি না। সবরকম পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। শুনলাম কাল থেকে তোমাকে কলকাতার মানুষ দেখবে।’ মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘অবশ্য পোস্টারে।’

‘আমি জানি না।’

‘যাকগে, শেষ পর্যন্ত অভিনেতা হিসেবে তোমার যাত্রা শুরু হচ্ছে। কিন্তু আমি সেইজন্য এই ফোনটা করিনি। শেফালি মায়ের খবর তুমি জানো?’

‘উনি তো মানসিক হাসপাতালে আছেন।’ নবকুমার বলল।

‘ছিলেন। একসপ্তাহ আগে জেলে আনা হয়েছে।’

‘সে কী! কেন?’

‘ডাক্তাররা বলছেন, ওঁকে আর হাসপাতালে রাখার দরকার নেই।’

‘বাঃ। উনি তা হলে ভালো হয়ে গিয়েছেন?’

‘কতটা ভালো আমি জানি না। তবে আগের মতো স্বাভাবিক তো সহজে হতে পারবেন না। তুমি জানো কি জানো না, ওঁর হয়ে মামলা লড়তে আমরা ভালো উকিল দিয়েছি। ক’দিন পরেই আদালতে মামলা উঠবে। তা হলে এখন রাখি?’

‘একটা কথা। আমার তো এখানে কোনও কাজ এখন নেই। এইসময় আমি একটু গ্রাম থেকে ঘুরে আসতে চাই।’ নরম গলায় বলল নবকুমার।

‘এই ব্যাপারে মতামত দেওয়ার অধিকার তো আমার নেই।’ মন্দাক্রান্তা ফোন রেখে দিলেন।

কিন্তু বড়বাবুর মন আজ খুব ভালো ছিল। বললেন, ‘বেশ তো। কলকাতায় খামোকা বসে থেকে কী করবে! যাও বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে এসো। ছবিটা ভালোভাবে যাতে চলে, সেইরকম আশীর্বাদ চেয়ো। হ্যাঁ, যাওয়ার সময় অফিস থেকে টাকা নিয়ে যেয়ো। আমি বলে দিচ্ছি।’

এই অবধি বড়বাবু তাকে অভিনয়ের জন্য কী টাকা দিচ্ছেন, তা নিয়ে মোটেই মাথা ঘামায়নি নবকুমার। যা পাচ্ছে, তাতেই তার চলে যাচ্ছে। এর ওপর বিনা পয়সায় ভালো জায়গায়, একটা সুন্দর ফ্ল্যাটে থাকতে দিয়েছেন বড়বাবু। এটা কম কথা নয়।

অফিসে গিয়ে কুড়ি হাজার টাকা সই করে পাওয়া গেল। তা থেকে কিছুটা খরচ করতে হল মা-বাবার শাড়ি-পাঞ্জাবি কেনার জন্য। নামি দোকান থেকে দামি সন্দেশ কিনে ফ্ল্যাটে ফিরে এসে মুক্তো-র হাতে হাজারখানেক টাকা দিয়ে বলল, ‘আমি আজই গ্রামে যাচ্ছি। দিনকয়েক ওখানে থাকব। তুমি সাবধানে থেকো।’

‘সে কী! তুমি এইসময় গ্রামে চলে যাচ্ছ।’ মুক্তো অবাক।

‘এইসময় মানে?’ নবকুমার অবাক।

‘মন্দাক্রান্তাদির কাজের লোক এসেছিল। সে বলল, শেফালি-মা ভালো হয়ে গিয়েছেন। জেল থেকে ছাড়া পেতে পারেন। তাই, এইসময়!’

‘সেসব হতেও তো সময় লাগবে।’

‘তুমি শুনেছ?’

‘এতটা শুনিনি। শুনেছি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে জেলে আছেন।’

‘একথা তুমি আমাকে বলোনি কেন? ও, মাথার ওপর ভগবান আছেন। সত্যের জয় হবেই। শেফালি-মা তো ইতিকে খুন করতে চাননি। একজনকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন।’

‘যাকগে। তুমি এই ক’দিন ভালোভাবে থেকো।’ নবকুমার বলল।

ট্রেনে বসার জায়গা পেয়ে গেল নবকুমার। দুপুরের ট্রেনে ভিড় নেই। চেনা নামের স্টেশনগুলো দেখে বেশ আরাম হল তার। নবকুমার লক্ষ করছিল, কয়েকজন যাত্রী তার দিকে অদ্ভুত চোখে তাকাচ্ছে। দুজন ফিসফিস করছে। সে জানলার বাইরের পৃথিবীটাকে দেখতে লাগল একভাবে। তাদের নামের স্টেশনটা আসতেই তড়াক করে উঠে ব্যাগ নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে একজন জিজ্ঞাসা করল—’আচ্ছা, আপনি কি…!’

প্রশ্নটা শেষ করতে না দিয়ে থেমে যাওয়া টেন থেকে নেমে পড়ল সে। দ্রুত হেঁটে প্ল্যাটফর্ম পার হতে গিয়েও সে থমকে গেল। চেকারবাবু ধারেকাছে নেই। দূরে কালো কোট পরা লোকটাকে সে দেখতে পেল। একজন মুড়িওয়ালার সঙ্গে তর্ক করছে। সে কাছে গিয়ে বলল, ‘এই নিন, টিকিট।’ লোকটার মুখ হাঁ হয়ে গেল। একে আগে দ্যাখেনি সে।

বাইরে কয়েকটা রিকশাওয়ালা যাত্রী তুলছিল। একজন জিজ্ঞাসা করল—’কী গো, এখন রিকশায় উঠবে না কি? শুনেছি কলকাতায় নাম করেছ!’

উত্তর না দিয়ে সে চায়ের দোকানের সামনে চলে এল। রতন পিছন ফিরে চা বানাচ্ছিল। নবকুমার গম্ভীর গলায় বলল, ‘এককাপ চা পাব?’

‘দিচ্ছি।’ মুখ না ফিরিয়ে বলল রতন।

দুটো গ্লাসে চা বানিয়ে একটা আগের খদ্দেরকে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েই চিৎকার করল রতন—’আরে! তুমি? এই এলে?’

নবকুমার বলল, ‘গলা শুনে না হয় চিনতে পারিসনি, কিন্তু ”তুই” না বলে ”তুমি” বলছিস কেন?’ হঠাৎ দূরের মানুষ হয়ে গেলাম না কি!’

দোকান থেকে একটা নড়বড়ে চেয়ার বাঁ-হাতে টেনে বের করে রতন বলল, ‘বসো, বসো! তুমি এখন নামকরা লোক। আমাদের গর্ব। দাঁড়াও তোমারে নতুন করে চা বানিয়ে কাপে করে দিচ্ছি।’

‘ভ্যাট।’ নবকুমার ধমকাল—’তুই আরম্ভ করেছিস কী বল তো!’

‘পাঁচজনে বলছে। ওই তো, স্টেশনের বাইরের দেওয়ালে তাকিয়ে দ্যাখো।’

নবকুমার মুখ ঘোরাল—’আসছে, আসছে, ”শ্রীদুর্গা টকিজ”-এ আসছে ”পদ্মপাতায় জল”। নাম ভূমিকায় ঊর্মিলা, বিদিশা এবং নবাগত নবকুমার।’ তিনটে মুখ, দুজন মহিলার আর পুরুষটি যে সে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

হাত বাড়িয়ে গ্লাস টেনে নিয়ে চায়ে চুমুক দিল। নবকুমার—’আঃ! দারুণ চা। তারপর বল, কেমন আছিস?’

চোখ বড় করে রতন বলল, ‘সে কী! তুমি কি আগের মতো আছ?’

‘কেন থাকব না? আমার কি তিনটে হাত গজিয়েছে?’ বলতে বলতে নবকুমার দেখল পিছনে ভিড় জমছে। সবাই খুব কৌতূহলের চোখে তাকে দেখছে। তাড়াতাড়ি চা শেষ করে পকেটে হাত দিতে যাচ্ছিল সে, রতন গ্লাস নিয়ে বলল, ‘থাক। আমি দাম পেয়ে গিয়েছি।’

‘তার মানে?’

‘সিনেমার নায়ক হয়েও আমার সঙ্গে আগের মতো কথা বলছিস, এর চেয়ে বেশি আমি আর কী পেতে পারি! শোন গ্রামে হেঁটে যাস না।’

‘কেন?’

‘দেখছিস তো! তুই হেঁটে যাচ্ছিস খবর পেয়ে পাবলিক তোর মাথা খারাপ করে দেবে। দাঁড়া, এই রিকশা চটপট চলে এসো। দাদাকে চেনো? বাড়িতে পৌঁছে দাও। আর হ্যাঁ, ভাড়াটা আমার কাছ থেকে নিয়ে যেও। যা রে!’ রতন হাসল।

রিকশায় উঠল। খানিকটা যেতেই সে দূরে তাদের গ্রাম দেখতে পেল। গাছগাছালির আড়ালে দেখা যাচ্ছে বাড়িগুলোকে। দেখেই বুকে মায়া জমল। কীরকম কষ্ট কষ্ট সুখ বুকে টলমলিয়ে উঠল। পাশের মাঠে গরু চরছে। এখন চাষের সময় নয়। কোথাও একটুও শব্দ নেই। শহরের কান এখন খাঁ-খাঁ করছে। মনে হচ্ছে, কী নেই, কী নেই!

সামনে বেলগাছ। রাস্তার দু’ধারে দুটো। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই সে দেখে আসছে। সাদা ধুতির ব্রহ্মদৈত্যকে নাকি এই দুই গাছে অনেকে দেখেছে।

গ্রামে ঢুকে পড়ল সে। তাকে দেখে লোকজন অবাক চোখে তাকাচ্ছে। জনার্দন দৌড়ে এল—’আরে! তুই? গ্রামের কথা ভুলে যাসনি!’

‘তুই কি পাগল? যে গ্রামে জন্মেছি, তাকে কীভাবে ভুলে যাব?’ হেসে পালটা প্রশ্ন করল নবকুমার।

জনার্দন তাদের পাশের বাড়িতে থাকে। পড়াশোনা করতে চাইত না বলে ওর বাবা চাষের কাজে লাগিয়ে দিয়েছিল। জনার্দন বলল, ‘তুই খবরটা শুনেছিস?’

‘কোন খবর?’

‘আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে।’ জনার্দন লজ্জা লজ্জা মুখ করল।

‘সে কী রে!’ চোখ বড় করল নবকুমার।

পাশ থেকে একজন বলল, ‘ওর বউ বাপের বাড়িতে গিয়েছে। বাচ্চা হবে।’

‘অ্যাঁ!’

জনার্দন জিজ্ঞাসা করল—’তুই এখন কত টাকা রোজগার করিস?’

‘খুব কম।’

‘মিথ্যে কথা। সিনেমার নায়করা কোটি কোটি টাকা রোজগার করে। তোর সঙ্গে পরে কথা বলব। ক’দিন থাকবি?’

‘দেখি!’

বাড়ির সামনে এসে বাবাকে দেখতে পেল সে। দেখে অবাক হল। এইসময় বাবা ধুতির ওপরে বড়জোর গেঞ্জি পড়ে থাকত। এখন ফুলহাতা শার্ট পরে আছে। রিকশা থেকে নেমে বাবাকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করল সে। বাবা বলল, ‘থাক, থাক। ভালো হোক। এসো।’

ব্যাগ নিয়ে উঠোনে পা দিল নবকুমার। বাবার পাশে হেঁটে। বাবা গলা তুললেন—’শুনছ! নব বাড়ি এসেছে।’

সঙ্গে সঙ্গে শোয়ার ঘর থেকে ভেতরের বারান্দায় চলে এল মা। মাকে খুব রোগা দেখাচ্ছে। নবকুমার দ্রুত কাছে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরল। সেই অবস্থায় মা হঠাৎ ডুকরে কেঁদে উঠল। মায়ের মাথা বুকে চেপে ধরে নবকুমার নীচু গলায় বলল, ‘কেঁদো না। আমি তো এসে গিয়েছি!’

বাবার গলা কানে এল—’আরে! এখন যাও তোমরা। ছেলেটা বাড়িতে এসেছে, এখন যাও। পরে তো দেখতেই পাবে।’

মা বলল, ‘আমি ভেবেছিলাম তোকে আর কখনও দেখতে পাব না।’

‘এরকম ভাবলে কেন?’ মায়ের চোখ থেকে জল মুছিয়ে দিল নবকুমার।

‘সবাই বলে তুই নাকি খুব বড়লোক হয়ে গিয়েছিস। তোর চারপাশে সব ডানাকাটা সুন্দরী ভিড় করে থাকে। একজন তো বলে গেল তুই লুকিয়ে বিয়ে করেছিস। তোর বউ আর তোকে আমাদের কাছে আসতে দেবে না।’—জোরে শ্বাস নিল মা—’শুনে বুক হু-হু করে উঠত রে!’

‘সব বাজে কথা মা। আমি যেমন ছিলাম তেমন আছি।’

বাবা বলল, ‘বাজারের থলেটা দাও। সন্ধে হয়ে আসছে। এরপরে বাজারে গেলে কিছুই পাওয়া যাবে না।’

‘এখন বাজারে যাবে কেন? এইসময় তো কখনও বাজারে যেতে না!’ নবকুমার জিজ্ঞাসা করল।

মা বলল, ‘এতদিন পরে এলি। ঘরে তো মাছ-মাংস নেই।’

হেসে ফেলল নবকুমার। বলল, ‘আমি না এলে তোমরা তো নিরামিষ খেতে, তাই না? তোমরা যদি তা খেতে পারো, তা হলে আমি পারব না বলে মনে হচ্ছে কেন? বাবা, তোমাকে এখন কোথাও যেতে হবে না।’

মা বলল, ‘বেশ! তুই জামা-প্যান্ট ছেড়ে হাত-মুখ ধুয়ে নে। আমি চা বানাচ্ছি।’

একটু আগে চা খেয়েছে, তবু আপত্তি করল না নবকুমার। বলল, ‘একটু চিঁড়ে ভেজে দেবে? অনেকদিন খাইনি।’

পাজামা আর গেঞ্জি পরে চা খেতে খেতে, ওদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ব্যাগ থেকে বের করে আনা শাড়ি-পাঞ্জাবির প্যাকেট এগিয়ে দিল সে।

মা বলল, ‘কী এনেছিস রে?’

‘খুলেই দ্যাখো।’

প্যাকেট খুলতেই প্রথমে পাঞ্জাবি আর ধুতি বের হল। মা বলল, ‘বাহ, কী সুন্দর পাঞ্জাবি! তোর বাবার জন্য?’

মাথা নেড়েই ‘হ্যাঁ’ বলল নবকুমার।

বাবা বলল, ‘মনে হচ্ছে দামি জিনিস। কেন আনতে গেলি? এসব পরার কি বয়স আছে? তা ছাড়া পরবই বা কোথায়?’

মা বলল, ‘পুজোর সময় পোরো। না, না, ”শ্রীদুর্গা টকিজ”-এ যেদিন নব-র সিনেমা দেখতে যাবে, সেদিন পরবে।’ দ্বিতীয় প্যাকেট খুলে মা অবাক হয়ে তাকাল—’এই শাড়ি কি তুই নিজে কিনেছিস?’

‘বারে! আর কে কিনবে?’

‘তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে?’

‘তার মানে?’

‘এই রঙের শাড়ি পরার বয়স আমার আছে?’

‘আশ্চর্য! তোমার চেয়ে দশ-পনেরো বছর বড় মহিলারা এর চেয়ে চড়া রঙের শাড়ি কলকাতায় পরে।’

‘এটা পাড়া-গাঁ। কলকাতা নয়।’

বাবা বলল, ‘আচ্ছা, এনেছে যখন…!’

মা হাসল—’এখন ফিরিয়ে দেব না। রেখে দেব।’

‘রেখে দেবে মানে?’ বাবা একটু অবাক হল।

‘নব-র বউকে দেব। সে পরবে।’ মা বলল, ‘তোর রোজগার ঠিকঠাক হলে নিশ্চয়ই বিয়ে করবি। এই যাঃ, আমি আসছি।’ মা প্রায় দৌড়ে চলে গেল রান্নাঘরে।

সেদিকে একটু তাকিয়ে নবকুমার বাবাকে জিজ্ঞাসা করল—’বাবা, মায়ের শরীর এখন কেমন আছে?’

‘ভালো না রে। প্রায়ই পেটে ব্যথা হচ্ছে। হোমিওপ্যাথি ওষুধে কাজ হচ্ছে না। বারংবার তো সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায় না!’

‘দারকার নেই। আমি মাকে কলকাতার বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে চাই।’ বেশ জোরের সঙ্গে বলল নবকুমার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *