ক্যালকাতায় নবকুমার – ১৬

ষোলো

কিছুতেই ঠোঁট মিলিয়ে সংলাপ বলতে পারছিল না নবকুমার। ডাবিং করতে এসে পর্দায় নিজেকে দেখে কীরকম নার্ভাস হয়ে যাচ্ছিল সে।

গীতিময় বললেন, ‘শেষ পর্যন্ত ধ্যাড়াতে শুরু করলে! আরে, সবকিছু ঠিকভাবে করতে হলে শিক্ষা দরকার হয়। যে কখনও জল দ্যাখেনি, তাকে যদি বলা হয় সাঁতার কাটো, তা হলে সে কি পারবে? বড়বাবু ভাবলেন, হিরো করা যায়, কিন্তু গাধা পিটিয়ে আমি হয়তো গরু করতে পারি, ঘোড়া করার ক্ষমতা আমার নেই।’

সাউন্ড রেকর্ডিস্ট অনুপ ঘোষ বলল, ‘তেমন বুঝলে অন্য কাউকে দিয়ে ডাব করিয়ে নিন। ভালো ডাব করবে, এমন পাবলিক অনেক আছে।

‘আউটডোরের সঙ্গে ইন্ডোরের গলা মেলাবে কী করে?’

গীতিময় চিন্তিত।

অনুপ বলল, ‘তা হলে ওকে দিয়েই চেষ্টা করুন। শিফট বাড়বে এই যা। আপনি কী করতে পারেন।’

কথাগুলো নবকুমারের কানে যাচ্ছিল। নিজের অক্ষমতার জন্য সে আরও সংকোচে পড়ছিল। শুটিং-এর সময় ক্যামেরার সামনে তো সংলাপ বলতে তার তেমন অসুবিধে হয়নি। তখন এই গীতিময়দা খুব প্রশংসা করছিলেন। এখন ছবি দেখে কথা বলতে সে ঠিকঠাক পারছে না কেন?

এইসময় প্রোডাকশন ম্যানেজার ঘরে ঢুকে গীতিময়কে বলল, ‘বিদিশাদি এসে গিয়েছে. ভেতরে আসতে বলব?’

‘কখন আসতে বলেছিলে?’

‘এইসময়ই বলেছিলাম। আপনি বলেছিলেন, আগে নবকুমারের সোলো নিয়ে নেবেন, তাই।’ প্রোডাকশন ম্যানেজার বলল।

‘নিয়ে এসো!’ গীতিময় অনুপ ঘোষকে বললেন, ‘নবকুমার থাক, আগে বিদিশা-র সংলাপ নিয়ে নাও। নবকুমার, তুমি লক্ষ করো বিদিশা কীভাবে সংলাপ বলছে। ও একদম নিখুঁত করে। অন্তত দেখেও শিখতে পারবে।’

বিদিশা ঘরে ঢুকে হেসে বলল, ‘গুড মর্নিং সবাইকে।’

‘গুড মর্নিং।’ গীতিময় বললেন, ‘তবে আমাদের ভালো হয়নি। নবকুমার ডাবিং-এ ডোবাচ্ছে। লিপ মিলছে না। অ্যাকসেন্টও না।’

‘সে কী! যাঃ!’ বিদিশা নবকুমারের দিকে তাকাল—’কী সমস্যা হচ্ছে?’

‘আমি বুঝতে পারছি না।’ নবকুমার অপরাধীর গলায় উত্তর দিল।

বিদিশা এগিয়ে গিয়ে নবকুমারের পাশের চেয়ারে বসল—’আপনি যেভাবে আউটডোরে সংলাপগুলো বলেছিলেন, তা কি মনে আছে? না থাকলে হেডফোনে শুনে নিন। মনে পড়ে যাবে।’

অনুপ ঘোষ বলল, ‘আউটডোরের ডায়লগগুলোর সাউন্ড ভালো নেই।’

‘আছে তো! অনুপদা, তুমি রেকর্ড চালাও, আমরা শুনি। আমাকে কেউ একটা হেডফোন দাও তো!’ বিদিশা হাত বাড়াল। সেটা পাওয়ার পর সে নবকুমারকে বলল, ‘আপনিও শুনুন। ছবি চললে দেখুন ধরতে পারেন কি না।’

আউটডোরে তোলা দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। সে হেঁটে যাচ্ছে কিন্তু অদ্ভুত আওয়াজ ঢুকছে কানে। গীতিময়দার গলা বুঝতে পারল। নির্দেশ দিলেন—’সোজা ওপরের দিকে হেঁটে এসো। ক্যামেরার দিকে তাকাবে না।’

এতক্ষণ এই দৃশ্যটা তাকে দেখানো হয়নি। গীতিময়দার গলা শোনামাত্র মনে পড়ে গেল নবকুমারের। পর্দার নবকুমার দাঁড়াল। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিকে জিজ্ঞাসা করল—’এই রাস্তা কোনদিকে গিয়েছে?’

পর্দার ছবি স্থির হল। বিদিশা বলল, ‘আপনি যেভাবে কথা বলেন, সেইভাবেই বলুন। ঠিক ম্যাচ করে যাবে।’

অনুপ ঘোষ বলল, ‘রেডি? একটু আগে থেকে চালাচ্ছি। ঠোঁটের মুভমেন্ট দেখে নাও ভাই, পরেরবার ডায়লগ বলবে।’

এবার শব্দহীন ছবি চলছে। সে দাঁড়িয়েছে, ঠোঁট নড়ছে তার, কিন্তু কথা শোনা যাচ্ছে না। অনুপ ঘোষ জিজ্ঞাসা করল—’ওকে? এবার যাচ্ছি।’

আবার একটু পিছিয়ে ছবি শুরু হল। তার ছবি দাঁড়িয়ে মুখ খুলতেই সে সংলাপটা বলল, ‘এই রাস্তা কোনদিকে গিয়েছে?’

রেকর্ডের সংলাপ সমেত ছবিটা চালাতেই গীতিময় চেঁচিয়ে উঠলেন—’বাঃ! চমৎকার! দারুণ মিলে গিয়েছে। এতক্ষণ কোথায় ছিলে চাঁদ?’

অনুপ ঘোষ বলল, ‘বিদিশাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। ও আসায় নবকুমার ইন্সপায়ার্ড হয়েছে। চলো, নেক্সট সিন—!’

এতক্ষণ গাড়ি চালু হচ্ছিল না। চালু হতেই থার্ড গিয়ারে পৌঁছে গেল। প্রতিটি সংলাপই নবকুমার একবারে ডাব করতে পারছিল। কোনও-কোনওটা দুবারে। অনেকটা কাজ করার পর গীতিময় লাঞ্চ ব্রেক দিলেন। পাশের ঘরে খাবার দেওয়া হল। গীতিময় সেখানে গিয়ে বিদিশাকে জিজ্ঞাসা করলেন—’ম্যাজিকটা কী বলো তো?’

‘বুঝলাম না।’ বিদিশা হাসল।

‘আরে, তুমি আসার আগে ওর ওরাল অ্যাক্টিং দেখে আমার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তুমি এসে কী মন্ত্র যে পড়লে, ও একদম উৎপল দত্ত-র মতো ডাব করে দিল!’ গীতিময় বললেন।

‘উৎপল দত্তকে ছবিতে দেখেছি, ওঁর সঙ্গে অভিনয়ের বয়স আমার ছিল না। অভিনয়ের তো তুলনা হয় না। একবারেই ডাব করে দিতেন?’

‘একদম। তবে কোনও কোনও বড় অভিনেতা, যিনি ক্যামেরার সামনে দারুণ, কিন্তু ডাবিং-এর সময় অস্বস্তিতে পড়তেন। সময় নিতেন, কিন্তু সেটাও খুব ভালো করতেন।’ গীতিময় বললেন।

‘যেমন?’ বিদিশা জিজ্ঞাসা করল।

‘ধরো, ছবি বিশ্বাস।’

‘কার নাম বলছেন আপনি? ওঁর মতো বড় মাপের অভিনেতা তো এদেশে জন্মায়নি। ওঁরও অসুবিধে হত?’

‘মাঝে মাঝে?’ গীতিময় বললেন, ‘তুমি কাজটা উদ্ধার করতে ওই ছোকরাকে সাহায্য করলে ভালো হয়। আরে হ্যাঁ, তুমি নাকি আর ড্রিঙ্ক করছ না!’

চোখ ছোট করল বিদিশা—’আপনাকে কে বলল?’

‘খবর কি চাপা থাকে? হাওয়ায় ভেসে আসে।’

‘হ্যাঁ, কিন্তু সেটা খারাপ খবর। অন্যের ভালো খবর কেউ গাল ফুলিয়ে বলে বেড়ায় না।’ বিদিশা বলল।

গীতিময় হাসলেন—’নাম বলব না। একজন অভিনেতা তোমাকে ফোন করে কোন ক্লাবে সন্ধের পরে ইনভাইট করেছিল—তুমি যেতে চাওনি কারণ, ক্লাবে গেলে ড্রিঙ্ক করতে অনুরোধ করা হবেই, যেটা করা তুমি একদম ছেড়ে দিয়েছ। তা সেই অভিনেতা আক্ষেপ করে বলেছিল, সবাই সন্ন্যাসী হয়ে যাচ্ছে দাদা!’

বিদিশা বলল, ‘সন্ন্যাসী হওয়া সহজ কথা নয়।’

‘শরীরের জন্যে ছাড়লে?’ গীতিময় জিজ্ঞাসা করলেন।

‘না। মনের জন্যে। মন আর চাইল না।’

‘কিছু মনে কোরো না, তোমার ব্যক্তিগত সমস্যা কী অবস্থায় আছে?’

‘আর নেই। সমাধান হয়ে গিয়েছে।’ বিদিশা বলল।

ওপাশে নবকুমার একাই লাঞ্চ করছিল। তার পাশে এসে বসল অনুপ ঘোষ। অনুপ ঘোষ জিজ্ঞাসা করল—’অন্য কোনও ছবির অফার পেয়েছ?’

একটু সময় নিল বুঝতে, নবকুমার মাথা নাড়ল—’না।’

‘তোমাকে কি বড়বাবু এক্সক্লুসিভ করে রেখেছেন?’

‘মানে?’

‘ওঁর ছবির বাইরে অন্য কোনও ছবিতে অভিনয় করতে পারবে না বলে চুক্তিতে সই করিয়েছেন?’ অনুপ ঘোষ জিজ্ঞাসা করল।

‘না তো!’

‘আমি তোমাকে বলছি, এই ছবি রিলিজ করলে তোমাকে অনেক পরিচালক নায়ক হিসেবে চাইবেন। তবে তুমি কখনওই স্মার্ট, শহরের আধুনিক ছেলের চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হোয়ো না। উত্তমকুমারের ‘শুন বরনারী’ দেখেছ?’

‘না।’ এবার হাসল নবকুমার।

‘সাবধান, কোনও মেয়ের চক্করে পোড়ো না। তা সে বাইরের হোক আর ফিল্মের হোক। আগে কেরিয়ার তৈরি করো, পরে তো সব রইল।’ খাওয়ায় মন দিল অনুপ ঘোষ।

নবকুমার তাকাল। দূরের টেবিলে বসে বিদিশা খাচ্ছে। পাশে গীতিময়দা। লাঞ্চে এসে বিদিশা একবারও তার সঙ্গে কথা বলেনি। বোঝা যাচ্ছে, ইচ্ছে করেই দূরত্ব রাখছে। এটাও শেখার বিষয়।

লাঞ্চের পর আবার কাজ শুরু হল। এবার সেই দৃশ্য, যেখানে পাহাড়ি পথ দিয়ে নবকুমার ওপরে উঠে আসছে। একটা কুকুর ওপাশের বাড়ি থেকে বেরিয়ে তার পিছন পিছন দৌড়ে আসছে। আশেপাশে প্রচুর শব্দ হওয়া সত্ত্বেও কুকুরের ডাকটা শোনা যাচ্ছিল। গীতিময়ের গলা শোনা গেল—’কুকুরের ডাকটা পরে বসিয়ে দিও!’

অনুপ ঘোষ বলল, ‘ওকে!’

এবার আর সংলাপ বলতে অসুবিধে হল না। তারপর এল সেই দৃশ্য, যেখানে বিদিশা তাকে সশব্দে চুম্বন করছে।

গীতিময় বললেন, ‘বিদিশা, খুব জোরে চুমু খাওয়ার শব্দ করো। এটা ব্ল্যাঙ্ক ফ্রেমে নিয়ে নিচ্ছি, পরে বসিয়ে দেব।’

‘খুব জোরে মানে?’

‘শুটিং-এর সময় যে শব্দ হয়েছিল, তার থেকে একটু জোরে।’

‘সেটা ভালো লাগবে?’

‘আরে, জোরে মানে কি চিৎকার করে! একটু উঁচু স্কেলে, যা কানে গেলে দর্শক শিহরিত হবে। বুঝতে পারলে?’

‘না, পারছি না। একটু দেখিয়ে দিন।’

‘আমি দেখিয়ে দেব?’ গীতিময় হতভম্ব।

‘না দেখালে শিখব কী করে?’

গীতিময় হাসলেন—’ঠিক আছে। তুমি শুটিং-এর সময় যা করেছিলে, সেটাই করো, শুধু আওয়াজটা একটু রোম্যান্টিক।’

‘সেন্সর বোর্ড রাখতে দেবে না।’ বিদিশা বলল।

‘ওটা আমাকে ভাবতে দাও। তুমি নবকুমারকে চুমু খাওয়ার পর আমি আকাশ দেখাব, আর শব্দটা সেই আকাশে ছড়িয়ে দেব। সেন্সর কিছু বলবে না।’

অনুপ ঘোষ চেঁচাল—’যাচ্ছি!’

নবকুমার বিদিশাকে দেখছিল। বিদিশা চোখ বন্ধ করল। একটু সময় নিল। তারপর ঠোঁটে আওয়াজ করল। শব্দটা অদ্ভুত মাদকতা ছড়াল। সঙ্গে সঙ্গে হাততালি দিলেন গীতিময়। বললেন, ‘অনবদ্য। থ্যাঙ্ক ইউ বিদিশা।’

ছবি ফুটে উঠল সামনে। পরের সংলাপে যাওয়ার সময় অনুপ ঘোষ চিৎকার করলেন—’আরে, আরে, এটা কী বলছে নবকুমার?’

গীতিময় বললেন, ‘এখানে তো ওর কোনও সংলাপ নেই!’

‘কিন্তু ঠোঁট যেন নড়ল।’ অনুপ ঘোষ বলল।

‘না, না। দ্যাখো, সিনটা রিটেক করা হয়েছিল।’

হঠাৎ পাশে বসা বিদিশা নবকুমারের দিকে তাকিয়ে হেসে জিজ্ঞাসা করল—’তখন কী বলেছিলে, মনে আছে?’

নবকুমার নীরবে মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বলল।

বিদিশা বলল, ‘ভাগ্যিস বলেছিলে। ওইসময় যখন তোমার মনে কথাটা এল এবং তুমি বলতে পারলে, তখন আমি খুব নাড়া খেয়েছিলাম। সেটাই সাহায্য করেছিল সিদ্ধান্ত নিতে। এই যাঃ, আবার ”তুমি” বলে ফেললাম! ঠিক আছে, এখন থেকে ”তুমি”ই চলুক, আমাকেও ”তুমি” বলবে, কেমন!’

পরের দিন ঊর্মিলা-র সঙ্গে সংলাপগুলো বলতে হল। ডাব করতে এসে ঊর্মিলা এমনভাবে কথা বলতে লাগল, যেন গতকালও তাদের দেখা হয়েছিল। এসেই প্রায় গলা ফুলিয়ে বলল, ‘বারে বা, কলকাতায় এসে আমায় ভুলে গেলে?’

‘আমি ভুলে গেলাম?’ অবাক হল নবকুমার।

‘নয়তো কী! বাড়িতে গিয়ে দেখা করা দূরের কথা, একটা ফোনও তো করোনি! অথচ দার্জিলিং-এ কী বন্ধুত্ব করেছিলে!’

‘আপনিও তো যোগাযোগ করেননি।’

‘কী করে করব? শুনলাম, বড়বাবুর গেস্ট হাউজে থাকা হয়। যদি মন্দাক্রান্তা রাগ করে তা হলে? তোমাকে বিপদে ফেলতে চাইনি। এই দ্যাখো, তুমি আমাকে ”আপনি” বলছ? দূরত্ব কে রাখছে!’ কাঁধ নাচাল ঊর্মিলা।

নবকুমার কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তাকে সুযোগ না দিয়ে ঊর্মিলা চলে গেল গীতিময়ের কাছে—’গীতিদা, আমাকে তিনটের মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে।’

‘সে কী! কেন?’ গীতিময় গম্ভীর।

‘আর বলবেন না! জগুদা শুটিং রেখেছে। কিছুতেই ছাড়ছে না।’ ঊর্মিলা বলল।

‘কিন্তু তুমি আমাদের ফুল ডেট দিয়েছিলে!’ গীতিময় বললেন।

‘প্লিজ, গীতুদা, আপনি খুব ভালো, আমার ওপর রাগ করবেন না! আচ্ছা!’

তিনটের সময় চলে গেল ঊর্মিলা। যাওয়ার আগে নবকুমারের সঙ্গে কথা বলতে ভুলে গেল। অনুপ ঘোষ জিজ্ঞাসা করল—’কিছু বুঝলে ভাই?’

নবকুমার মাথা নাড়ল—’না।’

‘শোনো, কলকাতায় তো বটে, এই ফিল্মলাইনে টিকে থাকতে হলে, যা দেখবে, শুনবে এবং করবে, তা করতে হলে হৃদয়টাকে একদম বন্ধ রাখতে হবে। যা করবে, তা শুধু বুদ্ধি দিয়েই করতে হবে। কোনও কিছুকেই এককথায় বিশ্বাস করবে না। যা বলবে, তার মানে যেন দুরকম হয়। তা হলেই বেঁচে থাকতে পারবে। এই যে দ্যাখো, ঊর্মিলা এসেই তোমাকে যেভাবে কথাগুলো বলল, তাতে তোমার মনে হতেই পারে, ও যেন তোমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। কিন্তু যাওয়ার সময় তোমাকে খেয়ালই করল না। ওই এক কথা বেচারাকে দিনে হয়তো অনেককেই বলতে হয়। মাথায় কিছু ঢুকল।’ অনুপ ঘোষ হাসল।

‘ঢোকানোর চেষ্টা করছি।’ নবকুমার বলল।

‘আরে, এ যে দেখছি মেঘ না চাইতেই জল।’

‘কীরকম?’

‘তুমি বললে না বুঝিনি বা বুঝেছি, বললে চেষ্টা করছি। অর্থাৎ জলে নামলে কিন্তু বেশি ভেজালে না। আমার কথা শুনে এত তাড়াতাড়ি রাস্তাটা চিনে নেবে, তা ভাবিনি। চালিয়ে যাও ভাই।’ অনুপ ঘোষ মুখ ঘোরাল।

ছবিতে তার কাজ শেষ। এখন শুটিং-পরবর্তী কাজ চলছে। সামনের পুজোয় ছবি মুক্তি পাবে। এডিটিং দেখতে গিয়েছিল নবকুমার। গীতিময় হাসিমুখে বললেন, ‘ছবির নাম জেনেছ?’

‘না।’ নবকুমার বলল।

‘ ”পদ্মপাতায় জল”।’

গীতিময় জিজ্ঞাসা করলেন—’কীরকম লাগছে?’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *