ক্যালকাতায় নবকুমার – ২৫

পঁচিশ

হতভম্ব হয়ে গেল নবকুমার। যা শুনল তা বিশ্বাস করতে অসুবিধে হল। সে বেশ উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল—’কী বলছ তুমি? মায়ের অ্যাকাউন্টে দু’লক্ষ টাকা জমা পড়েছে!’

মাথা নাড়ল বাবা। তারপর বলল, ‘তুই এমনভাবে জিজ্ঞাসা করছিস যেন এই ব্যাপারে কিছুই জানিস না। আমি বা তুই জমা না দিলে ওই টাকা কি ভগবান এসে জমা দিয়ে গিয়েছে?’

বাবার কথা শেষ হওয়ামাত্রই নবকুমার প্রায় দৌড়ে রিসেপশনে চলে এল। সেখানে তখন বেশ ভিড়। কথা বলার সুযোগ পেতে মিনিট দশেক অপেক্ষা করতে হল। তার প্রশ্ন শুনে রিসেপশনিস্ট কম্পিউটার দেখলেন। দেখে মাথা নাড়লেন—’হ্যাঁ। দু’লক্ষ টাকা ক্যাশে জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ভর্তির সময় কিছু অ্যাডভান্স করা হয়েছিল।’

‘কে জমা দিয়েছে বলতে পারবেন?’

‘না। পেশেন্টের নামেই রশিদ দেওয়া হয়েছে।’ বলতে বলতে মুখ-চোখে বিস্ময় ফুটে উঠল মহিলার—’এক্সকিউজ মি, আপনি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, তাই না?’

‘হ্যাঁ!’

‘এই টাকার ব্যাপারে কোনও সমস্যা হয়েছে?’

‘আমি ঠিক বুঝতে পারছি না—কে টাকাটা জমা দিল!’

‘ঘণ্টা দেড়েক আগে একজন এসেছিল। আপনি ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে খোঁজ করুন, ওরা যদি কিছু বলতে পারে। আপনি যান, আমি ফোন করে দিচ্ছি।’

ক্যাশ কাউন্টারের মহিলার কাছে পৌঁছে নবকুমার বুঝতে পারল, তিনি ইতিমধ্যে ফোন পেয়ে গিয়েছেন। ভদ্রমহিলা বললেন, ‘হ্যাঁ বলুন।’

‘আমার মায়ের নামে দু’লক্ষ টাকা আজ জমা পড়েছে।’

‘হ্যাঁ। জানি! একহাজার টাকার দু’শোটা নোট। আপনার মা ডক্টর নন্দীর পেশেন্ট।’

‘হ্যাঁ।’

ভদ্রমহিলা অযত্নে পড়ে থাকা একটা প্যাডের ছেঁড়া পাতা তুলে এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘যিনি টাকা জমা দিয়েছেন, তিনি পেশেন্টের নামটা না বলে এই কাগজটা টাকার সঙ্গে দিয়েছিলেন।’

কাগজ দেখে হতভম্ব হয়ে গেল নবকুমার। কাগজে মায়ের নামটা তার হাতেই লেখা রয়েছে। তলায় বড় বড় অক্ষরে অন্য কেউ লিখেছে—পেশেন্ট অফ ডক্টর কে. নন্দী। সঙ্গে সঙ্গে সব পরিষ্কার হয়ে গেল। বড়বাবু একটা প্যাড এগিয়ে দিয়ে তাকে মায়ের নাম লিখতে বলেছিলেন। সে লিখে দিয়েছিল। কিন্তু তিনি যে লোক পাঠিয়ে মায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেবেন, তা সে কল্পনাও করতে পারেনি।

নবকুমার মাথা নাড়ল—’তা হলে ঠিক আছে।’

‘আপনি ”পদ্মপাতায় জল”-এর নায়ক! পোস্টারে আপনার ছবি দেখেছি। এর পরে আর কী কী ছবি করছেন?’

‘জানি না।’ সরে এল নবকুমার। তার মায়ের ব্যাপারটা কিছুতেই পরিষ্কার হচ্ছিল না। যে বড়বাবু সবসময় তেতো মুখে তার সঙ্গে কথা বলেছেন, প্রায় চাকরবাকরের মতো ব্যবহার করেছেন, তিনি তাকে না জানিয়ে মায়ের অপারেশনের জন্য টাকা জমা দেবেন কেন? এরকম কেউ করে বলে সে কখনও শোনেনি।

নবকুমার মুখ ফিরিয়ে বাবাকে দেখতে পেল। খানিকটা দূরে শুকনো মুখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সে কাছে গিয়ে বলল, ‘চিন্তা করার কিছু নেই। আমি যে সিনেমায় অভিনয় করছি, তার প্রযোজক টাকাটা লোক দিয়ে জমা করিয়েছেন।’

‘তাতে তাঁর কী স্বার্থ?’

আজকাল চটপট একটু-আধটু মিথ্যে বলতে পারে নবকুমার। হেসে বলল, ‘ওঁর স্বার্থ হল, আমাকে পরের ছবিতে অভিনয় করার জন্য টাকাটা অগ্রিম দিয়ে রাখলেন, যাতে অন্য কারও ছবিতে আমি অভিনয় না করি।’

‘দু’লক্ষ টাকা তুই একটা ছবিতে অভিনয় করার জন্য পেয়েছিস?’

‘এর বহুগুণ বেশি টাকা প্রতিষ্ঠিত নায়করা পেয়ে থাকে। হিন্দি সিনেমার নায়করা কত টাকা পায়, তুমি ভাবতেই পারবে না। ওঃ, তখন তুমি যেভাবে আমাকে বললে, তাতে আমি খুব নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম।’ নবকুমার বলল।

বাবা বলল, ‘দু-পাঁচ-দশ হাজার টাকা নয়, একেবারে দু’লক্ষ টাকা তো কখনও রোজগার করিনি। সব জমি বিক্রি করলে নিশ্চয়ই তার অনেক বেশি দাম পেতে পারি, কিন্তু লক্ষ্মীকে জীবিত অবস্থায় ঘর থেকে তাড়াতে পারব না। তাই তুই দুই লক্ষ টাকা জমা দিয়ে গিয়েছিস শুনে চোখে অন্ধকার দেখছিলাম। আমি জানি, এই যুগে শুধু কলকাতায় কেন, যে-কোনও জায়গায় যদি ”সৎ থাকো, আদর্শচ্যুত হোয়ো না” বলে কেউ আশীর্বাদ করে, তা হলে তাকে সবাই নির্বোধ ভাববে। যাকগে, তুই এমন কাজ করিস না যা শুনে বাকি জীবনটা আমি আর তোর মা মাথা নীচু করে থাকি।’

‘তুমি চিন্তা কোরো না বাবা!’

‘ও হ্যাঁ, তোর মায়ের কাছে যে আয়া থাকে, সে বলল, তুই যেন অবশ্যই ডাক্তার চ্যাটার্জি-র সঙ্গে দেখা করিস?’ বাবা বলল।

‘ডাক্তার চ্যাটার্জি কে?’

‘যিনি তোর মাকে অপারেট করবেন। ডক্টর নন্দী ওঁর সঙ্গে কথা বলে সব ব্যবস্থা করে রেখেছেন, কিন্তু তোকে দেখা করতে বলেছেন।’

‘তুমি আমার সঙ্গে যাবে?’

‘চল।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ডক্টর চ্যাটার্জি এখন পেশেন্ট ভিজিট করছেন। যে ঘরে তিনি এসে বসবেন, তার সামনে ওরা দাঁড়িয়ে থাকল। একটু পরে একজন লম্বা, সুদর্শন ডাক্তার ওই ঘরে ঢুকতে গিয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন—’আপনারা?’

‘আমরা ডক্টর চ্যাটার্জি-র সঙ্গে দেখা করব। উনি তাই বলেছেন।’ বাবা বলল।

‘আসুন।’ ভিতরে ঢুকলেন ডক্টর চ্যাটার্জি।’

‘পেশেন্টের নাম কী?’ চেয়ারে বসে জিজ্ঞাসা করলেন ডক্টর।

বাবা নাম বলল।

ডক্টর বললেন, ‘চিন্তার কোনও কারণ নেই। ডক্টর নন্দী-র সঙ্গে আমার কথা হয়ে গিয়েছে। কিছু রিপোর্ট পেয়েছি, বাকিগুলো আজ পেয়ে যাব। কাল সকাল আটটায় পেশেন্টকে ওটি-তে নিয়ে যেতে বলেছি। আপনারা টাকাপয়সা জমা দিয়েছেন।’

‘হ্যাঁ। দু’লক্ষের বেশি জমা দেওয়া হয়েছে।’ বাবা জবাব দিল।

‘অত প্রয়োজন হবে না। এখন অফিসে গিয়ে জেনে নিন ওদের কোনও দরকার আছে কি না। এখন যেতে পারেন আপনারা।’ ডক্টর চ্যাটার্জি মোবাইল কানে চাপলেন। ওটা বাজছিল।

অফিসের কাজ শেষ করতে করতে সকালের ভিজিটিং আওয়ারস শেষ হয়ে গেল।

নবকুমার বলল, ‘এখানে থেকে তো কিছু করার নেই। বাড়িতে চলো।’

বাবা মাথা নাড়ল—’না, এখন আমি কালীঘাটে যাব।’

‘কালীঘাটে কার কাছে?’ নবকুমার জিজ্ঞাসা করল।

বাবার মুখ গম্ভীর হয়ে গেল—’কালীঘাটে গিয়ে মায়ের মন্দিরে পুজো দেব, যাতে কাল অপারেশন ভালোভাবে হয়। তোর মা দ্রুত ভালো হয়ে যান।’

এই কথা নবকুমার কখনওই চিন্তা করেনি। সে বলল, ‘কিন্তু সবসময় পুজো দেওয়া কি যায়? আমি জানি না।’

‘এখন যদি মায়ের মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে, পুজো দেওয়া না যায়, তাতে কোনও ক্ষতি নেই। মন্দিরের দেয়ালে মাথা রেখে প্রার্থনা করে আসব, তাতেই হবে। মন্ত্র পড়ে, প্রসাদ সাজিয়ে পুজো না দিলে যে মা শুনতে পাবেন না, তা তো নয়!’ বাবা বলল, ‘তুই এখন যা। বিকেল পাঁচটার মধ্যে চলে আসিস।’

‘তুমি খাওয়াদাওয়া কোথায় করবে?’

‘আশ্চর্য! তুই একজন আধবুড়ো মানুষের খাওয়ার জন্য চিন্তা করছিস?’

নবকুমার আর কথা বাড়াল না। সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামতে নামতে সে লক্ষ করল, লোকে তার দিকে হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে আছে। এদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই বেশি। সে দ্রুত গেটের বাইরে চলে এল। খানিকটা হেঁটে একটা ছোটখাটো রেস্তোরাঁ দেখতে পেয়ে নবকুমার ঢুকে পড়ল।

খিদে পাচ্ছিল বেশ। মেনুকার্ড দেখে একপ্লেট চিকেন চাউমিনের অর্ডার দিয়ে বেয়ারার রেখে যাওয়া জলের গ্লাস তুলে নিল। গলা দিয়ে জল নামতেই বেশ আরাম পেল সে। গীতিময়ের কথা মনে পড়ল। গুটিং-এর সময় প্রায়ই বলতেন, ‘যে কোনও ঘটনা কেন ঘটবে, তার পিছনে লজিক থাকা চাই। নইলে পাবলিক বিশ্বাস করবে না। আগেকার দিনের সিনেমায় লজিক থাকত না। এখন তো ভাবাই যায় না।’—কথাগুলো মনে আসতেই হাসি পেল নবকুমারের। গতকাল পর্যন্ত মায়ের অপারেশনের জন্য টাকা কীভাবে জোগাড় করা হবে, সেই চিন্তায় পাগল হয়েছিল সে। বাবাকে দেখে আজ মনে হয়েছে টাকার ব্যবস্থা করতে পারেনি। টাকা না দিতে পারলে নার্সিংহোম মাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বলত। আজও অসহায় অবস্থায় সে নার্সিংহোমে এসেছিল। এসে শুনতে পেল দু’লক্ষ টাকা জমা পড়ে গিয়েছে। গীতিময়দা শুনলে কী বলবেন? লজিক নেই? পাবলিক বিশ্বাস করবে না? পাবলিক কেন, তার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। কখন, কেমন করে, কী যে হয়ে যায়—জীবন তাই অদ্ভুত। কোনও ব্যাখ্যা চলে না।

নবকুমারের মনে হল, ব্যাপারটা মন্দাক্রান্তাকে জানানো দরকার। তাঁর মাধ্যমেই বড়বাবুর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। পরে বড়বাবুর চাপে মন্দাক্রান্তার সঙ্গে প্রকাশ্যে যোগাযোগ না রাখতে বাধ্য হয়েছিল সে। বড়বাবু এবং মন্দাক্রান্তার বিরোধের মাঝখানে সে পড়ে গেলেও এই মহিলাকে সে শ্রদ্ধা করে।

মোবাইলের বোতাম টিপল সে। রিং হচ্ছে। একটু পরে মন্দাক্রান্তার মিষ্টি গলা ভেসে এল—’বলো নবকুমার। তোমার মা কেমন আছেন?’

‘কাল অপারেশন হবে।’

‘চিন্তা কোরো না, ভালো হয়ে যাবেন।’ মন্দাক্রান্তা জিজ্ঞাসা করলেন—’এখন খুব টেনশন হচ্ছে তো? অবশ্য হওয়াটাই স্বাভাবিক?’

‘কাল অপারেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত…’

‘না, না। অপারেশনের কথা বলছি না। ডক্টর নন্দী বললেন, ডক্টর চ্যাটার্জির অপারেশনের হাত খুব ভালো, চিন্তার কিছু নেই। আমি তোমার ছবির কথা বলছি। কাল রিলিজ করছে, পাবলিক কীরকম রিঅ্যাক্ট করবে ভেবে চিন্তা হচ্ছে না?’

‘মাঝে মাঝে হচ্ছে, কিন্তু মায়ের ব্যাপারটা তো অনেক বড়।’

‘অবশ্যই।’

‘যেজন্য আপনাকে ফোন করলাম সেটা অদ্ভুত।’

‘অপারেশনের টাকা আজ সকাল পর্যন্ত জোগাড় করতে পারিনি বলে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু সকালে নার্সিংহোমে এসে শুনলাম টাকা জমা পড়ে গিয়েছে।’

‘সে কী। কত টাকা?’ মন্দাক্রান্তার গলায় বিস্ময়।

‘দু’লক্ষ টাকা।’

‘এত টাকা যে জমা দিয়েছে, সে নিজের পরিচয় দিয়েছে?’

‘না।’

‘কী বলছ তুমি! স্বার্থ ছাড়া কেউ দু’লক্ষ টাকা তোমাকে দেবে?’

‘আমাকে দেয়নি, মায়ের নামে জমা দিয়েছে।’

সেটা একই হল। তুমি টাকাটা নিয়েছ?’

‘আমি নিইনি, বললাম তো, নার্সিংহোমে মায়ের নামে জমা দিয়ে গিয়েছে। আমি তখন ওখানে ছিলাম না।’

‘তুমি অনুমান করতে পারো কে দিয়েছে?’

‘হ্যাঁ। বড়বাবু একটা কাগজে আমাকে দিয়ে মায়ের নাম লিখিয়ে নিয়েছিলেন, সেই কাগজটা ক্যাশ কাউন্টারে পড়েছিল।’ নবকুমার বলল।

কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ। নবকুমার ভাবল, লাইন বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সে জানান দিল—’হ্যালো।’

‘হ্যাঁ। শোনো নবকুমার, আমি চাই না তোমার মায়ের চিকিৎসার জন্য এই টাকা খরচ হোক। তুমি টাকাটা ফেরত দিয়ে দাও।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।

‘ফেরত দেব?’

‘হ্যাঁ, দেবে।’

‘কিন্তু কাল অপারেশন। টাকা ফেরত দিলে অপারেশন কী করে হবে?’

‘নার্সিংহোমে জমা পড়ে যাওয়া টাকা বোধ হয় ওরা ফেরত দেবে না। তুমি আজ বিকেলে আমার কাছে এসে টাকাটা নিয়ে যেও। বড়বাবু যেন অবশ্যই সন্ধের মধ্যে টাকাটা ফেরত পান।’

‘আপনি একথা বলছেন কেন?’ অবাক গলায় বলল নবকুমার।

‘আমি তোমাকে বলেছি, স্বার্থ ছাড়া কেউ এমন কাজ করে না।’

‘বলেছেন।’

‘বড়বাবু এই যে টাকা দিয়েছেন, সেটাও স্বার্থসিদ্ধির জন্য।’

‘আমি বুঝতে পারলাম না।’

‘উনি ভেবেছেন, টাকাটা দিয়ে আমার ওপর টেক্কা মারবেন। আমাকে জব্দ করবেন। টাকা দিয়ে উনি চিরকালের জন্য আমার মুখ বন্ধ করে দিতে চান। সামান্য দু’লক্ষ টাকায় ওঁকে এই আনন্দ পেতে দেব না নবকুমার।’

‘সর্বনাশ হয়ে গেল’—বিড়বিড় করে বলল নবকুমার।

‘কী বলছ তুমি? কীসের সর্বনাশ?’

‘ডক্টর আমাকে বিকেলবেলায় নার্সিংহোমে থাকতে বলেছেন। আপনাকে ফোন করার আগে আমি টাকাটা দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে বড়বাবুকে ফোন করেছিলাম। ওঁর ফোন বন্ধ। তখন মনে পড়ল, কাল আমাকে গালাগালি দেওয়ার সময় বড়বাবু বলেছিলেন, আজ তারাপীঠে গিয়ে ছবি যাতে ভালো চলে, তার জন্য পুজো দেবেন। সেটা দিয়ে কাল ভোরের আগে নিশ্চয়ই ফিরতে পারবেন না। তা হলে বিকেলে আমি আপনার কাছে কী করে যাব? আর গেলেও টাকাটা সন্ধের মধ্যে বড়বাবুকে কেমন করে ফেরত দেব? তাই বললাম, সর্বনাশ হয়ে গেল?’ নবকুমার বলল।

‘ঠিক আছে। ওঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নাম্বার আমার কাছে আছে। একটা চেক দিয়েছিলেন। ডেট ভুল ছিল বলে আমি জমা দিইনি। ওই চেকে অ্যাকাউন্ট নাম্বার আছে। ওই অ্যাকাউন্টেই টাকাটা জমা দিয়ে দেব। যাকগে, এসব নিয়ে আর চিন্তা করবে না। আগামিকাল তোমার দু’টো কাজই ভালোভাবে উতরে যাক।’ মন্দাক্রান্তা ফোন রেখে দিলেন।

বিকেলে নার্সিংহোমে এসে দেখল, বাবা ইতিমধ্যেই মায়ের বিছানার পাশে বসে আছেন। আয়াকে দেখতে পেল না নবকুমার। সে মাকে জিজ্ঞাসা করল—’কেমন আছ?’

‘ভালো। এই দ্যাখ তোর বাবা কালীঘাটের মায়ের মন্দিরে পুজো দিয়ে ফুল নিয়ে এসেছে। মা নিশ্চয়ই আমাকে রক্ষা করবেন।’ মা হাসল।

নবকুমার বাবার দিকে তাকাল—’তুমি কি আজও গ্রামে ফিরে যাবে?’

‘যেতে পারি, কিন্তু…’

‘না’—মা মাথা নাড়ল—’কাল অপারেশনের আগে তোমাদের দুজনকে না দেখতে পেলে খুব কষ্ট হবে।’

বাবা হাসল—’তা হলে আজ তোমার ছেলের কাছেই রাত্রিবাস করতে হয়।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *