ছয়
প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের লর্ডস বেকারির মোড়ের কাছে আটতলা বাড়ির ছ’তলায় লিফটে উঠে লোকটা বলল, ‘বড়বাবু আপনাকে খুব স্নেহ করেন।’
‘কী করে বুঝলেন?’ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে জিগ্যেস করল নবকুমার।
লোকটা দরজার তালা খুলল। তারপর ভেতরে ঢুকেই সোজা চলে গেল জানলার কাছে। ওটা খুলতেই ঘরে আলো এল। লোকটা বলল, ‘একবছর আগে এই ফ্ল্যাট কিনে সাজিয়েছেন বড়বাবু, কিন্তু আজ পর্যন্ত একরাত্তিরও বাস করেননি। কাউকে থাকতেও দেননি। আপনিই প্রথম লোক যিনি এই ফ্ল্যাটে থাকবেন। তাই বললাম, বড়বাবু আপনাকে খুব স্নেহ করেন।’
তিনটে ঘর। প্রত্যেক ঘরের লাগোয়া বাথরুম, টয়লেট। ওপাশে রান্নার ঘর। নবকুমারকে লোকটা ঘুরিয়ে দেখাল। এখানে কেউ বাস করে না, অথচ নবকুমার দেখল, তিন-তিনটে ঘর পরিপাটি করে সাজানো। এমনকী বাথরুমেও ধপধপে তোয়ালে ভাঁজ করে রাখা রয়েছে। কেউ যখন এখানে থাকেই না, তা হলে এরকম সুন্দর সাজিয়ে কেন রাখা হয়েছে ফ্ল্যাটটাকে? প্রশ্নটা লোকটাকে না করে পারল না সে।
লোকটা হাসল, ‘আপনি বড়বাবুর সিনেমার হিরো। তিনি আপনাকে এখানে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। আপনি আরাম করে থাকুন। এর বেশি জানার কী দরকার?’
‘আপনি দেখছি আমার সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন।’
‘ওই আর কী! আমি কখনও সিনেমার হিরোকে সামনাসামনি দেখিনি। আজ প্রথমবার দেখলাম।’
‘দেখে কী মনে হল?’
‘আপনার শরীর-স্বাস্থ্য ভালো, কিন্তু…’
‘কিন্তু কী?’
‘আপনি তো উত্তমকুমার, দেবানন্দ বা রাজেশ খান্না নন। তাঁদের দেখলেই হিরো বলে মনে হয়। আপনার মতো চেহারার দুজন ছেলে আমাদের গাঁয়ে থাকে। কিন্তু তারা তো হিরো হওয়ার ভাগ্য নিয়ে জন্মায়নি।’ লোকটা বলল।
‘কী করে তারা?’
‘একজন চাষ করে আর অন্য জন বাজারে মাছ বিক্রি করে!’
নবকুমার ঠোঁট কামড়াল। তারপর গম্ভীর গলায় বলল, ‘আমার তো যা দেখার, তা দেখা হয়ে গিয়েছে। এখানে কি আপনি থাকবেন?’
‘না, না। চলুন। দেখা হয়ে গেলে বড়বাবু আপনাকে ফোন করতে বলেছেন। চলুন!’ জানলা বন্ধ করে দরজায় চাবি দিয়ে নবকুমারের সঙ্গে লিফটে উঠে লোকটা বলল, ‘আপনি কি কিছু মনে করলেন?’
‘কী ব্যাপারে?’
‘ওই যে, বললাম যে কথাগুলো!’
‘ঠিক আছে।’
‘আমার বলা উচিত হয়নি। কেন যে বলে ফেলি!’
‘আপনি এ নিয়ে ভাববেন না!’
কথাটা বলল বটে, কিন্তু ভবানীপুরের বাড়িতে এসেও মাথা থেকে যাচ্ছিল না। সে দেখতে ভালো, ফিগারও চমৎকার—এইসব কথা ছেলেবেলা থেকে শুনে এসেছে। গ্রামের বন্ধুরা বলত, কলকাতায় গেলে মেয়েরা তোর প্রেমে পড়বেই। কিন্তু কেউ কখনও বলেনি, তোকে হিরোর মতো দেখতে। কলকাতায় এসে অনেক ছেলের সঙ্গে তার কোনও পার্থক্য আছে বলে মনে হয়নি। স্টুডিওতে যাওয়া শুরু হওয়ার পরে সেখানে এমন ছেলেকে অপেক্ষা করতে দেখেছে, যার চেহারা খুব ভালো, মুখে-চোখে নায়ক-নায়ক ভাব। কিন্তু বেচারারা সুযোগের জন্য অপেক্ষা করেই চলেছে। তার বেলায় যা হয়েছে, তা নিতান্ত দুর্ঘটনা ছাড়া কিছু নয়। আর এর পিছনে মন্দাক্রান্তার অবদান কোনওদিন ভুলতে পারবে না। অথচ সেই মন্দাক্রান্তাকে এড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বড়বাবুর নির্দেশে।
এইসময় মোবাইল বেজে উঠল। নবকুমার পকেট থেকে যন্ত্রটা বের করে নাম্বারটা দেখল। এখনও ফোন নাম্বার সে সেভ মোডে নিয়ে যায়নি। নাম্বারগুলো কার বোঝা অসম্ভব। এই নাম্বারটা যদি মন্দাক্রান্তার হয়, তা হলে? একটু অনিশ্চিত মনে সুইচ অন করতেই বড়বাবুর গলা কানে এল—’বাথরুমে ছিলে না কি? ফোন বেজেই যাচ্ছে!’
‘হ্যাঁ।’ চট করে মিথ্যে বলতে সক্ষম হল নবকুমার।
‘অ। ফ্ল্যাটটা শুনলাম পছন্দ হয়েছে!’
‘হ্যাঁ। খুব ভালো।’
‘ছবি রিলিজ না হওয়া পর্যন্ত থাকতে পারো ওখানে।’
‘তারপর চলে যেতে হবে?’
‘ছবি ফ্লপ করলে কি আমি তোমার গলায় মালা দিয়ে রাখব?’
‘আমি বলছিলাম কী, থাক না!’
‘থাক না মানে? রবিবারের মধ্যে ভবানীপুর ছাড়তে হবে না?’
‘হ্যাঁ! মুক্তো বলছিল, শেফালি-মায়ের বাড়িতে পুলিশ থাকতে দেবে। ওখানে তো সবই চেনাজানা। ওখানেই না হয় আমরা থাকি।’
‘বাহ, চমৎকার। আমার ছবির নায়ক সোনাগাছিতে থাকে। সেখান থেকে টালিগঞ্জে শুটিং করতে আসে। কাগজে লেখা হবে—’সোনাগাছির ছেলে এবার সিনেমার হিরো।’ তারপরে কোন পাবলিক ছবি দেখতে যাবে?’
‘কিন্তু আমি তো ওখানে কিছুদিন ছিলাম।’
‘আহ, ভুলে যাও তুমি কী করেছিলে! এখন কী করছ, সেটাই প্রচার হবে। উত্তমকুমার পোর্ট কমিশনার্সে কেরানিগিরি করতেন। হিরো হওয়ামাত্র সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। আমার কথা তোমার মাথায় ঢুকেছে?’ বড়বাবু কড়া গলায় বললেন।
‘হ্যাঁ।’
‘তা হলে কাল সকালে শিফট করে যাও। নিরঞ্জন সব ব্যবস্থা করে দেবে। একটু বেশি কথা বলে, কিন্তু লোকটা ভালো। তোমার সঙ্গে বেশি বকেনি তো?’
নবকুমার বুঝল, ওই লোকটার নাম নিরঞ্জন। লোকটা এসে বড়বাবুর নাম বলে তাকে ফ্ল্যাট দেখাতে নিয়ে গেল, অথচ নিজের নাম বলেনি। অবশ্য সে-ও জিগ্যেস করেনি। নবকুমার মাথা নাড়ল—’না, বলেনি।’
‘তা হলে তৈরি থেকো। আউটডোরে যাওয়ার আগে ওখানে গিয়ে থাকো। মুক্তোকে বরং সোনাগাছির বাড়িতে পাঠিয়ে দাও। তুমি তো কিছু টাকা পেয়েছ, আবারও পাবে। তাই থেকে ওর খাইখরচা দিয়ে দিও। ও হ্যাঁ, নিরঞ্জন তোমাকে কি বলেনি আমাকে ফোন করতে?’
‘হ্যাঁ। বলেছিল।’
‘তা হলে করোনি কেন?’
‘করব ভাবছিলাম।’
‘একটু স্মার্ট হও হে, হিরোদের স্মার্ট হতে হয়।’
‘একটা কথা বলছি। মুক্তোকে নতুন ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া যাবে না?’
‘কেন? তাকে কী দরকার?’
‘ওর তো কেউ নেই। আমার রান্না, বাড়ির সব কাজ ও করে দেয়। তাই…’
‘তুমি পুরুষমানুষ। বাইরে খেয়ে নেবে। জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য লন্ড্রি রয়েছে। বিদেশে কেউ কাজের লোক মাথার ওপর ধরে রাখে না।’
‘আমি তো আপনার সব কথা মেনে নিচ্ছি, এটুকুতেও আপত্তি করছেন কেন?’
‘দ্যাখো, ওই ফ্ল্যাটে কোনও মেয়েমানুষ থাকুক, তা আমি চাই না। এমনকী মন্দাক্রান্তা দূরের কথা, নিজের পরিবারকেও ফ্ল্যাটটার কথা বলিনি।’
‘কিন্তু মুক্তো তো!’
‘আফটার অল মেয়েমানুষ।’
‘তা হলে তো আমার মাকেও ওখানে রাখা যাবে না!’
‘হুম। ঠিক আছে, থাক মুক্তো। কিন্তু ওখানে গিয়ে বস্তির মেয়ের মতো আচরণ করা চলবে না। এটা ওকে বুঝিয়ে দিও।’ লাইন কেটে দিলেন বড়বাবু।
নতুন ফ্ল্যাটে এসে মুক্তো হাঁ হয়ে গেল। বলল, ‘উরেবাব্বা, এ তো খুব বড়লোকের বাড়ি! আমরা এখানে থাকব?’
‘হ্যাঁ। তুমি সব দেখে নাও!’ নবকুমার বলল।
নিরঞ্জন বলল, ‘হ্যাঁ মাসি, চলো দেখিয়ে দিচ্ছি।’
সব দেখিয়ে দিয়ে নিরঞ্জন মুক্তো’কে নিয়ে চলে গেল বাজারদোকান দেখাতে। এইসময় মোবাইল বেজে উঠল। সুইচ টিপতেই গীতিময়ের গলা শুনতে পেল সে—’নবকুমার, আজ দুপুরে একবার স্টুডিওতে আসতে হবে ভাই।’
‘শুটিং আছে না কি?’
‘না, না। নেই। শুটিং ছাড়াও অন্য কাজ থাকে। আজ গাড়ি পাঠাতে পারব না। নিজেই চলে এসো।’
‘নিশ্চয়ই যাব।’
ঠিক একটার সময় স্টুডিওর গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকল নবকুমার। ট্যাক্সি ছেড়ে দিয়েছিল গেটের বাইরে। আশি টাকা বেরিয়ে গেল। অফিসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় সে একজন সুন্দরী ভদ্রমহিলার সঙ্গে বিরলকেশ প্রৌঢ়কে দেখতে পেল। প্রৌঢ় তাকে দেখে হাত নাড়লেন—’এই যে ভায়া। একটু এদিকে।’
নবকুমার হেসে কাছে গিয়ে বলল, ‘বলুন।’
ভদ্রলোক দু-চোখ দিয়ে হাসলেন—’গীতিময়ের আবিষ্কার! ভালো, ভালো। কাজের প্রশংসা হচ্ছে। খুব ভালো কথা। নামটা গুলিয়ে ফেলেছি।’
‘নবকুমার।’
‘অ্যাঁ! নবকুমার? কুমারদের যুগ তো কবে খতম হয়ে গিয়েছে। নির্মলকুমার, উত্তমকুমার, অসীমকুমার, আশিসকুমার। ফিল্মে এলেই নায়করা তখন কুমার হয়ে যেত। তারপর ব্যাঙাচির লেজ খসে যাওয়ার মতো নামের পিছন থেকে কুমারও খসে গেল। এখন শুধু নাম, নো টাইটেল। বিয়ে করেছ?’
‘না।’
‘তা হলে কুমার ঠিকই আছে। এঁকে চেনো?’
‘না।’
‘অ্যাঁ! সে কী! বাংলা ফিল্ম দ্যাখো না?’
‘বেশি না।’
‘হায় কপাল! ইনি হলেন বাংলা সিনেমার মারকাটারি খলনায়িকা।’
সুন্দরী এতক্ষণ হাসিমুখে শুনছিলেন, এবার কপট রাগ দেখালেন—’আহ, হৃদয়দা!’
প্রৌঢ় বললেন, ‘লজ্জা পাচ্ছে। হাতে ছবির পর ছবি। তোমার ছবিতেও অ্যাক্টিং করবে। আগুন থেকে দূরে থেকো ভাই।’
সুন্দরী বললেন, ‘হৃদয়দার কথা একটুও বিশ্বাস করবেন না। ফিল্মে যেমন উনি কমেডি করেন, জীবনেও তা করতে ছাড়েন না। আমি বিদিশা।’ সুন্দরী হাতজোড় করতে নবকুমারকেও একই ভঙ্গি করতে হল।
‘তোমার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগল। তোমার কেমন লাগল?’
নবকুমার হেসে ফেলল। তারপর বলল, ‘আচ্ছা এলাম।’
গীতিময়ের অফিসের দিকে যেতে যেতে তার মনে হল, এই হৃদয়বাবু নিশ্চয়ই ভালো মানুষ। খারাপ মানুষরা অপরিচিত লোকের সঙ্গে চট করে মন খুলে কথা বলতে পারে না।
গীতিময় তার অফিসে বসে কিছু পড়ছিলেন, পাশে প্রাণকৃষ্ণ। নবকুমার ঘরে ঢোকামাত্র গীতিময় ঘড়ি দেখলেন, তারপর বললেন, বোসো। আচ্ছা, তোমার কি এই বয়সে কোনও ব্যাপারেই আগ্রহ নেই?’
‘একথা কেন?’
‘তুমি রোজ শুটিং-এ আসো। সকালে প্রাণকেষ্ট যা গিলিয়ে দেয়, তা-ই ফ্লোরে উগরে দিয়ে চলে যাও। পরের দিন কী সিন আছে, তা জিগ্যেসও করো না। তোমার সঙ্গে যারা অভিনয় করে, তাদের সঙ্গে আড্ডা মারতে কেউ তোমাকে দ্যাখেনি। আচ্ছা, বলো তো, যে ছবিতে তুমি অভিনয় করছ, তার নাম কী?’
গীতিময় শক্ত মুখে নবকুমারের দিকে তাকালেন।
কিছুদিন আগে নিবারণদার সহকারী কমল মেক-আপ করতে করতে বলেছিল, ‘শুটিং চলছে, অথচ ছবির নামকরণ করা হল না। প্রোডাকশন নাম্বার এবিসি বলে যে কতদিন চালাবে, কে জানে!’ শটের আগে ক্ল্যাপস্টিক নেওয়ার সময় নবকুমার দেখেছে, লেখা রয়েছে প্রোডাকশন এবিসি সিন নাম্বার এত, শট নাম্বার এত।
সে বলল, ‘সম্ভবত এখনও নাম ঠিক হয়নি।’
‘কেন ঠিক হয়নি, তা জিজ্ঞাসা করেছ?’
‘না।’
প্রাণকৃষ্ণ হাসল—’বাইশটা নাম থেকে একটা বেছে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন বড়বাবু। সব নামের আদ্যাক্ষর ”ক”!’
গীতিময় হাত নেড়ে থামতে বলে নবকুমারের দিকে তাকালেন—’আউটডোরে তো বেড়াতে যাচ্ছি না। কাজ করতে হবে ওখানে। তুমি তো জানোই না, কী কী দৃশ্য সেখানে তোলা হবে, সংলাপ কী হবে! জানো?’
মাথা নাড়ল নবকুমার—’না।’
‘তা হলে বোঝো? কোনও ব্যাপারে আগ্রহ নেই তোমার। এভাবে হয় না।’
‘আসলে এতরকম সমস্যায় ছিলাম…’
‘দ্যাখো, নিজেকে পালটাতে পারো কি না। তুমি প্রাণকেষ্টর সঙ্গে বসে আউটডোরের সিনগুলো রিহার্সাল দাও। যাওয়ার আগে বাড়িতেও প্র্যাকটিস করবে। প্র্যাকটিস মেকস ম্যান এফিশিয়েন্ট। তুমি তো ঠিকানা বদলাতে পেরেছ!’
‘হ্যাঁ। বড়বাবু থাকার জায়গা দিয়েছেন।’
‘আর কত করবেন জানি না। নাও, তোমরা শুরু করে দাও, আমি একটু বেরুচিচ্ছ। প্রাণকেষ্ট, ভালো করে তৈরি করিয়ে দাও।’ গীতিময় বেরিয়ে গেলেন।
‘এসো ভাই, ছাই ফেলতে এই ভাঙা কুলো তৈরি।’ একটা ফাইল খুলে প্রাণকৃষ্ণ জিগ্যেস করল—’নাচতে জানো?’
‘না।’
‘শিখে নিও, না হলে অন্ন জুটবে না। এখন বাংলা ছবিতেও কায়দা করে কোমর নাচাতে জানতে হবে। এ যাত্রায় তোমার চরিত্রকে নাচতে হবে না। ”কাঞ্জনজঙ্ঘা” দেখেছ?’
‘না, আমি কখনও পাহাড়ে যাইনি?’
‘দূর। আমি হিমালয়ের কাঞ্জনজঙ্ঘার কথা বলছি না। সত্যজিৎ রায়ের ছবি ”কাঞ্চনজঙ্ঘা” দেখেছ?’ প্রাণকৃষ্ণ জিগ্যেস করল।
‘না, দেখিনি।’
‘একদিক দিয়ে ভালো। দেখলে অরুণ মুখার্জিকে নকল করতে। তোমার চরিত্রটা এই ছবিতে প্রায় ওইরকম। নাও, শুরু করা যাক।’
রিহার্সাল দিতে ভালো লাগছিল নবকুমারের। এই সংলাপগুলো যেন তার কথা ভেবেই লেখা হয়েছে। কিন্তু খলনায়িকার সঙ্গে যে সংলাপ, তা বলার সময় সে অস্বস্তিতে পড়ল। সেটা লক্ষ করে প্রাণকৃষ্ণ বলল, ‘কি, অসুবিধে হচ্ছে?’
‘না, ঠিক আছে।’
‘কোনও মেয়ে তোমাকে আই লাভ ইউ ডার্লিং বলেনি?’
‘না, সেরকম ঘটনা ঘটেনি।’
‘আমার সঙ্গে ইয়ার্কি মারছ? সোনাগাছিতে দিনরাত কাটিয়েছ আর মেয়েমানুষের পাল্লায় পড়োনি, তুমি কি কাঁঠালের আমসত্ত্ব?’ খিঁচিয়ে উঠল প্রাণকৃষ্ণ।
‘বললাম তো, সেরকম ঘটনা ঘটেনি। ওখানকার মেয়েরা আমাকে ভাইয়ের মতো দেখত।’ নবকুমার বলামাত্র প্রাণকৃষ্ণের চোখ রসগোল্লার মতো হয়ে গেল। বলল, ‘তুমি একটুকরো কাগজে পায়ের ধুলো নিয়ে এসে আমাকে দিও তো! এবার সংলাপ বলো।’
নবকুমার বলল। প্রাণকৃষ্ণ দেখিয়ে দিল। নবকুমার সেটা অনুসরণ করলে প্রাণকৃষ্ণ খুশি হয়ে বলল, ‘বেটার, কিন্তু আরও ভালো বলতে হবে। এখানে মেয়েটি তোমাকে জড়িয়ে ধরবে। কিন্তু তুমি অস্বস্তিতে পড়বে। ওঠো, দেখিয়ে দিচ্ছি।’
‘জড়িয়ে ধরবে মানে?’
‘মেয়েরা ভালোবেসে জড়িয়ে ধরে, জানো না? প্লিজ এবারও না বোলো না।’
নবকুমারের চোখের সামনে বিদিশা-র মুখ চলে এল। একটু আগে আলাপের সময় সে জেনেছিল বিদিশা এই ছবির খলনায়িকা। তা হলে বিদিশা-ই তাকে জড়িয়ে ধরবে?
প্রাণকৃষ্ণর গলা কানে এল—’জড়িয়ে ধরার কথা শুনে ভেবড়ে গেলে না কি! বিদিশ তোমাকে হেল্প করবে। ওঠো, উঠে দাঁড়াও। দেখিয়ে দিচ্ছি। শুধু জড়িয়ে ধরা না, তিরিশ সেকেন্ডের চুমুও খাবে।’
