এগারো
চারদিন ধরে শুটিং চলল। এই ক’দিনের প্রায় সব দৃশ্যেই নবকুমারকে অভিনয় করতে হল ঊর্মিলার সঙ্গে। দ্বিতীয়দিনে ঘটনাটা ঘটল। ম্যাল থেকে মহাকালের মন্দির ছাড়িয়ে যে-পথটা বৃত্তের আকরে রাজভবনের পাশ দিয়ে আবার ম্যালে ফিরে এসেছে, সেই পথের একটা নির্জন জায়গায় শুটিং চলছিল। দৃশ্যটিতে ঊর্মিলা প্রথম বোঝাতে চাইবে, সে নবকুমারকে ভালোবেসেছে। অথচ নবকুমার কেন তা বুঝতে সক্ষম হচ্ছে না, তা তার বোধগম্য হচ্ছে না।
দৃশ্যটি তোলার সময় প্রথমবার ঘন কুয়াশা এমনভাবে গড়িয়ে এল যে, বিজন রায় ‘কাট কাট’ বলে উঠলেন। ঊর্মিলা শরীর মুচড়ে বিরক্তি প্রকাশ করে চলে গেল তার জন্যে নিয়ে আসা কাঠের চেয়ারে। মিনিট পাঁচেক পরে যখন জায়গাটা কুয়াশামুক্ত হল, তখন গীতিময় চিৎকার করলেন—’কুইক, চলে এসো ঊর্মিলা, নবকুমার রেডি?’
ঊর্মিলা মেক-আপ ম্যানকে বলল আয়না ধরতে। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিজের মুখ দেখতে দেখতে বলল, ‘গীতিদা, আপনি বড্ড তাড়া দেন।’
‘আরে, আলো চলে গেলে প্রডিউসার আমার ব্যান্ড বাজাবে, তা জানো? চলে এসো ভাই।’ গলার স্বরে অনুনয় আনলেন গীতিময়।
ঊর্মিলা এল। এখন ওর গায়ে একটা শাল। বিজন রায় চিৎকার করলেন—’আগের শটে শাল ছিল না।’
‘উহ, আমার যে শীত করছে!’
‘প্লিজ!’ গীতিময় বললেন, ‘ছবিতে পাবলিক ধাক্কা খাবে যে!’
‘ওহ!’ শাল খুলতেই সহকারী পরিচালক ওকে সংলাপ মনে করিয়ে দিল। ক্ল্যাপস্টিক, গীতিময়ের শুটিং শুরুর নির্দেশ যখন অ্যাকশনে গিয়ে থামল, তখন সংলাপ বলতে গিয়েও থেমে গেল ঊর্মিলা। একটু অপেক্ষা করে গীতিময় ক্যামেরার পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করলেন—’কী হল? কাট কাট।’
‘মুড আসছে না।’ ঊর্মিলা ফিরে গেল কাঠের চেয়ারে।
‘সেকী! কেন আসছে না?’ ছুটে এলেন গীতিময়।
‘আপনার হিরোর মুখ দেখে। ওরকম এক্সপ্রেশনলেস মুখের দিকে তাকিয়ে প্রেমের কথা বলা যায়? আমার মুড আসছে না।’ ঊর্মিলা বলল।
‘কিন্তু ভাই, এটা তো অভিনয়। তুমি তো সত্যি সত্যি ওর সঙ্গে প্রেম করছ না। জাস্ট অ্যাক্টিং। ছবির প্রয়োজনে এটা তোমাকে করতে হবে।’
মাথা নেড়ে ‘না’ বলে চোখ বন্ধ করল ঊর্মিলা।
‘তুমি তো বেশ কিছুদিন ধরে ওর সঙ্গে শুট করছ।’
‘সেসব দৃশ্যে প্রেম ছিল না।’
‘তুমি ভুলে যাও এর নাম নবকুমার। প্লিজ।’ গীতিময় ঘুরে দাঁড়িয়ে নবকুমারকে বললেন, ‘ঊর্মিলা যাতে ইন্সপায়ার হয়, এমনভাবে অ্যাক্টিং করো।’
‘কীভাবে করবেন?’ ঊর্মিলা হাসল—’ওঁর যাবতীয় এক্সপ্রেশন তো এখানে আসার পরে রাত্রেই খরচ হয়ে যায়! দিনের বেলায় পাবেন কী করে!’
বুঝতে না পেরে গীতিময় বললেন, ‘ঠিক বুঝলাম না!’
‘আপনি না-ই বা বুঝলেন, যাঁর বোঝার, তিনি বুঝলেই হল। ঠিক আছে টেক করুন।’ ঊর্মিলা এগিয়ে এল।
নবকুমার বুঝতেই পারছিল না হঠাৎ তার সঙ্গে ঊর্মিলা কেন এরকম করছে। এবার ঠিকঠাক সংলাপ বলল ঊর্মিলা—’আমি তোমার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছি, তুমি আমাকে ক্ষমা করবে না?’
নবকুমারের সংলাপ—’এসব কী বলছ তুমি!’
ঊর্মিলা-র সংলাপ—’ঠিকই বলছি। প্লিজ, নইলে, আমি কী করব, বুঝতে পারছি না।’
‘এভাবে বোলো না, তুমি কোনও অন্যায় করোনি।’—নবকুমারের সংলাপ।
‘তোমার মন অনেক বড়, তাই একথা বলছ। আমি তোমাকে গেঁয়ো, অশিক্ষিত ভেবে খারাপ ব্যবহার করেছি। ভাবিনি, অনেক শিক্ষিত শহরের ছেলের চেয়ে তোমার কর্তব্যজ্ঞান বেশি। সারল্য, উদারতার কথা ভাবলে, তারা কাছাকাছি আসতে পারবে না। আমি এতদিন হীরে ফেলে কাচ নিয়ে পড়েছিলাম।’ এই অবধি বলে দু-হাত বাড়াবে ঊর্মিলা—’তুমি যদি আমাকে স্পর্শ করো, তা হলেই বুঝব, আমি ক্ষমা পেয়েছি।’
নবকুমার তাকাবে। এক, দুই, তিন করে আট অবধি গুনবে গীতিময়ের নির্দেশ অনুযায়ী। তারপর একটু সংকোচ, একটু লজ্জা নিয়ে ঊর্মিলা-র বাড়ানো হাত স্পর্শ করবে দুই হাতের আঙুল দিয়ে।
সঙ্গে সঙ্গে নিজের দিকে একটা হ্যাঁচকা টান দিল ঊর্মিলা, দিতেই হুড়মুড়িয়ে নবকুমার তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পড়তে সামলে নিল খানিকটা।
ঊর্মিলা চিৎকার করল—’এটা কী হল?’
গীতিময় গম্ভীর গলায় বললেন, ‘কাট কাট।’
‘শুধু কাট বললেই চলবে না, ও কেন আমার ওপর এসে পড়ল? আমি যদি অ্যালার্ট না থাকতাম, তা হলে তো অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারত!’ গীতিময়ের দিকে তাকিয়ে অভিযোগ জানাল ঊর্মিলা।
ক্যামেরা থেকে মুখ তুলে বিজন রায় বললেন, ‘ভাই নবকুমার, তুমি আর কবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখবে?’
‘আমি তো দাঁড়িয়েছিলাম!’ ঘাবড়ে গিয়েছিল নবকুমার।
‘তুমি দাঁড়িয়েছিলে, উনি টানতেই ওঁর শরীরের ওপর গিয়ে পড়লে। তাই তো? দ্যাখো, এই ফিল্ম লাইনে তুমি এরকম টান অনেক পাবে! প্রত্যেক টানেই যদি ঝাঁপিয়ে পড়ো, তা হলে ভোগে যেতে বেশি সময় লাগবে না। যত টানই আসুক, তোমাকে নিজের পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। বুঝলে?’—বিজন রায় হাসলেন।
‘দার্জিলিং-এ এসে প্রতি রাত্রে পেটে যা পড়ছে, তাতে কি পায়ের জোর থাকে?’ ঊর্মিলা কাঁধ নাচিয়ে বলল।
গীতিময় বিজন রায়কে বিজ্ঞাসা করলেন—’শটটা থাকবে?’
‘আপনি দেখে নিন।’ বিজন রায় ক্যামেরা থেকে সরে দাঁড়ালেন।
গীতিময় ক্যামেরার সঙ্গে লাগোয়া মনিটরে দৃশ্যটি দেখে বললেন, ‘ওই হ্যাঁচকা টানটার আগে পর্যন্ত দারুণ হয়েছে। ওই অবধি রাখলেই হবে। এবার ক্যামেরা দুজনের মাঝখানে, একসঙ্গে দুজনকে ধরতে হবে।’
ঊর্মিলা জিজ্ঞাসা করল—’একই সংলাপ বলতে হবে?’
‘তুমি তো এই প্রথমবার ফিল্মে কাজ করছ না।’
‘আমার বোর লাগছে।’
‘কিছু করার নেই। পরিচালনা করতে করতে বেশ একঘেয়ে লাগে। তখন হাত গুটিয়ে নিলে আর কাজটাই হবে না। চলো!’ গীতিময় ঘুরে দাঁড়িয়ে বিজন রায়ের সঙ্গে আলোচনা করতে লাগলেন।
এইসময় প্রোডাকশনের লোক গাড়ি নিয়ে ওপাশে এসে দাঁড়াল। তারপর গাড়ি থেকে নেমে গীতিময়ের কাছাকাছি এসে বলল, ‘রওনা করিয়ে দিয়েছি!’
‘মানে?’ গীতিময় কথার মধ্যে কথা বলায় বিরক্ত হলেন।
‘বিদিশাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে এসেছি। দার্জিলিং মেলের অনেক আগেই উনি পৌঁছে যাবেন। দাদাকে এই চিঠিটা দিতে বলেছেন।’
‘দাদাকে দিতে বলেছেন, দাদাকেই দাও। যত্তসব।’—গীতিময় বললেন।
ছেলেটা এগিয়ে এল নবকুমারের কাছে—’আপনার চিঠি।’
সাদা ভাঁজ করা কাগজ, খামের ভিতর ঢোকানো নয়। কাগজটা নিয়ে খুলে পড়ল নবকুমার—’নবকুমার, আপনি শুটিং-এ যাওয়ার পর কলকাতা থেকে ফোন এল, আমার এক আত্মীয় অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছে। বাঁচার সম্ভাবনা নেই। এখানে আমার আর একটিমাত্র দৃশ্য ছিল। গীতিময়বাবু অবস্থা বুঝে ছেড়ে দিয়েছেন। আপনার সঙ্গে দেখা না করেই চলে যেতে হচ্ছে টেন ধরতে। বিদিশা।’ তার নীচে মোবাইল নাম্বার।
কাগজটাকে ভাঁজ করে পকেটে রেখে, প্রোডাকশনের ছেলেটিকে নবকুমার বলল, ‘ঠিক আছে।’
‘এখন কী হবে?’ ঊর্মিলা যেন উদ্বিগ্ন।
‘কীসের কী হবে?’ নবকুমার অবাক।
‘সন্ধের পরে কী করবেন? রাত কীভাবে কাটবে?’
‘যেভাবে গতকাল, পরশু কেটেছিল।
‘তখন তো তিনি ছিলেন, আজ থেকে থাকছেন না।’
হঠাৎ মেজাজ গরম হয়ে গেল নবকুমারের। বলল, ‘কাউকে খুঁজে নেব।’
‘শাবাশ। এই তো দেখছি গাঁয়ের গন্ধ চলে যাচ্ছে!’
‘সাইলেন্ট!’—চিৎকার করলেন গীতিময়।
ম্যালের ওই পথে গাড়ি চলতে দেওয়া হয় না। ওরা যখন ম্যালে ফিরে আসছিল, তখন ভালো ভিড় জমেছে। শুটিং পার্টি দেখে অনেকেই উৎসুক হয়ে কাছে এল। প্রত্যেকেই ঊর্মিলাকে চিনতে পারল। সেটা বুঝে ঊর্মিলা-র চালচলন বদলে গেল। সে ন্যাকা গলায় বলল, ‘আচ্ছা, আমি একটু হোটেল থেকে ঘুরে আসতে চাই।’
‘কেন?’ গীতিময় জিজ্ঞাসা করলেন।
‘ব্যক্তিগত ব্যাপার।’ ঠোঁট কামড়াল ঊর্মিলা।
‘তাড়াতাড়ি এসো। কতক্ষণ আলো থাকবে জানি না।’ গীতিময় বললেন।
ইউনিটের সবাই ম্যালের বিভিন্ন বেঞ্চিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে পড়ল। এইসময় একজন প্রোডাকশন বয় এসে নবকুমারকে বলল, ‘বড়বাবু আপনাকে ডাকছেন।’
চারপাশে তাকিয়ে বড়বাবুকে দেখতে না পেয়ে নবকুমার বলল, ‘উনি কোথায়?’
‘আসুন।’ ছেলেটি নবকুমারকে বড়বাবুর কাছে নিয়ে গেল। তিনি তখন ম্যালের লাগোয়া একটি রেস্তোরাঁর দোতলায় জানলার পাশে বসেছিলেন। পাশে তাঁর মেয়ে বসে আছে।
বড়বাবু বললেন, ‘এসো নবকুমার।’ তারপর ইশারা করলেন প্রোডাকশনের ছেলেটিকে চলে যেতে। সে চলে গেলে বড়বাবু বললেন, ‘শুনলাম ঊর্মিলা তোমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেনি। তুমি কি কিছু মনে করেছ?’
মাথা নেড়ে ‘না’ বলল নবকুমার।
‘এটাও শুনলাম বিদিশা-র সঙ্গে তোমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতা হয়েছে। আরে! লজ্জা পাচ্ছ কেন? তুমি যৌবনের ধর্ম পালন করছ। বিদিশা তো খারাপ নয়। একটু-আধটু ড্রিঙ্ক করে এই যা।’ বড়বাবু বললেন।
‘ওমা! ড্রিঙ্ক করা খারাপ হবে কেন? তুমিও তো করো!’ পাশ থেকে বড়বাবুর মেয়ে বলে উঠল।
‘আমি তোমাকে কতবার বলেছি, বড়রা যখন কথা বলবে, তখন তুমি চুপ করে থাকবে, একদম কথা বলবে না। বলেছি?’
‘হ্যাঁ, একশো একাশিবার, এখন একশো বিরাশিবার হল।’
‘ভুলে যাচ্ছ কেন?’ বড়বাবু নিজেকে সামলালেন—’এক কাজ করো! তুমি একা দশ মিনিটের জন্যে ম্যালে ঘুরে এসো।’
‘না, বাবা!’
‘কেন?’
‘তুমিই তো বলেছ, দার্জিলিং-এ যেসব ছেলে বেড়াতে আসে তাদের চরিত্র ভালো নয়। একা মেয়ে দেখলে যদি চরিত্রহীন হয়ে যায়!’
‘হতে পারবে না। আমি গীতিময়কে ফোনে বলে দিচ্ছি।’ পকেট থেকে মোবাইল বের করলেন বড়বাবু।
‘আচ্ছা, এই হিরো যদি আমার সঙ্গে থাকে, তা হলে কেউ আমাকে বিরক্ত করতে সাহস পাবে না। এই, তুমি আমার সঙ্গে চলো।’—বড়বাবুর মেয়ে উঠে দাঁড়াল।
বড়বাবু মোবাইলে গীতিময়কে নির্দেশ দিয়ে বললেন, ‘না, ও যাবে না। ওর সঙ্গে আমার সিরিয়াস কথা আছে। যাও, ঘুরে এসো।’
বেজার মুখে মেয়ে চলে গেলে বড়বাবু বললেন, ‘যতদূর আমি জানতাম, তোমার মদ্যপান করার অভ্যেস ছিল না। দার্জিলিং-এ এসে বিদিশার কাছে হাতেখড়ি হয়েছে। আর মদ খেলে মানুষের চেতনা ঠিক থাকে না। নেশার ঘোরে তোমাদের শারীরিক সম্পর্ক হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এই খবরটা চাউর হলে তুমি একজন হিতৈষীকে হারাবে। আমি অবশ্য তাতে খুশি।’
‘আপনি এসব কথা কেন বলছেন?’ একটু উষ্ণ গলায় বলল নবকুমার।
‘আরে! তুমি যেন আকাশ থেকে পড়লে!’
‘আমি আজ পর্যন্ত মদ খাইনি।’
‘মিথ্যে কথা।’ বড়বাবু হাসলেন।
‘বিশ্বাস করুন।’
‘বিশ্বাস করার কোনও সুযোগ নেই। তুমি গেস্ট হাউজের বন্ধ ঘরে, বিদিশার সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হুইস্কির বোতল থেকে গঙ্গাজল খাওনি? তার ওপর বিদিশা ওর স্বামীর সঙ্গে থাকে না, ডিভোর্স চেয়ে কোর্টে গিয়েছে। তার আগেই ওর স্বামী নার্সিংহোমে খাবি খাচ্ছে।’
‘বড়বাবু আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন।’
‘আমি ভুল বললেও টুনি বলবে না।’
‘টুনি?’
‘বিদিশা-র পরিচারিকা।’
‘টুনি বলেছে?’
‘এখনও সবাইকে বলেনি, তবে মন্দাক্রান্তাকে বলবে।’
হকচকিয়ে গেল নবকুমার—’মানে?’
‘মন্দাক্রান্তা তোমাকে স্নেহটেহ কীসব করে। বিদিশা-র খাস পরিচারিকার মুখে যদি এইসব কাহিনি সে শোনে, তা হলে কী হবে, তা ভাবতে পারো? মেয়েরা সব সহ্য করতে পারে, কিন্তু যাকে প্রিয় ভাবে, সেই মানুষ যদি অন্য মেয়েমানুষের সঙ্গে মদ খেয়ে শোয়, তা হলে তাকে ছেঁড়া জুতোর মতো ছুড়ে ফেলে দেবে। খুব খারাপ লাগছে হে!’—বড়বাবু বললেন।
নবকুমার কিছুই ভেবে পাচ্ছিল না। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আপনি আমাকে ছেড়ে দিন বড়বাবু।’
‘মানে?’ চোখ বড় করলেন বড়বাবু।
‘আমি আপনার হুকুমে মন্দাক্রান্তাদির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখিনি। তিনি আমার জন্যে যা করেছেন, তা নিজের বোন ছাড়া কেউ করে না। তবু আপনার হুকুম মেনেছি। এখন এইসব মিথ্যে বলে আপনি তাঁর মন আরও বিরূপ করে দিতে চান? আপনি আমাকে ছেড়ে দিন।’ নবকুমার বলল।
‘ছেড়ে দিলে কী করবে?’
‘ভাবিনি।’
‘এই যে লাখ লাখ টাকা ছবির পিছনে খরচ করলাম, তার কী হবে? ছেড়ে দিলে কে টাকাগুলো ফেরত দেবে? তুমি?’
‘আমার তো সেই ক্ষমতা নেই। কিন্তু যা করিনি, তার দায় আমি নিতে পারব না।’ নবকুমার বলল।
আচমকা হো হো শব্দে হেসে উঠলেন বড়বাবু। হাসি থামিয়ে তিনি বললেন, ‘আমি তোমাকে পরীক্ষা করছিলাম হে! টুনি কিছুই বলেনি। কিন্তু আমার ভয় হয়, মন্দাক্রান্তা তোমার সম্পর্কে খুব দুর্বল। ওটা স্নেহ না প্রেম, তাই বুঝতে পারছি না।’
