কুড়ি
হাওড়া স্টেশনে প্রচুর মানুষ, কিন্তু কেউ তাকে আলাদা করে দেখছে না বলে স্বস্তি পেল নবকুমার। বাবা এবং মা এল সাড়ে এগারোটার টেনে। বাবার হাতে একটা কাপড়ের ব্যাগ, মায়ের হাতে ঝোলা। সে এগিয়ে গিয়ে ঝোলাটা নিতে চাইলে মা বলল, ‘বাবার ব্যাগটা নে, ওটা ভারী।’ বাবা আপত্তি করল না। নবকুমার হেসে জিজ্ঞাসা করল—’এত কী নিয়ে এসেছ?’
‘তোর মাকে অনেক বলেছি, শুনলে তো।’
গতকাল ‘হোটেল হিন্দুস্থান’ থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় প্রোডাকশন ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। একটু ইতস্তত করেও তাকে সে গাড়ির কথা বলেছিল। হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়ে ট্যাক্সি পেতে অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হয়। মাকে ওইভাবে দাঁড় করিয়ে রাখতে চাইছিল না সে। প্রোডাকশন ম্যানেজার এককথায় রাজি হয়ে গিয়েছিল। তাই আজ সেই গাড়ি নিয়ে স্টেশনে এসেছিল নবকুমার।
ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের দিকে না গিয়ে পাশের পার্কিং-এর দিকে নবকুমারকে যেতে দেখে বাবা জিজ্ঞাসা করল—’এদিকে কি বাস পাওয়া যাবে?’
‘না, না। গাড়ি নিয়ে এসেছি।’
‘গাড়ি!’ বাবা অবাক—’তুই কি গাড়ি কিনেছিস?’
‘না, না। আমাদের প্রোডাকশনের গাড়ি।’
গাড়ির দরজা খুলে দাঁড়িয়েছিল ড্রাইভার। বাবা এবং মাকে পিছনে বসিয়ে মালপত্র ডিকিতে তুলে ড্রাইভারের পাশে উঠে বসল নবকুমার। পিছন থেকে বাবা জিজ্ঞাসা করল—’এই গাড়ি ব্যবহার করার জন্য তোকে কি ভাড়া দিতে হবে?’
প্রশ্নটা শোনামাত্র নবকুমারের মাথায় সতর্কবাজনা বেজে উঠল। সে ড্রাইভারের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে নীরবে মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বলল।
‘ভালো।’ কখনও কারও অনুগ্রহ নিবি না। নিলে জানবি তিনি তোকে ব্যবহার করবেন। কথাটা সবসময় মনে রাখবি।’ বাবা বলল।
মিথ্যে বলার জন্য খারাপ লাগছিল, কিন্তু এই মুহূর্তে কোনও উপায় নেই।
গাড়ি চলছে কলকাতার পথ দিয়ে। মা চুপচাপ বাইরে তাকিয়ে আছে। নবকুমারের নিশ্চিত ধারণা, মা এই প্রথম কলকাতায় এল। শুধু কলকাতা কেন, একমাত্র বাপের বাড়ি ছাড়া মা গ্রামের বাইরে গিয়েছে কি না সন্দেহ।
গাড়ি পৌঁছে গেলে নবকুমার বলল, ‘এসে গিয়েছি।’
গাড়ি থেকে নেমে মাথা হেলিয়ে বাড়িটাকে দেখে বাবা বলল, ‘খুব উঁচু বাড়ি তো! কত তলায় থাকিস?’
‘একটু ওপরে! অসুবিধা হবে না, লিফট আছে।’
‘তোর মা কি লিফটে উঠে ওপরে যেতে পারবে? মাথা ঘুরবে তো!’
তেমন কিছু হল না। বেল বাজাতেই মুক্তো দরজা খুলে দিয়ে একপাশে সরে দাঁড়াল। বাবা জিজ্ঞাসা করল—’ইনি?’
মা জবাব দিল—’মুক্তো, তাই তো?’
মুক্তো দ্রুত মাথা নেড়ে মায়ের হাত থেকে ঝোলা নিয়ে বলল, ‘আসুন মা। আপনারা আসবেন শুনে খুব ভালো লেগেছে।’
মুক্তো মাকে ফ্ল্যাট ঘুরিয়ে দেখাল। বাবা চেয়ারে বসে জিজ্ঞাসা করল—’এই ফ্ল্যাটে থাকার জন্য কত ভাড়া দিতে হয়?’
একবার মিথ্যে বলেছে, এত তাড়াতাড়ি আবার সরাসরি মিথ্যে বলতে পারল না নবকুমার। বলল, ‘ওরা টাকা দেওয়ার সময় ভাড়া কেটে নেবে।’
‘এরকম ফ্ল্যাটের ভাড়া তো অনেক! দ্যাখ, কেটে নেওয়ার পর হাতে কী পাস।’
মুক্তো এসে দাঁড়াল—’এখন কি চা খাবেন, না লেবুর শরবৎ করে দেব?’
‘না, অনেক বেলা হয়ে গিয়েছে। এখন ভাত খেয়ে নিলেই হয়। রান্না হয়েছে কি?’
‘হ্যাঁ।’
‘কী রান্না হয়েছে?’
‘ভাত, শুক্তো, ডাল, ভাজা, তরকারি আর মাছের ঝোল;’
‘বাঃ! চমৎকার!’ বাবার মুখে হাসি ফুটল।
‘তা হলে তোমরা স্নান করে নাও।’ নবকুমার বলল।
‘আমরা ওসব করেই বেরিয়েছি। বাবার কথার মধ্যেই নবকুমারের মোবাইল বেজে উঠল। পকেট থেকে যন্ত্রটা বের করে অবাক হল সে। মন্দাক্রান্তা ফোন করছেন।
‘হ্যালো।’ গলার স্বর স্বাভাবিক রাখতে চাইল নবকুমার।
‘তোমার মা কি এসেছেন?’
‘হ্যাঁ।’
‘গুড। আজ বিকেল চারটের সময় থিয়েটার রোডের নাইটিঙ্গল নার্সিংহোমে ওঁকে নিয়ে যাবে। রিসেপশনে ডক্টর নন্দী-র কথা জিজ্ঞাসা করবে। ওঁর সঙ্গে আমার কথা হয়ে গিয়েছে। খুব ভালো ডাক্তার।’
‘ঠিক আছে।’
‘সাড়ে তিনটের মধ্যে গাড়ি যাবে তোমার কাছে। যে গাড়ি স্টেশনে গিয়েছিল, তার ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে যাবে। ও হ্যাঁ। ডাক্তারের দক্ষিণা পাঁচশো টাকা। রাখছি। উনি কী বললেন আমাকে জানিও।’ মন্দাক্রান্তা লাইন কেটে দিলেন।
খেতে বসল ওরা। মা কিছুতেই সঙ্গে বসল না, বলল, ‘পরে খাব।’ খেতে খেতে বাবা জিজ্ঞাসা করল—’কোনও ডাক্তারের খবর নিয়েছিস?’
‘হ্যাঁ, ডক্টর নন্দী, আজ বিকেল চারটের সময় যেতে বলেছেন।’
‘অ্যাঁ? চারটে কেন, এখনই দেখা করা যাবে না?’
‘না। উনি চারটের সময় দেখবেন।’
‘আশ্চর্য! আমার টেন তো সাড়ে তিনটের সময়। চারটে হলে তো আমি থাকতে পারব না। আবার তোর ওপর ভরসা করে ওকে রেখে যেতে পারছি না।’
‘আজ না গেলেই নয়?’
‘কী বুদ্ধি তোর! আমরা কেউ থাকছি না জানাজানি হলে রাত্রে চোরের পর চোর বাড়িতে ঢুকবে।’ বাবাকে খুব বিরক্ত দেখাল।
‘পরের টেনে গেলেই তো হয়। ছ’টার সময় টেন আছে।’
‘তাই যাওয়া ছাড়া তো কোনও উপায় দেখছি না।’ বাবা বলল।
মুক্তো-র রান্না মায়েরও ভালো লাগল। কিন্তু মায়ের খাওয়ার পরিমাণ দেখে মুক্তোও অবাক হল—’আপনি তো কিছুই খেলেন না মা, এত কম খেলে তো শরীর থাকবে না!’
বাবা বলল, ‘এই তো চলছে। কত বলেছি, খেতে ইচ্ছে না করলেও জোর করে খাও। যা খেতে ভালো লাগে, তাই খাবে। কিন্তু আমার কথা শুনলে তো কলকাতায় ডাক্তার দেখাতে আসতে হত না!’
মা হাসল, কিছু বলল না।
কলকাতার কোনও নার্সিংহোমে কোনওদিন নবকুমার যায়নি। কিন্তু ড্রাইভার যখন থিয়েটার রোডের নার্সিংহোমে পৌঁছেছিল, তখন সে দেখল কোনও অসুবিধাই হল না। কয়েক মিনিটের মধ্যে ওরা ডক্টর নন্দী-র চেম্বারে পৌঁছে গেল। মধ্যবয়সি মোটাসোটা মানুষটি ওদের বসতে বলার পর মায়ের দিকে তাকালেন—’বলুন মা, কী সমস্যা হচ্ছে?’
মা বাবার দিকে তাকাল।
ডক্টর নন্দী বললেন, ‘আপনারা তো গ্রামে থাকেন। সেখানে নিশ্চয়ই ডাক্তার আছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। কমসে কম সদর হাসপাতাল তো আছেই। সেখানে না গিয়ে কলকাতায় আমার কাছে…নিশ্চয়ই কোনও কারণ তো আছে!’
নবকুমার বলল, ‘মা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল কাল!’
ডক্টর নন্দী বাবার দিকে তাকালেন—’একটু পরিষ্কার করে বলুন।’
এবার বাবা যা জানেন, তা বিশদে বললেন। শোনার পর ডক্টর নন্দী বললেন, ‘মা, কোনও সংকোচ না করে ওই শোয়ার জায়গাটায় শুয়ে পড়ুন।’
মাকে পরীক্ষা করার পর ডক্টর নন্দী বললেন, ‘আপনি উঠবেন না, একটু শুয়ে থাকুন।’ তারপর নিজের চেয়ারে গিয়ে বসে জিজ্ঞাসা করলেন—’কয়েকটা দিন কলকাতায় থাকতে হবে যে। কাল সকালে নার্সিংহোমে আপনার মাকে নিয়ে আসবেন নবকুমারবাবু। যদি আজই এখানে ভর্তি করা সম্ভব হয়, তা হলে তো কথাই নেই। ওঁর অনেকগুলো টেস্ট করা খুব দরকার। আজ রাতে এখানে থাকলে, মেজর রিপোর্টগুলো কাল বিকেলে পেয়ে যাব। কোনও অসুবিধা হবে?’
নবকুমার বাবার দিকে তাকাল। বাবা বলল, ‘আমরা তো এসব কিছুই বুঝি না। যাতে ভালো হবে তা-ই করুন।’
‘তা হলে ভর্তি করে দিন।’ টেলিফোনের রিসিভার তুলে কাউকে নির্দেশ দিয়ে বললেন, ‘ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ওঁকে এখানে ভর্তি করে আপনারা চলে যান। সঙ্গে যদি টাকাপয়সা না এনে থাকেন, তা হলে কাল দিয়ে দেবেন!’ ডক্টর নন্দী নবকুমারের দিকে তাকালেন—’আপনি তো ভাই ছবির হিরো হয়েছেন।’
মাথা নাড়ল নবকুমার।
বাবা বলল, ‘আমার কাছে কিছু টাকা আছে, যদি বলেন তা হলে জমা দিয়ে দিতে পারি।’
‘বেশ তো!’ আবার রিসিভার তুলে ডক্টর নন্দী বললেন, ‘একটু এসো।’
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এক ভদ্রলোক চেম্বারে ঢুকলেন—’বলুন স্যর।’
নিজের প্যাডে ততক্ষণে কিছু লিখে ফেলেছেন ডক্টর নন্দী। সেই কাগজ ভদ্রলোকের হাতে দিয়ে বললেন, ‘ওঁকে ভর্তি করিয়ে নিন। এই টেস্টগুলো হবে। রাত সাড়ে সাতটার মধ্যেই যা খাওয়ার খাইয়ে দিতে হবে। কিছু টাকা এখন জমা দেবেন এঁরা, ব্যবস্থা করে দিন।’
‘ঠিক আছে স্যর।’ কাগজ হাতে নিয়ে চোখ বুলিয়ে ভদ্রলোক বললেন, ‘স্যর, পেশেন্টের নামটা যদি লিখে দেন…।’
‘অ্যাঁ। ও হো। সরি, মা, আপনার নামটা যদি বলেন…’
টাকা জমা দিয়ে মাকে বেডে পৌঁছে বাবা চলে গেল। বলে গেল, ‘যা শুনলাম, তাতে কাল সকালে এসে কোনও লাভ হবে না। রিপোর্ট পাওয়া যাবে বিকেলবেলায়। যদি বাড়ির একটা ব্যবস্থা করতে পারি, তা হলে বিকেলে সরাসরি এখানেই চলে আসব।’
‘গাড়ির ব্যবস্থা করব?’
‘কোনও দরকার নেই। ট্রাম-বাস তো রয়েছে। আমি যাচ্ছি।’
বাবা বেরিয়ে গেলে নবকুমার মায়ের কাছে পৌঁছে দেখল মিষ্টি চেহারার একজন নার্স হাত-পা নেড়ে কথা বলছে। তাকে দেখে মেয়েটি হেসে বলল, ‘আমার কী সৌভাগ্য!’
নবকুমার অবাক হয়ে তাকাতেই বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় মা বলল, ‘তুই যে সিনেমায় নেমেছিস, তা ওকে বললাম।’
মেয়েটি বলল, ‘আজকের কাগজে যে আপনার ছবি বেরিয়েছে, তা মাসিমা দ্যাখেননি। আমি এনে দেখাব।’
নবকুমার নিজের অজান্তেই গম্ভীর হল—’আমরা তো তৈরি হয়ে আসিনি, ডক্টর নন্দী-র কাছে মাকে দেখাতে এসেছিলাম। উনি এখনই ভর্তি করে নিলেন। তাই কাল পর্যন্ত এখানে থাকার সময় মায়ের কী কী দরকার হবে, তা যদি বলে দেন, তা হলে কিনে দিয়ে যেতে পারি।’
‘আপনাকে কিছুই কিনে দিয়ে যেতে হবে না।’ মেয়েটি যেন অকারণেই হাসল—’এখানে সব ব্যবস্থা আছে। যেটা পাওয়া যাবে না, সেটা আমি ম্যানেজ করে দেব।’
মা বলল, ‘তুই চিন্তা করিস না। পদ্মাবতী খুব ভালো মেয়ে।’
পদ্মাবতী! মা ভর্তি হয়েছে বড়জোর মিনিট কুড়ি কি পঁচিশ আগে। এর মধ্যে নার্সের নাম জেনে গিয়েছে। মাকে কি একটু সতর্ক করে দেওয়া উচিত নয়? গ্রাম থেকে মানুষকে বিশ্বাস করতে অভ্যস্ত হলেও কলকাতায় অচেনা কারও সঙ্গে চট করে ঘনিষ্ঠতা করলে ফল খারাপ হতে পারে। কিন্তু এই কথাগুলো তো পদ্মাবতী নামের মহিলার সামনে বলা যাচ্ছে না।
‘ঠিক আছে, তুমি তো তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়বে। চেষ্টা কোরো যাতে পেটে কিছু যায়। দুপুরে তো কিছুই খাওনি।’ নবকুমার বলল।
‘আপনি কিছু ভাববেন না। আমার ডিউটি শেষ হবে রাত আটটায়। তার আগে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মাসিমাকে খাইয়ে তবে যাব।’ পদ্মাবতী বলল।
কথাগুলো যেন কানে যায়নি এমন ভাব করে নবকুমার বলল, ‘আমি তা হলে আজ যাচ্ছি। কাল সকালে এসে দেখা করে যাব।’
মা কিছু বলার আগেই পদ্মাবতী বলল, ‘সেই ভালো। সকালে আমার ডিউটি শুরু হবে দশটায়। ভিজিটর্স আওয়ার তো তার পরে।’ বলে সে হাসল।
নার্সিংহোম থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে নবকুমার ড্রাইভারকে বলল, বাড়িতে ফিরে যেতে। আর তখনই তার খেয়াল হল, ডক্টর নন্দী’কে তাঁর দক্ষিণা দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া মন্দাক্রান্তা বলেছিলেন, ডাক্তার দেখানোর পর তাঁকে ফোন করতে। সে ড্রাইভারকে বলল, ‘ভাই, গাড়ি ঘুরিয়ে নার্সিংহোমে চলুন।’
‘এটা যে ওয়ান ওয়ে, নার্সিংহোম যেতে হলে অনেক ঘুরে যেতে হবে।’ ড্রাইভার বলল, আর তখনই মোবাইল বেজে উঠতে নবকুমার দেখল মন্দাক্রান্তার নাম ফুটে উঠেছে। সে চটপট যন্ত্র চালু করে বলল, ‘আমি আপনাকে ফোন করতে যাচ্ছিলাম। ডক্টর নন্দী’কে দেখানোর পর তিনি মাকে নার্সিংহোমে ভর্তি করে নিয়েছেন। কাল মায়ের অনেকগুলো টেস্ট হবে।’
একটু চুপ করে থেকে মন্দাক্রান্তা জিজ্ঞাসা করলেন—’তোমার মা এখন কেমন আছেন?’
‘বোধ হয় আগের থেকে একটু ভালো।’
‘কিন্তু ডক্টর নন্দী সেকথা বললেন না।’
‘কী বললেন? মানে, আপনার সঙ্গে ওঁর কথা হয়েছে?’
‘তুমি আমাকে ফোন না করায় আমি ডক্টর নন্দীকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে যা বললেন, তা ঠিক কি না, রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।’
‘ডক্টর নন্দী কি খারাপ কিছু বলেছেন?’ উদ্বিগ্ন হল নবকুমার।
‘অনুমানের ওপর নির্ভর করেন না বলেই ডক্টর নন্দী টেস্ট করতে বলেছেন। ও হাঁ, তোমরা কি নার্সিংহোমে টাকা জমা দিয়েছ?’
‘হ্যাঁ। বাবা দিয়েছেন। কিন্তু…!’
‘কিন্তু কী?’
‘ডক্টর নন্দীকে ফিজ দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। আসলে হঠাৎই মাকে ভর্তি করার তোড়জোড় হওয়ায় মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। আমি ড্রাইভারকে বলেছি গাড়ি ঘুরিয়ে নার্সিংহোমে নিয়ে যেতে, যাতে আমি টাকাটা দিয়ে আসতে পারি।’ নবকুমারের গলায় অপরাধীর সুর ফুটল।
‘দরকার নেই। কাল গিয়ে ক্ষমা চেয়ে টাকাটা দিয়ে দিও।’ মন্দাক্রান্তা হাসলেন—’নবকুমার, তোমার সঙ্গে ডক্টর নন্দী-র যোগাযোগ যে আমার জন্য হয়েছে, একথা এখনও পর্যন্ত কাউকে বলেছ?’
‘না তো!’
‘বড়বাবু যদি জানতে চান, তা হলে কী বলবে?’
‘যা সত্যি, তাই বলব।’ নবকুমার বলল, ‘আপনি যে সাহায্য করেছেন, তার জন্য আমি…।’
‘ঠিক আছে। কিন্তু নবকুমার, একটা কথা দিতে হবে তোমাকে।’
‘বলুন।’
‘এই কথা আর কাউকে জানানোর দরকার নেই।’ ফোন রেখে দিলেন মন্দাক্রান্তা। গাড়ি দাঁড়িয়েছিল রাস্তায়। সামনে গাড়ির পর গাড়ি দাঁড়িয়ে। ঘামতে লাগল নবকুমার। ড্রাইভার জিজ্ঞাসা করল—’এসি চালিয়ে দেব?’
‘না’—মাথা নাড়ল নবকুমার।
