ক্যালকাতায় নবকুমার – ২২

বাইশ

পাশে চলে এল লোকটা—’বড় ভালো খবর আছে দাদা, খাওয়াতে হবে কিন্তু!’

হাঁটতে হাঁটতেই তাকাল নবকুমার। স্টুডিওতে অনেক লোক ঘোরে, একে এর আগে নিশ্চয়ই দেখেছে সে, কিন্তু ভালো করে লক্ষ করেনি। গ্রামের বাজারে যেসব ফড়ে আসে, তাদের মতো ধরনধারণ। সে জিজ্ঞাসা করল—’কীরকম?’

‘আজ তো শুটিং বন্ধ। তাই ফ্লোরের সামনের লনে চেয়ার পেতে ওঁরা গল্প করছিলেন। আপনি এসেছেন শুনে বললেন ডেকে আনতে।’—লোকটা বলল।

‘কারা?’

‘প্রোডিউসার, তাঁর বন্ধু, ডিরেক্টর আর ক্যামেরাম্যান। আপনার ওপর নজর ছিল ডিরেক্টরের। যদি লেগে যায়, তা হলে আমাকে সাহায্য করবেন তো?’ লোকটা হাঁটতে হাঁটতেই হাতজোড় করল।

‘সাহায্য করব মানে? ঠিক কী বলতে চাইছ?’ অবাক চোখে তাকাল নবকুমার।

লোকটা বোকা বোকা হাসি হাসল—’না, কিছু না। চলুন।’

স্টুডিওতে অনেকগুলো শুটিং-এর ফ্লোর। তার একটার সামনের লনে চেয়ার পেতে বসেছিলেন চারজন লোক। দুজন মধ্যবয়সি, দুজন প্রবীণ। তাকে দেখে প্রবীণদের একজন বললেন, ‘এসো ভাই। নন্দ, একটা চেয়ার এনে দে।’

প্রবীণ আবার বললেন, ‘বয়সে অনেক ছোট তো, তাই তুমি বলছি, আশা করি, তাতে কিছু মনে করছ না!’

‘না।’ হাসতে চেষ্টা করল নবকুমার—’ঠিকই আছে।’

‘তোমার চোখ-মুখ বলছে, তুমি আমাকে চিনতে পারছ না।’ প্রবীণ হাসলেন।

দ্বিতীয় প্রবীণ ভদ্রলোক বললেন, ‘উনি বিখ্যাত পরিচালক অজিত মুখার্জি।

নবকুমার হাতজোড় করল—’আমি তো ঠিক…’

‘আরে, জানি জানি। তোমার বায়োডাটা জেনে নিয়েছি। গ্রাম থেকে শহরে চলে এসে চিৎপুরের যাত্রাপার্টিতে ঢুকেছিলে। সেখান থেকে বড়বাবুর হাত ধরে গীতিময়ের ছবির হিরো। তোমার পক্ষে সিনেমাজগৎটাকে জানা সম্ভব হয়নি।’ প্রবীণ ভদ্রলোক হাসতে হাসতে বললেন।

দ্বিতীয়জন নীচু গলায় বললেন, ‘আবার চিৎপুরের কথা কেন?’

‘তাতে কী হয়েছে? এইটে আমি বুঝি না। মানুষ তার অতীত আঁকড়ে নিশ্চয়ই পড়ে থাকবে না, কিন্তু ভুলে যাবে কেন? এই যে উত্তমকুমার, ফিল্মে আসার আগে পোর্ট কমিশনার্সে পাতি চাকরি করতেন, তা কি কখনও অস্বীকার করেছেন? করেননি। হ্যাঁ ভাই নবকুমার, এঁদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিচ্ছি। ইনি স্বপন ঘোষাল, উনি অরুণ দত্ত। এঁরা দুই বন্ধু। প্রোডিউসার। এর আগে দুটি ছবি করেছেন। আমার পরের ছবির প্রযোজনার দায়িত্ব এঁরাই নিয়েছেন। আর এই যে সাদা চুলের লোকটিকে দেখছ, ইনি বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান সতু সাহা। চুলগুলো কিন্তু পাকেনি, অল্প বয়সেই সাদা হয়ে গিয়েছে।’ অজিত মুখার্জি পরিচয় করালেন।

নবকুমার সবাইকে নমস্কার জানাল। ওঁরাও হাতজোড় করলেন। এইসময় নন্দ নামের লোকটা চেয়ার রেখে দিয়ে গেল।

সতু সাহা বললেন, ‘চুল সাদা হওয়ার ব্যাপারে আমার কোনও ভূমিকা নেই ভাই, বাপ-ঠাকুরদার থেকে পেয়েছি এটা।’

স্বপন ঘোষাল কথা বললেন, ‘ ”পদ্মপাতায় জল” তো রিলিজ করতে চলেছে।’

‘হ্যাঁ।’

‘ছবি তো দেখেছেন। কেমন হয়েছে?’ অরুণ দত্ত জিজ্ঞাসা করলেন।

‘আমি সম্পূর্ণ ছবি দেখিনি। ডাব করার সময় যেটুকু দেখেছি।’ নবকুমার বলল।

‘ছবি মোটামুটি।’ অজিত মুখার্জি বললেন, ‘তোমাকে পাবলিকের ভালো লাগবে, এই রিপোর্ট পেয়েছি। বড়বাবু তো গীতিময়কে টাইটে রেখেছিলেন, তাই যেটুকু ভালো হওয়ার তা হয়েছে।’

সতু সাহা জিজ্ঞাসা করলেন—’ ”পদ্মপাতায় জল”-এর পর কোনও ছবি করছ?’

‘এখনও কেউ বলেননি।’ সরল গলায় বলল নবকুমার।

অজিত মুখার্জি স্বপন ঘোষালের দিকে তাকালেন—’এবার আপনি বলুন।’

স্বপন ঘোষাল বললেন, ‘আমাদের ছবি আর্ট ফিল্ম নয়। আবার সস্তা সেন্টিমেন্টাল গল্প নিয়েও ছবি করতে চাই না। যেমন, তরুণবাবুর ”বালিকা বধূ”, ”সংসার সীমান্তে”—ওইরকম গল্প নিয়ে অজিতবাবু যে ছবি করতে যাচ্ছেন, তার নায়ক চরিত্রে আপনি অভিনয় করুন, এটা ওঁর ইচ্ছে। পরিচালকের ইচ্ছেকে সম্মান দেখাতে চাই। অজিতদা, এবার আপনি বলুন।’

অজিত মুখার্জি বললেন, ‘দ্যাখো ভাই, প্রথম ছবি হল, ভিত তৈরির জন্য মাটি খোঁড়া। সেই কাজটা তোমার হয়েছে। দ্বিতীয় ছবি হল, সেই গর্তে শক্ত ভিত তৈরি করা। তৃতীয় ছবি হল, দেওয়াল তোলা। চতুর্থ ছবি হল, ছাদ বানানো। তবেই অভিনেতার ঘর পাকাপোক্ত হবে। আমার এই গল্পের যে চরিত্র তুমি করবে, তাতে যদি সিনসিয়ার থাকো, তা হলে তোমার ভিত শক্ত হয়ে যাবেই।’

চুপচাপ শুনছিল নবকুমার। কথাগুলো ভালো লাগছিল তার।

এবার সতু সাহ! বললেন, ‘আর কিছুদিন পরে ”পদ্মপাতায় জল” রিলিজ করবে। ছবির ভাগ্য এবং তোমার কপাল দেখার পর সই করানোটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তোমার কপাল যদি ভালো হয়, তা হলে আমাদের বাজেট বেড়ে যাবে।’

‘বুঝতে পারলাম না।’ নবকুমার বলল।

অজিত মুখার্জি হাসলেন—’যদি পাবলিক তোমাকে অ্যাকসেপ্ট করে, তা হলে অনেক প্রযোজক-পরিচালক ছবিতে নিতে চাইবে। তরতর করে দর বেড়ে যাবে তোমার। আচ্ছা, গীতিময়ের ছবিতে ওরা কত দিচ্ছে তোমাকে?’

‘মাঝে-মাঝেই দিচ্ছে, হিসেব করিনি।’ এড়াতে চাইল নবকুমার।

স্বপন ঘোষাল বললেন, ‘পনেরো দিনের কাজ, দেড়লক্ষ পাবেন। যদি দিন বাড়ে, তা হলে পার ডে দশ হাজার অ্যাড হবে।’

হকচকিয়ে গেল নবকুমার। এত টাকা? মাত্র পনেরো দিনের জন্যে সে দেড়লাখ টাকা রোজগার করবে?

‘কিন্তু একটা চিঠি চাই ভাই।’ অজিত মুখার্জি বললেন।

‘কী চিঠি?’ নবকুমার হকচকিয়ে গেল।

‘এই যে এতদিন যাদের সঙ্গে কাজ করলে, যারা তোমাকে প্রথম সুযোগ দিয়েছে। পরের ছবি করার ব্যাপারে তারা কোনও বাধানিষেধ রাখেনি—এটা ওদের কাছ থেকে লিখিতভাবে আনতে হবে। নইলে পরে ওরা বলবে চুক্তিভঙ্গ হয়েছে, মামলা করবে, সে বহুত ঝামেলা। সিম্পলি দু-কলম লিখে দেবে, অন্য কারও ছবিতে কাজ করলে তোমার ব্যাপারে ওদের আপত্তি নেই।’ অজিত মুখার্জি বললেন, ‘ঠিক আছে?’

‘আমি চেষ্টা করব।’ নবুকমার বলল।

‘হ্যাঁ ভাই, এটা খুব জরুরি।’ স্বপন ঘোষাল বললেন, ‘আমরা বাড়িতে গিয়ে দেখা করতাম। হঠাৎ শুনলাম স্টুডিওতে এসেছেন, তাই কথা হয়ে গেল। আপনি পরশুর মধ্যে আমাদের স্টুডিওর অফিসে কাগজ নিয়ে চলে আসুন। আমরা সই করিয়ে অ্যাডভান্স দিয়ে দেব।’

নবকুমার অজিত মুখার্জির দিকে তাকাল—’আমাকে দিয়ে ওঁরা কোনও কাগজে সই করাননি। কোনও চুক্তি হয়নি।’

‘তা হলে তো খুব ভালো। ওটাই লিখিয়ে নিয়ে এসো।’ অজিত মুখার্জি বললেন।

নমস্কার জানিয়ে উঠে এল নবকুমার।

দেড়লক্ষ টাকা যদি ওরা এখনই দিয়ে দিত, তা হলে মায়ের চিকিৎসার খরচ নিয়ে কোনও দুশ্চিন্তা থাকত না। কিন্তু ওঁরা বলেছেন অ্যাডভান্স দেবেন। হয়তো দশ হাজার টাকা দিয়ে সই করাবেন। সই করার পর ওই চুক্তিপত্র দেখিয়ে তো টাকাটা কারও কাছে ধার হিসেবে নেওয়া যায়। কিন্তু কে দেবে ধার? তার আগে ওই চিঠিটা পাওয়া দরকার। নবকুমার বড়বাবুকে ফোন করল।

‘কী ব্যাপার? এই অসময়ে?’ বড়বাবুর গলায় অসন্তোষ।

‘আপনি কি আমাকে দেখা করার অনুমতি দেবেন?’

‘অনুমতি? ব্যাপার কী? এভাবে কথা বলছ কেন?’

‘খুব দরকার ছিল।’ নবকুমার বলল।

‘ঠিক আছে। কাশীপুর ক্লাবে চলে এসো। বেয়ারাদের জিজ্ঞাসা করলে বলে দেবে আমি কোথায় আছি।’ ফোন রেখে দিলেন বড়বাবু।

কাশীপুর ক্লাব খুঁজে পৌঁছোতে সন্ধে পেরিয়ে গেল। বেয়ারাকে জিজ্ঞাসা করে ক্লাবের বিশেষ একটা ঘরে ঢুকে বড়বাবুকে দেখতে পেল সে। এককোনায় সোফাতে বসে আছেন। একা। সামনে মদের গ্লাস আর খাবারের প্লেট। নবকুমারকে দেখে ঈষৎ জড়ানো গলায় বড়বাবু বললেন, ‘বসো। তাড়াতাড়ি যা বলার, তা বলে বিদায় হও।’

হঠাৎ নবকুমারের মনে হল, এইসময় নতুন ছবির কথা বললে বড়বাবু রেগে যেতে পারেন। পান করে ওঁর মুখ লালচে এবং ফোলা ফোলা দেখাচ্ছে। হঠাৎ মনে হল, মায়ের কথা বললে হয়তো রেগে যাবেন না। সে বলল।

চুপচাপ শুনলেন বড়বাবু। তারপর গম্ভীর গলায় বললেন, ‘এই ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই।’

নবকুমার বিনীত গলায় বলল, ‘আপনি একদিন আমাকে বলেছিলেন, সমস্যায় পড়লে আপনার কাছে আসতে পারি।’

‘বলেছিলাম না কি!’ গ্লাসের তরল পদার্থ অনেকটা গলায় ঢাললেন বড়বাবু।

‘মায়ের অপারেশন দুদিন পরেই হবে। আপনি যদি টাকাটা আমাকে ধার হিসেবে দেন, তা হলে আমি ছ’মাসের মধ্যে শোধ করে দেব।’ নবকুমার বলল।

‘ধার?’

‘হ্যাঁ।’

‘শোধ করার টাকা কোথায় পাবে?’

‘যেখান থেকেই পাই, ঠিক শোধ করব।’

‘ওসব ফালতু কথা আমি বিশ্বাস করি না। বিশ্বাসযোগ্য একটা কিছু দিলে তার বদলে ধার দিতে পারি।’

নবকুমার চুপ করে থাকল। সে ভেবে পাচ্ছিল না কীভাবে নতুন ছবির কথা বড়বাবুকে বলবে।

‘কী ভাবছ? তোমার তো হিতৈষী আছেন। তাঁরা ধার দিচ্ছেন না?’

‘মানে?’ হকচকিয়ে গেল নবকুমার।

‘রাবিশ!’ শূন্যে বাঁ-হাত নাড়লেন বড়বাবু—’তোমার কথা শেষ হয়েছে?’

বড়বাবু তাকে চলে যেতে বলছেন বুঝতে পেরে সাহসী হল নবকুমার—’এই টাকা আমি ছ’মাসের মধ্যে পেতে পারি?’

‘বিয়ে করবে না কি? শ্বশুর যৌতুক দেবে অত টাকা?’

‘আজ্ঞে না। আমি যদি সিনেমায় অভিনয় করি, তা হলে আমাকে ওই টাকা দেওয়া হবে।’ নবকুমার বলল।

‘তুমি তো ইতিমধ্যে করেই ফেলেছ, আবার সিনেমায় অভিনয় করবে মানে?’

‘মানে ”পদ্মপাতায় জল”-এর পরে আর একটা ছবি।’ বলেই থেমে গেল নবকুমার। শোনামাত্র বড়বাবু সোজা হয়ে বসেছেন। তার চোখ ছোট হয়ে গিয়েছে যেন। তারপর নীচু স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন—’এই মতলব তোমাকে কে দিল?’

‘অ্যাঁ।’

‘বলতে হবে না। মন্দাক্রান্তা ছাড়া আর কেউ না। মাটি থেকে তুলে এনে আমি মানুষ করলাম, অথচ বিক্রি করার সময় আমাকে জিজ্ঞাসাই করল না!’

‘আপনি ভুল বুঝছেন।’

‘মিথ্যে বোলো না। তোমার দাম কী? এক কানাকাড়িও নয়। কোনও ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই একটা ছবিতে সুযোগ পেয়েছ। ছবি দেখে দর্শক ছ্যা-ছ্যা করতে পারে। তোমার জন্য ছবি ভোগে যেতে পারে। সেই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেউ তোমাকে দেড়লক্ষ দিতে চাইছে পরের ছবিতে কাজ করার জন্য, তুমি কি ভাবছ আমি ঘাসে মুখ দিয়ে চলি?’ আবার খানিকটা তরল পদার্থ গলায় ঢাললেন বড়বাবু—’তাঁকে বলো আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে।’

হাতজোড় করল নবকুমার—’বিশ্বাস করুন, উনি এসব কিছুই জানেন না।’

‘তা হলে কার সঙ্গে তোমার কথা হয়েছে?’ বড়বাবু বাঘের মতো তাকালেন।

অগত্যা সব কথা খুলে বলল নবকুমার।

‘এই লোকগুলো এখনও আমাকে যাত্রাদলের মালিক বলে ভাবে। তাই ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে চায়। ইডিয়েটস। শোনো, তুমি কার আবিষ্কার?’

‘আপনাদের।’

‘আপনাদের! কর্পোরেশনের জলের কী গুণ! বেশ, সেই আমাদের না জানিয়ে তোমার সঙ্গে কেন কনটাক্ট করল ওরা? তা ছাড়া আমি অনুমতি না দিলে তুমি বাংলা ছবিতে কী করে অভিনয় করবে?’

‘মানে?’

‘তুমি তেলুগু, তামিল, পাঞ্জাবি—যে-কোনও ছবিতে গিয়ে অভিনয় করো, আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু বাংলা ছবিতে এখন যদি সই করতে চাও, তা হলে আমার অনুমতি লাগবে। সেটা আমি দেব না।’

‘কেন?’ মুখ থেকে অসাড়ে প্রশ্নটা বেরিয়ে এল।

‘কেন?’ তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করছ, কেন?’ বড়বাবু চিৎকার করলেন।

‘না, মানে, ”পদ্মপাতায় জল” তো শেষ হয়ে গিয়েছে, এখন তো কোনও কাজ নেই। তা হলে। তা হলে!’ নবকুমার থেমে গেল।

‘শোনো, ছবি রিলিজ হোক, তারপর সাতদিন যাক, তখন তুমি যা ইচ্ছে, তাই করতে পারো। ছবি যদি লেগে যায়, তা হলে ওই সাতদিনের মধ্যে আমি পরের ছবির ব্যাপারে তোমার সঙ্গে চুক্তি করব। আর যদি বুঝি ছবি মুখ থুবড়ে পড়ছে, তা হলে তুমি যা ইচ্ছে তাই করতে পারো।’ বড়বাবু নিজেকে বেশ কষ্ট করে শান্ত করলেন।

‘সেরকম হলে তো ওরা অ্যাডভান্স দেবে না!’

‘সেটা ওদের সমস্যা।’ বড়বাবু গ্লাস শেষ করলেন—’তোমার মা এখন কোথায় আছেন?’

‘নার্সিংহোমে। থিয়েটার রোডের নার্সিংহোমে।’

‘অ্যাঁ। কাকে ধরে ওখানে মাকে ভর্তি করলে? ওখানে কোন ডাক্তার ওঁকে দেখছেন?’ একের পর এক প্রশ্ন করলেন বড়বাবু।

‘ডক্টর নন্দী।’

‘ওঃ, তা হলে মন্দাক্রান্তার সঙ্গে তোমার আজও যোগাযোগ আছে! তা তাকেই বলো না টাকাটা দিয়ে দিতে। ধার চাইতে হবে না, বললে এমনি দিয়ে দেবে। শোনো, তুমি এখন যেতে পারো। আমি তোমাকে কোনও ক্লিয়ারেন্স লিখে দেব না। ছবি রিলিজের পর হয়তো তোমার সেটা দরকারও হবে না। গুড নাইট।’ চলে যাওয়ার জন্য হাত নাড়লেন বড়বাবু।

নবকুমার উঠে দাঁড়াল। বড়বাবুর যেন মনে পড়ে গেল, এমন ভঙ্গিতে বললেন, ‘নিজের মায়ের জন্য ভাববে, সেটা স্বাভাবিক, কিন্তু শেফালি মায়ের খবর নেওয়া তো তোমার কর্তব্য, তাই না? যাও।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *