ক্যালকাতায় নবকুমার – ২৪

চব্বিশ

দরজায় দাঁড়িয়ে নবকুমার মুখ খোলার আগেই বড়বাবু বললেন, ‘বসো।’

নিঃশব্দে চেয়ার টেনে বসল নবকুমার।

বড়বাবু বললেন, ‘খবরটা শুনে খুশি হয়েছি, খুব খুশি হয়েছি। তোমার মাথার ওপরে যিনি ছাতা ধরে আছেন, তিনি নিশ্চয়ই আগেই শুনেছেন এবং শুনে খুশি হয়েছেন?’

কোন খবরে বড়বাবু খুশি হয়েছেন বুঝতে পারল না নবকুমার, কিন্তু উনি যে মন্দাক্রান্তার কথা ব্যঙ্গ করে বললেন, তা বুঝতে অসুবিধে হল না।

বড়বাবু তার দিকে তাকিয়ে আছেন দেখে সে বলতে বাধ্য হল, ‘কোন খবর?’

‘তাই না কি? একাধিক খবর আছে, তা তো শুনিনি। আমি শুনেছিলাম অজিত মুখুজ্জে তোমাকে পরের ছবির অফার করেছে আর তুমি নাচতে নাচতে রাজি হয়েছ। তা হলে অন্যরাও তোমার পিছনে লাইন দিয়েছে?’ বড়বাবু জিজ্ঞাসা করলেন।

‘না, না, আপনি ভুল ভাবছেন। কেউ আমাকে কোনও অফার দেননি। শুধু অজিত মুখার্জিমশাই কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি আপনার কাছ থেকে একটা অনুমতির চিঠি নিয়ে যেতে বলেছেন। আপনাকে তো বলেছি সেকথা।’ নবকুমার বলল।

‘আমি তোমাকে সেই অনুমতিপত্র লিখে দেব না।’ গম্ভীর গলায় বললেন বড়বাবু—’তারপর তুমি কী করবে?’

নবকুমারের মনে পড়ে গেল। সে বলল, ‘আপনি যদি ভবিষ্যতে আর ছবি না করেন, তা হলে তো অন্য ছবিতে অভিনয় করতে পারি!’

‘অভিনয়? অভিনয়ের তুমি কিছু জানো? কার কাছে তুমি অভিনয় শিখেছ? চাষ করতে, গরু চড়াতে গ্রামে। যাত্রাদলে এসে প্রম্পটার হয়েছিলে। এই ফিল্মে যা করেছ, তা গীতিময়ের জন্যই সম্ভব হয়েছে। আমার ফিল্মে একটা গ্রাম্য যুবকের ভূমিকায় তুমি বিহেভ করেছিলে, অভিনয় করতে হয়নি। যদি আমার ফিল্মের নায়ক একটা ছাগল হত, তা হলে ব্যাঁ ব্যাঁ করে ক্যামেরার সামনে যখন সে ডাকত, তখন কি পাবলিক বলত, ওঃ, কী অভিনয়টাই না করল। বলত না।’ বড়বাবু মাথা নাড়লেন—’আমি যে আর ফিল্ম করব না, তা তোমার মনে হচ্ছে কী করে?’

‘এমনিই বললাম। যদি করেন, তা হলে আমাকে নেবেন কি না!’

‘অবশ্যই নেব। দু’মিনিটের চাকরের ভূমিকাতেও নেব।’

‘দু’মিনিটের চাকরের ভূমিকা?’

‘ফ্যাকাসে হয়ে গেলে কেন? একঠেলায় স্বর্গে তুলে দিয়েছি বলে ভেবে নিয়েছ চিরকাল স্বর্গেই থেকে যাবে? আমার পরের ছবি একটি চাকরকে নিয়ে। দু’মিনিট নয়, দু’ঘণ্টা ধরে পর্দায় থাকবে। নাক সিটকাচ্ছ? তুমি উত্তমকুমারের নাম শুনেছ? শুনেছ। বাঃ, গুড! সেই মহানায়ক ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’ ছবিতে চাকরের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এটা জানো?’ বড়বাবু বললেন, ‘যাক, তোমার সঙ্গে কথা বলে আমি সময় নষ্ট করতে চাই না। আমি তোমাকে কোনও অনুমতিপত্র লিখে দেব না। ছবিটা একসপ্তাহ চলুক, তারপর পরিস্থিতি বুঝে তোমাকে রাখব অথবা ছেড়ে দেব।’

মাথা নাড়ল নবকুমার—’আপনি যেমন বলবেন। তা হলে যাই?’

না। বসো। আচ্ছা তোমাকে কেউ কিছু শিখিয়ে দেয়নি?’ বড়বাবু ড্রয়ার খুললেন।

‘কী কথা জিজ্ঞাসা করছেন?’

‘তোমাকে কেউ বলেনি যে, আমি তোমাকে এভাবে আটকে রাখতে পারি না। তোমার সঙ্গে আমি কোনও কন্ট্র্যাক্ট সই করিনি। কোথায় তুমি কাজ করবে সে-ব্যাপারে তোমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। কেউ তোমাকে বলেনি, আমি গায়ের জোরে তোমাকে আটকে রাখার যে চেষ্টা করছি, তা তুমি গিল্ডের কাছে নালিশ করলেই উড়ে যাবে। বলেনি?’ বড়বাবুর চোখ ছোট হয়ে এল।

‘না, বলেনি।’ সত্যি কথা বলল না নবকুমার।

‘মাই গড, এ তো তাজ্জব ব্যাপার! কিন্তু তুমি তো জানো আমি তোমাকে ফিল্মে সুযোগ দেওয়ার সময় কোনও কন্ট্র্যাক্ট সই করাইনি। আইনত তুমি বাধ্য নয় আমার কথা শুনতে। এটা জেনেও তুমি আমাকে ভয় পাচ্ছ কেন?’

এবার একটু হাসি ফুটল নবকুমারের মুখে—’এই কলকাতায় এসেছিলাম মাস্টারদার হাত ধরে। তিনি শেফালি মায়ের বাড়িতে যেমন থাকার জায়গা করে দিয়েছিলেন, তেমনই আপনার যাত্রাদলে নিয়ে গিয়েছিলেন। আপনি দয়া করে প্রম্পটারের চাকরি দিয়েছিলেন। তারপর যখন এই সিনেমা করার কথা ভাবলেন, তখন আমাকেই সুযোগ করে দিলেন। শেফালি মাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও আপনি তাঁর জন্য উকিলের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। আমার থাকার জন্য অত ভালো জায়গায় ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করেছেন। আমাকে যে টাকা দিয়েছেন, তা এর আগে আমি রোজগার করিনি। আমি গ্রামে বড় হয়েছি, যে উপকার করে, আশ্রয় দেয়, তাকে আঘাত দিতে শিখিনি। আপনি আমাকে যা বলেছেন বা বলবেন, তা-ই আমি মেনে নেব।’

‘ভুল, ভুল। একদম ভুল। ওই প্রম্পটারের চাকরি পর্যন্ত ঠিক কথা বলেছ, কিন্তু তার পরের ব্যাপারগুলোয় আমার কোনও ভূমিকা ছিল না।’ বড়বাবু রহস্যের হাসি হাসলেন—’তোমাকে নিশ্চয়ই বুঝিয়ে বলতে হবে না। হ্যাঁ, এবার বলো, তোমার মা কেমন আছেন?’

‘ভালো না। অপারেশন করাতে হবে।’

‘নার্সিংহোম থেকে কোনও এস্টিমেট দিয়েছে?’

‘না, ডাক্তারবাবু একটা আন্দাজ দিয়েছেন।’

‘দূর। ডাক্তাররা অপারেশনের আগে যে টাকা লাগতে পারে বলে এস্টিমেট দেন, তার সঙ্গে নার্সিংহোমের বিলের কোনও মিল থাকে না। অবশ্য এখন নার্সিংহোম এ-ব্যাপারে কিছুই বলতে পারবে না। হয়ে যাওয়ার পর যোগ করে ওরা বলে থাকে। তা টাকার জোগাড় হয়েছে?’ বড়বাবু জিজ্ঞাসা করলেন।

‘না, বাবা কিছু দিতে পারবেন, দরকার হলে গ্রামের জমি বিক্রি করতে হবে। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি তো সেই জমি বিক্রির টাকা পাওয়া যাবে না। খুব চিন্তা হচ্ছে! মা যে হঠাৎ এমন অসুখে পড়বে, তা আন্দাজ করতে পারিনি!’

‘বেশির ভাগ সময় অসুখ যে বাড়ছে, তা আগেভাগেই আন্দাজ করা যায়। শিক্ষার অভাবে মেয়েরা তা প্রকাশ করতে চায় না। তাকে নিয়ে পরিবারের লোকজন বিব্রত হবে, এটা ভেবে সংকোচে চেপে যেতে চায়। যখন পারে না, তখন শরীর বিদ্রোহ করে বলেই পারে না। গ্রামে তোমাদের বিক্রি করার মতো কত জমি আছে?’

‘এক ফসলি, দুই ফসলি মিলে যা আছে, তার কুড়িভাগ বিক্রি করলেই টাকাটার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’ নবকুমার বলল।

‘বাঃ, তা হলে চিন্তা করছ কেন? ব্যাঙ্কে যাও, ওই জমি জমা রেখে ব্যাঙ্ক থেকে লোন নাও। পরে লোন শোধ করলে জমি ফেরত পেয়ে যাবে।’

‘কিন্তু এই লোন পেতে পেতে যে সময় লাগবে, তার আগেই মায়ের অপারেশন হয়ে যাবে।’ নবকুমার উঠে দাঁড়াল—’আমি তা হলে অজিত মুখার্জিকে না বলে দিচ্ছি।’

‘তাঁকে ”না” বললেই তোমার টাকার সমস্যা মিটে যাবে?’ বড়বাবু জিজ্ঞাসা করলেন।

উত্তর না দিয়ে মাথা নীচু করল নবকুমার।

‘তোমার বাবাকে বলো তোমাদের চাষের জমি কত আছে, তার দাম কাঠা অথবা বিঘা প্রতি কত—তার একটা এস্টিমেট তৈরি করে কালই নিয়ে আসতে।’

‘ওভাবে তো বলা যাবে না।’

‘কেন?’

‘রাস্তার ধারের জমি হয়তো কাঠা প্রতি দু’লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে, কিন্তু ভেতরের দিকে এমন জমি আছে, যার একবিঘের দাম কুড়ি হাজারের বেশি কেউ দেবে না।’

‘ঠিক আছে। রাস্তার ধারে কি দশ কাঠা জমি আছে?’

‘তা আছে।’

‘তাতেই হবে। দলিলটা আমার কাছে জমা দিয়ে কালই দু’লক্ষ টাকা নিয়ে যেও। চিকিৎসার জন্য কারও কাছে হাত পাততে হবে না। টাকাটা ফেরত দিলে দলিলও পেয়ে যাবে। কোনও সুদ দিতে হবে না।’

‘কিন্তু রাস্তার ধারের দশ কাঠার দাম তো কুড়ি লক্ষ টাকা।’

‘আঃ, কুড়ি লক্ষ হোক অথবা পঞ্চাশ লক্ষ, তুমি দু’লক্ষ দিলেই দলিল ফেরত পেয়ে যাবে।’

‘বাবা যদি রাজি না হন।’

‘সেটা তোমাদের সিদ্ধান্ত। যেতে পারো।’

নবকুমার গম্ভীর মুখে উঠে দরজার দিকে এগোতেই বড়বাবু পিছন থেকে ডাকলেন—’তোমার যিনি শুভানুধ্যায়িনী, তিনি এইসময় হাত মুঠো করে বসে আছেন। চমৎকার! শোনো, তুমি অজিত মুখুজ্জেকে বলে দাও, আমার কোনও আপত্তি নেই। সে যদি তোমাকে পরের ছবিতে নিতে চায় নিতে পারে। আর যেহেতু তোমার সঙ্গে আমার কোনও চুক্তি হয়নি তাই তোমাকে আমি ক্লিয়ারেন্স দিতে পারি না।’

নবকুমার হতভম্ব হয়ে গেল। কথাগুলো সে ঠিক শুনেছে তো? বড়বাবু একটা প্যাড আর কলম এগিয়ে দিলেন—’এখানে তোমার মায়ের নামটা লিখে দিয়ে যাও। ডক্টর নন্দী আমারও পরিচিত, কথা বলব।’

অদ্ভুত ব্যাপার বলে মনে হল নবকুমারের। অজিত মুখার্জি এবং তাঁর প্রযোজকরা আগের দিন যে আগ্রহ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, আজ তাঁদের নির্লিপ্ত দেখাল। অজিত মুখার্জির অফিসঘরেই ওঁরা বসেছিলেন। তাকে দেখে সাধারণ গলায় অজিত মুখার্জি বললেন, ‘বলো ভাই, কিছু বলবে?’

‘হ্যাঁ, উনি বললেন, আমার কোনও অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হবে না। কারণ উনি আমার সঙ্গে কখনওই কোনও চুক্তি করেননি।’ হেসে বলল নবকুমার।

‘বাঃ, এ তো ভালো খবর। তুমি তো স্বাধীন!’ অজিত মুখার্জি বললেন।

প্রযোজক স্বপন ঘোষাল বললেন, ‘অজিতবাবু, কবে লোকেশন দেখতে যাবেন, ঠিক করেছেন?’

‘আমার তো ওসব জায়গা বহুবার দেখা। আপনারা প্রোডাকশন কন্ট্রোলারকে সঙ্গে নিয়ে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, পুলিশের পারমিশনের খোঁজখবর নিয়ে আসুন।’ অজিত মুখার্জি বললেন। এই প্রসঙ্গ নিয়ে ওঁদের কথা শুরু হল। নবকুমার যে দরজায় দাঁড়িয়ে আছে, তা দেখেও দেখছিলেন না ওঁরা। আগের দিন যে উৎসাহ এবং আন্তরিকতা ওঁদের কথায় পেয়েছিল নবকুমার, তা হঠাৎই উধাও হয়ে গিয়েছে।

হঠাৎ অজিত মুখার্জি জিজ্ঞাসা করলেন—’কিছু বলার আছে?’

মাথা নাড়ল নবকুমার—’নাঃ।’

‘উইশ ইউ গুড লাক। ছবি রিলিজ করুক। তোমাকে দেখে পাবলিক কীরকম রিঅ্যাক্ট করে তা দেখি, তারপর কথা বলা যাবে, কেমন?’

মাথা নেড়ে দরজা থেকে সরে এল নবকুমার। এটা কীরকম হল? কাল এঁরা টাকাপয়সার ব্যাপারটাও ফাইনাল করে ফেলেছিলেন, অথচ আজ! আবার বড়বাবু অ্যাদ্দিন যেসব কথা বলেছেন, আজ তার উলটো কথা বললেন। তাকে আটকে রাখার বদলে মুক্ত করে দিলেন। তার মানে, এই সিনেমার লাইনে মুখের কথার কোনও মূল্যই নেই। অথচ অজিতবাবুদের কাছ থেকে টাকা পাওয়া যাবে, এটা ভেবে সে ধার করার কথা ভাবছিল। বাবা যদি গ্রামের কোনও অর্থবান মানুষের কাছ থেকে টাকাটা ধার করে, তা হলে অজিতবাবুদের টাকা পাওয়ামাত্র শোধ করে দিতে পারত। সেই অজিতবাবুরা বুঝিয়ে দিলেন, ওঁরা আর আগ্রহী নন। তাই টাকা পাওয়ার কথাই থাকছে না। নিজের ওপর রাগ হচ্ছিল খুব। কেন সে লোকের কথায় বিশ্বাস করে স্বপ্ন দ্যাখে?

‘দাদা।’ সেই লোকটা, যে ওকে অজিতবাবুর কাছে নিয়ে গিয়েছিল, সে সামনে এসে দাঁড়াল—’কী করব বলুন। শালারা অজিতদার কান ভাঙিয়েছে।’

‘মানে?’ নবকুমার তাকাল।

‘আপনাকে নিলে অন্য একজনের ভাত মারা যেত। সে কাঠি নাড়াল।’

‘কে তিনি?’

‘দাদা, এই লাইনে নাম বলা মানে নিজের পায়ে কোদাল মারা। অজিতদার কাছে পরিচিত ডিস্ট্রিবিউটরকে দিয়ে বলিয়েছে, আপনার জন্যই বড়বাবু বড় ডিস্ট্রিবিউটর পাননি। তারা বলেছে, আপনি নাকি মাকাল ফল। ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে অজিতদা বিশ্বাস করে ফেলেছে। প্রযোজক বলেছে, আপনাকে সই করিয়ে অ্যাডভান্স দিলে সেই টাকাটাই ভোগে যেত! প্ল্যান করে ল্যাং মারল শালারা।’ লোকটা বলল।

নবকুমার বলল, ‘কী আর করা যাবে। কপালে না থাকলে হবে না।’

লোকটা বলল, ‘না দাদা। হার মানবেন না। লড়াই করতে হবে। দাদা, আপনি যদি রাজি হন, তা হলে সুরজদার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিতে পারি।’

‘কে সুরজদা?’ অবাক হল নবকুমার।

‘আপনি কখনও সুরজদাকে দ্যাখেননি। বিখ্যাত নেতা। উনি বললে ইচ্ছে না থাকলেও প্রযোজক-পরিচালকরা সেই কথা শুনতে বাধ্য।’

‘বাধ্য? কেন?’

লোকটা হাসল—’ছবির আউটডোর শুটিং-এ আইন অনুযায়ী যত টেকনিশিয়ান নিয়ে যেতে হয়, প্রযোজকরা খরচ কমাতে অনেক কম নিয়ে গিয়ে কাজ চালান। একজন অভিনেত্রী, যিনি মায়ের চরিত্র করছেন, তার জন্য হেয়ারড্রেসারকে না নিয়ে গিয়ে মেক-আপ ম্যানের অ্যাসিস্টেন্টকে দিয়ে কাজ চালিয়ে নেন। সুরজদা ইচ্ছে করলে এই কারণে অ্যাইসা টাইট দিতে পারে, যে…’—হাসল লোকটা, তাতেই মানে বুঝিয়ে দিল।

‘উনি আমার কী উপকার করবেন?’

‘অজিতদাকে একটা ফোন করবেন। নবকুমারকে নেবেন বলেও নিচ্ছেন না কেন? সঙ্গে সঙ্গে অজিতদা অ্যাডভান্স হাতে নিয়ে আপনার বাড়িতে ছুটবেন। হুঁ হুঁ!’

আগে হলে সোজাসুজি না বলে দিত নবকুমার। এখন সে কিছুটা শিখেছে বলে বলতে পারল—’ঠিক আছে ভাই। এখনই ওঁকে বিরক্ত করার দরকার নেই। প্রয়োজন হলে নিশ্চয়ই তোমাকে বলব। আসি ভাই।’

সমস্ত শহর জুড়ে দুই নায়িকার মাঝখানে তার মুখ। এখন বাসে-টামে যাওয়া যাচ্ছে না। সবাই দু-চোখ বড় করে যেন গিলতে চায়। বাড়ির সামনে ট্যাক্সি পেয়ে বেঁচে গেল। আগামিকাল ছবি মুক্তি পাবে। বাড়িতে ফিরে কাল রাতে সে কার্ড পেয়েছে। ছ’টা তিরিশ মিনিটে ‘প্রিয়া’ সিনেমায়।

ট্যাক্সি চলছিল। হঠাৎ ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে গেল ড্রাইভার। পাশের দেওয়ালের দিকে একবার তাকিয়ে পিছন ফিরে নবকুমারকে দেখল। হেসে বলল, ‘আপনি খুব লাকি দাদা। প্রথম সিনেমা?’

‘হ্যাঁ।’ একটু কুঁকড়ে গেল নবকুমার।

‘সাধারণত হিরো হিরোইনকে চুমু খায়, পোস্টারের ছবিতে হিরোইন আপনাকে চুমু খাচ্ছে। ফাটাফাটি।’ হেসে ট্যাক্সি চালু করল লোকটা।

আড়চোখে পোস্টার দেখে চোখ বন্ধ করল নবকুমার। হে ভগবান। এই পোস্টারটা যেন বাবার চোখে না পড়ে। উঃ!

নার্সিংহোমে ঢুকতেই সিঁড়ির ওপর বাবাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল সে। কীরকম জবুথবু দেখাচ্ছে বাবাকে। সে কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল—’কী হয়েছে?’ বাবা তার মুখের দিকে তাকাল—’এত টাকা কোথায় পেলি?’

‘কত কাটা। কী বলছ তুমি?’ নবকুমারের গলা থেকে কোনওরকমে স্বর বের হল।

বাবা বলল, ‘ওরা বলল, তোর মায়ের অ্যাকাউন্টে তুই দু’লক্ষ টাকা জমা দিয়েছিস। নব, চুরিচামারি করে টাকা আনিসনি তো?’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *