ক্যালকাতায় নবকুমার – ১৫

পনেরো

এখন কোনও কাজ নেই। রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার সময় নবকুমার ভেবেছিল, বড়বাবুকে বলে ক’দিনের জন্য গ্রামে যাবে। আজ হাজার পনেরো টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন বড়বাবু, অফিসের বেয়ারার হাত দিয়ে। তার কিছুটা মাকে দিয়ে আসবে সে। মুক্তোকে নিয়ে এখন চিন্তা নেই। এখানকার আবহাওয়া, পরিবেশের সঙ্গে ভালো মানিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে সে যখন আউটডোরে ছিল, তখন ফ্ল্যাটে একা থেকে সে বেশ অভ্যস্ত হয়েছে। এখানেও পরিচিত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে তার। তাই তাকে ফ্ল্যাটে রেখে গ্রামে যেতে সমস্যা হবে না।

কিন্তু ঘুম ভাঙাল মোবাইল। একটু বিরক্ত হয়ে যন্ত্রটা চালু করে ‘হ্যালো’ বলতেই শুনতে পেল—’আমি কমল বলছি।’

‘ও, কী ব্যাপার?’ উঠে বসল নবকুমার।

‘খুব খারাপ খবর আছে। দাদা নেই।’ কমল বলল।

‘কী বলছ।’ প্রায় চিৎকার করে উঠল নবকুমার।

‘আজ ভোরে নিবারণদা চলে গিয়েছেন। আপনি ওঁকে পছন্দ করতেন, তাই খবরটা জানালাম। বেলা বারোটার সময় আমরা ওঁর দেহ এনটিওয়ান-এ আনব। আচ্ছা, রাখছি।’ কমল লাইন কেটে দিল।

কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল নবকুমার। জলজ্যান্ত মানুষটা চলে গেল? বুকের ভিতরটায় মোচড় শুরু হয়ে গেল। এই টালিগঞ্জের সিনেমাপাড়ায় নিবারণদার মতো মানুষ খুব বেশি নেই। প্রথমদিন থেকেই নিবারণদা তাকে স্নেহের চোখে দেখেছেন। তার ভালো চেয়েছেন। কোনও দরকার ছিল না একজন অচেনা গ্রামের ছেলের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার।

চোখ মুছল নবকুমার। আর তখনই সেই মহিলার কথা মনে হল, যিদি এতদিন নিবারণদার পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। অথচ তিনি নিবারণদার স্ত্রী নন। তাঁকে ‘দিদি’ বলতে বলেছিলেন। এখন তিনি কী করবেন? যেহেতু তিনি নিবারণদার স্ত্রী নন, তাই কেউ তাঁকে বিধবা বলে সান্ত্বনা দিতে যাবে না। নিবারণদার মৃত্যু তিনি কীভাবে সহ্য করছেন?

গ্রামে যাওয়ার ছুটি চাওয়ার জন্যে বড়বাবুকে ফোন করা হল না। যদিও বড়বাবুর নির্দেশ, সকাল দশটার আগে তাঁকে ফোন করা যাবে না। দশটা বাজতে অনেক দেরি। নবকুমার চোখ বন্ধ করে বসেছিল। মুক্তো যে কখন ঘরে এসেছে, তা টের পায়নি। গলা শুনল—’কী হয়েছে?’

চোখ খুলল নবকুমার। বিছানা থেকে নেমে বলল, ‘একজন মারা গিয়েছেন। এইমাত্র খবরটা পেলাম।’

‘কে?’ মুক্তো জিজ্ঞাসা করল।

‘তুমি চিনবে না।’

‘তোমার গ্রামের কেউ?’

‘না। এই কলকাতার।’ নবকুমার বাথরুমে চলে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে মুক্তো একটার পর একটা প্রশ্ন করে যাবে। কলকাতা শুনে ওর কপালে অবাক হওয়ার ভাঁজ পড়েছিল। যেন এত অল্প সময়ের মধ্যে কলকাতার পরিচিত কেউ মারা গেলে, তার চোখ থেকে জল গড়িয়ে আসার কথা নয়।

বাসস্টপে দাঁড়িয়ে কুঁদঘাটের বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল নবকুমার। এখনও অফিসের ভিড় শুরু হয়নি। পাশে দাঁড়ানো এক ভদ্রলোক বললেন, ‘ভাই, আপনার মোবাইল বাজছে।’

সম্বিত ফিরতেই সে মোবাইল বের করে ‘হ্যালো’ বলল। ওপাশ থেকে প্রোডাকশন ম্যানেজারের গলা ভেসে এল—’আজ তিনটে থেকে ডাবিং, তৈরি থাকবেন, দুটোর সময় গাড়ি পাঠাব।’

‘ডাবিং?’

‘হ্যাঁ। আউটডোরের সিনগুলোয় ডাব করা হবে। রাখছি।’

‘দাঁড়ান, দাঁড়ান।’ প্রায় চেঁচিয়ে উঠল নবকুমার।

‘আবার কী হল?’ লোকটা যেন একটু অবাক হল।

‘আপনি কি খবর পাননি?’

‘কীসের খবর?’

‘আজ সকালে কমল ফোনে বলল, নিবারণদা নেই।’

‘নিবারণদা? মানে মেক-আপ ম্যান?’

রাগ হয়ে গেল নবকুমারের—’আমি আর কোনও নিবারণদাকে চিনি না।’

‘আচ্ছা! উনি ভুগছিলেন শুনেছিলাম।’ প্রোডাকশন ম্যানেজার বলল।

‘কমল বলল, ওঁকে শ্মাশানে নিয়ে যাওয়ার আগে স্টুডিওতে আনা হবে।’

‘তাই না কি! ঠিক আছে, যদি প্রোগ্রাম পোস্টপনড হয়, তা হলে জানিয়ে দেব।’ লাইন কেটে দিল লোকটা।

নিজেকে বোঝাল নবকুমার। রাগ করার কোনও মানে হয় না। এমন তো হতেই পারে, সবাই খবরটা পায়নি, নইলে একই প্রোডাকশনে কাজ করছে কেউ মারা গেলে, তাকে শ্রদ্ধা জানাতে সবাই একত্রিত হবে না কেন।

বাড়িটার সামনে পৌঁছে খেয়াল হল নবকুমারের। একটা ঘোরের মধ্যে থেকে সে চলে এসেছে এখানে। কিন্তু এসে কী বলবে, তা ভাবেনি। ভদ্রমহিলার কাছে নিশ্চয়ই খবরটা পৌঁছে গিয়েছে। ওঁর এই শোকের সময় সে কী কথা বলবে? দরজার সামনে এসে ফিরে যেতে অস্বস্তি হল। বেল বাজাল সে।

তৃতীয়বারের পর দরজা খুলল যে, তাকে আগের দিন দ্যাখেনি নবকুমার। বৃদ্ধা যে কাজের লোক, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সে বলল, ‘দিদির সঙ্গে দেখা করব।’

‘সে তো শুয়ে আছে।’

আমার নাম নবকুমার, ওঁকে যদি একবার বলেন…!’

বৃদ্ধা দরজা বন্ধ করে ভিতরে চলে গেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে আবার দরজা খুলে গেল। বৃদ্ধা বললেন, ‘ভেতরে এসো।’

যে ঘরে নিবারণদা শুয়েছিলেন সেদিন, সেই ঘরের দরজায় তাকে নিয়ে গেলেন বৃদ্ধা। নবকুমার দেখল, দিদি খাটের একপাশে বসে আছেন। বিধ্বস্ত

ভঙ্গি। নবকুমার ঘরে ঢুকে কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।

দিদি মুখ তুললেন—’বসুন।’

নবকুমার বসল না। জিজ্ঞাসা করল—’হঠাৎ কী করে হয়ে গেল?’

‘হঠাৎই তো হয়ে যায়। তবে উনি বুঝতে পারছিলেন।’

‘আমাকে কমল ফোন করেছিল। বলল, ওঁকে আজ এনটিওয়ান-এ নিয়ে আসা হবে। আমি ভাবতেই পারছি না।’ চেয়ারে বসল নবকুমার।

‘যা সত্যি তাকে আমরা সবাই মেনে নিতে বাধ্য।’ চোখ বন্ধ করলেন মহিলা।

কথা খুঁজে পাচ্ছিল না নবকুমার। একটু পরে সে জিজ্ঞাসা করল—’নিবারণদাকে কি এই বাড়িতে নিয়ে আসা হবে?’

‘আমি জানি না।’ শ্বাস ফেললেন মহিলা।

‘নিবারণদার নিকট আত্মীয়েরা কোথায় থাকেন?’

‘জানি না। কত বছর তো একসঙ্গে থাকলাম, কাউকে আসতে দেখিনি, ওঁর মুখেও কারও কথা শুনিনি। আমি কিছুই জানি না।’

‘তা হলে আপনিই তো মুখাগ্নি করবেন?’

‘আমি? কোন অধিকারে?’ তাকাল মহিলা।

গুছিয়ে জবাব দিতে পারল না নবকুমার। শেষ পর্যন্ত বলল, ‘আমি কমলদের সঙ্গে কথা বলছি। যদি এখানে ওঁকে না আনা হয়, তা হলে আপনি কি আমার সঙ্গে এনটিওয়ান-এ যাবেন?’ বোধ হয় ওখান থেকেই শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হবে।’

‘ভাই, কাল রাত্রে নার্স যখন বলল উনি নেই, তখনই হাসপাতাল থেকে চলে এসেছিলাম। ওঁর মৃত শরীর দেখতে ইচ্ছে করেনি। এখনও করছে না।’ মহিলা ঘরের ছাদের দিকে তাকালেন—’এখনও চোখের সামনে ওঁর বেঁচে থাকার সময়ের ছবিটাই ভাসছে। মৃত শরীর দেখে সেই ছবিটাকে মুছে ফেলতে চাই না।’

নবকুমার উঠে দাঁড়াল—’আমি কমলকে কি বলব?’

‘কী?’

‘না, থাক। আমি আসছি।’ দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল নবকুমার। পিছন থেকে মহিলা ডাকলেন—’শুনুন।’

নবকুমার ফিরে তাকাল। মহিলা বললেন, ‘আপনি আমাকে কুড়ি হাজার টাকা দিয়েছিলেন। দশ হাজার আমি হাসপাতালে জমা দিয়েছিলাম। জানি না ওঁকে যখন হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হবে, তখন আর কত দিতে হবে। আপনি বাকি দশ হাজার টাকা নিয়ে যান।’

মহিলা খাট থেকে নেমে পাশের আলমারি খুলে টাকার বান্ডিল বের করে টেবিলের ওপর রেখে দিলেন। একটু ইতস্তত করল নবকুমার। টাকাটা নেওয়া উচিত হবে কি না বুঝতে পারছিল না। টাকা থাকলে মহিলার উপকার তো হবে। কিন্তু মহিলা বললেন, ‘কী হল? নিয়ে যান। হাসপাতালে দরকার হবে।’

অতএব বান্ডিলটা নিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে এল সে। বাইরে এসে তার খেয়াল হল, সাড়ে দশটা বেজে গিয়েছে। নবকুমার বড়বাবুকে ফোন করল। তিনিই ধরলেন। নবকুমার বলল, ‘আমি নবকুমার।’

‘মোবাইলে পরিচয় দেওয়ার দরকার হয় না। বলো।’

‘আপনি নিবারণদার মৃত্যুর খবরটা পেয়েছেন?’

‘হ্যাঁ। খুব ভুগছিল বেচারা।’ বড়বাবু বললেন।

‘আপনি যে কুড়ি হাজার টাকা ওঁর চিকিৎসার জন্যে দিয়েছিলেন, তা আমি দিদির হাতে দিয়েছিলাম। দিদি দশ হাজার হাসপাতালে জমা দিয়েছিলেন বাকিটা আজ আমাকে ফেরত দিয়েছেন। টাকাটা আপনাকে কখন দেব?’ নবকুমার জানতে চাইল।

‘দিদি কে?’

‘যিদি নিবারণদার দেখাশোনা করতেন।’

‘ও। তিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন? আশ্চর্য ব্যাপার!’

‘হাসপাতালের বিল বোধ হয়…!’

‘না। যা ছিল তা আজ আমি পাঠিয়ে দিয়েছি।’

‘ও। আপনি কি দুপুরে এনটিওয়ান-এ আসবেন?’

‘দেখি।’

‘যদি আসেন, তা হলে ওখানেই টাকা দিয়ে দেব।’

‘তুমি এক কাজ করো। যাঁকে দিদি বলছ, তাঁকে স্টুডিওতে নিয়ে এসো।’

‘উনি আসবেন না।’

‘ও।’

‘তা হলে রাখছি।’

‘রাখো।’

আজ এনটিওয়ান-এ শিল্পী, কলাকুশলীদের ভিড় হবে, এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু বারোটার একটু আগে বেশ কয়েকজন কলাকুশলী ছাড়া কাউকে নিবারণদার জন্য অপেক্ষা করতে দেখল না নবকুমার। কিন্তু বড়বাবু এলেন। গাড়ি থেকে তাঁর সঙ্গে নেমে এলেন মন্দাক্রান্তা। শিল্পীদের মধ্যে বিদিশাকে দেখতে পেল সে। কলাকুশলীদের সঙ্গে কথা বলছে। নবকুমার যে একপাশে দাঁড়িয়ে, তা দেখেও দেখছে না। এইসময় বাংলা ছবির একজন বিখ্যাত শিল্পী গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে অভ্যর্থনা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল তাঁর ছবির লোকজন। যেতে যেতে তিনি থমকে দাঁড়ালেন। তারপর বড়বাবুর কাছে এসে বললেন, ‘নিবারণ চলে গেল!’

‘হ্যাঁ।’ বড়বাবু বললেন।

‘ভালোমানুষ ছিল।’

বড়বাবু কিছু বললেন না।

অভিনেতা বললেন, ‘আমি তো ভয় পাচ্ছিলাম, আজ শুটিং বন্ধ হয়ে যাবে কি না। কেউ মারা গেলে কাজ বন্ধ করা খুব খারাপ রীতি। আচ্ছা, চলি।’ অভিনেতা চলে যাওয়ামাত্র স্টুডিওর গেট দিয়ে চারচাকার ‘ছোটাহাতি’ লরি ভিতরে ঢুকল। লরির ওপরে চারজনের মধ্যে কমলও বসে আছে। লরি থামতেই সবাই এগিয়ে এল নিবারণের মুখ দেখতে।

গাড়ি থেকে ফুলের মালা বের করে নিয়ে এল ড্রাইভার। বড়বাবু লরির পাশে গিয়ে নিবারণের শরীরের ওপর মালা রেখে দিলেন। কলাকুশলীরা ফুল দিল ওঁর পায়ে। নবকুমার লরির কাছে গিয়ে মৃতের মুখ দেখতেই কেঁদে ফেলল। দু-হাতে মুখ ঢাকল সে। তার পিঠে হাত পড়তেই সে সোজা হল। বিদিশা-র গলা কানে এল—’নিজেকে সামলে নিন!’

চোখ মুছে নবকুমার মাথা নাড়ল। কান্না বড় সংক্রামক। নবকুমারের কান্না দেখে কমল শব্দ করে কেঁদে উঠল। কান্না উঠল অনেকের গলায়। সরে এল নবকুমার। এইসময় বড়বাবু তাকে ইশারা করলেন ওঁদের কাছে যেতে।

নবকুমার বিদিশাকে বলল, ‘আমি একটু আসছি।’

বিদিশা নিঃশব্দে মাথা নাড়ল।

বড়বাবুর কাছে যেতে তিনি বললেন, ‘তুমি তো নিবারণের বাড়িতে গিয়েছিলে। সেখানে কী শুনলে, কে ওর মুখাগ্নি করবে?’

‘না। ওঁর কেউ নেই।’ নবকুমার বলল।

এবার মন্দাক্রান্তা কথা বললেন, ‘যিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন, তিনি কে?’

বড়বাবু জবাব দিলেন—’একজন মহিলা ওর টেক কেয়ার করতেন। তিনি।’

‘নিবারণবাবুর কোনও আত্মীয়া?’ মন্দাক্রান্তা নবকুমারের দিকে তাকালেন।

‘না। ওঁরা একসঙ্গে থাকতেন।’

‘তা হলে ওঁরই অধিকার আছে মুখাগ্নি করার।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।

মাথা নাড়ল নবকুমার—’না! উনি ওই কাজটা করতে রাজি নন।’ পকেট থেকে টাকার বান্ডিল বের করে বড়বাবুকে দিয়ে দিল নবকুমার।

শ্মশানের কাজ শেষ হতে প্রায় বিকেল। মুখাগ্নি করল কমল। বলল, ‘উনি আমার গুরু ছিলেন। গুরু তো বাবার সমান।’

এবার বাড়ি ফেরার পালা। অবশ্য আগেই বড়বাবু হুকুম দিয়েছিলেন, আজ ডাবিং হবে না। কাল সকাল সাড়ে ন’টায় কাজটা শুরু হবে।

বড়বাবু গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন। মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘একটু দাঁড়ান। আমি একবার নিবারণবাবুর বাড়িতে যেতে চাই।’

‘সে কী!’ বড়বাবু অবাক হলেন—’কেন?’

‘ভদ্রমহিলাকে নমস্কার জানিয়ে আসব।’

‘নমস্কার!’

‘হ্যাঁ। এরকম মানুষ এখনও পৃথিবীতে আছেন! আপনাকে ভেতরে যেতে হবে না। আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘুরে আসব।’

‘তা হলে তো নবকুমারকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়।’ বড়বাবু বললেন।

‘হ্যাঁ। ও তো বাড়িটা চেনে। নবকুমার তুমি আমাকে নিয়ে যাবে?’ মন্দাক্রান্তা-র গলার স্বরে আন্তরিক আবেদন।

‘নিশ্চয়ই যাব।’

বড়বাবুর গাড়িতে সবাই উঠল। নবকুমারের নির্দেশে গাড়ি পৌঁছে গেল কুঁদঘাটের সেই গলিতে। গাড়ি থেকে নেমে নবকুমার এগিয়ে গেল বন্ধ দরজার দিকে। গিয়ে থমকে দাঁড়াল। দরজায় তালা ঝুলছে। ওদের দেখে পাশের বাড়ির এক প্রৌঢ় এসে দাঁড়িয়েছিলেন। বললেন, ‘উনি তো দুপুরেই জিনিসপত্র নিয়ে চলে গিয়েছেন। সঙ্গে কাজের লোককেও নিয়েছেন। ট্যাক্সিওয়ালাকে বলেছিলেন, হাওড়া স্টেশনে যাবেন।’

মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘এটাই ওঁর পক্ষে স্বাভাবিক।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *